Home "ধারাবাহিক গল্প খুঁজেছি তোকে খুঁজেছি তোকে পর্ব-১১

খুঁজেছি তোকে পর্ব-১১

0
274

#খুঁজেছি_তোকে (১১)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি

আহমেদ বাড়ির সবাই রাতের খাবার খাচ্ছে। বাড়ির সবাই তখন ডাইনিং এ উপস্থিত। নূরা নিজেও আছে। সবার ডাক উপেক্ষা করতে পারলেও নূরা বাবা’র ডাক উপেক্ষা করতে পারে না। সুলাইমান আহমেদ যখন মেয়ে কে খেতে ডাকলেন তখন নূরা সুর সুর করে রুম থেকে বেরিয়ে ডাইনিং এ হাজির হয়। নূরা একবার আড়চোখে সামির কে দেখে নেয়। সামির ভদ্র ছেলের মতো বসে আছে। সামনে খাবারের প্লেট। নূরা মুখ ভেঙচি দেয়। তখন সামির নূরার দিকে তাকায় আর সাথে সাথে দু’জনের চোখাচোখি হয়ে যায়। সহসাই এমন হওয়ায় আশ্চর্য হয়ে যায় নূরা। আর সামির ও তো থতমত খেয়ে যায়। নূরা কোনো কথা না বলে চুপচাপ চেয়ার টেনে বসে পরে। সামির হা হয়ে নূরা’র দিকে এখনো তাকিয়ে আছে। সামিরের পাশ থেকে নিহাল গুতো দিয়ে বলল,

“- এই শা*লা এখানে বড়ো রা আছে। এভাবে তাকিয়ে না থেকে হাত ধুয়ে খেতে বোস।

সামির ঘাড় ঘুরিয়ে হিসহিসিয়ে নিহাল কে বলে,

“- শা*লা আজ তোর বোনের খবর আছে!

“- যাহ বাবাহ আমার বোন আমার কি করল?

সামির কথা বাড়ালো না।
সবার সাথে খাবার শেষ করল। সুলাইমান আহমেদ আর জামাল আহমেদ সবার আগে খেয়ে ড্রয়িংরুমে বসেছেন। একটু পর সামির খাবার শেষ করে ড্রয়িংরুমে গেলো। সেখানে গিয়ে সোফায় বসল। শশুর আর চাচা শশুরের সাথে কথা বার্তা বলছে। নিজের বাড়িতে প্রথম বার মেয়ের জামাই কে পেয়ে তিনি খুব খুশি হয়েছেন। তাই তো জামাইয়ের সাথে গল্পের আসর জমিয়েছেন। সামিরও হেসে হেসে তাদের সাথে কথা বলছে। কিন্তু সামিরের মন তো পড়ে আছে নূরা’র কাছে। না পারছে উঠতে না পারছে মন কে স্থির রাখতে।

নূরা ইচ্ছে করে ধীরে ধীরে খাবার শেষ করে। তারপর চুপচাপ ডাইনিং ছেড়ে ড্রয়িংরুমে উঁকি দেয়। নূরা’র উঁকি ঝুঁকি কেউ না দেখলেও সামির ঠিকই দেখে নেয়। নূরা ভাবে বাবা গল্পে মগ্ন এই সুযোগে সে নিজের রুমে যাবে। আর তার বাবাও টের পাবে না।ভেবেই মনে মনে হাসল নূরা। নূরা পা টিপে টিপে সিঁড়ির কাছে গেলো। এক পা সিঁড়িতে রাখতেই পিছন থেকে শোনা গেলো সুলাইমান আহমেদ এর কণ্ঠ স্বর। তিনি বলছেন,

“- নূরা মা কোথায় যাচ্ছিস? এদিকে আয়।

নূরা ঘাড় ঘুরিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল। তারপর সামিরের দিকে তাকাল সামির মুখ টিপে হাসছে। নূরা এক পা করে করে বাবা’র কাছে এসে দাঁড়ালো। সুলাইমান আহমেদ মেয়ে কে বসার জায়গা করে দিলেন। নূরা বাবা’র পাশে চুপটি করে বসল। সুলাইমান আহমেদ মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে জিজ্ঞেস করলেন,

“- সব ঠিক ঠাক আছে তো মা?

বাবা’র কথার মানে বুঝল না নূরা। না বুজেই মাথা নেড়ে হ্যাঁ জবাব দিলো। সুলাইমান আহমেদ মুচকি হাসলেন। তারপর বললেন,

“- অনেক রাত হয়ে গেছে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়।

নূরা যেন এটাই চাইছিল। তাই তো শোনার সাথে সাথে সোফা থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। হেঁসে বাবা কে বলল,

“- গুড নাইট বাবা।
বলেই পা বাড়াতেই পিছন থেকে একটা কথা শুনে থেমে গেলো নূরা। সুলাইমান আহমেদ হাসি মুখে বলছেন,

“- একা একা যাচ্ছিস কেন? জামাই বাবা কেউ নিয়ে যা!

মুহূর্তেই নূরা’র মুখ কালো হয়ে গেলো। কিন্তু পরিস্থিতি ঠিক রাখতে এবং কাউকে কিছু বুঝতে না দেওয়ার জন্য বলল,

“- আসুন স্যার ।

সামির তো এটারই অপেক্ষায় ছিল। তার শশুর মশাই যখন নূরা কে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়তে বল্, তখন তো কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভাবছিল তার মনে হয় নূরা’র সাথে আজ কথা বলা হবে না। এজন্য মন টা খারাপ হয়ে গিলো কিন্তু পরমুহূর্তে যখন শুনল শুধু নূরা কে নয় তাকেও নিয়ে যেতে বলছেন। তখন সামির খুব খুশি হয়েছিল৷ কিন্তু বাইরে তা প্রকাশ করে নি।

সুলাইমান আহমেদ ফিসফিস করে সামির কে বললেন,

“- এখনো বসে রয়েছো কেন বাবা? যেতে যেহেতু বলছে জলদি যাও।নয়তো মত পাল্টাতে বেশি সময় লাগবে না। তখন কিন্তু আমি আবার কিছু করতে পারব না বাবা…!

শশুরের জথা শুনে সামির সাথে সাথে দাঁড়িয়ে যায়। দ্রুত পায়ে নূরা’র কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে হাসি মুখে বলে,

“- চলো… বউ।

নূরা রাগী চোখে তাকায়। তারপর দ্রুত পা চালিয়ে নিজের রুমে গেলো। সামিরও গেলো। দু’জনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলেন সুলাইমান আহমেদ। জামাল আহমেদ বড়ো ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,

“- দেখো খুব তাড়াতাড়ি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে ভাই।

“- তাই যেন হয়। মেয়ে টা যে কেন সামির কে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনে নিলো না?

“- এতদিন নেয় নি কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি নিবে ভাইয়া। নয়তো নূরা’র মতো ত্যাড়া মেয়ে এত সহজে ওর রুমে যেতে দিলো। তুমি ই একবার ভাবো না?

“- আসলেই তো।একবার বলার সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলো।

“- হ্যাঁ। কারণ নূরা একটু একটু করে সবকিছু মেনে নিচ্ছে।

“- এটা হলে আমি সবচেয়ে খুশি হবো।

,
,

দরজা বন্ধ করার শব্দে নূরা চমকে উঠল। ঘাড় কাত করে তাকিয়ে দেখল সামির রুমের দরজা বন্ধ করে এগিয়ে আসছে। নূরা’র মনে আবারও ভয় জমল। সেদিনের সেই ভয়। একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা। সহসাই নূরা নিজের হাত দ্বারা ঠোঁট দুটো চেপে ধরে। নূরা’র কান্ডে টাসকি খেলো সামির। তবে কিছু একটা ভেবে বাঁকা ঠোঁটে হাসল। যা দেখে নূরা’র আরও ভয়ে হতে থাকল। তবে এই মুহূর্তে সামির নূরার মনে ভয় ঢুকাতে চাইল না। তার এখন একমাত্র প্রধান লক্ষ্য নূরা কে বোঝানো।

সামির স্বাভাবিক ভাবে নূরা’র কাছে গিয়ে বসল। নূরা ভয়ে সরে বসল। সামির মাথা ঠান্ডা করে বলে,

“- নূরা ভয় পেও না। আমি কিছু ই করব না।

তবুও নূরা মুখ থেকে হাত সরালো না। সেটা দেখে সামির বলল,

“- আই প্রমিজ আমি কিচ্ছু করব না নূরা। তুমি আমায় বিশ্বাস করতে পারো।

কেন যেন সামিরের কথা বিশ্বাস হলো নূরা’র। নূরা মুখ থেকে হাত সরালো। সামির মনে মনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। যাক এটুকু তো বিশ্বাস করাতে পেরেছে। সামির উপরে তাকিয়ে টানা নিশ্বাস ফেলে নূরা’র দিকে তাকালো। মেয়ে টা দু হাত মোচড়ামুচড়ি করছে। সামির বলল,

“- হাত ছুলে যাবে।এভাবে মোচড়ামুচড়ি করো না।

নূরা সামিরের দিকে তাকাল। দুজনের আবার চোখাচোখি হলো। নূরা চোখ সরিয়ে নেয়। সামির শান্ত,করুন গলায় বলল,

“- তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে নূরা।

নূরা অন্য দিকে তাকিয়ে বলল,

“- এখানে কেন এসেছেন স্যার ?

“- তুমি আমায় ইগনোর কেন করছো নূরা?

নূরা সামিরের দিকে তাকাল। শক্ত গলায় বলল,

“- কেন করছি আপনি সেটা জানেন না স্যার?

“- জানি বাট..
“- শুনুন স্যার, আপনি এসেছেন ভালো কথা। চুপচাপ থেকে কাল সকাল হলেই চলে যাবেন। আপনাকে আমার একটু সহ্য হচ্ছে না। যে ব্যক্তি একজনের অনুমতি ছাড়ায় কাউকে স্পর্শ করতে পারে তাকে অন্তত আমি কিছুতেই সহ্য করতে পারব না।

সামির করুন গলায় বলল,
“- মানছি আমি ভুল করেছি।তোমার অনুমতি ছাড়ায় তোমাকে কিস করেছি কিন্তু তুমি তো আমার বিয়ে করা বউ। নিজের বউকেই তো করেছি অন্য কোনো নারী কে তো আর নয়।

নূরা হাসল। তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,

“- পুরুষ মানুষ এমনই।

“- তোমার ভুল ধারণা। সব পুরুষ কিন্তু এক নয়।

“- সবাই এক। তারা কোনো দিন কারোর ইচ্ছে মতো কিছু করে না। পুরুষ মানুষ যখন ইচ্ছে তখন স্ত্রী র উপর অধিকার ফলায়। এই জন্য ই তো আমার এত সমস্যা। তারা কোনো নিজেদের পুরুষত্ব দেখাবে। কেন অনুমতি ছাড়াই বউ কে স্পর্শ করবে। সব পুরুষ একই স্যার। আপনিও তার ব্যতিক্রম নয়।

“- প্লিজ নূরা। আমার একটা ভুলের জন্য তুমি সব পুরুষের সাথে আমার তুলনা করো না। আমি কথা দিচ্ছি আর কখনো কোনো দিন তোমার অনুমতি ছাড়া তোমাকে ছুবো না। তুমি যখন চাইবে তখনই আমি তোমাকে স্পর্শ করব। তার আগে নয়। কথা দিলাম। বিশ্বাস রাখতে পারো আমার উপর। তবুও তুমি ইগনোর করো না আমায়। তোমার ইগনোর আমি মেনে নিতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে।

নূরা এই ব্যাপারে কিছু বলল না শুধু বলল,

“- আপনি বিছানায় শুয়ে পড়ুন স্যার।

বলে উঠে চলে যেতে নেয় তখন সামিরের কথা শুনে দাঁড়িয়ে যায় নূরা। সামির পিছন থেকে বলে,

“- তুমি কোথায় যাচ্ছো?

নূরা’র সোজাসাপ্টা জবাব,
“- আপনি যেহেতু বিছানায় শুবেন সেহেতু আমাকেও তো নিজের জন্য একটা ব্যবস্থা করতে হবে।

“- আমরা তো এক বিছানাতেই থাকতে পারি।

“- না। আপনি শুয়ে পড়ুন। আমি বেলকনিতে আছি। যদি কোনো প্রবলেম হয় অবশ্যই জানাবেন। নয়তো সকাল হলেই বাবার কাছে কথা শুনতে হবে। বাবা তো বলেই দিছে তার একমাত্র জামাইয়ের যেন কোনো অসুবিধা না হয়।

বলে বেলকনিতে চলে গেলো নূরা। নূরা’র বেলকনিতে একটা চেয়ার আর একটা টেবিল রাখা আছে। অবসর সময়ে নূরা এখানে বই পড়ে। নূরা চেয়ারে বসে পড়ে। নূরা’র চোখে প্রচুর খুব। নূরা টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেলো।

চলবে~