আয়নায় বন্দী পরী পর্ব-২০

0
377

#আয়নায়_বন্দী_পরী
#লেখক_আকাশ_মাহমুদ
#পর্ব_২০

–স্বর্ণের চেয়ারে যে বসে আছে,সে আর অন্য কেউ না,সে হলো আমার যাত্রা পথের সঙ্গী এবং পরী-পালকের প্রধান দারোয়ান আতাউর!মাথা পুরো আউলে গেছে তাকে দেখে!আক্রমণাত্মক দৃশ্য ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছি দারোয়ান আতাউরের দিকে।তখনি সে আমায় বলে উঠে…

–কিরে জামিনী মানব,আমায় এই অবস্থায় দেখে বেশ অবাক হচ্ছিস বুঝি?

–তোর মতন ছদ্মবেশীকে দেখলে যে কেউ এই অবাক হবে।শুধু আমি একা নয়।

–থাক আর অবাক হতে হবে না।এখন তো আমার আসল রূপ দেখে নিয়েছিস।আর শোন আমিই এই কাকাতুয়ার আসল প্রভু।সবাই আমারই পূজা করে।আর তুই ও এখন আমার পূজা করতে শুরু কর।তাহলে প্রাণ নেওয়া থেকে খারিজ হয়ে যাবি তুই।

–তোর মতন শয়তানের পূজা আমি মরেও গেলেও করবো না।তাতে যদি আমার প্রাণ ও যায়,তাহলেও আমার কোনো আপত্তি নাই।কিন্তু সব কিছুর ভিড়ে আমার একটা জিনিস এই মাতায় ঢুকছে না,যে তুই এতো বড় ভনিতা কি কারনে করলি!আর কি কারনেই বা এতো বড় গেমটা খেললি!

–তাহলে তোর অবশ্যই মরতে হবে।আর তোকে মারার আগে তোর সব কয়টা কৌতূহল আমি দূর করছি।
তোর কৌতূহলের প্রথম ধাপ হচ্ছে আমি কেন এমনটা করেছি।তাহলে শোন”আমি এমনটা করার কারন হচ্ছে পরী-পালককে নিজের দখলে করে নেওয়া।কাকাতুয়ার আশেপাশের সবাই আমার পূজা করে।কিন্তু পরী-পালকের লোকজন এই আছে,যারা কিনা আমার পূজা না করে অন্যের পূজা করে।তাই আমি নিজের রূপ পরিবর্তন করে পরী-পালকে গিয়ে কৌশলে পরী-পালকের দারোয়ানের দায়িত্বটা নেই।পরী-পালকের পূর্ব পুরুষ’রা আমায় ধরতেও পারেনি,যে আমি তাঁদের পরী-পালকের লোক নই।এমন ছদ্মবেশ নিয়েই পরী-পালকে প্রবেশ করেছি আমি।আর তোর সাথে দারোয়ান যাকে দেখছিস,সেও কিন্তু আমার লোক।আর মাঝপথে মরুর কবলে পড়ে যেই দুইজন উধাও হয়েছে,আমিই তাঁদেরকে টপকে দিয়েছি।কারন তাঁদেরকে দিয়ে আমার এক চিলতে পরিমাণ ও কাজ নেই।সো তাঁদেরকে বাঁচিয়ে রেখে কি করবো।তাই মাটির নিচে পিষে দিয়েছি তাঁদের।

–তাহলে আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিস কেন?
আর কেনই বা ভনিতা করে এখানে এনেছিস?
চাইলে তো বাকি দু’জনের মতন করে আমায় ও মেরে ফেলতে পারতি।

–তোকে বাঁচিয়ে রাখার কারন আছে।
আর তোকে ভনিতা করে এখান পর্যন্ত আনার উদ্দেশ্য মাত্র একটাই।তোর আর আনহার বলি দিয়ে আমি উপাসনা করবো।এবং তোর রক্ত দিয়ে পরী-পালকে জাদুই প্রাচীর বানাবো।

–পরী-পালকে জাদুই বেড়িবাঁধ তৈরী করার জন্য অন্য কারোর রক্তের প্রয়োজন।সো তুই আনহাকে ছেড়ে দিয়ে আমায় বলির পাঠা বানা।কারন আনহাকে দিয়ে তোর কোনো কাজ নেই।সে পরী-পালকের নাগরিক।তার রক্ত তোর কোনো কাজেই আসবে না।

–না,না,না আসবে।অবশ্যই আনহার রক্ত আমার কাজে আসবে।কারন তোর শরীর আর আনহার শরীর এখন একত্রে মিশে গেছে।তোদের দুজনের রক্ত দিয়েই বেড়িবাঁধ তৈরী করবো।

–আতাউর তুই কিন্তু অনেক বড় ভুল করছিস।তোর অসাধু মতলব কোনোদিন এই চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছাবে না।তোর সমস্ত কু’মতলব এই ভেস্তে যাবে।এবং তুই এসব কর্মকান্ডের জন্য কিন্তু বিশাল বড় শাস্তি পাবি।

–এই মাটির মানুষ।তুই আমার সম্পর্কে এখনো ভালো করে জানিস না।আমি ছয়শো বছরের বেশি সময় ধরে এই দিন টার আশায় ছিলাম।কবে পরী-পালকে নিজের নাম প্রসারিত করবো।কিন্তু পরী-পালকের পূর্ব পুরুষেদর জন্য এসব করতে পারিনি।কারন তারা অনেক শক্তিশালী ছিলো।তবে আমারো শক্তি কম নেই।আমি চাইলে বরাবরের মতন তাঁদের সাথে টক্কর দিতে পারতাম।কিন্তু আমি ধৈর্য সহকারে কাজ নিয়েছি।তাঁদের পরী-পালকে গিয়ে তাঁদের সাথে লড়াই না করে তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করে সব কিছুকে নিজের মুঠোয় করে নেওয়াকেই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করেছি।তাই আমি তড়িঘড়ি করিনি।আমার সেই ধৈর্য ধারণ করার ফল আজ ভোগ করবো।আর কি বললি আমি শাস্তি পাবো?আরে মাটির মানুষ,তুই কান খুলে একটা কথা শুনে রাখ।আমায় শাস্তি দিবে এমন কেউ এখনো পয়দা হয়নি।কারন জমিন বাদে সমস্ত গগনের মালিক আমি।সবাই কম বেশি আমারই পূজা করে।কারোর কাছে এতোটা শক্তি নেই যে আমায় পরাজয় করবে।

–এতো অহংকার ভালো না রে আতাউর।
একমাত্র সৃষ্টিকর্তা বাদে দুনিয়ার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যারা নিয়জিত আছে,তাঁদের ও পর্যন্ত মরতে হবে।সেখানে তুই তো একটা মশা-মাছি।মরবি তো তুই নিশ্চিত।সেটা আজ না হয় কাল।

–মাটির মানুষ আসলেই অনেক ইঁচড়েপাকা।
না হয়তো মৃত্যুকে নিজের চোখে দেখতে পেয়েও তোর মতন গলাবাজি করতে পারতো না।এই হাম্বলের সমস্ত প্রহরীরা,তোরা সবাই অদৃশ্য থেকে নিজের রূপ ধারণ কর।এবং এই ইঁচড়েপাকাকে পাকড়াও করে অগ্নিযোগের সামনে নিয়ে যা।আর কাকাতুয়ার রাজা,তুই তোর মেয়েকে বন্দী করে এখানে নিয়ে আয়।আজকে তিন জনের বলিদান দিব।তোর মেয়েও গাদ্দার।সে আমি বাদে অন্য কোনো খোদায় বিশ্বাসী।এবং জমিনের মানুষকে সে হাম্বলে আসার জন্য সাহায্য করেছে।আমার চোখের পলক পড়তেই তাকে আমার চোখের সামনে দেখতে চাই।

–জ্বি প্রভু,আপনার চোখের পলক পড়তেই আমি আমার মেয়েকে এনে আপনার সামনে হাজির করছি।

–রূপন্তীর বাবার কথা শুনে তাজ্জব হয়ে গেলাম!কারন সে একটা বাবা হয়ে তার নিজের মেয়েকে নরাধম শয়তানের হাতে শপে দিচ্ছে।এসব নিয়ে ভাবছিলাম।রূপন্তীর বাবা দু’জনকে সাথে নিয়ে ভার্সমান জিনিসটায় করে ভেসে বেরিয়ে গেলো তার মেয়েকে আনতে।অন্যদিকে আতাউরের কথায় চারপাশের দেওয়াল থেকে শতাধিক প্রহরী উদীয়মান হলো।যাদের চেহারার আকৃতি দেওয়ালে নকশা করে রাখা শয়তান গুলার মতন।যেই নকশা গুলো আমি শুরুতেই এসে দেওয়ালের মধ্যে দেখেছিলাম।তবে বর্তামানে দেওয়ালের মধ্যে কোনো নশকা নেই।যেটা দেখে আমার বুঝতে বাকি নাই,যে দেওয়ালের নকশা গুলাই আতাউরের রক্ষিতা।অবাক চোখে তাকিয়ে আছি প্রহরী গুলার দিকে!কারন তাঁদের চেহারার বিদঘুটে আকৃতি দেখে যে কারোর পিত্তি গোলে মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাবে।এতো জঘন্য দেখতে সব কয়টা প্রহরী।প্রহরী গুলার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে তাঁদের ভয়ানক রূপ সম্পর্কে ভাবছিলাম,এর মধ্যেই দুজন প্রহরী আমার সামনে এগিয়ে এসে দুইপাশ থেকে আমায় ধরে ফেললো।আমি নড়াচড়াও করতে পারছি না।এমন ভাবে আঁকড়ে ধরেছে তারা আমায়।তাঁদের শরীরের জোর দেখে মনে হচ্ছে জমিনের হাজার খানিক মানুষ ও তাঁদের সাথে শক্তির মোকাবিলা করে পেরে উঠবে না।আমি আমার চিন্তা-ভাবনায় মশগুল।কিন্তু তারা আমায় টেনে টেনে একদম ঘরের চূড়ায় নিয়ে এসেছে।চূড়ায় এসে দেখি বিশাল একটা আগুনের কুন্ডলী।যার ভিতর থেকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে।তার মানে এখানেই অগ্নিযোগ করবে আতাউর।এসব নিয়ে ভাবতেই দেখি আতাউর উপরে উঠে এসেছে।সে এসে তার প্রহরীকে আদেশ করলো…

–এই তোরা একে অগ্নি কুন্ডলীর একদম সামনে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখ।নিচে গাদ্দার টাকে বেঁধে রাখা হয়েছে।কয়েক মিনিটের মধ্যে তাকে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে পবিত্র করে উপরে আনা হবে।তারপর আনহা,রূপন্তী এবং এই ইঁচড়েপাকা বালক’কে এক সাথে বলি দিয়ে সব কয়টাকে অগ্নিযোগে ফেলে দিব।এবং তাঁদের রক্ত দিয়ে শক্তিশালী একা বেড়িবাঁধ তৈরী করবো আমি।যেই বেড়িবাঁধ দিয়ে আমি যে কোনো স্থানকে সুরক্ষিত রাখতে পারবো।

–জ্বি মালিক….

–প্রহরী গুলা আতাউরের কথায় আমাকে অগ্নিযোগের একদম সামনে বরাবর বেঁধে দিলো।আমাকে বেঁধে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ভেজা শরীরে রূপন্তীকে উপরে আনা হলো।তারপর তাকে’ও আমার মতন করে অগ্নিযোগের সামনে দড়ি দিয়ে বেঁধে দিলো।এবার বাকি আছে শুধু আনহা।কিন্তু তাকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না।চারপাশে নজর এড়াচ্ছি,এমন সময় দেখি আতাউরের একজন প্রহরী বিশাল একটা আয়না নিয়ে হাজির হলো।প্রহরী আয়নাটা নিয়ে হাজির হয়ে অগ্নিযোগের অপরপাশে আয়নাটাকে কিছু একটার সাথে ঠেকিয়ে রেখেছে।অগ্নিযোগ’টা গোলাকার।একপাশে আমি আর রূপন্তী।অপরপাশে আয়নাটা।অগ্নিযোগের অপরপাশে রাখা আয়নাটার দিকে দৃষ্টি রাখতেই দেখি আনহাকে বেঁধে রেখেছে কোনো এক অন্ধকারের দুনিয়ায়।আনহাও অপরপাশ দেখে আমায় দেখছে।দুজন দু’জনের দিকে তাকিয়ে আছি।তখনি প্রভু দাবী করা শয়তান আতাউর আমায় বলে উঠলো…

–ঐ যে দেখ তোর প্রিয়তমাকে অন্ধকারের দুনিয়ায় বেঁধে রেখেছি।যেই দুনিয়ায় চাইলে কেউ কখনো প্রবেশ করতে পারবে না।সো এবার তোদের সব কয়টার মৃত্যু নিশ্চিত।প্রথমে তোর প্রিয়তামকে অন্ধকারের দুনিয়া থেকে বের করে এনে তোর চোখের সামনেই বলি দিব।তারপর তার রক্ত নিয়ে তার দেহ টাকে অগ্নিযোগে ফেলে দিব।পরে তোদের দুটোর গলা কেটে একই ভাবে রক্ত নিয়ে তোদের দেহ টাকেও অগ্নিযোগে ফেলবো।তারপর সমস্ত কায়নাত আমার হয়ে যাবে।আর আমি হবো সমস্ত গগনের মালিক।

–আতাউরের কথা শুনে রাগে পিত্তি ফেটে যাচ্ছে।কিন্তু তাকে কিছু বলা না করার মতন অবস্থা আবার নেই।তার উপরের আমার প্রিয়তমা আয়নায় বন্দী।আবার আমার পাশ থেকে রূপন্তী চোখের পানি ছেড়ে কান্না করছে।সব মিলিয়ে ক্রোধটা যেনো নিজের আয়ত্তের বাহিরে চলে গেছে।তাই কি করে বাঁচবো সেটা নিয়ে বুদ্ধি খাটাচ্ছি মাথায়।
.
আকাশ কি করে এসব থেকে মুক্তি পাবে সেসব নিয়ে প্ল্যান করছে।অপরদিকে আতাউর শব্দ করে কিছু একটা পাঠ করতে আরম্ভ করেছে।সম্ভবত কোনো মন্ত্র পড়ছে সে।কিছুটা সময় যেতেই আতাউর চুপ হয়ে যায়।এবং কোমরের থেকে লাঠি জাতীয় কিছু একটা বের করে নিয়ে অগ্নিযোগে সেটা দিয়ে আঘাত করে।যার ফলে কক্ষের হুলিয়া বদলে গিয়ে বিদঘুটে অন্ধকারের রূপ ধারণ করে।তারপর আতাউর আবারো মন্ত্র পাট করতে আরম্ভ করে।তবে এবার সে একা নয়।এবার তার সাথে সাথে সবাই মন্ত্র পাঠ করছে।মিনিট কয়েক পর মন্ত্র পাঠ করা শেষ হলে আতাউর দু’জনকে ইশারা করে বলে আয়নার ভিতরে গিয়ে আনহাকে নিয়ে আসতে।
আতাউরের কথা মতন দু’জন গিয়ে আনহাকে অন্ধকারের দুনিয়া থেকে মুক্ত করে এনে আতাউরের সামনে রাখে।আনহার শরীরের অবস্থা অনেক ভয়াবহ।আনহার শরীরে কন্ডিশন দেখে আকাশের চোখ দিয়ে পানি চলে আসে।কিন্তু নির্দয় আতাউর তার উপরে কোনো ধরনের রহম না করে তাকে বলি দেওয়ার কলের মধ্যে আঁটকে দিতে বলে।আতাউরের আদেশ একটুও নড়চড় হচ্ছে না।তার ইশারাতেই সব হচ্ছে।একজন আনহাকে ধরে নিয়ে গিয়ে বলি দেওয়ার কলের মধ্যে তার গলা আঁটকে দেয়।সব কিছুই কমপ্লিট।এখন খালি বলি দেওয়া বাকি।সেটাও কিছু সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে।আতাউর প্রিপারেশন নেয় আনহাকে বলি দেওয়ার।একজন এসে আতাউরের হাতে দৈত্যাকার একটা ছুরি ধরিয়ে দেয়।যেটা দিয়ে একবারেই অনেক কয়টা মানুষের প্রাণ নেওয়া যাবে।আতাউর ছুরিটা নিয়ে শেষ বারের মতন মন্ত্র পাঠ করে আনহাকে বলি দেওয়ার জন্য ছুরিটা নিয়ে আনহার দিকে অগ্রসর হয়।
“অন্যদিকে আকাশ কোনো সমাধান বের করতে না পেরে মনে মনে একটা চাহিদা করে আনহার কাছে।আনহা সাথে সাথে আকাশের চাহিদা পূরণ করে দেয়।কারন তাকে নিয়ে আকাশ কোনো কিছু চিন্তা ভাবনা করলেই সেটা আনহা বুঝে যায়।তাই সে আকাশের শেষ চাহিদাটা পূরণ করে দেয়।আকাশ একই চাহিদাটা রূপন্তীর কাছেও করে।তবে সেটা চুপে চুপে মুখে বলে।কারন সে তো আর আনহার মতন আকাশের মনের খবর জানে না।রূপন্তীও আকাশের চাহিদাটা পূরণ করে।এরমধ্যেই আতাউর আনহার গলায় দৈত্যাকার ছুরিটা চালানোর জন্য উপরের দিকে উঠায়।তখনি আকাশ হাতের বাঁধন খুলে নিজেকে মুক্ত করে নিয়ে আতাউরের কাছে যায়।তারপর তাকে বলে…

–ভন্ড আতাউর,এবার দেখি তোর কতো ক্ষমতা তুই আনহাকে বলি দিয়ে দেখা।বিশ্বাস কর আমি কিছুই করবো না।যাস্ট তোর সামনেই নিরব দর্শকের মতন দাঁড়িয়ে থাকবো।তুই আনহাকে মেরে ফেল।
.
আতাউর আকাশকে মুক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে থতমত খেয়ে যায়!তবে সে নিজের কাজে বিরতি না দিয়ে আকাশের কথা মতন আনহার উপরে দৈত্যাকার ছুরিটা চালানোর প্রয়াস করে।কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো,আতাউর আনহাকে মারার জন্য ছুরিটা যখনি উপরের দিকে উঠায়,তখনি আতাউরের হাত সহ ছুরিটা উপরে আঁটকে যায়।আতাউর তার হাতের ছুরিটা নিজের সমস্ত শক্তি খাটিয়েও নিচে নামাতে পারছে না।
যেটা দেখে আকাশ সজোড়ে হাসতে হাসতে আতাউরকে বলে….

–আতাউর ব্যাঙ মরে গালের দোষে।আর তুই হলি সেই ব্যাঙ,যে কিনা নিজের গালের দোষেই মরেছিস।এবার দেখি তোকে আমার হাত থেকে কে বাঁচায়।তোকে বলির পাঠা বানিয়ে তোর এই দৈত্যাকার ছুরি এবার তোর মাংসপেশিতেই ঢুকাবো।এবার কর বাহাদুরি।সস্তা ভেবেছিস না আমায়?এবার দেখবি সস্তার তিন অবস্থা।যখন এই দৈত্যাকার বাম্বু টা ঢুকাবো তোর ভিতরে,তখন তোর ভন্ডগিরি উল্টা রাস্তা ধরে পালাবে খবিশের দল….

চলবে…

গল্পের ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমার নজরে দেখবেন।