#ভালোবাসি_প্রিয়
(রিপোস্ট)
পর্ব_৩৫
©জারিন তামান্না
ভোর ৫:৩৭ মিনিট।
ঘুম ভাঙার পর হালকা নড়েচড়ে উঠতে গিয়ে পাঞ্জাবীতে টান অনুভব করলো সিফাত। ভালোভাবে চোখ মেলে চাইতেই দেখলো তার পাঞ্জাবীর বুকের অংশটা খিঁচে মুঠো বন্দী করে রেখেছে পলক। এলোমেলো হয়ে থাকা চুলগুলোর কিছুটা এসে খানিকটা ঢেকে রেখেছে পলকের পদ্মপাতার জলের মতো টলটলে মুখখানি।গতকালের ক্লান্তিময় দিন শেষে বিভোর ঘুমে আচ্ছন্ন পলক। বালিশ ছেড়ে সিফাতের হাতের উপর এসে ঘুমোচ্ছে সে। সিফাতও সযত্নে হাত দিয়ে আগলে রেখেছে তাকে।
জীবনের নতুন অধ্যায়ের প্রথম সকাল আজ ।এতকাল একলা ঘরে বিশাল এই খাটে একলা ঘুমানোর নিয়মে ভঙ্গ দিয়ে তারই পাশে শুয়ে আছে একজন নারী।এই নারীটিই তার অর্ধাঙ্গিনী।এই নারীটিকেই সে ভালোবাসে।ভীষণ ভালোবাসে। এই ভেবেই মুচকি হাসলো সিফাত। তারপর, খুব সাবধানে পাশ ফিরে পলকের মুখোমুখি হলো সে। আলতো হাতে পলকের মুখের উপর পড়া চুলগুলি সরিয়ে দিল সে। যত্ন করে গুঁজে দিল তার কানের পিঠে। মুখের উপর চুল সরতেই উন্মুক্ত হয়ে গেল পলকের মুখ আর গলার বেশ খানিকটা অংশ। উন্মুক্ত হলো গলার সেই ছোট্ট গাঢ় তিলটাও। আজ আর নিজেকে বাঁধ সাধলো না সিফাত। মন ভরে দেখলো ওটাকে। পূরণ করে নিল ওটাকে ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছেটাও। বুড়ো আঙুলটা দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে দিল ওটাকে। সেই স্পর্শেই খানিক নড়েচড়ে উঠলো পলক। তা দেখে আলতো হাসলো সিফাত। তারপর, পলকের কপালে গম্ভীরভাবে চুমু দিতেই ধীরে ধীরে চোখ পিটপিট করে চাইলো পলক। পুরোপুরি চোখ মেলে চাইতেই সামনে তার দিকে ঝুঁকে থাকা সিফাতের হাসি হাসি মুখখানা দেখেই চমকে উঠলো সে। চট করেই উঠে বসতে গিয়ে মুঠোয় সিফাতের পাঞ্জাবী থাকায় সম্ভব হলো না সেটা। সিফাতের মত বলিষ্ঠ মানুষকে কি আর পলকের মত মেয়ের মুঠো ভরা পাঞ্জাবী ধরে টলানো সম্ভব?! তাই টান খেয়ে আবার সে সিফাতের হাতের উপর গিয়ে পড়লো। সিফাত বেশ মজা পেল পলকের এহেন অবুঝ কাজে।মিটমিটিয়ে হাসতে লাগলো সে পলকের ওই আতংকিত মুখখানির দিকে চেয়ে। আচমকা পেছন দিকে টান খেয়ে পড়ায় ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলেছিল সে। তাই চোখ খুলে আবারও সিফাতকে ওভাবে দেখে বেশ বিভ্রান্তিতে পড়ে গেল পলক। চট করেই সিফাতকে প্রশ্ন করলো, _আ…আ..আপনি এখানে কেন ?
_আমার ঘর,আমার বিছানা, আর আমার বউটাও এখানে তাই আমিও এখানে! – বেশ রসিকতার স্বরে বললো সিফাত।
‘আমার বউ’ কথাটা শোনার পর কয়েক সেকেন্ড সময় লাগলো পলকের ব্যাপারটা বুঝতে। মনে পড়ে গেল,গতকাল তার বিয়ে হয়েছে সিফাতের সাথে।তাই এখন সে সিফাতের বেডরুমে সিফাতের সাথেই আছে। ব্যাপারটা মনে পড়তেই অদ্ভুত এক শিহরণ বয়ে গেল পলকের মনেপ্রাণে। পলককে এভাবে চুপ থাকতে দেখে সিফাত বললো,
_ভোর হয়ে গেছে! ফজরের নামায পড়বেন না মৃন্ময়ী?
_হ্যাঁ,পড়বো তো।
_আলহামদুলিল্লাহ।উঠে পড়ুন তাহলে। আজ তো আর মসজিদ যাওয়া হলো না আমার।তাহলে চলুন একসাথেই পড়ে ফেলি নামাযটা।
_আচ্ছা। বলতেই মিষ্টি হেসে সিফাত টুক করে আরেকটা চুমু খেয়ে নিল পলকের কপালে। পলক পুরো থতমত খেয়ে গেল সিফাতের এহেন কাজে। তা দেখেও সিফাত হাসলো আবারও। তারপর তার পাঞ্জাবী আঁকড়ে ধরে থাকা পলকের হাতটা ধরতেই পলকের খেয়াল হলো সে সিফাতের পাঞ্জাবী আঁকড়ে ধরে আছে। চমকালো সে।লজ্জাও পেল খানিক। ওই অবস্থাতেই সিফাত বললো, যান ফ্রেশ হয়ে আসুন। নামাযের সময় চলে যাচ্ছে।
_আপনি যাবেন না?
_হুম,,যাবো। আগে আপনি যান। আমি বিছানাটা গুছিয়ে ফেলি ততোক্ষণে।
_এএ বাবা! আপনি কেন গোছাবেন! আমি গুছিয়ে দিচ্ছি।
_সমস্যা নেই। আমার অভ্যাস আছে। তাছাড়া নিজের কাজ নিজে করতেই পছন্দ করি আমি। কিন্তু এখন যেহেতু আপনি এসে গেছেন তো এখন এসবের অর্ধেক ভাগ আপনার। সময় সময় আপনি আমি মিলেই করবো সব।ওকে?
_জ্বী। শুনতেই মিষ্টি হাসলো সিফাত। তারপর তাড়া দিল পলককে ফ্রেশ হয়ে আসার জন্য।পলকও বাধ্য মেয়ের মত মেনে নিল সিফাতের কথা।
________________________________
ফজরের নামায শেষ করে জায়নামাজগুলো উঠিয়ে রাখলো পলক। সিফাত নীচে গেছে কি একটা কাজে। এই ফাঁকে পলক নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখা গয়নার বক্স থেকে একজোড়া হালকা চুড়ি আর কানের দুল পড়ে নিল। গা’য়ে গত রাতের পড়া সালোয়ার কামিজ। নতুন বউ সালোয়ার কামিজ পড়ে সবার সামনে যাবে ব্যাপারটা কেমন বেমানান লাগে। তাই ফিরে গিয়ে লাগেজ থেকে একটা গোলাপি শাড়ি বের করে পড়ে নিল। শাড়ি পড়তে গিয়ে পলক খেয়াল করলো তার কোমড়ের বিছাটা।গতরাতে সিফাত নিজ হাতে পড়িয়ে দিয়েছিল বলে দেখা হয়নি সেটা।আজ খেয়াল করতেই দেখলো রূপার তৈরী বিছা। পলকের মেটে রঙ এর শরীরে ঝলমল করছে একদম! ওটা দেখে মুচকি হাসলো পলক।শাড়ি পড়া শেষ হতেই আয়নায় নিজেকে দেখলো একবার। এবারে তার মনে হলো কিছুটা অন্যরকম লাগছে তাকে। হ্যাঁ, এই পলক আর গত কালের পলকের মধ্যে ঢের ফারাক। আজকের এই পলক বিবাহিত। স্বামীর হালাল স্পর্শ মিশে আছে তার কপালেজুড়ে! আজ নিজেকেই নিজের কাছে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে পলকের। এই ভেবে মুচকি হাসলো সে। এমন সময় দরজায় নক পড়লো। সিফাত ডাকছে তাকে। ঘরের দরজা খুলে দিতেই একটা ট্রে সমেত ঘরে ঢুকলো সিফাত।পলকে আসতে বলে সোজা চলে গেল বেলকোনিতে।
পলকও গেল সিফাতের পিছু পিছু। বেলকোনিতে গিয়ে দাঁড়াতেই পলক দেখলো সেন্টার টেবিলের উপর ট্রেতে এক মগ ধোঁয়া উঠা গরম কফি রাখা। রেলিং এর কাছ ঘেঁষেই দাঁড়িয়ে আছে সিফাত। দৃষ্টি বাইরের দিকে।মিঠে সোনালী রোদ্দুর এসে ছড়িয়ে আছে বেলকুনিজুড়ে।
_মৃন্ময়ী! কফির মগটা নিয়ে এদিকে আসুন। সিফাত ডাকলো। পলকও এগিয়ে গেল কফির মগটা নিয়ে। পলক পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই তার হাত ধরে তাকে নিজের সামনে এনে দাঁড় করালো সিফাত। পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরতেই চমকালো সিফাত। পলককে খেয়াল করতেই দেখলো শাড়ি পড়েছে সে। চট করে তাকে ঘুরিয়ে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করালো সিফাত। মুগ্ধ হয়ে দেখলো তাকে। মৃন্ময়ী তার শাড়ি পড়েছে। গায়ে হালকা গয়নাগাটি থাকায় সব মিলিয়ে পুরো বউ বউ লাগছে পলককে। অবশ্য সে তো তার বউই! কিন্তু,আজ সত্যিই তাকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে। মুখে কোন প্রসাধনী নেই।কেবল চোখে লেগে আছে গতকালকের বাসি কাজল। মাঝ বরাবর সিঁথি করে চুলগুলো খুলে রেখেছে সে। শান্ত নিবিড় চোখে তাকিয়ে আছে সে সিফাতের মুখ পানে।তাতেই অদ্ভুত সুন্দর লাগছে পলককে। তাকে ওভাবে দেখেই মুগ্ধতার হাসিতে ঝলমল করা চোখ মুখেই সিফাত বললো,মাশাল্লাহ!
তার কথা শুনে লাজুক হাসলো পলক।তারপর বললো, আপনার কফিটা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। নিন, ধরুন।
_আমাদের কফি মৃন্ময়ী! এটা বলতেই পলকের মনে পড়ে গেল প্রথমবার ছাদে পলকের মগ থেকে কফি খাওয়ার সময় সিফাতের বলা কথাটা। মুচকি হাসলো সে।
_আপনি আগে চুমুক দিন এতে। নেকির ভাগটা আমিই নেই আজ। বলেই মিষ্টি হাসলো সিফাত। স্ত্রীর খাওয়া খাবার থেকে খাওয়াটা নবীজির সুন্নত। এটা জানে পলক। এতে নেকি পাওয়া যায়। সিফাতও এটার কথাই বুঝাচ্ছে সেটা আর বুঝতে অসুবিধা হলো না পলকের। তাই মুচকি হেসে কফির মগে প্রথম চুমুকটাও সেই দিল। কিছুটা স্ট্রং কফি এটা। এত কড়া কফি খাওয়ার অভ্যাস নেই পলকের। তবুও সিফাতের জন্য নির্দ্বিধায় খেয়ে নিল ওটা।তারপর এগিয়ে দিল সিফাতের দিকে। মগটা হাতে নিয়ে পলকের কোমড়ে হাত রেখে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো তাকে। বললো,
_আলহামদুলিল্লাহ! এটা আমাদের একসাথে দেখা প্রথম সকাল মৃন্ময়ী। আমৃত্যু এমনই একেকটা সকাল চাই আমার। মিঠে রোদ্দুর অথবা ঝুম বৃষ্টি কিংবা কুয়াশায় ঢাকা একটা ভোর, একমগ কফি আর আমার মৃন্ময়ী থাকবে সেই সকালটায়। এভাবেই শুরু হবে রবের দেওয়া আমার রহমতের দিনগুলি।
সিফাতের কথায় তাকে ধরে জড়িয়ে রাখা হাতটার উপর হাত রাখলো পলক। বললো,ইন শাহ আল্লাহ। পলকের এমন রেসপন্স দেখে খুশি হলো সিফাত। তার মাথায় চুলের উপর চুমু দিয়ে বললো,আলহামদুলিল্লাহ। তারপর তার খাওয়ার পরে রয়ে যাওয়া অর্ধেকটা কফি সমেত মগটা পলকের হাতে দিয়ে বললো,
_এটা শেষ করুন। জগিং এ যাবো আমি। আসছি এখন।
_জ্বী। পলকের সম্মতি পেয়ে বেলকোনি ছেড়ে ঘরে চলে গেল সিফাত। পলক কফির মগটা দেখলো একবার।তিন কবুল বলে জড়ানো একটা পবিত্র সম্পর্ক কি সুন্দর এক করে দেয় দুটো পৃথক পৃথক মানুষকে। চার দেয়ালের একটা ঘর থেকে শুরু করে একজনের মনবাড়ির ঘর-বারান্দা পর্যন্ত পুরোটাই তখন দুজনের একত্রিত অংশ হয়ে ওঠে। সিফাতকেও সে এভাবেই চায়।জীবনের প্রতিটা মূহুর্তে, আবেশে,অনুভূতিতে তার পুরোটা জীবন জুড়ে এই মানুষটাকেই সে পেতে চায়..আগলে রাখতে চায়.. একান্ত নিজের করে।
এসব ভাবতে ভাবতেই কফির মগে একের পর এক চুমুক দিল সে। কফি শেষ করে খালি মগ আর ট্রেটা নিয়ে পা বাড়ালো নীচে যাওয়ার জন্য।
___________________________________
নীচে নেমে দেখলো সার্ভেন্টরা ছাড়া তেমন কেউ নেই। গতরাতে সবারই ঘুমাতে বেশ দেরি হয়েছে। তাই এখনো উঠেনি কেউ তেমন। ঘড়ি জানান দিচ্ছে সকাল ৭ টা বাজে এখন। একজন সার্ভেন্টের সাহায্য নিয়ে খুঁজে বের করলো কিচেনটা। নাস্তা মূলত সার্ভেন্টরাই বানায়। আজ পলক বানালো। সকাল ৮:৩০ টায় একে একে সবাই এসে জড়ো হলো নীচের হল রুমে। রোজ পেপার পড়তে পড়তে গার্ডেনে বসে চা খাওয়ার অভ্যাস ইশতিয়াক আলমের। তাই সার্ভেন্টকে চা দিতে বলে গার্ডেনে চলে গেলেন তিনি।
কিছুক্ষণ পরে হাতে চায়ের ট্রে নিয়ে ইশতিয়াক আলমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো পলক।
_আসসালামু আলাইকুম,বাবা।
পেপারে চোখ ডুবিয়ে ছিলেন তিনি।হঠাৎ রোজকার নিয়ম পাল্টে সার্ভেন্টের জায়গায় পলকের কন্ঠ শুনে চমকালেন তিনি। চোখ তুলে দেখলেন চায়ের ট্রে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পলক। তাকে দেখে খুব একটা খুশি তিনি হলেন না। তবুও,গম্ভীর স্বরে সালামের জবাব দিয়ে বললেন,
_ওয়ালাইকুম আসসালাম। তুমি চা নিয়ে এসেছো কেন? সার্ভেন্টকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলেই হতো। তাদের তো আর বেতন দিয়ে এমনি এমনি রাখা হয়নি।
বিয়ের পর প্রথম সাক্ষাতে শশুড়ের থেকে এমন আচরণ কারও কাম্য নয়। খারাপ লাগলো পলকেরও। তবুও হাসি মুখে তার স্বভাবসুলভ শান্ত কন্ঠেই বললো,
_সমস্যা নেই বাবা। নিজের পরিবারের জন্য নিজ হাতে এসব তো করাই যায়। তাই আজ আমিই নিয়ে এলাম আপনার চা’টা।
পলকের মুখে প্রথমবার বাবা ডাক শুনে খুব একটা আমলে না নিলেও এবারে সেটা কেমন যেন লাগলো ইশতিয়াক আলমের।তারওপর তাকে পলক নিজের পরিবারের মানুষ বলছে। একমাত্র ছেলের বউ এর থেকে এমন আপন ব্যবহারই তো আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু,পলককে তিনি পছন্দ করেন না। তাই পলকের এহেন ব্যবহারেও মন গললো না তার। গম্ভীর স্বরে বললেন, হুম। ভেতরে যাও এখন।
_জ্বী। বলেই ওখান থেকে চলে গেল পলক। সে যেতেই চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই অবাক হলেন তিনি।আজ চায়ের স্বাদটা অন্যরকম। বেশ ভালো লাগলো তার।চায়ের কাপে আরাম করে আরেকবার চুমুক দিতে দিতে তিনি বললেন,
মাশাল্লাহ!
_________________________________
ডাইনিং টেবিলে সবাই একত্রিত হয়েছে। আজ নাস্তা পলক বানিয়েছে শুনে প্রথমে কিছুটা রাগ করেছিলেন মিসেস.রেহনুমা। নতুম বউ কাল রাতে সবে পা রাখলো বাড়িতে আর আজই ঢুকে গেল রান্নাঘরে! গতকাল কতটা ধকল গেছে মেয়েটার উপর।আর আজ এত খাটাখাটনি করে নাস্তা বানালো এতগুলা মানুষের জন্য। কিন্তু পলক যখন বললো,নিজের মানুষদের জন্য কিছু করতে কষ্ট নয় বরং ভালো লাগে তখন আর রাগ করে থাকতে পারেননি তিনি। প্রথমে এই বিয়ে নিয়ে তারও আপত্তি ছিল।কারণ,পরিবার মধ্যবিত্ত হলেও মেয়েটাও শ্যামলা।কিন্তু, সিফাতের কথায় ভরসা করে রাজি হয়েছিলেন কেবল। পরবর্তিতে ধীরে ধীরে পলককে জানার পরে তার আচার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। ছেলে তার মানুষ চিনেই এমন মেয়েকে ঘরে তুলেছে।নিজের জীবনসঙ্গী করেছে। একমাত্র ছেলের বউ তার পলক। তার পরে এসব কিছুই পলকের হাতে পড়বে।তাই সব কিছু আপন করে নেওয়ার মত মেয়েই তিনি চেয়েছিলেন।আর পলক যেভাবে সবাইকে নিজের পরিবার বলছে তাতে তিনি বেশ স্বস্তি পেয়েছে।
পলক নাস্তা বানিয়েছে শুনে সবাই খুব এক্সাইটেড ছিল সেটা খাওয়ার জন্য। বিশেষ করে সিফাত। এই প্রথম সে পলকের হাতের রান্না খাবে। পলক প্রথমে সবাইকে সার্ভ করে খাওয়াতে চাইলেও সবার জোরাজুরি তাকেও একসাথেই এক টেবিলে বসে খেতে হলো। কিন্তু,ইয়ানা বায়না করলো সে তার মামণির হাতেই খাবে। তাই পলক তাকে নিজের প্লেট থেকেই খাইয়ে দিল।নিজেও খেলো ওটাতেই। রুকু,দিহান,সিফাত খুশি হলো খুব পলকের এহেন কাজে।
সবাই খুব মজা করে খেলো পলকের বানানো নাস্তা। প্রশংসাও করলো তার। কেবল সারা বাদে। ইশতিয়াক আলম মুখে কিছু না বললেও মিসেস. রেহনুমাকে কিছু টাকা দিয়ে ইশারায় বললেন পলককে দিতে। নতুন বউ প্রথম রান্না করলে তাকে খুশি হয়ে উপহার দিতে হয়।এক প্রকার সংস্কৃতি এটা আমাদের। কিন্তু,মিসেস. রেহনুমা মুখ ভেঙিয়ে বললেন, তোমার বউমা,তুমিই দাও নিজে। খুশি হবে সে। আমাকে কেন বলছো!
স্ত্রীর থেকে এমন ছোটখাটো মুখ ঝামটা খাওয়ার পর সবার সামনে আর সিনক্রিয়েট করতে চাইলেন তিনি। তাই পলককে টাকাটা বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,
_নাও,,এটা তোমার জন্য। প্রথমে কিছুটা ইতস্তত করলেও রেহনুমা চোখের ইশারায় তাকে নিতে বললে সেও নিল ওটা। মিষ্টি হেসে বললো, ধন্যবাদ বাবা। একে একে সিফাতের খালু,,দিহানও উপহার সরূপ কিছু ক্যাশ দিল পলককে। আবিদ বললো, আমার আর সারার পক্ষ থেকে টাকা দিলে সেটা খুব একটা ভালো দেখাবে না ভাবী। তাই আপনার উপহারটা তোলা রইলো।বিকালে পেয়ে যাবেন। রিহানও আবিদের পিছু পিছু বললো, হ্যাঁ,ভাবী।আমিও বিকেলে দিবো তোমার উপহারটা। তাতে আপত্তি জানিয়ে পলক বললো, না..না! উপহার লাগবে না কোন। আপনাদের খাবারটা ভালো লেগেছে সেটাই আমার স্বস্তি। আর কিছু লাগবে না আমার।
_উপহার তো ভালোবেসে দেওয়া হয় ভাবী, এর জন্য না বলতে নেই। -আবিদ বললো।
_এক্স্যাক্টলি!- রিহান বললো আবিদের কথায় সায় দিয়ে । রুকুও সায় দিল তাদের কথায়।প্রত্যুত্তরে পলক মিষ্টি করে হাসলো কেবল।
সবার উপহারের পালা শেষ হতেই সবাই সিফাতকে জিজ্ঞেস করলো সে কি দিবে উপহারে। সিফাতের কোন প্রস্তুতি ছিল না উপহার দেওয়ার। ক্যাশ থাকলেও সবার মত ক্যাশ দিতে ইচ্ছে হলো না তার। তাই জবাবে সে বললো,তারটাও তোলা রইলো। পরে দিবে সে।
___________________________________
দুপুরের দিকে বেশ কিছু মেয়ে মহিলারা এলো নতুন বউ দেখতে। পলককে দেখার পরে নানানজন নানান কথাই বলেছে। যার মধ্যে প্রধান বিষয় ছিল,এত মেয়ে থাকতে সিফাত শ্যামলা মেয়ে বিয়ে করে এনেছে। মেয়েটাকে সিফাতের তুলনায় খাটো লাগে। মেয়ের চেহারা ভালো হলেও সে শ্যামলা।আর সিফাত কত ফর্সা! সিফাতের সাথে বেমানান সে।তাদের বাচ্চা কাচ্চা হলেও এমন শ্যামলা হবে। মিসেস.রেহনুমা, রেহানা, রুকু এরা তাদের কথা আমলে নেয়নি। বরং, বলেছে পলককে তারা দেখে শুনেই পছন্দ করে এনেছে।তাই তাদের বাড়ির বউ যেমনই হোক তা নিয়ে তাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু,আমাদের সমাজে একপ্রকার মানুষ আছে যারা কখনোই অন্যের ভালোটা দেখে না।দেখতেই পারে না একপ্রকার। কেউ ভালো কিছু বললেও সেটাকে ভুল বা মিথ্যা বলে মনে করে। আসলে তাদের কাজই হয় নিজের নিম্নমানের মন মানসিকতা দিয়ে অন্যকে বিচার করা। নিজেদের কথায় অন্যকে হার্ট করা। এখানেও তাই হলো। একজন মহিলা বললেন,
_মুখে যতই বলো রেহনুমা…নিজের একমাত্র সুন্দর,ভালো ছেলের জন্য এমন মেয়ে কেউই চায় না। আর কথাই তো আছে, আগে দর্শনদারী পরে গুণ বিচারি! তাই যতই বলো এই মেয়েকে তোমরা পছন্দ করেই এনেছো,এই মেয়ের গায়ের রঙ নিয়ে তোমারও খুঁতখুঁতানি আছে মনে মনে। আমরা বুঝি সেটা।
উপরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিল সিফাত। মহিলার কথাগুলোও ঠিক কানে গেল তার। নীচে নেমে এলো সে। সুন্দর মত সবাইকে সালাম দিয়ে বললো,
_আসসালামু আলাইকুম। কেমন দেখলেন আপনারা নতুন বউকে?
_বউ তো বাবা ভালোই মনে হলো। ‘শান্তশিষ্ট। কিন্তু গায়ের রঙ যে শ্যামলা! তা কি দেখে এমন মেয়ে বিয়ে করে আনলে বাবা তুমি? -পলকে বারেবার শ্যামলা বলা মহিলাটি বললেন।
_ওই যে যেটা আপনারা দেখেও দেখতে পাচ্ছেন না।ওটা দেখেই আমি আর আমার পুরো পরিবার মৃন্ময়ীকে পছন্দ করে এনেছি।
_মানে?
_ওই যে আপনি বললেন না! আগে দর্শনদারী পরে গুণ বিচারী-ওটা দেখেই তো মৃন্ময়ীকে আমি নিজের স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে এবাড়ির বউ করে এনেছি।
_বুঝলাম না বাবা,তোমার কথাটা।
_না বোঝার কি আছে আন্টি!আপনি বললেন মৃণ্ময়ী শান্তশিষ্ট স্বভাবের। সত্যিই তাই। তার এই শান্তশিষ্ট স্বভাবের সাথেই আছে সুন্দর মানসিকতার একটা মন। যেটা তার শান্তমুখের আদলে স্পষ্ট দেখতে পাই আমরা।তাই জন্য এতক্ষণ যাবৎ আপনাদের সব অহেতুক কথা চুপচাপ শুনে যাচ্ছে সে,কিন্তু আপনারা গুরুজন বিধায় আপনাদের সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করবে এমন শিক্ষা তার নেই। কিন্তু,আপনারা তা দেখতে পাননি। তাই তাকে নিয়ে এসব বলছেন।তার রূপের বাহ্যিক আবরণটা দেখে তাকে বিচার করতে বসে গেছেন।কিন্তু, আমরা তার ওই রুপের দর্শনদারী করেই তার গুণ বিচার করেছি। নয় তো দর্শনদারীতে তো মাকাল ফলও কম কিছু নয়! কিন্তু,গুনবিচারিতে তার অবস্থান কোথায় সেটা আশা করি কারও অজানা নয়! বলেই মিষ্টি করে হাসলো সিফাত।
_হয়েছে হয়েছে বাবা! আর বউয়ের হয়ে কথা বলে তাকে মাথায় তুলো না। একবার মাথায় উঠে গেলে তোমাদের সবাইকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবে এই মেয়ে! ঘরের বউ তাকে ঘরের বউয়ের মতই রাখো।
_ওনার নাম মিসেস. সাজিয়া মেহরিন পলক। ওরফে মিসেস. সাফওয়ান সিফাত! আশা করি এরপর থেকে মনে থাকবে আপনাদের ওনার নামটা!
আর,হ্যাঁ,,কি যেন বললেন আন্টি? ঘরের বউ! You mean, housewife. তাহলে একটা মজার কথা বলি আপনাকে!
_কি কথা? চোখ সরু করে জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
_মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের সমাজে বাড়ির বউ যাকে বলা হয় Housewife মানে গৃহিণী..তাকেই আমাদের ধর্মে বলা হয় Queen of the house. অর্থ্যাৎ ঘরের রাণী! আর রাণীকে তো মাথায় করেই রাখতে হয়, তাই না বলুন? এই যে আমার মা, বোন,ছোটমা এদের দেখছেন এনারা একেকজন তাদের শশুড় বাড়িতে কেবল স্ত্রী বা বাড়ির বউ নয় একেকজন রাণী। তাহলে আমার বউই বা বাদ যাবে কেন বলুন! -বলেই আগের থেকেও চওড়া করে মিষ্টি হাসলো সিফাত।
সিফাতের কথায় মিটিমিটি হাসছে মিসেস.রেহনুমা,রেহানা আর রুকু। পলককে দেখতে আসা মহিলারা সব চুপ। কেবল পলকের চোখজোড়ায় উপচে পড়ছে সুখজল।
____________________________________
রাতে বেশ ধুমধাম করেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পলক-সিফাতের রিসিপশনের অনুষ্ঠানটা। গাঢ় ময়ূরকন্ঠী রঙের সাথে রুলালী আর নীল সুতো ও স্টোন দিয়ে কাজ করা সুন্দর একটা লেহেঙ্গা পড়ানো হয়েছে পলককে। সাথে মানানসই বিভিন্ন গয়না দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে তাকে। পলকের চাপা সৌন্দর্যকে যেন খুব করে বাড়িয়ে তুলেছে এই সাজ! বিশেষ করে মাথায় পড়ানো সোনার তাজটা। পলককে সত্যি সত্যি রাণীর মত লাগছে আজ। এই সাজে পলককে দেখেই সিফাত প্রথমে বলেছে,আমার রাণী মৃন্ময়ী!
তবে সিফাতকে রাজা না মনে না হলেও কোনো অতিসুদর্শন, সুপুরুষের চাইতে কম লাগছে না। ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট কম্বিনেশনের স্যুট, টাই, সু পড়েছে সে।দাঁড়ি কামিয়ে মুখ ক্লিন সেভ করেছে। চুলগুলো জেল দিয়ে সুন্দর করে সেট করা।হাতে ব্রেন্ডেড ঘড়ি। আজ যেন একটু বেশিই সুন্দর লাগছে তাকে। আজ সিফাতকে দেখে বড়সড় ধরণের ক্রাশ খেয়ে গেছে পলক । কিন্ত,মুখ ফুঁটে বলতে পারেনি কিছুই। তবে,তার চোখের লাজুকতায় সিফাত সে কথা ঠিক বুঝে নিয়েছে।
রিসিপশনের পার্টিতে পলকের পুরো পরিবার, অনেক আত্মীয়স্বজন এসেছিল। কেবল শাহনাজ বানু,,বিন্তি দাদী আর অন্তরা ছাড়া। সিফাতের অনেক অনেক বিজনেস ক্লাইন্ট,কলিগ আর বন্ধুবান্ধবও এসেছিল। এসেছিল তিয়ান আর বিথিও। তারা দুই বন্ধু খুব খুশি পলকে এভাবে দেখে।পলক যে সুখী এই বিয়েটায় তা তার চোখ মুখে স্পষ্ট।তিয়ানের দৃষ্টি এড়ালোনা সেটা। তার মনেও আর বিন্দুমাত্র কোন আফসোস নেই পলককে নিজের করে না পাওয়ার। সবাই খুব করে বলেছে ভীষণ মানিয়েছে তাদের এই জুটিটা। They r made for eachother.
খুব সুন্দর মত অনুষ্ঠিত হয়েছে রিসিপশনের পার্টিটা। বৌভাতের পরে নতুন বউ আর বরকে বউয়ের বাড়িতে ফিরানিতে নেওয়ার নিয়ম ।কিন্তু,তাদের বেলায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো তারা পরেরদিন দুপুরে যাবে পলকদের বাড়ি। তাই পার্টি শেষে আলম ম্যানশনেই ফিরে এলো তারা।
_________________________________
রাতে বিছানায় ঘুমাতে গিয়ে পলক দেখলো বালিশ আবার গতকালকের মতই গুছিয়ে রেখেছে সিফাত। বিছানায় আধশোয়া হয়ে শুয়ে ছিল সিফাত। মোবাইলে কিছু একটা করছিল। পলককে দেখতেই মোবাইলটা বেড সাইড টেবিলের উপর রেখে তাকে বললো,
_আসুন মৃন্ময়ী! বিছানা রেডি। শুয়ে পড়ুন।
পলক কিছু না বলে বাধ্যমেয়ের মত তার জন্য বরাদ্দকৃত জায়গাটায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। সাইড টেবিলের ল্যাম্প সুইচ অফ করে শুয়ে পড়লো সিফাতও। আর আজও পুনরাবৃত্তি করলো গতরাতের কাজটাই। পলকের পেটে চেপে ধরে তাকে নিজের কাছে টেনে আনলো। আবার সোহাগমাখা রাগ দেখিয়ে বললো,
_উফ..মৃন্ময়ী! রোজ রোজ কেন টানাটানি করতে হয় আপনাকে? নিজে থেকে জায়গামত শুতে পারেন না আপনি?
পলক পুরো তাজ্জব বনে গেল এবারে। সিফাতের ভাব এমন যে এটা কোন নিয়ম যে পলককে রোজ এভাবেই তার কাছ ঘেঁষে শুতে হবে । সেও পাল্টা জবাব দিল আজ।বললো,
_এটা কোন নিয়ম নাকি যে আমি জানবো!
_নাআ..আ। ঠিক নিয়ম নয় আবার নিয়মও!
_আচ্ছা! তা কোথাকার নিয়ম শুনি?
_সিফাত রাজ্যের নিয়ম। বিশেষভাবে আর শুধুমাত্র তার মৃন্মীর জন্য।উহু..রাণী মৃণ্ময়ী জন্য! -বলেই সকৌতুক হাসলো সে। পেটে চেপে ধরেই পলককে আরেকটু কাছে টেনে আনলো তার। পলক চুপ হয়ে গেল।বলার মত আর কিছুই যে খুঁজে পেল না সে সিফাতের এমন অধিকারবোধের বিপরীতে। কেবল মুচকি হাসলো খানিক।
পলক তার দিকে পিঠ দিয়ে শুয়ে আছে। সিফাতও ওভাবেই জড়িয়ে ধরে আছে তাকে। একটু পরে মাথায় সিফাতের হাতের স্পর্শ পেল পলক। বিলি কাটতে কাটতেই সিফাত বললো,
_মৃন্ময়ী!
_হু…
_আজ দুপুরে যেটা ঘটেছে সেটা ভীষণ খারাপ লেগেছে আপনার,না?
_ না..অভ্যাস আছে আমার এসব শোনার।
_বদভ্যাস এটা।
_ভাগ্যের পরিহাস।
_আপনাকে আজ একটা কথা বলি মৃন্ময়ী। আজ থেকে আমৃত্যু এটা মেনে চলবেন আপনি।
_জ্বী বলুন।
_আপনি ত্রিভুবনের সবচেয়ে দক্ষ আর সুন্দর কারিগরের হাতে তৈরী। উনি আপনাকে যেভাবে তৈরী করেছেন তেমনভাবেই নিখুঁত গড়ন আপনার। কিন্তু,এই গড়ন তখনই পুরোপুরি নিখুঁত হবে যখন আপনি নিজের সুন্দর স্বভাব,চরিত্র আর অভ্যাস দ্বারা ওগুলোকে পরিচর্যা করবেন। আমরা মানুষ মৃণ্ময়ী। আমাদের মাঝে ভালো খারপ দুটোরই বাস। কেউ ভালো তো কেউ ভালো নই।তাই আপনার রূপ রঙ নিয়ে কে কি নেগেটিভ কমেন্ট করলো সেটা একদম কানে তুলবেন না আপনি।মন অবদি যাওয়া তো অনেক পরের কথা। আমি চাই আমার মৃন্ময়ী যেমন এই ঘর এই সংসারের রাণী তেমনি নিজের ক্ষেত্রেও সত্যিকারের রাণীর মতই তেজস্বী, ধৈর্যবতী, উদার, মমতাময়ী আর শক্ত মনোবলের হোক। নিজেকে নিজের প্রকৃতরূপে ভালোবেসে তার রবের সৃষ্টির প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করুক।তার প্রশংসায় করুক। তার শুকরিয়া করুক এমন মায়াবতীর রূপ দেওয়ার জন্য। আমার রাণীটা এমন হবে তো মৃন্ময়ী?
পলকের মাথায় বিলি কাটতে কাটতে কথা গুলো বলছিল সিফাত।বুঝতে শেখার পর থেকে নিজের রূপ রঙ নিয়ে কোন কালেই আফসোস ছিল না পলকের। কিন্তু, কিছু কিছু সময় তারও মন ভেঙে যায় লোকের এমন কথায়। খারাপ লাগে তারও। কিন্তু সমাজের এই নেতিবাচক ধারণা বহু বহু বছরের পুরোনো। কতজনকে চুপ করাবে সে! তাই সহ্য করে নেয় এসব।
তবে, সিফাতের কথা শেষে তার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তার দিকে ফিরলো পলক। তার মুখের দিকে তাকিয়ে ঘোর লাগা কন্ঠে পাল্টা প্রশ্ন করলো,
_আপনি এত ভালো কেন?
_কারণ আমি আমার রবকে ভালোবাসি! আর আমার জন্য বরাদ্দ করা তাঁর দ্বিতীয় সেরা রহমত, মৃণ্ময়ীকেও! – বলেই পলকের কপালে প্রগাঢ় ভাবে এঁকে দিল তার প্রেমময় স্পর্শ।
চলবে…
#ভালোবাসি_প্রিয়
(রিপোস্ট)
পর্ব_৩৬
©জারিন তামান্না
ঘরের এ মাথা থেকে ও মাথা অবদি পায়চারী করে চলেছে পলক। মেজাজ খারাপ তার। প্রচন্ড মেজাজ খারাপ। অপেক্ষা করছে সিফাতের ঘরে আসার। কিন্তু,নতুন জামাইকে পেয়ে গল্পে মেতে উঠেছে আমজাদ আলী,পলাশ,পলকের চাচা, মামা আর অন্যান্য অনেক আত্মীয়স্বজনই। আজ দুপুরে ফিরানিতে এসেছে তারা পলকদের বাড়িতে। ফেব্রুয়ারি মাসেও দিন মোটামুটি ভালোই ছোট হয়। সময় চলে যায় তাড়াতাড়ি। তাই,,নতুন জামাই বরণ করে,,সবার আদর আপ্যায়ন করতে করতে দুপুরের খাওয়াটাই দেরি হয়ে গেছিল। আর সেই সন্ধ্যা পর থেকে একে একে মানুষ আসছে নতুন জামাই দেখতে। তার সাথে কথা বলতে। আর সিফাতও নিরলস আর বিরামহীনভাবে তাদের সাথে পরিচিত হচ্ছে। গল্প করছে। আর পাড়া -প্রতিবেশীদের বিদায়ের পর বাসার মানুষজন ঘিরে ধরেছে সিফাতকে।
সবাই নতুন জামাইয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। পলকের এত ভালো ভাগ্য নিয়েও অনেকেই অনেক কথাই বলছে। আবার অনেকে অনেক ধরণের বিব্রতিকর প্রশ্নও করেছে তাকে। যার উত্তর পলক দিতে পারেনি। যার কারণ অনেকটা সিফাতও। তাই সে সিফাতের সাথে একটা বোঝা পড়া করবে বলে অপেক্ষা করছে তার।
____________________________________
রাত ১১:৩০ মিনিট।
সবেমাত্র ঘরে এসেছে সিফাত। পলকের ঘরটাতেই আজ রাতের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে তাদের। ঘরে ঢুকে পলককে বললো, ব্যাগ থেকে তার জামা কাপড় বের করে দিতে। কিন্তু,,পলক সেটা শুনেও যেন শুনলো না। নিজের মত পায়চারি করে যাচ্ছে সারা ঘরময়।
ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে হাতের ঘড়িটা খুলে রাখছিল সিফাত। আয়নায় চোখ পড়তেই দেখলো পলক ওভাবে পায়চারী করছে ঘরে। এখনো শাড়িই পড়ে আছে সে। চেঞ্জ অবদি করেনি। ঘড়িটা ড্রেসিংটেবিলের উপর রেখে বললো, পেটে ব্যাথা করছে কি আপনার?
সিফাতের এহেন প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেল পলক। হতবাক স্বরে প্রশ্ন করলো,
_পেটে ব্যাথা করবে কেন?!
_সে তো কত কারণেই করতে পারে। কিন্তু, আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে পেট ঠিক আছে আপনার। তাহলে এভাবে ইঁদুরের মত ঘরময় পায়চারী করছেন কেন?
_কিহ? ইঁদুর! আমাকে ইঁদুরের মতো লাগছে আপনার?
_না..আ.. আ। আপনাকে ইঁদুরের মত লাগবে কেন, আপনার কাজটা লাগছে। তাই বললাম আর কি! যাই হোক, হয়েছেটা কি সেটা বলুন।
_কি আর হবে, মানুষের হাসি ঠাট্টার পাত্রী হতে হয়েছে আমাকে। মানুষগুলা এমন কেন!!
পলকের মুখ কাঁদো কাঁদো। পলক খুব সহজে কাঁদে না,এটা সিফাত জানে খুব ভালো করেই। তাই তাকে এভাবে কাঁদো কাঁদো অবস্থায় দেখে চিন্তায় পড়ে গেল সিফাত। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে পলকের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ালো সে। আলতো হাতে এক হাত পলকের গালে রেখে চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করলো তাকে,
_কি হয়েছে মৃণ্ময়ী? কে কি বলেছে আপনাকে?
_কে আবার বলবে! ওরাই তো বলেছে।
_কারা?
_আমাকে দেখতে এসেছিল যারা।
সিফাত সঠিক বুঝলো না পলক ঠিক কাদের কথা বলছে। তাই এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে জিজ্ঞেস,
_আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু,কি বলেছে সেটা তো বলবেন?
_এটা কি উপহার দিয়েছেন আপনি আমাকে বাসররাতে হ্যাঁ?? রাগ রাগ গলায় বললো পলক।
_কি গিফট দিবো আবার! বিছাটা তো দিয়েইছি। কেন আরও কিছু লাগতো আপনার? I mean, অন্য কিছু লাগবে? লাগলে বলুন আমি কিনে দিবো।
_ধুর!
_কিইই??
_আচ্ছা,,,আপনাকে কে বলেছিল এত কিছু থাকতে এই বিছাটাই দিতে? আপনি জানেন আজকে অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেছে বাসররাতে আপনি কি দিয়েছেন আমাকে!
_হ্যাঁ,,তো? আপনি বলেননি কি দিয়েছি?
_বলেছিল তো! আর বলেই তো কাল হয়েছে আমার!!
_মানে??
_বিছা দিয়েছি বলার পরে তারা দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি দেখাতে পারিনি। তার জন্য আমাকে কত কি বলেছে জানেন?
_না জানিনা.. – সিফাতের নির্বিকার উত্তর। তা দেখে পলকের মেজাজ আরও খারাপ হলো। গাল থেকে সিফাতের হাত সরিয়ে দিয়ে উত্তেজিত কন্ঠে বললো,
_বলেছে আমি আমাদের বাসর রাতের চিহ্ন দেখাতে চাইছিনা বলেই বিছাটা দেখাচ্ছি না। অনেকে তো বলেইছে যে আপনি কিছুই দেননি আমাকে তাই দেখাচ্ছি না।মিথ্যা বলছি। কি একটা বাজে অবস্থায় পড়তে হয়েছিল আমাকে ভাবুন তো!
সিফাত পুরো হতভম্ব। সামান্য একটা বিছা দেখানো নিয়ে এমন কি ঘটলো যার জন্য পলক এভাবে রিয়্যাক্ট করছে..বুঝতে পারলো না সিফাত। তাই তার সেই হতভম্ব স্বরেই প্রশ্ন করলো পলককে,
_বাসর রাতের চিহ্ন মানে?
_বাসররাতের চিহ্ন বোঝেন না আপনি?? লাভ সাইন চিনেন না?? লাভ সাইন!! ওটাকেই বুঝিয়েছে ওরা!! সবাই বুঝে অথচ আপনিই বুঝছেন না। হড়বড়িয়ে বলে ফেললো পলক।
সিফাত এতক্ষণে বুঝলো ব্যাপারটা কি! ব্যাপারটা ধরতে পেরে একটা দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল তার মাথায়। পলক মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বড্ড হাসি পেল সিফাতের কিন্তু সে সেটা চেপে গেল। তারপর, পলকের পেছনে গিয়ে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাকে। মিশিয়ে নিল তার বুকের সাথে পলকের পিঠ। পলক এতে কিছুই বললো না। কোন প্রতিক্রিয়াও দেখালো না। তার এখন এসবে খেয়াল নেই। কিন্তু, তার কোমড় চেপে ধরে তার কাঁধে থুঁতনি ঠেকাতেই সিফাতের খোঁচা খোঁচা দাঁড়ির স্পর্শে ঈষৎ কেঁপে উঠলো পলক। কিন্তু,মুখে কিছুই বললো না। কাঠ হয়ে মিশে রইলো সিফাতের সাথে। পলককে ওভাবে জড়িয়ে ধরেই সিফাত বললো,
_তা ক’টা লাভ সাইন দিতে পেরেছি আমি বলুন তো? যার জন্য ওরা এত কিছু ভেবে নিয়েছে। আমার তো ঠিক মনে পড়ছে না। আসলে গুণে দেখা হয়নি সে রাতে। আপনি জানেন বোধয়,,বলুন তো আমাকে!
সিফাতের এহেন কথায় থতমত খেয়ে গেল পলক। চট করেই তার খেয়েল হলো হড়বড়িতে কি বলে ফেলেছে সে সিফাতকে। ভীষণ রকম লজ্জায় পড়ে গেল পলক। কিন্তু,সিফাতও নাছোড়বান্দা। তার প্রশ্নের উত্তর না নিয়ে সে ছাড়বেই না পলককে আজ। তাই আবারও জিজ্ঞেস করলো পলককে,
_আপনিও গুণেননি বোধয়। ব্যাপার নাহ,,দাঁড়ান আমিই গুণে নিচ্ছি আজ।
ভয় পেয়ে গেল পলক সিফাতের এহেন কথায়। সিফাত তাকে সবরকম ভাবে স্পর্শ করার অধিকার রাখে, এটা জানে পলক। কিন্তু, আচমকা এমন কিছুর জন্য মোটেও প্রস্তুত নয় সে।আর এমনিতেই সে তার এহেন নির্বোধতায় লজ্জায় পড়ে আছে তারওপর সিফাত যেভাবে বলছে তাকে পুরোপুরি সিরিয়াস মনে হলো পলকের। একবার সিফাতের বাঁধন হতে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলো সে।কিন্তু,সিফাতের বলিষ্ঠ শরীরের আয়ত্ত আর শক্ত বাঁধনের কারণে সম্ভব হলো না সেটা। তাই ভয়ার্তক কন্ঠে আমতা আমতা করতে করতেই বললো পলক,
_এ…এ..এমন কিছু না। আ..আ…আমি তো আসলে ওভাবে বলিনি। মানে,,আমি তো অন্য কারণে ওটা দেখাতে পারিনি।
_অন্য কারণ? আচ্ছা! তা কি কারণ শুনি?
_আ..আমি তো লজ্জায় দেখাতে পারিনি। ওভাবে শাড়ির আঁচল উঠিয়ে দেখানো যায় নাকি কাউকে কিছু!! লজ্জা লাগে তো!
_এক্স্যাক্টলি মৃন্ময়ী! উচ্ছ্বাসিত স্বরে বললো সিফাত।
_কি? অবাক স্বরে প্রশ্ন করলো পলক।
_এই যে আপনি লজ্জায় কাউকে দেখাতে পারেননি। আর আপনি যাতে কাউকে দেখাতে না পারেন তাই জন্যই তো দিয়েছি ওটা। বলেই মুচকি হাসলো সিফাত।
_মানেএএ?? বিস্মিত কন্ঠে পলকের জিজ্ঞাসা!
_উউউমমম…মানে! মানে হচ্ছে, আপনাকে আমি কি দিয়েছি সেটা অন্যকে কেন দেখাতে হবে বলুন তো? হাজবেন্ড ভালোবেসে তার ওয়াইফকে কিছু গিফট করবে সেটা অন্যকে দেখিয়ে শো অফ কেন করতে হবে! আর হাজবেন্ড ওয়াইফের মাঝে ঘরের চারদেয়ালে কি ঘটে না ঘটে কিংবা কার বাসররাতে কি হলো এটা বাইরের কারও জানতে চাওয়াটা কোন ভদ্র মানসিকতার পরিচয় বলতে পারেন?
বিছাটা আমার ভালো লেগেছে,তাই ওটাই দিয়েছি আমি,,আপনি ব্যাতিত আপনাকে দেখার একমাত্র হকদারও আমি। বাকি সবার থেকেই স্বাভাবিক বা পর্যাপ্ত পর্দা করা জায়েজ আপনার জন্য।শুধু মাত্র পরিস্থিতির প্রয়োজনে আমি আর আপনি ব্যাতিত কোন মহিলা বা পুরুষ আপনাকে আংশিক পর্দাহীন দেখতে পারে। সেটাও সংযতভাবে। তাহলে পাড়া প্রতিবেশির মহিলা বা আপনার বোন বান্ধুবীদের কেন এভাবে শাড়ির আঁচল সরিয়ে আপনার গয়না দেখাতে হবে?
_এটা এক ধরণের সামাজিকতা। বিয়ের পর স্বাভাবিক ভাবেই দেখতে চায় সবাই।
_যে সামাজিকতা আপনাকে অস্বস্তি বা বিব্রতিকর অবস্থায় ফেলবে সেটা মানার কোন মানে নেই মৃন্ময়ী। এহেন সামাজিকতা এড়িয়ে চলতে পছন্দ করি আমি। আর এখন থেকে আপনিও তাই করবেন। ওকে?
_পলক চুপ। বলছে না কিছু। তা দেখে সিফাত বুঝলো তার কথাগুলো পলকের কানে গেলেও মাথায় ঢুকেনি। তাই তাকে বোঝানোর জন্য আবার বললো,
_দেখুন মৃন্ময়ী…হাজবেন্ড ওয়াইফের সম্পর্কটা ধার্মিক তথা সামাজিক হলেও সম্পর্কের বসবাস, বৃদ্ধি, বিচ্ছেদ কিংবা ভিত্তি যাই বলুন না কেন সেটা কিন্ত দুটো মানুষ আর চারদেয়ালের মাঝেই ঘটে। সেই সম্পর্কে ভালোবাসা,মান অভিমান যাই ঘটুক না কেন তা কেবল চার দেয়ালেই রাখাতে হয় শুধুমাত্র কোন ভাইটাল ইস্যু হলে সেটা ঘরের চার দেয়াল থেকে বাড়ির চার দেয়াল অবদি নেওয়া যেতে পারে। আবার পরিস্থিতি বিবেচনায় এর থেকে বেশিও হতে পারে সেই গন্ডি। তাই আপনার আমার ভালোবাসার জন্ম, বৃদ্ধি, বেড়ে ওঠা এই সব কিছু থাকবে আপনার আমার মনে,শরীরে আর আমাদের ঘরের চারদেয়ালে। কেবল সম্পর্কের টিকে থাকা, স্বাভাবিকতা, সুস্থতাটা দেখবে অন্যরা। আর আমি আপনাকে কি দিচ্ছি না দিচ্ছি,বা আমি আপনার থেকে কি পাচ্ছি বা না পাচ্ছি এটা যেমন আমি বাইরের কারও কাছে প্রকাশ করতে যাবো না,তেমনি আপনিও বলতে যাবেন না।
ঠিক আছে?
_জ্বী।
_এই তো গুডগার্ল।
_স্যরি। অপরাধী কন্ঠে বললো পলক।
_কেন?
_আমি আসলে ওভাবে ভেবে দেখিনি। তাই তাদের কথায় কাজে মেজাজ খারাপ হয়ে গেছিল আমার।ওই জন্যই ওভাবে বলে ফেলেছি আমি। ওভাবে বলাটা ঠিক হয়নি আপনাকে। স্যরি।
পলকের কথা শুনে আলতো হাসলো সিফাত। মেয়েটা এত সহজ সরল! আবার ভীষণ মিষ্টিও।আস্ত মায়াবতী একটা।
_No problem ! বলেই টুক করে একটা চুমু খেলো সে পলকের টলটলে গালে।আচমকা সিফাতের এহেন কাজে চোখ বড় বড় হয়ে গেল পলকের। থতমত খাওয়া গলায় প্রশ্ন করলো, এইটা কি হইলো??
_কেন ঠিকঠাক হয়নি? বোঝেননি আপনি? আচ্ছা,,দেখাচ্ছি আবার। বলেই আরেকটা চুমু খেলো পলকের অন্য গালে। তবে এবারেরটা একটু গভীরই ছিল বটে। তারপর বললো, আদর করলাম।এবারেরটা কিন্তু ডীপ এন্ড লং ছিল। বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয় ঠিকমত? বলেই দুষ্টু হাসলো সিফাত।
পরপর দুবার এমন আদুরে আক্রমণে পুরোদস্ত অপ্রস্তুত হয়ে গেছে পলক। অনেকটা ইলেকট্রিক শকের মতই ঝটকা ছিল এগুলো তার জন্য। আর তারপরে আবার সিফাতের এহেন কথায় পলক পুরো ‘থ’! লজ্জায় মরি মরি অবস্থা তার। আর এদিকে পলকের কোন সাড়া না পেয়ে সিফাত বুঝলো,এই মূহুর্তে ঠিক “ধীরেসে লাগা জোরকা ঝাটকা” টাইপ অবস্থা তার মৃন্ময়ীর। তাই তাকে আর বিব্রত না করতেই তাকে ছেড়ে মাথায় একবার হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো, যান…জামা কাপড় বের করুন। চেঞ্জ করে ঘুমাবো।টায়ার্ড লাগছে। সিফাতের থেকে ছাড়া পেয়ে পলক আর এক মূহুর্ত দেরি করলো না। ঝটপট সিফাতের কাপড় বের করে দিয়ে রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেল। তার এহেন লাজুকতা দেখে সরোজে কতক্ষণ হাসলো সিফাত। তারপর, জামা কাপড় নিয়ে চলে গেল ওয়াশরুমে।
পলক যখন ঘরে ঢুকলো তখন রাত ১২:৪০ বাজে। সে ইচ্ছে করেই দেরি করে এসেছে যেন তাকে সিফাতের সামনে না পড়তে হয়। নইলে যে আরও লজ্জা পাবে সে। আর রোজ তাকে যেভাবে জড়িয়ে ধরে ঘুমানোর আগে,তাতেও লজ্জা পায় পলক। কিন্তু,সিফাতকে বারণ করতেও ইচ্ছে করে না তার। রোজ সিফাতের বিলি কেটে দেওয়া, ঘুমানোর আগে,ঘুম থেকে উঠার আগে কপালে তার স্পর্শ পেতেও ভালো লাগে তার। তাই লজ্জা লাগলেও মুখ ফুঁটে বলেনা সেটা। কিন্তু,আজ যা করলো সে,তারপরে তার সামনে যেতেও লজ্জা লাগছে পলকের।তাই সিফাতের ঘুমিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করছিল সে। আর সিফাত বলেছিল টায়ার্ড লাগছে তার।তাই এতক্ষণে হয় তো ঘুমিয়েও গেছে সে।
চুপ করে ঘরে ঢুকলো পলক। আস্তে করে জামা কাপড় নিয়ে চলে গেল ওয়াসরুমে। ফিরে এসে শুতে গিয়ে দেখলো বালিশটা রোজকার মতই রাখা তার জন্য। পলক বুঝে না কেন সিফাত এই কাজটা করে! শুধুমাত্র তাকে জড়িয়ে ধরতে সুবিধা হয় বলে? কিন্তু সেটা তো এমনিতেও ধরতে পারে।তবুও এমন করার কি কারণ, ভেবে পায় না পলক।বাধ্য হয়ে তাই পলককেও ওখানেই শুতে হলো।আর শোয়া মাত্রই সিফাত তার রোজকার কাজটাই করলো। পলকে নিজের কাছাকাছি নিয়ে আজ খানিক শক্ত করেই জড়িয়ে ধরে বললো, আর একদিন যদি আপনাকে টানাটানি করতে হয় না মৃন্ময়ী, তাহলে কিন্তু এটুকু ছেড়ে পুরোটা জাপটে ধরবো আপনাকে! পরে আপত্তি করতে পারবেন না আপনি কোন। আর করলেও আমি শুনবো না। বলেই পলকের দিকে ঝুঁকে গভীরভাবে চুমু দিলো তার কপালে। বললো, ঘুমোন এবার। গুড নাইট। তারপর, বাচ্চাদের মত তাকে জাপটে ধরে পলকের মাথায় বিলি কাটতে কাটতেই চোখ বুজলো সে।
পলক বাকরুদ্ধ!একটুপরে পলক টের পেল সিফাতের ঘন ঘন নিঃশ্বাস এসে ছড়িয়ে পড়ছে তার ঘাঁড়ে। সিফাত ঘুমিয়ে গেছে। সেটা টের পাওয়া মাত্রই অন্যহাতে তার পেটের উপর রাখা সিফাতের হাতটায় হাত বুলালো পলক। তারপর ওটাকে আলতো করে ধরেই চোখ বুজলো সে।
____________________________________
এক সপ্তাহ পর,
বিছানায় শুয়ে এপিঠ ওপিঠ করছে পলক।।কিন্তু, ঘুম আসছে তার একদমই। আসবেই বা কি করে,আজ তাকে কেউ জড়িয়ে ধরে নেই। কেউ তার মাথায় বিলি কাটছে না। দেয়নি তার কপালে নিজের প্রেমময় স্পর্শ। মাত্র ১০ দিনেই। একপ্রকার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে সিফাত তার। প্রতি রাতে তার জড়িয়ে ধরা, মাথায় বিলি কাটা তাকে এটা ওটা বলা সবকিছুই ভীষণভাবে মিস করছে সে। আজ সন্ধ্যার ফ্লাইটে লন্ডন গেছে সিফাত। বাসা থেকে বেরিয়েছে দুপুরের পর পরই। আজ তার ছুটি শেষ হবার পর প্রথম ফ্লাইট। অফিসিয়াল ফর্মালিটিজ কমপ্লিট করে জয়েন করতে হবে আজ। তাই আগেই বেরিয়ে গেছে। বিয়ের পর আত্মীয়দের বাড়িতে দাওয়াত খেতে, তাদের খাওয়াতেই কেটে গেছে এ ক’দিন।তাই দিন দাহারে একত্রে কাটানোর মত খুব একটা সময় নিজেরা না পেলেও ,নিয়ম করে প্রতিটি রাত আর ভোরের সময়টা কাছে পেয়েছে সিফাতকে সে। তাই আজ সে যাওয়ার পর থেকেই কেমন যেন খালি খালি লাগছে। আজকে সারাদিন খুব ব্যস্ততায় গেছে তার। যতবারই সে ঘর থেকে বেরিয়েছে সিফাত ডেকে এনেছে। এই ওই বলে করিয়ে ঘরেই বসিয়ে রেখেছিল একপ্রকার। এমনকি নিজের কাজগুলো নিজে করা মানুষটাও আজ তার প্যাকিং এর প্রতিটা জিনিস পলককে দিয়ে প্যাক করিয়েছে। দুপুরে পলকের প্লেটেই একসাথে খেয়েছে সে। যাওয়ার আগে পলকের কপালে দেওয়া চুমুটাও বেশ গভীর আর দীর্ঘছিল আজ। সেই সব কিছুই বারবার মনে পড়ছে পলকের আর অস্থিরতা বাড়ছে তার ভেতর ভেতর। এই মূহুর্তে তাকে কল করাও সম্ভব না। ফ্লাইটে সে এখন। সিফাত বলে গেছে হোটেলে গিয়ে কল করবে তাকে। কিন্তু,,পলকের অপেক্ষার সময় যেন কাটছেই না। নিজের ফোনটা বের করে গ্যালারিতে ঢুকলো পলক। সিফাত আর তার বিয়ের কিছু ছবি আছে সেখানে। ওগুলো দেখতে দেখতেই কাটিয়ে দিল নির্ঘুম একটা রাত।
ফজরের নামায পড়ে কফিটাও খাওয়া হলো না আজ তার। সিফাত নেই। রোজ তো সেই বানায়। মসজিদ থেকে ফিরে সোজা কিচেনে গিয়ে একমগ কফি নিয়ে তবেই ঘরে ঢুকে সে। রোজ একইভাবে পলককে ধরে দাড়িয়ে কফি খায়। এটা ওটা নিয়ে গল্প করে। তারপর নিজের অর্ধেকটা কফিসমতে মগ পলকের হাতে ধরিয়ে দিয়ে তার চুলের উপর চুমু দিয়ে জগিং এর জন্য যায়। আজ এসবের কিছুই হয়নি। সারারাত ঘুম হয়নি। ভালো লাগছেনা তার। এখন শুধু অপেক্ষা চলছে পলকের…তার ক্যাপ্টেনের একটা কলের।
__________________________________
গুণে গুণে তিনদিন পরে বাড়ি ফিরলো সিফাত। এই তিনদিনে একটা বারের জন্যও পলকের সাথে কথা বলেনি সে। বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিল সে পৌঁছেছে ঠিক মত। বাড়ি ফিরে আসার পর ঘরে গিয়ে দেখলো পলক ঘরে নেই। অবাক হলো সিফাত। ওয়াশরুমে গিয়ে দেখলো ওখানেও নেই। মৃন্ময়ী.. মৃন্ময়ী বলে দুবার ডাকলোও। কিন্তু,পলকের কোন সাড়া পাওয়া গেল না। সিফাতকে বলা হয়েছে পলক ঘরেই আছে। সে এসেছে বেশ রাত করেই। ঘড়িতে এখন ২ :০৯ বাজে। অথচ পলক ঘরে নেই। কি ভেবে যেন বেলকোনিতে গেল সিফাত। বেলকোনিতে গিয়ে দেখলো সেন্টার টেবিলের কাছে ঠ্যাস দিয়ে মেঝের বসে ঘুমাচ্ছে পলক। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল সে পলকের দিকে। বেঘোরে ঘুমাচ্ছে পলক। ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে পলককে ডাকলো সিফাত। কিন্তু, সে উঠলো না। চুলগুলো ফ্লোরে ছড়িয়ে আছে। অন্ধকারে তার মুখটা স্পষ্ট দেখতে পেল না সিফাত।পলকের কোন সাড়া না পেয়ে তাকে পাঁজকোলা করে কোলে তুলে নিল সিফাত। ঘরে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিতে গিয়ে পলককে দেখে চমকালো সে। তিনদিনেই কি হাল হয়েছে পলকের! চোখমুখ শুকিয়ে গেছে। চোখের নীচে কালচে হয়ে আছে। হঠাৎ এমন হওয়ার কোন কারণ খুঁজে পেল না সিফাত। পলককে ঠিকভাবে শুইয়ে দিয়ে বিছানা ছেড়ে দাঁড়াতেই দেখলো সাইড টেবিলের উপর ঘুমের ঔষধের স্লিপ রাখা। নতুন স্লিপ। আর ওখান থেকে একটা ঔষধ খাওয়া হয়েছে। সিফাতের আর বুঝতে বাকি রইলো না ওটা পলকই খেয়েছে। তাই এমন বেঘোরে ঘুমাচ্ছে সে। প্রচন্ড রাগ হলো সিফাতের। কি অবস্থায় রেখে গিয়েছিল আর কি অবস্থা হয়েছে তার মৃন্ময়ীর! এখন শুধু পলকের ঘুম ভাঙার অপেক্ষা তার। যা বোঝাপড়া হওয়ার তখনই হবে।
পলককে রেখে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় এলো সিফাত। পলককে কাছে নিয়ে মনভরে দেখলো বেশ কিছুক্ষণ। বেঘোরে ঘুমাচ্ছে সে। তিনদিন সে তার মৃন্ময়ীকে দেখেনি। একটাবার কল বা ম্যাসেজও করেনি। সে আসলে দেখতে চেয়েছিল পলক কি করে। তাকে মিস করে কিনা! কিন্তু পলকও কেন যেন একবারও কল করেনি তাকে। তবে ফিরে এসে পলকের এমন অবস্থা দেখার বিন্দুমাত্র ধারণা তার ছিল না।
পলকের কপালে খুব শক্তপোক্ত একটা চুমু খেলো সিফাত। তারপর অভ্যাস মতো তাকে জাপটে ধরে শুয়ে রইলো। পলকের মাথায় বিলি কেটে দিতে দিতে একটা সময় তারও চোখ বন্ধ হয়ে এলো!
………………………………………………………………………………………
সকাল ৬: ১৯ মিনিট।
আসসালামু আলাইকুম মৃন্ময়ী। ঘুম ভালো হলো? নাকি দু চারটে স্লিপিং পিলস লাগবে আরও তোমার?
সবেই পিটপিট করে চোখ খুলছিল পলক। আচমকা সিফাতের গলা শুনে চমকে উঠে বসলো সে। পাশে তাকাতেই দেখলো আয়নায় সিফাতকে দেখা যাচ্ছে।তারই পাশে বসে আছে সিফাত। সিফাত কখন এসেছে মনে করতে পারছে না পলক। কিন্তু,সিফাতের কথা শুনে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ভীষণ রেগে আছে সে। খানিক ভয় পেল পলক। মিনিমিনে গলায় সালামের জবাব দিলো সে।
_ওয়ালাইকুম আসসালাম। কখন এসেছেন আপনি? ডাকেননি কেন আমাকে?
_স্লিপিং পিল কেন খেয়েছিলে মৃন্ময়ী?
_ওওও..ওটা আসলে..
_চেহারার এই হাল হয়েছে কেন তোমার? তোমাকে কি এই অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম আমি? খানিক ধমকের স্বরেই বললো সিফাত। ভয়ে কেঁপে উঠলো পলক। আমতা আমতা করে বললো,
_আ..আসলে ঘুম হচ্ছিল না দু’দিন ধরে , তাই আর কি একটা…
_ঘুম না হওয়ার কারণ?
_জানি না ঠিক।
_উঠো রেডি হও। ডাক্তারের কাছে যাবো আমরা।
_ডাক্তার কেন?!
_তোমার চেক আপ করাতে। ঘুম কেন হচ্ছে না সেটা দেখাতে। উঠো। Do fast.
_ না..না..ডাক্তার লাগবে না। ঠিক হয়ে যাবে এমনিতেই।
_চুপচাপ রেডি হও মৃন্ময়ী।
_আরেএএ….ডাক্তার লাগবে না বলছি তো। আপনি এসেছেন এবার এম্নিতেই ঘুম হবে আ… বলতে বলতেই থেমে গেল পলক। সিফাত হতভম্ব চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
_এটা কি ধরণের লজিক মৃন্ময়ী?
_কিছুনা। দেখি সরুন। যেতে দিন আমায়।স্কুলে যেতে হবে।
_কবে জয়েন করেছো?
_গতকাল থেকে।
_অহ, আচ্ছা।
_বিছানা ছেড়ে নেমে চুলগুলো খোপা করছিল পলক। আচমকা পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরলো সিফাত। বললো,
_কেমন আছেন মৃন্ময়ী?
_আলহামদুলিল্লাহ, আপনি?
_ভালোই।
_কখন এসেছেন?
_গতকাল রাতে। আপনি ঘুমিয়ে ছিলেন বলে টের পাননি।
_হ্যাঁ,,ওই মেডিসিনের এফেক্টের কারণে।
_বেলকনিতে কেন গিয়েছিলেন এত রাতে?
_ঘরে ভালো লাগছিলনা তাই বসেছিলাম গিয়ে। কিন্তু কখন ঘুমিয়ে গেছি টের পাইনি।
_ মিস করেছেন আমায়?
_হ্য…বলতে গিয়েও’ না’ বললো পলক। সিফাতের প্রতি অভিমান হয়েছে তার। তাই সে কিছুতেই স্বীকার করবে না এ কথাটা।
_অহ।
_দেখি ছাড়ুন আমায়। দেরি হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু সিফাত ছাড়লো না তাকে। বরং আগের থেকেও শক্তকরে জড়িয়ে ধরে আর ঘোর লাগানো কন্ঠে বললো,
_মৃন্ময়ী!
_জ্বী?
_ভালোবাসি!
_আচ্ছা।
_৩ দিনে একবারও কল করেননি আপনি আমায়,মনে পড়েনি আমার কথা তাই না?
_আপনি ভুলে গেছিলেন আমায়। তাই গিয়ে কল করবেন বলেও করেননি। আমিও তাই আর বিরক্ত করিনি আপনাকে।
সিফাত এবারে বুঝলো আসল ব্যাপারটা।অভিমানে নিখোঁজ হয়েছিল তার মৃন্ময়ী তার থেকে। কি একটা ভেবে যেন মুচকি হাসলো সে। তারপর পলককে ধরে তার মুখোমুখি দাঁড় করালো। দু’হাতের আঁজলায় তুলে নিল পলকের অভিমানী মুখখানি। বললো,
_ভালোবাসেন আমায় মৃন্ময়ী?
নজর ঝুঁকিয়ে রেখেছিল পলক। সিফাতের এহেন কথায় ঝট করে চোখ তুলে চাইলো সে সিফাতের মুখপানে। সিফাতের চোখে ঘোর। তার মৃন্ময়ী ঘোর। সে চোখে পলকের প্রতি ভালোবাসাটাও স্পষ্ট। কিন্তু,,পলকের চোখ মুখে সংশয়। সে সিফাতকে ভালোবাসে না। সিফাত কাছে থাকলে ভালো লাগে তার সঙ্গ। তার অনুপস্থিতিকে তার কথা মনে পড়ে পলকের। বেশ কিছুদিন কারও সাথে থাকার পর দূরে গেলে এমন হয়। মানুষের স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক প্রকৃতি এটা।আজকাল সিফাত তার একরকম অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাকে ভালো লাগে পলকের। সম্মান, শ্রদ্ধাবোধও কাজ করে তার জন্য পলকের মনে।তাকে নিজের জন্য চায় পলক। কিন্তু এখনো মন থেকে ভালোবেসে উঠতে পারেনি সে সিফাতকে। আসলে ভালোবাসা বিষয়টা বড্ড অদ্ভুত। কারও কারও ক্ষেত্রে চট করেই হয়ে যায় আবার কারও কারও সময় লাগে। মোহ থেকে যে ভালোবাসার সৃষ্টি সেটা হতে খুব একটা সময় লাগে না,,কিন্তু ভালো লাগা থেকে ভালোবাসার পথটা একটু দীর্ঘই। মোহিত হওয়া মানুষ বা কোন কিছুর প্রতি শুরু একটা আকর্ষণ কাজ করে। আকর্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরে একটা সময় তা ভালোবাসায় পরিণত হয়। কিন্তু, ভালো লাগাটা সময়ের সাথে বাড়তে বাড়তে একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়।আর অভ্যাসটাই হয়ে যায় ভালোবাসা। কখনো কখনো তীব্র বদভ্যাসও হয়ে ওঠে এই ভালোবাসা। কিন্তু,পলকের ক্ষেত্রে এসব কিছুই তো ঘটেনি। তাই সিফাতকে সে ভালোবাসে কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে ঠিক কি বলবে সেটা বুঝতে পারছে না পলক। মিথ্যা সে বলতে চায় না আর সত্যি বললে সিফাত কষ্ট পাবে হয় তো। ফলে কিছুই বলতে পারলো না সে। পুনরায় চোখ নামিয়ে নিল সে। সিফাত তা দেখে নিরাশ হয়ে ছোট্ট একটা শ্বাস ফেললো। তারপর পলকে বুকে জড়িয়ে তার চুলের উপর গভীরভাবে চুমু দিলো সে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
_স্যরি। আর কখনো হবে না এমন।
পলক কিছু বললো না। কেবল মাথা ঠেকিয়ে চুপচাপ লেপ্টে রইলো সিফাতের বুকে।
চলবে…