গোধূলি বিকেলে তুমি আমি পর্ব-২১+২২

0
541

#গোধূলি_বিকেলে_তুমি_আমি❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ২১
________________

পরেরদিন ভার্সিটিতে,

বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিল শ্রাবণ। সবাই বকবক করছিল আর সে চুপচাপ বসে ছিল। বেশ বিষন্নতা ঘিরে ছিল তাঁর মাঝে কারন হুট করেই কাল থেকে আদ্রিজা তাঁর ফোন তুলছে না। সাথে মেসেজের রিপ্লাইও করছে না। শ্রাবণ বুঝচ্ছে না হুট করে মেয়েটার হলো টা কি?’

এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলো আদ্রিজা। শ্রাবণ আদ্রিজাকে দেখেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো তারপর এগিয়ে গেল আদ্রিজার দিকে। তারপর উত্তেজিত কন্ঠ নিয়ে বললো সে,

‘ তুমি কাল থেকে আমার ফোন কেন তুলছো না আদ্রিজা, তুমি জানো কাল থেকে কতবার তোমায় ফোন করেছি। রিং হচ্ছিল কিন্তু তুমি ফোন তুলছিলে না। কোথায় ছিলে তুমি?’

উওরে আদ্রিজা কিছু বললো না শুধু তাকিয়ে রইলো শ্রাবণের মুখের দিকে। আদ্রিজাকে একদম চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবারও বলে উঠল শ্রাবণ,

‘ কি হলো তুমি কিছু বলছো না কেন?’

শ্রাবণের কথা শুনে খানিকটা পিছিয়ে আসলো আদ্রিজা। তারপর ব্যাগ থেকে শ্রাবণের দেওয়া সেই আংটিটা বের করলো। তারপর সেটাকে শ্রাবণের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো সে,

‘ আপনার গিফট আপনায় ফেরত দিয়ে দিলাম শ্রাবণ এটার আর আমার কোনো প্রয়োজন নেই।’

আদ্রিজার কান্ডে চরম অবাক হলো শ্রাবণ। আশেপাশে তাকালো সে। তারপর বিস্মিত ভরা কন্ঠ নিয়ে বললো শ্রাবণ,

‘ এসবের মানে কি আদ্রিজা?’

শ্রাবণের কথার উওর হিসেবে তেমন কিছু না ভেবেই বললো আদ্রিজা,

‘ মানে কিছুই নয় আপনার জিনিস আপনায় ফেরত দিয়ে দিলাম এই যা।’

‘ আমার সাথে মসকরা করছো তুমি?’

উওরে শুঁকনো হেঁসে বললো আদ্রিজা,

‘ আপনি আমার কে হন যে আপনার সাথে মসকারা করতে যাবো আমি।’

শ্রাবণ বিস্মিত হলো খুব। সে সত্যিই বুঝলো না হুট করে আদ্রিজা এমন করছে কেন? শ্রাবণ আদ্রিজার দিকে দু’কদম এগিয়ে গিয়ে বললো,

‘ কি হয়েছে তোমার এসব কি বলছো তুমি?’

‘ আপনি বুঝতে পারছেন না আমি কি বলছি।’

উওরে বিষন্ন ভরা কন্ঠ নিয়ে বললো শ্রাবণ,

‘ আমি সত্যিই কিছু বুঝতে পারছি না আদ্রিজা, কি হয়েছে তোমার?’

বলেই আদ্রিজাকে স্পর্শ করতে নিলো শ্রাবণ। সাথে সাথে কয়েক কদম পিছিয়ে গিয়ে বললো আদ্রিজা,

‘ দেখুন অভিনয়ের চেয়ে সত্য তিক্ত কিন্তু বিষাক্ত নয়। তিক্ততা সহ্য করা যায় কিন্তু বিষাক্ততা নয়।’

আবারও হতাশ হলো শ্রাবন। বললো,

‘ আমি তোমার কথার আগামাথা কিছু বুঝচ্ছি না আদ্রিজা।’

উওরে নীরব কন্ঠে বললো আদ্রিজা,

‘ একটা সত্যি কথা বলবেন আপনি কি আধও কোনোদিন সত্যিকার অর্থে ভালোবেসে ছিলেন আমায়?’

আদ্রিজার হুট করে করা এমন প্রশ্ন শুনে থমকে গেল শ্রাবণ। কি বলবে ঠিক বুঝতে পারলো না সে। খানিকটা ভরাট কন্ঠে বললো শ্রাবণ,

‘ হঠাৎ এমন প্রশ্ন কেন আদ্রিজা?’

শ্রাবণের কথা শুনে হেঁসে ফেললো আদ্রিজা। বললো,

‘ আমার প্রশ্নের জবাব আমি পেয়ে গেছি শ্রাবণ, ভালো থাকবেন। আপনার মিথ্যে ভালোবাসা থেকে আপনায় মুক্তি দিলাম আমি।’

বলেই চলে আসতে নিলো আদ্রিজা। সঙ্গে সঙ্গে আদ্রিজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো শ্রাবণ। বললো,

‘ কি কখন থেকে অভিনয়ের ভালোবাসা, মিথ্যে ভালোবাসা কিসব বলছো তুমি? মাথাটা কি গেছে পুরোপুরি।’

এবার আদ্রিজা রেগে গেল। খানিকটা উঁচু গলায় বললো সে,

‘ আপনি সত্যি বুঝতে পারছেন না আমি কি বলছি?’

‘ আরে বললাম তো আমি কিছু বুঝতে পারছি না।’

‘ আপনি সত্যি বুঝতে পারছেন না শ্রাবণ, আপনি জানেন আমি কি বলছি তারপরও না বোঝার অভিনয় করছেন মাত্র।’

এবার শ্রাবণও রেগে গেল। উচ্চ স্বরে বললো সে,

‘ এবার তুমি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছো আদ্রিজা।’

‘ হাসালেন শ্রাবণ। আপনি তো জানতেন আমি আপনায় খুব ভালোবাসি শ্রাবন তারপরও অভিনয় কেন করলেন। পছন্দ ছিল না শুরুতেই বলে দিতেন এত নাটক করার কি ছিল বলুন?’

এবার শ্রাবণ সত্যি সত্যিই থমকালো খুব। মনের কোণে এক অজানা প্রশ্ন এসে ধরা দিল তাঁকে। তবে কি আদ্রিজা কোনোভাবে তাঁর অভিনয়টা ধরে ফেললো। শ্রাবণকে ভাবতে দেখে বললো আদ্রিজা,

‘ কি ভাবছেন এটাই তো যে আপনার মিথ্যে ভালোবাসাটা কিভাবে ধরে ফেললাম আমি।’

আদ্রিজার কথা শুনে শ্রাবণ বিস্ময় ভরা চোখ নিয়ে শুধু তাকালো আদ্রিজার মুখের দিকে। শ্রাবণের চাহনি দেখে বলে উঠল আদ্রিজা,

‘ আপনি তো আমায় ভালোবাসেন না, কোনোদিন বাসেনও নি তাহলে অভিনয় করার কি দরকার ছিল শ্রাবণ। আপনার আমায় পছন্দ ছিল না শুরু থেকেই বলে দিতেন শ্রাবণচ এত অভিনয় কেন করলেন? ঘর বাধার স্বপ্ন কেন দেখালেন শ্রাবণ?’

বলতে বলতে চোখ ভেসে আসলো আদ্রিজার। যতটা কঠোর হয়ে এসেছিল সে ততটা কঠোরতা নিজের মাঝে দমিয়ে রাখতে পারলো না। আদ্রিজার কথা শুনে শ্রাবণ বুঝলো সে হয়তো ধরা পড়ে গেছে আদ্রিজার কাছে। তাহলে আর অভিনয় করার প্রয়োজন নেই। শ্রাবন তার না বোঝার ভান থেকে বেরিয়ে আসলো। তারপর স্পষ্ট গলায় বললো,

‘ তাঁর মানে তুমি সব বুঝে গেছো?’

নিজেকে সামলে নিলো আদ্রিজা। ছলছল চোখে শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বললো সে,

‘ আপনি কি ভেবেছিলেন আপনার অভিনয়ে সারাজীবন চলে যেত আমার।’

‘ আমি জানি না তুমি কি কি জেনেছো বা কিভাবে জেনেছো? তবে জেনেই যখন গিয়েছো তাহলে আর অভিনয় করে লাভ নেই এটা সত্যি আমি এতদিন তোমার সাথে অভিনয় করতে ছিলাম। আসলে সত্যি বলতে কি তোমার মতো বোকা মেয়ের সাথে অভিনয় করতে আমারও ভালো লাগছিল না। ভালো হয়েছে তুমি সবটা জেনে গিয়েছো।’

‘ আপনি খুব খুশি হয়েছেন তাই না। এমন কেন করলেন শ্রাবণ?’

‘ কেন করেছি মজা করার জন্য। আমার আবার তোমার মতো বোকা মেয়েদের সাথে মজা করতে আনন্দ লাগে।’

‘ সামান্য আনন্দ পাওয়ার জন্য এইভাবে মেয়েদের মন নিয়ে খেলেন শ্রাবণ। ছিঃ আপনাকে আমি ভালোবাসতাম এটা ভাবলেও আমার নিজের প্রতি এখন ঘৃণা হচ্ছে।’

আদ্রিজার কথা শুনে শ্রাবণ হাসলো। শ্রাবণের হাসি দেখে আদ্রিজার ইচ্ছে করছে ঠাটিয়ে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিতে শ্রাবণের গালে। তবে সেটা করলো না সে চুপচাপ শ্রাবণের পাশ কাটিয়ে চলে আসতে নিলো। আদ্রিজাকে যেতে দেখে আবারও রাস্তা আটকালো শ্রাবণ। বললো,

‘ এভাবে চলে গেলে কিভাবে হবে তুমি আমায় এটা বলো তুমি কি করে ভাবলে তোমার মতো এমন গাইয়া পদের মেয়েকে শ্রাবণ ভালোবাসবে।’

‘ ভাবি নি তো শ্রাবণ, বিশ্বাস করুন শুরুর দিক দিয়ে আমিও ভাবি নি কিন্তু আপনার ভোলা ভোলা অভিনয় মাখা কথা শুনে বাধ্য হয়েছিলাম ভাবতে। তাই তো ঠকে গেলাম।’

আদ্রিজার কথা শুনে হাসলো শ্রাবণ।’

____

আরুকে দিতে ভার্সিটি এসেছে অভ্র। আজ আদ্রিজা যায় নি আরুদের বাড়ি। যার দরুন আরুকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে ছিল অভ্র। যদিও আরু বারন করেছিল তাঁকে। তবে অভ্র শোনে নি। মাত্রই ভার্সিটির সামনে গাড়ি থামিয়েছে সে। গাড়ি থামতেই আরু গাড়ি থেকে বেরিয়ে দৌড়ে চলে গেল ভার্সিটির ভিতর। আজ সে মহা খুশি কারন তাঁর বিয়েটা ভেঙে গেছে। রিয়ান কাল রাতেই ফোন করে আরুর বাবাকে বলে দিয়েছিল সে আরুকে বিয়ে করবে না। কারন বলে নি শুধু বলেছে বিয়েটা সে করতে পারবে না। আরুর বাবাও মেনে নিয়েছে। যেখানে ছেলেই বিয়েতে রাজি নয় সেখানে কিসের বিয়ে। আর এই খুশির সংবাদটা তাঁর বন্ধুমহলকে দেওয়ার জন্যই আশেপাশের কোথাও না তাকিয়ে সোজা ছুটে গেল আরু তাঁর ক্লাসরুমের দিকে।’

হঠাৎই আরুর একটা নোটবুক গাড়ির ভিতর রেখে যেতে দেখে অভ্র অবাক হলো। আরুকে ডাকলো সে কিন্তু আরু শুনলো না এতে হতাশ হলো অভ্র। ওদিকে তার অফিস যেতেও দেরি হয়ে যাচ্ছে। অভ্র বেশি কিছু না ভেবে নোটবুকটা হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে বের হলো। উদ্দেশ্য হচ্ছে আরুর ক্লাসরুমে গিয়ে এটা ফেরত দেওয়া। যেই ভাবা সেই কাজ অভ্র তপ্ত নিশ্বাস ছেড়ে এগিয়ে যেতে লাগলো ভার্সিটির ভিতরে। হঠাৎই অভ্রের চোখ গেল তাঁর থেকে কয়েক কদম দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আদ্রিজা আর আদ্রিজার সামনে দাঁড়িয়ে একটা ছেলের দিকে। অভ্র কৌতুহলী এগিয়ে গেল সেদিকে। কেন যেন তাঁর মনে হলো আদ্রিজা ঠিক নেই।’

___

‘ আপনি যে আমায় এইভাবে ঠকাবেন এটা আমি কখনো কল্পনাও করতে পারি নি শ্রাবন?’

প্রচন্ড হতাশা ভরা কন্ঠ নিয়ে কথাটা বলে উঠল আদ্রিজা শ্রাবণকে। আর আদ্রিজার কথা শুনে শ্রাবণ বলে উঠল,

‘ তোমার কল্পনা করা বা না করায় আমার কিছু যায় আসে না। আর আমি নই তুমি নিজে এসেছিলে আমার কাছে।’

‘ তাই বলে এভাবে ঠকাবেন?’

‘ নিজেকে কখনো আয়নায় দেখেছো, আমি তো এটা ভেবেই অবাক হই তুমি ভাবলে কি করে তোমার মতো বোকা মেয়েকে আমি ভালোবাসবো। আর আমি তোমায় ঠকাই নি তুমি তোমার নিজের ভাবনায় গুনে ঠকেছো। আজকাল কাউকে এমন আন্টিরূপে ঘুরাঘুরি করতে দেখেছো। আমার গার্লফ্রেন্ড হওয়ার নখের যোগ্যতাও তোমার নেই। আর সেই তুমি কিনা আমায় বিয়ে করার স্বপ্ন দেখো অদ্ভুত।’

শ্রাবণের অপমানে ঘৃনা হলো আদ্রিজার। চোখের পানি আর বাঁধ মানলো তাঁর। গড়িয়ে পড়লো আদ্রিজার গাল বেয়ে। আদ্রিজা আর দাঁড়ালো না তক্ষৎনাত দৌড়ে চলে আসলো সে ওখান থেকে।’

আর শ্রাবণ সেও বেশি না ভেবে চলে আসলো তাঁর বন্ধুমহলদের সাথে। অবশেষে তাঁর আর আদ্রিজার অভিনয়ের গল্প শেষ হলো।’

অন্যদিকে,

গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে শ্রাবণ আর আদ্রিজার কথোপকথন শুনেছে অভ্র। ভয়ংকর ভাবে রেগে গেছে অভ্র এই শ্রাবণের ওপর। তবে আপাতত এই রাগটাকে নিজের মধ্যে দমিয়ে রেখেই চললো সে। তবে আদ্রিজাকে দেওয়া অপমানের যোগ্য জবাব দিবে অভ্র। দিবেই দিবে।’

____

ভার্সিটির পিছনে একটা বড় বটগাছের নিচে থাকা বেঞ্চের ওপর বসে আছে আদ্রিজা। চোখ বেয়ে পড়ছে তাঁর নোনা পানি। যাকে এত ভালোবাসলো সেই মানুষটাই তাঁকে নিয়ে এমন নোংরা চিন্তা ভাবনা করলো। কথাটা ভাবতেই নিজের প্রতি নিজেরই ঘৃণা লাগছে আদ্রিজার। এমন সময় আদ্রিজার পাশে এসে বসলো অভ্র। পকেট থেকে নিজের রুমালটা বের করে আদ্রিজার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো সে,

‘ এভাবে কাঁদে না ব্ল্যাকবেরি? জানো তো জীবনটা হাসি কান্না, সুখ -দুঃখ, ভুল-ভ্রান্তিতে ভরা।’

#চলবে….

#গোধূলি_বিকেলে_তুমি_আমি❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ২২
________________

হুট করেই অভ্রের ভয়েস কানে আসতেই হকচকিয়ে উঠল আদ্রিজা। তক্ষৎনাত পাশ ফিরে তাকালো সে তাঁর পাশে সত্যি সত্যিই অভ্রকে দেখে চরম অবাক হয়ে বললো আদ্রিজা,

‘ আপনি এখানে?’

‘ হুম আমি আরুকে পৌঁছে দিতে এসেছিলাম। ভাগ্যিস এসে ছিলাম। না হলে কিছু তো জানতেই পারতাম না আর তাছাড়া সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য হলেও কাউকে পাশে চাই তো।’

শেষের কথাটা খুব নীরব ভাবেই বললো অভ্র। অভ্রের কথা শুনে পাল্টা উওর হিসেবে আদ্রিজা কি বলবে বুঝতে পারছে না। ছলছল চোখে শুধু তাকিয়ে রইলো সে অভ্রের মুখের দিকে। আদ্রিজার চাহনি দেখে অভ্র খানিকটা বিস্মিত কন্ঠ নিয়ে বললো,

‘ তোমার মাঝে কি সাহস বলে কিছু নেই ব্ল্যাকবেরি?’

অভ্রের কথা শুনে আদ্রিজা তাঁর চোখের পানি মুছতে মুছতে বললো,

‘ মানে?’

‘ মানে এটাই শ্রাবণ তোমায় এত কিছু বললো এত কিছু নিয়ে অপমান করলো ঠাটিয়ে একটা থাপ্পড় মারতে পারলে না।’

‘ তাঁর মানে আপনি সব শুনেছেন।’

উওরে নিশ্চুপ কন্ঠে মাথা নাড়িয়ে বলে উঠল অভ্র,

‘ কিছুটা।’

তপ্ত নিশ্বাস ছাড়লো আদ্রিজা। বললো,

‘ আমি মানুষটা বরাবরই খুব ভীতু। তবে আজ বাড়ি থেকে অনেক কিছুই ভেবে এসেছিলাম। কিন্তু কিছুই করতে পারি নি। আর শ্রাবণ যা বললো তাতে সত্যিই কিছু বলার নেই আমার, আমি মানুষটাই এমন এক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি বলুন। আমি বাকি সব মেয়েদের মতো স্মার্ট নই, আমার হাঁটা চলা, পোশাক আশাক খুবই সাধারণ। আমি সাধারণ ভাবে চলাফেরা করতেই পছন্দ করি। আর সত্যি বলতে কি আমার মধ্যে ছোট বেলা থেকেই সাহস জিনিসটা খুব কম আছে।’

‘ তাই বলে মুখ বুঝে সবটা শুনে নিবে আদ্রিজা?’

‘ আর কি করার বলুন আমি তো নিজেকে পাল্টাতে পারবো না।’

‘ কেন পারবে না পাল্টাতে?’

আদ্রিজা অবাক হলো, চরম অবাক হলো। বিস্মিত কন্ঠ নিয়ে বললো,

‘ মানে,

আদ্রিজার কথা শুনে অভ্র সিরিয়াস গলায় বললো,

‘ মানুষ পারে না এমন কিছু নেই আদ্রিজা, তুমি চাইলেই নিজেকে পাল্টাতে পারবে।’

অভ্রের কথা শেষ হতেই আদ্রিজা বলে উঠল,

‘ কিন্তু আমি তো নিজেকে পাল্টাতে চাই না। কারন কেউ যদি আমার পাল্টানো রূপটাকে ভালোবাসে তাহলে তো মানুষটা আমায় ভালোবাসলো না। রূপ তো ক্ষনিকের জন্য আজ নয় কাল সেটা এমনি এমনি পড়ে যাবে।’

অভ্র আদ্রিজার মুখে এমন চমৎকার কথা শুনে মুগ্ধ হলো। সাথে ভেবে দেখলো কথাটা ঠিক। কিন্তু শ্রাবণের কথাগুলোর পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য আদ্রিজাকে তো একবার হলেও পাল্টাতে হবে। অভ্র আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ শ্রাবণের কথার মুখ্য জবাব দিবে না ব্ল্যাকবেরি?’

উওরে নিশ্চুপ সরে বলে উঠল আদ্রিজা,

‘ না। কেউ যদি আমায় দুই লাইন কথা শুনিয়ে ভালো থাকে তাহলে থাকতে দিন না। আর মুখ্য জবাব বলতে আমার নিজের আসল ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে ফেলা। আমি যেটা নই সেটা দেখানো। কি দরকার এমনটা করে।’

অভ্র এবারও বুঝলো আদ্রিজার কথা। শুনলো মুগ্ধ হয়েছে। মেয়েটা সাধারণ হলেও কথাগুলো অসাধারণ ছিল।’

পিন পিনে নীরবতায় কাটলো কিছুক্ষন। হঠাৎই অভ্র বললো,

‘ আজ ক্লাস করবে না?’

আদ্রিজা খানিকটা চমকে উঠলো সে ভুলেই গিয়েছিল সে যে ভার্সিটি এসেছে। কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো,

‘ না। ভালো লাগছে না।’

আদ্রিজা উঠে দাঁড়ালো। আদ্রিজাকে উঠে দাঁড়াতে দেখে অভ্রও উঠে দাঁড়ালো। বললো,

‘ চলো তবে একসাথে বের হওয়া যাক।’

আদ্রিজাও শুনলো অভ্রের কথা। বললো,

‘ ঠিক আছে।’

হঠাৎই হাঁটতে গিয়ে পায়ে হাল্কা ব্যাথা অনুভব করলো আদ্রিজা। কাল বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পেয়েছিল আদ্রিজা। আদ্রিজার অবস্থা বুঝতে পেরে বললো অভ্র,

‘ কি হয়েছে?’

উওরে আদ্রিজা বলে উঠল,

‘ কাল রাতে পায়ে একটু ব্যাথা পেয়েছিলাম। সেটাই এখন একটু বেড়ে গেছে।’

‘ হাঁটতে পারবে কি?’

‘ হুম পারবো।’

বলেই হাঁটতে নিতেই পায়ে মোচর লেগে পড়ে যেতে নিলো আদ্রিজা। সাথে সাথে তাঁকে ধরে বসলো অভ্র। বললো,

‘ তুমি ঠিক আছো তো?’

ঠিক সেই মুহূর্তেই সেখানে এসেছিল শ্রাবণ। আদ্রিজা আর অভ্রকে দেখলো সে। সাথে রাগ উঠলো তাঁর। যে মেয়ে কতক্ষন আগেও তাঁর শোকে কাঁদছিল সেই মেয়ে এখনই অন্য আরেকটা ছেলের সাথে। শ্রাবণের রাগ উঠলো চোখ মুখ শক্ত হলো। তবে কিছু বললো না কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে সরে গেল সে।’

হঠাৎই নিজের হুস আসতেই তক্ষৎনাত অভ্রের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বললো আদ্রিজা,

‘ হুম আমি ঠিক আছি।’

‘ তুমি পারবে যেতে?’

‘ হুম পারবো,

বলেই আবারও হাঁটা ধরলো আদ্রিজা। ব্যাথা অনুভব এখনও করছে সে। তবে সেটা দমিয়ে রাখলো নিজের মাঝেই। তখন আচমকাই বসা থেকে উঠে হাঁটা দেওয়াতে ব্যাথাটা বেশি লেগেছিল আদ্রিজার। তাই তোম পড়ে যেতে নিচ্ছিল সে।”

এদিকে অভ্র সে বুঝতে পেরেছে আদ্রিজার ব্যাথা অনুভব হচ্ছে তারপরও সেটা নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখছে সে। অভ্র বুঝে এই মেয়েটা এত সহজ সরল কেন?’

তপ্ত নিশ্বাস ছাড়লো অভ্র। তারপর তক্ষৎনাত এগিয়ে গেল আদ্রিজার কাছে। তারপর আদ্রিজা আর অভ্র পাশাপাশি হেঁটে চুপচাপ বেরিয়ে যেতে লাগলো দুজন। হঠাৎই অভ্র বললো,

‘ সব সময় সরলতা ভালো নয় ব্ল্যাকবেরি? মাঝে মধ্যে একটু কঠোরও হতে হয়। আর ব্যক্তিত্ব মানুষের মুখে নয় মনে হয়। তোমার মনটা পরিষ্কার মানেই তুমি এবং তোমার ব্যক্তিত্ব দুটোই সুন্দর।’

উওরে কিছু বলে না আদ্রিজা। শুধু একপলক নিশ্চুপ দৃষ্টিতে অভ্রের দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে হাঁটতে থাকে সে।’

___

সময় কাটছিল।’

রাত আটটা। ব্যস্তহীন রাস্তা দিয়ে আলোকিত ল্যামপোস্টের ভিড়ে নিশ্চুপে হেঁটে চলেছে আদ্রিজা। শ্রাবণের সাথে কথা বলতে না পেরে বড্ড কষ্ট হয় আদ্রিজার। আজ দু’দিন হলো কথাবার্তা সব বন্ধ আদ্রিজা আর শ্রাবণের। রোজ সকালের শ্রাবণের গুডমর্নিং আর রাতে ঘুমানোর আগে গুড নাইট মেসেজের বিষয়টাকে বড্ড মিস করে আদ্রিজা। না পারছে সইতে না পারছে কিছু করতে। একা একা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে সে। সেদিনের পর আর ভার্সিটি যায় নি আদ্রিজা। তাঁর বন্ধুমহলও অনেকবার ফোন করেছিল তাঁকে কিন্তু অসুস্থতার বাহানা দিয়েছিল তাদের।’

রাতটা অন্ধকার। আকাশে তাঁরারা ঝলমল করছে আজ। প্রায় দু’দিন পরই এভাবে রাতের বেলা বাড়ি থেকে বের হলো আদ্রিজা। তাও হতো না, মায়ের জন্য কিছু ঔষধ কিনতে বাহিরে বের হয়েছিল সে। যদিও মা আসতে দিতে চায় নি, আদ্রিজা নিজেই জোড় খাটিয়ে এসেছে বাহিরে। বাসায় আর রুমের মধ্যে ভালো লাগছিল না তাঁর। রাতের জোৎসা ভরা আবছা আলোতে হাঁটতে ইচ্ছে করছিল তাঁর। এতে যদি মনটা ভালো হয় এই যা।’

নানা কিছু ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চলছিল আদ্রিজা। এমন সময় হুট করেই হন বাজার শব্দ কানে আসলো আদ্রিজার। আদ্রিজা সরে আসলো কিন্তু গাড়িটা এগিয়ে গেল না আরো উচ্চ স্বরে শব্দ করতে লাগলো সে। এতে বিরক্ত হলো আদ্রিজা। সে তো সাইড দিয়েছে তারপরও কেন যাচ্ছে না গাড়িটা। আদ্রিজা বিরক্তির চরম সীমানায় পৌঁছে গিয়ে রাগী গলায় পিছন ঘুরে বলে উঠল,

‘ সমস্যাটা কি আমি তো সা…

আর কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল আদ্রিজা। কারন তাঁর পিছনে গাড়িতে বসে অভ্র আসছিল। আদ্রিজা অবাক হয়ে এগিয়ে গেল গাড়িটার কাছে তারপর বললো,

‘ আপনি এই সময় এখানে?’

উওরে অভ্রও বেশি না ভেবে বলে উঠল,

‘ এদিকে একটা কাজ ছিল তাই এসেছিলাম তা তুমি কোথায় যাচ্ছো?’

‘ আমি তো ওই সামনের একটা ফার্মেসিতে যাচ্ছিলাম। মায়ের জন্য ঔষধ কিনতে।’

‘ ওহ গাড়ি আসো আমিও ওদিকেই যাবো তোমায় নামিয়ে দিবো চলো।’

‘ তার প্রয়োজন নেই আমি পারবো।’

‘ তুমি না বড্ড কথা বলো তাড়াতাড়ি আসো বলছি।’

অভ্রের এবারের কথা শুনে আদ্রিজা চেয়েও কিছু বলতে পারলো না হেঁটে গিয়ে উঠলো সে অভ্রের গাড়িতে। আদ্রিজা গাড়িতে বসতেই অভ্র বলে উঠল,

‘ তারপর বলো তুমি ঠিক আছো তো?’

‘ হুম খারাপ থাকবো কেন? আচ্ছা আপনি আমায় এটা বলুন তো যখনই আমার মন খারাপ থাকে তখনই আপনি কোথা থেকে আসেন বলুন তো।’

আদ্রিজার কথা শুনে অভ্র হাল্কা হেঁসে বললো,

‘ তা তো আমিও জানি না। আজও তো দেখা হলো তবে কি আজও মন খারাপ তোমার?’

উওরে নিরদ্বিধায় বলে উঠল আদ্রিজা,

‘ সত্যি বলতে কি বাসায় খুব একটা ভালো লাগছিল না। ওই মন খারাপও বলা যায় খানিকটা। তবে বেশি ভাববেন না আমি ঠিক আছি। যে ছেলে কোনোদিন আমায় ভালোই বাসে নি তাঁকে নিয়ে মন খারাপ করার কোনো মানেই হয় না।’

‘ সেটাই।’

‘ হুম এখন আমার কথা বাদ দিন আপনার কথা বলুন লাবণ্য আপুকে প্রপোজ করেছিলেন?’

উওরে খানিকটা নিরাশা গলায় বললো অভ্রকে,

‘ না।’

অভ্রের কথা শুনে আদ্রিজা অবাক হয়ে বললো,

‘ এখনও বলেন নি। আপনি আমায় ভীতু বলেন অথচ নিজেই তো আমার চেয়ে ভীতু বেশি।’

‘ আমি মটেও ভীতু নই বুঝলে কিন্তু এই ভালোবাসি শব্দটা কেন যেন লাবণ্যের কাছে যেতেই চায় না। ওর সামনে গেলেই আমি সব ভুলে যাই। আর কোনো না কোনো সমস্যা আসবেই দেখেছি আমি।’

অভ্রের কথা শুনে হেঁসে ফেলে আদ্রিজা। আদ্রিজাকে হাসতে দেখে বলে অভ্র,

‘ তুমি হাসছো?’

‘ হাসবো না তো কি করবো আপনি নাকি সেই কবে থেকে লাবণ্য আপুকে ভালোবাসেন। অথচ এখন পর্যন্ত বলতেই পারেন নি।’

‘ বলবো বলবো সময় হলেই বলবো।’

‘ সময়টা কবে আসবে শুনি, আপনার জায়গায় তুষার ভাইয়া থাকলে এতদিনে হয়তো বিয়ে হতে যেত তাদের।’

‘ তুমিও তুষারের সাথে তুলনা করলে অবশ্য আমারও সেটাই মনে হয় তুষার থাকলে এতদিনে সব ক্লিয়ার হয়ে যেত।’

এই রকম হাজারও বক বক করতে করতে এগিয়ে চলছিল অভ্র আর আদ্রিজা। আদ্রিজা মাঝে মাঝে হাসছিল অভ্রের কথা শুনে। আর অভ্রও বেশ মজা পাচ্ছিল আদ্রিজার সাথে মনের দুঃখগুলো শেয়ার করে।’

হঠাৎই সামনের একটা টংয়ের দোকানের দিকে চোখ গেল অভ্রের। বললো সে,

‘ চা খাবে?’

হুট করেই অভ্রের মুখে চা খাওয়ার কথা শুনে হকচকিয়ে উঠলো আদ্রিজা। বিস্মিত গলায় বললো,

‘ কি?’

‘ বলেছি চা খাবে?’

‘ এখন,

‘ হুম চল খাই ওই সামনের দোকানটায়। তারপর ওই সামনেই একটা ফার্মেসি আছে ওখান থেকে ঔষধ কিনে বাড়ি ফিরবে নে।’

অভ্রের কথা শুনে আদ্রিজা কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো,

‘ ঠিক আছে।’

অতঃপর দুজনেই গাড়ি থেকে নামলো। তারপর দুজনেই এগিয়ে গেল টংয়ের দোকানের সামনে। পাশাপাশি বেঞ্চে বসে দুধ চা খাচ্ছে আদ্রিজা আর অভ্র। এইভাবে খোলা আকাশের নিচে বসে তেমন একটা চা খাওয়ার সুযোগ হয় নি কারোই। সেদিন সকালে শুধু ইউনুসের জোড়াজুড়িতে খেয়েছিল অভ্র আর আদ্রিজা। দুজনেরই বেশ লেগেছিল বিষয়টা। তাই তো আজ হুট করে এই টং দোকানটা দেখে অভ্রের ইচ্ছে করলো আবার চা খেতে। যদিও একা থাকলে কখনোই খেত না অভ্র। হঠাৎ নিজের ভাবনাগুলোকে সরিয়ে রেখে বলে উঠল অভ্র,

‘ ভার্সিটি যাচ্ছো না কেন?’

খানিকটা হকচকিয়ে উঠলো আদ্রিজা। সে যে ভার্সিটি যাচ্ছে না এটা অভ্র জানলো কি করে। পরক্ষণেই আরুর কাছ থেকে জানতে পারে বিষয়টা বুঝতে পেরে বললো আদ্রিজা,

‘ এমনি।’

‘ জীবনটা নতুনভাবে শুরু করো আদ্রিজা। কারন জানো তো কারো জন্য কারো জীবন থেমে থাকে না।’

এই নিয়ে টুকিটাকি কথা হচ্ছিল অভ্র আর আদ্রিজার মাঝে। অভ্র বলছিল আর আদ্রিজা নিশ্চুপে শুনছিল। আদ্রিজার বরাবরই অভ্রের এই মোটিভেশনাল কথাগুলো ভালো লাগে।’

এদিকে,

বাইকে করে সুমিতাকে নিয়ে যাচ্ছিল শ্রাবণ। হঠাৎই শ্রাবণের চোখ গেল তাদের থেকে খানিকটা দূরে রাস্তার অপজিটে থাকা টংয়ের দোকানের সামনে বসে থাকা আদ্রিজা আর অভ্রের দিকে। আজ দু’দিন পর আদ্রিজাকে চোখে পড়লো শ্রাবণের। কিন্তু পরক্ষণেই আদ্রিজা সাথে অভ্রকে দেখে চরম রাগ উঠলো শ্রাবণের। চোখ মুখ আবারও শক্ত হয়ে এলো তাঁর। শ্রাবণ গাড়ি থেকে নামতে যাবে এরই মাঝে সুমিতা শ্রাবণের কাঁধ ধরে বললো,

‘ কোথায় যাচ্ছো?’

শ্রাবণ থেমে গেল। বেশি না ভেবে বললো,

‘ কই কোথাও না তো।’

বলেই গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে গেল শ্রাবণ। আবারও এক পলক যাওয়ার আগে তাকিয়ে ছিল সে আদ্রিজার মুখের দিকে।’

আর অন্যদিকে আদ্রিজা আর অভ্র নিজেদের কথার মাঝে এতটাই মগ্ন ছিল যে কেউ যে তাদের দেখে গিয়েছে সেটাই বুঝতে পারে নি দুজন।’

___

পরেরদিন ভার্সিটিতে,

জোরে নিশ্বাস ফেলেই নিজের ক্লাস রুমের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল আদ্রিজা। এমন সময় হুট করেই কোথা থেকে শ্রাবণ এসে সামনে দাঁড়ালো তাঁর। আচমকা এমনটা হওয়াতে পুরো চমকে উঠলো আদ্রিজা। খানিকটা হতভম্ব গলায় বললো,

‘ আপনি?’

#চলবে…..

[ভুল-ত্রুটি ক্ষমার সাপেক্ষ। আর গল্প কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবে। আমি খুবই দুঃখিত গাইস গল্পে এত গ্যাপ দেওয়ার কারনে। আসলে ঢাকা মানিকগঞ্জ এসেছি ফুপুর বাড়ি বেড়াতে। আর সেখানে কাজিনদের চিল্লা চিল্লিতে গল্পের মনোযোগ দেওয়া খুব টাফ। তার ওপর নেটওয়ার্ক প্রবলেম, কারেন্ট থাকে না। প্রচুর প্যারাই আছি বর্তমানে। এর মাঝে গল্প লেখা খুব কঠিন। আশা করি তোমরা বুঝবে।]

#TanjiL_Mim♥️