Home "ধারাবাহিক গল্প ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ পর্ব-৪৭+৪৮

ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ পর্ব-৪৭+৪৮

0
144

#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ৪৭
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা

জীবন কখনো একই নিয়মে চলে না। প্রকৃতিতে যেমন কালবৈশাখীর ঝড় এসে সাজানো পাতার ঘরে হানা দেয়। ঠিক তেমনই জীবনে অপ্রত্যাশিত ঘটনা হলো সেই অদৃশ্য স্রোত, যা সব গোছানো হিসেব নিমিষেই ওলটপালট করে দিয়ে যায়, চেনা পথ থেকে অচেনা ঠিকানায় টেনে নিয়ে যায়, চিরচেনা আলোয় হঠাৎ করেই আঁধারের ছায়া নেমে আসে। ইশাতের জীবনেও এই মুহূর্তে ঠিক সেই আধার নেমে এসেছে।

ইশাত জ্ঞান হারানোর পর ইমরান বাসায় ডক্টর ডেকে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ডক্টর ইশাতকে দেখে যা বলল তাতে সবাই আরো বেশি বিস্মিত হলো। আসিয়া বেগম কাদতে কাদতে দুঃখ বিজড়িত গলায় বলে উঠলেন।
— আমার মেয়েটা মা হতে চলেছে আর তার এমন সুন্দর একটা মুহূর্তে এমন ভয়ান’ক একটা দুঃসংবাদ এলো। আমার মেয়েটা এত বড় ধাক্কা সইবে কি করে?

আসিয়া বেগমকে কাদতে দেখে সানজিদা ভারাক্রান্ত মনে শাশুড়ির পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। এমন সময় ইশাত নড়ে চড়ে উঠলো। ধীরে ধীরে তার জ্ঞান ফিরছে ঠাহর করতেই ইমরান তড়িৎ ইশাতের সামনে গিয়ে বসলো। ইশাত চোখ মেলে কিছুক্ষণ সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো। এভাবে কয়েক মুহূর্ত কেটে যাওয়ার পর, সে তার সংবিৎ ফিরে পেতেই ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে অস্থির হয়ে বলতে লাগলো।
— উনি কোথায়? আমি তার কাছে যেতে চাই, আরিয়ান আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সারাজীবন পাশে থাকার। কোথায় উনি? আমাকে মিথ্যা কথা বলে ফাঁকি দিয়ে কোথাও যেতে পারবেন না উনি।

বোনকে অস্থির হতে দেখে ইমরান তাকে সামলে জড়িয়ে ধরে বলল।
— শান্ত হ বোন, কিচ্ছু হবে না আরিয়ানের। এখনও স্পষ্ট ভাবে কিছু জানা যায় নি। আল্লাহর উপর ভরসা রাখ। সংবাদে বলা ওই মৃ’ত দেহগুলো প্লেনের পাইলটদের ছিল। আরিয়ানের খোঁজ এখনো পাওয়া যায় নি।

ইশাত তখন ভাইকে জড়িয়ে ধরে দিক শূন্য হয়ে ফুপিয়ে কাদতে কাদতে বলল।
— তাকে আমার কাছে এনে দাও ভাইয়া। উনার কিছু হলে আমি সইবো কি করে? ভাইয়া তুমি আমাকে উনার খোঁজ এনে দাও। আমি আল্লাহর কাছে আর কিছু চাই না, শুধু আল্লাহ তাকে আমার কাছে সহি সালামতে ফিরিয়ে দিলেই হবে।

ইমরান বোনের বেহাল দশায় নিজেও মর্মাহত। আর আসিয়া বেগম তো মেয়ের এমন বিধ্বস্ত অবস্থা আর সহ্যই করতে পারছেন না। তিনি চান না তার মতো তার মেয়েও অল্প বয়সে স্বামী হারাক। তিনি মেয়ের কাছে গিয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে বিনয়ী সুরে বললেন।
— এই অবস্থায় নিজের উপর এতো চাপ নিস না মা। আল্লাহ তোর কথা অবশ্যই শুনবেন, যা মা নামাজ পড়ে স্বামীর সালামতির দোয়া কর। আমরাও তাই করছি। আল্লাহ কুদরতের মালিক। তিনি অবশ্যই মুখ তুলে তাকাবেন।

ইশাত আর এক মুহূর্ত বসে রইলো না। সে উঠে ওযু করতে চলে গেলো। সবাই তাকে একান্তে সময় দিয়ে বাহিরে বেরিয়ে গেলো। ইশাত ওযু সেরে আসতেই তার মনে পড়লো যাওয়াল নামাজের কথা। যাওয়াল নামাজ হলো সূর্য ঠিক মধ্যাহ্ন থেকে পশ্চিম দিকে হেলে পড়ার পর যোহরের ওয়াক্ত শুরুর সাথে সাথে আদায়কৃত ৪ রাকাত নফল নামাজ। হাদিস অনুযায়ী, এ সময় আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং বান্দার আমল ও দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুস সায়েব (রা.) থেকে বর্ণিত:
“রাসূলুল্লাহ (সা.) সূর্য ঢলে যাওয়ার পর যোহরের পূর্বে ৪ রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, “এটি এমন একটি সময়, যখন আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। আমি পছন্দ করি যে, এই মুহূর্তে আমার কোনো সৎ আমল উপরে উঠুক।”
( জামে আত-তিরমিজী, হাদিস নম্বর: ৪৭৮)

ইশাত সাধারণ নফল নামাজের নিয়তে দাড়ালো। সে তার পীড়িত হৃদয় নিয়ে আল্লাহর সাহায্য কামনায় ধীরেসুস্থে চার রাকাত নফল একসাথে আদায় করলো। এবং পুরো ৪ রাকাতে একবারই সালাম ফেরালো। অর্থাৎ মাঝখানে কোনো বৈঠকে দুই রাকাত পড়ে সালাম ফেরানো যাবে না।

নামাজ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে ইশাত প্রাণপণে আল্লাহর কাছে আরিয়ানের সালামোতির দোয়া করে গেলো। সারাদিন ভালো একটা সংবাদ শোনার আসায় সে অপেক্ষায় বসে রইলো। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আরিয়ানের কোনো খোঁজই পাওয়া গেলো না। একটু পর পরই ইশাত আরিয়ানের নাম্বারে কল করেছে কিন্তু তার ফোন বন্ধ দেখিয়েছে।

এদিকে ঘড়ির কাটা নিজ গতিতে চলছে, এভাবেই দিন ঢলে রাত নেমে এলো। সারাদিন কেউ ইশাতকে বলে কয়েও কিছু মুখে তুলে খাওয়াতে পারে নি। সারাদিন সবাই তার সঙ্গে সঙ্গে থেকেছে, তাকে বুঝ দিয়েছে। অনেকটা রাত হয়ে যাওয়াতে ইশাত তাদের জোর করে ঘুমানোর জন্য রুমে পাঠিয়ে দিলো। কিন্তু রুমে ফিরে গিয়েও সবাই ইশাতের চিন্তায় ঘুমাতে পারছে না। এই মুহূর্তে ইশাত তার রুমে পুরপুরি একা। অযাচিত তার অন্তরে কোন এক শূন্যতা অনুভব হতেই ভেতরটা কেমন হাহাকার করে উঠলো। তখন নিস্তব্ধ রাতে বুকফাটা কান্নার বদলে, চারিপাশে নেমে এলো এক নিঝুম পাথরচাপা নীরবতা। এমন সময় অকস্মাৎ ইশাতের ফোনটা বেজে উঠলো।

ক্রিনে জেরিনের নাম ভাসতেই ইশাত তাড়াহুড়ো করে কলটা রিসিভ করে কানে তুলে ভাঙ্গা গলায় কিছু বলতে যাবে তার আগেই ওপাশ থেকে একটা কাতর গলার আওয়াজ এলো।
— হোয়াইট মুন আমি ভালো আছি। আমাকে নিয়ে টেনশন করো না বউ।

কাঙ্খিত কণ্ঠস্বর কর্নগোচর হতেই ইশাত বিচলিত হয়ে কেঁদে উঠে বলল।
— আপনি কোথায় আছেন? আমার চিন্তায় দম ফুরিয়ে যাচ্ছিল। আপনার কিছু হলে আমিও আর বেঁচে থাকতে পারতাম না।

আরিয়ান চিন্তিত গলায় বলল।
— তোমার কণ্ঠস্বর এমন শোনাচ্ছে কেন? তুমি কেঁদেছ? প্লীজ কেদো না বউ। তোমার কান্না আমার বুকে গিয়ে বিধে।

আরিয়ানের কথা শুনে ইশাতের কান্নার তোপ আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেলো। সে অঝোরে কাদতে কাদতে বলল।
— আমাকে এতবড় আতঙ্কে রেখে বলছেন আমি কদবো না? আপনি আমার ফোন কেন ধরেন নি? আপনার সাথে কি ঘটেছিল আমাকে ভালো করে বলুন। আপনি কোথায় ছিলেন এতক্ষন?

আরিয়ান তাকে শান্ত করে বলল।
— আমি প্লেনেই ছিলাম। তুমি তো জানো তোমার স্বামীর সিক্স সেন্স কতটা তুখোড়। আর এসব বিষয়ে আমি আগে থেকেই ট্রেইন্ড। তাই হঠাৎ করে যখন আমি কোনো গড়বড়ি আঁচ করতে পারলাম, তখনই রিজভীকে নিয়ে প্যারাসুটসহ ঝাপিয়ে পড়ি। তখন হয়তো আমার ফোন কোথাও পড়ে গিয়েছিল। এখন আমরা আমেরিকায় আছি।

ইশাত আতঙ্কিত ভঙ্গিতে বলল।
— আপনারা ঠিক আছেন তো?

আরিয়ান পেছন ফিরে রিজভীর দিকে একবার তাকিয়ে বলল।
— আমি ঠিক আছি, আমার তেমন কিছু হয়নি। তবে রিজভীর হাত পা ভে’ঙেছে।

তখন পেছনে থেকে রিজভী চেঁচিয়ে বলতে লাগলো।
— বুঝলাম না, সব সময় ওর জায়গায় আমি কেন ফা’সি? এর আগেও ওর দিকে আসা গু’লি আমার উপর লাগলো।

জেরিন তখন রিজভীকে ধমকে বলে উঠলো।
— আরিয়ানও তো লাফ দিয়েছিল প্লেন থেকে, কই ওর তো কিছু হয় নি। তোকে কে বলেছিল এতো বেশি তিরিংবিড়িং করতে? ভীতু কোথাকার! ভাগ্যিস গাছের উপরে পড়েছিলি নাহয় জায়গায়ই টপকে যেতি।

জেরিনের ধমকানি খেয়ে রিজভী মেকি কান্না করতে করতে বলল।
— হায় আল্লাহ কি জ’ল্লাদ বউ জুটিয়েছ? আরিয়ানের বউ কত সুন্দর ওর খেয়াল খোঁজ নিচ্ছে, আর এদিকে আমার বউ আমাকে বেরহম ভাবে ধম’কাচ্ছে আর জ’ল্লাদের মতো আমার হাত পা প্লাস্টার করে ঝুলিয়ে রেখেছে। একটু মায়াও করে না আমার জন্য।

জেরিন মুখ ফুলিয়ে বলল।
— মায়া না করলে পাগলের মতো ছুটে আসতাম না আমেরিকা। তুই এসব বুজবি না।

তাদের দুজনের কথপোকথন ইশাত ফোনে শুনতে পেয়ে আরিয়ানকে জিজ্ঞাসা করলো।
— তাহলে জেরিন আপুও আমেরিকাতে আছে।

আরিয়ান প্রত্যুত্তরে বলল।
— হ্যা, এখন আমরা হসপিটালে আছি। রিজভীকে জেরিন নিজের হাতে ট্রিট করছে।

ইশাত বিষন্ন গলায় বলল।
— আমি জানলে আপুর সঙ্গে আসতাম। তবে আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া যে আপনারা ভালো আছেন। আমার আপনাকে দেখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে, আমিও আমেরিকা যেতে চাই।

আরিয়ান আপত্তি করে বলল।
— সেটার কোনো দরকার নেই। এই ঘটনা নিয়ে এখানে ইনভে’স্টিগেশন চলছে মিডিয়ার লোকদের আসা যাওয়া হচ্ছে। তুমি এলে ওরা যদি তোমাকে একবার পয়েন্ট করতে পারে, যে তুমি আমার ওয়াইফ তখন ওরা তোমাকে সোশ্যাল মিডিয়াতে হাইলাইট করে তুলে ধরবে। এতে তোমার পর্দা নষ্ট হবে। আমি চাই না তোমার পর্দা নষ্ট হোক। এর থেকে ভালো আমি রিজভীর ট্রিটমেন্ট শেষে ওর রিলিজ হলে একবারেই ওকে নিয়ে দেশে ফিরবো।

ইশাত আরিয়ানের কথা মান্য করে বলল।
— ঠিকাছে, ফোনটা একটু স্পিকারে দিয়ে রিজভী ভাইয়ার দিকে ধরুন।

ইশাতের কথা মতো আরিয়ান ফোন স্পিকারে ধরতেই, ইশাত রিজভীর উদ্দেশ্যে বলল।
— ভাইয়া চিন্তা করবেন না আল্লাহর রহমতে আর আপুর যত্নে আপনি শীগ্রই সুস্থ হয়ে যাবেন। তাই জলদি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসুন, রেস্ট করুন আর আপুর কথা মতো চলুন। আপনার সুস্থতার দোয়া রইলো।

রিজভী অসহায় মুখ করে বলল।
— তোমার আপু তো আমাকে দিন রাত ধমকায়, তুমি কি সুন্দর আরিয়ানকে আদর যত্ন করো, আর এদিকে তোমার আপু আমাকে একটুও ভালোবাসে না।

জেরিন তখন রিজভীর কথায় ক্ষেপে গিয়ে বলল।
— শুনলে ইশাত ও কি বলল? আমি কার জন্য এতো কষ্ট করলাম?

ইশাত সাম্ভাল দিয়ে বলল।
— ভাইয়া তোমাকে ক্ষেপাতে দুষ্টামি করছে আপু, তুমি মনে কিছু নিয়ো না, সেও তোমাকে অনেক ভালোবাসেন।

জেরিন তখন ফোনটা তার হাতে নিয়ে বলল।
— ইশাত শুনো রিজভীর ডিসচার্জ হতে দুই মাসের মতো সময় লাগবে। আমি আরিয়ানকে নাহয় দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছি। রিজভী সুস্থ হলে আমি ওকে নিয়ে পরে ফিরব।

ইশাত নাকচ করে বলল।
— না আপু উনিও আপনাদের সঙ্গে থাকুক। রিজভী ভাইয়া উনার দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, তাহলে তার বন্ধু কেন তার দুঃসময় পাশে থাকবে না? আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি উনার সাথে রোজ ফোনে কথা বলে নিব। আপনারা একসাথে সহি সালামতে দেশে ফিরুন।

রিজভী তখন খুশি হয়ে বলল।
— থ্যাঙ্কস ইশাত।

তাদের মধ্যে এভাবেই অনেক্ষন হাসি, ঠাট্টা, আলাপ চলতে থাকলো। কথায় কথায় রিজভী ভুলেই গেলো যে সে রোগী হয়ে হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে।

————————–

সিয়াম আধ ঘণ্টা যাবত কেফেতে বসে আছে কারো জন্য অপেক্ষারত। অবশেষে তার অপেক্ষার ইতি টেনে এক্সিট দিয়ে একটা নারী কায়া দেখা গেলো ভেতরে প্রবেশ করতে। সে আর কেউ নয় ক্লারা। সিয়াম তাকে দেখা মাত্র চেয়ার টেনে দিলো বসার জন্য। কিন্তু ক্লারা তাকে উপেক্ষা করে অন্য একটা টেবিলে চেয়ার টেনে বসলো। সিয়াম অনুধাবন করলো মেয়েটার ধরনই ভিন্ন। তাই সেও সেই টেবিলের বিপরীত পাশের চেয়ার টেনে বসলো। ক্লারা তখন কড়া গলায় বলল।
— আমাকে এখানে ডাকার কারণ কি?

সিয়াম গলা ঝেড়ে বলল।
— আপনাকে কিছু কথা বলতে এসেছি।

ক্লারা পায়ের উপর পা তুলে হাতের ঘড়ি দেখতে দেখতে বলল।
— বেশি সময় দিতে পারব না। অনলি ফাইভ মিনিটস, এন্ড ইওর টাইম স্টার্টস ফ্রম নাও।

সিয়াম দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে প্রশ্ন করলো।
— এই প্লেন ক্রা’শের পেছনে আপনি ছিলেন তাই না? এসব আপনার সাজানো ছিল?

ক্লারা ক্ষীণ হেসে বলল।
— সো হোয়াইট?

— এই প্রতিশোধের খেলা আর কতদিন চলবে? বসের শ’ত্রুতা কিন্তু আপনার সঙ্গে ছিল না, ছিল আপনার মায়ের সঙ্গে। ভুলে যাবেন না আপনার মা বসের শৈশবকাল, তার হাসিখুশি জীবন নষ্ট করেছিল। সে শুরু থেকেই বসের পরিবারে থার্ড ক্যারেক্টার ছিল। তাই আপনার মায়ের মৃ’ত্যুর জন্য সে নিজেই দায়ী।

ক্লারা তখন রাগে তার চোয়াল শক্ত করে বলল।
— ওহ বুঝেছি, তোকে তোর বস এখানে পাঠিয়েছে এসব বলার জন্য।

সিয়াম মাথা নাড়িয়ে বলল।
— না বস পাঠায় নি, আমি নিজে থেকে এসেছি বসের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে। বস জানেও না।

ক্লারা ঘড়ি দেখে বলল।
— পাঁচ মিনিট শেষ।

কথাটা বলে ক্লারা উঠে চলে যেতে নিলে সিয়াম পেছন থেকে অনর্গল বলে গেল।
— বস আপনার জন্য তার সম্পত্তির অংশ পর্যন্ত অনেক আগে ছেড়ে দিয়ে এসেছিলেন যেগুলোর হকদার তিনি ছিলেন। আপনার সাথে ওনার কোনো জন্য শ’ত্রুতা ছিল না। খেয়াল করে দেখবেন সে কখনো আপনার কোনো ক্ষ’তি করে নি। সে তার জীবনে যা হারিয়েছে আপনি তার এক কোনা হয়তো হারিয়েছেন। আপনার থেকে বেশি যন্ত্র’ণা সে পেয়েছে। বস আপনার ভাই, আপনার র’ক্ত। ভাই বোনের সম্পর্কটা অনেক মূল্যবান। যেটা এখনো উপলব্ধি করতে পারছেন না। আপনারা দুজনই বাবা মা হারিয়ে ইয়াতিম হয়েছেন। দুনিয়াতে র’ক্তের বলতে আপনার ভাইই আছে এখন আপন। আপনি কি ভেবেছেন? এই ভাইকে মে’রে কি আপনি ভালো থাকতে পারবেন? মোটেও না আপনারই পরে অপ’রাধবোধ কাজ করবে।

সিয়ামের কথা কানে তুলে এক পর্যায়ে ক্লারা চলার গতি স্থির করল। সিয়াম তখন আবারো বলে উঠলো।
— এই প্রতি’শোধের স্পৃহা আর কতদিন মনে পুষবেন? হয়তো প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এটা চলতে থাকবে, কিন্তু কেউই সুখী হতে পারবেন না। এরচেয়ে ভালো ক্ষমা করে দিন। ক্ষমা মহৎ গুণ। ক্ষমা করলে দেখবেন এমনিতেই মন হালকা হবে, মন থেকে সব বোঝা সরে যাবে। শান্তি খুঁজে পাবেন।

প্রত্যুত্তরে ক্লারা কিছুই বলল না, উল্টো দ্রুত পদচরণের প্রস্থান করল।

চলবে ( ইনশাআল্লাহ )……………………

#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ৪৮
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা

আসিয়া বেগম আর ইমরানের জোরাজুরিতে ইশাত দুইমাস যাবত মায়ের বাড়িতেই রয়েছে। মাঝ দিয়ে সে অনেকবার বাড়ি ফিরতে চাইলেও ইমরান বলে কয়ে বুঝিয়ে বোনকে একা বাড়িতে ফিরতে দেয় নি। এই দুইমাস সবাই ইশাতের অনেক যত্ন করেছে। তার খাওয়া দাওয়া পছন্দ অপছন্দ থেকে শুরু করে সবকিছুর খেয়াল রেখেছে। ইশাতও পরিবারের সাথে সুন্দর সময় কাটাচ্ছে। এদিকে আরিয়ান থেকে থেকে একটু পরপর তাকে ফোন করে খোঁজ নিচ্ছে। কিন্তু ইশাত এখনো পর্যন্ত আরিয়ানকে তার বাবা হওয়ার সুখবরটা জানায় নি। আসিয়া বেগম তো মেয়েকে প্রশ্নও করেছেন যে সে কেন জানাচ্ছে না। উত্তরে ইশাত জানিয়েছে।
“আমি যদি উনাকে এই সংবাদ জানিয়ে দেই তাহলে বিদেশের মাটিতে আর এক মুহূর্ত উনার মন টিকবে না।”

আসিয়া বেগম মেয়ের যুক্তির কাছে আর কিছুই বলতে পারেন নি। এদিকে ইশাতের পাঁচ মাস হয়ে আসাতে তার ভেতর ভিন্ন ভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করেছে। তাকালেই বোঝা যায়, স্পষ্টভাবে তার ভেতরে মাতৃত্বের ছাপ ফুটে উঠেছে। তার বেবি বাম্প স্পষ্টভাবে দেখা দিতে শুরু করেছে, সে এখন পেটে তার বাচ্চার নড়াচড়া থেকে লাথি পর্যন্ত অনুভব করতে পারে। এখন থেকেই মনের ভেতরে সন্তানদের জন্য আলাদা একটা টান অনুভব করে। ইদানিং তার অভ্যেস হয়ে গেছে রোজ ঘুমানোর আগে অনাগত বাচ্চাদের সাথে একা একা কথা বলা। তার মতে তার সন্তানরা তার কথা শুনতে পায়। সে নিয়ম করে প্রেগন্যান্সির সময় সন্তানের কল্যাণের জন্য যা যা দোয়া এবং সূরা পড়া দরকার সে সবই রোজ পড়ে।

তেমনি আজ রাতেও সে কুরআন তিলাওয়াত করে ঘুমোতে যাচ্ছিল এমন সময় আরিয়ানের কল এলো। কয়দিন যাবত আসিয়া বেগম মেয়ের সাথেই ঘুমান, তাই তিনিও তখন সেখানেই ছিলেন। ইশাত ফোন কানে ধরতেই আরিয়ান বলে উঠলো।
— হোয়াইট মুন শুনো, পরশু সকালের মধ্যে আমরা দেশে ফিরে আসছি।

কথাটা শুনে সঙ্গে সঙ্গে ইশাতের ঠোঁট হাসিতে প্রসারিত হলো। সে আর তার খুশির সংবাদটা চেপে রাখতে পারল না। খুশিতে খুশিতে সে বলেই উঠলো।
— চলে আসুন জলদি, আমরা তিনজন আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।

আরিয়ান আশ্চর্য হয়ে বলল।
— তিনজন মানে? আর কারা?

আরিয়ানকে তখন আশ্চর্যের শীর্ষে পৌঁছে দিয়ে ইশাত বলল।
— আপনি ভিডিও কলে আমাকে দেখে বলতেন না ইদানিং আমাকে অন্যরকম দেখতে কেন লাগে? এর কারণ আমি আপনার যমজ সন্তানের মা হতে চলেছি।

কয়েক মুহূর্ত নিস্তব্ধতা বয়ে গেলো। আরিয়ানকে কোনো প্রত্যুত্তর করতে না দেখে ইশাত আবারো বলল।
— কি হলো কিছু বলছেন না যে?

হঠাৎ করেই আরিয়ান বাধহীন উচ্ছ্বাসে চেঁচিয়ে বলে উঠলো।
— হোয়াইট? তুমি সিউর?

ইশাত মৃদু গলায় বলল।
— হ্যা পাঁচ মাস চলছে। আপনাকে এতদিন জানাই নি কারণ জানালে আপনি আর আমেরিকা থাকতে পারতেন না।

আরিয়ান হতভাগ হয়ে বলল।
— কাজটা অনেক ভুল করেছ, এই সময়ে তোমাকে একা রেখেছি আমি। ধ্যাত!

ইশাত হেসে বলল।
— সমস্যা নেই আমাকে এখানে সবাই অনেক যত্নে রেখেছে। আপনি জলদি চলে আসুন তো, আমরা অপেক্ষায় থাকব।

— তুমি আমাকে এটা কি শোনালে জান, আমি আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করতে পারছি না।

আরিয়ানের এহেন সম্বোধনে মায়ের সামনে ইশাত কোনো প্রতিক্রিয়া করতে পারলো না। লজ্জার সে গলা নামিয়ে বলল।
— আল্লাহর নাম নিয়ে সাবধানে আসবেন।

কথা বলে ইশাত ফোন কেটে দিলো। আসিয়া বেগম তখন কৌতূহল নিয়ে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলেন।
— জামাই বাবাজি কি বলল?

ইশাত উচ্ছ্বাস নিয়ে বলল।
— সে দেশে ফিরছে আম্মু।

আরিয়ান ফেরার কথা শুনে এখনই তার মেয়েটার চোখে মুখে কেমন উচ্ছ্বাস খেলে গেছে। আসিয়া বেগম নয়ন ভরে মেয়ের হাসি মাখা মুখটা দেখলেন।

পরদিন বিকেল হতেই ইশাত বাড়ি ফেরার বায়না ধরলো। আরিয়ানের ফেরার কথা শুনে ইমরান বলল।
— আরিয়ান নাহয় ফিরুক তারপর আমি নিজে গিয়ে তোকে দিয়ে আসবো। একা বাড়িতে গিয়ে কি করবি? আরিয়ান তো কাল সকালে দেশে এসে নামবে।

ইশাত ভাইকে বুঝিয়ে বলল।
— হোক তবুও আমাকে গিয়ে ঘরবাড়ি গুছাতে হবে। উনার জন্য রান্না বান্না করতে হবে। এতদিন পর তিনি ফিরছেন ওনার বিশ্রামের প্রয়োজন হবে, আমাকে তার বিশ্রামের পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। তাছাড়া এত দূর পথ থেকে যদি উনি ফিরে আমাকে বাড়িতে দেখেন তাহলে অনেক খুশি হবেন। আমাকে আর বাধা দিয়ো না ভাইয়া।

আসিয়া বেগমও তখন মেয়ের কথায় তাল দিয়ে বললেন।
— ওকে যেতে দে বাবা, বিয়ের পর স্বামীর জন্য মেয়েদের অন্যরকম একটা দায়িত্ববোধ থাকে।

ইমরান তখন না পেরে বলল।
— ঠিকাছে তবে আজ না কাল। কারণ কাল তোর চেকআপের ডেট। আগে হসপিটালে গিয়ে তোর চেকআপ শেষ করে ভোরের দিকে আরিয়ান ফেরার কয়েক ঘণ্টা আগে আমি তোকে দিয়ে আসবো। তোকে দিয়ে সেখান থেকে আমিও একেবারে অফিসে চলে যাব। এটাই আমার শেষ কথা। এই সময়টা তোর জন্য অনেক সেনসিটিভ একটা সময়। এই সময়ে সাবধানে থাকাটাই উত্তম বুঝেছিস?

ইশাত ভাইয়ের কথা মান্য করে হ্যাসূচক মাথা দোলালো। পরদিন ভোরের দিকে কথা মতো ইমরান ইশাতকে নিয়ে বেরোলো। দায়িত্ববান ভাইয়ের মতো সে বোনকে হসপিটালে চেকআপ করিয়ে আগে আগে বাড়ির গেটের বাহিরে নামিয়ে দিয়ে বলল।
— তুই ভেতরে গিয়ে সব গোছগাছ কর, কিন্তু খবরদার ভারী কোনো কাজ করবি না। আর আমি একটুপরই তোর রিপোর্ট এনে দিয়ে যাচ্ছি।

ইশাত হাসিমুখে বলল।
— ভাইয়া তুমিও আসো আজকে আমরা দুপুরে একসাথে লাঞ্চ করি?

ইমরান বোনকে বুঝিয়ে মানা করে বলল।
— নারে বোন অন্য কোনো একদিন, আজ অফিসে কাজ বেশি।

ভাইকে বিদায় জানিয়ে ইশাত ভেতরে চলে গেল। বোন ভেতরে যেতেই ইমরানও নিশ্চিন্ত হয়ে চলে গেলো। ইশাত আগে ঘরবাড়ি গোছালো এরপর সে রান্নার কাজ সেরে রুমে গেলো ফ্রেশ হতে। রুমে গিয়ে সে ক্লোজেট থেকে আরিয়ানের একটা শার্ট বের করে সেটা জড়িয়ে ধরে নাকে ঘ্রাণ নিয়ে বিড়বিড় করে বলল।
— জলদি চলে আসুন, আপনাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি।

ইশাত হঠাৎ তার পেটে জোরালো লাথি অনুভব করলো। তার কথায় বোধহয় বাচ্চারা অভিমান করলো। তাই সে একহাত পেটের উপর রেখে ভুল শুধরে ফিসফিস করে বলল।
— দুঃখিত বাচ্চারা, ভুলে গিয়েছিলাম শুধু আমি না, তোমারও তো তোমাদের বাবার ফেরার অপেক্ষা করছো।

ইশাত যখন একা রুমে বাচ্চাদের সাথে কথা বলছিল, তখন হঠাৎ করে বাহিরে কিছু পড়ার আওয়াজ এলো। আওয়াজটা শুনে ইশাত ভাবলো হয়তো আরিয়ান ফিরে এসেছে। তাই খুশিতে সে মাথায় হিজাবটা পড়ে বেরোতে বেরোতে বলল।
— এসে পড়েছেন আপনি? আমরা আপনার কথাই বলছিলাম।

কিন্তু বেরোতেই ইশাত তার সামনের দৃশ্যপটে সম্পূর্ণ কালো পোশাক পড়া একটা লোককে দেখলো, যার মুখ ছিল ঢাকা। ইশাত তখন আতঙ্কিত হয়ে আওয়াজ দিয়ে বলল।
— কে আপনি ভেতরে কি করে এলেন? গার্ডরা কোথায়?

ইশাতের কথা শুনে বিপরীতে লোকটা অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ে বলল।
— ওরা আর ডিস্টার্ব করতে আসবে না। সবগুলোকে শুয়িয়ে দিয়ে এসেছি।

লোকটার কণ্ঠস্বর শুনে ইশাত তাকে চিনতে পারলো। ইশাত সতর্ক হয়ে পেছাতে পেছাতে বলল।
— আপনি এখানে কি করছেন? আপনি তো কা’রাগারে ছিলেন? পালিয়ে এসেছেন?

বিপরীতে আসিফ কোনো উত্তর দিলো উল্টো বলল।
— শুনলাম পরপুরুষের সন্তান নিজের গর্ভে ধারণ করছো। আমি এটা কি করে মেনে নেই?

— একদম বাজে কথা বলবেন না আরিয়ান আমার স্বামী, পর পুরুষ হচ্ছেন আপনি। কার অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢুকেছেন?এখনি বেরিয়ে যান বলছি।

— আমার অনুমতির প্রয়োজন হয় না।

ইশাত মনে ঘৃণা নিয়ে বলল।
— ঘৃন্য হচ্ছে আপনার উপর। ভুল করেছিলাম আপনার জন্য আফসোস করে।

— সো সেড, এখন তো আর সেই ভুল শুধরানোর সুযোগ নেই।

কথাটা বলতেই আসিফ তার দিকে এগোতে শুরু করলো। ইশাতও ছুটে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গেলো। এমন সময় আসিফ বড় বড় পা ফেলে তার পেছনে থেকে এসে তাকে ধাক্কা দিয়ে দিলো। ধাক্কায় ইশাত শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে চিৎকার করে সিঁড়ি থেকে গড়িয়ে পড়লো। সঙ্গে সঙ্গে র’ক্ত দিয়ে ফ্লোর ভিজে গেলো। পেটের ব্যথায় সে আর্তনাদ করে উঠলো। আসিফ সেটা দেখে পৈশাচিক হেসে বলল।
— যেটা আমার না সেটা কারো না।

এমন সময় ইমরান ছুটে ভেতরে এলো। হসপিটাল থেকে রিপোর্ট নিয়ে ফেরত আসতেই সে বাহিরে গার্ডদের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখলো। তার ভেতরে অজানা আতঙ্ক জেঁকে বসলো বিধায় সে ছুটে এসেছে। কিন্তু ভেতরে এসে যে দৃশ্য তার চোখে এসে হানা দিল তাতে তার দিন দুনিয়ার উল্টে পাল্টে গেলো। সে হাত থেকে রিপোর্ট ফেলে তড়িৎ বোনকে তুলল। আসিফ ইমরানকে দেখা মাত্রই আড়ালে চলে গিয়েছিল। ইশাত পেটের ব্যথায় কোনো শব্দই উচ্চারণ করতে পারছে না। ইমরান আর দেরি করলো না। সে সঙ্গে সঙ্গে বোনকে কোলে তুলে হসপিটালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলো।

—————

ইমরান যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আরিয়ানের গাড়ি এসে থামলো তার ম্যাশনের বাহিরে। গাড়ির দরজা খুলে বাহিরে পা রাখতেই সে দেখলো বাড়ির বাহিরে টহল দেওয়া গার্ডরা একাধারে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। তার মস্তিষ্ক তখন তাকে জানান দিলো নিশ্চই ভেতরে অনেক বড় কিছু একটা ঘটেছে। সে তড়িৎ বাড়ির প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকতে গিয়ে দেখলো ভেতরেও একই অবস্থা। তার শঙ্কা তখন আরো দৃঢ় হলো। এমন সময় সে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখলো হল রুমের সিঁড়ির কাছের ফ্লোরটায় র’ক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এমন অবস্থায় সে বিস্ফোরিত নয়নে কাপা কাপা হাতে ফোন বের করে ইমরানকে কল লাগালো। অনেকবার রিং হওয়ার পর ইমরান কল তুলতেই আরিয়ান ব্যগ্র কন্ঠে বলল।
— ইশাত কোথায়?

বিপরীতে ভঙ্গুর গলায় ইমরান শুধু কোনোমতে হোসপিটালের নামটা বলতে সক্ষম হলো। আরিয়ানের মাথায় আর কোনো যুক্তিই কাজ করলো না। সে সব ফেলে ছুটে গেলো হসপিটালে। সেখানে পৌঁছতেই সে দেখলো ইশাতকে ওটিতে নেওয়া হয়েছে। এমন সময় একজন মহিলা ডক্টর ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে জানতে চাইলেন, রোগীর হাজবেন্ড কে? আরিয়ান তখনও স্তব্ধ বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইমরান তখন আরিয়ানকে দেখিয়ে দিতেই ডক্টর তাকে উদ্দেশ্য করে বলল।
— পেশেন্টের অবস্থা অনেক ভ’য়াবহ, চেষ্টা করে আমরা যে কোনো একজনকে বাঁচাতে পারবো। মা নাহয় বাচ্চাদের মধ্যে যেকোনো একজনকে।

আরিয়ান তড়িৎ ঢোক গিলে জড়ানো গলায় প্রত্যুত্তর করলো।
— আমার ওয়াইফকে বাঁচান।

ডক্টর আবারো প্রশ্ন করলো।
— আপনি সিউর তো?

আরিয়ান দিক বেদিক শূন্য হয়ে চেঁচিয়ে বলল।
— আমার বাচ্চার দরকার নেই, সেভ মাই ওয়াইফ। এট এনি কস্ট, আই ওয়ান্ট মাই ওয়াইফ।

ডক্টর তখন আরিয়ানের সামনে একটা ইনফর্মড কনসেন্ট ফর্ম দিলো, সাইন করার জন্য। যেখানে লিখা ছিল অপারেশনের সময় কোনো কারণে রোগীর মৃ’ত্যু ঘটলে সেটার জন্য ডক্টররা দায়ী থাকবে না।

চলবে ( ইনশাআল্লাহ )……………