#খুঁজেছি_তোকে (০৯)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
সামির নূরা’র দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। যেটা দেখে নূরা খুব ভয় পেয়ে যায়। দ্রুত সামিরের থেকে চোখ সরিয়ে নেয়। কিন্তু সামির নেয় না। এখনো নূরা কে দেখে যাচ্ছে। সামির স্যার কে নূরা’র দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে স্নিগ্ধা ভ্রু কুঁচকে তাকায়। একবার নূরা’র দিকে তো এক বার সামির স্যারের দিকে। নূরা চোরা চোখে আশেপাশে তাকাচ্ছে সেটা দেখে স্নিগ্ধা বলল,
“- কাহিনি কি বল তো?
নূরা চমকে বলল,
“- কিসের কাহিনি?
স্নিগ্ধা চোখ ছোটো ছোটো করে বলে,
“- স্যার তোর দিকে ওভাবে তাকিয়ে কি দেখছে? আর তুই ই বা এমন চোরের মতো তাকাচ্ছিস কেন?
নূরা হালকা হেঁসে বলল,
“- কই কিছু না তো। স্যার কেন তাকিয়ে আছে তা আমি কি করে বলব বল?
স্নিগ্ধা সন্দিহান গলায় বলল,
“- নাহ বিষয় টা আমার ঠিক লাগছে না। কিছু তো একটা গড়বড় আছেই।
“- তুই সব সময় বেশি বেশি ভাবিস তাই।
“- উহু উহু না। আমি ঠিকই ভাবছি নয়তো সেদিন স্যার কেন তোর খোঁজ করবে বল? কই অন্য কাউকে তো খোজ করেনি। বেছে বেছে তোকেই কেন খুঁজছে বল?
“- কি জানি?
নূরা’র ডোন্ট কেয়ার ভাব দেখে বেশি ঘাটলো না স্নিগ্ধা। কারণ এখন স্যার ক্লাসে আছে। বেশি কথা বললে আবার পানিশমেন্ট দিবে।তাই চুপ করে গেলো।
অতঃপর টানা এক ঘন্টা ক্লাস নিয়ে বের হলেন সামির স্যার। যাওয়ার আগে নূরা কে উদ্দেশ্য করে বলে গেছেন, – “মিস নূরা আপনি আমার রুমে আসেন। ” তারপর গটগট পায়ে ক্লাস রুম ছাড়েন সামির স্যার।
স্নিগ্ধা আবারও অবাক হল। নূরা স্নিগ্ধা র দিকে ঠোঁট উল্টে ইনোসেন্ট ফেস করে তাকিয়ে বলল,
“- সত্যি বলছি বইন আমি কিছু জানি না। স্যার কেন আমাকে ডাকছে!
“- ঠিক আছে। তুই যা গিয়ে শোন কি বলে৷
“- মরে গেলেও না।
সহসা নূরা চেচিয়ে কথা টা বলল। নূরা’র চেঁচানো শুনে আশেপাশের সবাই কম বেশি নূরা র দিকে দৃষ্টি পাত করে। সেজন্য নূরা অস্বস্তি তে পড়ে যায়। স্নিগ্ধা আবার সন্দিহান গলায় বলল,
“- তুই কিছু লুকাচ্ছিস আমার থেকে?
“- কই না তো।
“- তাহলে এমন আচরণ করছিস কেন? স্যার কি তোকে মেরে ফেলবে যে ভয় তে যেতে চাইছিস না?
“- মেরে ফেলবে না তবে আমার মাথা ফাটাবে।এটা আমি একশ পার্সেন্ট শিওর।
“- আশ্চর্য! স্যার কেন তোর মাথা ফাটাবে?
“- কারণ আমি স্যারের মাথা ফাটিয়েছি।
কথা টা বলেই মুখ চেপে ধরে নূরা। সে যে মুখ ফসকে ভুল জায়গায় ভুল কথা বলে ফেলেছে।
“- আমি আগেই টের পেয়েছিলাম তুই আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছিস। দ্যাখ সেটায় সত্যি হয়ে গেলো। এতক্ষণ ধরে তুই আমায় মিথ্যে বলে গেলি নূরা?
‘- দ্যাখ আমি কিছু মিথ্যে বলিনি বইন। আমি কি জানি স্যার কেন ডাকছে?
“- আমার মিথ্যে বলছিস দ্যাখ রাগাস না আমায়? আর তুই কবে কখন স্যারের মাথা ফাটিয়েছিস সত্যি কথা বলবি কিন্তু।
নূরা খুব ভালো করেই বুঁজে গেছে সে ফেঁসে গেছে। এখন সত্যি টা আর লুকানো যাবে না। তাই বলল,
“- এখান থেকে বের হয়ে পরে সব টা বলছি।
“- এখনই বল।
তখনই ওদের এক ক্লাস মেট এগিয়ে এলো নূরা’র দিকে। নূরা মেয়ে টা কে দেখে চুপ করে গেলো। মেয়ে টার নাম সাদিয়া। সাদিয়া হাসি মুখে বলল,
“-হেই নূরা, স্যার তো তোমায় ডেকেছেন আর তুমি এখনো যাওনি। অন্য কেউ হলে তো ঝড়ের বেগে ছুটে যেতো। বলেই হেঁসে ওঠে।
নূরা চুপ করে রয়। পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য স্নিগ্ধা হাসি মুখে বলে,
“- এখনই যাবে তখনই তুমি এলে। তাই আর ওঠা হয়নি।
“- আচ্ছা যাও তাহলে।
বলে মেয়ে টা চলে আর স্নিগ্ধা নূরা কে টেনে নিয়ে ক্লাসের বাইরে বের হলো। স্নিগ্ধা র উদ্দেশ্য নূরা কে স্যারের কাছে নিয়ে যাওয়া। মেয়ে টা কিছুতেই যাবে না। স্নিগ্ধা জোর করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। স্নিগ্ধা শক্ত করে নূরা’র হাত ধরে হাঁটছে। নূরা কাঁদো কাঁদো গলায় বলে,
“- বইন প্লিজ ছাড় আমায়। আমি কিছুতেই যাবো না ওই খাটাশ স্যারের কাছে। প্লিজ ছেড়ে দে আমায়।
স্নিগ্ধা ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে বলল,
“- মনে কর, এটা আমায় মিথ্যা বলার শাস্তি তোর। যদি তুই আমায় মিথ্যে না বলতে তাহলে আমি ভেবে দেখতাম কিন্তু এখন আমি তোকে স্যারের রুমে নিজে গিয়ে দিয়ে আসব। তারপর দেখি তুই কি করে পালাস!
সামির স্যার নিজের চেয়ারে বসে কিছু ফাইল দেখছেন। স্নিগ্ধা নূরা কে নিয়ে ঠেলে স্যারের রুমে পাঠিয়ে দেয়। নূরা ছাড়া পেতেই রুম থেকে বের হতে গেলে সামির স্যার বলেন,
“- স্টপ।
নূরা দাঁড়িয়ে যায়। আর স্নিগ্ধা হাসতে হাসতে চলে গেল। এখন তার শান্তি লাগছে। তাকে মিথ্যে বলার শাস্তি এবার নূরা টের পাবে।
“- এদিকে আসো।
নূরা ঘাড় কাত করে বলে,
“- আমাকে বলছেন স্যার?
সামির চোখ ছোটো করে বলে,
“- তুমি ছাড়া আর কেউ এখানে আছে যে তাকে বলবো?
নূরা বোকা বোকা হেসে বলে,
“- ওহ ওহ তাই তো। কিন্তু এখন তো আমার কাজ আছে আমি আপনার কাছে যেতে পারব না। আপনার সাথে পরে কথা বলে নিবো স্যারর।
বলেই রুম থেকে বেরোতে গেলে সামিরের একটা কথা’য় থেমে যেতে হয় নূরা’র।
“- যদি আর এক পা বাড়িয়েছো না তাহলে তোমার ঠ্যাং ভেঙে হাতে ধরিয়ে দেবো কিন্তু।
নূরা সামির স্যারের দিকে তাকিয়ে হেঁসে বলল,
“- ঠ্যাং ভেঙে আমার হাতে কেন ধরাবেন স্যার? আপনি বরং আমার ঠ্যাং টা আপনার গলায় ঝুলিয়ে নিয়েন। তাতে আপনাকে দেখতেও ভালো লাগবে!
“- বেয়াদব মেয়ে।
নূরা হেঁসে বলল,
“- বেয়াদব মেয়ের সাথে কথা বলতে আসছেন কেন স্যার?
সামির ঝড়ের বেগে নূরা’র দিকে তেড়ে আসে। যা দেখে নূরা ভয়ে ঘাবড়ে গেলো। তার আগে সামির সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দিলো।যেটা দেখে আরও বেশি ভয় পেয়ে গেলো নূরা। তোতলায়ে বলল,
“- সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করলেন ককন স্যার?
“- তোমার সাথে রোমান্স করব তাই।
“- হোয়াটট…?
সামিরের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি। সামির নূরা’র খুব নিকটে এসে ফিসফিস করে বলল,
“- তুমি আমার ব্যক্তিগত নারী। তোমার সাথে রোমান্স করব সেটা কেন অন্য কেউ দেখবে জান পরাণ ময়না টিয়া কলিজা!
সামিরের কথা শুনে গলা শুকিয়ে গেলো নূরা’র। নূরা ঢোক গিলে বলল,
“- এসব আপনি কি বলছেন স্যার?
“- কেন তোমার পছন্দ হয়নি বেইব।
নূরা চোখ বড়বড় করে তাকায়। তারপর বলে,
“- আপনি কি গাঁজা খেয়ে এসেছেন?
“- না তো এখন খাবো তবে গাঁজা নয়। তোমার গোলাপি ঠোঁট দু’টো।
সাথে সাথে নূরা দু’হাত দিয়ে নিজের ঠোঁট চেপে ধরে। যা দেখে হেঁসে উঠল সামির। তারপর বলল,
“- কি ভয় পেলেন মিসেস চৌধুরী?
নূরা মুখ থেকে হাত সরালো না। সামিরের খুব হাসি পেলো তবে হাসল না। চেপে রাখল। সহসাই গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“- সেদিন তুমি আমায় মারলে কেন?
“- আমি কি ইচ্ছে করে মারছি নাকি স্যার? আমি তো নিজেকে বাঁচানোর জন্য……..
বলতে গিয়ে থেমে গেলো নূরা কারণ নূরা’র ঠোঁট দুটো সামির অনেক আগেই নিজের আয়ত্তে করে নিছে। নূরা র শ্বাস প্রশ্বাস খুব জোরে জোরে উঠানামা করছে। হার্টবিট ঝড়ের গতিতে উঠছে নামছে। নূরা দু হাত দিয়ে সামির কে সরিয়ে দিতে চাইল কিন্তু সামিরের শক্তির সাথে পেরে দিল না।
পাক্কা পাঁচ মিনিট পর নূরা’র ঠোঁট দুটো ছেড়ে দিলো সামির। ছাড়া পেতেই নূরা ঘনঘন নিশ্বাস নেয়। নূরা’র চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে। যেটা দেখে সামির দু হাত দিয়ে নূরা’র মুখ তুলে চোখের কার্নিশ থেকে অশ্রু মুছে বলল,
“- এই পাগলী কাঁদছো কেন?
নূরা ফুপিয়ে কেঁদে বলে,
“- আপনি আমার…. আপনি খুব খারাপ স্যার। একটা অবলা মেয়ে কে একা পেয়ে তার ইজ্জত লুটে নিতে লজ্জা করল না আপনার?
সামির ভ্রু কুঁচকে ফেলে। তারপর বলে,
“- তুমি আমার বউ। স্বামী হিসেবে এটুকু হক তো আমার আছে মিসেস চৌধুরী।
“- আপনি খুব খারাপ। দুরে সরেন।
সামির বাঁকা হেসে বলল,
“- সেদিনের জন্য এটা তো সামান্য শাস্তি। এরপর এর থেকেও ভয়ংকর শাস্তি আপনি পাবেন মিসেস চৌধুরী।
“- আপনি আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে। আপনাকে কোনো দিন ও ক্ষমা করব না।
বলে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো। এদিকে সামির হতবিহ্বল চোখে নূরা’র দিকে তাকিয়ে রইল। সামান্য এটুকুর জন্য মেয়ে টা কাঁদছে। কি আশ্চর্য!
চলবে~
রিচেক দেওয়া হয়নি।

