#বাতাসে_বহিছে_প্রেম
#আয়রা_তাবাস্সুম
পর্ব ০৩
ঝগড়া করতে করতে কখন যে একেবারে আধমরা হয়ে আপনার প্রেমে পড়েছি জানা নেই। এখন দিবারাত্রি আপনার খেয়াল….আমি আর সহ্য করতে পারলাম না। কোন গবেট রা লিখে এসব স্ক্রিপ্ট! আর কোন বেকার পরিচালকেরা বানায় এসবের উপরে নাটক! আমার আম্মু অবসরে সনি বাংলায় ডেইলি সোপ দেখে একটা। পাশাপাশি দুটো বাড়ির ছেলেমেয়ে গোপনে প্রেম করছে এমন পর্ব টেলিকাস্ট করছিল সেদিন। আমার ইচ্ছে হলো লাত্থি মেরে টেলিভিশন টা ভেঙে ফেলি! কারণ টিভির পর্দায় পাশের বাসার প্রেম বিষয়টা নজরে আসতেই হাঁদারাম টা র কথা মাথায় আসছিল আমার।
রুবি আন্টি চলে যেতেই আমি গোসলে যাবার নাম করে আবারও ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ায় আম্মু তখন আমাকে বকতে পারে নি বিশেষ। তবে এবারে আমি ত্যক্ত বিরক্ত মেজাজে চ্যানেল পাল্টাতেই আম্মু ক্ষেপে গেল ভীষণ। কারণ অতি মনোযোগসহকারে আম্মু সিরিয়াল টা দেখছিল তখন। আমার এরকম বাধাঁপ্রদান মনপুত হলো না তার। তাই আগের রাগ সমেত একদম কড়া গলায় হুঁশিয়ারি দিল আমাকে, ‘দিতি! যথেষ্ট হয়েছে আজ৷ দিন দিন বেয়াদবি বাড়ছে তোমার। আমি কি বুঝিনি তুমি ওই ছেলের সাথে ইচ্ছে করে মশকরা টা করেছ। আজ আসুক তোমার বাবা। আমি বলব তাকে আদরে আদরে কেমন বাঁদর বানিয়েছে সে মেয়েকে৷’
এটা হয়তো অবিশ্বাস্য শুনাতে পারে তবে আমার একুশ বছরের জীবনে আব্বু আমাকে কখনো বকাধমক দিয়েছে কিনা আমার ঠিক মনে নেই। খুব রেয়ার সেটা৷ একমাত্র মেয়ে হওয়ায় আমি খুব প্রশ্রয়ে বড় হয়েছি। একটা নির্দিষ্ট ডেসিবেলের উপরে আব্বুর টোন কখনো বাড়ত না আমার সাথে কথা বলার সময়। তাই আম্মুর এমন হুঁশিয়ারী খুব মনে লাগল আমার। আর মনে মনে বিশ্রী থেকে বিশ্রী গালি দিয়ে যাচ্ছিলাম হাঁদারাম টা কে। আম্মু অবশ্য তখন নিজের পছন্দসই সিরিয়াল দেখার মহাগুরুত্বপূর্ণ কাজে মত্ত৷ বিতৃষ্ণ নজরে আমি আরেকবার দেখলাম টিভির পর্দায়৷ ন্যাকা আর ন্যাকারাণীর প্রেম দেখাচ্ছে। ব্যাকগ্রাউন্ড আবার মিউজিক চলছে, বাতাসে বহিছে প্রেম….. বসন্ত এসে গেছে। আমি মুখ ভেংচি দিলাম। বসন্ত আসুক না আসুক এদের ন্যাকামিতে আমার বমি ঠিকই এসেছে!
সেদিন জীবনে প্রথমবারের মত আব্বু গম্ভীর গলায় কথাবার্তা বলল আমার সাথে। কোর্ট থেকে ফিরে আব্বুর মেজাজ চড়ে থাকলেও আমার সাথে তার আচরণ ছিল বরাবরই ব্যতিক্রম৷ কিন্তু সেদিন আব্বু রাশভারি গলায় বিষয়টা আমাকে বুঝাল। বলল তারা আমাদের প্রতিবেশী। এরকম মশকরা দুষ্টুমি চলতে থাকলে সম্পর্ক অবনতির দিকে যাবে। বিষয়টা অনেকের দৃষ্টিকটুও হতে পারে। যেহেতু আমরা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক ইত্যাদি। আমি মাথা নিচু করে সবটা শুনে গেলাম। আর মনে মনে দুষছিলাম হাঁদারাম টা কে৷ তার জন্যই তো আজ এইদিনও দেখতে হলো আমার।
এরকম গুরুতর পরিস্থিতিতে একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ যেটা করে আমি তাই করলাম। নিজের মানসিক শান্তি রক্ষার্থে আমি নিজেই মনস্থির করলাম হাঁদারামের চ্যাপ্টার টা অবিলম্বে ক্লোজ করার। প্রতিশোধস্পৃহা মনের শান্তি বিনষ্ট করে। তাই আমি সংকল্প করলাম তার বিষয়ে মাথা ঘামাবো ই না আর। মনে মনে আওড়ালাম কয়েকবার, হাঁদারাম যা ইচ্ছে করুক। প্রয়োজনে মেডিক্যাল নন মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার দশটা বিয়ে করুক। ইচ্ছে হলে গু ও খাক! কিন্তু আজ থেকে আই ডন্ট কেয়ার! এমন কঠিন সংকল্পে বাসার দরজার সামনে তাকে চোখে পড়লে কিংবা গলিতে তার মুখোমুখি হলেও আমি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতাম তাকে৷ এমন নির্বিকার ভান ধরতাম যেন সে একেবারে অপরিচিত আমার।
অদৃষ্টের পরিহাস নাকি অকাট্য কোনো ভবিতব্যের অংশ আমি জানি না তবে আমার এই সংকল্পের স্থায়িত্ব বেশিদিন রইল না। আরেকটা ঘটনার ছুতোঁয় আমি আবারও জড়িয়ে গেলাম হাঁদারাম বিষয়ক ঝামেলায়।
সেদিন বৃহস্পতিবার ছিল৷ শনিবার দিন আমি চট্টগ্রাম ফিরব। রবিবার থেকে ক্লাস শুরু আমার। আম্মুর সেদিন কাজের খুব ব্যস্ততা। আমার যাবার দুয়েকদিন আগে সে চপ কাটলেট রোল নাগেট এসব বানিয়ে ফ্রিজে ডিপে রাখে। তো আম্মুর এরকম চরম ব্যস্ততার মূহুর্তে রুবি আন্টি এসে বাগড়া দিলেন। সন্ধ্যার নাশতা বানিয়ে তিনি এক বাটি আম্মুর জন্যও নিয়ে আসলেন। আম্মু ওদিকে রান্নাঘরে খুব ব্যস্ত তখন৷ আমি সৌজন্যতাবশত রুবি আন্টি কে বসতে বলতেই তিনি দুনিয়ার গালগল্প জুড়লেন। আর কমন টপিক হিসেবে আবার উঠে আসল তার বিদ্বান ছেলে বিদ্যের জাহাজের কথা।
এরকমই গুণগানের তালে আন্টি বলে বসলেন তার গুণধর ছেলের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র। বিড়ি সিগারেট টানে না। এই যুগের ছেলে হয়েও প্রেমিকা নেই তার। মেয়ে ঘটিত কোনো ঝামেলায়ও কেউ কখনো পাবে না তাকে ব্লা ব্লা ব্লা। আমি চুপচাপ শুনে গেলাম সব। সত্যি টা হলো আন্টিকে ততদিনে আমি এতটা পছন্দ করে ফেলেছি ছেলে নিয়ে তার এরকম বাড়াবাড়ির পরেও আমার তার উপর রাগ উঠে না৷ বরং বিতৃষ্ণা জমে তার গুণধর ছেলের প্রতি। নিশ্চয়ই হাঁদারাম টা ই মায়ের সামনে এরকম গুড বয় সেজে থাকে৷ পট্টি পড়িয়ে রাখে মায়ের চোখে। আমার স্কুলের দু তিনজন ফ্রেন্ডও ডাক্তারি পড়ে। আপাদমস্তক নিখাঁদ ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিতি আছে তাদের৷ অথচ আমি জানি কলেজে থাকতে আমাদের ব্যাচের কোনো মেয়েকে এপ্রোচ করতে বাদ রাখে নি তারা। তলে তলে টেম্পু না ট্রাক চালিয়েছে একেবারে! তাই আন্টির সুপুত্রের সচ্চরিত্র বিষয়ক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা আমার একদমই বিশ্বাসযোগ্য হলো না৷
ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়৷ এমন প্রবাদবাক্য কে ভুল প্রমাণ করে আমি যেন মরিয়া হয়ে উঠলাম মাথায় বেলের বারি খেতে। কুচুটে ব্যাডার মুখোশ টেনে খুলতে আমার নির্ভেজাল মনও কুচুটে হয়ে উঠল। তাকে নিয়ে মাথা ঘামাব না মোটেও এমন কঠিন সংকল্প ভুলে গেলাম নিমিষেই। বরং ইচ্ছে হলো আন্টির গুণধর পুত্রের আসল গুণকীর্তি আন্টিকে দেখাতে৷ এই সানডে দিলাম শীলাকে মানডে দিলাম টিনাকে র যুগে আন্টির সুপুত্র যে সচ্চরিত্রবান সোনার টুকরো ছেলে সেটা মানতে নারাজ হলো আমার মন। ব্যাডামানুষ কে আমার ভালোই চেনা। আমাদের ভার্সিটি তে তো দেখেছি আমাদেরই এক ছেলে ক্লাসমেট একই ম্যাসেজ সেন্ড করেছিল আমাদের তিন বান্ধবী কে। যদি কোনো একটা পটে যায়! আমার বদ্ধমুল ধারণা ছিল সবগুলো ভিন্ন ডিজাইনে সেইম ক্যাটাগরির এরা!
আন্টির কল্যাণে তার সুপুত্রের সকল অর্জন জানা ছিল আমার। আন্টি একদিন দেখিয়েছিলেন তার স্কুল জীবনে জেতা সব সার্টিফিকেট ক্রেস্ট মেডেল এটাওটা৷ তাই তার পুরো নামটা আবছা হলেও আমার মাথায় ছিল। ফেসবুকে দুই তিনবার সার্চ দিতেই একেবারে বরাবর আইডি চলেও আসল। আমার ধারণা ছিল আইডি তে গেলেই মেয়ে ক্লাসমেটদের সাথে রেস্টুরেন্টে যাওয়া কিংবা হ্যাংআউটে যাওয়া দুনিয়ার ছবি আমি পাবো তার। অথচ আমাকে একদম আশাহত করে দিয়ে নিরামিষ টার আইডি তে পেলাম না কিছুই। আন্টির কথা বোধহয় ঠিক! বিদ্যের জাহাজ বিদ্যার চাপে হাগা মুতারও টাইম পায় না বোধহয়। তা নাহলে একটা মানুষের টাইমলাইন এরকম ম্যাড়ম্যাড়ে থাকবে! নিজের পরিকল্পনার প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ায় বেজার হলো আমার মন। তবু চেষ্টা চালিয়ে গেলাম।
পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না৷ জীবনে প্রথমবার আমি সেটার প্রমাণ পেলাম৷ ব্যাডার টাইমলাইনে পোস্টের কমেন্ট সেকশন ঘাঁটতে গিয়ে দেখলাম কমবেশি সব পোস্টেই তার এক ফিমেইল ক্লাসমেটের কমেন্ট চোখে লাগার মতন। এতটাই কমন যেন মেয়েটা বোধহয় তক্কে তক্কে থাকে কখন হাঁদারাম টা পোস্ট করবে আর মেয়েটা কমেন্ট করবে সেখানে। আমার তক্ষুনি সন্দেহ হলো ডাল ম্যায় কুচ কালা হ্যায়! যদিও কোনো কমেন্ট র ই রেসপন্স করে নি হাঁদারাম টা৷ তখন আমার মনে হলো পুরো ডাল টা ই কালা! হয়তো মেয়েটা কুচুটে ব্যাডার প্রেমিকা। সম্পর্ক গোপন রাখতেই কুচুটে ব্যাডা এরকম কূটবুদ্ধি বের করেছে। মেয়েটার কোনো কমেন্টের রিপ্লাই দেয়নি ইচ্ছে করে। যদি লোকজন ধরে ফেলে!
খুশিতে বাক-বাকুম করে উঠল আমার মন। আন্টির তার সুপুত্রের আসল রুপ দেখানোর একেবারে মোক্ষম অস্ত্র পেয়ে গেলাম। নিশ্চয়ই ব্যাডাই আন্টিকে গুড বয় সাজতে গিয়ে বলেছে তার কোনো প্রেমিকা নেই। বের করছি আমি তার গুড বয় সাজা! এরকম মনোবাসনায় পরদিন আন্টি সকালে বুয়ার খবর নিতে আসতেই আমি ইচ্ছে করে কথাটা পাড়লাম। তরল গলায় বলে ফেললাম, ‘আন্টি! রিয়াদ ভাইয়া কিন্তু মেয়ে সুন্দর পটিয়েছে৷ একেবারে নজরকাড়া সুন্দরী মেয়েটা। ভাইয়ার মেডিক্যাল কলেজের ই!’
বিস্ময়ে বাজপড়া শব্দটা আমি শুধু জানতাম। সেদিন চোখের সামনে দেখলামও। আন্টি পলক অব্দি ফেলতে ভুলে গেলেন৷ স্রেফ কোনোমতে বললেন আমি কিভাবে জানি এসব। আমি বানোয়াট কিছু কথা বলে ফেললাম এই যেমন ফেসবুক ঘাঁটতে ঘাঁটতে তার আইডি চোখের সামনে পড়ায় পরিচিত দেখে একটু ঢুকে দেখেছি। তখনই কমেন্ট সেকশনে মেয়েটাকে দেখে মনে হলো তার প্রেমিকা এটাসেটা। আন্টি হু হা কিচ্ছু বললেন না। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছিল নিজের সুপুত্রের এমন কুকীর্তি যেন মেনে নিতে পারেন নি মোটেও। মাম্মাস গুড বয় কিনা এরকম ব্যাড একটা কাজ করে ফেলল!
সেদিন বিকেলে আন্টির আর দেখা মিলল না আমাদের বাসায়। অথচ রোজ বিকেল বেলায় আম্মুর সাথে বসে গল্প করা তার প্রাত্যহিক নিয়মের মধ্যে পড়ে। আমি ঠাহর করতে পারলাম সুপুত্রের এমন আচরণে আন্টি মর্মাহত বোধহয়। হয়তো কুচুটে ব্যাডার সাথে তার ঝগড়াও লেগেছে একচোট। আন্টি আর তার সুপুত্রের মধ্যে একটা ক্যাচক্যাচ লাগিয়ে দিয়ে আমার মন তখন বেশ ফুরফুরে। এরকম ফুরফুরে মেজাজে ছাদে গেলাম বাতাস খেতে। আম্মু দুই তিনটা অলকানন্দা ফুলের গাছ লাগিয়েছে টবে৷ আসার সময় আবার এক বোতল পানিও ধরিয়ে দিলো যাচ্ছি যখন একেবারে যাতে গাছে পানি দিয়ে আসি৷ অন্যদিন এরকম সামান্য কাজ করতেও বড্ড অনীহা লাগে আমার। তবে সেদিন মনমেজাজ এমন ফুরফুরে এত গা করলাম না। বাড়াবাড়ি রকমের খুশি তে আশপাশের গাছগুলোতেও অল্প করে পানি দিলাম৷ গাছে পানি দিতে দিতে আমার ফুরফুরে মেজাজেও পানি পড়ল আচমকা। শুনলাম পেছন থেকে কারো বাজখাঁই গলার স্বর! ‘ডু ইয়্যু হ্যাভ এনি আইডিয়া হোয়াট ইয়্যু হ্যাভ ডান?’
সকাল থেকে ডান চোখের পাতা কিরকম কাঁপছিল আমার৷ পাত্তা দিই নি অত। এরকম কাঁপলে নাকি বিপদআপদ হয়৷ কুসংস্কার ভেবে আমি কখনো বিশ্বাস করিনি ওসব৷ তবে প্রথমবার মনে হলো বিশ্বাস করা উচিত ছিল৷ তাহলে বোধহয় সতর্ক থাকতে পারতাম এমন আসন্ন বিপদসংকুল পরিস্থিতি থেকে। মনের উচাটন একপাশে রেখে পিছু ফিরতেই আমি দেখলাম তাকে। হোয়াইট টিশার্ট আর ব্ল্যাক ট্রাউজার পরনে মূর্তিমান সুদর্শন আপদ। আন্টির কুচুটে সুপুত্র! সুপুত্র তখন বড় তীক্ষ্ণ চোখে নজর ফেলেছে আমার উপরে। যেন আমি আদালতের কাঠগড়ায় দন্ডায়মান আসামী! আর তার ওই সম্মোহনী দৃষ্টি! একেবারে যেন এফোঁড় ওফোঁড় করে পড়ে ফেলছিল আমার মনের খবর। আমি বেশিক্ষণ নজর মেলাতে পারলাম না ওই দৃষ্টির সাথে।
আমাকে এমন গোবেচারা ভাব ধরতে দেখে ব্যাটা সাহস পেলো যেন। ব্যাটা কে আন্টি যতই মাটির দলা ডাকুক আমি বুঝলাম সে ভালোই মাথাগরম। কারণ রাগী কথায় বলল একেকটা কথা।
‘আম্মু কে কি বলেছ তুমি? কোনো সলিড প্রুফ আছে তোমার কাছে যেসমস্ত কথা বলেছ! এভাবে একজনের নামে যা তা বলা কি ঠিক? তুমি কতটুকু জানো আমার বিষয়ে?’
তারপর সে আবারও যোগ করল,
‘দিয়া! তোমার কোনো আইডিয়া আছে তুমি কত বড় ঝামেলা পাকিয়েছ?’
তার একের পর এক তীব্র বাক্যবাণে মলিন হয়ে গেছিল আমার হাস্যোজ্জল মুখ৷ সত্যি বলতে অপরাধবোধে মিইয়ে যাচ্ছিলাম আমি৷ এবার হয়তো সত্যিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি নিজের অজান্তেই। আমার কাছ থেকে কোনো প্রতিত্তোর না পেয়ে এতক্ষণ জলদগম্ভীর স্বরে কথা বলা মানুষটা খুব কাতর গলায় ডাকল আমাকে।
‘দিয়া! তোমার কি সত্যিই মনে হয় আমার চরিত্রদোষ আছে? আমি মেয়ে পটানো ছেলে?’
তার এমন কাতর গলার প্রশ্নে আমি এবার অবাক হলাম বেশ। বুকের মধ্যে কিছু একটা হলো আমার। হাঁদারাম অভিযোগ থেকে এবার যেন অনুযোগ জানান দিলো। অথচ রাগ অনুরাগের মতন মনের টান কিংবা সম্পর্ক কোনোটাই আমাদের ছিল না। আমাদের মারকাটারি সম্পর্কে এরকম অনুযোগ অভিমান বড়ই বেমানান। তাই আমার মনে হওয়া না হওয়া নিয়ে তার এমন মাথাব্যথা হবার কথাও না। আমি উত্তর হাতড়ে বেড়াচ্ছিলাম এমন জটিল সমীকরণের। আর এমন জটিল প্রশ্নের যে সরল উত্তর টা মন বারবার জানান দিচ্ছিল সেটা নাকচ করছিলাম অনবরত। আমার আকাশপাতাল ভাবনার মধ্যেই আবারও কানে এলো তার অভিমানী গলার স্বর।
‘দিয়া! বিশ্বাস করো! আমি মোটেও মেয়ে পটানো খারাপ ছেলে না!’
চলবে।

