#ভালোবাসার_অধিকার❤❤
লেখা- পূজা
পর্ব- ২৬&২৭
।
।
রাতে,,
দ্বীপ বাসায় ফিরতেই দ্বীপের বাবা মা দ্বীপকে রুমে ডেকে পাটান। দ্বীপ আর ওর রুমে না গিয়ে ওর বাবার রুমেই গেলো।
দ্বীপ: বলো কি বলবে।
দ্বীপের বাবা: আমি ভাবছিলাম একটা রিসেপশন পার্টির অর্গানাইজ করলে কেমন হয়। তোমাদের বিয়ের কথা তো কেউ জানে না।
দ্বীপ: রিচুয়াল মতে তো কাল রিসেপশন।
দ্বীপের বাবা: হুম।
দ্বীপ: একদিনে কি সব এরেইন্জমেন্ট করতে পারবো।
দ্বীপের বাবা: পারবো। এটা নিয়ে তোমায় চিন্তা করতে হবে না।
দ্বীপ: ওকে। বাট আমায় কাল অফিসে যেথে হবে।
দ্বীপের বাবা: আমি একা সব পারবো নাকি।
দ্বীপ: ঈশান তো বাসায়ই থাকবে। ওকে নিয়ে করবে। বাট আমি পারব না।
দ্বীপের বাবা: ওকে। তুমি তোমার অফিসের সব ইমপ্লয়িদের বলে দিও। আর আমি আত্বিয়দের ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছি।
দ্বীপ:ওকে।
দ্বীপ ওর বাবার রুম থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে গেলো। গিয়ে দেখে অনু বিছানায় পায়ে হাত দিয়ে বসে আছে। আর শাড়ি অর্ধেক পরেছে আর অর্ধেক ফ্লোরে।
দ্বীপ: এটা কি?
দ্বীপের কথা শুনে অনু দ্বীপের দিকে তাকালো। চোখ ছলছল করছে। দ্বীপ গিয়ে অনুর পাশে বসলো।
দ্বীপ: তুমি কাদছো কেনো। কি হয়েছে?
অনু: শাড়ি পরেছিলাম। হাটতে গিয়ে হোচট খেয়ে পরেগেছি। খুব ব্যাথা করছে😥।
দ্বীপ: 😐তোমায় কে বলেছে শাড়ি পড়ার জন্য। দেখি পা।
অনু: না না লাগবে না। পা ধরতে পারে না। পাপ হবে আমার।
দ্বীপ: সাট আপ। হাত সরাও।
অনু: বলছি না লাগবে না। তুমি গিয়ে ফ্রেস হয়ে এসো যাও।
দ্বীপ: 😡তুমি হাত সরাবে কিনা বলো।
অনু দ্বীপের রাগি লুক দেখে হাত সরিয়ে নিলো। পা দ্বীপের সামনে নিয়ে আসলো। গুরালির সাইড কালো হয়ে গেছে। দ্বীপ ড্রয়ার থেকে মলম এনে লাগিয়ে দিলো।
দ্বীপ: এই শাড়ি চেন্জ করো। আর ড্রেস পরো। আমি ফ্রেস হয়ে আসছি।
অনু: 😏ওকে।
দ্বীপ: 😐আবার ভেংচি কাটলে একটা থাপ্পড় দিবো।
অনু: 😏(সাথে সাথে অনু আবার মুখে হাত দিয়ে দেয়।) সরি সরি আর হবে না।
দ্বীপ মুচকি হেসে ওয়াশরুমে চলে গেলো। অনুও শাড়ি চেন্জ করে নিলো। দ্বীপ ফ্রেস হয়ে এসে বিছানায় বসলো।
দ্বীপ: কাল রিসেপশন।
অনু: হবে।
দ্বীপ: হুম। কেউ তো আমাদের বিয়ের ব্যাপারে জানে না। জানাতে হবে না।
অনু: মা বাবাকে ফোন করে বলে দেই।
দ্বীপ: হুম দাও।
অনু ওর মা বাবার সাথে কথা বলে দিয়ার রুমে যায়। গিয়ে দেখে দিয়া জানালার কাছে বসে আছে আর বাইরে তাকিয়ে আছে।
অনু: এভাবে বসে আছিস কেনো?
দিয়া: তুই!
অনু: হুম। মন খারাপ?
দিয়া: আরে না মন খারাপ হতে যাবে কেনো?
অনু: তাহলে এভাবে বসে আছিস কেনো?
দিয়া: এমনি।
অনু: তকে আমি চিনি। তো মিথ্যে বলিস না।
দিয়া: এসব বাদ দে। ভাইয়া এসেছে।
অনু: হুম। কাল রিসেপসন এর পার্টি। সবাইকে ফোন দিয়ে জানিয়ে দে।
দিয়া: আচ্ছা। মেসেজ করে দেবো।
অনু: চল নিচে।
।
।
পরেরদিন,,
দিয়া অনুকে নিয়ে শপিং করতে বেরিয়েছে। রাতে পরার জন্য। আর ফোন করে তিথি সিমি মায়রাকে ও জানিয়ে দিয়েছে আসার জন্য। শপিংমলে ডুকেই দেখতে পেলো প্রহর আর সিমি দারিয়ে আছে আর ওদের সাথে আর একটা মেয়ে ও আছে।
দিয়া: (মেয়েটা আবার কে। বাহ! কি হেসে হেসে কথা বলছে দেখো। লুচু ছেলে।)
দিয়া আর অনু সিমি আর প্রহরের দিকে এগিয়ে গেলো।
অনু: তিথি আর মায়রা কোথায়?
সিমি: আমি তো ভাইয়ার সাথে এসেছি। ওদের ফোন দিয়েছিলাম বলেছে আসছে।
দিয়া: উনি কে?
প্রহর: তা জেনে তুমি কি করবে?
দিয়া: 😐
সিমি: উনার নাম ইরা। ভাইয়ার সাথেই জব করে। ভার্সিটির নিউ টিচার।
দিয়া: 😏ভালো।
প্রহর: congratulation অনু। নতুন জীবনের জন্য।
অনু: থ্যাংকস স্যার।
ইরা: প্রহর চলুন আমরা যাই। সিমি তো ওদের সাথেই এখন যাবে।
প্রহর: হুম। চলো।
দিয়া: কোথায় যাবেন🤨
প্রহর: তা জেনে তুমি কি করবে?
দিয়া: করবো আপনার মাথা😡।
প্রহর: 😡
অনু দিয়ার হাত ধরে টেনে এখান থেকে নিয়ে চলে যায়। আর একটু থাকলে ঝগড়া বাধিয়ে দিতো। দিয়া একবার পিছনে ঘুরে প্রহর আর ইরাকে দেখে নেয়। প্রহর দিয়ার দিকেই তাকিয়ে ছিলো।
ইরা: ও কে? এভাবে কথা বললো কেনো?
প্রহর: ও এইভাবেই কথা বলে। চলো।
শপিংমলে ডুকে অনু দিয়াকে বলে,”তর প্রবলেমটা কি বল তো। উনার সাথে ঝগড়া না করলে কি তর দিন যায় না।”
দিয়া: ঠিক বলছিস।
অনু: 😐
সিমি: জেলাস।
দিয়া: মানে?
সিমি: ভাইয়াকে ওই মেয়েটার সাথে দেখে তুই জেলাস ফিল করেছিস। আমি তর মুখ দেখেই বুঝেছি।
দিয়া: তর মাথা ঠিক আছে।
অনু: ওই তো তিথি আর মায়রা এসে গেছে।
তিথি: হাই গাইজ।
দিয়া: এত লেইট হলো কেনো?
মায়রা: গাড়ি পাচ্চিলাম না।
সিমি: এখন জলদি কাপড় দেখ। বাসায় ফিরতে হবে।
অনু: না তরা আমাদের সাথেই যাবি।
মায়রা: ওই না। সন্ধ্যার আগে চলে যাবো।
দিয়া: ওকে।
অনুর জন্য লেহেঙ্গা আর দিয়া তিথি সিমি মায়রা ওরা নিজেদের জন্য ড্রেস কিনলো। অনু দ্বীপের মা বাবা দ্বীপ আর ঈশানের জন্য ও কাপড় কিনলো। তিথি আবিরের জন্য মায়রা অভির জন্য আর সিমি শুভ আর প্রহরের জন্য শার্ট কিনলো। সব কিনে ওরা বাসায় চলে গেলো।
সন্ধ্যার আগেই তিথি সিমি মায়রা চলে আসে ওদের বাসায়। মায়রা অনুকে রেডি করাচ্ছে আর বাকিরা বসে বসে গল্প করছে। কথা বলার মধ্যেই দিয়া নদীকে ভিডিও কল দেয়।
দিয়া: তুই কখন আসবি।
নদী: মৃনাল আর আমি এক সাথে টাইম মতো চলে আসবো। কায়ার বাসায় ও যাওয়ার জন্য বলেছে।
অনু: তকে কিন্তু এখানেই আসতে হবে।
নদী: অবশ্যই আসবো। কায়াকে একটু দেখেই চলে আসবো।
তিথি: জলদি আসবি।
নদী: ওকে। অনু তকে তো দারুন লাগছে। আজ দ্বীপ তো তকে দেখে সেন্স হারাবে।।
অনু: 😏
মায়রা: যা বলেছিস😂
দিয়া: আমাদের সুন্দর লাগছে না😡
নদী: এটা কখন বললাম। তদের ও দারুন লাগছে। আচ্ছা এখন রাখি ফোন। মৃনাল তাড়া দিচ্ছে। রেডি হয়ে নেই। তদের এখানে তো জলদি আসতে হবে।
দিয়া: ওকে। বাই।
তিথি: রোদভাইয়া আমাকে যেথে বলেছিলো ওদের বাসায়। তদের জন্য যেথে পারি নি। রাগ করবে। মা আর বাবা গেছে।
অনু: রোদ তো আমায় অনেক ভয় পাইয়ে দিছিলো। এই ভাবে কেউ রুম থেকে টেনে নিয়ে যায়। আমি তো ভাবছিলাম সত্যি বিয়ে করে নেবে।
সিমি: 😂এত ভয় পেয়েছিলি সেন্সই হারিয়ে ফেললি।
অনু: তুই আমার জায়গায় থাকলে বুঝতি।
সিমি: 😏
এদিকে,
দ্বীপ ঈশানের রুমে রেডি হচ্ছে। আর ঈশান বসে বসে ফোনে গেইম খেলছে।
দ্বীপ: আবির শুভকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস কর কখন আসবে। তুই বাচ্চাদের মত গেইম খেলছিস কেনো?
ঈশান: ওহো। ওরা এসে গেছে। নিচে আছে। কারো সাথে হয়ত কথা বলছে। চলে আসবে এখনি উপরে।
দ্বীপ: বাসায় গেস্ট আসা শুরু করে দিছে। তুই গিয়ে দেখ।
ঈশান: আমি ও তদের বাসার গেস্ট। আমাকে কাজ করতে বলছিস। লজ্জা করে না তর।
দ্বীপ: 😐তুই এই বাড়ির ছেলে। চুপচাপ নিচে যা। আমি আসছি।
আবির ভেতরে ডুকতে ডুকতে বলে,”তুই এখনো রেডি হস নি।”
দ্বীপ: তদের এত লেইট হলো কেনো আসতে।
শুভ: লেইট হয় নি ঠিক টাইমেই এসেছি। নিচে ছিলাম।
অভি: ঈশান তুই এখানে বসে ফোন টিপছিস। নিচে গেস্টদের দেখার মানুষ নেই।
ঈশান: তরাই তো ছিলি।
শুভ: তকে ও লাগবে চল।
দ্বীপ: প্রহর আসে নি এখনো।
অভি: আংকেল আন্টির সাথে আসবে।
দ্বীপ: ওকে চল।
নিচে গিয়ে সব গেস্টদের ওরা ওয়েলকাম করলো। কিছুক্ষণ পরেই অনুর মা বাবা চলে আসেন। দ্বীপের বাবা গিয়ে অনুর বাবাকে জরিয়ে ধরলেন।
দ্বীপের বাবা: কেমন আছেন?
অনুর বাবা: মেয়ে চলে গেছে। কিভাবে ভালো থাকবো। একটাই তো মেয়ে আমাদের।
অনুর মা: অনু কোথায়?
দ্বীপের মা: দিয়া সিমি নিয়ে আসছে অনুকে।
অনুর বাবা: দ্বীপ কোথায়?
দ্বীপের বাবা: এইতো সামনে। ঈশান।
ঈশান: জি আংকেল।
দ্বীপের বাবা: দ্বীপকে বলো আসতে।
ঈশান: ওকে।
ঈশান গিয়ে দ্বীপকে ডেকে আনলো। দ্বীপ এসে অনুর বাবাকে জরিয়ে ধরলো।
দ্বীপ: কেমন আছেন আংকেল?
অনুর বাবা: আংকেল কি। বাবা বলো। আমি তোমার বাবার মতই তো। আমার কোনো ছেলে ও নেই।
দ্বীপ: ওকে ড্যাড ডাকবো।
অনুর বাবা: ওকে।
অনুর মা: অনুর সব দায়িত্ব এখন তোমার। ওকে তোমার হাতে তুলে দিয়েছি। কখনো কষ্ট দিও না আমার মেয়েকে। খুব ভালোবাসে ও তোমাকে।
দ্বীপ: আমি জানি মম। আমি ও ওকে খুব ভালোবাসি। কিছু প্রবলেম এর জন্য ওকে কষ্ট দিতে হয়েছে। আর দেবো না।
অনুর মা: সব বলেছে দিয়া আমাদের। প্রথমে তোমার উপর খুব রেগে ছিলাম। সব জানার পর আর রেগে নেই।
দ্বীপের মা: আমি তো ভাবতে ও পারি নি। নেহা এমন একটা কাজ করবে।
অনুর মা উপরে তাকিয়ে দেখেন অনুকে নিয়ে ওরা আসছে।
অনুর মা: ওই তো অনু।
সবাই অনুর মায়ের কথায় ওদিকে তাকালো। খুব মানিয়েছে লেহেঙ্গাটায় অনুকে। অনু ওর মা বাবাকে দেখে দৌড়িয়ে ওদের কাছে এসে ওর মাকে জরিয়ে ধরে কেদে দিলো। অনুর মাও কেদে দিলেন।
অনুর বাবা: আমাকে ভুলে গেলে।
অনু ওর মাকে ছেড়ে ওর বাবাকে জরিয়ে ধরে।
অনু: আই মিস ইউ।
অনুর বাবা: মিস ইউ টু।
দ্বীপের মা: কান্না বন্ধ করো। একটা আনন্দের অনুষ্টানে এভাবে কেউ কাদে।
মায়রা: অনু কান্না বন্ধ কর। কাজল লেপ্টে যাবে।
অনু ওর চোখের জল মুচে নিলো।
দ্বীপের বাবা: অনুকে নিয়ে ওখানে বসাও।
দিয়া অনু আর দ্বীপকে নিয়ে গিয়ে পাশাপাশি চেয়ারে বসালো। দ্বীপ অনুর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,”উপপ তোমাকে যা হট লাগছে না। মনে আগুন জ্বালিয়ে দিলে।”
অনু: ছিঃ! লুচু ছেলেদের মতো কথা বলছো কেনো?
দ্বীপ: রিয়েলি বলছি। আমার তো হিংসে হচ্ছে। দেখো কতো মানুষ তোমার দিকে তাকিয়ে আছে।
অনু: হয়েছে। এবার চুপ থাকো।
দ্বীপ: কেনো?
দিয়া: ভাইয়া রুমে গিয়ে যত ইচ্ছা প্রেম করিস এখন চুপ থাক। গেস্টরা আসবে বউ দেখতে।
দ্বীপ: 😐
দ্বীপ উঠে এখান থেকে আবির অভি ওদের কাছে চলে গেলো। দ্বীপের অবস্থা দেখে ওরা হাসছে। প্রহর আর ওর মা বাবা এসেছেন। দ্বীপের বাবা উনাদের বসালেন উনি ও বসলেন। প্রহর চলে গেলো দ্বীপদের কাছে। গেস্টরা এসে নতুন বউ দেখে যাচ্ছেন আর গিফট দিচ্ছেন।
প্রহরের মা: হঠাৎ করে তো দ্বীপের বিয়েটা হয়ে গেলো। সামনে প্রিয়া আর শুভর ও বিয়ে। আমরা ভাবছিলাম দিয়া আর প্রহরের বিয়েটা ও যদি এক সাথে দেওয়া যায়। প্রিয়া চলে গেলে বাড়িটা ফাকা হয়ে যাবে।
দ্বীপের মা:কথাটা ভুল বলিস নি।
দ্বীপের বাবা:আমার কোনো আপত্তি নেই। দ্বীপ আর দিয়ার সাথে কথা বলে দেখবো।
প্রহরের বাবা: সব ঠিক থাকলে বিয়ের ডেইটটা ও ফিক্সড করে দেওয়া যাবে।
দ্বীপের বাবা: ওই তো শুভর বাবা মা চলে এসেছেন।
দ্বীপের বাবা গিয়ে উনাদের নিয়ে এনে বসালেন পাশে।
শুভর বাবা: কেমন আছিস?
প্রহরের বাবা: ভালো। তদের নিয়েই কথা হচ্ছিলো।
শুভর বাবা: কি?
প্রহরের বাবা: শুভ আর সিমির বিয়ের সাথে প্রহর আর দিয়ার বিয়েটাও দিয়ে দিতে চাই।
শুভর বাবা: এটা তো খুব ভালো কথা।
দ্বীপের বাবা: হুম। ভালো দেখে একটা বিয়ের ডেইট ঠিক করোন।
শুভর বাবা: তা তো করবোই।
প্রহর উনাদের কাছেই আসছিলো। বাট উনাদের কথা শুনে দারিয়ে যায়। প্রথমে শুনে খুব খুশিই হয়েছিলো। বাট দিয়ার কথা মনে হতেই মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। প্রহর দিয়ার দিকে একবার তাকায় আর ভাবে,”দিয়া মানবে তো এই বিয়ে। সত্যিই কি ও ঈশানকে ভালোবাসে না আমাকে রাগানোর জন্য বলেছে। কবে বুঝবে তুমি আমাকে। খুব ভালোবাসি দিয়া তোমাকে প্লিজ ফিরিয়ে দিও না।”
মৃনাল আর নদী এসেছে। মৃনাল দ্বীপের কাছে গিয়ে পিছন থেকে দ্বীপের পিটে একটা থাপ্পড় দিলো।
দ্বীপ:😐এটা কি হলো।
মৃনাল:তদের জন্য এত কষ্ট করলাম একটা থ্যাংকস ও দিলি না।
আবির:২দিন ধরে অফিসে আসিস না কেনো?
মৃনাল: অভিকে ফোন দিয়ে তো বলেছিলামই আসবো না। তদের ফোন দেওয়ার টাইম পাই নি। একটু বিজি ছিলাম।
অভি:সরি ভুলে গেছিলাম।
শুভ:নদী কোথায়?
মৃনাল:ওদিকে গেছে। তা দ্বীপ কি কি করলি।
দ্বীপ: কিসের কথা বলছিস🤨
মৃনাল:বাসর রাতের কথা😜।
দ্বীপ:অনু তর ছোট বোন হয়।
মৃনাল:তো কি হয়েছে? তুই তো ফ্রেন্ড😜
দ্বীপ: 😐
নদী অনুদের কাছে গিয়ে সবাইকে জরিয়ে ধরলো। তারপর অনুর চেয়ারের হেন্ডেল এ বসে বললো,”বাহ কি খুশি লাগছে। তা এত খুশি হওয়ার কারন কি? কি কি করেছিস😉”
অনু: তুই জানিস না। তকে ও বলতে হবে। তর জায়গায় ওরা বললেও ঠিক ছিলো।
সিমি:তা ঠিক। আমদের তো বিয়ে হয় নি। তাই এত কিছু বুঝি না😒।
তিথি:ডোন্ট ওরি জানু তোমার বিয়ে ও খুব জলদি হয়ে যাবে। তখন বুঝে নিও।
মায়রা:তদের একটা কথা জানানো হয় নি।
দিয়া: কি?
মায়রা:আমি আমাদের ভার্সিটিতে জবের এপলাই করেছি। পরশু ইন্টারভিউ।
দিয়া:কি? আমাকে বললি না কেনো? আমি ও করতে চেয়েছিলাম।
মায়রা:তুই জব করে কি করবি?
দিয়া:বাসায় ভালো লাগে না।
অনু: আমাকে বাসায় একা রেখে তকে জব করাচ্ছি😐
নদী: জব পেলে ট্রিট দিবি।
মায়রা: তুই দিয়েছিলি।
নদী: 😒
।
।
চলবে?
#ভালোবাসার_অধিকার❤❤
লেখা-অনু
পর্ব-২৭
।
।
খাওয়া দাওয়ার পর সব গেস্টরা চলে যান। অনুর বাবা মা ও দ্বীপের হাতে অনুকে আবার তুলে দিয়ে চলে যান। এবার ও খুব কান্নাকাটি করেছেন উনারা। দিয়া অনুকে নিয়ে উপরে চলে যান। অনুর কাদতে কাদতে হেচকি উঠে গেছে।সিমি মায়রা ওদের ফ্যামিলির সাথে বাসায় চলে যায়। আবির তিথিকে রোদের বাসায় ড্রপ করে দিয়ে নিজের বাসায় চলে যায়।
দ্বীপ রুমে এসে দেখে অনু বালিশে মুখ গুজে কাদছে।
দ্বীপ: কি হলো। কাদছো কেনো? তোমার বাবা মাকে কথা দিয়েছি তোমার চোখে জল আসতে দেবো না। তুমি কি চাও সেটা ভেঙ্গে যাক।
দ্বীপ গিয়ে অনুর পাশে বসলো। আর অনুকে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে এসে জরিয়ে ধরলো। মাথায় একটা কিস করলো।
দ্বীপ:কান্না বন্ধ করো। যাও ফ্রেস হয়ে এসো।
অনু:মা বাবাকে ছেড়ে অনেকদিন থেকেছি। খুব কষ্ট ও হত তখন। আজ একটু বেশিই হচ্ছে।
দ্বীপ: তখন তো জানতে ২দিন পর আবার তাদের কাছে থাকতে পারবে। বাট এখন তো জানো পারবে না তাই কষ্ট হচ্ছে। আমি কথা দিচ্ছি প্রতিদিন তোমাকে তাদের কাছে নিয়ে যাবো। বাসা তো এত দূর না যে যেথে পারবে না। এখন কান্না বন্ধ করো।
অনু:হুম।
দ্বীপ অনুকে কোলে করে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলো। গিয়ে হাত মুখ নিজেই ধুইয়ে দিলো। তারপর আবার কোলে করে রুমে নিয়ে এলো। এনে বিছানায় শুয়ালো।
।
।
পরেরদিন,
দ্বীপ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে রেডি হচ্ছে আর অনু বিছানায় বসে বসে নক কামরাচ্ছে আর দ্বীপকে দেখছে।
দ্বীপ: এই ভাবে তাকিয়ে কি দেখছো।
অনু:আমার বরকে😏
দ্বীপ:এভাবে দেখার কি আছে। কোনো দিন দেখো নাই।
অনু:না।
দ্বীপ:😐
অনু:অফিসে মেয়ে স্টাপ আছে।
দ্বীপ:হুম আছে। থাকবে না কেনো?
অনু:পিএ ও মেয়ে।
দ্বীপ:সবার পিএ তো মেয়েই থাকে।
অনু:এই কারনেই এতো সুন্দর হয়ে সেজে অফিসে যাও তাই না😡।
দ্বীপ:এসব কি বলছো।
অনু:ঠিকই বলছি। কোন পেত্নিকে দেখাতে যাও।
দ্বীপ: সব ওয়াইফদের এক প্রবলেম। তার হাজবেন্ডকে সন্দেহ করা।
অনু:😒আমি তোমায় সন্দেহ করি না। আমি জানি তুমি আমায় ছাড়া অন্যকারো দিকে তাকাবে না।
দ্বীপ:তাহলে এসব বলার মানে কি?
অনু:ইচ্ছে হলো।
দ্বীপ গিয়ে অনুর কপালে কিস করলো তারপর বললো,”সন্ধ্যায় রেডি থেকো। এক জায়গায় নিয়ে যাবো।”
অনু:কোথায়?
দ্বীপ:গেলেই দেখতে পারবে। এখন আসি বাই।
দ্বীপ চলে গেলো অফিসে। দ্বীপ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঈশান রুমে ডুকলো।
ঈশান:হাই কিউটি। উয়াটস আপ?
অনু:ভালো লাগছে না একা।
ঈশান:আমার ও। তাই তোমার কাছে এলাম। তোমার ডায়নি ননদ কোথায়। ওর রুমে তো নেই।
অনু:তাহলে হয়ত ছাদে গেছে।
ঈশান:হুম হতে পারে।
অনু আর ঈশান আরো অনেক গল্প করলো। ঈশান ওর ফ্যামিলির ব্যাপারে কথা বললো। ইউএস থাকতে কি কি করেছে এগুলো ও বললো।
অনেকক্ষণ গল্প করার পর ঈশানের ফোনে একটা কল আসলো বাইরে যেথে হবে। তাই ও চলে গেলো।
অনু গেলো দিয়ার রুমে গিয়ে দিয়ার সাথে অনেকক্ষণ গল্প করলো।
সন্ধ্যায়,,
দিয়া অনুর রুমে গিয়ে বলে,”ভাইয়া ফোন দিয়েছিলো। তুই এখনো রেডি হস নি। এখনি তো চলে আসবে।”
অনু:কি পরবো বুঝতেছি না।
দিয়া:আমি মাকে ডেকে আনছি। শাড়ি পরবি। ভাইয়া খুশি হবে।
অনু: ওকে।
দিয়া ওর মাকে ডেকে আনলো। উনি অনুকে শাড়ি পরিয়ে দিলেন। অনু রেডি হওয়ার একটু পরই দ্বীপ বাসায় আসলো। দ্বীপ রুমে ডুকে হা হয়ে তাকিয়ে আছে।
দ্বীপ:ওয়াও। আর কত পাগল করবে।
অনু:ধ্যাত🙈। যাও জলদি ফ্রেস হয়ে নাও।
দ্বীপ আস্তে অস্তে অনুর দিকে এগিয়ে গেলো গিয়ে অনুর দু গালে হাত দিয়ে আলতো করে ওর কপালে একটা কিস করলো। তারপর চলে গেলো ফ্রেস হতে। দ্বীপ ফ্রেস হয়ে এসে রেডি হয়ে নিলো।
দ্বীপ:চলো।
অনু:কোথায় নিয়ে যাবে।
দ্বীপ:সারপ্রাইজ।
অনু:😒
দ্বীপ অনুর হাত ধরে নিচে নিয়ে আসলো। ওর মা আর দিয়াকে বলে চলে আসলো। দ্বীপ ড্রাইভ করছে আর অনু বাইরে তাকিয়ে আছে। দ্বীপ ওর এক হাত দিয়ে অনুর এক হাত ধরলো। অনু ঘুরে দ্বীপের দিকে তাকালো।
দ্বীপ:আর একটু চলে এসেছি।
অনু:😏
দ্বীপ কিছুক্ষণ পর গাড়ি থামালো আর অনুর চোখ বেধে দিলো।
অনু:এটা কি করছো? আমি যাবো কি করে।
দ্বীপ:আমি আছি না।
দ্বীপ অনুকে কোলে তুলে নেয়। কিছুক্ষণ হাটার পর দ্বীপ অনুকে নিচে নামিয়ে দেয়। আস্তে করে চোখের পট্টি খুলে। অনু সামনে তাকাতেই”অয়ন”বলে জরিয়ে ধরে।
অনু:তুই কখন দেশে আসলি।
অয়ন:আজই। জিজুর সাথে কন্ট্রাক করে।
অনু:আমাকে জানালিও না।
অয়ন:তকে সারপ্রাইজ দেবো বলে জানায়নি।
অনু:মা বাবা জানে।
অয়ন:না মামনি জেটু কাউকে বলি নি। এখন তদের নিয়েই বাসায় যাবো। আর ওদের সারপ্রাইজ দেবো।
অনু:কেমন আছিস? কতো শুকিয়ে গেছিস।
অয়ন:তুই যত্ন করে আবার মোটা করে দিস।
অনু:অবশ্যই।
দ্বীপ:যা বাবা। ভাইকে পেয়ে আমায় ভুলে গেলে।
অনু ঘুরে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে বলে,”হু আর ইউ?”
এটা বলেই অয়ন আর অনু ২জনেই এক সাথে হেসে দেয়।
দ্বীপ:হুম এখন তো বলবেই কে আমি।
অয়ন:দিভাই তর জন্য আর একটা সারপ্রাইজ আছে।
অনু:কি?
অয়ন একটা বক্স বের করলো আর অনুর হাতে দিলো। অনু বক্সটা খুলে দেখলো একটা চেইন আর লকেট। লকেটটা খুললো। একদিকে অনুর পিক অন্যদিকে দ্বীপের খুব সুন্দর লকেটটা আর চেইনটাও।
অয়ন:কেমন লাগলো।
অনু:দারুন।
দ্বীপ:এবার চলো যাই বাসায়।
অয়ন:চলো।
অনু:বাসায় তো বলে আসি নি আমার বাসায় যাবো।
দ্বীপ:মা দিয়া ওরা জানে। আমি বলেছি। শুধু তোমাকে জানাতে বারন করেছিলাম।
অনু:তাহলে চলো।
ওরা গিয়ে গাড়িতে বসলো।
(অয়ন অনুর ছোট কাকুর ছেলে। অয়ন এর মা বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। ওর বাবা মারা যান গাড়ি ব্রেকফেইল করার ফলে। আর অয়ন এর মা ওর বাবার মৃত্যুটা মেনে নিতে পারেন নি। তাই স্টক করে মারা যান। তারপর থেকেই অনুর বাবা মা অয়নকে নিজেদের ছেলের মতো মানুষ করেন। অয়ন দেশের বাইরে থেকে পড়াশুনা করে। অনুর বিয়ের খবর শুনে আসতে চেয়েছিলো। বাট কিছু প্রবলেম এর জন্য আসতে পারে নি।)
১ঘন্টার পর ওরা অনুর বাসায় পৌছে যায়। অনুর মা বাবা কেউ জানেন না ওরা আজ আসবে। অনু গিয়ে কলিংবেল বাজায়। অনুর মা এসে দরজা খুলে দেন। অনুকে দেখে তিনি অনেক অবাক হন।
অনুর মা: তুই?
অনু:হুম। কেনো আসতে পারি না।
অনুর মা:এটা কখন বললাম।
দ্বীপ সামনে এসে বলে,”আমি ও এসেছি।”
অনুর মা:জানালে না কেনো?
অনু:সারপ্রাইজ দেবো বলে। তোমার জন্য আর একটা সারপ্রাইজ আছে।
অনুর মা:কি?
অনু অয়নকে পিছন থেকে সামনে নিয়ে আসে। অয়নকে দেখে অনুর মা খুশিতে খেদে দেন। আর জরিয়ে ধরেন।
অনুর মা:কতদিন পর তকে দেখলাম। কেমন আছিস?
অয়ন:ভালো মামনি। তুমি কেমন আছো। আর জেটু?
অনুর মা: আমরা সবাই ভালো আছি। আয় ভেতরে।
ওরা সবাই ভেতরে গেলো। অনুর বাবা ড্রয়িংরুমে বসে ছিলেন। অনুর বাবা অয়নকে দেখে তিনিও অবাক হয়ে গেলেন। অয়ন গিয়ে অনুর বাবাকে জরিয়ে ধরে বললো,”কেমন আছো জেটু।”
অনুর বাবা:তুই। কবে কখন এলি। জানালি না কেনো? আমি তো অরিনকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম তুই কবে আসবি ও তো বললো এখন আসতে পারবি না।
অয়ন:আমিই ফুপিকে বলতে বারন করেছিলাম তোমাদের সারপ্রাইজ দেবো বলে।
অনুর বাবা:ভালো করেছিস এসে। কতদিন ধরে তকে দেখি নি।
অনুর মা:এতোটা জার্নি করে এলি। তুই গিয়ে ফ্রেস হয়ে নে। তর রুম যেমন রেখে গিয়েছিলি তেমনই আছে।
অনু:বাহ! অয়নকে পেয়ে তো দেখছি সবাই আমাকে ভুলে গেলে। বাবা তুমিও😒।
অয়ন:তুই এখন এই বাড়ির কেউ না। বিয়ে হয়ে পর হয়ে গেছিস। আমি এই বাড়ির ছেলে। আমাকে তো সবাই বেশি আদর করবেই।
অনু:😡
অনুর মা:ঝগড়া পরে করিস। প্রথম জামাই বাড়িতে এসেছে। কিছু স্পেসাল রান্না করতে হবে। সাথে ছেলে ও আছে। তোমরা ফ্রেস হয়ে এসো। আমি কিচেনে যাই।
অনু:আমি ও আসবো তোমার সাথে।
অনুর মা:তকে আর আসতে হবে না। দ্বীপকে নিয়ে তুই রুমে যা।
অনু:ওকে।
অয়ন ওর রুমে চলে গেলো। অনু দ্বীপকে নিয়ে ওর রুমে গেলো। আর অনুর মা রান্না করতে গেলেন।
অনু অয়নের দেওয়া চেইনটা বের করলো গলায় দেওয়ার জন্য। দ্বীপ চেইনটা নিজে নিয়ে পরিয়ে দিলো আর অনুর গলায় একটা কিস করলো।
অনু:আই লাভ ইউ দ্বীপ।
দ্বীপ:লাভ ইউ টু।
অনু:আজ ফাস্ট বললে😒
দ্বীপ:সব কিছু মুখে বলতে হয় না।
অনু:আই নো। তাই তো আমি বুঝেনিয়েছিলাম।
দ্বীপ:ইন্টালিজেন্ট গার্ল।
অনু:😁ইয়াহ্।
দ্বীপ:হুম নিচে চলো।
অনু দ্বীপের হাত জরিয়ে ধরে নিচে যায়। অয়ন আগেই নিচে চলে আসে। ওর বাবার সাথে গল্প করছে।
অনু:আমায় রেখেই গল্প শুরু করে দিছিস।
অয়ন:তুই আর এসব শুনে কি করবি।
অনু:😕
অনুর মা কিচেন থেকে এসে বলেন,”চলো খাবার রেডি। এতো বেশি রান্না করতে পারি না। সকালে ভালো কিছু রান্না করে খাওয়াবো।”
অয়ন:মামনি তুমি যাই রান্না করো এটাই আমার কাছে অমৃত। বেশি আইটেম এর প্রয়োজন নেই। অনেক দিন পর খাবো তোমার হাতের রান্না।
অনুর বাবা:চল।
সবাই গিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসলো। তারপর ডিনারটা করে নিলো। ডিনার সেরে যে যার রুমে গিয়ে শুয়ে পরলো।
সকালে,,
দ্বীপ রেডি হচ্ছে অফিসে যাওয়ার জন্য। আর অনু বিছানায় পা দুলিয়ে বসে বসে দেখছে।
অনু:দ্বীপ।
দ্বীপ:হুহ।
অনু:আজ না গেলে হয় না।
দ্বীপ:কেনো?
অনু:এমনি।
দ্বীপ:যেথে হবে। কাজ আছে। আমি অয়নকে বলে যাচ্ছি। বিকেলে ওকে নিয়ে তুমি বাসায় চলে যাবে।
অনু:আচ্ছা।
দ্বীপ অনুর কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে নিচে চলে যায়। দ্বীপের পিছু পিছু অনু ও আসে। দ্বীপ নীচে নেমে ব্রেকফাস্ট করে অফিসে চলে যায়। অনু অয়নের সাথে গল্প দুষ্টুমি এসব করে বিকেল করে দেয়।
বিকেলে অনু আর অয়ন চলে যায় বাসায়। বাসায় শুধু দিয়া আর দিয়ার মা।
দিয়া:বাহ! নিজের বাসায় গিয়ে তো আমাদের ভুলেই গেলি। একটা ফোন ও দিলি না।
অনু:😒তুই দিয়েছিলি।
দিয়া:আমি ভেবেছিলাম তুই দিবি।
অনু:আমি ও ভেবেছিলাম তুই দিবি।
দিয়া:😐
দিয়ার মা:তরা এখানে দারিয়েই কথা বলবি। ছেলেটা যে দারিয়ে আছে সেটা দেখছিস না। অয়ন বাবা বসো দারিয়ে আছো কেনো?
অয়ন:না আন্টি ঠিক আছে।
অনু:তুই ফ্রেস হয়ে নে। তারপর গল্প করা যাবে।
দিয়া:ঈশানের রুম দেখিয়ে দে।
অনু:আয় আমার সাথে।
অনু অয়নকে ঈশানের রুমে নিয়ে যায়। অয়ন ফ্রেস হয়ে নেয়। সবাই এক সাথে লাঞ্চ করে অনুর রুমে দিয়া অনু আর অয়ন গল্প করে।
দ্বীপ ৮টায় বাসায় ফেরে। সাথে ঈশান ও। ড্রয়িংরুমেই সবাই বসে ছিলো।
ঈশান:তো ও অয়ন রাইট?
দিয়া:হুম।
অয়ন:উনি?
দ্বীপ:আমার বেস্টফ্রেন্ড আর ভাই ও।
অয়ন:বুঝেছি। আমি তোমাকে ভাইয়া বলেই ডাকবো। ওকে।
ঈশান:ওকে।
অনু:তোমরা গিয়ে ফ্রেস হয়ে এসো।
ঈশান আর দ্বীপ চলে যায় উপরে ফ্রেস হওয়ার জন্য। ফ্রেস হয়ে ওরা নিচে আসে। তারপর সবাই মিলেই আড্ডা জুরে দেয়।
রাত ১০:৩০এ,,
দ্বীপের মা:খাবার রেডি খেতে এসো। আর দিয়া তুই তর বাবাকে ডেকে নিয়ে আয়।
দিয়া:ওক্কে।
দিয়া ওর বাবাকে নিয়ে আসে। সবাই একসাথে ডিনার করে নেয়। ডিনার সেরে ঈশান অয়নকে নিয়ে ওর রুমে চলে যায়। আর গল্প করে ঘুমিয়ে পরে।
অনু আর দ্বীপ ও রুমে চলে যায়। রুমে গিয়ে দ্বীপ অনুকে বললো,”ড্যাড দিয়ার বিয়ে নিয়ে ভাবছেন।”
অনু:এখন?
দ্বীপ:হুম। সিমি আর শুভর সাথেই প্রহর আর দিয়ার বিয়েটা দিয়ে দিতে চান।
অনু:দিয়া এসব জানে?
দ্বীপ:না তুমি কাল কথা বলো। আমি রাতে এসে ওর সাথে কথা বলবো।
অনু:আচ্ছা।
।
চলবে?🙄