#তু্ই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব [২]
[কপি করা নিষিদ্ধ]
বিকেল বেলা,,,,
ছয় বন্ধু বসে আছে ক্লাবে। ঊষান একটার পর একটা সিগারেট শেষ করে যাচ্ছে।
“ঊষান তু্ই কি মানুষ?ওই বাচ্চা মেয়েটার সাথে এমন না করলেও পারতিস ঊষান, তু্ই একবার যদি ওর মন বুজতিস তাহলে এসব করার কথা মাথায় আনতি না।”
“কেন বুঝিস না? আমিই বা কখন বললাম আমি মানুষ।আর তোর যখন এতো দরদ উতলে পড়ছে তাহলে তু্ই বিয়ে করে নিতি।”
ওদের কথা বলার মধ্যে ঊষান এর ফোন বেজে উঠলো, রিসিভ করার সাথে সাথে ওপাশ থেকে শোনা গেলো,,,,,,,,
“আজ যদি নুহা সত্যিই মারা যায় তাহলে আমি তোকে ছাড়বো না ঊষান আবিদ।”
নুহার বড় কাকার বড় ছেলে ফোন দিয়েছে, এটা শুনে ওর বাকি বন্ধুরা আঁতকে উঠলো।হয়তো এখানেই নুহার শেষ আবার হয়তো বেঁচে ফিরে আবার সব নতুন শুরু করবে।ওদের মধ্যে থেকে একজন বলে উঠলো,,,
তু্ই কি মানুষ ঊষান এভাবে মেয়েটা তোর জন্য শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ঊষানের মধ্যে কোন পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না।ও একপ্রকার চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো,,,,
এই বাল থামবি এভাবে চিৎকার না করে গিয়ে দেখ আছে না গেছে?? যতসব বালছাল আমার কপালে এসে জোটে।
বলেই উঠে চলে গেলো।
♡ ♡ ♡ ♡ ♡
ওদিকে,,
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অস্বাভাবিক নীরবতা,নুহার হাত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় ওর অবস্থা অস্বাভাবিক খারাপ দিকে চলে গেছে । নুহার বাবা, কাকা আর ওর বড় তিন ভাই উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। কারও মুখে কোনো কথা নেই,সবার চোখ বারবার অপারেশন থিয়েটারের দরজার দিকে চলে যাচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মেয়েটা সবার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, সে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে এই ভাবনাটাই যেন কেউ মেনে নিতে পারছে না।
ডাক্তার বের হয়ে শান্ত গলায় বললেন,,,,,
রোগীর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল, তবে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে আসায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ওর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিকভাবে পাশে থাকা, নুহা মামনি মেন্টালি খুব ভেঙে পড়েছে । এমন অবস্থায় ওকে কোনো ধরনের মানসিক চাপ দেওয়া যাবে না।
ডাক্তারের কথা শেষ হতেই নুহার মা ভেঙে পড়লেন। এতক্ষণ নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করলেও আর পারলেন না। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ছটফট করতে লাগলেন। নুহার বড় ভাই মাকে ধরে বলল,,,,,,
ডাক্তার এখন কাউকে ভেতরে যেতে নিষেধ করেছেন। একটু অপেক্ষা করো আম্মু। ও ভালো হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
নুহার মা ওর বাবার সামনে এসে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,,, “হ্যা গো আমার মেয়েটার হঠাৎ কি হলো এভাবে এমন একটা পদক্ষেপ নিলো।”
উনি স্ত্রীর মুখের দিকে একপলক তাকিয়ে স্বাভাবিক কণ্ঠে বললেন,,,,,
”তুমি শান্ত হও মনা আমার এই বিষয় নিয়ে পরে কথা বলি আগে নুহার সুস্থ হওয়া জরুরি।।”
নুহার বিয়ের ব্যাপারে এখনো তেমন কেউ কিছুই জানে না জানলে হয়তো তারা আরও ভেঙে পড়তো।
নুহার মা মনা বেগম আর কোনো কথা বললো না, উনি জানেন এখন আর নুহার বাবা একটা কথাও বলবে না।
♡ ♡ ♡ ♡ ♡
কেটে গেছে দুই প্রহর আজকে নুহার জ্ঞান ফিরেছে। নুহার রুমের ভিতরে ওর পরিবার এর সবাই বিড় জমিয়েছে। তাঁদের বাড়ির একমাত্র প্রাণ আজ সুস্থ হয়েছে বলে কথা। নুহা অবশ্য প্রথম সবাই কে দেখে অনেক কান্না করেছে, সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছে।নুহার এমন করার পিছনে মূল্ ঘটনা জানার জন্য আগ্রহ থাকলেও সবাই ওর সুস্থতার জন্য কেউ কিছু জিজ্ঞেস করে নাই।
নুহার বাবা আর কাকা ওর কেবিনের সামনে দাড়িয়ে আলোচনা করছিলো,,,
“দাদা নুহা একটা অন্যায় করে ফেলেছে কিন্তু আমাদের উচিত মাথা গরম না করে সমস্যার সমাধান করা আর শুনলেই তো ডক্টর কি বলে গেলেন।”
“হু বুজেছি আমি একটা লইয়ার এর সাথে যোগাযোগ করেছি, নুহা মামনি সুস্থ হলেই ওই বেয়াদপ এর কাছ থেকে ডিভোর্স করিয়ে নিবো। আয়াস এবং নুহাস ওরাও একই কথা বলেছে(ওরা দুজন নুহার কাকার ছেলে )।”
ওনাদের এসব আলোচনা শুনে কেউ একজন দূর থেকে বেশ মজাই পেলো।
সন্ধ্যাবেলা,,
বিকেলের দিকে সবাই বাড়ি ফিরে গেছে কিছুক্ষন পর আবার সবাই আসবে বলে জানিয়েছে, নুহা এখন হসপিটালে একাই আছে। হঠাৎ কারো পায়ের শব্দ শুনে নুহা সামনে ফিরে তাকালো সামনের ব্যাক্তিকে হয়তো আসা করে নাই বেচারি। ওর সামনে দাড়িয়ে আছে ঊষান মুখে লেগে আছে একটা বাকা হাসি।ঊষান এর এমন আচরণ দেখে নুহা ভয়তে একটা শুকনো ঢোক গিললো।
মাত্র এক সেকেন্ড তারপর কোনো কথা না বলে আবার অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিল।এটা দেখে ঊষান ফের বাঁকা হাসলো।ঊষান কে দেখে মনে হচ্ছে ওর বেশ মজাই লাগছে নুহার এই আচরণে। ফের পিছন ফিরে গিয়ে ঊষান কেবিনের দরজা বন্ধ করে দিয়ে এলো যা দেখে নুহার ছোট্ট মনটা কেঁপে উঠল। নুহা সামনে ফিরে কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,,,,, আপনি দরজা কেন বন্ধ করলেন ঊষান ভাই??
ঊষান নুহার কথায় পাত্তা না দিয়ে ওর বেডের পাশে এসে দাড়ালো। নুহা সাহস করে একবার ঊষান কে পরখ করে নিলো এরপর চোখ খিছে বন্ধ করে নিলো।এদিকে ঊষান এর মুখ থেকে ওর বাঁকা হাসি সরছেই না।
এদিকে নুহা অনেক কষ্ট করে ফের তোতলাতে তোতলাতে বললো,,,,
“চলে যান ঊষান ভাই আমি আপনাকে দেখতে চাই না।আমি কিন্তু আব্বু ভাইয়া দের ডাকবো বলে দিলাম।”
“আচ্ছা ডাক!!”
এতক্ষনে ঊষান কিছু একটা বললো, ওর কণ্ঠ অত্যন্ত স্বাভাবিক।
“আমি কিন্তু ডাকবো ঊষান ভাই?”
“ডাক তো, তোকে কেউ মানা করেছে? আর শোন থাকলে তো ডাকবি তাই না পিচ্চি পাখি!!”
নুহা ঊষান এর মুখে প্রথম বার এমন ডাক শুনলো, ওকে আগে কখনো এভাবে এই নামে ডাকে নাই। ওর মনে হলো ওর সারা শরীর জুড়ে এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেলো। এই লোকটা কিনা ওর তিন কবুল বলা স্বামী,পরক্ষনেই মনে পরে গেলো এই লোকটা ওর ছোট মন কে কিভাবে বিষিয়ে দিয়েছে। ওর ফুরফুরে মনটা অন্ধকারে ছেয়ে গেলো।
নুহা কে কোন কথা বলতে না দেখে ঊষান আবার বললো,,,,
“তু্ই হাত কেন কাটলি আর কার পারমিশন নিয়ে এই বালের কাজ করলি ইডিয়ট!!!”
ওর কণ্ঠ খুব শান্ত শীতল তবে চোখে যেন আগুনের ফুলকি ঝরছে।নুহা প্রশ্নের উত্তর দিতে না দেখে ফের বলে,,,
“আনসার দে স্টুপিড!!তু্ই কার পারমিশন নিয়ে ওভাবে হাতের রক্ত জড়ালি?”
নুহার আর এসব সহ্য হচ্ছে না, এই লোক জানে না কেন এসব করেছে ও তাও কেন এমন নাটক করছে, নুহা এবার ঢুকরে কেঁদে উঠে চিৎকার দিয়ে বললো,,,,,
“আমার শখ হয়েছে তাই করেছি সেই কৈফিয়ত আমি আপনাকে দিবো না।।”
“আচ্ছা বেশ তোকে বলতে হবে না।”
ঊষান কে হঠাৎ এমন বোল পাল্টাতে দেখে নুহা একটু অবাক হলো।
ঊষান কিছুক্ষন থেমে ফের বললো,,,,”আচ্ছা তোর স্বামী হিসেবে জানতে চাইছি কেন করলি এই ন্যাকামি?”
“এই কিসের স্বামী বলছেন হ্যা আপনার মনে নেই কিভাবে আমাকে ঠকিয়েছেন, বড় বাবা বলেছে আমি সুস্থ হলেই আমাদের ডিভোর্স করিয়ে দিবে।।।”
ডিভোর্স কথাটা শোনার পর ঊষান এর শান্ত মুখটা লাল রঙে ছেয়ে গেলো।খুবই শান্ত ভাবে বললো,,,,
“ডিভোর্স তো পাবে না পিচ্চি পাখি!!তোমার যে এখনো অনেক সাজা বাকি আছে তাছাড়া আমার এখনো বাসর করাও হলো না।”
কথা শেষ করেই নুহাকে কোলে তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
♡ ♡ ♡ ♡ ♡
এই ঊষান যে কি চায় ওই ভালো জানে 🫣😁
#চলবে……

