[পর্বটা অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অপ্রাপ্ত মনষ্কদের জন্য নয়! নৃশং*স খু*নের বর্ণনা রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়বেন।]
#আমি_সেই_চারুলতা
#Shuvra_Priya (স্নেহা)
#পর্বঃ৩৩
_______________________
বিশ্বজিতের সাথে ষোড়শী সারদার সম্পর্ক এগোলো খুবই দ্রুত। এই বয়সটাই মেয়েদের আবেগের, তার ওপর বিশ্বজিত দেখতেও ছিলো সুপুরুষ। আর পাঁচটা ছেলের সাথে তাকে দাঁড় করালে এক দেখায় চোখে পড়ার মতোই দৈহিক গঠন ছিলো তার। সারদা দ্রুতই আকৃষ্ট হয়ে যায় বিশ্বজিতের প্রতি আর অপরদিকে বিশ্বজিৎ! তার মতো নিকৃষ্ট মানুষ দুটো আছে কি না সেটা নিয়ে তার নিজেরও বেশ সন্দেহ আছে৷ যতবারই সে সারদার প্রশংসা করেছে ততবারই নিজ মনে লালন করে কিছু বিকৃত ইচ্ছাকে। তবে সারদা ছিলো খুবই সহজ সরল মেয়ে। বিশ্বজিতের নোং*রা উদ্দেশ্য গুলো সে ধরতে পারেনি। অন্ধের মতো বিশ্বাস করে গেছে বিশ্বজিতকে। অবশ্য তার ভাগ্যটা সম্ভবত কিঞ্চিৎ ভালো ছিলো কারণ বিশ্বজিত যতই খারাপ হোক না কেনো, সারদার প্রতি তার মনে জন্ম নিয়েছিলো সত্যিকারের অনুভূতি আর এ অনুভূতি সম্পর্কে অবগত ছিলো শুধুমাত্র সারদা আর প্রতিমা। প্রতিমা বাচ্চা হলেও সকল ধরনের কাজে সাহায্য করেছে বিশ্বজিত আর সারদাকে। এতদিনে বিশ্বজিতকে সে নিজের দাদার মতোই ভালোবাসতে শুরু করেছে। বিশ্বজিত অবশ্য প্রতিমাকে বোনের মতো ভালো না বাসলেও বেশ স্নেহ করে। প্রতিমাই বোধহয় একমাত্র মেয়ে ছিলো যার প্রতি বিশ্বজিত কখনো কুনজরে তাকায় নি। প্রতিমা অবশ্য তখন বেশ ছোট ছিলো, চেহারাও সারদার মতো লাবন্যময়ী ছিলো না। পুরুষকে আকৃষ্ট করার মতো কোনো গুনই তখনকার প্রতিমার মধ্যে ছিলো না অথচ প্রতিমার বয়সী মেয়েদের বিয়ে ওইসময় অহরহ হচ্ছিলো। অবশ্য প্রতিমার চেহারা যেমন ভালো না তেমনি খারাপও ছিলো না। অল্পবয়সী হলেও মেয়েটা বেশ সচেতন। পিষতুতো বোনকে যে বিয়ে করা যায়না সে সম্পর্কে প্রতিমা তাকে অনেকবার সচেতন করেছে। বিশ্বজিত অবশ্য সেসব আমলে নেয়নি। তাদের দেখা করার জায়গা ছিলো মূলত বাড়ির পেছনের কৃষ্ণচূড়া গাছটি। বাড়ির কেউ সেদিকে যেতো না তাও বিশেষ নিরাপত্তার জন্য প্রতিমা পাহারা দিতো বাইরে৷ বিশ্বজিতের গ্রামে আসার দেড় মাস হয়ে এসেছিলো প্রায়। এরই মাঝে সারদার মনে জায়গায় তৈরি করে নিয়েছিলো সে। বরাবরের মতো সেদিন শুক্রবার সকালেও বিশ্বজিত দেখা করতে যায় সারদার সাথে।
– তোমারে একটা কথা জিজ্ঞেস করি? (বিশ্বজিত)
– কি কথা?
– তুমি এহনো বিয়া করো নাই ক্যান? গ্রামে তো অনেক আগেই মাইয়াগো বিয়া হইয়া যায়।
– আমার বিয়া হইলে তোমার কি হইতো?
– তোমারে তোমার পতিদেবের ঘর থেইকা তুইলা আইনা আমি বিয়া করতাম।
– এরচেয়ে যে আমি বিয়াই করি নাই সেইটা বেশি ভালো না?
– হ তা অবশ্য ভালো। দ্রুত বিয়াটা সাইরা নিতে হইবো বুঝছো।
– কিন্তু বিশ্বজিত দা!
– কি?
– পিষতুতো বোনরে তো বিয়া করা যায়না।
– ওইটা নিয়া তুমি চিন্তা কইরো না। তোমারে আমার করনের দায়িত্ব আমার।
– কৃষ্ণ যদি পাপ দেয় তো?
– দিবেনা। কৃষ্ণ নিজেও তো রাধারে ভালোবাসছে আর আমি রাধারে ভালোবাসলেই দোষ?
– রাধা তো কৃষ্ণের পিষতুতো বোন ছিলো না।
– কিছু হইবো না আমার সারদা দেবী। তুমি দেইখো সব ঠিক হইয়া যাইবো। শুনো আমি আইজ একটু শহরে যাইতাছি। এক সপ্তাহ লাগতে পারে আসতে। এরপরই আমি কিছু একটা করমু।
– চইলা যাইবা?
{গল্পের আসল লেখিকা শুভ্রা আহমেদ প্রিয়া}
সারদার চোক্ষুদ্বয়ে জলের উপস্থিতি প্রবলভাবে লক্ষণীয় ছিলো সেদিন। বিশ্বজিত যত্ন সহকারে প্রেয়সীর অশ্রুজল ঠোঁটের সাহায্যে শুষে নিলো। বিশ্বজিতের এমন হঠাৎ স্পর্শে কেপে উঠলো সারদা। বিশ্বজিত মুচকি হেসে কপালে, অধরে, গালে আরো বিভিন্ন জায়গায় অধরের স্পর্শ দিয়ে সারদার কাছ থেকে সেদিন বিদায় নেয়। সেদিন বিশ্বজিত কি জানতো এইটা কতবড় একটা ঝামেলায় ফেলে দেবে তাদের!
বিশ্বজিৎ যাওয়ার পরপরই সারদার জন্য বেশ ভালো ঘর থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। তারা দ্রুতই বিয়েটা করিয়ে নিতে চায়। সারদার বয়সও বেশি হয়ে গেছে তাই বাড়ির লোকজন আর দ্বিমত করেনি। বিধবা মায়ের একমাত্র মেয়ে সারদা। সুন্দরী বিধায় বিয়ে দিতে সমস্যা হবে না ভেবে তার মা কখনো বিয়েতে রাজি হয়নি কিন্তু যতদিন উপলব্ধি হলো মেয়ের বয়স বাড়ছে ততদিনে মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব আসা কমে গিয়েছে। যারাও বা আসতো তারা সারদার যোগ্য ছিলোনা। আজ হঠাৎ এতদিন পরে এমন ভালো একটা প্রস্তাব কেউই ফেলতে চাইলো না তাই একসপ্তাহের মাঝেই শুভ সময় দেখে গোধূলি লগ্নে বিয়ে ঠিক করা হলো। সামনের শুক্রবারই সারদার বিয়ে অথচ তা জানতেও পারলোনা বিশ্বজিৎ। অপরদিকে, বিশ্বজিত যে বাসায় নেই তা সবাই উপলব্ধি করতে পারলো রাতে। কাউকে কিছু না বলে বিশ্বজিতের এভাবে চলে যাওয়া অবাক করলো সকলকেই।
★
গ্রাম থেকে যাওয়ার পর কোনোমত একসপ্তাহ একটা জরুরি কাজ করেই গ্রামে ফিরে এসেছে বিশ্বজিত। বাড়িতে যেতে যেতে বুঝলো, বড়সড় কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে। কিসের অনুষ্ঠান তা ঠাওর করতে পারলোনা বিশ্বজিত। এমন সময়ই দরজায় দেখা গেলো বিশ্বজিতের বড় পিষিকে। বিধবা দের শুভ কাজে অংশগ্রহণের নিয়ম নেই বিধায় সে এখানে দাঁড়িয়ে আছে।
– পিষি!
– তুই? তুই হঠাৎ কইরা কই চইলা গেছিলি বাজান?
– একটা কাজ পইড়া গেছিলো পিষি তাই তাড়াহুড়ায় কাউরে না জানাইয়াই চইলা গেছিলাম। বাসায় কি কোনো অনুষ্ঠান?
– হুম। আইজ সারদার বিয়া। আমরা তো ভাবছি তুই বুঝি আর আসবিই না।
বিশ্বজিতের মাথা ঘুরতে লাগলো। মাথায় শুধু একটা কথাই বেজে চলেছে। “আইজ সারদার বিয়া।” একটা বাক্য যে এত ভারি হতে পারে তা জানা ছিলোনা বিশ্বজিতের। সে কোনোমত হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গেলো ভেতরে কিন্তু বিশ্বজিত অনেক দেরি করে ফেলেছে। সে যাওয়ার আগ মূহুর্তেই সারদার সিঁদুর দান সম্পন্ন হয়েছে। লজ্জা বস্ত্র দ্বারা তার মুখ ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজিত এক মূহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। লজ্জা বস্ত্র সরাতেই সারদার চোখ পড়লো বিশ্বজিতের উপর। সাথে সাথেই আখি থেকে অশ্রুজল গড়িয়ে পড়লো। সারদা যেনো খুব করে বলতে চাইছে, “আরেকটু আগে কেনো এলেনা বিশ্বজিৎ দা?” বিশ্বজিতের চোখের সামনেই একে একে সকল নিয়ম পালন করে কনে বিদায় দেওয়া হলো।
★
বিশ্বজিত দাঁড়িয়ে আছে সারদার শশুড় বাড়ির সামনে। সম্পূর্ণ বাড়ি নিঃস্তব্ধতার স্বীকার। সবাই ঘুমাচ্ছে। আজ সারদার কালরাত্রির রাত। আজকের দিনে বরের মুখ দর্শনও নিষিদ্ধ। কাল হবে বৌভাত আর তারপর ফুলশয্যা। তার সারদা অন্যকারো শয্যাসঙ্গিনী হবে সেটা ভাবতেও পারেনা বিশ্বজিৎ। সে নিজে হাজারো নারীর সাথে রাত কাটাতে পারলেও তার জীবনসঙ্গিনীকে হতে হবে সতী। কি বিকৃত চিন্তাচেতনা! বিশ্বজিত অতি সতর্কতা সহিত ঢুকে গেলো বাড়ির ভিতর। বাইরে গাড়িতে প্রতিমা আছে। একমাত্র প্রতিমাই সব জানতো তাই প্রতিমাকেও সাথে নিয়ে এসেছে বিশ্বজিত। বাড়িটা খুব বড় না বিধায় সারদাকে খুজে পেতে সমস্যা হলোনা। মহিলাটি সম্ভবত সারদার শাশুড়ী যার সাথে এখন সারদা শুয়ে আছে। দরজা বন্ধ ছিলো না বিধায় বিশ্বজিৎ সহজেই ঢুকে গেলো ভিতরে৷ বিশ্বজিতের কাছে ছিলো একটা স্প্রে যার সাহায্য মানুষকে অজ্ঞান করা যায়। বিশ্বজিত সেটা সারদার ঘুমন্ত শাশুড়ীর উপর প্রয়োগ করে দরজার বন্ধ করে দিলো।
– সারদা দেবী। উঠো, তাড়াতাড়ি ওঠো।
বিশ্বজিতের কণ্ঠস্বর পেয়ে দ্রুত ঘুম ভেঙে গেলো সারদার। সে দ্রুত উঠে বসলো,
– তুমি? তুমি এইহানে ক্যান? কেউ দেখলে কি ভাববো?
– আমার সারদা দেবী এইহানে তো আমি কই যামু? আমি আজ তোমারে এইহান থেইকা নিয়াই যামু।
– কেউ দেখলে কেলেঙ্কারির ঘইটা যাইবো।
– কেউ দেখবো না। আমার উপর বিশ্বাস রাখো।
কথাটা বলেই এতক্ষণে সম্পূর্ণভাবে সে সারদাকে দেখলো। শাড়ি পড়েছে মেয়েটা। হাটুর উপর উঠে আছে সেটি। আচলটাও কোনোমত বুকে পড়ে আছে। সারদা এখানো সেটা খেয়াল করেনি। বিশ্বজিতের দৃষ্টি বরাবর নিজের দিকে তাকাতেই লজ্জায় মিইয়ে গেলো সারদা। নিজেকে ঢেকে নিলো যথাসম্ভব তবে বিশ্বজিত আর বাধা মানলো না। এতদিন যে নারীর বিশেষ অঙ্গ গুলো সে লুকিয়ে দেখেছে আজ সেই অঙ্গ গুলোর উপর আধিপত্য বিস্তার করলো সে তারই শশুড় বাড়িতে। সারদা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও পারলো না। প্রথম প্রেমিক পুরুষের প্রথম স্পর্শ ঠেলে দেওয়ার সামর্থ তার ছিলোনা। সেও ততক্ষণে জানতে পেরেছে তার শাশুড়ি এখন অচেতন। সকালের আগে ঘুম ভাঙবেনা। তাহলে আর বাধা কিসের?
নিজেদের মধ্যে একান্ত সময় কাটিয়ে সারদাকে নিয়ে বাড়ি থেকে অতি সন্তপর্ণে বেড়িয়ে এলো বিশ্বজিত। গায়ে একটা চাদর পেঁচিয়ে গাড়ি অবধি পৌঁছে গেলো তারা।
– আমরা এখন কি করমু বিশ্বজিৎ দা? এক স্বামী জীবিত থাকলে তো আরেকজনরে বিয়া করন যায়না। আমি তো এহন বিবাহিত আর তাছাড়া তুমি তো আমার,,
– আমরা মুসলিম হইয়া যামু। মুসলিম হইলে এ বিয়ার কোন ভিত্তি থাকবো না আর মুসলিম ধর্মে পিষতুতো বোনরে বিয়া করা যায়।
– কি বলো এইগুলা? আমরা ব্রাহ্মণ হইয়া ধর্ম পাল্টামু? কৃষ্ণ পাপ দিবো।
– সৃষ্টিকর্তা সব এক সারদা। শুধু নাম আর ধর্মের নাম আলাদা। আমরা সবাই এক সৃষ্টিকর্তারই পূজা করি। ইবাদত করি। মোট কথা কে ভগবানে কতটা বিশ্বাস করে ওইডার উপর সব নির্ভর করে।
– কিন্তু?
– কোনো কিন্তু না। তুমি আমারে ভালোবাসো না সারদা দেবী?
★★★
নিজের ঘটনাটি এই অবধি বলে কিছুক্ষণ জন্য থেমে গেলো বিশ্বজিত ওরফে নাজিমুদ্দিন। চারু আর হামিদ এখনো স্তব্ধ। তাদের যেনো বিশ্বাস হতে চায়না এ জঘন্য কাহিনি। এত বড় ধোকা? তাদের অস্তিত্বে এত বড় সন্দেহের চিহ্ন! নাজিমুদ্দিন আবার নিজেই বলতে শুরু করলো,
– ওইদিন আমরা পালায়া গ্রামের ছোট একটা ঘরে ছিলাম। পরেরদিন আমি আর সারদা মুসলিম ধর্মে যাই। কিন্তু ওই সময় বাধে বিপত্তি। পুরা গ্রাম ক্যামনে যেনো জানতে পাইরা যায় আমাগো মুসলিম হওনের কাহিনি। ব্রাহ্মণ হইয়াও ধর্ম পরিবর্তন করা মানে বিশাল এক পাপ করছিলাম আমরা। ধর্ম শুধু আমি আর সারদাই পাল্টাইছিলাম কিন্তু গ্রামবাসী ভাইবা নেয় প্রতিমাও ধর্ম পাল্টাইছে। আমাগো জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে লাগলে একপ্রকার বাধ্য হইয়া আমি সারদার সাথে প্রতিমারেও নিয়া পালায়া আসি। মাইয়াটা আমাগো জন্য বেঘোরে মা*রা যাইবো সারদা হেইডা মানতে পারলো না। সারদারে আইনা আমার বাড়িতে রাখলাম। সবাইরে জানাইলাম আমি বিয়া করছি আর প্রতিমা আমার বইন। যেহেতু আমি বসের ডান হাত ছিলাম তাই বস নিজেই আসে আমার বউরে দেখতে। আমি পাঁচ মিনিটের জন্য একটু বাইরে গেলে বস সারদার লগে অসভ্যতামো শুরু করে। আমি সঠিক সময়ে আসায় সে থাইমা যায়। সারদা যহন আমার কাছে নালিশ করতাছিলো আমার কলিজা ছিড়া যাইতাছিলো। মন চাইতাছিলো বসের হাতটা গোড়া থেইকা কাই*টা দেই। কত্ত বড় সাহস আমার সারদা দেবীর গায়ে হাত দেয়! সেইদিন বসের লগে আমার ঝামেলা বাধে আর আমি তার সাথে কাজ করা ছাইড়া দিলাম। হাতে যে জমানো পয়সা ছিলো ভাবলাম এইসব দিয়া সারদারে বিদেশে পাঠায়া দিমু। সারদা আমারে অনেক ভালোবাসতো। এইসব জানলে ও মানতে পারবো না। কিন্তু তার আগে প্রতিমার কিছু করতে হইতো। ও তো আর মুসলমান হয় নাই যে ওরে মুসলমান কেউর সাথে বিয়া দিমু। পরিকল্পনা কইরা আমি আর সারদা একটা হিন্দু পাড়ায় যাই। ওইহানে নিজেগো ব্রাহ্মণ পরিচয় দেই আর কই প্রতিমা আমার বইন। ওইহানে ভালো আরেকটা ব্রাহ্মণ পরিবার দেইখা প্রতিমার বিয়া দিয়া সারদারে বিদেশে পাঠায়া দিলাম। হাত তহন একেবারে খালি। টাকাপয়সা যা ছিলো সব সারদারে দিয়া দিছিলাম। আমি এক সপ্তাহ থাইকা সব গুছায়া দিয়া আসছি আরেকজন আজের মাইয়া রাখছিলাম সারদার সাথে সবসময় থাকার জন্য। এহন হাতে টাকাপয়সা নাই, নিজেও চলতে পারিনা, সারদারেও কিছু দিতে পারিনা। বসের লগেও কাম করতে যাইনা নিজের জেদে। তারপর একটা চলার রাস্তা খুজতে বড়লোক বাপের মাইয়ারে মোটা অংকের যৌতুক নিয়া বিয়া করি। ওইডা ছিলো মনোরমা। ওই যৌতুকের টাকা দিয়াই তহন আমি চলতাম আর সারদারে টাকা পাঠাইতাম। এরই মাঝে জানতে পারি আমার প্রথম সন্তান আসতে চলেছে। সারদা এক লগে আমার দুই পোলারে জন্ম দিলো। সুখেই চলতাছিলো সব কিন্তু একদিন আমার সুখের সংসার তছনছ হইয়া গেলো। নিজের হাতেই আমি খু*ন করছি আমার সারদা দেবীরে।
– কেনো? তাকে কেনো খু*ন করলেন? সে জানতে পেরে গিয়েছিলো সব?
– না। কামের মাইয়াডারে রাখছিলাম সারদার খেয়াল রাখার জন্য। একদিন ও আমারে জানাইলো, বিদেশে এক প্রতিবেশির লগে সারদার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। বিশ্বাস করতে পারতাছিলাম না। মাইডাটা কিছু ছবি পাঠাইলো তহন। দুনিয়া ঘুরতাছিলো আমার! রাগের মাথায় ওইদিন তাড়াহুড়ো কইরা বিদেশ যাই আর সারদার খু*ন করি তারপর আবার বসের সাথে কাজে লাইগা যাই। কিন্তু পরে জানতে পারলাম কি জানস? আমার সারদা দেবী আমারে ঠকায় নাই। ওই লোকডার আগেই নজর ছিলো আমার সারদার উপর। সারদা লোকটারে সুযোগ দেয় নাই তাই ওই লোক সারদার ওই কামের মাইয়াডার সাথে সম্পর্কে যায় আর তারে দিয়া আমারে মিথ্যা বলায় আর মিথ্যা ছবি বানায়া আমারে পাঠায়। ওইডা জাইনা আবারও বিদেশে যাই আর ওই জানো*য়ার দুইডারে আমি খু*ন করি। পোলা দুইটারে ন্যানির কাছে রাইখা মানুষ করি। এহন ওইহানেই থাকে। কত ভালো আমার পোলারা কিন্তু নিজের ভুলে আমি আমার সারদারে হারাইলাম। আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো তারে বিশ্বাস না করা।
– আপনে তারে কহনো ভালোই বাসেন নাই। ভালো বাসলে তারে অবিশ্বাস করতে পারতেন না। খু*ন করার চিন্তাও মাথায় আনতে পারতেন না। তার কথা নাহয় বাদই দিলাম, বিশটা বছর আমার মায়ের লগে সংসার করার পরেও তার উপর আপনের মায়া পড়লো না। এমন নির্দয়ভাবে হ*ত্যা করলেন আমার মায়েরে। একটা সত্যি কথা কইবেন, আপনে আমারে বা চারুরে কহনো ভালোবাসছিলেন?
– তোর জন্মের পরেই ভাবছিলাম তুই বড় হইলে তোরে আমাগো দিকে টাইনা আনমু। হেইডার জন্য তোর সাথে ভালোবাসার অভিনয় করছি। ভাবছি আমি যদি তোরে ভালোবাসি তাইলে তুই আমার কথা মানবি কিন্তু সেগুড়ে বালি!
– আর চারু?
– আমার ছয়জন ঔরসজাত সন্তান। তার মধ্যে দুইটা পোলা বৈধ। ওই দুইজনের পরে যেই চাইর জন আছে তাদের মধ্যে আমি চারুরেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসছি। আমার দুই পোলায় আমারে ইংরেজ গো মতো কইরা ডাকে। তুই ডাকছ বাপজান আর আমার আরেক পোলা ডাকে বাজান। আর আরেক মাইয়া আমারে বাপ বইলা স্বীকারই করেনা। আমার থেইকা ওর জন্ম হইলো আর ও অন্য লোকরে বাপ ডাকে। আমারে ঘৃণা করে। কিন্তু চারু! আমার সব পোলাপানের মাঝে আমারে বাবা কইয়া ডাকতো। আহ! কলিজাটা জুড়ায়া যাইতো আমার। কহনো কইতে পারতাম না। কইলেই ওর মায়ায় পইড়া যাইতে হইতো। সবসময় অবহেলা দিয়া আসছি। ওরে নিয়া তো আমাগো অন্য পরিকল্পনা আছিলো। মায়ায় পড়লে আমার ঝামেলা।
হামিদ স্তব্ধ হয়ে রইলো। শব্দভাণ্ডার হারিয়ে গেছে তার। এই কথায় তার কি খুশি হওয়া উচিত নাকি এত বড় ধোকাবাজির জন্য রাগ হওয়া উচিত? চারুও কেমন অনুভূতিহীন। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে বাবার ভালোবাসা নিয়ে হামিদকে সে হিংসে করতো কিন্তু আজ জানতে পারলো হামিদের চেয়ে বেশি নাজিমুদ্দিন তাকে ভালোবাসতো কিন্তু চারুর মাঝে কোনো পরিবর্তন সাধিত হলোনা। চাওয়া পাওয়া অনেক আগেই হারিয়ে গেছে তার। নাজিমুদ্দিন তাকে ভালোবাসে তাতে কিছুই যায় আসেনা তার। সে হামিদের দিকে ঈশারা করলো নরপিশা*চটার শা*স্তি শুরু করার জন্য। তার শাস্তি হবে ভয়ংকর থেকেও ভয়ংকর আর তা উপভোগ করবে তারই আদরের কন্যা চারুলতা!
হামিদ এগিয়ে গেলো নাজিমুদ্দিনের দিকে। হাতে গরম করা ধারা*লো ছু*ড়ি। হামিদ যত্নসহকারে গালের মধ্যে একটা দাগ কে*টে দিলো। নাজিমুদ্দিন চিৎকার করে উঠলো ছু*ড়ির আঘাতে। হামিদ ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ মুখটাকে ক্ষতবিক্ষত করে ফেললো।
– এইডা আমার মা আর সকল মাইয়ার জন্য যাদের আপনে আপনের এই সুন্দর চেহারা দিয়া ফাসাইছেন।
নাজিমুদ্দিন ভয়ংকর ভীতি যুক্ত চক্ষুদ্বয় নিয়ে তাকিয়ে রইলো হামিদের দিকে। তার চিৎকারে আশেপাশের মানুষের ঘুম ভেঙে যেতে পারে তাই হামিদ প্রত্যেকের মতো নাজিমুদ্দিনের জিহ্বা কে*টে ফেললো। সাধারণভাবে নয় মোটেও। প্রথমেই জিহ্বায় পেরেক ঠুকলো চার থেকে পাঁচটা। তারপর ধীরে ধীরে একটু একটু করে জীবটা কাট*লো চার টুকরো করে আর শেষবার হাত দিয়ে সেটাকে টেনে একেবারে গলা থেকে বের করে আনলো। নাজিমুদ্দিন রুদ্বশ্বাসে চিৎকার করে উঠলো।
– এখনই এত চিৎকার? মাত্র তো শুরু প্রিয় জন্মদাতা। আপনার পরের বউকেও এভাবে খু*ন করেছিলাম। তার কলিজা আর মাংস দিয়েই আপনাকে বিরিয়ানির রান্না করে খায়িয়েছি আমি।
নাজিমুদ্দিন ভয়ার্ত চোখে তাকালো চারুর দিকে। এতক্ষণ সম্পূর্ণ নেশা উবে গেছে তার। হামিদ এইবার খুব জোরে হাতুড়ি দিয়ে আঘা*ত করলো নাজিমুদ্দিনের হাতে। এতটাই জোরে যে হাত থেকে রক্ত পড়তে শুরু করলো।
– এইডা আমাগো সাথে ধোকা করনের শাস্তি। এই হাত দিয়াই তো একের পর এক পাপ করছেন আপনে তাই না?
নাজিমুদ্দিন কিছু বলতে পারলোনা। সে সামর্থ্য কিছুক্ষণ আগেই হামিদ তার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। অবশ্য কথা বলার সামর্থ্য থাকলেও হয়তো সে মাফ চাওয়া ছাড়া আর কিছু বলতে পারতোনা। হামিদ নিজের ইচ্ছামত নাজিমুদ্দিনের দু হাতে হাতুড়ি দিয়ে কারুকার্য চালাতে লাগলো। এইবার হামিদ নাজিমুদ্দিনের হাতের নক তুলতে শুরু করলো একটা একটা করে। এতে অবশ্য চারুও সাহায্য করলো হামিদকে। নক তোলার সময় নাজিমুদ্দিনের চিৎকার বেশ ভালোই অনুভব করছিলো চারু ও হামিদ। হামিদ এইবার একটা পেরেক আরেকটা হাতুড়ি নিয়ে নাজিমুদ্দিনের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পেরেক ঠুকতে শুরু করলো। জিহ্বা হীন নাজিমুদ্দিন হাজার চেষ্টা করেও কিছু বলতে সক্ষম হলো না। হামিদ যেভাবে পেরেক গুলো লাগিয়েছিলো চারু একই সিরিয়ালে পেরেক গুলো খুলতে শুরু করলো আর সাথেই বাড়তে থাকলে নাজিমুদ্দিনের চিৎকার।
– চারু!
– হুম।
– লঙ্কাগুড়া লাগাবি না তারে?
– অবশ্যই। তাকে আমি লঙ্কা গুড়ো দিয়ে স্নান করিয়ে ছাড়বো।
– তাহলে শুরু কর।
হামিদ লঙ্কা গুড়োটা এগিয়ে দিলো চারুর দিকে। চারু উপর থেকে ছড়িয়ে দিলো সেটা। এইবার হামিদ একটা ড্রিল মেশিনের সাহায্যে নাজিমুদ্দিনের দু পায়ে দুটো ফুটো করলো। ব্যথায় নাজিমুদ্দিনের অজ্ঞান হওয়ার দশা। হামিদ একটা হাড়িতে জল গরম করে সেটাকে নাজিমুদ্দিনের মুখে ছুড়ে মারলো। নাজিমুদ্দিনের জ্ঞান ফিরলেও মুখ ঝলসে গেলো। আগেও ক্ষ*ত থাকার কারণে নাজিমুদ্দিনের অবস্থা হলো করুন। অবশ্য হামিদ আর চারুর মাঝে বিন্দুমাত্র করুনা ছিলো না। এইবার হামিদ আবারও ছু*ড়িটা গরম করে নিলো এবং সেই গরম ছু*ড়িটাই সরাসরি নাজিমুদ্দিনের চোখে ঢুকিয়ে দিলো। চারুও একই কাজ করলো নাজিমুদ্দিনের অপর চোখের সাথে। ছু*ড়িটা তখনও গরম ছিলো। হামিদ নাজিমুদ্দিনের দুটো কানই সেই গরম ধা*রালো ছু*ড়ির সাহায্যে কেটে ফেললো। নাকটাকে পাথরের সাহায্যে থেতলে ফেললো। একে একে নাজিমুদ্দিনের সকল দাঁত তুলে ফেলতেও ভুললো না।
– এখন আর না। আরো কাজ বাকি আছে আমাদের।
চারু নিজের হাতে ছু*ড়িটা তুলে নিলো। নাজিমুদ্দিনের সারা শরীরে এমনভাবে আঘা*ত করলো যাতে তার ব্যথা হবে ঠিকই কিন্তু সে মারা যায়না। অতঃপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! চারু আবারও ছু*ড়িটা হাতে তুলে নিয়ে আঘাত করলো আর তারপর হাত ও ছু*ড়ির সাহায্যে বের করে আনলো নাজিমুদ্দিনের কলিজা।
{গল্পের আসল লেখিকা শুভ্রা আহমেদ প্রিয়া}
এতক্ষণ চারুর কোনো কষ্ট হচ্ছিলো না কিন্তু যখনই কলিজাটা বের করে আনলো তার ভেতরটা কেমন করে উঠলো। যতই হোক, লোকটা তার জন্মদাতা ছিলো। কিছুক্ষণ আগেই ও জানতে পেরেছে বাবা সম্মোধন করা এই লোকটি আসলেই তাকে ভালোবাসতো। অকারণেই বুকটা ভারি হয়ে এলো। কিচ্ছু ভালো লাগছেনা। এই লোকটাই ওর যন্ত্রনাময় জীবনের সবচেয়ে বড় কারণ তাও তার মৃ*ত্যু মানতে চারুর কষ্ট হচ্ছে। যতই হোক নাজিমুদ্দিন তার বাবা ছিলো। খু*ন করা এই ব্যক্তিগুলোর মধ্যে চারুর যদি কারোর প্রতি মায়া লেগে থাকে তবে সেটা নাজিমুদ্দিনের জন্য লাগতো। চারু অনুভব করলো তার দুচোখ থেকে জল পড়ছে। চারু আটকাতে চাইলো সে জল কিন্তু সেটা থামলো না। অনর্গল গড়িয়ে পড়তে লাগলো চোখ থেকে। নাজিমুদ্দিনকে ঘৃণা করেও কেনো তার মৃ*ত্যুতে চারুর চোখে জল? তবে কি মনের কোণে এখনও তার জন্য ভালোবাসা ছিলো? আদেও কি সত্যিই সেটা ভালোবাসা?
_________________________
– নাজিমুদ্দিন ওরফে সুবহানের আসল নাম তাহলে বিশ্বজিৎ?
– হুম।
– আপনি আমাকে আগে এইটা বলেন নি বেলিফুল। কেনো?
– বলতে ইচ্ছা হয়নি।
সাজিদ হতাশ হলো। কে জানে এই মেয়ে আর কতকিছু তাকে বলেনি।
– সাজিদ আপনাকে একটা প্রশ্ন করি?
– করুন।
– পুলিশেরা এখনো আমার মতো এমন ভয়ংকর আসামী খুজছেনা কেনো?
বিঃদ্রঃ আজকের টার্গেট ১k, সবাইকে মেহেদী দিয়ে দেওয়ায় আমার হাতে প্রচুর ব্যথা। গুছিয়ে লিখতে পারলাম না। নাজিমুদ্দিনকে মন মতো শাস্তিও দিতে পারলাম না। রিচেকও করলাম না। এত কষ্টের মাঝে যদি আপনাদের রেসপন্স না আসে খুব খারাপ লাগে। লিখি তো আপনাদের জন্যই।
_______________________
To Be Continued…
#আমি_সেই_চারুলতা
#Shuvra_Priya (স্নেহা)
#পর্বঃ৩৪
_______________________
– আপনার কেইসটার মেইন ইনভেস্টিগেটর আমি চারুলতা। আমি আপনার কেইসটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ দিয়ে দেখছিনা বিধায় পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কেউ আপনাকে খুজছেনা।
– আপনার সহকর্মীরা?
– তারাই আপনাকে ধরার কাজটা আমাকে দিয়েছে।
– পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কাছে আপনাকে জবাবদিহিতা করতে হচ্ছেনা এর জন্য? কেনো আপনি এমন ভয়ংকর আসামীকে খোজায় এত টালবাহানা করছেন?
– আপনার কেইসটার সম্পর্কে আমরা তেমন কাউকে কিছু জানাইনি। শুধুমাত্র কয়েকজনই আপনার সম্পর্কে জানেন।
– কেনো জানান নি?
– আমাদের কিছু নিয়ম আছে চারুলতা। আপনি বুঝবেন না। বাদ দিন।
– ঠিক আছে, আমরা তাহলে এখন যাবো।
– কোথায় যাবেন?
– আমার ভাই আর ভাবির সাথে তাদের বাসায় যাবো।
– কেনো?
– আমার ইচ্ছে হচ্ছে তাই আর আপনি যদি ভেবে থাকেন আমি মতামত পাল্টাবো তাহলে আপনি ভুল তাই আমাকে শুধু শুধু কিছু বলে সময় নষ্ট করবেন না?
সাজিদ আসলেই চারুর সিদ্ধান্ত বদল করতে পারলো না। চারু চলেই গেলো হামিদ আর ফাতেমার সাথে। নাজমা বেগম অবশ্য না খেয়ে যেতে দিলেন না তাদের। চারু পুতুলকে জিজ্ঞেস করেছিলো সে যেতে চায় কি না কিন্তু পুতুল নিজের পরীক্ষার জন্য যেতে পারলোনা চারুর সাথে।
★★★
নিস্তব্ধ অন্ধকার রাতে চারদিকে শুধু কুয়াশা আর কুয়াশা। এসময় এত কুয়াশা কোথা থেকে এলো কে জানে? এখন তো শীতকাল চলছেনা। চারু এগিয়ে গেলো আরেকটু সামনের দিকে। কিছুটা সামনেই একটা নারী অবয়ব দেখা যাচ্ছে যে পেছনে ঘুরে আছে। পরনে তার সাদা শাড়ি। মধ্যবয়স্ক এই মহিলাটি শাড়ির আচল দিয়ে ঘোমটা টেনেছে।
– কে আপনি?
চারুর কথায় সে নারী অবয়বটি চারুর দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। মহিলাটির মুখে মায়াবী হাসি। কি অদ্ভুত সুন্দর! চারু অবাক হয়ে কাপা কাপা কণ্ঠে উচ্চারণ করলো,
– মা!
– কেমন আছস চারু?
চারুর এখনো বিশ্বাস হতে চায়না সে সত্যিই মনোরমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু মনোরমা এখানে কিভাবে এলো? চারু ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো মনোরমার দিকে। এতটাই কাছে যে এখন সে চাইলেই মনোরমাকে ছুতে পারবে। কিন্তু চারুর ভয় হচ্ছে, যদি মনোরমাকে ছুলেই সে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।
– মা আমি কি তোমাকে ছুতে পারি মা? প্লিজ মা একটুখানি।
মনোরমা নিজের বুকে জড়িয়ে নিলেন চারুকে। এত বছর পর মায়ের সানিধ্য পেয়ে চারু ডুকরে কেঁদে উঠলো,
– কি হইলো মা, কান্দস ক্যান?
– তুমি আমাকে ছেড়ে কেনো চলে গেলে মা? তোমার একবারও আমার কথা মনে হলো না? কিভাবে ওই নরপিশা*চটার সাথে আমাকে একা ছেড়ে দিলে?
– একা কই ছাড়লাম রে মা? হামিদ আছে তো। হামিদ তোরে অনেক ভালোবাসে। তুই দেখিস, তোর ভাই থাকতে কেউ কোনোদিন তোর ক্ষতি করতে পারবো না।
– তুমি আবার ফিরে আসো না মা। আমার আর ভালো লাগেনা। এই জীবনটা নিয়ে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি। হয় তুমি ফিরে এসো নইলো আমাকে নিয়ে যাও তোমার সাথে।
– তা যে হয়না মা। এই দুনিয়ায় প্রত্যেকেরই কিছু নির্দিষ্ট কাজ থাকে। সেই কাজ শেষ হইলেই তারে ছুটতে হয় সেই অজানা গন্তব্যে। আমার কাজ শেষ হইয়া গেছে তাই আমারে চইলা যাইতে হইছে। নিজের বাকি কাজ আমি হামিদ আর তোরে দিয়া আসছি। হামিদ তোরে দেখবো আর তুই হামিদরে দেখবি। কিন্তু মা, তোর কাজ তো শেষ হয় নাই। তোর যে আরো অনেক দায়িত্ব বাকি আছে রে মা। সেইগুলা শেষ না কইরা তুই আসতে পারবিনা। একটা এতিম মাইয়ারে বড় কইরা তোলার দায়িত্ব যে তোর।
– এতিম মেয়ে? একটা এতিম মেয়েকে আমি বড় করবো! কিন্তু কেনো?
চারু অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো মনোরমাকে। মনোরমা মুচকি হেসে বললো,
– তোর কপালে তাই লেখা আছে মা। মাইয়াডারে অবহেলা করিস না। নিজ সন্তানের মতই দেখিস। তোর সন্তান গো থেইকা তারে কহনো আলাদা দেখিস না। তোর সুখ যে আমি খুব কইরা দেখতে চাইরে মা। আরেকটা কথা, সাজিদ পোলাডা কিন্তু খারাপ না। তোরে সুখে রাখবো। তার সাথে সুন্দর কইরা জীবনডা সাজায়া নে। তোর শাশুড়ীটাও খারাপ না মা। তুই তারে সন্দেহ করিস না। ওই মহিলাটাও বড্ড ভালো। তোরে সত্যিই নিজের মাইয়ার মতো ভালোবাসে। তোরে আরেকটা মূলমন্ত্র শিখায়া দিয়া যাই চারু। এইটা কহনো কোনো পরিস্থিতি ভুইলা যাবিনা। সবসময় কথাটা মনে রাখবি। দেখবি জীবনটা সহজ হইয়া গেছে। কঠিন কিছুও আর কঠিন মনে হইবো না।
– কি কথা মা?
– জীবনে কহনো কোনো পরিস্থিতিতে হামিদরে ভুল বুঝবি না। মনে রাখবি, এই দুনিয়ায় যদি তোরে কেউ নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে তাইলে ওইডা হামিদ। পরিস্থিতি যেমনই হউক না কেনো, অনুকূল আর প্রতিকূল সবসময় হামিদের উপর বিশ্বাস রাখবি। জীবন সুন্দর হইবো।
– আমি ভাইয়াকে বিশ্বাস করি মা। চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করি।
– এই বিশ্বাসটাই সবসময় রাখিস মা।
মনোরমার ঠোঁটে দেখা গেলো তৃপ্তির হাসি। চারু এতক্ষণ মনোরমার সাথে বসে ছিলো কিন্তু এইবার সে মনোরমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো।
– জানো মা, ভাইয়ার না ফুটফুটে পরীর মতো একটা মেয়ে আছে। কি মিষ্টি দেখতে তাকে!
– জানি মা। হামিদের জীবনটা এহন ঠিকঠাক চলতাছে। এহন আমার সকল চিন্তা তোরে নিয়া। তুই তোর জীবনডা সুন্দর মতো গুছায়া নিলেই আমার সব চিন্তা শেষ। একটা কথা কই চারু?
– বলো মা।
– এই বসের পেছনে দৌড়ানো ছাইড়া দে। কি হইবো তারে খুইজা? তারে খুইজা পাইলে যে তোর জীবনডা এলোমেলো হইয়া যাইবো মা। তারে খুজিস না।
– আমার জীবন এলোমেলো হয়ে যাবে মানে? মা তুমি জানো বস কে?
– তারে খুজিস না মা। তোর জীবন আরো একবার উলোটপালোট হইয়া যাইবো। সাজিদের সাথে মন দিয়া সংসার কর।
– মা বস কে মা? আমাকে বলো মা। তুমি এখনো আগের মতো করো মা। তুমি অন্যদের অন্যায় কেনো দেখোনা মা? দেখো আমাকে! তারা কতটা অন্যায় করেছে আমার সাথে। আমি কি তাদের শাস্তি দেবো না মা?
– শা*স্তি দিলে কি তুই পুরোনো সব ক্ষ*ত ভুইলা যাবি?
– ভুলে না যাই মা, কিন্তু আমি শান্তি পাবো।
– তারে শা*স্তি দিলে তুই হয়তো শান্তি পাবি কিন্তু তোর জীবনডা এলোমেলো হইয়া যাইবো।
– কেনো হবে মা? উত্তর দাও দয়া করে।
– এই উত্তর দেওনের অনুমতি আমার নাই। আমার একটা কথা রাখবি মা?
– কি কথা?
– আমার বাপটা মৃ*ত্যুশয্যায় রে মা। এহনো জানে না আমি আর নাই। বারবার আমারে দেখতে চায়। তারে একটা চিঠি দিস আমি ভালো আছি। আমি আর নাই সেইটা জানলে আমার বাপটা আর বাঁচবো না। আমারে অনেক ভালোবাসতো।
– তুমি কেনো যোগাযোগ করোনি মা?
– ক্যামনে করতাম? আমার বাপরে খাওনের মাঝ থেইকা উঠায়া বাড়ি থেইকা বাইর কইরা দিছে ওই জানো*য়ার। তারপর কোন মুখে আমি আমার বাজানের সামনে দাঁড়াইতাম?
– মা! আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি মা।
– আমিও তোদের অনেক ভালোবাসি মা। আমার যাওয়ার সময় হইয়া গেছে। আমি এইবার যাই।
– কোথায় যাবে মা?
– আপন ঠিকানায়।
চারু উঠে বসলো মনোরমার কোল থেকে। আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
– সে ঠিকানা কেমন মা? আমাকে নিয়ে যাবে?
– না রে মা। তোরে নেওনের অনুমতি নাই।
– তুমি ওখানে সুখে আছো তাই না মা?
মনোরমার ঠোঁটে প্রশান্তির হাসি দেখা গেলো। তার মানে সে সত্যিই সুখে আছে। মনোরমা সুখে আছে জানতেই চারুরও ভীষণ শান্তি লাগলো,
– মা আমি বলেছিলাম না, তোমার এখনো সুখ পাওয়া বাকি আছে৷ দেখো এই দুনিয়ায় না পেলেও ওই দুনিয়ার কিন্তু তুমি ঠিকই সুখে আছো।
– আমি এহন যাই মা।
– না মা। আমাকে রেখে যেও না। আমি সত্যিই খুব ক্লান্ত। নিয়ে যাও আমায়।
মনোরমা কেমন যেনো হাওয়ায় মিলিয়ে যায় লাগলো। এই কুয়াশার বুকে মিলিয়ে যেতে লাগলো সে। চারু চিৎকার করে ডাকলো মনোরমাকে। আর চিৎকার করার সাথে সাথেই ঘুম ভেঙে গেলো তার।
★
হামিদ নিজের মেয়ের সাথে খেলছিলো, এমন সময় পাশের ঘর থেকে চারুর চিৎকার ভেসে আসলে সে দৌড়ে ছুটে যায় সেদিকে। হামিদের পিছুপিছু ফাতেমাও আছে। ফ্যান ছাড়া অবস্থাতেও গরমে ঘামছে চারু,
– ভাইয়া মা, মা চলে যাচ্ছে। মা কে আটকাও। আমার মা!
– কি হইছে চারু?
হামিদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনা চারু। স্বপ্নের ঘোর এখনো কেটে যায়নি তার।
– মা ছিল। এইখানে ছিলো। আমার কাছে ছিলো।
– না চারু মা ছিলো না। তুই স্বপ্ন দেখছস। তাকা একবার দেখ আমাদের। ভালো কইরা দেখ।
হামিদ ফাতেমাকে পানি আনতে বললো। চারু কিছুতেই শান্ত হচ্ছেনা। এতদিন পর মনোরমার সাথে দেখা হলো আর মনোরমা এত সহজে তাকে ছেড়ে চলে গেলো এইটা মানতে পারছেনা চারু।
– মা আমাকে অনেক কথা বলেছে। আমাকে ধাধার মাঝে ফেলে দিয়েছে। আমাকে আমার প্রশ্নের উত্তর দিলো না। আমাকে নিয়েও গেলোনা নিজের সাথে।
– কি কইছে মা তোরে?
– মা বলেছে নাজমা বেগম ভালো। সাজিদ ভালো। আমাকে সংসার করতে বলেছে। আমি জানি নাজমা বেগম ভালো। মহিলা সত্যিই খুব ভালো। মায়ের মতো অনুভূতি পাই আমি তার কাছে কিন্তু মা কেনো বললো সাজিদ ভালো? সাজিদ তো ভালো না। মা কেনো আমাকে সাজিদের সাথে সংসার করতে বললো?
– সাজিদ ভালো না মানে?
– সাজিদ ভালো না। সত্যিই সাজিদ ভালো না। আমি নাজমা বেগমকে নয় আমি সাজিদকে সন্দেহ করি। আমি প্রথম থেকেই সন্দেহ করি সাজিদকে। তুমি বলো সে কেনো আমাকে জেল থেকে পালাতে সাহায্য করলো? আর যদি করেও থাকে তবে কেনো আমাকে বিয়ে করলো? সে কি এতই মহান যে সব অপরাধ সে ক্ষমা করে দেয়? এত মহৎ হলে সে নিজের স্ত্রীকে কেনো ছেড়েছিলো? তাছাড়া পুলিশ ডিপার্টমেন্টে এটা জানাজানি হলে তার চাকরি অবধি চলে যেতে পারে। সে কেনো আমার মত এক ভয়ানক আসামির জীবন বাঁচতে নিজের ক্যারিয়ার ঝুঁকিতে ফেলবে বলো? সাজিদ ভালো না। আমি বুঝতে পারি সেটা কিন্তু মা আমাকে কেনো এটা বললো?
হামিদ স্তব্ধ হয়ে গেলো। চারু তো বলেছিলো ও নাজমা বেগমকে সন্দেহ করে, সাজিদকে নয় আর এখন কি না বলছে সে নাজমা বেগমকে নয় বরং সাজিদকে সন্দেহ করে।
– তুই সাজিদরে সন্দেহ করস?
– হ্যাঁ আমি করি। করি সন্দেহ।
– তাইলে তারে বিয়া করলি ক্যান?
– সব সত্য জানার জন্য আমি সব করতে পারি। এমনকি সাজিদকে বিয়েও করতে পারি। আমার জীবনের পরোয়া আমি করিনা।
হামিদ দু’হাতে নিজের চুলের মুষ্টি শক্ত করে ধরলো। এই চারু বারবার কেনো নিজের জীবন এভাবে বিপদের মুখে ফেলে? চারুর ভালোর জন্য, শুধুমাত্র চারুর ভালোর জন্য ও এত কিছু করছে আর এই চারুই কি না নিজের জীবনের পরোয়া করছেনা।
– কি হলো ভাইয়া বলো না কেনো? বলো মা কেনো আমাকে এমনটা করতে বললো? প্লিজ আমাকে বলো।
হামিদের আর সহ্য হলোনা। সোজা একটা থাপ্পড় মেরে দিলো চারুর গালে। থাপ্পড় খেয়ে যেনো চারুও স্বপ্নের ঘোর থেকে বেড়িয়ে এলো। সে বুঝতে পারলো এতক্ষণ যাবত কি কি বলেছে সে। সব বলে দিয়েছে হামিদকে।
– তুই এমন ক্যান করলি? ক্যান করলি এমন? সারাজীবন নিজের দিকটাই কি তুই ভাইবা যাবি?
চারু উত্তর দিলো না। হামিদের রাগ সম্পর্কে অবগত সে। এখন কিছু বললে আরো একটা থাপ্পড় খাওয়ার সম্ভাবনা
আছে।
– চুপ ক্যান উত্তর দে।
ফাতেমাও এতক্ষণে পানি নিয়ে চলে এসেছে। চারুর উপর থাকা সকল রাগ গিয়ে পড়লো ফাতেমার উপর। ফাতেমার কাছে থাকা স্টিলের গ্লাসটা মাটিতে ছুড়ে ফেলে বললো,
– এতক্ষণ লাগে তোমার সামান্য পানি আনতে?
– কলে পানি ছিলো না তাই,,
ফাতেমাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বললো হামিদ। ফাতেমা ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে সেস্থান হতে প্রস্থান করলো।
– আমারে মিথ্যা কইছিলি ক্যান? ক্যান বলছিলি নাজমা বেগমরে সন্দেহ করস?
– সাজিদকে সন্দেহ করি বললে তুমি এই বিয়েটা দিতেনা তাই বলেছি। আর বিয়ে করার কারণ হিসেবে দেখিয়েছি নাজমা বেগমকে। কিন্তু মহিলাটি সত্যিই ভীষণ ভালো। একেবারে সহজ সরল ধরনের।
– এত বড় মিথ্যাটা তুই কইতে পারলি আমারে?
চারু উত্তর দেয়না। প্রচন্ড রাগ নিয়েই সে ঘর থেকে উঠে চলে গেলো হামিদ।
হামিদ অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যে আবারও ফিরে এলো। অঙ্গভঙ্গি স্বাভাবিক।
– চারু সাজিদের কাছে যাওনের আর দরকার নাই। তুই আইজ থেইকা এইহানেই থাকবি। সাজিদ এই বাড়ির ঠিকানাও জানেনা, তোরে খুজতেও পারবোনা।
– তুমিও?
– আমিও কি?
– মায়ের মতো করছো।
– মানে?
– মা কেনো বললো বসকে না খুজতে? মা তো আগে থেকেই এমন, তাই বলে তুমিও?
হামিদ উত্তর দিতে পারেনা। হামিদকে নিশ্চুপ থাকতে দেখে চারু বলে উঠলো,
– তোমার ছোটবেলার কথা মনে আছে? জানো একবার কি হয়েছিলো, আমি আর রিমা একসাথে হাটছিলাম। এমন সময় রিমা কালাম চাচার বাগান থেকে আম চুরি করে। আমি মানা করেছিলাম এমনটা করতে। ও শুনলো না আর কিছুক্ষণ পরেই কালাম চাচার বউ আমাদের ধরে ফেলে। ধরা খাওয়ার পর লিমা সম্পূর্ণ দোষ আমার উপর চাপিয়ে দিলো। চাচিকে আমি বারবার বলার পরেও আমার কথা না শুনে লিমার কথা মানলো কারণ লিমাদের পরিবার ছিলো মোটামুটি ধনী পরিবার আর আমরা ছিলাম মধ্যবিত্ত। খাওয়া পরার অভাব না হলেও কখনো বিলাসিতা করতে পারতাম না। ধনীর পরিবারের মেয়েকে অবিশ্বাস করে কি কেউ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েকে বিশ্বাস করে? চাচিও করলোনা। মাকে ডেকে আনলো। মা চাচির সামনেই আমাকে দুটো থাপ্পড় মেরেছিল সেদিন। অপমানে, রাগে, দুঃখে চোখে জল চলে এসেছিলো। যে অপরাধ আমি করিনি তার জন্য মা আমাকে মারলো। কোনোরকম যাচাই বাছাই না করেই মারলো। কিন্তু বাড়িতে এসে মা আমাকে অনেক ভালোবাসলো। মা জানতো আমি চুরি করিনি কিন্তু সেটা বলার সৎসাহস ছিলোনা তার। সে সবসময় সমাজ মেনে চলতে চাইতো। আমার প্রতিবাদী চেতনা পছন্দ ছিলোনা মায়ের। মায়ের মনে হতো এতে সম্পর্ক নষ্ট হয়। আমার খুব খারাপ লাগতো জানো? মা সবটা জেনেও শুধুই সমাজ রক্ষার্থে মেয়ের জন্য লড়তেন না। সমাজ কি মেয়ের চেয়েও বড়?
এরপর আর কখনো লিমার সাথে কথা বলিনি আমি। লিমা মাফ চাওয়ার পরেও না। যার জন্য আমাকে অপমান হতে হয়েছে, আমার জীবন চলে গেলেও আমি আর তার মুখদর্শন করতে চাইনি।
– মা তো এমনই ছিলো। কারোর সাথে ঝামেলা করতে চাইতো না। ঝামেলা ভয় পাইতো। মা সবটা বুইঝাও চুপ থাকতো। দোষ যারই থাকুক মা আমাদের ভাই-বোনেরেই শুধু শাসন করতো। আর কেউরে কিছু কইতো না। মার মনে হইতো নিজে ভালা থাকলেই সব ঠিক তাই আমরা যদি ভালা থাকি তো সব ভালা হইবো। কিন্তু মা আমাদের দুইজনরেই অনেক ভালোবাসতো। চুপিচুপি ভালোবাসতো। একদিন ফুটবল খেলতে যাইয়া মারামারি হইলো দুই দলে। মা জানতে পাইরা আমারেই মারলো অথচ দোষ আমি করিই নাই। খুব খারাপ লাগছিলো ওইদিন। সারাদিন বাসায় আসি নাই। পরে মা হ্যারিকেন নিয়া খুজতে বের হইছিলো আমারে। আফসোস একটাই, মা আমাদের বুঝলেও কোনোদিন কারোর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করে নাই।
– এই ঝামেলাহীন মানুষটির ছেলে-মেয়ে হয়ে আমরা কিভাবে এত ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লাম বলো তো?
– আমাগো শরীরে তো শুধু এই ঝামেলাহীন মানুষটার রক্তই নাই আরো একজন জানো*য়ারের রক্তও আছে।
★
হামিদ চারুর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে চলে গেলো। চারু আবারও ডুব দিলো অতীতে। নাজিমুদ্দিনকে সেদিন খু*ন করার পর হামিদের থেকে বিদায় নিয়ে চারু প্রথমে পুলিশ স্টেশন যায়নি, গিয়েছিলো শাওনের কাছে। কতটা কষ্ট নিয়ে শাওন পড়েছিল হাসপাতালের বিছানায়। রাতের বেলা নার্সেরাও ঘুমাচ্ছিলো। চারু সকলের চোখের অগোচরেই ঢুকেছিলো সে হাসপাতালে। শাওনের চোখমুখ ছিলো মলিন। চোখের নীচে পড়েছিলো কালো দাগ। বুকের এবং গলার নীচের হাড় গুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো। চারুর যেনো বিশ্বাস হতে চাইছিলো না এইটাই সেই প্রাণচ্ছ্বল শাওন। কয়েকটা বছরে কি অবস্থা হয়েছে তার। চারু শাওনের মাথায় হাত বুলিতে দিতেই শাওনের চোখ খুলে গেলো। চারু বুঝতে পারেনি শাওন জেগে যাবে। শাওন চারুকে দেখে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।
– শাওন ভাই কেমন আছো?
কেবিনে বাতিটা বন্ধ আছে। কিন্তু বারান্দা থেকে যে আলোটা আসছে তাতে স্পষ্ট সবকিছু। শাওন বড় একটা শ্বাস নিয়ে বহুকষ্টে উচ্চারণ করলো,
– চারু! আমার চারু। কেমন আছস চারু?
– ভালো আছি। তুমি কেমন আছো শাওন ভাই?
– ভালো নাই আমি চারু। আমারে নিয়া যা এইহান থেইকা। আমি আর থাকতে পারতাছিনা এইহানে। আমারে নিয়া যাবি না চারু?
– তোমার এখন চিকিৎসার প্রয়োজন শাওন ভাই। তুমি যেতে পারবেনা আমার সাথে।
– এইহানে আমার চিকিৎসা হইতাছেনা চারু। তারা আমারে ইচ্ছা কইরা অসুস্থ বানায়া রাখছে। আমি অনেক আগেই সুস্থ হইয়া যাইতাম।
চারু বেশ বড় একজন ধাক্কা খেলো। চারু যতদুর জানে এই হাসপাতালটাতে শাওনদের অংশীদারত্ব রয়েছে। এখানে কে শাওনের ক্ষতি করবে? নাকি শাওনই ভুল বুঝছে? শাওন হঠাৎই খুব উত্তেজিত হয়ে পড়লো। বেড়ের পাশে থাকা মেশিনটাতে শাওনের হার্টবিট অস্থিতিশীল অবস্থায় চলে এলো।
– চারু তুই বাসায় যাইস না চারু। কেউ ভালো না। কেউ তোর ভালো চায়না। তোরে নিয়া ভয়ংকর পরিকল্পনা বানাইতাছে সকলে। আমার বাড়িরও সে ভালো না। আমি তারে কত বিশ্বাস করতাম। সে রাখলো না। সে তোর ক্ষতি করতে চায়। আমি অনেক চেষ্টা করছি তার চোখে ধুলা দেওনের কিন্তু তারপরও সে সব বুইঝা গেলো। আমি বাচাইতে পারলাম না তোরে। তারে যেমনটি মনে হয় সে তেমন না চারু। তুই তারে বিশ্বাস করিস না। তুই কেউরে বিশ্বাস করিস না। সে ইচ্ছা কইরা আমারে এইহানে ফালায়া রাখছে যাতে আমি সুস্থ না হই। চারু তুই,,,
শাওনের অবস্থা খারাপ হতে লাগলো। চারু বারবার তাকে শান্ত হতে বললো কিন্তু শাওন এমন অনেক কথাই বারবার বলে চলেছিলো। চারু শান্ত করাতে পারছিলো না শাওনকে। চারু গায়ে চাদর জড়িয়ে দ্রুত নার্সকে ডাকতে চাইলো কিন্তু শাওন আটকে দিলো তাকে।
– যাইস না চারু। আ আমার কথা শুইনা যা। আমি এমনিতেও বাচমু না। মরনের আগে কি কিছু কথা কইয়া যাইতে চাইতাছি তোরে।
– এমনটা বলো না শাওন ভাই কিছু হবেনা তোমার। আমি এখনই ডাক্তার ডেকে আনছি।
– না চারু। আমার কথাটা শোন। চারু শত্রু তোর আশেপাশেই আছে চারু। তোর সবচেয়ে বড় শত্রু তোর বাপ। আমার বাড়িতেও তোর শত্রু আছে। ওই বাড়ি কহনো যাবিনা চারু। মনে রাখবি এক মাইয়া আরেক মাইয়ার সবাই বড় শত্রু। কে তোর ক্ষতি করতে চায় জানস? সে হইলো,,,, আমি নাম মনে করতে পারতাছিনা চারু। আমি ওর নাম ভুইলা গেছি। ও ইচ্ছা কইরা আমারে পাগল বানায়া দিছে। ওই বাড়ি যাইস না চারু। আমি যদি মইরা যাই তাইলে বুঝবি, স্বাভাবিক ভাবে মরি নাই আমি। আমারে ও খুন করছে। ও আমারে প্রত্যেকদিন একটু একটু কইরা বিষ দেয় যেনো আমি ভালা না হইতে পারি।
অনেক কষ্ট নিয়ে শাওন এই অবধি বলে কাশতে শুরু করলো। কাশির সাথে বেড়িয়ে এলো বেশ খানিকটা রক্ত।
– শাওন ভাই তুমি চুপ করো। তোমাকে আর কিছু বলতে হবেনা। তুমি প্লিজ শান্ত হয়ে যাও।
শাওন মাথা নাড়িয়ে না বোঝালো। সে চুপ করবেনা।
– চারু তুই পালায়া যা। তুই এইহানে থাকিস না। ও তোর জীবনডা ধ্বংস কইরা দিবো। তারে দেখতে যেমন সহজসরল সে আসলে তেমন না। তুই পালায়া যা। আমি মনে করতে পারতাছি না ক্যান তার নাম?
– শাওন ভাই তুমি,,,
– আমার কথা ভাবিস না চারু। আমি তোরে ভালোবাসি। অনেক ভালোবাসি। তুই পালায়া যা। ওর আসার সময় হইয়া গেছে তুই পালায়া যা।
– কার আসার সময় হয়ে গেছে?
– চারু তুই যা। যাওনের আগে আমারে একবার বলবি তুই আমারে ভালোবাসোস। একবার বল না চারু। আমি যে তোরে অনেক ভালোবাসি।
চারু জানে সে শাওনকে ভালোবাসেনা তবুও শাওনকে শুধুমাত্র শান্তনা দেওয়ার জন্য বলতে চাইলো সে কিন্তু অবাক হয়ে চারু লক্ষ্য করলো তার গলা থেকে স্বর বের হচ্ছেনা। সে হাজার চেষ্টা করেও শাওনকে ভালোবাসার কথা বলতে পারছেনা।
– বল না চারু। বল আমারে। বল।
মেশিনটা বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছে শাওনের অবস্থা ভালো না। সে এখনো ভিখারির মতো ভালোবাসা চেয়ে যাচ্ছে চারুর কাছে কিন্তু চারু হাজার চেষ্টা করেও শাওনকে সেটা বলতে পারছেনা। হঠাৎই একটা পর্যায়ে গিয়ে শাওনের হৃৎস্পন্দন থেমে গেলো। চারু স্তব্ধ হয়ে গেলো। এমন সময়ই দরজায় একটা আওয়াজ পাওয়া গেলো। শাওন বলেছিলো কারোর আসার সময় হয়ে গেছে। সে কি এসে গেছে? কে সে? চারুকে দেখেই একটি নারী অবয়ব দ্রুত পালিয়ে যেতে লাগলো। চারুও তার পিছু করলো। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে সে হারিয়ে ফেললো তাকে। চারুর স্পষ্ট মনে আছে, সেটি কোনো শাড়ি পরহিত মহিলা ছিল যার গায়ে চাদর জড়ানো। বয়স অনুমান করা যাচ্ছিলো না তবে চারু জানে জমিদার পরিবারের কেউ এমন শাড়ি কিংবা চাদর পরিধান করেনা। চারু বেশিক্ষণ তার পিছু করতে পারলো না। আবারও দৌড়ে গেলো শাওনের কেবিনের দিকে।
★
শাওনের কেবিনে গিয়ে শাওনকে আর জীবিত পায়নি চারু। ততক্ষনে শাওনের প্রাণবায়ু বেড়িয়ে গিয়েছিলো। শাওনের ভাষ্যমতে, তারা শাওনকে প্রতিনিয়ত বিষ দিতো তার ওপর চারুকে দেখে শাওনের মাঝে অতিরিক্ত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিলো আর এর ফলেই মারা গিয়েছিলো শাওন। শাওনের হ*ত্যাকারী যদি তার বাড়ির কেউ হয় তাতেও সমান অংশীদারত্ব রয়েছে চারুরও। সে না গেলে শাওন এমন উত্তেজিত হতোনা আর তার মৃ*ত্যুও হতো না। চারু একদিকে যেমন দোষী নয় অন্যদিকে সে সমান রকমের দোষী। আসলেই কি চারু শাওনের হ*ত্যাকারী?
★★★
প্রতিবারের মতো এবারেও হামিদের বাধা মানেনি চারু। চলে এসেছিলো কিছুদিন পরেই। এখন সে এসেছে সাজিদের সাথে শপিং মলে। বিয়েতে কেনাকাটা করা হয়নি বিধায় সাজিদ তাকে এখানে নিয়ে এসেছে। চারুর নিরুৎসাহিতা দেখে সব কেনাকাটা সাজিদ একাই করছে। চারুর কাজ কেবল হয়ে দাঁড়িয়েছে সাজিদের সাথে ঘোরাঘুরি করা এবং সাজিদ কিছু জিজ্ঞেস করলে তার উত্তর দেওয়া। এমন সময় পেছন থেকে একটা মিহি নারীকণ্ঠের আওয়াজ পাওয়া গেলো।
– চারুলতা!
চারু পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখা গেলো মিলিকে। সেই ডেকেছে চারুকে। মিলি কিছুটা সামনে এগিয়ে এলো,
– কেমন আছো চারুলতা? অনেকদিনের পরে দেখা। চিনতে পেরেছো তো?
– হ্যাঁ চিনবো না কেনো? কেমন আছেন আপু?
– ভালো আছি। উনি কে? তোমার হাসবেন্ড?
চারু মুচকি হেসে মাথা নাড়লো। মিলি সাজিদের সাথে হাত মিলিয়ে পরিচিত হলো।
– কি করেন উনি?
– এস আই।
– বাহ! খুব ভালো। সপিং করতে এসেছো নাকি?
– হ্যাঁ। আপনি একাই এসেছেন?
– না। বয়ফ্রেন্ডের সাথে এসেছি। সে ফুডজোনে আছে। চলো না, আমাদের জয়েন করো।
– না আপু অন্যদিন।
– তোমাদের দুজনকে খুবই ভালো মানিয়েছে চারুলতা।
– ধন্যবাদ।
এমন সময়েই সাজিদের ফোনে পুতুলের কল এলো। সাজিদ একটু দুরে চলে গেলো,
– কি এত জরুরি কল এলো যে তোমার বর তোমাকে এভাবে রেখে চলে গেলো?
– চলে কোথায় গেলো আপু? সাইডে কথা বলছে মেয়ের সাথে।
– ওহ তাই নাকি? তোমাদের কয় ছেলে-মেয়ে?
– এক মেয়ে।
– বাহ খুব ভালো। আমি এখন আসি চারুলতা।
কথাটা বলেই মিলি চারুকে জড়িয়ে ধরলো। সে অবস্থাতেই কানে কানে বললো,
– আমি তোমাকে কখনো মাফ করবো না চারুলতা। কখনো না। ভালোই তো স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে শান্তিতে ঘর করছো। বোকা তো আমার ভাইটা। তোমাকে ভালোবেসে আজ সে সর্বহারা।
– মানে?
– মানে না বোঝার মতো কম বয়স না তোমার। তোমার স্বামীর সাথে তোমাকে খুব ভালো মানিয়েছে কিন্তু তুমি কি জানো সে আমার ভাইয়ের চেয়ে সুন্দর নয়। সে এস আই, কই আমার ভাইয়ের অবস্থানও তো খারাপ নয় তাহলে কেনো ছেড়ে দিলে তাকে?
চারু নিশ্চুপ। মিলির কথা যে সে বুঝতে পারছেনা এমনটা নয়।
– তোমার কোনো দোষ নেই চারুলতা। দুনিয়ায় সবচেয়ে বোকা বলে যদি কেউ থাকে তাহলে সে আমার ভাই। আজকাল নিঃস্বার্থভাবে কেউ কাউকে ভালোবাসেনা তবুও সে তোমাকে ভালোবেসে যাচ্ছে৷ বলো সে কি বোকা নয়? এই পৃথিবীতে এমন ভালোবাসা তুমি কোথায় পাবে, যে তোমাকে পাবেনা জেনেও ভালোবাসে? কিন্তু আফসোস, সেই ভালোবাসাটা তুমি বুঝলেনা। আসলে সবার সব সহ্য হয়না তাই তোমারও পিওর ভালোবাসাটা সহ্য হলো না। হবেও না কখনো। নাহ, তোমাকে অভিসাপ দিচ্ছিনা। তুমি সুখে থাকো। আসলে কি বলো তো আমার ভাইটা বোকা। সে তোমাতে এতটাই মত্ত যে তোমাকে অভিসাপ দেওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারেনা। তুমি কষ্টে আছো জেনে তোমার চেয়ে বেশি কষ্ট সে পায়। তোমার মতো পোড়াকপালি আর কেউ নেই চারুলতা। দুনিয়ায় সকলে একটু নিঃস্বার্থ ভালোবাসা চায়। হন্য হয়ে সে ভালোবাসার পেছনে ছোটে কিন্তু তুমি? তুমি তো এতটাই পোড়াকপালি যে সে ভালোবাসাটা পেয়েও হারালে। আসলে কি বলো তো, যারা ভালোবাসা চায়না তারাই সত্যিকারের ভালোবাসাটা পায় আর যারা নিঃস্বার্থভাবে কাউকে ভালোবেসে যায় তারাই দিনশেষে ঠকে যায় খুব বাজেভাবে
মিলি আর একমুহুর্তও দাঁড়ায় না সেখানে। দৌড়ে বেড়িয়ে যায় শপিং মল থেকে। উপরে কেউ যে তার জন্য অপেক্ষা করছে সে বেমালুম ভুলে গেলো সে। সে প্রথমেই গেলো শিহাবের বাড়ি। আজ অফ ডে। শিহাবের বাড়িতেই থাকার কথা। মিলিকে এমন অসময়ে দেখে অবাক হলো শিহাব,
– কি রে তুই? এইসময়?
– হ্যাঁ আমি। যেই মেয়ের জন্য তুমি এই সন্যাস ধর্ম নিয়ে বসে আছো না, খোজ নিয়ে দেখো স্বামী সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই আছে সে।
মিলির কথায় বেশ বড় একটা ধাক্কা খেলো শিহাব। কোনোভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,
– মানে? কি বলছিস তুই এইসব?
– দেখো তুমি যতই লুকানোর চেষ্টা কর আমি জানি তুমি যেই মেয়েটির জন্য এখনো বিয়ে করোনি সে চারুলতা। আজ আমার দেখা হয়েছিলো তার সাথে। স্বামীকে সাথে নিয়ে শপিং করছিলো আবার তাদের একটি মেয়েও আছে। আর তার বর মোটেও কোনো মিডেল এইজ লোক নয় বরং তোমার সমবয়সী।
– কি বলছিস এইসব?
– হ্যাঁ ঠিকই বলছি। এইটা সম্ভবত চারুর দ্বিতীয় বিয়ে। নিজে দেখেশুনেই বিয়ে করেছে। বর কিন্তু মোটেও খারাপ না। পুলিশে আছে, এস আই। সে ঠিকই একের পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছে আর তুমি তার জন্য এখন দেওলিয়া হয়ে গেছো। এখনও বলছি ভালোয় ভালোয় বেড়িয়ে এসো এই মেয়ের থেকে। ভালো একটা মেয়েকে বিয়ে করে সংসার করো।
মিলির কথায় শিহাবের মাথা ধরতে শুরু করছে শিহাব। বুকের মধ্যে প্রচন্ড চাপ অনুভব করছে সে। বুকে হঠাৎ এত ব্যথা করছে কেনো? তার স্বর্ণলতা সত্যিই দ্বিতীয় বিয়ে করেছে?
– কি হলো চুপ করে আছো কেনো? কথা বলো।
– মিলি তুই যা তো। আমার ভালো লাগছেনা।
– আমার কথা তো ভালো লাগবেই না। সত্যি বলেছি তো। সত্যি সবসময়ই তেতো।
– মিলি তুই যাবি?
– না আমি যাবো না। তুমি আমার ভাই। তোমার প্রতি দায়িত্ব আছে আমার। তোমার চোখের কালো পর্দা সরানোর দায়িত্ব আছে আমার।
– মিলি যা।
– যাবোনা আমি। তুমি আগে বলো তুমি এইবার বিয়ে করে নেবে।
– মিলি!
উপায়ন্তর না দেখে শিহাব ধমকে উঠলো মিলিকে। মিলি কিছুটা দমে গিয়ে রাগ দেখিয়ে বেড়িয়ে গেলো সেখান থেকে। বোকা দেখেছে সে কিন্তু শিহাবের মতো দেখেনি। একে বলে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা। দুনিয়ায় কি কম মেয়ে আছে? মিলি চলে যেতেই মাথা দু’হাতে চেপে ধরলো শিহাব। বিরবির করে উচ্চারণ করলো,
– ভালোই তো আছো স্বর্ণলতা। আমার প্রতিফোটা চোখের জলের হিসেব যেনো তোমায় না দিতে হয়। এত হিসেব দেওয়ার ক্ষমতা যে তোমার নেই। তোমাকে কিছু বলার নেই আমার। কোনো অভিযোগও নেই কিন্তু খুব করে বলতে চাই, ভালো থেকো প্রিয়! এজন্মে না হোক, পরজন্মে তুমি আমার। শুধুই আমার। পরকালে কোনো এক পূন্যের বিনিময়ে নাহয় আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে তোমায় চেয়ে নেবো।
তুমি মানে না পাওয়া আশ্বাস
তুমি মানেই আমার একবুক দীর্ঘশ্বাস..!!
বিঃদ্রঃ এখন থেকে আবার রেগুলার(একদিন পরপর) গল্প আসবে। আপনারা সম্ভবত ইন্টারেস্ট হারিয়ে ফেলছেন গল্পটার প্রতি। দ্রুতই শেষ হবে গল্পটা। আর বেশি বাড়াবো না। সামনে পরীক্ষা, এর আগেই শেষ করতে চাইছি। এই কয়েকটা দিন যারা পড়ছেন সবাই প্লিজ রেসপন্স করবেন।
_______________________
To Be Continued…
®শুভ্রা আহমেদ প্রিয়া