#যেখানে_মন_ভেজে_চুপচাপ
#পর্ব_৬
#লেখনিতে_খুশবু_আকতার
মৃত্তিকা অধীর আগ্রহে বসে আছে যে কখন সমীরণ আসবে। কে জানে আরো কি কি কিনল মৃত্তিকার জন্য। সমীরণের পছন্দ খুব সুন্দর, মার্জিত। খুব বেছে বেছে নিজের জন্য সবকিছু কেনে। কে জানে মেয়েদের জিনিসপত্র ঠিকভাবে কিনতে পারবে কিনা!
অবশ্য যাই কিনুক না কেন মৃত্তিকার ভীষণ পছন্দ হবে। সমীরণের দেওয়া প্রত্যেকটা জিনিস মৃত্তিকার জন্য ভীষণ দামি। সমীরণ হয়ত কখনো আন্দাজও করতে পারবে না যে সমীরণের দেওয়া প্রত্যেকটা জিনিস আজও মৃত্তিকা ঠিক কতটা যত্নে রেখে দিয়েছে।
সদর দরজার কাছেই মৃত্তিকা ঘুরঘুর করছে। সমীরণদের বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত দশটা বাজল। বাইক নিয়েই গিয়েছিল দুজনে। বাইকের হর্নের আওয়াজ পেতেই মৃত্তিকা দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিল।
বাইক থেকে নেমে আগে মৃদুল এগিয়ে এল। যেসব খাবার দাবার কিনেছে সেগুলো মৃত্তিকার দিকে বাড়িয়ে দিল। মৃত্তিকা সেগুলো নিতে আপত্তি জানিয়ে বলল,
“ভেতরে গিয়ে রেখে দাও। আমাকে কেন দিচ্ছো? আমি এগুলো দিয়ে কি করব?”
“আরে তুই তো এসব খেতে পছন্দ করিস। তোর জন্যই কিনলাম।”
“আচ্ছা সে পরে খেয়ে নেবে। তুমি ভিতরে গিয়ে রেখে দাও।”
“তুইও চল। এখানে দাঁড়িয়ে থেকে কি করবি!”
“আমি সমীরণের সাথে যাব। তুমি যাও।”
মৃত্তিকা কথাটা বলতেই মৃদুল ধমকে উঠে বলল,
“সমীরণ কি রে? ও বয়সে তোর থেকে বড় না ছোট যে বেয়াদবের মতো নাম ধরে ডাকছিস? ভাইয়া বলে ডাকবি।”
মৃত্তিকা মুখ ভেংচিয়ে বলল,
“ঠ্যাকা পড়েছে আমার ভাইয়া বলে ডাকার। আমার তো ভাইয়ের অভাব পড়েছে যে রাস্তায় মানুষ ধরে ধরে ভাই বানাতে হবে। সমীরণ বলেই ডাকব আমি। ভাইয়া বলে ডাকব না। কি করবে তুমি? বেশি ধমক দিলে বড় আব্বুকে ডাকব।”
মৃদুল ঠোঁট বাকিয়ে হেসে বলল,
“ঠিক আছে। আমাকে তো ভয় দেখিয়ে থামালি। সাহস থাকে তো ওর সামনে গিয়ে একবার সমীরণ বলে ডাকিস। ওই সবটা বুঝিয়ে দেবে।”
কথাটা বলে মৃদুল ভেতরে চলে গেল। বাইকটা নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে ততক্ষণে সমীরণও এসেছে। মৃত্তিকাকে চুপচাপ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একবার আপাদমস্তক দেখে নিয়ে বলল,
“এত রাতে বাইরে খাম্বার মতন দাঁড়িয়ে আছিস কেন? নাকি আবার সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নিয়েছিস?”
মৃত্তিকার কানে এসব একটা অপমানও গেল না। সমীরণের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল,
“আমার জন্য যেগুলো এনেছে, দাও।”
“কি দেব? কি এনেছি তোর জন্য?”
“আমার জন্য যে চুড়ি, কানের দুল, নুপুর কিনলে সেগুলো দাও।”
সমীরণ একটু মনে করার ভঙ্গিতে বলল,
“ওহ্ সেগুলো তো মৃদুল এর কাছে দিয়েছিলাম।”
কথাটা শুনতেই মৃত্তিকা দৌড়ে ভেতরে গেল। মৃদুল সবে মাত্র সোফায় বসেছে। এর মাঝে মৃত্তিকা দৌড়ে এসে বলল,
“কোথায় রেখেছো ওগুলো?”
মৃদুল খানিকটা ধড়ফড়িয়ে উঠে বলল,
“কি?”
“আরে আমার জন্য যেগুলো কিনেছে সমীরণ।”
“আবার সমীরণ! চ ড় খাবি কিন্তু এবার।”
মৃত্তিকা বিরক্তিকর গলায় বলল,
“দেবে তুমি আমাকে।”
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মৃদুল টেবিলের উপরে রাখা ব্যাগটা দেখাল। মৃত্তিকা দৌড়ে গেল সেদিকে। তিন ডজন চুড়ি কিনেছে সমীরণ। যে দুটো কানের দুল দেখিয়েছিল সেই দুটোই কিনেছে। যে তিন জোড়া নুপূর দেখিয়েছিল সেই সবগুলোই কিনেছে। আনন্দে মৃত্তিকার চোখ দুটো চিকচকি করে উঠল। কত কিছু কিনেছে সমীরণ ওর জন্য। তাও আবার নিজে পছন্দ করে কিনেছে। এগুলো তো মৃত্তিকা কখনো পরবেই না। সারা জীবন যত্ন করে আলমারিতে সাজিয়ে রাখবে। যখনই মন খারাপ হবে এগুলো দেখবে।
“সব তোর না। তোর জন্য শুধু এক ডজন চুড়ি এনেছি। বাকি সব দিয়ে দে আমায়।”
মুহূর্তের মাঝে মৃত্তিকার হাসি হাসি মুখটা চুপসে গেল। শুকনো মুখে সমীরণের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“সব আমার না?”
সমীরণ এগিয়ে গিয়ে মৃত্তিকার হাতে শুধু এক ডজন চুড়ি রেখে বাকি সবকিছু নিজের হাতে নিয়ে বলল,
“না। সব তোর কেন হতে যাবে? তোর জন্য আমি কেন টাকা খরচ করে এত কিছু কিনতে যাব। অন্যজনের জন্য কিনেছি।”
“কার জন্য কিনেছো?”
প্রশ্নটা করার সময় মৃত্তিকার কন্ঠটা হালকা একটু কাঁপল। মৃত্তিকা যতদূর জানে সমীরণের দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোন মেয়ের সাথে সম্বন্ধ নেই। মেয়েদেরকে তো পছন্দই করে না সমীরণ। ওর সাথেই যা একটু কথা বলে। তাহলে কার জন্য কিনেছে এই জিনিসগুলো? বিশেষ কেউ! কথাটা ভাবতেই অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল মৃত্তিকার। সমীরণের জীবনে মৃত্তিকা ব্যতীত অন্য কেউ বিশেষ হবে এই কথাটা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনা মৃত্তিকা।
সমীরণের থেকে কাঙ্খিত উত্তরটা না পেয়ে আবার জিজ্ঞেস করল,
“কি হলো বল কার জন্য কিনেছো?”
“কিনেছি একজনের জন্য। তুই জেনে কি করবি! এমনিতেও তুই তাকে চিনবি না।”
“কে হয় সে তোমার? তার জন্য কেন তুমি এসব কিনবে? আমি তো ভেবেছিলাম তুমি আমার জন্য কিনেছো। ফোনে তো আমাকে পছন্দ করতে বললে।”
“হ্যাঁ। তুই মেয়ে মানুষ তাই তোর থেকে পছন্দ করে নিতে চাইছিলাম। আমি তো এসব বুঝিনা। আসলে আজকে প্রথম কিনেছি তো তাই। তবে ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে আশা করা যায়। থাক আসি।”
কথাটা বলে সমীরণ ঘরে চলে যেতে ধরলে মৃত্তিকা পিছন থেকে আবারো জিজ্ঞেস করল,
“বলে যাও আমাকে কার জন্য কিনেছো? কে হয় সে তোমার?”
থামল সমীরণ। পিছন ফিরে না তাকিয়েই বলল,
“বিশেষ কেউ। আমার প্রিয় একজনের জন্য কিনেছি।”
“কিন্তু তুমি তো বলতে তুমি বিয়ে করবে না। মেয়েদেরকে তো তুমি পছন্দ করো না।”
“সে মাঝে মাঝে আমার ধারণা বদলে দিতে চায়। আমার দৃঢ় সংকল্প ভেঙে ফেলতে চায়। তার প্রচুর ক্ষমতা। সে আমার পাথরের মতন হৃদয়টাকেও নড়েচড়ে তোলার ক্ষমতা রাখে, বুঝলি?”
কথাটা বলে চলে গেল সমীরণ নিজের ঘরের দিকে। মৃত্তিকা ঠায় সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে গাল বেয়ে কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। কার কথা বলে গেল সমীরণ? কে আছে ওর জীবনে? কারো তো থাকার কথা ছিল না। সেই জায়গায় তো মৃত্তিকার থাকার কথা ছিল। ওই জিনিসগুলো তো মৃত্তিকার প্রাপ্য ছিল।
হঠাৎ করে মৃত্তিকা খেয়াল করল কেউ ওর চোখের জল মুছে দিল। সামনে তাকাতেই দেখল মৃদুল দাঁড়িয়ে আছে। মৃদুলের দৃষ্টিতে মৃত্তিকার জন্য করুণা দেখা যাচ্ছে। মৃত্তিকা তাড়াহুড়ো করে নিজের চোখের জল মুছে নিল। কিছু একটা অজুহাত দেওয়ার আগেই মৃদুল ওকে থামিয়ে দিয়ে আদুরে গলায় বলল,
“শোন মৃত্তিকা, সমীরণ ছন্নছাড়া। ওকে পোষ মানাতে পারবি না তুই। আর না ওকে বোঝার সাধ্য আছে তোর। সময় থাকতে নিজেকে সামলে নে। শুধুমাত্র সমীরণ বলে ডাকলেই ওর ওপরে অধিকার খাটাতে পারবি না তুই। আর না ও কখনো কাউকে নিজের উপর অধিকার খাটাতে দেবে। কোন সম্পর্কে জড়ানোর মতন ছেলেই সমীরণ না। তুই আমার বোন। তোর ভালো চাই আমি। ভালোবাসি তোকে জন্য বলছি, দূরে থাক ওর থেকে। একটা নিষিদ্ধ অনুভূতিতে জড়িয়ে গেছিস তুই। যত তাড়াতাড়ি এর থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে আনতে পারবি ততই তোর জন্য মঙ্গল।”
___________
সমীরণ বাইক নিয়ে এসেছিল আবার বাইক নিয়েই যাবে। সঙ্গে করে মৃত্তিকাকে নেওয়ার ইচ্ছে নেই। আর না মৃত্তিকা যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করল। মৃত্তিকা কে একা ছাড়তে পারল না মৃদুল। তাই ও মৃত্তিকার সাথেই এল। মৃদুলই মৃত্তিকাকে মেস অবধি রেখে গেল।
গতকাল রাত থেকে মৃত্তিকার মন মেজাজ ভীষণ খারাপ। সমীরণের সাথে কথাও হয়নি আর। সমীরণও এগিয়ে এসে কথা বলতে চায়নি। মৃত্তিকা দূরে থাকতে চেয়েছে, সমীরণ দূরে থাকতে দিয়েছে।
রাতটা এমন মন খারাপ নিয়েই কেটে গেল। সকাল সকাল উঠে তৈরি হয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আজ শশী কে সঙ্গে নিয়েই এসেছে। গেটের কাছেই সমীরণ কে দেখল মৃত্তিকা। একটা ছেলের সাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছে। মৃত্তিকা একবার দেখল ওকে। সঙ্গে সঙ্গে আবার নিজের দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল। পাশে থাকা শশী চাপা গলায় বলে উঠল,
“কিরে কথা বলবি না সমীরণ ভাইয়ার সাথে?”
“না।”
“কেন? তুই যে এভাবে এড়িয়ে এলি এখন এসে বকাবকি করবে কিন্তু।”
“কোন অধিকারে বকাবকি করবে? উনি যা চাইবেন সব সময় তাই হবে নাকি? আজ আসুকই না খালি আমাকে বকাবকি করতে।”
“কি করবি শুনি?”
হঠাৎ করে সমীরণের কন্ঠটা শুনে মৃত্তিকা চমকে উঠে থেমে গেল। দেখল ততক্ষণে সমীরণ ওর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ছেলেটা যে কখন পাশে এসে দাঁড়াল, আবার কথাগুলো শুনেও নিল কে জানে।
মৃত্তিকা একটুও ভয় পেল না। মনে মনে ঠিক করে এসেছে সমীরণকে দেখে ভয় পাবে না। চুপচাপ আবার হাঁটা শুরু করল। সমীরণও ওর পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে ফের জিজ্ঞেস করল,
“বললি না তো বকাবকি করলে কি করবি?”
মৃত্তিকা গম্ভীর গলায় বলল,
“তোমার কোন অধিকার নেই আমাকে বকার।”
সমীরণ এমন ভাবে হাসল যেন কোন কৌতুক শুনল। হাত দুটো প্যান্টের পকেটে গুঁজে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“বকাবকি করার জন্য অধিকার লাগে না, বুঝেছিস?”
“অবশ্যই লাগে। সবকিছু করার জন্যই অধিকার লাগে।”
“তাহলে তুই বলতে চাইছিস আমার তোর উপরে সেই অধিকার নেই?”
“ছিল একসময়। এখন আর নেই।”
এ পর্যায়ে সমীরণ মৃত্তিকার হাত ধরে ওকে নিজের দিকে একটু টেনে আনল। রাগে জ্বলজ্বল করছে ছেলেটার চোখ দুটো। মৃত্তিকার উপর সমীরণের অধিকার নেই এই ব্যাপারটা যেন ঠিক মানতে পারছে না। রাগী গলায় বলল,
“আজ একটু বেশি কঠিন কথা বলছিস না! তোর উপর আমার অধিকার ছিল মানেটা কি? শোন তোর উপরে আমার অধিকার ছিল, আছে আর ভবিষ্যতেও থাকবে। বুঝতে পেরেছিস?”
মৃত্তিকা এক ঝটকায় সমীরণের থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
“না। বুঝতে পারিনি। বুঝতে চাইও না। বরং তুমি এই কথাটা খুব ভালোভাবে বুঝে নাও যে আমার ওপরে তোমার কোন অধিকার নেই। যে অন্যের হয়ে যায় তাকে আমি নিজের বলে ভাবি না। যে আমার সে শুধুমাত্র আমারই হবে। অর্ধেক আমার অর্ধেক অন্য কারোর এই ভাগাভাগির সম্পর্কে আমি নেই, বুঝেছো? অল্পতে আমার পোষায় না।”
এতক্ষণ তো সমীরণ বুঝতে পারছিল না মৃত্তিকার রাগের কারণ। তবে এখন ব্যাপারটা স্পষ্ট হলো। এখনো তবে সেই কানের দুল, নুপূরের ব্যাপারটাকে ধরে বসে আছে। এই হলো মেয়ে মানুষের জ্বালা। একটা ছোট বিষয় পেলেই হয়। সেটা সারাজীবন ধরে বসে থাকবে। মাথায় তো বুদ্ধি নেই, সত্য মিথ্যা কোন কিছু যাচাই করে না। একজন একটা কথা বলে দিল তার মানে সেটাই সত্যি। ব্যস কথা শেষ। তার রাগ করার জন্য এতটুকু কারণই যথেষ্ট। বিরক্তি মিশ্রিত গলায় বলল,
“এই তুই কথা বুঝিস না কেন? একজন মানুষকে তোর চাই পুরোটা। অথচ তার একটা সাধারণ কথারও মানে বুঝিস না, সত্য মিথ্যে পার্থক্য করতে জানিস না।”
“সে আমাকে সুযোগ দেয় নাকি তাকে বোঝার! সে নিজেই কোন এক সময় বলেছিল যে তাকে নাকি আমি সেদিনই বুঝতে পারব যেদিন সে চাইবে। সে চায় না আমি তাকে বুঝি। তাই আমি ঠিক করেছি যে তাকে বোঝে তার কাছেই তাকে যেতে বলব। মৃত্তিকার তো কোন প্রয়োজন নেই। মৃত্তিকা কে? নিতান্ত একটা পাগল মেয়ে। যে কোনো স্বার্থ ছাড়া, নিজের আত্মসম্মানবোধ হারিয়ে পিছন পিছন ঘোরে। কি যায় আসে মৃত্তিকার উপস্থিতিতে, তাই না? মৃত্তিকা বাঁচল না ম র ল তাতে………৷”
মৃত্তিকা নিজের বাক্যটা সম্পূর্ণ করতে পারল না। সমীরণ এক হাতে ওর মুখ চেপে ধরল। সমীরণের জ্বলজ্বল করতে থাকা চোখ দুটো দেখে মৃত্তিকা এবারে ভয় পেল। সমীরণ ওর মুখ অমনি চেপে ধরে থেকেই সাবধানী গলায় বলল,
“আর একটা শব্দও উচ্চারণ করবি না তুই। যথেষ্ট বলে ফেলেছিস। আর একবার তোর মুখে যদি আমি ম রা র কথা শুনেছি কসম নিজ হাতে মা র বো তোকে।”
মৃত্তিকা নিজের মুখ থেকে সমীরণের হাতটা ছাড়িয়ে নিল। এক অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল মৃত্তিকার ঠোঁটে। বেদনা ভরা হাসি। অসম্ভব রকমের কাতরতা ছিল সেই হাসির মাঝে। সমীরণ কি সেসব বুঝতে পারে না! মৃত্তিকার অসহায়ত্ব গুলো কি বোঝেনা! ছেলেটা এত নিষ্ঠুর কেন? এত যত্ন করে কেন বারবার মৃত্তিকাকে কষ্ট দেয়, মৃত্তিকার হৃদয়টা ভেঙে ফেলে। নিজের দোষ যেন তার চোখেই পড়ে না। সব সময় সবকিছুর জন্য শুধু মৃত্তিকাই দোষী তার কাছে। মলিন হেসে বলল,
“প্রতিদিন নিয়ম করে খুব যত্নে তুমি নিজের হাতে আমাকে খু ন করছো। এবারে যদি একেবারে মে রে ফেল আমার কোন আফসোস থাকবে না। যেই হাত আমাকে এত বছর যাবত আগলে রেখেছে সেই হাতে
ম র নও কবুল।”
সমীরণ এবারে ছিটকে দূরে সরে দাঁড়াল। পুরো শরীরে রাগে যেন আ গু ন জ্বলছে। কিছুক্ষণ পাগলের মতন অতটুকু জায়গার মাঝে পায়চারি করল। কি সব যেন বিড়বিড় করে বলল। তার একটা কথাও মৃত্তিকার কানে এল না। বেশ কিছুটা সময় সেখানে পায়চারি করে মৃত্তিকার দিকে এগিয়ে এসে আঙুল উঁচিয়ে ওকে শাসিয়ে বলল,
“ম র ণে র কথা তুলবি না। তোর ম র ণ আমি কবুল করতে পারব না, বুঝতে পেরেছিস? বাঁচবি তুই। অনেকদিন বাঁচবি। আমার আয়ু নিয়ে বাঁচবি। তবুও
ম র নে র কথা বলবি না। সব সুখ পাবি তুই। তোর সব ইচ্ছে পূরণ হবে, অপূর্ণতা থাকবে না তোর জীবনে। তবুও তুই ম র ণে র কথা তুলবি না, বুঝতে পেরেছিস? আমার জান দিয়ে দেব প্রয়োজনে তোকে। তবু তোর কিছু হবে না।”
কথাগুলো বলে সমীরণ আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। চলে গেল সেখান থেকে। মৃত্তিকা দেখল ছেলেটা বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেল ভার্সিটির গেট দিয়ে। মৃত্তিকা শুধু অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সমীরণের যাওয়ার পথে।
কেন মৃত্তিকা কে নিয়ে এত ভাবে এই ছেলেটা? মৃত্তিকা বাঁচুক বা ম রু ক তাতে সমীরণের কি? ভালোই তো বাসে না। অন্য কাউকে বিশেষ বানিয়ে রেখেছে। তাকে নিয়ে চিন্তা করুক না। মৃত্তিকা তো কেউ না সমীরণের। তাহলে কেন ওকে নিয়ে এতো চিন্তা করে!
চলমান।

