#খুঁজেছি_তোকে (১০)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
সেদিনের পর থেকে নূরা সামির কে সবসময় এড়িয়ে যায়। সামিরের ক্লাস গুলো কোনো রকমে করেই বের হয়ে যায়। কোনো দিন আবার ক্লাসও করে না। সামির অনেক বার চেষ্টা করেও নূরা’র সাথে কথা বলতে পারিনি। সামান্য চুমু খাওয়ায় বউ যে এভাবে ইগনোর করবে ভাবেনি সামির।
অনেক ভাবনা চিন্তা করে বউয়ের রাগ ভাঙানোর জন্য শশুর বাড়ি হাজির হয়েছে। তখন সন্ধ্যে, নূরা ড্রয়িংরুমে বসে ভাই বোনদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল। তখনই বাড়ির কলিং বেল বেজে ওঠে। সাবা গিয়ে দরজা খুলে সামির কে দেখে হাসি মুখে বলে,
“- আরে জিজু আপনি, কেমন আছেন?
সামির মুচকি হেঁসে বলল,
“- আলহামদুলিল্লাহ, তুমি?
“- আলহামদুলিল্লাহ। ভিতরে আসুন।
বলে সাবা সরে দাঁড়ায় আর সামির ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করে। নূরা নাবা’র সাথে একটা বিষয় নিয়ে হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে কথা বলছে আর হাসছে। সামির ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করে বউয়ের হাসি মুখের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। সাবা দরজা বন্ধ করে সামির কে এভাবে স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেলে। তারপর সামিরের দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে তাকিয়ে মুচকি হাসল। জিজুর কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
“- জিজু, এভাবে তাকিয়ে থাকলে তো আমার আপু লজ্জা পাবে?
ছোটো শালিকার কথা শুনে লজ্জা পেলো সামির। দ্রুত নূরা’র থেকে চোখ সরিয়ে সাবার দিকে তাকিয়ে বলল,
“- তুমি তো ভারি দুষ্টু হয়ে গেছো সাবা!
সাবা মাথা চুলকে হেঁসে বলল,
“- ঐ একটু আধটু আরকি!
সামিরও হাসল। তারপর সামিরের হাতে থাকা মিষ্টির প্যাকেট, চকলেট আইসক্রিম সবগুলো প্যাকেট সাবা’র হাতে দিলো। সাবা সেগুলো নিয়ে ডাইনিং এ রাখল। সাবা যে নূরা’র পিছন দিয়ে সেটা নূরা বা নাবা কেউ ই টের পায়নি। মূলত সামির ওকে চুপ থাকতে বলেছে। সেজন্য জিজুর কথা মতো সে চুপচাপ আছে।
স্বপ্না বেগম রুম থেকে বেরিয়ে সবে ড্রয়িংরুমে পা রাখছিলেন। তখনই তার চোখ গেল দাঁড়িয়ে থাকা সামিরের দিকে। সামির হাত ভাজ করে দাঁড়িয়ে আছে। স্বপ্না বেগম অবাক সাথে খুশি গলায় চেচিয়ে বললেন,
“- আরে বাবা সামির, তুমি কখন এলে?
সহসাই মা’য়ের চেঁচানোই হুঁশ আসে নূরা’র। ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই দেখতে পায় সামির কে। আপনা আপনি নূরা’র ভ্রু জুগল কিছু টা কিঞ্চিত হয়ে গেল। শাশুড়ির জোরে কথা বলায় সামির নিজেও হকচকিয়ে গেল। তবে পরিস্থিতি ঠিক রাখতে মুচকি হেঁসে বলল,
“- জ্বি আম্মু, আমি। এই তো মাত্র এলাম।
প্রথম বার সামিরের মুখে আম্মু ডাক শুনে বেজায় খুশি হয়ে গেলেন স্বপ্না বেগম। তিনি এগিয়ে এসে মেয়ের জামাইয়ের সামনে দাড়ালেন। হেঁসে বললেন,
“- দাঁড়িয়ে আছো কেন বাবা? সোফায় গিয়ে বসো৷
তারপর তিনি মেয়ে কে কিছু টা রাগ দেখিয়ে বলেন,
“- নূরা তোর কি কোনো দিন আক্কেল জ্ঞান হবে না। ছেলে টা কতক্ষণ এসে দাড়িয়ে আছে আর তুই বসে বসে বকবক করেই যাচ্ছিস। একটু খেয়াল করবি না?
মা’য়ের কথা’য় আশ্চর্য হয়ে হা হয়ে তাকিয়ে রইল নূরা। এদিকে শাশুড়ির কথা শুনে সামির তো মহাখুশি। ঠোঁটের কোণে হাসি। যা দেখে রেগে গেলো নূরা। স্বপ্না বেগম হেঁসে বললেন,
“- আজ কিন্তু কিছুতেই যেতে দিবো না বাবা!
সামির হেঁসে বলল,
“- আজ আমিও কিছুতেই যাবো না আম্মু।
আরেকদফা অবাক হলো নূরা। এই খচ্চর ব্যাটা আজ তাদের বাসায় থাকবে। কিন্তু এই বেডা যদি তার রুমে থাকতে চায়। মানে তারা তো আইনগত ভাবে স্বামী স্ত্রী। না নূরা এটা কিছুতেই হতে দিবে না। স্বপ্না বেগম যেন খুশিতে উপচে পড়ছেন।কারণ মেয়ের জামাই আজ প্রথম তাদের বাসায় থাকবেন। তিনি খুশিতে নূরা কে বললেন,
“- নূরা তোর রুম টা গিয়ে সুন্দর করে গুছা তো মা। দেখিস জামাইয়ের যেন কোনো অসুবিধা না হয়।
মা’য়ের কথা শুনে নূরা থ হয়ে গেলো। তার ভাবনা টায় তাহলে সত্যি হয়ে গেলো। নূরা কোনো কিছু না বলে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায়। সামিরের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায়। তারপর রাগে গজগজ করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে গেলো। আর সামির সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে মিটিমিটি হাসতে লাগল। নূরা কে চলে যেতে দেখে তিনি চেচিয়ে বললেন,
“- এই মেয়ে এভাবে চলে যাচ্ছিস কেন?
নূরা কিছু বলল না। রাগে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে। তাই সে নিজের রুমে এসে সজোরে দরজা লাগিয়ে দেয়। যা নিচ থেকে স্পষ্ট শোনা গেলো।
,
,
,
সুলাইমান আহমেদ আর জামাল আহমেদ বাড়ি ফেরেন রাত নয়টায়। তার কিছুক্ষণ পরেই নিহাল ফেরে। সামির কে সোফায় বসে ফোন দেখতে দেখে নিহাল তো অবাক। অবাক হয়ে বলে,
“- কিরে তুই কখন আসছিস?
সামির ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আগে আশেপাশে তাকালো তারপর বলল,
“- সন্ধ্যায়।
“- হঠাৎ। না মানে আমাকে না জানিয়ে তো কখনো আসিস না। ইভেন আমার সাথে ও আসিস না। যেটুকু আসিস জোর করে ধরে বেঁধে আনতে হয় আমাকে। আর সেখানে তুই নিজ থেকে এসেছিস। বিষয় টা একটু ভাবার না…?
সামির আড়চোখে আরেক বার দেখে নিলো আশেপাশে কেউ আছে কি না। না এখন কেউ ই এখানে নেই। তার শশুর মশাই আর চাচা শশুর ফ্রেশ হতে গেছেন। সাবা নাবা রুমে। আর তার শাশুড়ী চাচি শাশুড়ী মিলে রান্নায় ব্যস্ত। আর নূরা তো সেই রুমে গেছে আর বের হয়নি। সামির মুখ গোমড়া করে ফুশ করে নিশ্বাস ফেলে বলে,
“- তোর বোনের জ্বালায় কি আমার আর শান্তি আছে বল?
নিহাল ভ্রু কুঁচকে বলল,
“- আমার বোন আবার তোকে কি করল?
“- আমায় ইগনোর করছে ভাই। যা আমি মেনে নিতে পারছি না। জানিস ই তো তোর বোন কে আমি ঠিক কত টা ভালোবাসি! ভালোবাসার মানুষ যদি ইগনোর করে, অবহেলা করে তাহলে ঠিক কতটা কষ্ট হয় বুকে যন্ত্রণা হয় সেটা যার হয় সেই বোঝে রে। তুই এসব বুঝবি না রে।
নিহাল শুনল। তবে তেমন কিছু বলল না। শুধু বলল,
“- আমি জানি তুই আমার বোন কে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসিস কিন্তু আমার বোন তোকে ইগনোর করছে কেন? সেটা তো বল?
সামির জোরে নিশ্বাস ফেলে বলে,
“- শা*লার কপাল বউকে কি*স করার অপরাধে বউ আমায় ইগনোর করে ।
নিহাল হেঁসে উঠল। নিহালের হাসি দেখে সামিরের রাগ হলো। সামির রেগে বলল,
“- আমার কষ্ট দেখে তুই হাসছিস? শা*লা তোর কপালে বউ জুটবে না।
নিহাল হাসি থামিয়ে বলল,
“- আমার বউ টউ লাগবে কিন্তু তোর কথা শুনে আমার হেব্বি হাসি পাচ্ছে ভাই। দ্য গ্রেট ফাইয়ান চৌধুরী সামির বউ কে চুমু খাওয়ার অপরাধে এখন বউদের রাগ ভাঙাতে স্বয়ং শশুর বাড়ি হাজির হয়েছে।
সামির রাগী গলায় বলল,
“- নিহালের বাচ্চা রাগাস নে কিন্তু এমনিতেই মাথা খারাপ। তোর কে শুধু হাতে একবার পায় আস্ত চিবিয়ে খাবো। কি’স করায় আমাকে ইগনোর করে। একবার শুধু পায় তারপর কি’স কাকে বলে বোঝাবো।।
“- আসতাগফিরুল্লাহ! আসতাগফিরুল্লাহ! এসব কি ধরনের কথা সামির। আমি তোমার বড়ো শা*লা। বউয়ের ভাইয়ের সামনে এসব বলতে লজ্জা করে না। তুমি তো আস্ত একটা বেয়াদব। তোমার কাছে আমার বোন বিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।
নিহালের এমন বড়ো ভাই গিরি ফলাতে দেখে সামিরের মেজাজ আরও চটে যায়। সমাির রেগে সোফা থেকে কুশন নিয়ে নিহালের দিকে ছুঁড়ে মেরে বলল,
“- শা*লা নাটক করিস আমার সাথে?
নিহাল হাসতে হাসতে বলল,
“- নাটক আবার কি?
সামির নিহাল গা* লি দিতে যাবে তখনই শশুর মশাই কো আসতে দেখে চুপ হয়ে গেলো। আর নিহাল হাসতে হাসতে নিজের রুমের দিকে গেলো।
চলবে~

