Home "ধারাবাহিক গল্প ভালোবাসার মৌসুম ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-৩+৪

ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-৩+৪

0
331

উপন্যাস:#ভালোবাসার_মৌসুম
কলমে:#Aroshi_Jahan_Isha
পর্ব:৩

“ভর সন্ধ্যা বেলা বৃষ্টিতে ভিজছো কেনো মেয়ে?
কারো গম্ভীর কন্ঠে কেঁপে উঠল মাইরা,মাথার ওপর কেউ একজন ছাতা ধরেছে। মাইরা তাকালো আগন্তুকের পানে,

ফর্সা মুখমন্ডল বৃষ্টির পানিতে ভিজে জবজব হয়ে আছে।চোখের পাপড়ি গুলোতে বিন্দু বিন্দু পানি জমেছে, আর ওই নীল বর্ণের চোখ জোড়া কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছে মাইরার পানে।

শুভ্র শার্ট খানা লেপ্টে আছে বলিষ্ঠ শরীরে।কপালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এলো মেলো চুল গুলো।

মাইরা কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে তন্ময় প্রশ্ন ছুড়ে বললো,

কি হলো? মাঝরাস্তায় এভাবে বসে আছো কেনো?আর এই ভর সন্ধ্যা বেলা বৃষ্টিতে ভিজছো কেনো?জ্বর আসবে তো”

তন্ময়ের কথায় মানবি হাসলো,কি নির্মম সেই হাসি,

ওঠে দাড়ালো। পিচ ঢালা রাস্তায় পড়ে থাকা ব্যাগটা তুলে নিলো,কাঁপা কাঁপা কন্ঠে শুধালো,

আমি চাই এই বৃষ্টি আমার শরীরে জ্বর নিয়ে আসুক, আর সেই জ্বরে আমার প্রিয়কে ভুলে যাওয়ার বিচ্ছিরি এক অসুখ হোক। সেই অসুখ আজন্ম থেকে যাক।
পুড়িয়ে দিক আমাকে অভিমানের জ্বরে। মন্দ হবে না তাতে।

কথা শেষে এলোমেলো পায়ে হাটা ধরলো চিরপরিচিত চৌধুরী নিবাসের পথে,যেই বাড়িতে তার কোনো পরিচয় নেই সেই বাড়িতে, যেই বাড়ির বউ হয়ে থাকার কথা সেই বাড়িতে অষ্টাদশী কেবল তাহসিন চৌধুরী”র দয়ায় পড়ে আছে।

তন্ময় চেয়ে রইলো বালিকার পানে।গোলাপি জামাটা লেপ্টে আছে শরীরের সাথে, শরীরের প্রতিটা ভাজ দৃশ্যমান।পিঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে একগুচ্ছ কালো চুল।

তন্ময় তাকিয়ে রইলো খানিকক্ষণ, যতোক্ষণ বালিকা দৃষ্টি সিমার মধ্যে রয়েছে ততোক্ষণ।
তন্ময় দীর্ঘ শ্বাস ফেলে গাড়িতে বসলো, বাড়ির পথে চলতে লাগলো শুভ্র চারচাকা গাড়িটা।

চৌধুরী নিবাসে আজ হরেক রকম রান্না বান্না চলছে, সব তন্ময়ের পছন্দের, রুবি প্রতিটা পদ নিজের হাতে রান্না করছে,তাকে সাহায্য করছে শেফালি, শেফালি হচ্ছে চৌধুরী বাড়ির পুরনো বুয়া, গত ২০ বছর যাবত এখানেই তার ঠাই।

তানিশা ড্রইং রুমে সোফায় বসে তিন্নির সঙ্গে ভিডিও গেইম খেলেছে। আর গরম গরম সিঙ্গারা চমুচা খাচ্ছে

মাইরাকে কাক ভেজা হয়ে বাড়িতে আসতে দেখে,খানিকটা ভরকে গেলো, চোখ গুলো কেমন লাল হয়ে ফুলে আছে।তানিশা ফের তিন্নির সঙ্গে গেইম খেলায় মনোযোগ দিলো।

মাইরা সিরি বেয়ে নিজ কক্ষে চলে গেলো।
ব্যাগ খানা ছুড়ে ফেলে দিলো, শুভ্র ফ্লোরে। তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুম চলে গেলো।

_____

ভাইয়া এই সন্ধ্যা বেলা তুমি বৃষ্টিতে ভিজেছ কেনো জ্বর আসবে তো নাকি?

তানিশার তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলা কথা গুলো শুনে, হাসলো তন্ময়, বোনের মিষ্টি শাসনে মনটা পুলকিত হয়ে ওঠলো।

কিচ্ছু হবে না আমার,আমি কি বাচ্চা যে বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর চলে আসবে।

তানিশা তন্ময়ের কথায় পাওা দিলো না, ধমকের স্বরে বললো, এক্ষুণি গিয়ে চেঞ্জ করো আমি কফি নিয়ে আসছি”!

তন্ময় তানিশার গোছানো চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বললো, যাচ্ছি ”

তানিশা রান্না ঘড়ের দিকে পা বাড়ালো,

____
ক্রিতিম উপায়ে তৈরি বৃষ্টির ধারার নায় ঝর্ণার নিচে বসে আছে অষ্টাদশী রমনি,উন্মুক্ত শরীরে ঠাই পেয়েছে ধবধবে শুভ্র একখানা তোয়ালে। প্রায় ঘন্টা খানিক শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হলো মাইরা।ভেজা চুল হতে বৃষ্টির ধারা’র নায় পানি পরছে। সেদিকে খেয়াল নেই বালিকার, আলমারি থেকে একখানা বাসন্তী কালারের কামিজ নিয়ে গায়ে জড়িয়ে নিলো। চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে খুপা করে নরম তুলতুলে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো,চোখ বন্ধ করে ঘুমের দেশে পারি জমালো।

চৌধুরী নিবাসের ড্রইং রুমে থাকা ডাইনিং টেবিলে হরেক রকম খবার,ইলিশ মাছের পাতুরি,চিংড়ির মালাই কারি, দেশি মুরগীর তরকারি, মুরগীর কুরমা,পোলাও, রসগোল্লা, দই,শিং মাছের ঝোল,বোরহানি, ডিমের কুরমা,গরুর গোস্তো, খাসির গোস্তো, আরও হরেক রকম খবার দাবার।এলাহি সব আয়োজন। তিন্নি, তানিশা,প্লেট নিয়ে টেবিলে বসে আছে, দৃষ্টি তাদের খাবারের দিকে, ইতিমধ্যে তন্ময় আর তিন্নির বাবা সেখানে উপস্থিত হলো, দু’জনেই চেয়ার টেনে বসে পড়লো।

সবাই যখন সুস্বাদু খাবার খেতে ব্যস্ত তখন হুট করে তন্ময় বলে ওঠলো,

মাইরা খেয়েছে?

রুবি তিন্নির পাতে চিংড়ি মাছ দিতে দিতে বললো,খিদে পেলে খেয়ে নিবে।তুই খাওয়ায় মনোযোগ দে তন্ময়।

“তন্ময় খানিকক্ষণ চুপ থেকে ফের খাওয়ায় মনোযোগ দিলো।

রাত তখন কয়টা বাজে মাইরার জানা নেই,খিদের চুটে পেটের বাম পাশটা মুচরে ওঠেছে।বিছানা ছেড়ে ওঠে পড়লো। ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিলো,অতঃপর রান্না ঘড়ের দিকে পা বাড়ালো।

রান্না ঘড়ে থাকা হাড়ি পাতিল হাতরে যখন কিচ্ছু পেলো না, তখন ফ্রিজ খুলতে হাত বাড়ালো,
তবে,
তবে,ফ্রিজ খুলছে না দেখে কপাল কুচকে নিলো মাইরা,খানিকক্ষণ টানাটানি করার পরে বুঝতে পারলো ফ্রিজে তালা দেওয়া। অতঃপর পেটে হাত দিয়ে ডাইনিং টেবিলে থাকা জগ থেকে পানি খেয়ে নিলো।

তবে ভাতের খিদে কি আর পানি দিয়ে মেটানো যায়।অতিরিক্ত পানি খাওয়াতে বুকটা চিন চিনিয়ে উঠলো,মাইরা বসে পড়লো টেবিলে,বসে রইলো কিছুক্ষণ।

ড্রইং রুমে থাকা ডিম লাইটের হলদে সাদা আলোয় মিলে মিশে অন্য রকম এক আলো সৃষ্টি করেছে।

মাইরা সিরি বেয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো।
মাইরার রুমটা দুতলার সবচেয়ে শেষের রুম টা,তন্ময় আর তানিশার রুম ডিঙ্গিয়ে যেতে হয়।

তন্ময় রুম পেরিয়ে যাওয়ার সময় থেমে গেলো মাইরা,

ভ্রু কুঁচকে মনে মনে আওড়ালো,এতো রাতে কার সাথে কথা বলছে,

চলবে,,,,,,,

#ভালোবাসার_মৌসুম
কলমে:#aroshi_jahan_isha

পর্ব ৪

(রিয়েক্ট না দিলে বিয়ে হবে না আপনার অভিশাপ দিলুম)

*তুমি চিন্তা করো না আমি খুব দ্রুত ডিবোর্স দিবো মাইরা কে,আর তোমাকে বিয়ে করবো।আর মাএ কিছু দিন অপেক্ষা করো”!

ফোনের ওপাশের মেয়েটা ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো, আর কতো অপেক্ষা করবো তন্ময়?

আর কিছু দিন।

অষ্টাদশীর থমকে গেলো, আহত হলো দু-চোখ ভরে গেলো অশ্রু কণায়।
মুখ চেপে ধরলো, কান্না আটকানোর বৃথা চেষ্টা করলো,দৌড়ে কক্ষে চলে গেলো,বিছানায় উপুড় হয়ে গা এলিয়ে দিলো।শিমুল তুলুর বালিশ খানা জড়িয়ে নিলো বক্ষমাঝে। ফুপিয়ে কেঁদে ওঠলো,

“হে আল্লাহ আমি যার জন্য ৪ বছর ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছি সেই মানুষ টা আমাকে তালাক দেওয়ার প্রহর গুনছে?কথা গুলো ভাবতেই অষ্টাদশীর মস্তিষ্ক এলোমেলো হয়ে গেলো।নাজুক দেহ খানা কেপে ওঠলো। বিষাদে ছেয়ে গেলো অন্তর খানা।

বালিশে মাথা রেখে অষ্টাদশী সৃষ্টি কর্তার কাছে অভিযোগ করলো,

হে খোদা তুমি আমার মৃত্যু দিও,তবুও ওনাকে অন্য নারীর পাশে দেখার যন্ত্রণা দিও না।
তুমি শুনছো আল্লাহ, আমার মৃত্যু দিও তবুও তাকে পরনারীর সঙ্গে দেখার দুর্ভাগ্য দিও না”তুমি এতো নিষ্ঠুর হয়েও না খোদা,তোমার এই পাপিষ্ঠ বান্দাকে সাহায্য করো।

অষ্টাদশী কাদলো,ভিষন কাদলো,সৃষ্টি কর্তার কাছে ভিক্ষা চাইলো নিজ স্বামী কে,

রাত টা কেটে গেলো,নতুন এক দিনের সুচনা হলো,আষাঢ়ের প্রভাত,আকাশে সাদা মেঘেদের রাজত্ব। দূরে কোথাও পাখিরা ডাকছে,মাইরা তখন সাদা ধবধবে ফ্লোরে গা এলিয়ে রেখেছে, দৃষ্টি তার মেঝেতে আবদ্ধ।
মস্তিষ্কে কেবল একটাই চিন্তা, কি হবে তার ভবিতব্য, সে কি কোনোদিন তন্ময়কে আপন করে নিতে পারবে না।

তার বুকে মাথা রেখে গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতে পারবে না,পাহাড়ের চুড়ায় দাঁড়িয়ে ভালোবাসি বলা হবে না।সমুদ্রের কিনারায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখা হবে না।শীতের সকালে একসাথে কুয়াশা বিলাস করা হবে না,কিংবা শরৎতের কাশফুল দেখতে যাওয়া হবে না,ভরা বর্ষায় একসাথে বৃষ্টি ভেজা হবে না?সব কি তবে অপূর্ণ থেকে যাবে।তাদের কি কখনো মিলন হবে না!”

ভাবতে ভাবতে চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো, অষ্টাদশী দু-হাতে মুখ ঢেকে কেঁদে ওঠলো।

*******

ঘড়ির কাঁটায় তখন ৮ বাজে ব্যাস্ত ঢাকা শহরের থেকে খানিকটা দূরে নির্জন একটা এরিয়ায় লেকের পানিতে পা ভিজিয়ে বসে আছে একজন নারী,পড়নে ঢিলেঢালা একখানা ট্রি শার্ট আর জিন্স,কাঁধ সমান চুলগুলো ঝুটি করা,গায়ের রং ধবধবে ফর্সা ঠোঁটের নিচে গাড়ো কালো একখানা তিল।

তন্ময় প্লিজ জলদি করো,পাপা বলেছে ১ মাসের মধ্যে তুমি বিয়ে না করলে আর কখনোই আমাদের বিয়ে হবে না।

নাতাশা প্লিজ আর কিছু মাস অপেক্ষা করো,আমি খুব জলদি ডিবোর্স দেবো মাইরা কে’

নাতাশা নামের মেয়েটা তন্ময়ের হাতখানা ধরে বললো,অপেক্ষা তো করছি গত ৬ বছর ধরে,এবার তো আমার অপেক্ষা শেষ হওয়ার পালা।তোমার বউ হবো আমি,তন্ময় চৌধুরীর বউ।

নাতাশা থেকে নাতাশা চৌধুরী হবো আমি তন্ময়!

তন্ময় বালিকার কপালে চুমু একে বললো,হুম খুব জলদি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।তোমাকে আর অপেক্ষা করতে হবে না।আমি বাবার সাথে কথা বলবো।

কলেজের ভরা কেম্পাসে নীলিমা দাঁড়িয়ে আছে, আর তার সামনে দাড়িয়ে আছে প্রফেসর আহির মির্জা
সুদর্শন যুবক বলা যাবে তাকে বলিষ্ঠ শরীরে একখানা সাফেদ রঙের ট্রি শার্ট জড়ানো,বয়স কতো হবে ৩০ তো হবেই।

তোমার সাহস কি করে হলো কলেজে এসে মাস্তানী করার?

আহিরের কন্ঠে কেঁপে উঠলো নীলিমা, বা গালটা নাড়তে পারছে না,ব্যথায় অবশ হয়ে গেছে আর হবেই না বা কেনো হাতির মতো দামড়া হাত দিয়ে কত্তো জুড়ে থাপ্পড় মেড়েছে এই অসভ্য লোকটা।

নীলিমা মিনমিনিয়ে বললো,আমি কি করেছি স্যার?
নীলিমার এহেম কথায় রাগটা তরতরিয়ে বেড়ে গেলো আহিরের,তীক্ষ্ণ কন্ঠে বললো,

১০ মিনিটের মধ্যে তুমি আমার অফিস রুমে আসবে।

বলেই হনহনিয়ে চলে গেলো আহির,নীলিমা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো।

i will come, Sir?

Come,

আহিরের ঝাঁঝালো স্বরে নীলিমা কেঁপে উঠলো,লোকটা সবসময় অমন গম্ভীর কন্ঠে কথা বলে কেনো তা জানা নেই নীলিমার।

নীরবতা ভেঙ্গে আহির বলে ওঠলো,
তুমি পাভেল কে লাথি মেরেছো?

নীলিমা ভরকে গেলো, কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো, ওই আসলে স্যার,

হেই জাস্ট স্টপ ইট,যা বলছি তার সোজা সাপটা জবাব দেও,

তুমি পাভেল”কে লাথি মেরোছো?

আহির এর ধমকে ভয় পেলো নীলিমা, ওড়নার কোণা চেপে ধরলো,

কি হলো চুপ করে আছো কেনো?
“you kicked her in the sensitive Area?

Answer me”!

নীলিমা কেঁদে ওঠলো, কাঁদতে কাঁদতে বললো,
ওই পাভেল বদমাইস ছেলেটা আমাকে বাজে ভাবে ছোঁয়ার চেষ্টা করেছিলো,তাইতো আমি ওর ৭২ লাখে লাথি মেরে সারাজীবনের জন্য ওর কুর কুরি বন্ধ করে দিয়েছি”এতে কি এমন ক্ষতি হয়েছে স্যার?

নীলিমার এহেম কথায় ভরকে গেলো আহির, মেয়েটাকে ও বাজে ভাবে ছোঁয়ার চেষ্টা করেছে”

কখন ও তোমার সাথে অসভ্যতামো করেছে?

নীলিমা ফুপাতে ফুপাতে বললো,
“কলেজে আসার পরে আমি ফুল কুড়াতে পেছনের দিকটাতে গিয়েছিলাম,তখন দেখলাম যে ওনি সিগারেট টানছে, আমি আমার মতো ফুল তুলছিলাম, হঠাৎ আমার পিঠে কারো স্পর্শে আমি ভয় পেয়ে যাই।তারপরে, তারপরে,বলতে বলতে ঠোঁট উল্টে আবারও কেঁদে ওঠলো নীলিমা।

আহির পানির গ্লাস টা নীলিমার পানে এগিয়ে দিলো,
নীলিমা সবটা পানি পান করলো,

তারপরে কী?

আহিরের কন্ঠে নীলিমা খানিকটা ভয় পেলো,নিজেকে সামলে নিলো পরক্ষণেই।

তারপরে উনি আমার ওড়না টেনে খুলে ফেলে আর আমার,,,,,,,

আচ্ছা আর বলতে হবে না চুপ করো।

আহিরের কথায় নীলিমা চুপ হয়ে গেলো।

আহির তীক্ষ্ণ কন্ঠে বললো, কী দরকার ছিলো একা একা নির্জন জায়গায় যাওয়ার। আর তোমার মুখের ভাষা ঠিক করো।

এখন যাও”

নীলিমা চট জলদি বেড়িয়ে গেলো,
আহিরের মেজাজ অষ্টম দোয়ারে গিয়ে ঠেকলো,পাভেল নীলিমাকে বাজে ভাবে স্পর্শ করেছে,ভাবতেই শরীর রি রি করে ওঠলো,কাচের গ্লাসটা ফ্লোরে ছুড়ে মারলো,সঙ্গে সঙ্গে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো।

______
এসব তুই কি বলছিস নিলু?

নীলিমা মাইরার কথায় ঠোঁট উল্টে বললো, যা বলছি ঠিক বলছি,ওই গোলামের পুত আমার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে তাই ওর জায়গা মতো মেরে দিয়েছি।

মাইরা ফিক করে হেসে ওঠলো,
নীলিমার কাঁধে হাত রেখে বললো,একদম ঠিক করেছিস নিলু।ও এটারই যোগ্য ছিলো।

কলেজ শেষ হলো ৪ টা বাজে নীলিমা আর মাইরা তখন শাহবাগ মোড়ে, হুট করে সেখানে আগমন ঘটলো, পাভেলের,চিকন হেংলা পাতলা ফর্সা মুখ কুৎসিত হাসি।

নীলিমার গা ঘিনঘিনিয়ে ওঠলো।মাইরাও থুথু ফেললো পাভেলের সামনে,তীক্ষ্ণ স্বরে বললো,

পথ ছাড়ুন পাভেল ভাই?নয়তো খারাপ হয়ে যাবে।

পাভেল গা ছাড়া ভাব নিয়ে বললো,এই তুই চুপ ন*টি কোথাকার”

নীলিমা রেগে গেলো,স্ব জোড়ে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো পাভেলের গালে।

পাভেল বিশ্রী একটা হাসি দিয়ে বললো,
তোদের এতো দেমাগ কিসের মা*গি, রুপের দেমাগ,চিন্তা করিস না তোদের রুপ আমি ঝলসে দেবো”

মাইরা আঙুল তোলে বললো,
রুপ ঝলসে দিবি তুই,তোর মতো গাঞ্জাখোরের হুমকিতে আমরা ভয় পাই না”

পাভেল হাসলো,কি ভয়ঙ্কর সেই হাসি,বিশ্রী দেখতে তার হাসির ভঙ্গিমা দেখে খানিকটা ভয় পেলো নীলিমা,মাইরার হাত ধরে পাভেলকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।

গোধূলি বেলা নাম না জানা পাখিরা নিরে ফিরছে। তার সাথে মাইরাও চৌধুরী নিবাসের লোহার গেইটে এসে দাঁড়াতেই দেখা মিললো,সাইফুল চাচার,ষাটোর্ধ বয়স্ক লোকটাকে মাইরা আজ ৪ বছর ধরে চেনে,কালো বর্নের লোকটার মনটা যেনো তুলুর মুতো সাদা যখনই মাইরা সামনে আসে এক গাল হেসে বলে মামনি যে কেমন আছো?

মাইরার বেশ লাগে সাইফুল চাচাকে মানুষটা বড্ড মিশুক, সাইফুল চাচার সাথে খানিকক্ষণ কথা বলে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো মাইরা,

বৃদ্ধ লোক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠেন,
এতো ভালা মাইডারে ছোট সাহেব ক্যান যে পছন্দ করে না আল্লাহ মালুম জানে।

____

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ৯ টা তাহসিন চৌধুরী বাড়িতে নেই আজ ৩ দিন, ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাহিরে গেছেন তিনি।তাকে ছাড়া চৌধুরী নিবাসে মাইরা কে সঙ্গ দেওয়ার কেউ নেই,তাইতো অষ্টাদশী নৃত্য কে তার সঙ্গী করে নিয়েছে।ভিষন মন খারাপেও নাচে আবার মন ভালোতেও নাচে।কারণে অকারণে নৃত্যই অষ্টাদশীর সঙ্গী।

আজও রাতে নাচবে অষ্টাদশী তাইতো জলদি করে রাতের খাবারটা শেষ করতে হবে,রান্না ঘড়ে যেতেই দেখা মিললো রুবির সঙ্গে। মাইরা কে দেখেই ভদ্রমহিলা নাক কুঁচকে নিলেন, নিজের কাজে মনোযোগী হলেন।

মাইরা ধির কন্ঠে বললো, কাকিমনি তুমি এখন বাসন ধুচ্ছ কেনো?দেও আমি ধুয়ে দিচ্ছি।

রুবি মাইরার পানে তাকিয়ে বললো, তোমাকে ধুতে হবে না আমার কাজ আমিই করতে পারবো,

মাইরা আর কিছু বললো না ভাতের প্লেই হাতে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে চলে গেলো।

তন্ময় বাড়িতে আসতেই দেখা মিললো,অষ্টাদশীর নিজ মনে ভাত খাচ্ছে।
রুবি তন্ময় কে দেখে বলে ওঠলো,
তন্ময় বাবা দুপুরে লাঞ্চ করিস নি বসে পড় খেতে দিচ্ছি।

তন্ময় মাইরার পানে চাইলো, মেয়েটা ভাবলেশহীন ভাবে খেয়ে যাচ্ছে। বেসিনে হাত ধুয়ে টেবিলে বসে পড়লো,রুবি খাবার বেরে দিলো।

__তন্ময় কাল সকালে কিন্তু চট্টগ্রামে যেতে হবে।তৈরি থেকো,ভাই কে কল দিয়েছিলো তোমার চাচ্চু কাল দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে চলে আসবে।তারপর চট্টগ্রামে যাবে অফিসের কাজ সেরে।
কালকেই পিহুর বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হবে।যদিও আমার ভাইজান আজকেই চলে যেতে বলেছিলো,তবে তোমার চাচ্চু যাবে না আজ কালই যাবে সে।তুমি সকাল সকাল তৈরি হয়ে থেকো।

তন্ময় খেতে খেতে বললো,ঠিক আছে কাকিমনি।

রুবি মৃদু হেসে মাইরার পানে তাকিয়ে বললো,
তুমি তৈরি হয়ে থেকো কাল যাবে আমাদের সঙ্গে।

মাইরা খাওয়া থামিয়ে দিয়ে বললো, আমি যাবো?

রুবি তন্ময়ের দিকে পানির গ্লাস দিতে দিতে বললো, হু যাবে।

মাইরা মৃদু স্বরে বললো, কাল তো মঙ্গলবার বৃহস্পতিবারে আমার এসাইনমেন্ট দিতে হবে কলেজে,তোমরা নিশ্চয় বৃহস্পতিবারের মধ্যে বাড়ি ফিরবে না?

তানিশা আর তুমি তো একই ক্লাসে পড়ো তাহলে তানিশারও নিশ্চয়ই এসাইনমেন্ট আছে।

“কাকিমনি তানিশা আজ জমা দিয়ে দিয়েছে।

ওহ তবে তুমি বৃহস্পতিবারে দিও কাল তৈরি থেকো।

মাইরা মাথা নেড়ে হে জানালো,অতঃপর খাওয়া শেষ করে নি কক্ষে চলে গেলো।

কক্ষে এসে দড়জা বন্ধ করে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো মাইরা,মনটা আনন্দে পুলকিত হচ্ছে। কাকিমনি তাকে সঙ্গে নিবে ভেবেই,

আজ আর নৃত্য করলো না অষ্টাদশী,বিছানা ঠিক করে ঘুম দিলো।

চলবে…..

(ভুল ক্রটি থাকলে মাফ করবেন)