#গোধূলি_বিকেলে_তুমি_আমি❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ৪৭
________________
নিঝুম বিকেলের প্রকৃতিগুলো ছিল নিশ্চুপ আর নিরিবিলি। শুধু সারি সারি পাহাড় সমতল জায়গা জুড়ে গাছগাছালিরা বাতাসের ছোঁয়ায় সবুজ পাতারাদের নিয়ে নড়ছিল কিছুক্ষন পর পর। পিচঢালা রাস্তার পথ দিয়ে এগিয়ে চলছি অভ্র আর আদ্রিজা। রাস্তার দুইধারে চিকন সাইজের বড়সড় গাছ। আর চা বাগানের বিপুল সৌন্দর্য। চা বাগানের সৌন্দর্যেই মনটা মাতয়ারা আদ্রিজার। মিষ্টি সুভাসের ফুড়ফুড়ে বাতাসে মনটা সতেজ হচ্ছিল তাঁর। হঠাৎই আকাশ পথ বেয়ে উড়ে চললো একঝাঁক পাখি। আদ্রিজা তাকিয়ে রইলো তাদের যাওয়ার পানে। আর অভ্র গাড়ি ড্রাইভ করছিল আর কিছুক্ষন পর পর আদ্রিজার মুখশ্রী দেখছিল। কিছু একটা ফিল হচ্ছিল তাঁর। নতুনত্বের কিছু অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছিল আর মনে। অভ্র হয়তো ধীরে ধীরে সেই জিনিসটা বুঝে উঠতে পারছিল। তবে আপাতত কিছু প্রকাশ করলো না। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে তাঁর,
‘ভালোবাসা’ শব্দটার অর্থ হয়তো অনেকদিন কাছ থেকে একটা মানুষকে দেখা নয়! নিশ্চুপে তাঁকে নিয়ে স্বপ্ন বোনাও নয়! ভালোবাসা মানে হলো কাছে থাকার প্রশান্তিতা। আর দূরে যাওয়ার শূন্যতা ফিল হওয়া। কাছের থাকা প্রশান্তিতা হলো এবার না হয় খানিকটা শূন্যতা ফিল হলেই সবটা বুঝে যাবে অভ্র।’
‘কিন্তু’ এই কিন্তুর উওর আপাতত নেই অভ্রের কাছে নেই। সে একপলক আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে থেকে নিশ্চুপে গাড়ি ড্রাইভ করতে লাগলো। কেন যেন এই মুহূর্তে নিশ্চুপ থাকতেই ভালো লাগছে। কথা বলতে নয়। মাঝে মাঝে নিশ্চুপ থাকার মাঝে যে আনন্দ পাওয়া যায় তা কথা বলার মাঝে থাকে না।’
তপ্ত নিশ্বাস ছাড়লো অভ্র। সেই নিশ্বাসের শব্দ হয়তো আদ্রিজাও পেয়েছে তবে কিছু বলে নি।’
___
সময় চলছিল সময়ের গতিতে! মাঝপথে কাটলো অনেকগুলো দিন। আরুরা সিলেট থেকে চলে এসেছিল পরেরদিনই। এখন আদ্রিজা আর আরুও ভার্সিটি যাওয়া শুরু করে দিয়েছে। সময়টা বেশই চলছিল আদ্রিজা আর অভ্রের। অাদ্রিজা ধীরে ধীরে অভ্রের প্রতি তাঁর অনুভূতির ছোঁয়া পাচ্ছিল। আদ্রিজার মন বুঝতে পেরেছিল দ্বিতীয়বারের মতো হয়তো আদ্রিজা কাউকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু এই অনূভুতিটাকে আদ্রিজা মানতে নারাজ। যতই হোক অভ্রের প্রতি তাঁর অনুভূতিগুলোর কোনো মানেই হয় না। তাই যথাসম্ভব নিজেকে সামলাচ্ছে সে।’
আর বাকি রইলো অভ্র। সেও বুঝে গেছে সে লাবন্যকে নয় আদ্রিজাকে ভালোবেসেছে শুরু থেকেই। শুধু বুঝতে একটু সময় লেগেছে। লাবণ্যের প্রতি ভালোবাসাটা তাঁর শুধু একটা মোহ ছিল যেটা আদ্রিজা আসার পর ঘুচে গেছে। হয়তো এই কারনেই হয়তো অভ্র এখন পর্যন্ত লাবণ্যের সামনে ‘ভালোবাসি’ শব্দটা উচ্চারণ করতে পারে নি। আর হয়তো পারবেও না।’
”
আজ ভার্সিটি যায় নি আদ্রিজা! কেন যায় নি তা সে নিজেও যায় নি। তবে আরু গেছে। কয়েকদিন যাবৎ শরীরটা ভালো লাগছে না আদ্রিজার। একটুতেই ক্লান্তিতা ফিল হয়।’
আপাতত বাড়ির সব কাজ গোছগাছ করে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো আদ্রিজা। খানিকটা ক্লান্ত লাগছে নিজেকে। আদ্রিজা বেশি কিছু না ভেবেই আলমারি থেকে একটা শাড়ি বের চলে যায় ওয়াশরুমের উদ্দেশ্যে। আধ ঘন্টার মতো সাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে দ্রুত। এরই মাঝে তাঁর ফোনটা বিকট শব্দে বেজে উঠল। এতে খানিকটা কেঁপে উঠলো আদ্রিজা। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে এগিয়ে গেল সে তাঁর মোবাইলের কাছে। অভ্র ফোন করেছে। অভ্র ফোন করে দেখে খানিকটা বিস্মিত হলো আদ্রিজা কারন অভ্র সেইভাবে কখনো তাঁকে ফোন করে না’ আদ্রিজা বেশি না ভেবে তক্ষৎনাত ফোনটা তুলে বললো,
‘ হ্যালো,
আদ্রিজার ‘হ্যালো’ শুনে অপরপ্রান্তে থাকা অভ্র খানিকটা চিন্তিত স্বরে বললো,
‘ আমি অভ্র ব্ল্যাকবেরি!’
‘ হুম জানি বলুন,
খানিকটা চিন্তিত স্বরেই সরাসরি বলে ফেললো অভ্র,
‘ ব্ল্যাকবেরি আমি বোধহয় আজকে সকালে একটা ফাইল ভুল করে বাড়িতে রেখে এসেছি খুব জরুরি ওটা। দেখো তো ফাইলটা বিছানা অথবা আলমারির ভিতর আছে কি না। কিছুক্ষন পর মিটিং ওটা ইমারজেন্সি লাগবে আমার।’
প্রতি উওরে বিছানার দিকে তাকিয়ে বললো আদ্রিজা,
‘ আচ্ছা দেখছি আপনি কলে থাকুন,
‘ হুম দেখো,
অভ্রের কথামতো আদ্রিজাও দেখতে লাগলো বিছানায় কোনো ফাইল আছে কি না। কিন্তু না নেই, আদ্রিজা খানিকটা বিলম্বিত কন্ঠে বললো,
‘ বিছানায় তো নেই,
‘ তাহলে আলমারিতে দেখো নিশ্চয়ই ওখানে আছে।’
‘ ঠিক আছে দেখছি,
বলেই চলে যায় আদ্রিজা আলমারির দিকে। আলমারিটাকে বর্তমানে দুইভাগে ভাগ করে ব্যবহার করে অভ্র আর আদ্রিজা। যদিও আদ্রিজা বলেছিল তাঁর আলমারি লাগবে না কিন্তু অভ্র শোনে নি। কারন বিষয়টা তাঁর ভালো লাগে নি।’
আদ্রিজা অভ্রের থাকা জামাকাপড়ের সাইডে খুঁজতে লাগলো ফাইলটা। কিছুক্ষনের মাঝে পেয়েও গেল। একটা ফাইলই ছিল সেখানে। আদ্রিজা ফাইলটা হাতে পেতেই বলে উঠল অভ্রকে,
‘ পেয়েছি এখন কি করব?’
আদ্রিজার কথা শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো অভ্র। বললো,
‘ পেয়েছো?’
উওরে আদ্রিজাও বললো,
‘ হুম।’
অভ্র কিছুক্ষন ভেবে বললো,
‘ বাসায় কি আরু আছে আদ্রিজা?’
‘ না ও তো এখনো ভার্সিটি থেকে ফেরেনি।’
‘ এখন তবে কি করবো আধ ঘন্টা পর মিটিং এখন ইউনুসকে পাঠালে ও গিয়ে আসতে আসতে অনেকটা লেট হয়ে যাবে। বাড়িতে তো বাবাও নেই তাই না?’
‘ হুম কতক্ষণ আগেই বেরিয়েছেন উনি,
‘ এবার কি করি?’
আদ্রিজা অভ্রের অবস্থাটা বুঝলো। খানিকক্ষন চুপ থেকে বললো,
‘ আমি কি নিয়ে আসবো?’
অভ্র খানিকটা অবাক হয়ে বললো,
‘ তুমি? কিন্তু তুমি কি আমার অফিস চেনো?’
‘ চিনি না ঠিকই তবে আমি পারবো।’
অভ্র কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো,
‘ ঠিক আছে একটু তাড়াতাড়ি এসো।’
‘ আচ্ছা আপনি চিন্তা করবেন না।’
বলেই ফোনটা কাটলো আদ্রিজা। তারপর হাল্কা পাতলা সাজুগুজু করে বেরিয়ে পড়লো সে অভ্রের অফিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে। অভ্রের মা ছিল বাড়িতে আর তাঁকে বলেই বেরিয়ে পড়েছে আদ্রিজা। খানিকটা টেনশন হচ্ছে, সাথে বার আকাশ পথে তাকিয়ে বললে,
‘ সে যেন সময় মতো পৌঁছাতে পারে অভ্রের অফিসে!’
___
এয়ারপোর্ট থেকে নিজের ব্যাগপত্র নিয়ে বাহিরে বেরিয়ে আসলো লাবণ্যসহ তাঁর বাবা মা। চোখ ভরা পানি আর বুক ভরা অশান্ত মন নিয়ে তাকালো লাবণ্য আকাশ পথে। কোথাও যন্ত্রণা হচ্ছে খুব, চোখের পানির টলটল করছে। লাবণ্য নিজেকে সামলালো তারপর তাঁর বাবাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
‘ বাবা তোমরা বাড়ি যাও আমার কিছু কাজ আছে সেটা সেরে আসছি,
বলেই বাবা মাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই দ্রুত টেক্সি ডেকে চলে গেল লাবণ্য। আর লাবণ্যের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো লাবণ্যের বাবা মা। মেয়েটা বড্ড পাল্টে গেছে? আগের মতো তাদের সাথে কথা বলে না। একটুতেই রেগে যায় হুটহাট।’
____
অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইউনুস। অপেক্ষা করছে সে আদ্রিজার আসার জন্য। কারন অভ্রই তাঁকে বলেছে এখানে এসে দাঁড়াতে। মিটিং শুরু হতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। এখনও আদ্রিজা আসছে না। বিষয়টায় বড্ডই চিন্তা হচ্ছে ইউনুসের। অভ্রের বাসা থেকে অফিসে আসতে বড়জোড় ২০ মিনিট সময় লাগে। রিকশায় আসলে একটু দেড়ি হয়। তবে কি আদ্রিজা রিকশায় করে আসছে নাকি। ভেবেই চোখ বড় বড় করে ফেললো ইউনুস।’
এরই মাঝে অভ্রের অফিসের সামনে একটা টেক্সি গাড়ি এসে থামলো। গাড়ি থামতেই হতভম্ব হয়ে গাড়ি থেকে বের হলো আদ্রিজা। গাড়ির ভাড়াটা চটজলদি মিটিয়ে বললো,
‘ ইউনুস ভাইয়া ফাইনালি আপনাদের অফিসটা পেলাম।’
বলতে বলতে দৌড়ে গিয়ে থামলো আদ্রিজা ইউনুসের সামনে। ইউনুসও আদ্রিজাকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। বললো,
‘ ফাইনালি তুমি এলে চলো তাড়াতাড়ি?’
আদ্রিজা খানিকটা অবাক হয়ে বললো,
‘ আমি ভিতরে যাবো।’
‘ হুম চলো তাড়াতাড়ি,
আদ্রিজাও আর বেশি ভাবলো না চললো ইউনুসের পিছু পিছু।’
.
চিন্তিত মুখ নিয়েই নিজের রুমে বসে আছে অভ্র। খানিকটা রাগ হচ্ছে তাঁর নিজের ওপর। কি করে যে আজ ফাইলটা বাড়িতে ফেলে আসলো বুঝতে পারছে না। এরই মাঝে সেখানে উপস্থিত হলো আদ্রিজা। বললো,
‘ আর চিন্তা করতে হবে না এই নিন আপনার ফাইল?’
খানিকটা চমকে উঠলো অভ্র। পরক্ষণেই আদ্রিজাকে দেখে খুশি মাখা মুখ নিয়ে বললো,
‘ তুমি এসেছো?’
‘ হুম এই নিন ফাইল।’
বলেই আদ্রিজা এগিয়ে দিল ফাইলটা অভ্রের দিকে। অভ্রও বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো হাতে আর সময় নেই বেশি। অভ্র ফাইলটা হাতে নিয়ে বললো,
‘ শোনো! কোথাও যাবে না, এখানে বসে থাকবে। আমি মিটিং সেরে এক্ষুনি আসছি কিছু বলার আছে তোমায়?’
বলেই আর দু’মিনিট দেরি না করে দ্রুত বেরিয়ে যেতে নিল অভ্র। পরক্ষণেই আবার দাঁড়িয়ে পিছ ফিরে অাদ্রিজার দিকে তাকিয়ে বললো,
‘ আবারও বলছি কোথাও যাবে না ব্ল্যাকবেরি? এখানেই থাকবে নইলে রাগ করবো কিন্তু!’
বলেই চলে গেল অভ্র। আর আদ্রিজা জাস্ট হা হয়ে তাকিয়ে রইলো অভ্রের যাওয়ার পানে। সে বুঝলো না এই মুহূর্তে অভ্র তাঁকে কি বলতে চায়?’ এই প্রথম যেন অভ্রের মুখে তাঁকে নিয়ে রাগ করার কথাটা শুনলো আদ্রিজা। আনমনেই হেঁসে ফেললো সে।’
আদ্রিজা চুপচাপ গিয়ে বসলো সামনের চেয়ারে। সাথে অপেক্ষা করতে লাগলো সে অভ্রের জন্য, না জানি অভ্র কি বলার জন্য বসে থাকতে বললো তাঁকে।’
#চলবে…..
#গোধূলি_বিকেলে_তুমি_আমি❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ৪৮
________________
খানিকটা ক্লান্তিকর মুখ নিয়ে বসে আছে আদ্রিজা অভ্রের অফিস রুমের চেয়ারের সামনে। বেশ কিছুক্ষন যাবৎই বসে আছে সে চেয়ারে কিন্তু অভ্রের আসার কোনো নাম গন্ধ নেই। বসে থাকতে থাকতে আদ্রিজার মাজা কোমড় পিঠ সব যেন অবশ হয়ে আসছে। ‘এবার উঠে দাঁড়ানো উচিত’ — ভেবেই আদ্রিজা বেশি কিছু না ভেবে উঠে দাঁড়ালো ২ মিনিটের মতো এদিক ওদিক পায়চারি করলো সে। এবার বেশ বিরক্তিতা ফিল হচ্ছে। এই অভ্র কবে আসবে?’ বলতে বলতে অভ্রের পুরো টেবিলটায় চোখ বুলালো অাদ্রিজা বেশ পরিপাটি আর সাচ্ছন্দ্যকর লাগছে টেবিলটা। হঠাৎই কি মনে করে যেন অভ্রের টেবিলের ড্রয়ারটা খুললো আদ্রিজা। প্রথমটা খুলতেই একটা খাম দেখতে পেল। আদ্রিজা দেখলো খামটা। তারপর কি মনে করে খামের ভিতর থেকে একটা কাগজ বের করলো। এটা হলো সেই খাম যেটা লাবণ্য অভ্রকে দিয়েছিল। আদ্রিজা বেশি না ভেবেই চিঠির ভাজ কয়টা খুললো। সাথে সাথে শুরুতেই যে লেখাটা চোখে পড়লো তাঁর তা হলো,
প্রিয় অভ্র,
আদ্রিজা প্রথমটুকু দেখেই বুঝেছে কেউ অভ্রকে চিঠি লিখেছিল। আদ্রিজা কোনোকিছু না পড়েই একদম শেষের নামটা দেখলো যেখানে লেখা ছিল ‘ইতি লাবণ্য’! লাবণ্য নামটা শুনতেই বুকটা যেন ছ্যাত করে উঠলো আদ্রিজার পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিলো সে। এটা তো আহামরি অবাক হওয়ার মতো বিষয় নয়। পরক্ষণেই কিছু একটা ভেবে পুরো চিঠিটা পড়তে লাগলো আদ্রিজা যেখানে লেখা ছিল,
প্রিয় অভ্র,
‘প্রিয়’ শব্দটা শুনতে যতটা না প্রিয় লাগে তাঁর চেয়েও বেশি প্রিয় তুই আমার কাছে। আমাদের জীবনটা হয়তো খুব ক্ষুদ্র কিন্তু জীবনের সাথে জড়িত গল্পগুলো বড়ই বৃহত্তর। আমি জানি না এই চিঠির আলোকে আমি ঠিক কতটুকু আমার অনুভূতিগুলো তোকে বলতে পারবো। তারপরও আমি বলতে চাই। কারন আমি যে তোকে নিজের থেকেও বড্ড বেশি ভালোবাসি। আমাদের ভার্সিটিতে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত, তোর পাশে বসে গান শোনার অনুভূতি, তোর হুট করেই আমার দিকে শীতল দৃষ্টিতে চাওয়ার মুহূর্তগুলো যেন আমার জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত। মাঝে মাঝে তোর চোখের মাঝে এমন ভাবে হারিয়ে যেতাম যে আশপাশের কোনও হুসই থাকতো না। আমি জানি তুইও আমার মতো আমাকে ভালোবাসিস। কিন্তু মুখ ফুটে কখনোই বলতে পারিস নি। আমায় যদি সত্যি ভালোবেসে থাকিস অভ্র তাহলে কাল এয়ারপোর্টে এসে উওরটা জানাবি আমায়। আমি অতি আগ্রহের অপেক্ষায় থাকবো। আমি কিন্তু তোকে ভীষণ ভালোবাসি অভ্র, সেই কলেজ লাইফ থেকেই তোকে আমি ভালোবাসি। আমায় ফিরিয়ে দিস না প্লিজ, নইলে যে সত্যি শূন্যতার কাতারে পড়ে শেষ হয়ে যাবো? দুমড়ে মুচড়ে যাবে চারপাশ!’
তোর উওরের অপেক্ষায় রইলাম? ভালোবাসি খুব।’
‘ইতি লাবণ্য’
আদ্রিজা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো চুপচাপ তাঁর মানে লাবণ্য আপুও অভ্রকে ভীষণ ভালোবাসে। লাবন্যের শেষের দু’লাইন পড়ে ভীষণভাবে কান্না আসছিল আদ্রিজার। তাঁর জন্যই অভ্র আর লাবন্যের মাঝে এমন শূন্যতার দেয়াল বইছে। হঠাৎই কারো পায়ের ধ্বনি আসার শব্দ পেল আদ্রিজা। সঙ্গে সঙ্গে নিজের চোখ মুখ মুছে চিঠিটাকে পুনরায় খামে ভরে ড্রয়ারে আঁটকে রাখলো আদ্রিজা। ভিতর থেকে খারাপ লাগা করছে তাঁর মাঝে। আদ্রিজা তাঁর শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুখ মুছে নিজেকে স্বাভাবিক করে নিলো। এরই মাঝে রুমের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো অভ্র খানিকটা উত্তেজিত কন্ঠ নিয়ে বললো,
‘ সরি ব্ল্যাকবেরি অনেকক্ষণ যাবৎ অপেক্ষা করছিলে তাই না।’
উওরে পিছন ঘুরে বললো আদ্রিজা,
‘ না আমি ঠিক আছি। তা মিটিং কেমন হলো?’
‘ হুম ভালো! তুমি বসো?’
বলেই নিজের টেবিলের উপর থাকা পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে ঢকঢক করে পানি খেয়ে গলাটা ভিজিয়ে নিলো অভ্র। ততক্ষণে আদ্রিজাও এসে বসলো অভ্রের সোজাসুজি চেয়ারে।’
অভ্র তাঁর পানিটুকু খাওয়া শেষ করে বললো,
‘ লাঞ্চ তো করো নি নিশ্চয়ই? দাঁড়াও আমি কিছু অর্ডার দিচ্ছি।’
সঙ্গে সঙ্গে আদ্রিজা বলে উঠল,
‘ না আমি এখন কিছু খাবো না তাঁর চেয়ে আপনি বরং বলুন আপনি আমায় কি বলবেন? আমি বাড়ি গিয়েই একসাথে খাবো।’
‘ তুমি না বড্ড কথা বলো বুঝলে একসাথে লাঞ্চ করবো দেন বাকি কথা।’
বলেই টেবিলের উপর থাকা টেলিফোনটা নিয়ে কাউকে কল করে কিছু খাবারের অর্ডার করলো অভ্র। কিছুক্ষনের মাঝে দরজায় নকও করলো কেউ অভ্র এগিয়ে গেল কারন দরজা সে আঁটকে দিয়েছিল আসার সময়!’
অভ্র খুশি মাখা মুখ নিয়ে দরজা খুলতে নিলো কারন সে ভেবেছে হয়তো খাবার দিতে কেউ এসেছে। আদ্রিজাও তাকিয়ে আছে অভ্রের দিকে। অভ্র দরজা খুলে কিছু বলতে যাবে এরই মাঝে তাঁকে এসে জড়িয়ে ধরলো লাবণ্য। বললো,
‘ কেমন আছিস অভ্র? আমায় তো মনে হয় পুরোই ভুলে গেছিস? কিভাবে পারলি আমায় ভুলে এতদিন থাকতে। নাকি আমি মিথ্যে বলে চলে গিয়েছিলাম বলে বড্ড অভিমান করেছিস তুই?’
পুরো একশ্বাসে কথাগুলো বলে ফেললো লাবণ্য অভ্রকে। হুট করেই আকস্মিক এমন ঘটনায় অভ্র আদ্রিজা দুজনেই চমকে গেল। আদ্রিজা বসা উঠে দাঁড়ালো তক্ষৎনাত। খানিকটা খারাপ লাগছে তাঁর। কেন যেন অভ্রকে লাবণ্য জড়িয়ে ধরেছে বিষয়টা ঠিক মানতে পারতে না সে। আদ্রিজা জানে এমনটা ভাবা ঠিক না কারন সে তো আগে থেকেই জানতো, হ্যাঁ এটা জানতো না যে লাবন্য অভ্রকে ভালোবাসে কিন্তু এখন তো সেটাও জানে। আদ্রিজা যথাসম্ভব নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলো। এই মুহূর্তে ইমোশনাল হওয়ার কোনো মানেই হয় না।’
অন্যদিকে অভ্র,
পুরোই বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে সে বুঝে উঠতে পারে নি এই ভাবে হুট করেই লাবণ্য এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরবে। পরক্ষণেই হুস আসতেই নিজের থেকে লাবণ্যকে ছাড়ালো অভ্র। তারপর বললো,
‘ তুই! তুই এই সময় এখানে কবে এলি আমেরিকা থেকে?’
প্রতিউওরে লাবণ্য কিছু না বলে তাকালো আদ্রিজার দিকে। খানিকটা অবাক স্বরেই বললো,
‘ এই মেয়েটা কে? আর তোর রুমে কি করছে দেখে তো মনে হচ্ছে না তোর অফিস স্টাফ।’
অভ্র তাকালো আদ্রিজার দিকে। বললো,
‘ ও ব্ল্যাক, না ও আদ্রিজা আরুর বেস্টফ্রেন্ড। আরুর জন্মদিনের দিন ছিল তো তখন, খেয়াল করিস নি নাকি।’
‘ ওহহ তা ও কি করছে এখানে,
এরই মাঝে আবারও দরজায় নক করলো কেউ। বললো,
‘ স্যার আপনার খাবার?’
অভ্র শুনলো লাবন্যকে পিছনে রেখে এগিয়ে গেল সে। সাথে বললো,
‘ হুম। ওই টেবিলে রেখে যাও?’
‘ ঠিক আছে স্যার।’
বলেই অফিস স্টাফটিও খাবারগুলোও টেবিলে রেখে চলে গেল।’
লাবণ্য বেশ অবাক হয়ে অভ্রের দিকে তাকিয়ে বললো,
‘ এখনো লাঞ্চ করিস নি?’
উওরে অভ্রও বললো,
‘ না।’
‘ আচ্ছা এই মেয়েটা এখানে কি করছে কেন এসেছে তোর অফিস?’
‘ একচুয়ালি হয়েছে কি লাবণ্য? তুই তো ছিলি না অনেক কিছু পাল্টে গেছে আমার জীবনের। ও হলো আমার ব…
আর কিছু বলার আগেই থমথমে গলায় বলে উঠল আদ্রিজা,
‘ আসলে হয়েছে কি লাবণ্য আপু তুমি আমায় না চিনলেও আমি তোমায় চিনি। আসলে উনি একটা ফাইল বাড়িতে ফেলে এসেছিল আর আমি তখন ওনাদের বাসায় ছিলাম তাই নিয়ে এসেছি বাড়িতে আর কেউ ছিল না কি না? যাইহোক আমি এখন চলে যাচ্ছি আপনারা কথা বলুন,
বলেই লাবণ্যদের পাশ কাটিয়ে চলে যেতে লাগলো আদ্রিজা। যা দেখে অভ্র বললো,
‘ আমার তোমায় কিছু বলার ছিল ব্ল্যাকবেরি?’
উওরে মুচকি হেঁসে বললো,
‘ পরে শুনবো।’
বলেই চলে গেল আদ্রিজা। আর অভ্র জাস্ট স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো আদ্রিজার যাওয়ার পানে। হতাশ হয়েছে খুব। এসব কি হলো? এগুলো হওয়ার জন্য তো একদমই প্রস্তুত ছিল না অভ্র। তবে অভ্র বুঝতে পেরেছে আদ্রিজা কেন এইভাবে পালিয়ে চলে গেল।’
অভ্রের ভাবনার মাঝেই প্রশ্ন ছুঁড়ে বসলো লাবণ্য,
‘ শুনলাম তুই নাকি বিয়ে করেছিস?’
অভ্র আরো চমকালো, ভয়ংকর ভাবে অবাক হলো। বিস্মিত কন্ঠে বললো,
‘ তুই জানিস এটা?’
লাবণ্য ইমোশনাল হয়ে পড়লো। এত ভাবলো অভ্রের সামনে শক্তপক্ত থাকবে কিন্তু পারলো না। সেই ইমোশনাল হয়ে অভ্রকে জড়িয়ে ধরে বসলো সে। তবে লাবণ্য ভাবে নি এই মুহূর্তে এখানে আদ্রিজা থাকতে পারে। আসলে লাবণ্য অভ্রের বিয়ে হয়ে যাওয়ার তিনদিন পরই জানতে পারে সবটা। তাঁর বন্ধুমহলেরই একজন ফোন করে বলেছিল সব। আর সব শুনেই যেন তাঁর পায়ের নিচ থেকে মাটির সরে যাওয়ার মতো অনুভূতি ফিল হচ্ছিল। কতটা যন্ত্রণাদায়ক দিন যে পার করছে লাবণ্য তা শুধু সেই জানে। এতদিনে কতবার যে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করেছে তাঁর হিসাব নেই। নিজেকে সামলানোর জন্যই এতদিন দূরে ছিল সে কিন্তু এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বুঝলো এতদিনের প্রচেষ্টাগুলো এমনি ছিল। সে পারে নি তো অভ্রের সামনে নিজেকে সামলে রাখতে। লাবণ্যের ভাবনার মাঝেই আবারো প্রশ্ন করে বসলো অভ্র। বললো,
‘ কি হলো কথা বলছিস না কেন, কি করে জানলি তুই এসব?’
প্রতিউওরে হাল্কা হেঁসে বললো,
‘ এসব জানা কি খুব কঠিন বিষয় অভ্র।’
উওর দিতে পারলো না অভ্র। চুপ করে রইলো সে। অভ্রের চুপ থাকার মাঝেই শীতল দৃষ্টিতে অভ্রের দিকে তাকিয়ে বললো লাবণ্য,
‘ আমার চিঠিটা এখনো পড়ে দেখিস নি তাই না অভ্র?’
‘চিঠি’ চিঠির কথা শুনতেই যেন চোখ মুখ কুঁচকে এলো অভ্রের। তাঁর তো একদমই মনে নেই লাবণ্যের চিঠির কথা। খানিকটা হতভম্ব হয়ে বললো অভ্র,
‘ ওহ সিট! আমি তো একদমই ভুলে গিয়েছিলাম তোর চিঠির কথা। আসলে এই কয়দিন খুব চাপে ছিলাম কি না।’
শুঁকনো হাসলো লাবণ্য। কি বলবে না বলবে মাথা কাজ করছে না তাঁর। শুন্যতায় বুক চিঁড়ে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসছে খুব করে।’
____
ব্যস্তহীন রাস্তায় নিরালায় চুপচাপ হাঁটছে আদ্রিজা। এই মুহূর্তে তাঁর অনুভূতিটা ঠিক কেমন হওয়া উচিত এটা বুঝতে পারছে না আদ্রিজা। অভ্র লাবণ্য এই দুজন যেন বর্তমানে আবার তাঁকে এলেমেলো করে দিচ্ছে। এমন সময় হঠাৎই পিছন থেকে বলে উঠল কেউ,
‘ আদ্রিজা,
#চলবে…..
[ভুল-ত্রুটি ক্ষমার সাপেক্ষ। গল্প কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবে।]
#TanjiL_Mim♥️