Home "ধারাবাহিক গল্প ভালোবাসার মৌসুম ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-০২

ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-০২

0
559

উপন্যাস: #ভালোবাসার_মৌসুম
কলমে: #aroshi_jahan_isha
পর্ব: ২

°°°°°
আষাঢ়ের সকাল,
আকাশে ঘন কালো মেঘ বাতাসে শীতল ঠান্ডা। প্রকৃতি শান্ত অথচ ঝাড়ের পূর্বাভাস।হিম শীতল ঠান্ডা বাতাস জানান দিচ্ছে দূরে কোথাও বৃষ্টির তেজ।

চৌধুরী নিবাসের দুইতলার ছাদে এক না’রী অবয় নৃত্যে মগ্ন গায়ে শুভ্র জরজেট গাউন, বিশাল ঘের,বাতাসে উন্মুক্ত হয়ে উড়ছে নাচের প্রতিটা প্রদক্ষেপে জামার ঘের।পায়ে মোটা এক জোড়া পায়েলের রিনিঝিনি শব্দ,
মৃদু স্বরে ভেসে আসছে সুর,

oo re piya…..Hayyy….Oo re piya… (3+)…
Udne laga kyun maan Baawla re
Aaya kahan Se Yeh Hasla re
Oo re piya…. Oo re piya… Hay
(Music)

“সুরের তালে তালে নৃত্যে মগ্ন মাইরা,বাতাসের তালে তালে দুলছে তার দিঘল কালো চুল।

*****
কিঞ্চিত শব্দে বাড়ির লোহার গেইট খানা খুলে প্রবেশ করলো তন্ময়, জগিৎ শেষে ক্লান্ত শরীরে বাগানে রাখা চেয়ারে গা এলিয়ে দিলো,

চোখ বন্ধ করতেই ইন্দশ্রবনে গিয়ে ঠেকলো ক্লাসিক গানের সুর,,,,,

সুরের আওয়াজ ভেসে আসছে পুরান ঢাকায় অবস্থিত চৌধুরী নিবাসের ছাঁদ থেকে।

তন্ময় চাদের দিকে তাকাতেই চমকে গেলো, ভরকে গেলো,আশ্চর্য হলো,

দৃষ্টি আটকে গেলো অষ্টাদশী রমনীর পানে যে এখন নৃত্যে মগ্ন।

চমৎকার সেই রমনীর নাচের ভঙ্গিমা।

_____

নৃত্য শেষে অষ্টাদশী রমনী ছাঁদের রেলিং থেকে মুঠোফোন খানা নিয়ে চলে গেলো, দূর থেকে কেউ মুগ্ধ হয়ে চেয়ে রইলো তার পানে।রমনীর তা অজানা রয়েগেলো।

****
সকাল ৮ টা পেরিয়ে তখন ঘড়ির কাঁটায়, মাইরা একখানা গোলাপি রঙের জরজেট গাউন পরে কাঁধে একটা ব্যাগ আর কিছু বই হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো কলেজের উদ্দেশ্যে।

ড্রইং রুমে আসতে দেখা মিললো তাহসিন চৌধুরী’র তিনি পএিকা পড়ছে।

মাইরা সালাম দিলেন তাহসিন চৌধুরী’কে,

Assalamu Alaikum বাবা, তোমার শরীরের কি অবস্থা আর সকালের নাস্তা করেছো?

তাহসিন চৌধুরীর অধরে হাসি ফুটে ওঠলো, মাইরার পানে চেয়ে বললো, হাঁ রে মা খেয়েছি তা কলেজে যাচ্ছো?

মাইরা মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানালো।

তা নাস্তা করে যাবে না?

মাইরা হাতে থাকা ঘড়িটার পানে চেয়ে বললো, না বাবা সময় কম আজ কিছু এসাইনমেন্ট বাকি আছে তা শেষ করতে হবে।

তাহসিন চৌধুরী মানিব্যাগ থেকে পাঁচশ টাকার চকচকে একটা নোট বাড়িয়ে দিলো মাইরার পানে।

মাইরা মৃদু হেসে বললো, আমার কাছে টাকা আছে বাবা।

তাহসিন চৌধুরী কপাল কুচকে বললো, সে তোমার কাছে থাকতেই পারে তাই বলে বাবাকে ফিরিয়ে দিবে।

মাইরা তাহসিন চৌধুরীর হাত থেকে টাকাটা নিয়ে ব্যাগে রেখে দিলো

ডাইনিং টেবিলে বসে থাকা তানিশা তেতে ওঠলো,ঠোঁট বাকালো মাইরার পানে,

তন্ময়কে উদ্দেশ্য করে বললো,
“দেখলে ভাইয়া বাবা কেমন ওর সাথে হেসে হেসে কথা বললো,আর আমার সাথে কথা বলার সময় তার রাগ সপ্তম দুয়ারে পৌঁছে থাকে।এজন্যই মাইরা কে আমি এতো হেট করি।

তন্ময় বোনের পানে চাইলো, তানিশার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, It’s okay বনু আমি আছি তো নাকি?

তাদের কথার মাঝেই ফোড়ন কেটে বলে উঠলো রুমি চৌধুরী,

তা তন্ময় এবার তো তুমি এসে গেছো, কি ভাবলে ডিবোর্স কি দেবে নাকি এই বাড়িতেই আজীবন পরে থাকবে ও মেয়ে?

তন্ময় খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললো,তুমি ওসব ভেবো না কাকি মনি আমি সামলে নিবো বলেই হনহনিয়ে চলে গেলো,

তানিশাও খাবার শেষ করে ওঠে পড়লো।

রুমি তন্ময় তানিশার যাওয়ার পানে চেয়ে রইলো খানিকক্ষণ, অতঃপর তিন্নি কে তাড়া দিলেন খাবার শেষ করতে।

কলেজে আসতেই দেখা মিললো,নীলিমার সঙ্গে। নীলিমা হচ্ছে মাইরার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী।
নীলিমার সাথে মাইরার দেখা হয়েছিলো স্কুলে,
এসেম্বলির লাইনে যখন মাইরা মাথা ঘুরে পরে গেছিলো তখন নীলিমা নামক মেয়েটা তাকে সবার আগে ধরেছিলো,কয়েকজন মেয়ে তাকে ধরে বন্ধ লাইব্রিতে নিয়ে এলো,নীলিমা মাইরার মাথাটা নিজের কোলে রেখে মাথায় পানি দিলো, লম্বা চুলের বিনুনি খুলে দিলো।চিন্তিত কন্ঠে শুধালো,

তুমি ঠিক আছো,কি হয়েছে তোমার কোথায় কষ্ট হচ্ছে বলো আমাকে?

মাইরার চোখে তখন রাজ্যের অন্ধকার, কিছু বলতে পারলো না।

নীলিমা হাল ছাড়লো না মাইরার চোখে মুখে পানি ছিটকে দিলো মাথায় বিলি কেটে দিলো।প্রায় ঘন্টাখানিক পড়ে মাইরা হুসে ফিরলো,নিজের মাথাটা নীলিমার কোলে আবিষ্কার করলো।

সেদিন থেকেই দু’জনের বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিলো।

কলেজের কেম্পাসে দুজন মিলে আড্ডায় মেতে ওঠলো।

জানিস নীলিমা ওনি ফিরে এসেছে”!
মাইরার কথায় আশ্চর্য বনে গেলো নীলিমা, রাজ্যের কৌতূহল তাকে জেকে ধরলো,

কি বলছিস তন্ময় ভাই এসেছে?

মাইরা ছোট্ট করে উত্তর দিলো,হু

নীলিমার অধরে হাসি ফুটে ওঠলো, উচ্ছাসিত হয়ে বললো,

তোকে মেনে নিয়েছে?

মাইরার চোখে নেমে এলো অন্ধকার, অসহায় দৃষ্টি তে তাকালো নীলিমার পানে।

নীলিমা বুঝতে পারলো মাইরার চোখের ভাষা।
মাইরা কে জরিয়ে ধরে বললো, চিন্তা কিসের তোর?দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে”

মাইরা মাথা তুলে বললো,হবে তো ঠিক?

নীলিমা মাইরার হাত শক্ত করে ধরলো,আশ্বাস দিয়ে বললো, তুই ভাবিস না আর দেখবি সৃষ্টি কর্তা তোর সব না পাওয়া একদিন পাইয়ে দিবে।

ক্লাস শুরু হয়েছে, মাইরা আর নীলিমা পাশাপাশি বসেছে। লাস্ট বেঞ্চে এটা দুজনের প্রতিদিনের অভ্যাস।

তানিশা আর মাইরা একই ক্লাসে পড়ে দুজনেই এবার HSC পরিক্ষার্থী।

তানিশা প্রতিদিন সবচেয়ে সামনের বেঞ্চে বসে।একই ক্লাসে থাকলেও তাদের দু’জনর কথা হয় না।কেবল চোখাচোখি হয়।

প্রথম ক্লাস শেষ হলো ১১:১৫ মিনিটে। ক্লাস শেষ করে মাইরা আর নীলিমা বেড়িয়ে গেলো কলেজ থেকে, আজ দু’জনে প্লেন করেছে,ঘুড়বে পুরান ঢাকার অলিগলি নেচে বেড়াবে।
যেই ভাবা সেই কাজ।

আকাশ তখন মেঘে ঢাকা, প্রকৃতি জুড়ে বর্ষনের খেলা।কে জানে কখন আকাশ বেয়ে বৃষ্টি নামবে।

পুরান ঢাকার প্রতিটা অলি-গলিতে যেনো
একেকটা গল্প লেখা আছে
পুরান ঢাকার গলির মুড়ে চা দোকানে বসে নীলিমা আর মাইরা গরম গরম চা খাচ্ছে। আড্ডায় মত্ত দুজনে চা শেষ করে রিক্সা নিলো লালবাগ কেল্লার দিকে।

বৃষ্টির পর লাল ইটের দেয়াল গুলো মনোরম লাগলো দুই রমনীর কাছে, সবুজ ঘাস পা ফেলে আনন্দে মেতে ওঠলো। সময় পেরিয়ে গেলো কেটে গেলো ৪ ঘন্টা, ঘড়ির কাঁটায় তখন ৪ টা বাজে।

মাইরা নীলিমা দুজন রিক্সা করে লালবাগ থেকে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।

শাহবাগে অবস্থিত “পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র”
লাইব্রেরীতে গেলো দুজন কিছু বই নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়লো, শাহবাগ মোড়ে তখন তরুণ তরুণী থেকে বয়স্ক লোকজনেদের ভির।

মাইরা আর নীলিমা একটা চা দোকানে গেলো,দু’টো চা নিয়ে যখন খেতে ব্যস্ত, মাইরার চোখ তখন আটকে গেলো দূরে ফুল দোকানে দাড়িয়ে থাকা হস্যজ্জল দুটো মুখপানে, হাতে থাকা চায়ের কাপটার ঠাই মিললো,পিচ ঢালা রাস্তার পাশে।

নীলিমা খানিকটা ভরকে গেলো, দোকান দারের পাওনা টাকা পরিশোধ করে বললো,কি হলো ফেলে দিলি কেনো?

মাইরা নিশ্চুপ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ফুলের দোকানে,

মাইরার দৃষ্টি অনুসরণ করে নীলিমা তাকালো ফুল দোকানের পানে,
একটা ছেলে একটা মেয়ের মাথায় ফুল লাগিয়ে দিচ্ছে। ফর্সা দেখতে মেয়েটার পড়নে গাড়ো নীল শাড়ি, কাধ সমান চুল গুলো খুব গুছিয়ে এক কাঁধে ফেলে রেখেছে।মেয়েটা ছেলেটাকে জরিয়ে ধরলো,দুজনের মুখেই হাসি।

নীলিমা কপাল কুচকে বললো, এরা কারা, আর তুই এভাবে দেখছিস কেনো?

মাইরা মৃদু হেসে ওঠলো, কি বিষাক্ত সেই হাসি নীলিমার কাছে ঠেকলো,

“তন্ময় চৌধুরী, আমার স্বামী”!

মাইরার কথায় নীলিমা অবাক হয়ে গেলো,ভ্রু কুঁচকে বললো, কিহ?তন্ময় ভাই ওনি তাও আবার একটা মেয়ের সাথে?

” হয়তো ওনার প্রেমিকা”

প্রেমিকা শব্দটা কি সুন্দর করে বলে দিলো মাইরা অথচ নীলিমার কাছে কি নিষ্ঠুর শব্দ মনে হলো,একটা মেয়ের জন্য সবচাইতে দূর্ভাগ্য হচ্ছ নিজের স্বামী কে অন্য নারীর পাশে দেখা।

আমি বাড়ি ফিরবো নীলিমা”

নীলিমা চুপচাপ একটা রিক্সা ডাকলো,অতঃপর মাইরা কে সাবধানে যেতে বলে নিজেও একটা রিক্সা নিলো।

ভর সন্ধ্যা বেলা প্রকৃতি জুড়ে তুমুল বর্ষন, চারিদিকের ব্যস্ত পথচারীরা যখন ছাউনির নিচে গা ঢাকতে চেষ্টা করছে,মাইরা তখন রিক্সা থামিয়ে রিক্সা থেকে নেমে গেলো,এই তো এখান থেকে ১০/১৫ মিনিটের পথ হাঁটলেই চৌধুরী নিবাস।

বৃষ্টির ঠান্ডা পানিতে ভিজে জবজব হয়ে গেছে অষ্টাদশীর নাজুক শরীর। পিচ ঢালা রাস্তায় হেটে চলছে আনমনে, মনটা বড্ড উদাসী ঠেকছে।

“যেই মানুষটার জন্য মাইরা রোজ কাঁদে সে অন্য নারীর সঙ্গে দিব্যি হেসে খেলে দিন কাটায়।
কাধের ব্যাগ টা ছুড়ে দূরে ফেলে দিলো মাইরা,রাস্তায় বসে হু হু করে কেঁদে ওঠলো, বৃষ্টির প্রতিটা কণা ধুয়ে দিচ্ছে অশ্রু কনা দের।

কি বিষাক্ত সেই অনুভূতি, নিজ মানুষের পাশে অন্য নারী।কি বিচ্ছিরি সেই দৃশ্য।

” ভর সন্ধ্যা বেলা বৃষ্টিতে ভিজছো কেনো মেয়ে?
কারো গম্ভীর কন্ঠে কেঁপে উঠলো মাইরা,মাথার ওপর কেউ একজন ছাতা ধরেছে,মাইরা তাকালো আগন্তুকের পানে,,,,,,,,,

চলবে…….