Home "ধারাবাহিক গল্প খাচায় বন্দি নীলকন্ঠী খাচায় বন্দি নীলকন্ঠী পর্ব-০৪

খাচায় বন্দি নীলকন্ঠী পর্ব-০৪

0
172

#খাঁচায়_বন্দি_নীলকন্ঠী
#ইশরাত_জাহান_জেরিন
#পর্ব_৪

কার্তিক মাসের শেষের দিকে পুরান ঢাকার আকাশে কুয়াশাটে ভাব জমে থাকে। সকালের রোদে কোনো তেজ থাকে না, বরং সারাটা দিন স্যাঁতসেঁতে, মলিন আলো সূত্রাপুরের পোগোজ স্কুলের সরু গলিগুলোতে লেপ্টে থাকে। ‘জমিনদার ভিলা’র দোতলার রান্নাঘরে মেহরীন যখন একা একা খাসির মাংসের জন্য পেঁয়াজ কুচোচ্ছিল, তখন পুরো বাড়িটায় থমথমে নীরবতা। এই নীরবতা শান্তির নয়, এই নীরবতা হলো একটা বড়সড় ধসের আগের স্তব্ধতা। আকিল চকবাজারের গদির সেই পনেরো লাখ টাকার লোকসান এখন সুদে-আসলে প্রায় বিশ লাখ টাকা ছুঁয়েছে। যে মানুষটা চব্বিশ ঘণ্টা টাকার গরমে মাটিতে পা রাখতেন না, তার অহংকার এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। আর সেই ভাঙনের পুরো ঝালটা এসে পড়ছে মেহরীনের ওপর। পান থেকে চুন খসলেই আকিল এখন পশুর মতো গর্জন করে ওঠে। ঘরের দামী সোফা, কাঁচের ফুলদানি সবকিছুই ইদানীং তার রাগের বলি হচ্ছে।

মেহরীনের হাতের বঁটিটা সচল, কিন্তু তার চোখ দুটো জানলার বাইরে আকাশের দিকে স্থির। গত কয়েকটা দিন ধরে তার আরিশের সাথে ছাদের ওপারে দাঁড়িয়ে কথা বলাটা এক ধরণের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আরিশ তাকে কোনোদিন ‘ভালোবাসি’ বলেনি, কোনোদিন কোনো রূপ জড়তা নিয়ে তার দিকে তাকায়নি। কিন্তু আরিশের সেই ধীরস্থির কণ্ঠস্বর, তার ধারালো যুক্তি আর চশমার আড়ালের শান্ত চোখ দুটো এখন মেহরীনের বড্ড লাগে। এই নরক গুলজারের মতো সংসারে চব্বিশটা ঘণ্টা অপমান সহ্য করার পর, দুপুরে যখন সে ওই পুরনো চুন-সুরকির ছাদে গিয়ে দাঁড়ায়, তখন ওপাশের ছাদ থেকে আরিশের একটা মৃদু হাসিই তার সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে দেয়। এটা কি প্রেম? মেহরীন নিজেকে বারবার প্রশ্ন করে। কিন্তু তার অবদমিত, অবহেলিত মন কোনো উত্তর পায় না। সে শুধু জানে, আরিশের প্রতি তার একটা গভীর, অলিখিত টান তৈরি হয়ে গেছে যে টানটা হয়তো এক ধরণের মিষ্টি পাপ, কিন্তু এই প্রলয়ঙ্কারী সংসারে সেটাই তার একমাত্র শান্তি।

রান্নাঘরের দরজায় হঠাৎ একটা ভারী ছায়া পড়ল। মেহরীন চমকে তাকিয়ে দেখল দেবর রাইয়ান দাঁড়িয়ে আছে। রাইয়ানের পরনে একটা সিল্কের পাঞ্জাবি, চোখেমুখে ধূর্ত চাতুরির ছোঁয়া। ইদানীং রাইয়ানের দাপট এই বাড়িতে সবচেয়ে বেশি, কারণ আকিলের এই ডুবন্ত ব্যবসা বাঁচানোর জন্য সে-ই এখন দিন-রাত কোর্ট-কাচারি আর ব্যাংক লিয়াজোঁর কাজ করছে।
রাইয়ান রান্নাঘরের চৌকাঠে হেলান দিয়ে একটা নোংরা হাসি দিল। সে পকেট থেকে সুপুরি কাটার জাঁতিটা বের করে নাড়াচাড়া করতে করতে বলল, “কী ভাবী? বড় ভাইয়ের ব্যবসার তো বারোটা বাজছে, আর আপনি এখানে বইসা খুব ধীরেসুস্থে মাংস রান্ধতাছেন? মনের মধ্যে কোনো ফুর্তি আছে নাকি?”

মেহরীন বঁটি থেকে হাতটা সরিয়ে নিয়ে চাদরটা গায় ভালো করে জড়িয়ে বলল, “রাইয়ান, কাজের সময় আমাকে বিরক্ত কোরো না। আম্মা নিচে তসবি গুনছেন, ওনাকে ডাকব?”

রাইয়ান হোহো করে হেসে উঠল। ওনার হাসির শব্দটা মেহরীনের কানের কাছে বিষের মতো লাগল। রাইয়ান এক কদম এগিয়ে এসে গলার স্বর নিচু করে বলল, “আম্মারে ডাকবেন? ডাকেন। আম্মা তো আমার চোখ দিয়াই এই সংসার দেখে ভাবী। বলি, আজকাল দুপুরে এত ঘন ঘন ছাদে যাওয়া হয় কেন? কাপড় তো একবারেও শুকায়া যায়, তাও দেখি দিনে তিনবার ছাদে গিয়া খাড়ান। সামনের ছাদে ওই চশমা পরা নতুন ভাড়াটিয়া ছোকরার সাথে খুব তো চোখের ইশারা চলে! ভাবছেন আমরা কেউ কিছু দেখি না?”

মেহরীনের গায়ের রক্ত এক মুহূর্তে হিম হয়ে গেল। তার হাত-পা কাঁপতে লাগল। রাইয়ান কি তবে তাদের দেখে ফেলেছে? সে নিজের ভয়টা আড়াল করার জন্য শক্ত গলায় বলল, “নিজের নোংরা মনটা সবার ওপর চাপাবে না রাইয়ান। বড় ভাইয়ের বউয়ের নামে অপবাদ দিতে তোমার লজ্জা করে না?”

“লজ্জা?” রাইয়ান চোখ দুটো সরু করে বলল, “লজ্জা তো আপনার পাওয়া উচিত ভাবী। যে মেয়ের কোল খালি, তার মন তো এমনিতেই আলগা থাকে। বড় ভাই তো টাকার শোকে অন্ধ হয়া আছে, কিন্তু আমার চোখ ফাঁকি দেওয়া এত সোজা না। মনে রাইখেন, এই বাড়িতে আপনার দিন ঘনায়ে আসছে।”

রাইয়ান আর কথা না বাড়িয়ে একটা শিস দিতে দিতে করিডোর পেরিয়ে চলে গেল। মেহরীন বঁটির ওপর বসে রইল নিথর হয়ে। তার চোখ দিয়ে দুই ফোঁটা তপ্ত জল গড়িয়ে মাংসের বাটিতে পড়ল। এই বাড়িতে তার চরিত্র, তার আত্মসম্মান সবকিছুকে প্রতিদিন এভাবে নখ দিয়ে ছিঁড়ে খাওয়া হচ্ছে, অথচ যে মানুষটার ওনার পাশে দাঁড়ানোর কথা, সেই আকিল আহমেদ আজ অন্ধ, বধির।
_

দুপুর দুইটো। দিলরুবা বেগম তখন ভাত খেয়ে ওনার ঘরে ঘুমাচ্ছেন। পুরো বাড়িটা যখন নিঝুম, মেহরীন তখন ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে এল। তার বুকের ভেতরটা তখনো রাইয়ানের সেই নোংরা হুমকির চোটে দপদপ করছে। সে আলিসার ওপর ভর দিয়ে ওপাশের ছাদের দিকে তাকাল।

আরিশ দাঁড়িয়ে ছিল। আজ তার পরনে একটা কালো রঙের ফতুয়া, হাতে একটা পুরনো ডায়েরি। মেহরীনকে ছাদে আসতে দেখেই আরিশ ডায়েরিটা বন্ধ করে রেলিংয়ের কাছে এগিয়ে এল।

আরিশ খুব নিচু কিন্তু ধারালো গলায় বলল, “আপনার কী হয়েছে মেহরীন ভাবী? আজ আপনার চোখের কোণটা লাল কেন? নিচে কি আবার কোনো ঝড় হয়েছে?”

মেহরীন আরিশের এই পরম মায়াবী কণ্ঠটা শুনতেই নিজের সবটুকু বাঁধ হারিয়ে ফেলল। সে চাদরের কোণা দিয়ে চোখটা মুছে বলল, “আরিশ, ওরা আমাকে আর বাঁচতে দেবে না। রাইয়ান আজ আমাকে নিয়ে খুব নোংরা কথা বলেছে। সে নাকি দেখেছে আমি ছাদে আসি। আরিশ, আমার খুব ভয় করছে।”

আরিশ এক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে রইল। তার ফর্সা চোয়ালটা রাগে শক্ত হয়ে উঠল। সে চশমাটা খুলে হাত দিয়ে একটু মুছে আবার চোখে পরল। তারপর অত্যন্ত ধীরস্থির লজিক দিয়ে বলতে শুরু করল, “ভয় পাবেন না ভাবী। আমি আপনাকে আগেই বলেছিলাম, রাইয়ান একটা অত্যন্ত ধূর্ত আর বিপজ্জনক চরিত্র। সে আপনার সাথে নিজে খারাপ কিছু করতে চেয়েছিল, যখন সফল হয়নি, তখন সে আপনাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার জন্য এই অপবাদের পথ বেছে নিয়েছে। ও দেখতে পাচ্ছে আকিল সাহেব এখন ব্যবসার লোকসানে পাগলপ্রায়, এই সুযোগে সে যদি আপনাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারে, তবে এই পুরো সম্পত্তির ওপর ওর একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হবে।”

মেহরীন আরিশের দিকে তৃষ্ণার্ত চোখে তাকিয়ে রইল। আরিশের প্রতিটি কথা যেন দাবার চালের মতো নিখুঁত। মেহরীন বলল, “কিন্তু আকিল যদি ওর কথা বিশ্বাস করে? সে তো এমনিতেই আমাকে সহ্য করতে পারছে না। আজ সকালে চায়ের কাপটা আমার গায়ের ওপর ছুঁড়ে মেরেছে আরিশ। আমার সারাটা গা পুড়ে গেছে।”

মেহরীন ওনার ডান হাত থেকে চাদরটা একটু সরাতেই আরিশ দেখল, ওনার ফর্সা কবজির ওপর একটা লালচে পোড়া দাগ। আরিশের চোখ দুটো এক পলকের জন্য জ্বলে উঠল। সে নিজের একটা হাত রেলিংয়ের বাইরে বাড়িয়ে দিল, যেন সে মেহরীনের সেই ক্ষতটা ছুঁয়ে দিতে চায়। কিন্তু সামাজিক দূরত্বের কারণে সে হাতটা আবার পকেটে পুরে নিল।

আরিশ আশ্বাসের গলায় বলল, “মেহরীন ভাবী, এই ক্ষতটা আপনার গায়ের নয়, ওটা আপনার সাত বছরের বিশ্বাসের ক্ষত। যে পুরুষ নিজের স্ত্রীর গায়ে গরম চা ছুঁড়ে মারতে পারে, সে আর যাই হোক, স্বামী পদের যোগ্য নয়। আকিল সাহেব রাইয়ানের কথাই বিশ্বাস করবেন, কারণ ওনার এখন হিতাহিত জ্ঞান নেই। তবে একটা কথা মনে রাখবেন ঝড় যখন সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়, তখনই কিন্তু আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সময় আসে। আপনি নিজেকে কোনোভাবে দুর্বল করবেন না। রোজ দুপুরে আমি এই ছাদে আপনার জন্য অপেক্ষা করব। আপনার যখনই মনে হবে দম আটকে আসছে, আপনি এখানে আসবেন। আমি আপনার সেই একাকীত্ব, সেই বিষটুকু নিজের বুকে টেনে নেব।”

আরিশের এই ‘বিষটুকু নিজের বুকে টেনে নেওয়া’র কথাটার মাঝে মেহরীন এক অদ্ভুত প্রশান্তি খুঁজে পেল। সে কোনো প্রেমের শব্দ শুনতে পায়নি, আরিশ তাকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। কিন্তু মেহরীনের মনে হলো, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে আরিশ নামের এই মানুষটাই তার একমাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বন। সে মনে মনে এক গভীর টান অনুভব করতে লাগল। সে জানত এটা একটা অলিখিত পাপের মতো, একজন বিবাহিত নারী হয়ে অন্য পুরুষের কথায় এভাবে শান্ত হওয়াটা সমাজ মানে না। কিন্তু মেহরীনের ক্ষতবিক্ষত আত্মা তখন সমাজের কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করছিল না।

_

বিকেলের দিকে জমিনদার ভিলার সদর দরজাটা সজোরে খোলার শব্দ পাওয়া গেল। আকিল সাহেব ফিরেছে। তার সাথে রাইয়ানও আছে। মেহরীন ড্রয়িংরুমে আসতেই দেখল ঘরের পরিবেশ এক নিমেষে বদলে গেছে। দিলরুবা বেগম ওনার ঘর থেকে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে এসেছেন। আকিল সাহেব সোফায় ধপ করে বসে নিজের টাইটা টেনে খুলে মেঝেতে ফেলে দিল। তার মুখটা অপমানে আর রাগে কুৎসিত দেখাচ্ছিল। রাইয়ান পাশে দাঁড়িয়ে খুব নাটকীয়ভাবে মাথা চুলকাচ্ছিল।

“কী হইছে রে আকিল? গদির কোনো ভালো খবর আছে?” দিলরুবা বেগম উৎকণ্ঠা নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।

আকিল সাহেব কোনো উত্তর দিল না, সে শুধু মেহরীনের দিকে এক হিংস্র চোখে তাকাল। ওনার সেই চাহনি দেখে মেহরীনের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

রাইয়ান এবার ওনার মায়ের পাশে গিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল, “আম্মা, গদির অবস্থা খুব খারাপ। ব্যাংক থেকে নোটিশ পাঠাইছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে যদি বকেয়া লোন শোধ না করা হয়, তবে চকবাজারের গদি আর এই বাড়ি সিলগালা কইরা দিব। বড় ভাই তো মাথায় হাত দিয়া বইসা আছে।”

দিলরুবা বেগম ওনার বুকে চাপড়ে কেঁদে উঠলেন, “ওরে খোদা! আমার এই একশো বছরের পুরনো ভিটা নিলাম হয়া যাইব? আমরা রাস্তায় নামুম? ও আকিল, কিছু একটা কর বাবা!”

আকিল সাহেব এবার সোফা থেকে বাঘের মতো ঝাপিয়ে উঠল। সে সোজা মেহরীনের সামনে এসে তার দুই কাঁধ শক্ত করে ধরে ঝাঁকাতে লাগল। তার নখগুলো মেহরীনের চামড়ার ভেতর বসে যাচ্ছিল।

“সব এই অলক্ষ্মীর জন্য!” আকিল দাঁতে দাঁত চেপে চিৎকার করে উঠলেন, “যেদিন থেকে এই মেয়ে এই বাড়িতে পা রাখছে, সেদিন থেকে আমার ব্যবসায় শুধু লস আর লস! ঘরের কোনো লক্ষ্মীবাদ নাই, একটা সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা নাই, চব্বিশ ঘণ্টা মড়ার মতো মুখ কইরা ঘোরে! তোর কোনো বাপের বাড়ির সম্পত্তি নাই যে তোরে বেইচা আমি ব্যাংকের লোন শোধ করব? কেন তোরে আমি সাত বছর ধরে ঘরে বসায়া খাওয়াচ্ছি?”

মেহরীন যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলল, কিন্তু সে এবার আর চুপ করে থাকল না। সে আরিশের দেওয়া সেই সাহসের কথাগুলো মনে করে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে আকিলের হাত দুটো ঝেঁকে সরিয়ে দিল। সে সোজা আকিলের চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট গলায় বলল, “নিজের অক্ষমতা আর ব্যবসার ভুল সিদ্ধান্তগুলো আমার ওপর চাপাবে না আকিল। সাতটা বছর আমি এই বাড়িতে দাসীর মতো খেটেছি। একটা দিন আমার খোঁজ নিয়েছ? আর সন্তানের কথা বলছ? ইন্ডিয়ার সেই ভেলোরের রিপোর্টটা কি আমি আজ পাড়ার সামনে বের করব? সমস্যা কার, সেটা কি সবাইকে ডেকে দেখাব?”

মেহরীনের এই চড়া আর স্পষ্ট উত্তর শুনে আকিল এক মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল। ওনার পুরুষতান্ত্রিক অহংকারে যেন কেউ চাবুক মারল। শাশুড়ি দিলরুবা বেগম আর রাইয়ানও মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল। মেহরীন যে কোনোদিন এভাবে ওনার চোখের দিকে তাকিয়ে সত্যটা মুখে এনে আছাড় মারবে, তা আকিল ভাবতেও পারেননি।

আকিলের অপমানিত মুখটা এবার এক পৈশাচিক হিংস্রতায় রূপ নিল। সে মেহরীনের দিকে এক কদম এগিয়ে এসে বলল, “তোর এত বড় সাহস! তুই আমার মুখের ওপর কথা বলিস? রাইয়ান, আজই তুই উকিল চিলির সাথে কথা বল। এই মেয়ের ডিভোর্স পেপার রেডি কর। আমি দেখতে চাই এই অলক্ষ্মী আমার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। এর বাপের বাড়ির তো কেউ নাই, রাস্তায় রাস্তায় ভিখ মাগবে তখন বুঝবে আকিল আহমেদ কী জিনিস!”

রাইয়ান ঠোঁটের কোণে এক কুৎসিত জয়ী হাসি ফুটিয়ে বলল, “জি বড় ভাই, আপনি একদম চিন্তা কইরেন না। আমি কাল-পরশুর মধ্যেই সব ব্যবস্থা করতাছি। এই ডাইনীটারে এই বাড়িতে রাখা আর বিষ রাখা একই কথা।”

মেহরীন আর কোনো কথা না বলে নিজের ঘরের দিকে হেঁটে গেল। সে বিছানায় শুয়ে পড়ল। চোখের জল বালিশটাকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। মনকে কেবল একটা প্রশ্নই করছে…কবে এই জ্বালা শেষ হবে?

চলবে?