আয়নায় বন্দী পরী পর্ব-২১

0
389

#আয়নায়_বন্দী_পরী
#লেখক_আকাশ_মাহমুদ
#পর্ব_২১

–আতাউর ব্যাঙ মরে গালের দোষে।আর তুই হলি সেই ব্যাঙ,যে কিনা নিজের গালের দোষেই মরেছিস।এবার দেখি তোকে আমার হাত থেকে কে বাঁচায়।তোকে বলির পাঠা বানিয়ে তোর এই দৈত্যাকার ছুরি এবার তোর মাংসপেশিতেই ঢুকাবো।এবার কর বাহাদুরি।সস্তা ভেবেছিস না আমায়?এবার দেখবি সস্তার তিন অবস্থা।যখন এই দৈত্যাকার বাম্বু টা ঢুকাবো তোর ভিতরে,তখন তোর ভন্ডগিরি উল্টা রাস্তা ধরে পালাবে খবিশের দল।এবার দেখি নিজেকে মহান বলে দাবী কর।

–এই জমিনী মানব,তুই আমার সাথে পাঙ্গা নিস না।ভালোয় ভালোয় বলছি আমাকে মুক্ত কর মায়া থেকে।
না হয় কিন্তু অনেক খারাপ কিছু ঘটবে তোর সাথে।

–আরেহ শয়তান আতাউর তুই আগে নিজের চিন্তা কর।আমায় হুমকি দিতে আসিস না।কারন বর্তমানে তুই আমার হাতের কাঠপুঁতলি।তোকে যে ভাবে নাচাবো,তুই সেই ভাবেই নাচবি।সো গলার আওয়াজ নামিয়ে কথা বল।

–যা গলার আওয়াজ ছোট করলাম।কিন্তু তুই আমার উপরে মায়া করলি কি করে সেটা বল তো?

–ঐ যে বললাম ব্যাঙ মরে মুখ দোষে।আর তুই ও সেম ভাবে আমার হাতে ধরা পড়েছিস।মনে আছে হাম্বলে সফরের সময় তুই আমায় কি বলেছিলি?

–নাহ আমার মনে নেই।তুই বল কি বলেছিলাম।

–বলেছিলি না,যে আমি কাউকে হারাতে চাইলে বা কাউকে ম্যানুপুলেট করতে চাইলে তার থেকেও দ্বিগুণ শক্তির অধিকারী হতে হবে আমার।তাই আনহা এবং রূপন্তীর সোল আমার শরীরে প্রবেশ করিয়ে তোর সাথে টক্কর দিতে মাঠে নেমে গেছি।কিন্তু আমার এটা বুঝে আসছে না,যে তুই আমার সাথে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছিস কি করে!

–ওহহ তাহলে এই ব্যাপার।তাই তে বলি আমি কেন দৈত্যাতার ছুরিটা ব্যবহার করতে পারছি না।যেখানে আমি সুস্থসবল আছি,সেখানে কোন শক্তি আমায় বাঁধা দিচ্ছে মেয়েটাকে বলি দেওয়া থেকে।

–আমিই বাঁধা দিয়েছি তোকে।তোকে ম্যানুপুলেট আমিই করেছি।তবে বর্তামনে তোর হাবভাব দেখে আমার বুঝতে বাকি নেই,যে তুই সুস্থসবল থাকলেও আমার চোখের ইশারায় তুই নাচতে বাধ্য।

–প্লিজ আমায় ছেড়ে দে।তার বদলে তুই যা চাহিদা করবি আমি তোকে চাই দিব।দরকার হয় তোকে কাকাতুয়ার রাজা বানিয়ে দিব।

–এই আতাউর,তোর মতন লোভী আমি নই।
আর তোর বাঁচার তো কোনো চান্স নাই।কারন তুই সত্তার সাথে নিজেকে শরিক করেছিস।সো তোর মৃত্যু নিশ্চিত।এটা বলেই আতাউরের গলা চেপে ধরলাম।আতাউরের গলাটা এতো জোরে চেপে ধরেছি,যে সে ভালো করে নিশ্বাস ও নিতে পারছে না।আতাউরের এই নাজেহাল অবস্থা দেখে তার সমস্ত প্রহরী এবং রূপন্তীর বাবা আমাকে মারার জন্য আমার দিকে অগ্রসর হয়ে আসলো।তারপর রূপন্তীর বাবা আমায় বললো…

–এই ছেলে তুই আমাদের প্রভুকে ছেড়ে দে।না হয়তো তুই কিন্তু এখান থেকে জীবিত ফিরতে পারবি না।

–ও আচ্ছা তাই বুঝি!তোরা তাহলে আমাকে এখান থেকে জীবিত ফিরে যেতে দিবি না?আচ্ছা তোদের মাথায় কি একটুও জ্ঞান বুদ্ধি নাই?যেখানে তোদের শয়তান প্রভুই নিজেকে আমার হাত থেকে বাঁচাতে পারছে না।যেখানে তোদের শয়তান প্রভুই মৃত্যুর প্রহর গুনছে,সেখানে তোরা তার অনুসারী হয়ে কি করে আমায় আটকাবি?তোদের কি একটুও বিবেক বুদ্ধি নেই মাথায়?অবশ্য থাকবেই বা কি করে,তোদের যদি বিবেক বুদ্ধি থাকতো,তাহলে তোরা তো এর মতন শয়তানের পূজা করতে পারতি না।দেখ তোদের সবাইকে একটা চান্স দিচ্ছি ভালো হয় যা।না হয়তো সব কয়টাই মারা পড়বি এখন আমার হাতে।আর যে যেখানে আছিস,সেখানেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে পর।না হয়তো তোদের এই হাম্বল রক্তে লাল হয়ে যাবে।
.
আকাশের কথা শুনে সবাই ভয় পেয়ে থেমে যায়।বিশেষ করে রূপন্তীর বাবা।কারন তার মাথায় এখন কাজ করতে শুরু করেছে।যেখানে তাঁদের প্রভুই মৃত্যুর পথে।সেখানে তারা কি করে নিজেকে রক্ষা করবে।তাই নিজের জীবন বাঁচাতে চুপচাপ একটা জায়গার মধ্যে দাঁড়িয়ে পরে।এবং বাকি সবাইকে আদেশ করে সামনে অগ্রসর না হতে।কিন্তু রূপন্তীর বাবার কথা হাম্বলের প্রহরীরা শোনে না।কারন তাঁদেরকে আতাউর অগ্নিযোগ করে বানিয়েছে তাঁকে প্রটেক্ট করার জন্য।হাম্বলের প্রহরীরা একমাত্র খালি আতাউরের কথাই শুনবে।তাই তারা আতাউরকে বাঁচাতে আকাশের দিকে আবারো অগ্রসর হয়।তখনি আকাশ হাম্বলের সব কয়টা প্রহরীকে ম্যানুপুলেট করে তাঁদেরকে আদেশ করে নিজের মাথা হাম্বলের দেওয়ালের সাথে আঘাত করে ফাটিয়ে ফেলতে।আকাশের আদেশ মতন সবাই নিজের মাথাকে হাম্বলের দেওয়ালের সাথে বাড়ি দিতে আরম্ভ করে।যার ফলে সবাই নিজের মাথাকে দেওয়ালের সাথে বাড়ি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে।সব কয়টা প্রহরী ক্ষতবিক্ষত মাথা নিয়ে নিচে পরে আছে।এভাবে মিনিট খানিক যেতেই তাঁদের শরীর গোলে জমিনের সাথে মিশে যায়।”অন্যদিকে আকাশ আতাউরকে তার প্রহরীদের দিকে ইশারা করে বলে….

–দেখ তোর সব কয়টা প্রহরী আমার ইচ্ছাতেই নিজেকে শেষ করে দিয়েছে।এবার তোর পালা।তবে তোকে এঁদের মতন করে মারবো না।তোকে মারবো তোর এই তৈরী করা অন্ধকার দুনিয়ায়।যেখানে কিনা তুই আমার প্রিয় মানুষকে নিয়ে গিয়ে বন্দী করে রেখেছিলি।এবং তার উপরে অত্যাচার করেছিলি।

–এই না, না তুই আমায় মারিস না।আমি ভালো হয়ে যাবো।প্লিজ আমায় ছেড়ে দে।

–আরে আতাউর তোর মুখে ভালো হওয়া শব্দটা মানায় না।কারন শয়তান কোনোদিন এই ভালো হয় না।যদি শয়তান ভালোই হতো,তাহলে ফেরেস্তাদারের আমল আখলাক দেখার পরেও ইবলিশ পথভ্রষ্ট হতো না।এবং খোদার সাথে নাফরমানী করতো না।সো তোর মৃত্যু নিশ্চিত।তারপর আতাউরকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তার গলা চেপে ধরে আয়নার সাহায্যে তাকে অন্ধকারের দুনিয়ায় নিয়ে চলে গেলাম।অন্ধকার দুনিয়ায় আসতেই একটা পটাল খুলে গেলো।যেটা দিয়ে “ওপারের”লোকজনকে দেখা যাচ্ছে।আর আমাকে এই পটাল দিয়েই আবার ফিরে যেতে হবে।অন্ধকারের দুনিয়ায় আসার আগে রূপন্তীর বাবাকে এবং তার সাথের দু’জনকে ম্যানুপুলেট করে এসেছি।কারন না হয়তো তারা উল্টা-পাল্টা কিছু করতে পারে।বিশেষ করে আমি যেই আয়নার সাহায্যে অন্ধকারের দুনিয়ায় প্রবেশ করেছি,তারা শয়তানি করে সেই আয়নাটাকে ভেঙ্গে দিলে আমি চিরতরে অন্ধকারের দুনিয়ায় ফেঁসে যাবো।তাই তাঁদেরকেও নিজের হাতের মুঠোয় করে রেখে এসেছি।অন্ধকারের দুনিয়ায় এসে সর্বপ্রথম আতাউরের হাত থেকে দৈত্যাকার ছুরিটা নিয়ে তার হাতের মধ্যে সজোড়ে এক কোপ বসিয়ে দিলাম।যার ফলে আতাউরের হাত শরীর থেকে আলাদা হয়ে নিচে পড়ে গেছে।আর সে ষাঁড়ের মতন চেঁচাতে আরম্ভ করেছে।কিন্তু সে যতোই চেঁচাক না কেন,তাকে তো মরতেই হবে।তাই তার বেঁচে থাকা আরেকটা হাত ও কুপিয়ে শরীর থেকে আলাদা করে ফেললাম।তারপর তাকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে গিয়ে একটা গাছের সাথে চেপে ধরে দৈত্যাকার ছুরিটা তার গলার চামড়ার উপরিভাগে লাগিয়ে বললাম,দেখ খারাপ মানুষের পরিশেষ টা এমন এই হয়।অবশ্য তোর বদ স্বভাব অনুযায়ী শাস্তিটা তোর জন্য কম হয়ে যাচ্ছে।তবে আমার হাতে সময় বেশি নেই।তাই তোকে সহজ মৃত্যু দিচ্ছি।ভালো থাকিস উপরে গিয়ে।এসব বলে ছুরিটা তার গলায় ঢুকাতে যাবো,তখনি সে হাসতে আরম্ভ করে।তার হাসি দেখে ছুরি থামিয়ে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম,কিরে হাসছিস কেন?

–কারন তুই হয়তো ভাবছিস আমি মরলেই সব শেষ।কিন্তু তুই এটা জানিস না যে আমার থেকেও বড় শয়তান এখনো বেঁচে আছে।আর আমি বলতে গেলে তারই উপাসনা করি।আর সে এই কাকাতুয়ার নয়,সে তোদের পরী-পালকেই আছে।তার থেকে তোরা কখনোই বাঁচতে পারবি না।

–আতাউরের কথা শুনে বেশ অবাক হলাম!কিন্তু তার কথা পুরোপুরি আমার বিশ্বাস হয়নি।কারন আমার জানা মতে সে বাদে পরী-পালকে আর অন্য কাউকে দেখিনি,যে কিনা পরী-পালকের ক্ষতি করবে।তাই তাকে বললাম,শোন তুই আগে মর।কারন আমার জানামতে সেখানে খারাপ কেউ নেই।তবে যদি থাকেও,তাহলে তার মোকাবেলা আমরা সবাই মিলে করবো।কিন্তু তোকে মারলে একটা শয়তান অন্তত কমবে।সো গুড বায় বলে আতাউরের গলার ভিতরে ছুরি ঢুকিয়ে দিয়ে গাছের সাথে লটকে দিলাম তাকে।তারপর তাকে শেষ করে পটাল দিয়ে হাম্বলে ফিরে এসেছি।হাম্বলে ফিরে এসে রূপন্তীর বাবা আর তার সাথের দু’জনকে নিজের মুঠি থেকে আজাদ করে দিলাম।তারপর রূপন্তীর আর আনহার সোল তাঁদের দুজনের শরীরে প্রবেশ করিয়ে দিলাম।দু’জন মাটি থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে।আনহা
ঠিক হতেই আমাকে এসে জড়িয়ে ধরলো।আর রূপন্তীকে সুস্থ স্বাভাবিক দেখতে পেয়ে তার বাবা তার দিকে এগিয়ে গেলো তাকে জড়িয়ে ধরার জন্য।তখনি রূপন্তী তার বাবা থেকে দূরে সরে গিয়ে আমার নাম ধরে ডেকে বললো…

–আকাশ তুমি আমাকে তোমার সঙ্গে করে পরী-পালকে নিয়ে যাও।আমি আর এই কাকাতুয়াতে থাকবো না।কারন একে তো এই কাকাতুয়ার লোকরা শয়তান পূজারী।তার উপরে আমার জন্মদাতা পিতা,যে কিনা নিজের স্বার্থের জন্য আমাকে শয়তানের হাতে শপে দিচ্ছিলো।সো আমি এখানে সুরক্ষিত না।তুমি দয়া করে আমাকে তোমাদের সাথে নিয়ে চলো।দরকার হয় তোমাদের রাজ্যে আমি দাসদাসী হয়ে থাকবো।কিন্তু তাও আমি এই সমস্ত লোকজনের মধ্যে থাকবো না।

–রূপন্তীর কথা শুনে কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না!কারন একে তো আমি নিজেও সেই দুনিয়ার বাসিন্দা না।তার উপরে এই মেয়েকে সেখানে নিয়ে গিয়ে কি করে জায়গা দিব আমি।তাই আনহাকে ইশারায় জিজ্ঞেস করলাম কি উত্তর দিব।সে আমার ইশারায় রূপন্তীকে বললো…

–রূপন্তী তুমি আমাদের সাথে আমাদের শহরে থাকতে পারবে।কিন্তু একটা শর্ত আছে।

–কি শর্ত আনহা?

–এই যে দেখছো আমার সাথে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাক্তিটাকে।যাকে কিনা আমি জড়িয়ে ধরে রেখেছি।তুমি কখনো এই ব্যাক্তিটার উপরে নজর দিতে পারবে না।কারন এই ব্যাক্তিটা খালি আমার।ওর ভাগ আমি কাউকেই দিতে পারবো না।

–ঠিক আছে আমি কখনোই আকাশের দিকে নজর দিব না।তুমি আমায় নিয়ে চলো তোমাদের সাথে।

–আচ্ছা তাহলে আসো আমার কাছে।আমার কাছে এসে আমার হাত ধরো।আমি তোমাদের দু’জনকে হাওয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
.
রূপন্তী আনহার কথা মতন এসে তার হাত ধরে।তারপর আনহা আকাশকে আর রূপন্তীকে হাওয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে তাঁদের শহরে আসে।রূপন্তী আনহার সাথে চলে আসার সময় তার বাবা তাকে অনেক করে বারন করে।কিন্তু রূপন্তী সেসব কে তোয়াক্কা না করে আনহাদের সাথে তাঁদের শহরে চলে আসে।তিনজন বর্তমানে পরী-পালকে চলে এসেছে।আনহাকে দেখে পরী-পালকের লোকজন খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেছে।
কিন্তু আনহার মনে খুশির কোনো আমেজ নেই।কারন তার বাবা-মা’কে রূপন্তীর বাবা এবং তার সাথের লোকজনরা জাদুর মাধ্যমে আয়নায় বন্দী করে রেখেছে।আনহাকে যখন রূপন্তীর বাবা এবং তার সাথের লোকজন মিলে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো,তখন আনহার বাবা-মা তাকে বাঁচানোর জন্য ছুটে আসে।কিন্তু রূপন্তীর বাবা আর তার সাথের লোকজন মিলে আনহার বাবা-মা’কে আয়নার মধ্যে বন্দী করে দিয়ে তাকে সঙ্গে করে নিয়ে গেছে।তাই তার মন বিশাল খারাপ।সে কি করে তার বাবা-মা’কে এই মায়াকাল আয়না থেকে মুক্ত করবে,সেটা নিয়েই ভাবছে।আনহার চেহারার ভাবসাব দেখে পরী-পালকের একজন পন্ডিত,যে কিনা আনহাদের সামনেই উপস্থিত ছিলো।সে বুঝে ফেলে আসল কাহিনী কোথায়।তাই সে আনহাকে বলে…

–মাসুদা রানী,আপনি একদম চিন্তা করবেন না।আমি এখুনি যোগ্য করে মহারাজ আর মহারানীকে মুক্ত করার তরিকা বের করছি।আপনি এবং বাকি সবাই এখানেই থাকুন।

–জ্বি জলদি করুন।
.
পরী-পালকের পন্ডিত মায়াকাল আয়নার সামনে থেকে নিজের গৃহে গিয়ে তৎক্ষনাৎ যোগ্য বসে যায়।কিছুক্ষণ পর সে যোগ্য করে ফিরে এসে আনহার হাতে একটা মন্ত্র পড়া পানির বোতল দেয়।আর বলে….

–মাসুদা রানী,যোগ্যের মাধ্যমে আমি একটা জাদুই শুরা তৈরী করেছি।আপনি এই বোতল থেকে জাদুই শুরা হাতে নিয়ে আয়নার মধ্যে নিক্ষেপ করুন।তাহলে আপনার বাবা-মা মুক্ত হয়ে যাবেন।
.
আনহা পন্ডিতের কথা মতন বোতল থেকে পানি বের করে হাতে নিয়ে আয়নায় নিক্ষেপ করে।কিন্তু তাতে কোনোই কাজ হয় না।তাই আনহা পন্ডিতকে বলে….

–পানিতে তো কাজ করছে না।আপনি এটা কিসের পানি দিয়েছেন?

–মাসুদা রানী কাজ তো করার কথা।আচ্ছা আমি আমার শক্তির মাধ্যমে আয়নার উপস্থিতি চেক করছি।যে মহারাজ আর মহারানী এর ভিতরে আছে কিনা।
.
পন্ডিত অলৌকিক শক্তির মাধ্যমে আয়নার ভিতরে আনহার বাবা-মায়ের উপস্থিতি চেক করে।চেক করা শেষ হলে আনহাকে বলে…

–মাসুদা রানী,কয়েক জনের উপস্থিতি তো আয়নার ভিতরেই দেখাচ্ছে।তাহলে শুরার পানি কাজ কেন করছে না সেটাই তো বুঝতে পারছি না!
.
পন্ডিতের কথা শুনে পাশ থেকে রূপন্তী বলে উঠে…..

–আপনাদের কোনো কিছুতেই মহারাজ আর মহারানী মুক্ত হবে না আয়না থেকে।কারন যারা মহারাজ আর মহারানীকে জাদুর মাধ্যমে আয়নায় বন্দী করেছে,তাঁদের বংশের লোকেরাই শুধু পারবে এই মায়া থেকে কাউকে মুক্ত করতে।সো আনহা পানির বোতল’টা আমায় দাও।আমি মুক্ত করছি মহারাজ আর মহারানীকে।
.
আনহা বোতল’টা রূপন্তীর হাতে দেয়।রূপন্তী বোতল’টা হাতে নিয়ে সেটার মধ্যে থেকে কয়েক কোষ পানি হাতে নিয়ে আয়নার মধ্যে ফিক্কা মারতেই সেটার ভিতর থেকে মহারাজ আর মহারানী বেরিয়ে আসে।তবে মায়াকাল আয়না থেকে শুধু মহারাজ আর মহারানীই বেরিয়ে আসেনি।তাঁদের সাথে সাথে আরো দু’জন ব্যাক্তিও বেরিয়ে এসেছে মায়াকাল আয়নার ভিতর থেকে।তাঁদের দু’জনের মধ্যে থেকে একজন হলো পরী-পালকের দারোয়ান আতাউর।এবং দ্বিতীয় জন হলো আতাউরের সামনে ঝুঁকে যাওয়া সেই প্রহরীটা।যেটা দেখে আকাশ,আনহা,রূপন্তী তিনজনেরই মাথা খারাপ হয়ে যায়!

চলবে……

গল্পের ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমার নজরে দেখবেন।