গোধূলি বিকেলে তুমি আমি পর্ব-১৯+২০

0
593

#গোধূলি_বিকেলে_তুমি_আমি❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ১৯
________________

হঠাৎই লাবণ্যের ভয়েস শুনে নিজের ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে তাকালো অভ্র দরজার দিকে। সত্যি সত্যিই লাবণ্যকে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খুশি মনে বললো সে,

‘ হুম আয়?’

অভ্রের কথা শুনে লাবন্যও আর বেশি না ভেবে ঢুকে পড়লো ভিতরে। তারপর খুশি মনে বললো,

‘ কেমন আছিস তুই?’

‘ ভালো। তুই?’

‘ আমিও ভালো তা কি বলবি তুই আমায়?’

হাল্কা থমকে গেল অভ্র। বললো,

‘ এখনই বলবো।’

‘ হুম বল,

অভ্র কিছুক্ষন ভাবলো। বললো,

‘ এক মিনিট।’

বলেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো অভ্র। এগিয়ে যেতে লাগলো সে বাহিরে। অভ্রকে যেতে দেখে লাবণ্য অবাক হয়ে বললো,

‘ তুই আবার যাচ্ছিস কই?’

‘ তুই এক মিনিট বস আমি এক্ষুনি আসছি।’

বলেই রুমে থেকে বেরিয়ে গেল অভ্র। আর লাবন্য জাস্ট হা হয়ে তাকিয়ে রইলো অভ্রের কান্ডে। সে বুঝলো না অভ্র এইভাবে চলে গেল কেন?

‘ নিজেই কি যেন বলার জন্য তাড়া দিচ্ছিল আর নিজেই এইভাবে চলে গেল। অদ্ভুত ছেলে তো।’

বিস্মিত হলো লাবন্য।’

নিজের রুম থেকে বেরিয়েই জোরে জোরে নিশ্বাস ফেললো অভ্র। এতদিন মনের কথা বলার জন্য এতটা অস্থির হয়ে ছিল আর আজ যখন লাবণ্য তাঁর সামনে বসে তখনই কিছু বলতে পারছে না। অভ্র তাঁর ফোনটা বের করে মেসেজ করলো তুষারকে। বললো,

‘ তুষার লাবণ্য আমার অফিসে এসেছে এখনই কি ওকে ভালোবাসি কথাটা বলে দিবো।’

অভ্র মেসেজ করার দু’মিনিটের মাথাতেই তুষার রিপ্লাই দিলো,

‘ হুম হুম বলে দে,

‘ আমি খুব নার্ভাস ফিল করছি তুষার।’

‘ নার্ভাস হওয়ার কি আছে ভাই? বি কনফিডেন্ট, তোর জায়গায় আমি থাকলে এতক্ষণে তিন চার বার প্রপোজ করে ফেলতাম।’

‘ হুম কচু করতি। বলা সহজ কিন্তু কাজে করাটা খুব কঠিন।’

‘ হুম বুঝছি যাইহোক ওসব বাদ দে। জোরে নিশ্বাস ফেল, আর লাবন্যের জন্য কেনা আংটিটা নিয়ে প্রপোজটা করে ফেল, যা।’

‘আংটির’ কথাটা দেখতেই বিষম খেল অভ্র। কারন সে তো আংটিটা আনে নি। সেটা তো বাড়িতেই ফেলে এসেছে সে ওহ শিট। বলেই তক্ষৎনাত দৌড়ে অফিস থেকে বেরিয়ে গেল অভ্র।’

আর বেচারি লাবন্য চুপচাপ বসে রইলো অভ্রের রুমে।’

____

একরাশ বিরক্ত নিয়ে ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে আসলো আদ্রিজা। রাগ হচ্ছে তাঁর, চরম রাগ। রাগের চোটে নাকের ডগা লালচে বর্ন ধারন করেছে তাঁর। সে বুঝে না তাঁর বন্ধুমহল তাঁকে কখনো সিরিয়াস ভাবে নেয় না কেন?’ সে যে সত্যিই কাউকে ভালোবাসতে পারে এটা না মেনে নেওয়ার মতো কি আছে এটাই যেন বুঝে না আদ্রিজা। বন্ধুমহলের হাসি দেখে সে আর দাঁড়ালো না তক্ষৎনাত বেরিয়ে আসলো ভার্সিটি থেকে। সাথে পণ করলো সে আগামী দু-তিন দিন ভার্সিটিও আসবে না আর বন্ধুমহলদের সাথেও যোগাযোগ করবে না কোনোভাবে। আজ খুব রেগে গেছে আদ্রিজা।’

আদ্রিজা রাগ নিয়েই হেঁটে যাচ্ছিল বাড়ির উদ্দেশ্যে। এমন সময় তাঁর থেকে কয়েক কদম দূরেই উল্টোদিক ঘুরে হেঁটে যাচ্ছিল শ্রাবণ। আদ্রিজা দেখলো তাঁকে। সাথে ডাক দিতে নিয়েও দিলো না। সামনাসামনি গিয়ে সারপ্রাইজ দিবে।’

অতঃপর আদ্রিজা পিছু নিলো শ্রাবণের।’

এদিকে,

শ্রাবণ হাঁটতে ছিল তার মতো। হঠাৎই ফোনটা বেজে উঠতেই চটজলদি ধরলো সে। তাঁর বন্ধুরা অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। শ্রাবণ হাঁটতে হাঁটতে চলে যায় ভার্সিটি থেকে খানিকটা দূরে থাকা একটা পার্কের সামনে। তাঁর বন্ধুরা সবাই ওখানেই বসে ছিল। আদ্রিজাও শ্রাবণের পিছু নিতে নিতে পৌঁছে যায় সেখানে। প্রথমে শ্রাবণের বন্ধুদের দেখে ফিরে আসতে চেয়েছিল কিন্তু পরে আবার কি ভেবে যেন একটা গাছের পিছনে দাঁড়িয়ে পড়লো সে।’

‘ কি রে কেমন কাটছে দিনকাল?’ (তিশা)

‘ হুম ভালোই কাটছে। তোদের?’

‘ আমাদেরও। তা তুই তো তোর নতুন গার্লফ্রেন্ডকে পেয়ে আমাদের তো ভুলেই গেলি।’

‘ আর গার্লফ্রেন্ড বিরক্ত লাগে বুঝলি আমার লাইফের সবচেয়ে বাজে গার্লফ্রেন্ড হলো এই আদ্রিজা। সবকিছুতেই লেট কোথাও আসতে বললে পনের দশ মিনিট লেট করবেই। যেখানে আমি সব মেয়েকে অপেক্ষা করাই সেখানে এই মেয়ে আমার অপেক্ষা করায়। ফোনে কথা বললে তো মনে করবি সারাজীবনের যত আজগুবি পেঁচাল আছে সব ওর মুখে আছে। ওর নানা বাড়ি কার গরু আছে, কার মহিষ আছে, কার মুরগী আছে ইত্যাদি নিয়ে বক বক করে। আমার লাইফে আদ্রিজার মতো ইডিয়েট টাইপ মেয়ে আর দুটো দেখি নি। সাচ্চা লুক এ ইডিয়ট গার্ল। আসলে সেদিন তিশাই ঠিক বলেছিল ওই আন্টিটাইপ মেয়ের সাথে আমার যায় না। জানিস এর মধ্যে একদিন রেস্টুরেন্টে খেতে ডেকেছিলাম আসতে অনেক লেট করেছিল জানিস না সেদিন ধরা পড়তে পড়তে বেঁচেছি হুট করেই দেখি রেস্টুরেন্টে সুমিতা এসে হাজির ভাগ্যিস আদ্রিজা আসার আগেই ওকে নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। নাইলে তো গেছিলাম আমি। অবশ্য ওই বোকা আদ্রিজা তেমন কিছুই করতে পারতো না আমার।’

এই রকম নানা কিছু বলতে লাগলো শ্রাবণ আদ্রিজার নামে। আর আদ্রিজা আড়াল থেকে সব শুনেই চোখ ছলছল করতে শুরু করলো তাঁর। তার মানে শ্রাবণ তাঁকে ভালোবাসে নি। সব অভিনয় ছিল। কথাটা ভাবতেই বুকের ভিতর দুমড়ে মুচড়ে গেল আদ্রিজার। আদ্রিজা আর ওখানে দাঁড়ালো না এই মুহূর্তে এখানে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা তাঁর নেই। আদ্রিজা তক্ষৎনাত দৌড়ে বেরিয়ে আসলো পার্কের ভেতর থেকে।’

পার্ক থেকে বেরিয়ে শুকনো রাস্তা দিয়ে আনমনেই হেঁটে চলছিল আদ্রিজা। চোখ বেয়ে পড়ছিল তাঁর নোনা পানি। যেই শ্রাবণকে সে মনে প্রাণে ভালোবেসেছিল সেই শ্রাবণই তাঁকে নিয়ে এইভাবে খেললো। কথাটা ভাবতেই কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে আদ্রিজার। আদ্রিজা সামলালো নিজেকে সাথে বললো একদম কাঁদা যাবে না কেন কাঁদবে সে যে শ্রাবণ আদ্রিজাকে কোনোদিন ভালোই বাসে নি তাঁর জন্য কাঁদবে আর কাঁদবে না। কিন্তু কি করে ভুলবে সে শ্রাবণকে। এইরকম নানা কিছু ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটতে ছিল আদ্রিজা। এমন সময় তাঁর পিছন থেকে এগিয়ে আসতে ছিল একটা গাড়ি। খুব স্পিডেই এগিয়ে আসছিল গাড়িটা আদ্রিজার দিকে। গাড়ির হর্ন বাজিয়েছিল ছিল খুব কিন্তু আদ্রিজা অন্যমনস্ক থাকায় সেই হর্নের আওয়াজ শুনতে পাই নি। এরই মাঝে গাড়িটা আদ্রিজাকে উড়িয়ে দিয়ে যাবে তাঁর আগেই আদ্রিজা হাত ধরে সাইডে টেনে আনলো অভ্র। আকস্মিক এমন কান্ডে আদ্রিজা ঘাবড়ে গিয়ে হুস আসলো তাঁর।’

এদিকে অভ্র কাট কাট গলায় বলে উঠল আদ্রিজা,

‘ চোখ কোথায় থাকে তোমার ইডিয়েট আর একটু হলেই তো একটা এক্সিডেন্টে হয়ে যেত।’

অভ্রের কথা শুনে শুঁকনো হাসলো আদ্রিজা। বললো,

‘ আমি সত্যি একটা ইডিয়েট জানেন তো। তাই তো বার বার সব জায়গায় ঠকে যাই।’

হুট করেই আদ্রিজার কথার ধরনটা কেমন একটু লাগতেই বলে উঠল অভ্র,

‘ এভাবে বলছো কেন কি হয়েছে?’

‘ কিছু হয় নি। আমাকে বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ। আমি যাচ্ছি বুঝলেন। মা হয়তো আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আসলে দুনিয়ায় আপন বলতে মা ছাড়া কেউ হয় না। সার্থ ছাড়া একমাত্র মাই তাঁর সন্তানকে ভালোবাসে। আমাকে যেতে হবে, আমার মাকে খুব দরকার বুঝলেন।’

বলেই অভ্রের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে পুনরায় হাঁটা ধরলো আদ্রিজা। আর অভ্র জাস্ট বিস্মিত চেহারা নিয়ে তাকিয়ে রইলো আদ্রিজার যাওয়ার পানে আজ কেমন একটু লাগলো আদ্রিজাকে। আদ্রিজা আবারও সেইম ভঙ্গিতে হাঁটছে, অভ্র দেখলো সেটা। সাথে বললো,

‘ এভাবে হাঁটলে এই মেয়ে আজ নির্ঘাত এক্সিডেন্ট করেই ছাড়বে।’

অভ্র কিছু একটা ভেবে এগিয়ে যেতে নিবে আদ্রিজার দিকে। এরই মাঝে তাঁর ফোনটা বেজে উঠল উপরে লাবণ্যের নাম্বার দেখে তক্ষৎনাত ফোনটা তুললো সে। অভ্র ফোন ধরতেই অপর প্রান্তে থাকা লাবন্য বলে উঠল,

‘ অভ্র কোথায় তুই সেই কখন থেকে তোর রুমে বসে আছি আমি।’

উওরে অভ্রও আদ্রিজার যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকে বেশি না ভেবে বললো,

‘ সরি রে একটা জরুরি কাজ মনে পড়ায় হুট করেই বেরিয়ে আসা লাগলো। আমি তোকে পড়ে ফোন করছি বুঝলি এখন একটু ব্যস্ত আছি।’

বলেই ফোনটা কেটে এগিয়ে গেল অভ্র আদ্রিজার দিকে।’

আর লাবণ্য জাস্ট হা হয়ে গেল অভ্রের কান্ডে। সে সত্যি বুঝলো না অভ্রের কাজকর্ম। এক রাশ বিরক্তি মাখা মুখ নিয়ে বেরিয়ে গেল সে অভ্রের রুম থেকে।’

____

বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরের একটা বড়সড় রেস্টুরেন্টের সামনে বসে আছে আরু। কারন আজই তাঁর হবু বর রিয়ান বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসেছে। রিয়ান দেশে ফিরে এসেছে কথাটা জানার পর থেকেই তাঁর সাথে দেখা করার জন্য পুরো অস্থির হয়ে আছে আরু। যে করেই হোক এই বিয়েটা তাঁকে আটকাতেই হবে। তাই তো ফোন করে রিয়ানকে এই রেস্টুরেন্টে আসার জন্য বলেছে আরু। রিয়ানও রাজি হয়েছে। এমন সময় আরুর পিছনে দাঁড়িয়ে বলে উঠল আশিক,

‘ ওগো আমার ঘুম কুমারী
বসে তুমি থাকো।’
বিয়েটা আমরা ভেঙেই ছাড়বো
বেশি ভেবো নাকো।’

আরু বিরক্ত হলো, চরম বিরক্ত হলো। এই ভুল সময়ে আশিকের ভুলভাল কবিতা মটেও পছন্দ হলো না তাঁর। আরু কাট কাট গলায় বললো আশিককে,

‘ তুই যদি আর একটা ভুলভাল কবিতা বলিস তাহলে তোর খবর আছে বলে দিলাম।’

‘ আরে এভাবে বলছিস কেন এই আমি আছি বলেই আজ তোর বিয়েটা ভাঙতে পারবি বুঝলি।’

‘ বিয়েটা এখনো ভাঙে নি আগে ভেঙে নিক তারপর বলিস।’

‘ ভাঙবো তো বটেই যতই হোক আগামী একমাস তোকে কবিতা শুনাতে হবে তো।’

উওরে কিছু বলতে পারলো না আরু। নাক ফুলিয়ে বসিয়ে রইলো সে। বর্তমানে তাঁর ঝামেলা হলো এই রিয়ান আর আশিকের ফালতু কবিতা।’

শুধুমাত্র আশিককে রিয়ান চেনে না বলে আরু নিয়ে এসেছে সাথে। নইলে এই আশিকের ফালতু কবিতা শোনার বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্টি নেই তাঁর । আরুর জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো এই আশিকের কবিতা।’

____

গাড়ি করে যাচ্ছে আদ্রিজা আর অভ্র। কিছুক্ষন আগেই একপ্রকার জোর করেই আদ্রিজাকে গাড়িতে তুলে নেয় অভ্র। আজ আদ্রিজাকে একদমই মনমরা লাগছে অভ্রের কাছে। হঠাৎই অভ্র প্রশ্ন ছুঁড়ে বসলো আদ্রিজাকে। বললো,

‘ কি হয়েছে তোমার মিস ব্ল্যাকবেরি? সব ঠিক আছে তো। আজ তোমায় এত মনমরা লাগছে কেন? শ্রাবণ কি কিছু করেছে?’

সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে ফেললো আদ্রিজা। হুট করে আদ্রিজাকে কাঁদতে দেখে বিস্মিত হলো অভ্র। বললো,

‘ আরে আরে কি হলো তুমি কাঁদছো কেন?’

উওরে কিছু বললো না আদ্রিজা। আরো উচ্চ স্বরে কাঁদতে লাগলো সে।’

#চলবে…..

#গোধূলি_বিকেলে_তুমি_আমি❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ২০
________________

‘ আরে আরে! তুমি এভাবে এত কাঁদছো কেন মিস ব্ল্যাকবেরি? আমায় বলবে তো কি হয়েছে? না বললে বুঝবো কিভাবে বলো?’ আর আমি কি এমন বলেছি যার জন্য এত কাঁদছো তুমি?’

প্রচন্ড বিস্ময় ভরা কন্ঠ নিয়ে কথাটা বলে উঠল অভ্র আদ্রিজাকে। আর অভ্রের কথা শুনে আদ্রিজা কিছু বলতে চেয়েও কিছু বলতে পারছে না শুধু বুুক চিঁড়ে কান্না আসছে তাঁর। খুব কষ্ট হচ্ছে আদ্রিজার, যাকে এত করে ভালোবাসলো সেই মানুষটাই তাঁকে ঠকালো কথাটা ভাবলেই যেন বিচ্ছিরি এক চাপা কষ্ট বের হচ্ছে আদ্রিজার ভিতর দিয়ে। আদ্রিজা কাঁদছে, খুব করে কাঁদছে। চেয়েও নিজের কান্নাটা সে থামাতে পারছে না।’

এদিকে অভ্র এখন বিরক্ত হলো, চরম বিরক্ত হলো। এইভাবে বলা নেই কওয়া নেই হুট করে কেউ কাঁদে নাকি। অভ্র খানিকটা বিরক্ত নিয়ে জোরে ব্রেক কষলো। আচমকা এমনটা হওয়াতে আদ্রিজা চমকে উঠলো খুব। তবে কান্না থামালো না যা দেখে অভ্র ধমক দিয়ে বললো,

‘ কান্না থামাবে তুমি?’

আদ্রিজা ঘাবড়ে গেল অভ্রের ধমক শুনে। সাথে কান্না থামানোরও চেষ্টা করলো সে কিন্তু ব্যর্থ হলো। কাঁদতে কাঁদতে ফর্সা মুখটা পুরো লালচে হয়ে গেছে আদ্রিজার। হেঁচকি উঠে গেছে প্রায়।’

অভ্র চুপ করে রইলো কিছুক্ষন। তারপর জোরে নিশ্বাস ফেলে বললো,

‘ নামো,

অভ্রের কথা শুনে আদ্রিজা তাকালো অভ্রের মুখের দিকে। যা দেখে অভ্র বলে উঠল তাঁকে,

‘ তোমায় নামতে বলেছি, আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলি নি। নামো গাড়ি থেকে।’

আদ্রিজাও আর বেশি ভাবলো না তক্ষৎনাত নেমে পড়লো গাড়ি থেকে। আদ্রিজা ভেবেছিল অভ্র হয়তো তাঁর কান্নায় বিরক্ত হয়ে তাঁকে রেখেই চলে যাবে। কিন্তু না আদ্রিজাকে অবাক করে দিয়ে অভ্রও বের হলো গাড়ি থেকে। আদ্রিজা শুধু ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলো অভ্রের মুখের দিকে তবে কিছু বললো না। এরই মাঝে অভ্র তাঁর সামনে এসে বললো,

‘ চলো আমার সাথে?’

____

একটা বড়সড় নদীর পাড়ের সামনে গাছের নিচের থাকা একটা বড় বেঞ্চে পাশাপাশি বসে আছে আদ্রিজা আর অভ্র। দুজনেই চুপচাপ। আদ্রিজা নিশ্চুপে বসে আছে কিছু বলছে না আর অভ্রও তাঁকে কোনো প্রশ্ন করছে না। আশেপাশে পাখি ডাকছে ‘কুউহু কুউহু’, মিষ্টি বাতাস বইছে চারদিক দিয়ে, শহর থেকে খানিকটা দূরে একদম নিরিবিলি আর সুনসান জায়গা এমন। নদীতে ঢেউ হচ্ছে, দূর সীমানা দিয়ে মাঝি নৌকা নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে, নীল-সাদা মেঘেরা জমে আছে দূর আকাশ বেয়ে। আদ্রিজার চোখ আপাতত এই প্রকৃতিতেই সীমাবদ্ধ। না সে কিছু ভাবছে, না কিছু করছে একদম চুপচাপ আর নিরিবিলি সে। হঠাৎই এই নীরবতার দড়ি ছিন্ন করে গাড়ি থেকে আনা হাতের পানির বোতলটা আদ্রিজার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো অভ্র,

‘ এটা খেয়ে নেও?’

অভ্রের কান্ডে আদ্রিজা বিস্ময় ভরা চেহারা নিয়ে তাকিয়ে রইলো অভ্রের দিকে। তবে কিছু বললো না। আদ্রিজার নিশ্চুপ ভাবটা যেন ঠিক পছন্দ হচ্ছে অভ্রের। অভ্র নিজেকে শান্ত রেখে আবারও বলে উঠল আদ্রিজা,

‘ এটা খেতে বলেছি তোমায়?’

এইবার আদ্রিজা শুনলো অভ্রের কথা, পানির বোতলটা নিলো সে। সাথে অল্প একটু খেয়ে গলাটা ভিজিয়ে নিলো মাত্র। আদ্রিজার পানি খাওয়া শেষ হতেই অভ্র শান্ত গলায় বললো আদ্রিজাকে,

‘ এবার বলো কি হয়েছে এভাবে কাঁদছো কেন?’

আদ্রিজা চুপ করে রইলো। আদ্রিজার কান্ডে নিরাশ হলো অভ্র। নিরাশা নিয়েই বললো আবার,

‘ দেখো তুমি যদি আমায় না বলো তোমার কি হয়েছে তাহলে আমি বুঝবো কি করে বলো?’ সব ঠিক আছে তো, তোমার বাড়ির সবাই ঠিক আছে?’

উওরে মাথা নাড়িয়ে হা সর্মথন দিলো আদ্রিজা। যার অর্থ হ্যা ঠিক আছে। আদ্রিজার কথা শুনে অভ্র শান্ত গলায় বললো আরেকবার,

‘ তাহলে কি হয়েছে বলো আমায়?’ আমায় কি বন্ধু ভাবো তুমি যদি ভেবে থাকো তাহলে বলে ফেলো।’

আদ্রিজা ছলছল চোখে তাকালো অভ্রের মুখের দিকে। তারপর বেশি কিছু না ভেবেই নিশ্চুপ স্বরে বলে উঠল সে,

‘ কি বলবো বলুন জীবনে প্রথমবার কাউকে ভালোবেসে ছিলাম আমি। কিন্তু সেই মানুষটাই ঠকালো আমায়। আমার সাথে ভালোবাসার নাটক করতে ছিল এতদিন। আমায় নিয়ে তাঁর হাজারো অভিযোগ শোনাচ্ছিস তাঁর বন্ধুদের।’

এতটুকু বলে কতক্ষণ আগের হয়ে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বললো আদ্রিজা অভ্রকে। আর অভ্রও শুনতে লাগলো চুপচাপ। তাঁর মানে সেদিন রেস্টুরেন্টের সেই ছেলেটাই শ্রাবণ ছিল।’

_____

রেস্টুরেন্টের মাঝ বরাবর তিন নাম্বার সারির দুই নাম্বার টেবিলে পাশাপাশি এখনও বসে আছে আরু। মোবাইল দেখছে সে আর তাঁর পাশেই দাঁত দিয়ে হাতের নখ কাটছে আশিক। এখন তাঁর বিরক্ত লাগছে সেই কখন থেকে তাঁরা অপেক্ষা করছে আরুর হবুর বর রিয়ানের জন্য। কিন্তু বদমাশ ছেলের এখনও আসার নাম গন্ধ নেই কোনো। আশিক দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে বলে উঠল,

‘ আজ মনে হয় আসবে না তোর হবু বর আসলে এতক্ষণ নিশ্চয়ই চলে আসতো?’

‘ আসবে যখন বলেছে তখন নিশ্চয়ই আসবে একটু অপেক্ষা কর।’

‘ অপেক্ষা তো সেই কোন বেইনন্না বেলা হইতে করতে আছি খবর তো নাই কোনো আমার মনে হয় তোর মতো আধপাগল মাইয়ারে যাতে বিয়া করতে না হয় তাই পলাইছে হালায়। নইলে এতক্ষণে নিশ্চয়ই আইতো।’

আশিকের কথা শুনে চোখ মুখ কুঁচকে বলে উঠল আরু,

‘ একদম আজেবাজে কথা বলবি না,

‘ কি করবি তুই?’

আশিকের কথা শুনে রাগ উঠলো আরুর। আশে পাশে তাকিয়ে টেবিলের উপর থেকে কাটা চামচটা নিয়ে আশিকের দিকে তাঁক করে বলে উঠল সে,

‘ আর একটা কথা বললে এই কাটা চামচ দিয়ে গুঁতা মেরে তোর পেট ফুটো করে দিবো।’

‘ ওরে বাবা ভয় পাইছি তো।’

আরো বিরক্ত হলো আরু চেয়েও কিছু বলতে পারলো না। এরই মাঝে রেস্টুরেন্টের দরজা খুলে ভিতরে আসলো রিয়ান। আরু খেয়াল করলো তাঁকে তক্ষৎনাত নিজের রাগটাকে দূরে সরিয়ে রেখে আশিকের সাথে মিষ্টি মিষ্টি গলায় বলে উঠল সে,

‘ এত ভয় পেলে চলে নাকি মাঝে মধ্যে একটু সাহসীও তো হতে হয় বাবু।’

হুট করেই আরুর রূপ পাল্টে ‘বাবু’ ডাকটা শুনে হেঁচকি উঠে গেল আশিকের তক্ষৎনাত টেবিলের উপর থেকে পানির গ্লাসটা নিয়ে পানি খেতে লাগলো সে।’

আশিকের কান্ডে আরু আশিকের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো,

‘ রিয়ান চলে এসেছে বুঝোই তো যদি এক্টিংয়ে একটু এদিক থেকে ওদিক করেছো তাহলে আমার বাবু ছোনা মনা তোমার একদিন কি আমার একদিন?’

এতক্ষণ পর আশিক বুঝলো হুট করে আরু এমন পাল্টি খেল কেন? আশিক আরুর হাতটা নিজের মাথা থেকে সরিয়ে বললো,

‘ সেটা তো সময় বলবে জানেমন কার একদিন আর কার বারোদিন।’

এরই মাঝে সেখানে এসে উপস্থিত হলো রিয়ান।আশিক আর আরুকে একসাথে কাছাকাছি দেখে খানিকটা খটকা লাগলো তাঁর। রিয়ান মুচকি হেঁসে বললো আরুকে,

‘ কেমন আছো আরু?’

‘ জ্বী ভালো আপনি?’

‘ হুম ভালো। আমার সাথে নাকি তোমার কিছু কথা আছে?’

উওরে আরুও বেশি না ভেবে বললো,

‘ হুম আসলে,

এরই মাঝে আশিক রিয়ানের দিকে নিজের হাতটা বারিয়ে দিয়ে বললো,

‘ হাই ব্রো আমি আশিক আরুর ফ..

আর কিছু বলার আগেই আরুর ফড়ফড় করে বলে উঠল,

‘ বয়ফ্রেন্ড।’

উওরে আশিকও বিষম খেয়ে বলে উঠল,

‘ হুম বয়ফ্রেন্ড।’

রিয়ান অবাক হলো, চরম অবাক হলো। বিস্মিত চেহারা নিয়ে বললো,

‘ তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে আরু?’

উওরে মনে মনে বললো আরু, এতক্ষণ তো ছিলো না আপনি এলেন বলে হয়ে গেল।’ আরুকে চুপচাপ থাকতে দেখে আবারও বললো রিয়ান,

‘ কি হলো আরু তুমি কিছু বলছো না কেন?’

আরু নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে বললো,

‘ আমি সব খুলে বলছি আপনায়।’

এই বলে দুনিয়ার যত মিথ্যে আজগুবি গল্প আছে সব বানিয়ে বুনিয়ে একটা মিথ্যে গল্প বলেদিল আরু। আরুর কথা শুনে আশিক রিয়ান দুজনেই জাস্ট হা হয়ে তাকিয়ে রইলো আরুর মুখের দিকে।

অতঃপর নিজের আজগুবি বানানো গল্প বলা শেষ করে বললো আরু,

‘ প্লিজ ভাইয়া আপনি এই বিয়েটা কিছুতেই করবেন না? বাবাকে বলার সাহস হচ্ছিল তাই আপনায় বললাম। আমি আরও আগেই বলতাম কিন্তু আপনি দেশের বাহিরে চলে যাওয়ায় আর কিছু বলতে পারি নি।’

আরুর কথা শুনে রিয়ান কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো,

‘ কিন্তু আরু?’

আর কিছু বলার আগেই আশিক রিয়ানের দু’হাত চেপে ধরে বললো,

‘ কোনো কিন্তু বলবেন না ভাইয়া। আপনি আমাদের শেষ ভরসা। সেই ছোট কাল হইতে আমি আমার আরু ছুনারে ভালোবাসি।’

আশিকের কথা শুনে রিয়ান বললো,

‘ কিন্তু আরু যে বললো কলেজ লাইফ থেকে।’

সঙ্গে সঙ্গে বিষম খেল আরু। এই ছেলে নির্ঘাত তাঁকে ফাঁসিয়েই ছাড়বে। আরুকে বিষম খেতে বললো আশিক,

‘ সে তো আরু আমায় কলেজ লাইফ থেকে ভালোবেসেছে কিন্তু আমি সেই ছোট্ট কাল হইতে ওরে ভালোবাসি। বিয়ের পর কোথায় যাবো, আমাদের কতগুলো ছেলেমেয়ে হবে, আমাদের নাতি-নাতনিদের কোথায় বিয়ে দেবো সব ভাবা হয়ে গেছে। প্লিজ আপনি আরুকে বিয়ে করে আমাদের নাতি-নাতনিকে দুনিয়ার মতো সুন্দর পৃথিবী দেখা থেকে বঞ্চিত করবেন না।’

বলেই নেকা কান্না জুড়ে দিল আশিক। আশিকের কান্না দেখে রিয়ান হতভম্ব হয়ে বলে উঠল,

‘ ঠিক আছে ঠিক আছে। এভাবে কেঁদো না দেখছি আমি কি করা যায়।’

এদিকে আরু ভিতরে ভিতরে চরমভাবে রেগে গেছে আশিকের ওপর। এই ছেলে একটু বেশি বেশি করছে। এত ওভার এক্টিংয়ের ঠ্যালায় তাঁরা না ধরা খেয়ে যায়। ধরা খেলে এই আশিকের বাচ্চাকে একদম ছাড়বে না আরু। একদমই না।’

____

নদীতে তখন ঢেউয়ের প্রবল স্রোত বইছিল। পাখিরা ডাকা বন্ধ করে দিয়েছে অনেক আগেই। তবে বাতাস বইছে। চারপাশ জুড়ে থাকা গাছের ভিড়েই তখনও সেই বেঞ্চটাতে বসে ছিল অভ্র আর আদ্রিজা একসাথে। আদ্রিজ কান্না করে নি আর অভ্রকে সব বলে এখন নিজেকে হাল্কা লাগছে তাঁর। আর অভ্র আদ্রিজার সাথে খুব বাজে হয়েছে, ওই শ্রাবণ নামক ছেলেটা একদম ঠিক কাজ করেনি আদ্রিজার সাথে। অভ্র কিছুক্ষন চুপ থেকে বোঝালো আদ্রিজাকে। বললো,

‘ একটা কথা কি, দুনিয়ার সব মানুষ ভালো হয় না, আবার সব মানুষ খারাপও হয় না। তবে আমি বলবো না তুমি ভালোবেসে ভুল করেছো। ভালোবাসা অন্যায় নয় কিন্তু ভালোবাসার মানুষটা সঠিক না হলে এইভাবেই কাঁদতে হয়। তুমি শুধু এতটুকু ভেবে খুশি থাকার চেষ্টা করো আদ্রিজা যে তোমার সাথে ভুলভাল কিছু হওয়ার আগেই তুমি শ্রাবণের আসল চেহারাটা দেখতে পেয়েছো। তাই ভেঙে পড়ো না নিজেকে সামলাও আর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো দেখবে তুমি শ্রাবণের থেকেও ভালো কাউকে পাবে। যে তোমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসবে। তোমায় আগলে রাখবে খুব। তাই কেঁদো না নিজেকে সময় দেও, সাথে সময় নেও। দেখবে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে। জানি প্রথম প্রথম হয়তো বড্ড কষ্ট হবে কিন্তু তুমি পারবে আমি জানি তুমি পারবে।’

অভ্রের কথায় আদ্রিজা অনেকটা শক্ত হলো। নিজেকে সামলে নিলো সে। ছলছল চোখে বললো,

‘ আমি সত্যি পারবো শ্রাবণকে ভুলে আগের মতো সবটা নতুন করে শুরু করতে।’

উওরে আদ্রিজার হাত ধরে মুচকি হেঁসে বললো অভ্র,

‘ হুম। নিশ্চয়ই পারবে।’

অভ্রের কথায় একরাশ মুগ্ধতা এসে গ্রাস করলো আদ্রিজাকে। সাথে শ্রদ্ধাও হলো অভ্রের প্রতি তাঁর। এই অভ্রই হয়তো প্রথম সেই মানুষ যে আদ্রিজার সব বিষয়গুলোকে সিরিয়াস ভাবে নেয়। সেই শুরু থেকেই শ্রাবণের বিষয়টা সবার আগে অভ্রই জেনেছিল। কোনো হাসাহাসি করে নি অভ্র বা তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা মসকারাও করে নি তাঁর বন্ধুমহলের মতো। যদিও আদ্রিজা জানে তাঁর বন্ধুমহল জাস্ট ফান হিসেবে করেছিল হাসাহাসি। তপ্ত নিশ্বাস ছাড়লো আদ্রিজা। হয়তো সত্যিই জীবনের বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই সবটা জেনে গেল সে। আদ্রিজা তাঁর চোখের পানি মুছে নিলো, সাথে নিজেই মনে মনে বললো নিজেকে,

‘ আর কাঁদা যাবে না এইভাবে, এবার নিজেকে সামলাতে হবে আদ্রিজা। সাথে শ্রাবণের ভুলের সঠিক জবাব তাঁকে দিতে হবে, দিতেই হবে।’

____

সেদিন দুপুরে বাড়ি ফিরে আর মোবাইল ধরে নি আদ্রিজা। শ্রাবণ অনেকবার কলও করেছিল তাঁকে কিন্তু আদ্রিজা ফোন ধরেনি। কেন ধরবে ফোন? যে ছেলে তাঁকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে তাঁর ফোন কেন ধরবে আদ্রিজা? একদমই ধরবে না ফোন। যে ছেলে ভালোবাসার নামে মিথ্যে ছলনা করে সেই ছেলেকে কোনোদিনও ক্ষমা করবে না আদ্রিজা। হঠাৎই অভ্রের বলা একটা কথা খুব মনে পড়লো আদ্রিজার। যেখানে অভ্র বলেছিল তাঁকে,

‘ জানো তো কিছু ভুলের কখনো ক্ষমা হয় না।’

আদ্রিজা তাঁর চোখের পানি মুছে নিলো সাথে মনে মনে বললো ‘কাল সকালেই তোমার ভুলের সঠিক জবাব দিবো আমি,শ্রাবণ। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি।’

#চলবে….

[ভুল-ত্রুটি ক্ষমার সাপেক্ষ। আর গল্প কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবে।]

#TanjiL_Mim♥️