Home "ধারাবাহিক গল্প ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ পর্ব-৩৭+৩৮

ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ পর্ব-৩৭+৩৮

0
175

#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ৩৭
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা

সময় স্রোতের টানে অনায়াসে তিন মাস অতিবাহিত হয়ে গেলো। এই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একেকজনের জীবনে এসেছে বিশাল পরিবর্তন। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা এসেছে এভিয়ানের মাঝে। এই তিন মাসের ব্যবধানে এভিয়ান নামাজ, কুরআন আর ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো নিজের আয়ত্তে এনে ফেলেছে। সে তার বেশিরভাগ সময় এখন মসজিদে থেকে ইবাদত করে আর ইশাতের খোঁজে ব্যয় করছে।ইশাতকে ফিরে পেতে সে কোনো চেষ্টার কমতি রাখছে না।

ইদানিং প্রতি রাতে সে তাহাজ্জুদ পড়ে বিনয়ের সাথে ইশাতকে আল্লাহর কাছে চাইছে। জীবনে এই প্রথমবার কোনো কিছু পাওয়ার জন্য সে হাত পেতেছে , চোখের পানি ঝরিয়েছে। এই তিনমাসে সে অফিসের ধারে কাছেও যায় নি। রিজভী অফিসের সব কাজ একা হাতে সামলেছে। এইকয়দিন অফিস শেষে রিজভী এভিয়ানকে খুঁজতে বাড়িতে এলে পেতো না। খুঁজতে খুঁজতে পড়ে গিয়ে সে বন্ধুকে মসজিদে পেত। তখন এভিয়ানের সাথে রিজভীকেও বাধ্য হয়ে নামাজ পড়তে হতো। তবে আজ রাতে রিজভী এভিয়ানের বাড়িতেই বসে অপেক্ষা করতে লাগলো। রাতে বাড়ি ফিরে এসে এভিয়ান দেখলো রিজভী হল রুমের সোফায় বসে তার অপেক্ষায় ছিল। এভিয়ান কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলো।
— এই রাতে তুই এইখানে? কিছু বলবি?

রিজভী তাকে উল্টো প্রশ্ন করে বলল।
— তুই অফিস কবে থেকে আসবি? আমি একা এতো কাজ সামলাতে পারছি না। তুই না থাকলে একা ভালোও লাগছে না।

— ঠিকাছে কাল থেকে আসবো।

— সত্যি করে বল এভিয়ান কবে থেকে আসবি?

— বললাম তো কাল থেকেই। আমার নাম এভিয়ান না আরিয়ান। কতবার বলে দিতে হবে?

— উফ আমি তো কনফিউজড। তুই এমনই কামব্যাক দিলি যে এভিয়ান থেকে সোজা আরিয়ান হয়ে গেলি।

— ফাজলামু বাদ দে, ইশার নামাজ পড়তে এলি না যে?

— সময় পাই নি।

— তাহলে এখানে আসার সময় পেলি কীভাবে?

রিজভী আমতা আমতা করে বলল।
— ওই আরকি…

এভিয়ান তার ভ’ণ্ডামি ধরে ফেলে বলল।
— এসব ভ’ণ্ডামি রেখে নিয়মিত নামাজ ধর, কাজে দিবে।

রিজভী তখন এভিয়ানের হাতে কুরআন দেখে বলল।
— তুই এখন কি করবি?

এভিয়ান হাতের কুরআনের দিকে তাকিয়ে বলল।
— কুরআন তিলাওয়াত প্র্যাকটিস করব।

— তোর পুরোপুরি শেখা শেষ? শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করতে পারিস এখন?

— আলহামদুলিল্লাহ, অনেকটাই!

— মাশাআল্লাহ তোর তো দেখি কথা বার্তায়ও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। জানিস, আমি তো ওই ছোটবেলায় শিখেছিলাম কুরআন শরীফ। প্র্যাকটিস নেই তাই ভুলে গেছি।

— পবিত্র কুরআন শিখে ভুলে যাওয়াটা অনেক দুর্ভাগ্যের। তুই কাল থেকে আমার সাথে মসজিদে গিয়ে কুরআন শিখবি।

— ঠিকাছে তা যাবো।

— আর নামাজও পড়বি নিয়মিত।

— সেটা একটু কঠিন।

— কেন তিন বেলা খাওয়া কঠিন না?

রিজভী কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল।
— খাওয়ার খোটা দিচ্ছিস?

— না, নামাজ পড়তে বলছি। এটা তোর নিজের ভালোর জন্য।

— এভি ওহ না সরি আরিয়ান বন্ধু, আমি তোর মাঝে এতো পরিবর্তন দেখে এক দিক দিয়ে খুশিও হয়েছি আবার হতবাকও। যেখানে আমি মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েও নামাজ পড়ছি না, ইসলামের কোনো বিধিনিষেধ মানছি না, সেই দিকে তুই ইসলাম গ্রহন করে, অতীতের সব ভুল সংশোধন করে আল্লাহর ইবাদতকে কতটা সিরিয়াস নিচ্ছিস।তোর আগের সব পাপ ধুয়ে মুছে এখন তো তুই পুরোপুরি নিষ্পাপ। আর এদিকে আমি এতদিন দুনিয়ার মোহে পড়ে ছিলাম। আজ বুঝতে পারছি যেখানে আমার তোকে শেখানো উচিত ছিল সেখানে আজ তুই আমাকে শেখাচ্ছিস। মনে হচ্ছে এখন থেকে আমারও নিজেকে শুধরে ফেলা উচিত।

আরিয়ান খুশি নিয়ে রিজভীর পিঠ চাপড়ে বলল।
— তুই চাইলে এখন থেকেই নিজেকে পরিবর্তন করতে পারিস। আল্লাহর কাছে ফিরে আসার কোনো বয়স সীমা নেই। নিয়ত স্থির কর, এখন থেকে রোজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মসজিদে দেখা হচ্ছে তাহলে!

রিজভী হেসে বলল।
— ইনশাআল্লাহ।

পরক্ষণে রিজভী চিন্তিত মুখে জিজ্ঞাসা করলো।
— ইশাতের কোনো খোঁজ পেলি?

এভিয়ান আল্লাহর প্রতি ভরসা নিয়ে বলল।
— এখনো না। তবে শীঘ্রই পেয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

—————————-

একটা পুরোনো গোডাউনে চেয়ারে কোনরকম বেঁধে রাখা অবস্থায় ছোটাছুটি করছে ইমরান। গত তিন মাস যাবত দুবেলা কোনো মতো খাইয়ে পরিয়ে তাকে এখানেই রাখা হয়েছে। তার আশেপাশে সব সময় লোক পাহারারত থাকে, যেন কোনোভাবেই সে পালাতে না পারে। কিন্তু আজ ইমরান আর দমবে না। আজ কোন না কোন উপায় বের করে সে এখান থেকে বেরিয়েই ছাড়বে। সে যতটুকু আন্দাজ করতে পারে গোডাউনটা হয়তো কোনো নীতিবিড়ি জায়গাতে। কারণ এই তিন মাসে সে না বাহিরে থেকে কোনো গাড়ির আওয়াজ পেয়েছে, আর না কোনো মানব কোলাহলের আওয়াজ।

এমন সময় নড়াচড়া করতে গিয়ে ইমরান লক্ষ্য করলো তার হাতের বাঁধনটা কেমন যেন ঢিলে লাগছে। হয়তো তারা আজ দড়িটা বাধার সময় গাফলতি করেছে। তার ঠোঁটে প্রফুল্ল হাসি খেলে গেলো। সে আলগোছে দড়ি থেকে হাত ছাড়িয়ে হাত পেছনে এমন ভাবে রাখলো যেন মনেহয় তার হাত বাঁধা অবস্থাতেই আছে। তার সামনের টহল দেওয়া লোকটা পেছনে ফিরে সিগারেট খাচ্ছিল। ইমরান সুযোগ বুঝে উঠে দাড়ালো। লোকটা পেছনে ফেরার আগেই সে তার চোয়ালের প্রেশার পয়েন্ট বরাবর সজোড়ে ঘু’ষি বসিয়ে দিল। এতে লোকটা সঙ্গে সঙ্গে অচেতন হয়ে পড়লো।

ইমরান সেই সুযোগে উঠে গোডাউনের এক্সিট দরজা হালকা ফাঁক করে দেখলো বাহিরে আরও দুইজন লোক দাড়িয়ে আছে। সে ওৎ পেতে রইলো কখন লোকগুলো সেখান থেকে সরবে আর সে পালাবে। কিন্তু তারা ঠাঁই দাঁড়িয়েই ছিল। অনেক্ষন যাবত অপেক্ষার পর দুজন লোক সরতেই ইমরান আর কোনো কিছু না ভেবে দিকবিদিক দিশাহীন ছুটতে লাগলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত লোকদুটো পেছন থেকে তাকে দেখে ফেলল এবং ধাওয়া করতে শুরু করলো।

গোডাউনটা জঙ্গলের গভীরে হওয়াতে ইমরান শুধু ছুঁটেই যাচ্ছে কিন্তু কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না। তার শরীর দূর্বল হওয়াতে পাও আর চলতে চাইছে না। একটা সময় সে দেখলো লোকগুলো তার কাছাকাছি এসে পড়েছে। প্রায় ধরেই ফেলবে তাকে, ইমরানও প্রায় হাল ছেড়েই দিয়েছিল। এমন সময় কোথা থেকে যেনো কয়েকটা বু’লেট এসে লোকগুলোর হাঁটুতে বি’দ্ধ করলো। সঙ্গে সঙ্গে বু’লেট লাগায় লোকগুলো হাঁটু মুড়ে র’ক্তাক্ত পা ধরে বসে পড়লো। ইমরান বিস্মিত চোখে ঘুরে তাকাতেই দেখলো এভিয়ানের ম্যানেজার সিয়ামকে। সিয়াম ব’ন্দুক পকেটে ভরে তাকে আশ্বস্ত করে বলল।
— চিন্তার কিছু নেই আমি আপনাকে এখান থেকে উদ্ধার করতে এসেছি। স্যার আমাকে পাঠিয়েছেন। মেইন রোডে আমার গাড়ি দাঁড় করা,আমার সাথে আসুন।

ইমরান গেল না উল্টো প্রশ্ন করে বলল।
— আমার খোঁজ কি করে পেলেন?

— স্যারের অফিসে আসুন স্যারই সব বলবে আপনাকে।

ইমরান তখন নাকচ করলো না, সে সিয়ামের সাথে মেইন রোডে এসে তার গাড়িতে উঠে বসলো। দীর্ঘ রাস্তা অতিক্রম করে গাড়িটা সোজা থামলো এভিয়ানের অফিসের সামনে। ইমরান সিয়ামের সঙ্গে এভিয়ানের কেবিনে প্রবেশ করে দেখলো এভিয়ান ল্যাপটপে কাজ করছিল। ইমরানকে দেখে সে হাতের কাজ থামালো, ইমরানের পা থেকে মাথা অবধি পর্যবেক্ষণ করে সে দেখলো তিন মাসে ইমরানের চুল, দাড়ি জামাকাপড়ের বেহাল দশা। জামাকাপড় গুলো কেমন ধুলো লেগে ময়লা হয়ে আছে। সে ইমরানকে তার সামনের চেয়ারে বসতে বলে সিয়ামকে আদেশ করলো ইমরানের জন্য নাস্তা পানির ব্যবস্থা করতে।

ইমরান প্রশ্ন তাকে করলো।
— আমাকে কেন সাহায্য করলেন? আর কীভাবে জানলেন আমি ওই জায়গায় বন্ধী?

এভিয়ান বিষয়টা খোলাসা করে বলল।
— আমার আসিফের উপর সন্দেহ ছিল, আমি লোক লাগিয়ে রেখেছিলাম তার পেছনে এটা জানার জন্য যে সে ইশাতকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে। আমার লোক দিনরাত তার ওপর নজর রেখেছে। এমন সময় তারা আপনার খোঁজ পায়।

ইমরান কপাল কুঁচকে বলল।
— ইশাতকে লুকিয়ে রেখেছে মানে?

— আপনার নিখোঁজের পর আসিফ আপনার মাকে উল্টো পাল্টা বুঝিয়ে ইশাতকে আমার থেকে লুকিয়ে বিয়ে করার জন্যে তার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে ট্রেনে রওনা দেয়। কিন্তু আমার কানে সেই খবর ঠিকই পৌঁছায়, সঙ্গে সঙ্গে আমিও পেছনে যাই। কিন্তু আসিফ তখন নোং’রা নাটক সাজিয়ে ট্রেনে আ’গুন লাগিয়ে ইশাতকে সরিয়ে ফেলে, আর একটা লা’শ দেখিয়ে সেটাকে সবার চোখে ইশাত প্রমাণ করে। কিন্তু আমি আমার হোয়াইট মুনকে চিনি। ওটা ইশাত ছিল না।

ইমরান বিস্ফোরিত নয়নে বলল।
— কি বলছেন? আমার বোন নিখোঁজ? কতবড় সাহস ওর, আমি ওকে ছাড়ব না।

— আমি সব জায়গায় খোঁজ করছি, আমি আমার ইশাতকে শীঘ্রই পেয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

এভিয়ানের কথার ধরনে ইমরান আশ্চর্য হয়ে বলল।
— কিন্তু আপনি আমার বোনের জন্য এতো চিন্তিত কেন মিস্টার এভিয়ান?

এভিয়ান বিনা দ্বিধায় সাফ সাফ বলে দিলো।
— আমি আপনার বোনকে ভালোবাসি। আর আমার নাম এভিয়ান না আরিয়ান জারিয়াত।

ইমরান মনে মনে কিছু একটা ধারণা করে বলল।
— আপনি কি..

এভিয়ান তার কথা শেষ করার আগেই উত্তর দিলো।
— হ্যা আমি ইসলাম গ্রহন করেছি। আপনার বোনই আমাকে সত্যটা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

ইমরান তখন মাথা দুলিয়ে এভিয়ানকে বিশ্বাস করে বলল।
— আমার কাছে আসিফকে অ্যারে’স্ট করার প্রমাণ আছে।

এভিয়ান আগ্রহ নিয়ে জানতে চেয়ে বলল।
— কেমন প্রমাণ?

ইমরান তখন খোলাসা করে বলল।
— সেদিন রাতের আসিফের স্বীকারোক্তি আমি আমার পেনক্যামেরাতে ভিডিও করেছিলাম। আমাকে গু’ম করার পরেও আমি সেটা হারাতে দেই নি, আর কাউকে বুঝতেও দেই নি।

এভিয়ান তাকে আশ্বস্ত করে জানালো।
— ঠিকাছে, ওটা সাবধানে রাখুন। আর ওর কাজ কর্মে আমার সন্দেহ ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে কোনোভাবে জড়িত কিনা। এমনটা হলে এই কে’সে আমি আপনাকে যাবতীয় ইনফরমেশন দিয়ে সাহায্য করব।

চলবে ( ইনশাআল্লাহ )……………

#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ৩৮
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা

অন্ধকার রুমটাতে জ্বলছে একটা মৃদু হলদেটে বাতি। রুমে জানালা না থাকায় আকাশটা পর্যন্ত দেখার কোনো উপক্রম নেই। ভেতর থেকে বোঝাই যাচ্ছে না যে বাহিরে দিন নাকি রাত। রুমের আধো বাতির আলোয় খাটের কোনে মাথা ঠেকিয়ে আনমনে পরিবারের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোর কথা মনে করে থেকে থেকে চোখের পানি ঝরাচ্ছে ইশাত। তিন মাস যাবত নিজেকে সে এই চার দেয়ালের মাঝে পুরোপুরি আবদ্ধ করে নিয়েছে। সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।

এখন তার জীবনে তার রব ছাড়া আর কোনোকিছুর অস্তিত্ব নেই। শুধু সময় মত নামাজ আদায় করে পরিবারের জন্য দোয়া করা হলে চুপচাপ এক কোণে বসে থাকছে সে। এখানে থাকা বয়স্ক মহিলাটা তাকে সময় মতো খাবার এনে জোর করে কোনো মতে খাইয়ে দিয়ে যায়। ইশাতের মনে পড়ছে ইমরানের বলা প্রত্যেকটা উপদেশ আর সতর্কবার্তা। এখন সত্যিই আফসোস হচ্ছে, তখন যদি সে ভাইয়ের কথা শুনতো আর এভিয়ানকে অন্ধ বিশ্বাস না করতো তাহলে আজ তাকে এভাবে পরিবার হারিয়ে নিঃস হতে হতো না। সে মনে মনে স্থির করে নিয়েছে এভিয়ানের শেষ সে দেখে ছাড়বে।

ইশাতের ভাবনার মাঝে হঠাৎ তাড়াহুড়োতে রুমে প্রবেশ করলো আসিফ। তিন মাসের মধ্যে এই নিয়ে তাকে দ্বিতীয়বার দেখছে ইশাত। আসিফকে দেখে ইশাতের মধ্যে কোনো ভাবান্তর দেখা দিলো না। অন্যদিকে ইশাতকে মন ভার করে বসে থাকতে দেখে আসিফ অসন্তুষ্ট হয়ে বলল।
— আর কতদিন এভাবে শোক পালন করবে ইশাত?

ইশাত শক্ত গলায় বলল।
— যতদিন না আমি এভিয়ানকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়াচ্ছি।

আসিফ তখন তাকে পরামর্শ দিয়ে বলল।
— আমার মনেহয় এবার আমাদের বিয়েটা করে নেওয়া উচিত। তোমার মায়ের শেষ ইচ্ছের কথা ভুলে গেছ?

ইশাত অনুভূতিহীন কন্ঠে বলল।
— আমি আপনাকে বিয়ে করবো। কিন্তু এখন না এভিয়ানকে শাস্তি দেওয়ানোর পর।

আসিফ ঈ’র্ষা নিয়ে বলল।
— তাকে ঘৃ’ণার পরেও তোমার মুখ থেকে এখনো ওর নাম যাচ্ছে না কেন ইশাত?

ইশাত মনে পোষা ক্ষোভ নিয়ে বলল।
— যেন তাকে মনে করে আরো বেশি করে ঘৃ’ণা করতে পারি, আর এই ঘৃ’ণা দিয়ে তাকে শেষ করে দিতে পারি। সে আমার থেকে আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।

আসিফ তুষ্ট হেসে বলল।
— আমিও সেটাই চাই।

ইশাত নিশ্চুপ রইলো। আসিফ তখন জিজ্ঞাসা করলো
— কিছু খেয়েছ?

— হুম।

— শুনো, আমি খালাকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন থেকে আমি এখানে তোমার সাথে থাকব।

আসিফের অভিব্যক্তিতে ইশাত আশ্চর্য হয়ে বলল।
— এসব কি বলছেন? আমাদের এখনো বিয়ে হয় নি আর আপনি এক ছাদের নিচে থাকতে চাইছেন? এটা সম্পূর্ণ নাজা’য়েজ। আমি এভাবে থাকব না।

আসিফ অসহায় মুখ করে বলল।
— বিয়েটা তো তুমিই করতে চাইছ না।

ইশাত সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিল।
— আপনি খালাকে আবারো ডেকে পাঠান। আমি এভাবে থাকতে পারব না।

আসিফ তার কথাটা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে বলল।
— সেটা নাহয় পড়ে দেখা যাবে। আমি আমাদের জন্য কফি করে নিয়ে আসছি।

আসিফ কোনোমতে কথা কেটে রান্নাঘরে চলে গেল। আসিফের ব্যবহার ইশাতের কাছে সন্দেহজনক মনে হলো। আসিফ যাওয়ার পর সে রুম থেকে বাহিরে উকি দিয়ে দেখলো আসিফ তার ফোন বাহিরে টেবিলে রেখে কাজ করছে। ইশাত সুযোগ বুঝে সেখানে গিয়ে আলগোছে ফোনটা হাতে নিয়ে পেছনে লুকালো। ইশাতকে চোখে পড়া মাত্র আসিফ হাতের কাজ থামিয়ে তাকে প্রশ্ন করলো।
— তুমি এখানে কি করছো ইশাত? কিছু লাগবে তোমার?

ইশাত থতবত খেয়ে দাড়িয়ে পড়লো। পরক্ষণে অন্য হাতে টেবিল থেকে পানির বোতল নিতে নিতে বলল।
— পানি নিতে এসেছি। নিয়েই চলে যাচ্ছি, আপনি আপনার কাজ করুন।

আসিফকে ভুলভাল বুঝিয়ে ইশাত তার ফোন সমেত রুমে এসে জলদি করে আদিবার নাম্বার ডায়েল করলো। ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর ফোন রিসিভ হলো। ইশাত সঙ্গে সঙ্গে কণ্ঠ নামিয়ে বলল।
— আদিবা আমি ইশাত, তুই কেমন আছিস?

আদিবা বিস্ফোরিত কন্ঠে বলল।
— ইশাত মানে? আমার তো একটাই ফ্রেন্ড ছিল ইশাত। সে তো আর নেই। আপনি কে?

ইশাত আদিবার কথার অর্থ না বুঝে প্রশ্ন করলো।
— তুই এসব কি বলছিস? নেই মানে? আমি সত্যিই ইশাত বলছি। তুই আমার কন্ঠ চিনতে পারছিস না?

আদিবার মনে এবার খটকা লাগলো। সে বলল।
— তুই সত্যি ইশাত? তাহলে তুই ইশাত হলে ওইটা কে ছিল যাকে সেদিন ট্রেন অ্যা’ক্সিডেন্টের রাতে আসিফ এনে বলল ইশাত আগুনে দগ্ধ হয়ে মা’রা গেছে? সেই লা’শ তো দাফনও করা শেষ।

ইশাত যেন বড়সড় একটা ধাক্কা খেল। সে আশ্চর্য হয়ে বলল।
— কি বলিস উল্টাপাল্টা! সেই দুর্ঘট’নার পর তো আমি জ্ঞান হারিয়েছিলাম। আসিফ সেদিন রাতে আমাকে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। আমার জ্ঞান ফেরার পর সে আমাকে জানিয়েছে এভিয়ান নাকি আমার পরিবারের সবাইকে ট্রেনে আ’গুন দিয়ে মে’রে ফেলেছে।

— মে’রে ফেলেছে মানে? ওই আসিফ আমাদের সবার সাথে প্রতা’রণা করেছে। তুই যা জানিস সেটা সত্য না। তোর পরিবারের করো কিছু হয়নি। এমনকি ইমরান ভাইয়াও ফিরে এসেছেন। আসিফ এখন পলাতক তোর ভাইকে ওই গু’ম করেছিল, ফেলিক্সকে আর ওর দাদীকেও খু’ন করেছে আসিফ নিজেই। ইমরান ভাইয়াকে গু’ম করার আগে আসিফ নিজেই তার কাছে সেটা শিকার করেছে। নিউজে দেখলাম পুলিশ তাকে খুঁজছে, কিন্তু হঠাৎ করে তার কোনো খোঁজ নেই। পরিবারের কেউ জানে না সে কোথায় গেছে। কিন্তু তুই কোথায় এখন?

ইশাত কাপা কাপা কন্ঠে বলল।
— আ..আমি আসিফের সাথে….

আদিবা যেন আরেক দফা ঝটকা খেলো। সে আতঙ্কিত হয়ে বলল।
— কি বলিস! তুই ওর সাথে সেফ না। যেভাবেই পারিস পালিয়ে আয় ওইখান থেকে।

ইশাত তাড়াহুড়ো করে ফোন রেখে বলল।
— ঠিকাছে আমি রাখছি।

ফোন রেখে সে খেয়াল করলো তার হাত পা কাপছে। ইশাত জানে এই দুর্বোধ্য জায়গা থেকে সে একা পালিয়ে পাড় পাবে না। তাই সে আর কিছু না ভেবে সোজা ভাইয়ের নাম্বার ডায়েল করে সে যে জায়গায় এখন আছে সেটা গুগল ম্যাপ থেকে লোকেশন বের করে ফরওয়ার্ড করে দিলো। হঠাৎ সে কি যেন মনে করে এভিয়ানের নাম্বারেও ফরওয়ার্ড করে দিল। ইশাত এভিয়ানকে ম্যাসেজে কিছু লিখতে যাবে, এমন সময় সে আসিফের পায়ের আওয়াজ পেলো সঙ্গে সঙ্গে একটা “হোয়াইট মুন” ইমোজি পাঠিয়ে সে ফোনটা খাটের এক পাশে রেখে দিলো।

আসিফ ভেতরে এসে সম্মোহনী হেসে তার দিকে কফির মগ এগিয়ে দিল। ইশাত তাকে কিছুই বুঝতে দিলো না। সে চুপচাপ মগটা হাতে নিয়ে মনে মনে ভাবতে লাগলো এই প’শুটার কারণে সে তার এভিয়ানকে এতদিন ভুল বুঝেছে ঘৃ’ণা করেছে, পরিবার হারানোর শোক পালন করেছে একে সে ক্ষমা করবে না। আসিফ তখন খেয়াল করলো তার ফোনটা ইশাতের খাটে রাখা, সে কপাল কুচকে বলল।
— আমার ফোন তো বাহিরে ছিল এখানে কি করছে?

— হয়তো আপনি ভুলে রেখে গেছেন।

ইশাতের কথায় আসিফের বিশ্বাস হলো না। সে গিয়ে ফোন হাতে নিলো এমন সময় তার ফোনে একটা আননোন নাম্বারে কল এলো। আসিফ ইশাতের দিকে সন্দিহান দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে আদিবার গলা শোনা গেল। আদিবা অনর্গল বলে যাচ্ছে।
— তুই কোথায় আছিস বল আমাকে, আমি ইমরান ভাইয়ার কাছে খবর পাঠিয়ে তোকে ওইখান থেকে বেরোতে সাহায্য করব। ওই আসিফ লোকটা সুবিদার না যে তোকে তোর পরিবারের কথা এতবড় মিথ্যা বলল সে তোর ক্ষতি করতে একটুও ভাববে না।

আদিবার কথার মাঝ পথে আসিফ ফোন কেটে বাকা হেসে ইশাতের দিকে তাকালো। আসিফের কাছে ধরা পড়ার পর তার এমন ভ’য়ানক রূপ দেখে ইশাতের শরীরের ঘাম ছুটতে শুরু করলো। তার হাতের মগটা পড়ে মুহূর্তেই ভে’ঙে চুরমার হয়ে কফি পুরো ফ্লোরে ছিটিয়ে গেলো। তখন আসিফও তার হাতের মগটা ছুঁড়ে ফেলে ইশাতের দিকে ধীরে ধীরে এগোতে এগোতে বলল।
— আমার অগচরে তুমি আদিবাকে কল করেছিলে?

ইশাত পিছাতে পিছাতে তেজ দেখিয়ে বলল।
— তুই আমার সাথে প্র’তারণা করেছিস। তোর জন্য আমি দিনরাত আমার পরিবারকে হারানোর কষ্ট উপভোগ করেছি। তোর জন্য আমি এভিয়ানকে ভুল বুঝেছি।

— ওহ তাহলে সত্য যখন জেনেই গেছ তাহলে আর দেরি কিসের?

— মানে?

— এতদিন অনেক সময় দিয়েছি বুঝিয়েছি আমাকে বিয়ে করো। অনেক ধৈর্য ধরেছি তোমাকে কাছে পাওয়ার, কিন্তু এখন যেহেতু সত্যিটা জেনেই গেছ সেহেতু নিজের ইচ্ছায় তুমি আমাকে আর বিয়ে করছো না এটা আমার ভালো করেই জানা। তাহলে আমি আর অপেক্ষা করে কি করব?

— আপনি কি বলতে চাচ্ছেন?

— এখনো বুঝো নি? আমি বলতে চাচ্ছি তোমাকে কাছে পেতে আমার বিয়ের আর কোনো দরকার নেই।

সঙ্গে সঙ্গে ইশাত তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আঙুল উঁচিয়ে তাকে সাবধান করে বলল।
— খবরদার!! নিজের মঙ্গল চাইলে দূরে থাকুন।

আসিফ ব্যাঙ্গাত্মক হেসে বলল।
— কেন দূরে না থাকলে কি করবে?

— আবারো সাবধান করছি, আমার থেকে দূরে থাকুন। এভিয়ান জানতে পারলে আপনাকে ছাড়বে না।

আসিফ তার কথাকে তাচ্ছিল্য করে বলল।
— এতো কি পেয়েছ ওর মধ্যে? আমি শুরু থেকে খেয়াল করছি ওর প্রতি তোমার অন্যরকম আগ্রহ। কারণটা কি? আমি ওর থেকে কোন অংশে কম? ওর আগে আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, আমি তোমাকে আগে চেয়েছি। ও একটা অ’পরাধী। তোমার মতো প্রতিবাদী মেয়ে যদি ওকে পছন্দ করতে পারে তাহলে আমাকে করলে কি সমস্যা? আমার আর ওর মধ্যে তফাৎটা কি?

ইশাত এভিয়ানকে নিয়ে দম্ভ করে বলল।
— তফাৎ আছে!! এভিয়ান আর আপনার মধ্যে অনেক তফাৎ। আপনার চোখে সে ভালো নাই হতে পারে কিন্তু আমার চোখে সে অন্যরকম। ঠিকাছে মানছি সে অ’পরাধী। কিন্তু আপনার মতো কখনো কোনো মানুষ হ’ত্যা করে নি। আমার বলার পর সে তার সকল অ’বৈধ কাজ ত্যাগ করেছে। এমনকি সে তার সেইসকল কাজের ফাইল আমার হাতে পর্যন্ত তুলে দিয়েছে, যেন ওই পথে আর না ফিরে যেতে পারে। সে আমাকে ভালোবাসা শর্তেও আমার অনুমতি ব্যতীত কখনো আমার হাতটাও ছুঁয়ে দেখে নি। সে আমার অনুভূতিকে সম্মান করেছে, আমাকে প্রাধান্য দিয়েছে। আমার মন তো আগে থেকেই বলছিল এভিয়ান কখনো এতবড় অ’ন্যায় করতে পারে না। তবুও আমি আমার মনের বিরুদ্ধে গিয়ে আপনার নোং’রা সাজানো কথায় বিশ্বাস করেছি। কেন অন্যায় না করার পরেও তাকে আমি শা’স্তি দিতে চাইলাম? এখন আমার নিজের উপরই ঘৃ’ণা কাজ করছে। কেন আমি যাচাই না করে আপনার মতো প্রতা’রককে বিশ্বাস করলাম?

ইশাতের প্রত্যেকটা কথা আসিফের শরীরে আ’গুন জ্বা’লিয়ে দিচ্ছিল। সে দাঁত কটমটিয়ে বলল।
— ওহ! আমি তো প্র’তারক, ভালো না। আমি যেহেতু খারাপ তাই খারাবি করে দেখিয়ে দেব। তোমার এভিয়ানও এখন পারবে না তোমাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করতে। আমার যা চাই সেটা আমি ছিনিয়ে নেই, আর তা না পেলে ধ্বং’স করে ফেলি।

আসিফের উদ্দেশ্য বুঝে ইশাত আতকে উঠলো। আরো কয়েক পা পেছালো। পরক্ষণে পাশে থাকা একটা ফুলদানি দিয়ে সে আসিফের মাথায় মা’রল। আ’ঘাতের ফলে আসিফ মাথায় হাত চেপে ধরলো। সেই সুযোগে ইশাত দৌড়ে অন্য রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিলো। ফুলদানির ভা’ঙ্গা টুকরো দিয়ে আসিফের কপাল কে’টে র’ক্ত ঝরতে শুরু করলো। সে কোনো মতে মাথায় হাত চেপে ইশাতের পিছু ছুটলো।

অন্যদিকে ইমরান আর এভিয়ান একসাথে বসে সকল প্রমাণ জড় করে কে’সটা সলভ করার চেষ্টায় আছে। কোনোভাবে তারা আসিফের খোঁজ বের করতে পারলেই ইশাতের খোঁজ পেয়ে যাবে। ইমরান এই কে’সে এভিয়ানের সাহায্য নিচ্ছে, যেহেতু এভিয়ানের আগে আন্ডারগ্রাউন্ডের সাথে সম্পর্ক ছিল তাই এভিয়ানই তাকে সঠিক তথ্য এনে দিতে পারবে আসিফের ব্যাপারে। এভিয়ানের ধারণা আসিফও তেমন কোন কিছুর সাথে জড়িত, নাহলে এতো ভয়া’নক রকমের অ’পরাধ একটা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে করা অসম্ভব।

ইমরান আর এভিয়ান তখন কাজের সূত্রে একসাথেই ছিল। এমন সময় তাদের দুজনের ফোন একসাথে শব্দ করে উঠলো। তারা ফোন হাতে নিয়ে দেখলো একটা আননোন নাম্বারে লোকেশন মেসেজ। মেসেজটা দেখে ইমরান কিছুই বুঝলো না কিন্তু এভিয়ান মেসেজের পর একটা হোয়াইট মুনের ইমোজি দেখে ঠিকই সব বুঝে গেল। সে তৎক্ষণাৎ ইমরানকে তাড়া দিয়ে তাড়াহুড়োতে ছুটে গিয়ে গাড়ি বেড় করলো।

এদিকে ইশাত ঘণ্টা যাবত দরজা আটকে বসে আছে। মনে মনে সে দোয়া করে যাচ্ছে কোনভাবে যেন তার ভাই অথবা এভিয়ানের চোখে তার ম্যাসেজটা পড়ে। আসিফ এতক্ষনভর দরজার বাহিরে থেকে চেচাচ্ছিল, তাকে বের হওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ইশাত কোনো ভাবেই তার কোনো কথা কানে নেই নি। সে দরজা খোলে নি। কিন্তু হঠাৎ কিছুক্ষন যাবত বাহিরে নিস্তব্ধতা বইছে। ইশাত ভাবলো তার দরজা না খোলায় আসিফ হয়তো এতক্ষনে হাল ছেড়ে ফিরে গেছে। কিন্তু তাকে চমকে দিয়ে খুব হঠাৎ করে দরজা ভা’ঙার জোড়ালো আওয়াজ এলো।

সেটা দেখে আতঙ্কে ইশাতের হাত পা রীতিমত কাপছে। বাইরে থেকে দরজায় কয়েকটা বারি পড়তেই দরজাটা ভে’ঙে চুরমার হয়ে গেল। আসিফ ভেতরে ঢুকে দেখলো ইশাত হাতে আরেকটা ফুলদানি নিয়ে দাঁড়িয়ে। আসিফ আর আগের ভুলটা করলো না। সে দ্রুত গিয়ে এক পলকের ব্যবধানে ইশাতের হাত থেকে ফুলদানিটা খপ করে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে ইশাতকে ধাক্কা মে’রে বিছানায় ফেলে তার হাত দুটো খাটের সাথে চেপে ধরলো। ইশাত অনবরত ছোটাছুটি করছে আর নিজেকে বাঁচাতে তার জানা ডিফেন্সগুলো আসিফের উপর খাটানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আসিফের কাছে তার কোনো ডিফেন্সই সফল হচ্ছে না। আসিফ তার একেকটা আক্রমণ আগে থেকেই হাত দিয়ে রোধ করে দিচ্ছে।

চলবে ( ইনশাআল্লাহ )……………….