#তু্ই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব _৫
[লেখিকার অনুমতি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ, প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত ]
দেখতে দেখতে কেটে গেল পুরো এক সপ্তাহ।নুহার শরীর এখন অনেকটাই সুস্থ। হাতের ক্ষতগুলো শুকিয়ে এসেছে, জ্বরও নেই। তবে মনটা এখনও ভারী। এই সাত দিনে ঊষানের সঙ্গে অগণিত ঝগড়া হয়েছে, অভিমান হয়েছে, কান্না হয়েছে। তবুও কখন যেন মানুষটার প্রতি নিজের অনুভূতিগুলো আরও গভীর হয়ে গেছে।সকালে নুহাকে নাস্তা খেতে বলে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গিয়েছিল ঊষান।বের হওয়ার আগে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলেছিল,,,,,,,
“আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। দুপুরের আগেই ফিরে আসব। কোনো দুষ্টুমি করার চেষ্টা করবি না আর না তো পালানোর ।”
এর মাঝেই নুহা একদিন পালানোর চেষ্টা করেছিলো কিন্তু এতে কোনো লাভ হয় নি বরং তারপর থেকে ঊষান ওকে আরও নজরবন্ধী করে রাখে।নুহা মুখ ফিরিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,,,,,,,
“আপনি না ফিরলেই তো ভালো হয়।”
ঊষান শুধু একটা শয়তানি হেসে দরজাটা বাইরে থেকে লাগিয়ে চলে গিয়েছিল।ঘরে আবারও একা হয়ে গেল নুহা।ওর মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেলো এটা আর নতুন কি ঊষান প্রতিদিনই প্রায় ওকে এভাবে রেখে চলে যায়।জানালার পাশে বসে দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল সে। হঠাৎ বাইরে বেশ কয়েকজন মানুষের কথাবার্তার শব্দ কানে এলো।প্রথমে গুরুত্ব দিল না।কিন্তু কিছুক্ষণ পরই দরজার ওপর পাশ থেকে ভেসে এলো চেনা একটা কণ্ঠ।
“নুহা! মা তুই ভেতরে আছিস?”
কণ্ঠটা শুনেই নুহার পুরো শরীর কেঁপে উঠল।কাপা কাপা কণ্ঠে প্রশ্ন করলো,,,,,,,
“আব্বু!!আব্বু তুমি সত্যিই এসেছো?”
নুহা ছুটে দরজার কাছে চলে এলো।
বাইরে থেকে আবারও ডাক শোনা গেল।
“নুহা! ভয় পাস না মা, আমরা এসেছি!”
এবার আর নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না নুহা।চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল।
“আমি আমি এখানে! আব্বু, আমি এখানে!প্লিজ আমাকে তোমাদের সাথে নিয়ে যাও আব্বু ঊষান ভাই আমাকে একটুও ভালোবাসে না একটু না।”
নুহার চিৎকার শুনে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই নিশ্চিত হয়ে গেল।পুলিশের উপস্থিতিতে দরজার তালা ভেঙে ফেলা হলো।ঊষান যাওয়ার সময় প্রতিদিন ওকে এভাবে রেখে যায়।দরজা খুলতেই নুহা দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরল।
“আব্বু!!”
বাবাও শক্ত করে মেয়েকে বুকে টেনে নিলেন,,,,,,,”আমার মা তুই ঠিক আছিস?”
নুহা আর কোনো কথা বলতে পারল না। শুধু কাঁদতে লাগল।মা এগিয়ে এসে মেয়ের মুখে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নিজেও কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
“আল্লাহ আমার মেয়েটাকে ফিরিয়ে দিয়েছ!”
ওর নিজের ভাই সহ ওর কাজিন দুই ভাই বোনকে ঘিরে দাঁড়িয়ে রইল। এক সপ্তাহের দুশ্চিন্তা যেন এক মুহূর্তেই চোখের জলে গলে গেল।একজন পুলিশ চারপাশে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“যে ছেলেটা আপনাকে এখানে রেখেছিল, সে কোথায়?”
নুহা মাথা নিচু করে আস্তে বলল,
“ঊষান ভাই একটু আগে বাইরে গেছে।”
নুহা আর বেশি কথা বলতে পারলো না। এখন ওর মনে একটাই ভয় আজ এখান থেকে চলে গেলে আর কোনোদিনও ঊষান কে পাবে না। চলে চলে যাওয়ার আগে নুহা একবার ঘরের দিকে তাকাল।
বিছানার পাশে রাখা গ্লাস, টেবিলের ওপর ওষুধ আর সকালের অর্ধেক খাওয়া নাস্তাbসবকিছু আগের মতোই পড়ে আছে।কেন জানি বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল।অবশেষে সে নিজের পরিবারের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
♡ ♡ ♡ ♡ ♡
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে,দ্রুত পায়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকল ঊষান।দরজা খোলা দেখেই ঊষান যেন কিছু একটা আছ করতে পারলো, ঘরের ভেতর পা রেখেই নুহা কে গলা ছেড়ে ডাক দিলো,,,,,,
“নুহা!”
কোনো উত্তর নেই,কপাল কুঁচকে পুরো ঘরটা একবার চোখ বুলিয়ে নিল সে দরজার ভাঙা তালা,এলোমেলো চেয়ার,খোলা জানালা এক মুহূর্তেই সব বুঝে গেল যে ওর পিচ্চি পাখি ওকে ধোঁকা দিয়েছে। এটা ভাবতেই ঊষান এর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল ।
ঠিক তখনই বাইরে থেকে একজন লোক বলল,
“দুপুরে পুলিশ আর একটা পরিবার এসে একটা মেয়েকে নিয়ে গেছে।আর নুহা মামুনি ওনাদের মধ্যে একজন কে আব্বু আব্বু বলে ডাকছিলো।”
উনি ওদের পাশের বাড়ির লোক, সাথে বাড়িওয়ালা।
কথাটা শেষ হতেই কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল ঊষান।তারপর ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল।পরের মুহূর্তেই সেই হাসি মিলিয়ে গিয়ে চোখ দুটো ভয়ংকর রকম ঠান্ডা হয়ে গেল।হাতে থাকা কাগজের ব্যাগটা সজোরে দেয়ালে ছুড়ে মারল সে।পাশে রাখা কাঁচের বোতল ভেঙে মেঝেজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।
“আমার সঙ্গে চালাকি ?”
দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করল ঊষান।
সে টেবিলের ওপর থাকা জিনিসপত্র এক ঝটকায় ফেলে দিল। ঘরের ভেতর ভারী নীরবতা।
“আমি শেষ কথা বলিনি, আর ওরা ভাবছে খেলাটা শেষ?”
রাগে তার কপালের রগ ফুলে উঠেছে।মুঠোফোন বের করে একটা নম্বরে কল দিল।ওপাশে ফোন রিসিভ হতেই ঠান্ডা গলায় বলল,
“খবর ঠিক?”
“হু । নুহাকে ওর পরিবার নিয়ে গেছে।”
ঊষানের চোখে বিদ্বেষের ঝিলিক ফুটে উঠল।
“আমি ওকে ভালোবেসে বিয়ে করিনি। ও ছিল আমার প্রতিশোধের প্রথম চাল। আর সেই চালটা কেউ আমার হাত থেকে কেড়ে নেবে এটা আমি হতে দেব না।”
ওপাশ থেকে প্রশ্ন এল,
“এখন কী করবি ঊষান ?”
ঊষান ধীরে ধীরে ভাঙা দরজার দিকে তাকাল।
“এখন খেলাটা শুরু হবে।”
বলেই সে নিচু স্বরে হেসে উঠল।
“ওর পরিবার ভেবেছে মেয়েকে ফিরিয়ে এনে জিতে গেছে।”
কয়েক সেকেন্ড থেমে আবার বলল,
“ওদের বলো ঊষান কোনোদিন অসমাপ্ত হিসাব রেখে যায় না।এবার ওদের বহু বছরের পাপের ফল ঊষান আবিদ ফিরছে।।”
ফোন কেটে দিয়ে সে ভাঙা তালাটা হাতে তুলে নিল।তার চোখে এক ফোঁটা অনুশোচনাও নেই।নুহা চলে গেছে এতে তার কষ্ট হয়নি।আসলেই? ঊষান কি চায় ও নিজেই জানে না।ওর রাগ একটাই,ওর পরিকল্পনা মাঝপথে ভেঙে গেছে।ধীরে ধীরে ঠোঁট বাঁকিয়ে সে বলল,,,,,,
“পালিয়ে গেছিস, পিচ্চি পাখি?”
“পালিয়ে বাঁচতে পারবি না। তোর পরিবার আমার মায়ের সাথে করা অন্যায় এর যে হিসাব বাকি রেখেছে, সেটা আমি শেষ করবই। আর সেই হিসাবের সবচেয়ে বড় সাক্ষী তুই।”
কথাগুলো বলে ঊষান ঘর থেকে বেরিয়ে গেল ওর চোখেমুখে তখন একটাই সংকল্প ওর ভিতর থেকে এখনো বলছে প্রতিশোধের খেলা এখনও শেষ হয়নি।
♡ ♡ ♡ ♡ ♡
গভীর রাত,,,,
নিজের বাড়ির ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে ঊষান। চারপাশে নীরবতা, শুধু হালকা বাতাস বইছে।এক হাতে সিগারেট, অন্য হাতটা মুঠো করে রেখেছে।তার চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে নুহার মুখ।
*”ঊষান ভাই আমাকে একটু ভালোবাসলে কী হতো?”*
কথাটা যেন কানের ভেতর বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
“চুপ!!”
বারবার চিৎকার করার ফলেও যেন কথা গুলো থামছে না।দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল সে।
“এসব দুর্বলতা।”
ঊষান নিজের মাথায় হাত বুলিয়ে বিরক্ত গলায় বলল,
“আমি ওকে ভালোবাসি না কখনোই না।”
পরক্ষণেই নিজের কথায় নিজেই হেসে উঠল।
“ভালোবাসা? আমার জীবনে ওই শব্দটার কোনো জায়গা নেই।”
সে রাগে পাশে রাখা ফুলের টবটা লাথি মারল। টবটা মাটিতে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।তবুও মাথা থেকে নুহার মুখটা সরল না।সেদিন সকালে ভেজা চুলে দাঁড়িয়ে থাকা নুহা,রাগ করে মুখ ফুলিয়ে থাকা নুহা ঘুমের মধ্যে ওর হাত জড়িয়ে ধরা নুহা এই সবকিছু যেন জোর করে মনে পড়ছে।
“ধুর!”
ঊষান দুই হাতে মাথা চেপে ধরল।
“কেন বারবার ওর কথাই মনে পড়ছে?”
ঠিক তখনই রাফিন এসে পাশে দাঁড়াল।
“ঊষান কী হয়েছে?”
ঊষান ঠান্ডা চোখে তাকাল।
“কিছু না।”
রাফিন কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বলল,
“তু্ই কি নুহাকে মিস করছিস ?”
কথাটা শেষ হতেই ঊষানের দৃষ্টি মুহূর্তে বদলে গেল।
সে এক ঝটকায় রাফিনের শার্টের কলার চেপে ধরল।
“এই কথাটা দ্বিতীয়বার মুখে আনবি না।”
রাফিন ভয় পেয়ে গেল।
“আমি তো শুধু,,,,”
“শুনে রাখ নুহা আমার দুর্বলতা নয়। ও শুধু একটা মাধ্যম। ওর পরিবারকে শেষ করার জন্য দরকার ছিল, ব্যস।”
ঊষানের কণ্ঠ বরফের মতো ঠান্ডা।
“নুহা আমার দুর্বলতা নয়। ও শুধু একটা মাধ্যম। ওর পরিবারকে শেষ করার জন্য দরকার ছিল, ব্যস।”
রাফিন ওর কথা গুলো বিড়বিড় করে আওড়ালো। দেখা যাক আপনার জন্য সামনে কি অবস্থা করছে দোস্ত। তু্ই নুহাতে খুব ভালো ভাবে ফেঁসে গেছিস দোস্ত।।
রাফিন ধীরে ধীরে বলল,
“তাহলে ও চলে যাওয়ার পর থেকে তুই এত রেগে আছিস কেন?”
প্রশ্নটা শুনে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল ঊষান।ওর কাছে কোনো উত্তর নেই।কারণ উত্তরটা সে নিজেও শুনতে চায় না।কিছুক্ষণ পর সে রাফিনকে ছেড়ে দিয়ে পেছন ফিরে দাঁড়াল।
“আমি রেগে আছি কারণ আমার পরিকল্পনা নষ্ট হয়েছে।”
নিজেকেই যেন বোঝাল সে।
“আর কিছু না।”
রাফিন নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
সে জানে, তার বস যতই অস্বীকার করুক, সত্যিটা অন্যরকম।ঊষান আকাশের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল,,,,,
“ভালোবাসা মানুষকে দুর্বল বানায়। আমি দুর্বল হব না।”
মুঠোফোনটা শক্ত করে চেপে ধরে সে ফিসফিস করল,
“নুহা, তুই যদি ভাবিস তোর জন্য আমার মন নরম হবে তাহলে ভুল ভাবছিস।”কথাগুলো মুখে বললেও বুকের ভেতরে কোথাও একটা অস্বস্তি রয়ে গেল।যেটাকে সে বারবার রাগ বলে মানতে চাইছে,সেটার নাম যে ভালোবাসা সেই সত্যিটা ঊষান এখনও নিজের কাছেও স্বীকার করতে রাজি নয়।কাউকে কিছু না বলে ঊষান বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো।
♡ ♡ ♡ ♡ ♡
গভীর রাত,,
পুরো মির্জা বাড়ি নিস্তব্ধ। দূরে দেয়ালঘড়ির টিকটিক শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছে না।বাড়ির পেছনের বারান্দা দিয়ে নিঃশব্দে ভেতরে ঢুকল ঊষান।কালো হুডিতে মুখের অর্ধেক ঢাকা। চারপাশে একবার সতর্ক চোখে তাকিয়ে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল।তার পদক্ষেপ এতটাই নিঃশব্দ যে কাঠের মেঝেটাও যেন কোনো আওয়াজ করতে সাহস পেল না।করিডরের শেষ মাথায় এসে থামল সে, ঠিক যেখানে নুহার ঘর।দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। সামান্য ফাঁক হয়েই ছিল।ঊষান আলতো করে দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকল।জানালার ফাঁক দিয়ে আসা চাঁদের আলোয় পুরো ঘরটা আবছা আলোকিত।বিছানায় গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে নুহা।
মুখের পাশে ছড়িয়ে আছে লম্বা চুল। এক হাত বালিশের নিচে, অন্য হাতটা বিছানার কিনারা ছুঁয়ে আছে। ঘুমের মধ্যে মুখে একরাশ ক্লান্তি, যেন গত এক সপ্তাহের কান্নাগুলো এখনও ওর চোখের কোণে জমে আছে।
ঊষান দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে রইল অনেকক্ষণ।মেয়েটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকলেও এক পা-ও এগোল না।নিজের অজান্তেই বিড়বিড় করে বলল,
“দেখছি ঠিকই আছিস।”
তারপরই নিজের কথায় বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল।
“আমি এখানে কেন এসেছি?”
মুঠো শক্ত হয়ে উঠল তার।
“আমি তো শুধু নিশ্চিত হতে এসেছি এর বেশি কিছু না।”
সে যেন নিজেকেই বোঝানোর চেষ্টা করল।কিন্তু মন কি বোজে হাহ!!!কিন্তু চোখ দুটো বারবার নুহার দিকেই ফিরে যাচ্ছে,ঠিক তখনই ঘুমের ঘোরে নুহা খুব আস্তে বিড়বিড় করে উঠল,,,,
“ঊষান ভাই!!”
শব্দটা কানে যেতেই ঊষানের শরীর এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল।নুহা আবার নিশ্চুপ হয়ে গেলো হয়তো স্বপ্ন দেখছে।ঊষান গভীর শ্বাস নিয়ে চোখ বন্ধ করল।
“স্বপ্নেও আমার নাম? এতো কষ্ট দেওয়ার পরেও আমি? ভেরি good পিচ্চি পাখি!!!”
বলেই একটা শয়তানি হাসি দিলো ফের সে তিক্ত হেসে বললো,,,,,,
“পাগলি একটা।”
কয়েক মুহূর্ত নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শেষবারের মতো ঘুমন্ত নুহার দিকে তাকাল সে।তারপর কোনো শব্দ না করেই দরজার দিকে হাঁটল।ঘর থেকে বের হওয়ার ঠিক আগে খুব নিচু স্বরে বলল,,,,,
“ঘুমিয়ে থাক, পিচ্চি পাখি। তোর শান্তির ঘুমের বারোটা বাজাতেই কালকে হাজির হবো!!!
যাওয়ার আগে অবশ্য নুহার ফুলকো গালে একটা চুমু খেতে ভুললো না অথচ ঊষান কিন্তু নুহাকে ভালবাসে না হু!!!
দরজাটা আগের মতোই আলতো করে ভেজিয়ে দিয়ে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেল ঊষান।আর নুহ সবকিছুরই অজান্তে গভীর ঘুমে ডুবে রইল।
♡ ♡ ♡ ♡ ♡
#চলবে

