#তুই_আমার
#সামিয়া
পর্ব _১৯
🚫কপি করা নিষিদ্ধ🚫
সমাপ্তি পর্ব
সময় কখনো কারও জন্য থেমে থাকে না। মানুষ যতই কোনো একটা মুহূর্তকে ধরে রাখতে চায়, সময় ঠিকই নিজের নিয়মে সামনে এগিয়ে যায়। দেখতে দেখতে ঊষান আর নুহার জীবনের সেই অস্থির দিনগুলোও অনেক দূরের গল্প হয়ে গেছে। যে সম্পর্কের শুরু হয়েছিল ভুল বোঝাবুঝি, অভিমান আর প্রতিশোধের ছায়ায়, সেই সম্পর্কই একদিন এসে দাঁড়িয়েছে ভালোবাসা, মায়া আর পরিবারের উষ্ণতায়।
তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা এসেছিল ছোট্ট উষারার হাত ধরে। আকিকার দিন পরিবারের সবাই যখন তার নাম শুনেছিল, তখন কেউ হয়তো ভাবেনি এই ছোট্ট মেয়েটাই একদিন দুই পরিবারের মাঝের দূরত্ব এতটা কমিয়ে দেবে। উষারা এখন একটু একটু করে বড় হচ্ছে। তার ছোট্ট পায়ের শব্দে পুরো বাড়িটা মুখর হয়ে ওঠে। কখনো সে নুহার পেছন পেছন ঘোরে, কখনো ঊষানের ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বাবাকে খুঁজে।
ঊষানও বদলে গেছে অনেকটাই।আগের সেই কঠিন, গম্ভীর মানুষটা এখনও আছে। তার স্বভাবের দৃঢ়তা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিংবা দায়িত্ববোধের কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু বাড়ির দরজা পেরোলেই যেন তার পৃথিবীটা অন্যরকম হয়ে যায়। বাইরে সে যত বড় দায়িত্বই সামলাক, বাড়িতে ফিরলে তার প্রথম খোঁজ থাকে নুহা আর উষারার।
এক সন্ধ্যায় কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরতেই ছোট্ট উষারা দৌড়ে এসে বাবার সামনে দাঁড়াল। তার ছোট্ট হাতে তখন একটা খেলনা, আর মুখে সারাদিনের জমিয়ে রাখা অভিযোগ।
ঊষান নিচু হয়ে তাকে কোলে তুলে নিল।
~আজ এত অভিযোগ কেন?
উষারা বাবার কাঁধে মাথা রেখে কিছু একটা বলল। তার কথাগুলো পুরোপুরি বোঝা গেল না, কিন্তু ঊষান এমনভাবে মাথা নাড়ল যেন সব বুঝে গেছে।
দূর থেকে নুহা দৃশ্যটা দেখছিল। একসময় যে মানুষটাকে সে বুঝতেই পারত না, আজ সেই মানুষটাকে নিজের সন্তানের সঙ্গে দেখে তার অদ্ভুত শান্তি লাগে।
রাতের খাবারের পর উষারা ঘুমিয়ে পড়লে নুহা তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। ঘরের আলোটা মৃদু করে দিয়ে কিছুক্ষণ মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ছোট্ট মুখটা শান্ত ঘুমে ডুবে আছে। নুহা খুব আস্তে তার মাথায় হাত বুলিয়ে বেরিয়ে এলো।
বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই দেখল, ঊষান একা দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
নুহা কিছুক্ষণ চুপ করে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
~ঘুমাননি?
ঊষান আকাশ থেকে চোখ না সরিয়েই বলল,
~ঘুম আসছে না।
নুহা পাশে দাঁড়িয়ে রইল। কিছুক্ষণ দুজনের মধ্যে কোনো কথা হলো না। এই নীরবতাটা এখন আর অস্বস্তিকর নয় একসময় তাদের মধ্যে নীরবতা মানেই ছিল অভিমান। আর এখন সেই নীরবতাও যেন এক ধরনের বোঝাপড়া।
নুহা ধীর কণ্ঠে বললো,
~আপনি কি কখনো ভাবতেন সবকিছু এমন হবে?
ঊষান এবার নুহার দিকে তাকাল এরপর আস্তে করে নুহার কাঁদে মাথা রেখে বললো,
~না।
নুহা হেসে ফেলল তারপর সেও বললো ,
~আমিও না।
কথাটা শুনে ঊষানের ঠোঁটের কোণেও সামান্য হাসি ফুটল।জীবনের একটা সময়ে তারা দুজনেই ভেবেছিল তাদের গল্প হয়তো কোনোদিন শান্ত হবে না। ঊষানের মনে ছিল প্রতিশোধের আগুন, নুহার মনে ছিল ভয় আর অনিশ্চয়তা। তাদের চারপাশের মানুষ, পরিবারের পুরোনো ভুল আর গোপন সত্য সবকিছু মিলিয়ে তাদের পথটা সহজ ছিল না।ঊষানের নিজের পরিচয়টাও একসময় নুহার কাছে ছিল অজানা। যে মানুষটাকে সে বেকার, ভবঘুরে আর সাধারণ একজন মানুষ বলে জানত, তার জীবনের পেছনে ছিল সম্পূর্ণ অন্য এক পৃথিবী। দায়িত্বের কারণে তাকে নিজের পরিচয় লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। মিশন, ঝুঁকি, দূরত্ব সবকিছুর মাঝেও একটা সময় তার কাছে সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছিল নুহার কাছ থেকে দূরে থাকা।
আর নুহা?সেও বদলেছে।আগের সেই ভীতু মেয়েটা এখন অনেক বেশি পরিণত। নিজের কথা বলতে শেখেছে, নিজের অনুভূতি বুঝতে শিখেছে। ঊষানের ওপর অভিমান হলে সেটা চেপে না রেখে প্রকাশ করতে পারে। আবার ঊষানের কষ্ট দেখলে নিজের অজান্তেই চিন্তিত হয়ে পড়ে।তাদের ভালোবাসা কখনো খুব জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না। বড় বড় প্রতিশ্রুতির চেয়ে ছোট ছোট যত্নেই তাদের সম্পর্কটা ধীরে ধীরে শক্ত হয়েছে।
একদিন নুহা অসুস্থ হলে ঊষান সারারাত তার পাশে বসে ছিল।
কোনো এক ব্যস্ত সকালে নুহা খাওয়া ভুলে গেলে ঊষান নিজেই খাবার নিয়ে তার সামনে বসেছিল।উষারা প্রথমবার বাবাকে চিনে তার দিকে হাত বাড়ালে ঊষানের চোখে যে আনন্দ দেখা গিয়েছিল, সেটাও নুহা কোনোদিন ভুলতে পারবে না।আর সেই মানুষটাই একদিন নুহার পরিবারের পুরোনো ভুলগুলোও ক্ষমা করে দিয়েছিল। কারণ সে বুঝেছিল, অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখলে নতুন জীবনটাকে কখনো পুরোপুরি পাওয়া যায় না।
কয়েকদিন পর দুই পরিবার আবার একসঙ্গে বসেছিল মানে ঊষানরা আর মির্জা বাড়ির সবাই, সবাই ঊষান কে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল কিন্ত ঊষান যায় নি সব ভুললেও ঊষান তার মায়ের কষ্ট ভুলতে পারে নাই তাই সেখানে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না । পরিবেশে আগের মতো অস্বস্তি ছিল না।
সেদিন নুহার বাবা অনেকক্ষণ ঊষানের সামনে চুপ করে থাকার পর অবশেষে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন।
ঊষান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে শুধু বলেছিল,
~পুরোনো কথা থাক।
এর বেশি কিছু তার বলার ছিল না।
কারণ ক্ষমা মানে সবকিছু ভুলে যাওয়া নয়। কখনো কখনো ক্ষমা মানে হলো পুরোনো কষ্টকে আর নিজের ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে না দেওয়া।
সময়ের সঙ্গে উষারাও একটু বড় হলো। তার প্রথম জন্মদিনে পুরো বাড়ি সাজানো হলো। ছোট্ট মেয়েটা সারাদিন এক ঘর থেকে আরেক ঘরে ঘুরে বেড়াল। নুহা তাকে সামলাতে গিয়ে বারবার ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল, আর ঊষান দূর থেকে সব দেখে মুচকি হাসছিল।
একসময় নুহা বিরক্ত হয়ে বলল,
~আপনি শুধু হাসছেন কেন? একটু সামলান আপনার মেয়েকে।
ঊষান সঙ্গে সঙ্গে উষারাকে কোলে তুলে নিল।
~আমার মেয়ে তো আমাকে ছাড়া থাকতেই পারে না।
নুহা চোখ ছোট করে তাকাল।
~বাহ, এখন মেয়ের সামনে বেশ অহংকার দেখাচ্ছেন।
ঊষান হেসে বলল,
~তোর কাছ থেকেই শিখেছে।
নুহা কিছু বলতে গিয়েও হেসে ফেলল।সেই হাসির মুহূর্তেই যেন তাদের পুরো গল্পটা লুকিয়ে ছিল।কতটা পথ তারা পেরিয়ে এসেছে।একসময় যে নুহা ঊষানের কাছ থেকে মুক্তি চেয়েছিল, আজ সেই নুহাই তার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের সংসার দেখছে।
একসময় যে ঊষান ভালোবাসাকে অস্বীকার করত, আজ সেই মানুষটাই নিজের মেয়েকে বুকে নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে।
তাদের গল্পের শেষটা কোনো রূপকথার মতো নয়। কারণ তাদের জীবনেও সমস্যা থাকবে, অভিমান থাকবে, ভুল হবে। কিন্তু তারা এখন জানে, সমস্যার সময় একে অপরের হাত ছেড়ে দিতে নেই।
এক গভীর রাতে উষারা ঘুমিয়ে পড়ার পর নুহা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। বাইরে আকাশ পরিষ্কার। অসংখ্য তারার মাঝে একটা চাঁদ নিঃশব্দে আলো ছড়াচ্ছে।
ঊষান এসে তার পাশে দাঁড়াল।
নুহা মৃদু স্বরে বলল,
~আমাদের গল্পটা যদি আবার শুরু করতে পারতাম, আপনি কি কিছু বদলাতেন?
ঊষান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
~হ্যাঁ।
নুহা অবাক হয়ে তাকাল।
~কী?
ঊষান শান্তভাবে বলল,
~তোকে এত কষ্ট দিতাম না।
নুহার চোখটা অজান্তেই ভিজে উঠল। সে কিছু বলল না।
ঊষানও আর কিছু বলল না।
দুজনেই জানত, অতীত বদলানো সম্ভব নয়। কিন্তু ভবিষ্যৎটা তারা নিজেরাই লিখতে পারে।
★ ★ ★ ★ ★
পাঁচটা বছর কেটে গেছে সময়ের সাথে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে ।সময় যেন নিজের অজান্তেই তাদের জীবন থেকে অনেকগুলো ঋতু সরিয়ে দিয়েছে। একসময়ের ছোট্ট উষারা এখন পাঁচ বছরের চঞ্চল এক শিশু। তার ছোট্ট পায়ের শব্দে সকাল শুরু হয়, আর তার হাসিতেই সন্ধ্যার ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
উষানদের বাড়ির পরিবেশও বদলে গেছে। যে বাড়িটা একসময় গম্ভীরতা আর নিয়মের জন্য পরিচিত ছিল, সেখানে এখন উষারার দৌড়ঝাঁপই সবচেয়ে বড় ঘটনা। কখনো সে বাগানে ফুল নিয়ে বসে থাকে, কখনো নুহার ঘরে এসে তার জিনিসপত্র এলোমেলো করে, আবার কখনো বাবার ঘরে গিয়ে ঊষানের কাজের মাঝখানে নিজের গল্প শুরু করে দেয়।ঊষানও মেয়ের এই স্বভাবের কাছে একেবারে অসহায়।
বাইরের দুনিয়ায় তার ব্যক্তিত্ব এখনও আগের মতোই দৃঢ়। তার সিদ্ধান্তে কেউ সহজে প্রশ্ন তোলে না। কিন্তু বাড়ির ভেতরে পাঁচ বছরের একটা ছোট্ট মেয়ে তার সব নিয়ম ভেঙে দিতে পারে।সেদিন সকালে ঊষান গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র নিয়ে বসেছিল। এমন সময় উষারা দৌড়ে এসে তার পাশে দাঁড়াল।
~বাবা, তুমি কী করছো?
ঊষান কাগজ থেকে চোখ তুলে তাকাল।
~কাজ করছি।
উষারা গম্ভীর মুখে বলল,
~আমার সাথে খেলবে?
ঊষান কিছুক্ষণ মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর কাগজগুলো একপাশে রেখে দিল।
~কী খেলবি?
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে নুহা পুরো দৃশ্যটা দেখছিল। তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।এই মানুষটাকে সে বহু বছর ধরে দেখছে। তবু প্রতিবার মেয়ের সামনে তাকে এমনভাবে হার মানতে দেখলে নুহার ভালো লাগে।
উষারা বাবার হাত ধরে তাকে টেনে নিয়ে গেল। ঊষানও কোনো আপত্তি করল না।নূহা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দেখতে দেখতে হঠাৎ অতীতের কথা মনে করল।
কতটা বদলে গেছে সবকিছু একসময় ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না।আজ সেই একই বাড়িতে তার নিজের একটা ঘর আছে, নিজের একটা পরিবার আছে। আর সবচেয়ে বড় কথা তার পাশে এমন একজন মানুষ আছে, যার সঙ্গে জীবনটা ভাগ করে নেওয়ার সাহস সে শিখেছে।দুপুরের দিকে উষারা ঘুমিয়ে পড়লে বাড়িটা আবার শান্ত হয়ে গেল। নুহা বারান্দায় বসে ছিল। কিছুক্ষণ পর ঊষান এসে তার পাশে বসল।দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
নুহা ধীরে বলল,
~উষারা অনেক বড় হয়ে গেছে তাই না?
ঊষান মৃদু হেসে বলল,
~হ্যাঁ খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যাচ্ছে।
নুহা দূরের আকাশের দিকে তাকাল।
~মাঝে মাঝে মনে হয় সেদিনগুলো যেন অন্য কারও জীবন ছিল।
ঊষান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল তারপর বলল,
~কিন্তু আমি ভুলিনি।
নুহা তার দিকে তাকাল।
~কী?
ঊষান শান্ত গলায় বলল,
~তুই প্রথম যেদিন আমাকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলি।
নুহা কিছু বলল না। শুধু মৃদু হাসল।
বিকেলে উষারা ঘুম থেকে উঠে আবার ছুটে এলো। তার হাতে একটা ছবি। ছবিটা সে নিজেই এঁকেছে তিনজন মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। একজন বাবা, একজন মা আর মাঝখানে একটা ছোট্ট মেয়ে।উষারা গর্বের সঙ্গে ছবিটা মায়ের হাতে দিয়ে বলল,
~এটা আমাদের পরিবার।কিন্তু একটা ভাই কেনো নেই আমাদের পরিবারে বাবা।
ঊষান মেয়ের গোমড়া মুখ দেখে হাসলো। ওরা আরও একটা সন্তান এর জন্য চেষ্টা করেছিলো কিন্তু আল্লাহ না দিলে করার কিছু নাই আর নুহার ফের প্রেগনেন্সি তে অনেক সমস্যা হবে বলে ঊষান থেমে গেছে ওর কাছে সবার আগে ওর পিচ্চি পাখি কিনা!
এদিকে নুহা ছবিটার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।তারপর মেয়েকে কাছে টেনে নিয়ে মেয়ের গালে চুমু খেলো।
ঊষানও পাশে এসে দাঁড়াল।ছবিটা খুব সুন্দর ছিল না। আঁকাগুলোও ছিল শিশুসুলভ। কিন্তু তাদের কাছে সেটাই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ছবি।কারণ ছবিটাতে ছিল তাদের পুরো জীবন।একটা কঠিন শুরু অনেক ভুল অনেক অভিমান তারপর ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া বিশ্বাস আর শেষে একটা ছোট্ট পরিবার।
সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছে। সোনালি আলোয় তিনজনের ছায়া বারান্দার মেঝেতে পাশাপাশি পড়েছে।নুহা মাঝখানে দাঁড়িয়ে। এক পাশে ঊষান, অন্য পাশে ছোট্ট উষারা।
★ ★ ★ ★ ★
আবার নতুন একটা সকাল সূর্যের আলো জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরে ঢুকল। উষারা ঘুম থেকে উঠে মায়ের কাছে ছুটে গেল। কিছুক্ষণ পর বাবার কাছেও গেল। ছোট্ট পায়ের শব্দে বাড়িটা আবার প্রাণ ফিরে পেল।নুহা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ঊষান আর উষারার দিকে তাকিয়ে রইল।
ঊষান মেয়েকে কোলে নিয়ে হাসছিল।নুহার মনে হলো, এই দৃশ্যটাই হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
একটা সময় সে ভেবেছিল তার জীবনে সুখ বলে কিছু নেই। কিন্তু জীবন কখনো কখনো মানুষের ধারণার চেয়েও সুন্দরভাবে সবকিছু সাজিয়ে দেয়।ঊষান তার জীবনে এসেছিল ঝড় হয়ে।তারপর সেই ঝড়ই একদিন হয়ে উঠেছিল আশ্রয়।আর উষারা হয়ে উঠেছিল সেই আশ্রয়ের সবচেয়ে সুন্দর আলো।নুহা ধীরে ধীরে তাদের কাছে এগিয়ে গেল। ঊষান এক হাতে উষারাকে ধরে অন্য হাতটা বাড়িয়ে দিল নুহার দিকে।নুহা তার হাতটা ধরল।শুধু তিনজন মানুষ একটা ছোট্ট পরিবার, যারা অবশেষে নিজেদের মতো করে সুখ খুঁজে পেয়েছে।
নুহা কে আজ প্রচন্ড সুন্দর লাগছে যেন সদ্য ফোটা কোনো ফুল। ঊষান নুহাকে আরও একটু কাছে টেনে নিয়ে ফিসফিস করে ওর কানের কাছে বললো,
~নুহা শুধু #তুই_আমার!!এই স্বল্প দিনের জীবনে তুই আমার একমাত্র সুখ আর তোর আর আমার অংশ আমার শান্তি!!ভালোবাসি পিচ্চি পাখি ভালোবাসি আমার রাজকন্যার আম্মা!!
নুহাও ঊষানের দিকে তাকিয়ে বললো,
~আমিও খুব বেশি ভালোবাসি আমার প্রিয় পুরুষ আমার মেয়ের বাবা তোমাকে খুব বেশি ভালোবাসি।।
আর কি চাই বেরিয়ে পড়লো তিনজন কারণ এখনো যে তিনজন কে একসাথে অনেক কিছু উপভোগ করতে হবে। দেশে বিদেশে কত সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে এখন সেগুলোই এই তিন পৃথিবী একসাথে উপভোগ করতে বেরিয়ে পড়লো!!
~সমাপ্ত~
~”শেষ হয়েও হইলো না শেষ”~
আজকের সমাপ্তি পর্ব লিখতে গিয়ে আমার খুব খারাপ লাগছিলো, এমন অনুভূতি আগে কোনো গল্পের সমাপ্তি লিখতে গিয়ে হয় নাই। যাই হোক সবাই সুন্দর একটা রিভিউ দিও গল্পটা নিয়ে এটুকু চাওয়া।আল্লাহ হাফেজ সবাইকে ভালো থাকো সুস্থ থাকো আর আমার জন্য দোয়া রেখো বাচ্চারা।

