#খুঁজেছি_তোকে (১৯)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
📌নিচের নোট টুকু পড়ার অনুরোধ রইল।
“- নূর কেথায় তুমি? সাড়া দাও পাখি! নূর, নূর কোথায় তুমি?
নূরের কোনো সাড়াশব্দ পেল না সামির। সামিরের চোখ মুখের আদল বদলে গেলো। চোখে মুখে নেমে এলো অমাবস্যার আঁধার। হুট করে সামিরের বেলকনির কথা মাথায় এলো। সামির দৌড়ে বেলকনিতে চলে গেলো। বেলকনির চেয়ারে বসা রমনী কে দেখে যেন সামিরের দেহে জান ফিরে এলো। ধীর পায়ে এগিয়ে এলো প্রেয়সীর কাছে। হাঁটু গেড়ে নিচে বসল। নূরা’র হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিলো। তারপর কাঁপা গলায় বলল,
“- কি হয়েছে নূর তোমার? কেন আমাকে কিছু বলছো না? কেন রাত থেকে আমায় ইগনোর করে যাচ্ছো? তুমি কিছু না বললে আমি বুঝবো কিভাবে পাখি?
সামির বেশ কিছুক্ষণ তার নূরের দিকে চেয়ে রইল৷ তারপর এক ঝটকায় নূরা কে কোলে তুলে নিলো। ঘুমের ঘোরে নূরা সামিরের গলা জড়িয়ে ধরল। যা দেখে সামির মুচকি হাসল৷ রুমে এনে নূরা কে বিছানায় শুইয়ে দিলো। তারপর লাইট অফ করে নিজেও শুয়ে পড়ল প্রিয়তমা বউকে জড়িয়ে ধরে।
,
,
পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো নূরা’র। চোখ পিটপিট করে মেলে নিজেকে সামিরের বুকে দেখে আপনাআপনি নূরা’র চোখ দুটো কুচকে গেলো। নূরা কাল রাতের কথা মনে করার চেষ্টা করল। কাল রাতে সে তো বেলকনিতে গিয়ে বসেছিল তারপর…
তারপর তো তার আর কিছুই মনে নেই।
নূরা চুপটি করে সামিরের বুকে লেপ্টে রইল। চোখ বন্ধ করে রইল। হঠাৎ করে নূরা’র কাল রাতের সেই মেসেজের কথা মনে পড়ে গেলো। নূরা’র বুক টা ধক করে উঠল। চোখের কার্নিশে অশ্রু জমা হলো। নূরা’র বিশ্বাস হয় না মানুষ টা তাকে ঠকাতে পারে। যে মানুষ টা তাকে এত এত ভালোবাসে সেই মানুষ টা তাকে কিভাবে ঠকাতে পারে? নূরা মানুষ টা কে ভুল বুঝবে না। কিন্তু ওই মেসেজ টা সে যে ভুলতে পারছে না। বারবার শুধু চোখের সামনে ভেসে উঠছে। ঠিক তখনই ঘুম ঘুম কণ্ঠে চোখ বন্ধ করে সামির বলল,
“- কি দেখছো বউ! তোমার স্বামী কে কি আজ একটু বেশিই সুন্দর লাগছে! চোখ ফেরাতে পারছো না!
সামিরের কণ্ঠ স্বর পেতেই চমকে উঠল নূরা। উঠতে গেলে সামির ধরে আবার শুইয়ে দিলো। ধপাস করে সামিরের বুকে গিয়ে পড়ল। তবে কিছু বলল না। চুপ করে রইল। নূরা’র কোনো সাড়া না পেয়ে সামির চোখ মেলে তাকালো। নূরা কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে হাসল। তবে সেই হাসি বেশিক্ষণ থাকল না। যখন নূরা বলল,
“- ছাড়ুন উঠবো।
সামির তীক্ষ্ণ চোখে নূরা কে দেখল। নূরা উঠার জন্য নড়াচড়া করছে। সামির নূরা কে ছেড়ে দিলো। ছাড়া পেতেই নূরা উঠে বসল। সামিরও উঠে বসল। গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“- কি হয়েছে? কাল থেকে আমার সাথে এমন ব্যবহার করছো কেন?
নূরা মাথা ঝাকিয়ে বলল,
‘- কই কিছু না তো। আমি তো ঠিকই ব্যবহার করছি।
“- না তুমি মোটেও ঠিক ব্যবহার করছো না। তুমি শুধু আমার থেকে দুরে যাওয়ার চেষ্টা করছো। কিন্তু কেন নূর? দুরেই যদি যাওয়ার থাকতো তাহলে আগেই যেতে পারতে। এত কাছে আসার পর মায়া বাড়িয়ে কেন দুরে যেতে চাইছো তুমি? তুমি চাইলেই কিন্তু আমার থেকে দুরে যেতে পারবে না। আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তুমি শুধু আমার হয়েই থাকবে। শুধু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত না আমার মৃত্যুর পরও তুমি আমার থাকবে। অন্য কোনো পুরুষের ছায়াও যেন তোমার আশেপাশে না থাকে।
সামিরের কথা শুনে নূরা’র দুনিয়া যেন থমকে গেল। সহসাই সামিরের মুখে হাত দিয়ে ভয়ার্ত গলায় বলল,
“- এসব আপনি কি বলছেন সামির? প্লিজ চুপ করুন। আমি মোটেও আপনার থেকে দুরে যেতে চাইছি না। আপনি ফারদার মৃত্যুর কথা মুখে আনবেন না!
“- একদিন মরতে তো হবেই। তাই মৃত্যু কে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
“- আমি জানি সামির, জন্ম যেহেতু হয়েছে সেহেতু মৃত্যু ও একদিন হবেই। কিন্তু আমি এত তাড়াতাড়ি আপনাকে হারাতে চাই না। আপনার সাথে থাকতে চায়। আপনাকে বুঝতে চায়! আপনাকে ভালোবাসতে চায়! আপনার সাথে বৃদ্ধ বয়সে হাত ধরে ঘুরতে চায়!
নূরা’র কথা শুনে সামিরের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে। সামির নূরা’র দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। কিন্তু নূরা.. হঠাৎ করে নূরা’র যেন হুঁশ আসে। নূরা যে ঘোরের মধ্যে আবোলতাবোল বলে ফেলছে। নূরা জিভে কামড় বসিয়ে লজ্জা রাঙা মুখে সামিরের দিকে তাকায়। সামির তার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসছে। নূরা বিছানা থেকে নামতে গেলে সামির হাত টেনে নিজের কোলের উপরে বসিয়ে বলল,
“- কোথায় পালাচ্ছো সোনা?
নূরা কাঁপা গলায় বলে,
“- ওয়াশরুমে যাবো।
“- আমার কথা এখনো শেষ হয়নি। তাই তুমি কোথাও যেতে পারবে না জান!
নূরা অবাক হয়ে বলল,
“- আবার কি কথা?
“- শোনো, বউপাখি! তোমার মনে যদি কখনো কোনো বিষয় নিয়ে সন্দেহ থাকে তাহলে তুমি আমাকে বলবা। ভুল বুঁজে আমার থেকে দুরে সরার কথা মাথাতেও আনবে না। এখন সত্যি করে ঝটপট বলে ফেলো কালকে কি হয়েছিল। যার জন্য তুমি আমায় ইগনোর করছো?
“- কই কিছু না তো….
“- খবরদার মিথ্যে বলবা না কিন্তু। আমি কিন্তু তোমার চোখ দেখলেই বলে দিতে পারি তুমি সত্যি বলছো কি মিথ্যা বলছো।
সামিরের ধমকে কেঁপে উঠল। গলা ভিজিয়ে বলল,
“- আসলে সামির…..
“- এতো হেজিটেড করছো কেন?
“- আপনার ফোনে কাল একটা মেসেজ আসছিল।
সামির অবাক হয়ে বলল,
“- মেসেজ। আমার ফোনে? কই আমি তো দেখিনি? ইভেন আমার কাল ফোনই ধরিনি। সেই যে ফোন রেখে বের হয়েছিলাম তারপর আর ফোনের কথা মাথাতেও আসেনি।
“- আপনি মেসেজ দেখেননি?
“- নাহ। দাঁড়াও। এখনই দেখছি বলে নূরা কে কোল থেকে নামিয়ে ফোন নিয়ে আসলো সামির। ফোনের লক খুকে অন করে মেসেজ অপশনে ঢুকল কিন্তু সেরকম কোনো মেসেজই সামিরের চোখে পড়ল না৷ সামির অবাক হয়ে বলল,
“- মেসেজ কই?
নূরা ও অবাক হলো। সে তো দিব্যি মেসেজ দেখছিল। তাই বলল,
“- আপনি ডিলিট করে দেননি তো সামির?
সামির নূরা’র দিকে তাকাল। সামিরের তাকানো দেখে নূরা বলল,
“- আমি ওভারে বলতে চায়নি। আমি বলতে চেয়েছি আপনি ভুলবশত ডিলিট করে ফেলেননি তো।
“- আমি তোমাকে প্রথমেই বললাম নূর। কাল আমি ফোন ধরিনি।
“- তাহলে মেসেজ গেল কোথায়?
“- বিষয় টা আমার মোটেও সুবিধার লাগছে না।
“- তুমি সত্যি কোনো মেসেজ দেখছিলে? কি লেখা ছিল মেসেজে?
“- আমি সত্যি মেসেজ দেখছিলাম সামির। আর তাতে লেখা ছিল…..
“- থামলে কেন বলো।
নূরা একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে মেসেজে লেখা ছিল,
” আজকের দিনটা খুব স্পেশাল ছিল সামির। আরও কিছুক্ষণ থাকলে খুব খুশি হতাম। কিন্তু তুমি তো তোমার বউয়ের জন্য আমার ফেলে চলে গেলে। যাই হোক নেক্সট দিন আমরা আরও বেশি সময় কাটাবো প্রিয় ”
সামির যেন আকাশ থেকে পড়ল। চোখ বড়বড় করে বলে,
“- হোয়াট! এই মেসেজ আমার ফোনে আসছে। আর আমিই বা কার সাথে সময় কাটালাম। আমি তো কলেজের কাজে আমার কলিগের সাথে একটা জায়গায় গিছিলাম। তুমি চাইলে আমি তার কাছে এখুনি ফোন দিচ্ছি। বলে ফোন দিতে গেলে নূরা থামিয়ে দিয়ে বলে,
“- থাক সামির কাউকে ফোন দিতে হবে না। হয়তো সে ভুলে আপনার নাম্বারে পাঠিয়েছে নয়তো আমার দেখার ভুল হয়েছে। বিষয় টা এখানেই ক্লোজ করুন। আমি এটা নিয়ে বেশি ঘাটতে চায় না।
“- কিন্তু তুমি তো আমায় অবিশ্বাস করলে নূর।
“- সরি সামির। আমার ভুল হয়েছে। এমন টা আর হবে না। আপনি প্লিজ কিছু মনে করেন না। আমি সত্যি ই রিয়েলি ভেরি সরি। পরবর্তী থেকে এমন ভুল আর হবে না। প্রমিজ।
সামির মৃদু স্বরে বলল,
“- ঠিক আছে। তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও।
“- আপনি কষ্ট পাচ্ছেন না তো। আমি সত্যি চায়নি আপনি কষ্ট পান। আসলে কাল যখন মেসেজ টা দেখলাম তখন আমার পৃথিবী থমকে গিছিলো। মেনে নিতে পারছিলাম না। খুব কষ্ট হচ্ছিল। তাই….
সামির মুচকি হেঁসে বলল,
“- ধুর পাগলী কষ্ট পাবো কেন? তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো।
নূরা ফ্রেশ হতে চলে গেলো। আর রেখে গেলো সামিরের চিন্তিত মুখ। সামির গভীর ভাবনায় ডুবে গেল কে এমন একটা মেসেজ তার ফোনে দিতে পারে। আর যখন দিলোই তখন ডিলিট করল কেন? সামির কে খুঁজে বের করতে হবে। নয়তো সবকিছু পাল্টে যেতে পারে। যা সামির সইতে পারবে না।
চলবে~

