Home "ধারাবাহিক গল্প "তু্ই আমার তু্ই আমার পর্ব-০১

তু্ই আমার পর্ব-০১

0
3

#তু্ই_আমার
#Samia_Jarin
#সূচনা_পর্ব

#অনুগল্প থাকবে নাকি বড় গল্প করবো?
🚫কপি করা নিষিদ্ধ🚫

“ব্যাথা কিভাবে পেলেন ঊষান ভাই?”

রমণীর কথা শুনে ঊষান হাসলো।ওর এই দুনিয়া তে এই একটা মানুষ ওর জন্য ভাবে, অবশ্য কতক্ষন ভাববে এটা ও জানে না। ওর মতো ছেলের জন্য কেই বা ভাববে এই ধারণার জন্যই তো ও এই মেয়েটা কে পাত্তা দেয় না।

পুনরায় আবার মিষ্টি সুরে ওর ধ্যান ভাঙলো।

“বলছেন না কেন এসব কিভাবে হলো?”

ঊষান এবার একটু কঠর হলো।

_”সেটা জেনে তু্ই কি করবি?’

“আমি কি করবো মানে?”

“সেটাই তো জানতে চাচ্ছি।”

“আমি আপনাকে ভালোবাসি ঊষান ভাই এটা কেন বোঝেন না, কেন সবসময় না বোঝার অভিনয় করেন? আমি যে আপনাকে সত্যি সত্যি খুব ভালোবাসি।”

“এই সব বালের কথা অনেকেই বলছে তু্ই যে মিথ্যে বলছিস না তার কি গ্রান্টি আছে। আর আমার মতো ছেলেকে ভালোবাসা যায় না রে পাগলী।”

“ঊষান এর কথা শুনে রমণী মাথা তুলে তাকালো। ও যে সত্যিই সমাজের চোখে এই বখাটে বিগড়ে যাওয়া ছেলেটা কে অসম্ভব ভালোবাসে তাও কেন এই লোক বুজতে পারে না।”

ঊষান অপলক মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে।আসলেই কি এই মেয়ে ওকে এতটা ভালোবাসে।হঠাৎ একটা ভাবনা মাথায় আসতেই কোনো রকম উঠে দাঁড়ায়।কিছু না ভেবেই বলে ফেলে,,,,,

“তু্ই আমার জন্য সব করতে পারবি?”

এটা শুনে রমণী যতোটা না অবাক হয়েছে তার থেকে বেশি খুশি হয়েছে। ও আগে কখনো ঊষান এর মুখ থেকে এমন কথা শোনে নি তাও আবার এমন প্রশ্ন।

“একবার বলেই দেখো ঊষান ভাই তোমার জন্য নুহা সব করতে পারে, শুধু একবার মেনে নেও যে তুমিও আমাকে ভালোবাসো।”

ওর কথার উত্তর না দিয়ে ঊষান বললো,,,,,” নুহা আমাকে বিয়ে করবি?চল আমার পালিয়ে যাই।”

নুহা ঊষান এর কথা শুনে থমকায় সাথে সাথে মনে পরে পরিবার এর লোকের কথা তারা এসব জানলে ওকে জেন্ত কবর দিয়ে দিবে।

“না এভাবে হয় না আমি মা বাবা কে ছাড়া কি করে থাকবো ঊষান ভাই???”

“তাহলে কি তু্ই আমাকে চাস না।আচ্ছা যা তোকে আমার সাথে যেতে হবে না তাহলে আর কি করবি আমাকে ভুলে যা!!!”

এটা তুমি কি বলছো ঊষান ভাই, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না মরে যাবো।।।

“হু এটাই তোর মরে যাওয়ার নমুনা নুহা তাইতো।।আর শোন এমন কথা সবাই বলে কিন্তু কজন করতে পারে।”

**********

“আচ্ছা চল আজকেই আমার বিয়ে করবো আর এখুনি।”

ঊষান এই পিচ্চির কথা শুনে অবাক হয়। ও তো শুধু ওকে পরীক্ষা করার জন্য পালানোর কথা বলেছিলো কিন্তু তাতেও মেয়েটা রাজী হয়ে গেলো।

ঊষান ও তার কথা রাখতে নুহা কে নিয়ে পা বাড়ায় ধ্বংসের দিকে। নুহার থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে ফোন দেয় কয়েকজন কে। কিছুক্ষনের মধ্যে ঊষান এর পাঁচজন বন্ধু হাজির এর মধ্যে দুই জন মেয়ে বাকি তিনজন ছেলে। ওদের মধ্যে থেকে একজন বলে উঠে,,,,,,,,,

“ঊষান যা করছিস ভেবে চিন্তে করিস এই ছোট মেয়েটার মন নিয়ে খেলিস না ও কিন্তু তোকে সত্যিই অনেক বেশি ভালোবাসে। ওর সাথে অন্তত কোনো অন্যায় করিস না দোস্ত।”

ঊষান শুধু শয়তানি হাসি দিলো একটা এরপর বললো চিন্তা করিস না দোস্ত ওর পরিবার কে খবর দিয়েছি যে তাঁদের মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করছে কাজী অফিসের ঠিকানাও দিয়ে দিয়েছি।আমাদের বিয়ের আগে তারা তাঁদের মেয়ে কে নিয়ে যাবে নো টেনশন দোস্ত।

“তু্ই এটা ঠিক করলি না ঊষান? ”

ঊষান এর মতো ছেলেরা কি কারো কথায় পাত্তা দেওয়ার লোক ও ওর মতো কাজ করে যাচ্ছে।

________

ঊষান অনেক অজুহাত দিয়ে অপেক্ষা করার পরও নুহার পরিবার এলো না। এদিকে ওদের সবার জোড়াজুড়িতে অবশেষে বিয়ে হয়ে যায় আর ঠিক সেই মুহূর্তে নুহার পরিবার এসে হাজির হয় কিন্তু ততক্ষনে বিয়ে শেষ।

ওদের দেখে ঊষান বিরক্তি নিয়ে বললো,,,,,

“আগে এলে কি হতো বাল এলি তো এলি তাও তোদের মেয়ের ইমোশন শেষ করে। যা এবার তোদের মেয়েকে নিয়ে বের হ।”

হঠাৎ ঊষান কে এমন পাল্টে যেতে দেখে নুহা নির্বাক কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।ওকে ওর ভাই এসে অনেক কিছু বলছে জিজ্ঞেস করছে কিন্তু নুহা শুধু ঊষান কে দেখতে ব্যাস্ত।

“ও ওর ভাই এর মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,,,,

“ভাইয়া তোমাদের খবর দিয়েছে কে যে আমি বিয়ে করছি?”

“ওই যে তো ঊষান ভাই ওই বেয়াদপ টা। বলেছে তোমাদের মেয়ে আমাকে বিয়ে করার জন্য মরে যাচ্ছে আমার বিয়ে করতে যাচ্ছি পারলে এসে বিয়ের আগে মেয়েকে নিয়ে যাও।”

“ব্যাস নুহা এবার কান্না করতেও ভুলে গেছে। ও টলতে টলতে গিয়ে ঊষান এর সামনে দাঁড়ায় এরপর কাপা কাপা কণ্ঠে বলে,,,,,,

“জানিনা কেন এমন করলে ঊষান ভাই তবে আমি কিন্তু সত্যিই তোমার মতো বখাটে কেই ভালোবাসি।
আজকে যা করলে তার জন্য আবার পরে আফসোস না করতে হয় ঊষান ভাই।ভাগ্যবতী বলবো নাকি ধ্বংসবতী বলবো নিজেকে বুজতে পারছি না ঊষান ভাই। তবে জানো তুমি আমার স্বামী এই সত্যি কেউ মানুক বা না মানুক আমি মানি। সবার ভালো চাওয়ার কারণ হতে গিয়ে আজ আমি নিঃস্ব ঊষান ভাই। আজ সত্যি আর বোকা নুহা তোমাকে জ্বালাবে না এবার নাহয় তুমি শান্তি তে থেকো। আসছি ঊষান ভাই ভালো থেকো।”

নুহা আর কিছু না বলে ওর বাবা কাকার সাথে বাড়ির দিকে পা বাড়ায়।

ঊষান আবার হেসে বললো,,,” আফসোস তাও আবার তোর মতো মেয়ের জন্য দিস ইজ নট ডান নুহা বেবি।”

ঊষান এর থেকে এমন কঠিন কথা শুনে মেয়েটা এবার ঢুকরে কেঁদে উঠলো।এতে অবশ্য ঊষান এর কিছু যায় আসে না, কান্না করুক না দেখতে বেশ লাগছে। যাওয়ার
“আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি ঊষান ভাই খুব খুব বেশি যা তুমি কল্পনাও করতে পারছো না।কাউকে অনেক চাওয়ার পরে পেয়ে যখন ঠকে যাই এটার আনন্দ বলে বুজাতে পারবো না ঊষান ভাই। আজকের এই আনন্দের দিনের ভাগ আমি কাউকে দিবো না। সবশেষে ভালো থাকবেন আর আমার মতো এতো বড় উপহার আপনি কখনো না পান।”

★ ★ ★ ★ ★

নুহাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা বেশ ভালো। ওর বাবা কাকা রা দুই ভাই আর ওর একটা ফুপি আছে। ওর বড় কাকার দুই ছেলে তারা দুজনেই বিবাহিত আর ওর দুই ভাই আর ও। নুহার বড় ভাই বুয়েটের স্টুডেন্ট আর ও এইবার এসএসসি দিবে। আর ওর ছোট ভাই এখনো পড়ালেখা শুরু করে নাই।

নুহার ফুপির এক ছেলে এক মেয়ে, ওর ফুপাতো ভাই কানাডা আছে আর ওর বোনটা আর ও একই বয়সী।

********

ঊষান এর পুরো নাম “ঊষান আবিদ”। নুহাদের বাড়ির পাশেই ছোট একটা ফ্লাট এ একা থাকে। ঊষান এর কথা অনুযায়ী ওর মা বাবা অনেক আগেই মারা গেছে। এর আগে কোথায় থাকতো এটা কেউ জানে না এলাকার, এখানে ঊষান প্রায় তিন বছর হলো থাকা শুরু করেছে, তার মধ্যেই সে অনেক সুনাম কুড়িয়েছে।সবার কাছে অতি বাজে হলেও নুহার কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা মানুষ ঊষান। ওর ছোট মনের আনাচে কানাচে ঊষান নামক বখাটের বসাবাস। কিন্তু আজকে যা হলো তারপর কি নুহার ছোট মন ঊষান এর জন্য ওর একটু ব্যাথায় কাঁদবে, অস্থির হবে হয়তো না।

নুহার বয়সের মেয়েদের ভালোবাসা গুলো যতোটা সত্যি হয় ঠিক ততটা নাজুক হয়। ও যে সত্যিই ঊষান কে খুব বেশি ভালোবাসতো কিন্তু ঊষান!!!

★ ★ ★ ★ ★
বিকেল বেলা,,,,
ছয় বন্ধু বসে আছে ক্লাবে। ঊষান একটার পর একটা সিগারেট শেষ করে যাচ্ছে।

“ঊষান তু্ই কি মানুষ?ওই বাচ্চা মেয়েটার সাথে এমন না করলেও পারতিস ঊষান, তু্ই একবার যদি ওর মন বুজতিস তাহলে এসব করার কথা মাথায় আনতি না।”

“কেন বুঝিস না? আমিই বা কখন বললাম আমি মানুষ।আর তোর যখন এতো দরদ উতলে পড়ছে তাহলে তু্ই বিয়ে করে নিতি।”

ওদের কথা বলার মধ্যে ঊষান এর ফোন বেজে উঠলো, রিসিভ করার সাথে সাথে ওপাশ থেকে শোনা গেলো,,,,,,,,

“আজ যদি নুহা সত্যিই মারা যায় তাহলে আমি তোকে ছাড়বো না ঊষান আবিদ।”

হয়তো এখানেই নুহার শেষ আবার হয়তো বেঁচে ফিরে আবার সব নতুন শুরু করবে।

চলবে।

♡ ♡ ♡ ♡ ♡