Home "ধারাবাহিক গল্প মন কেমনের মরশুম মন কেমনের মরশুম পর্ব-০৩

মন কেমনের মরশুম পর্ব-০৩

0
428

#মন_কেমনের_মরশুম

পর্ব: ৩

বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে ইরা। খিদায় চোখে আঁধার দেখছে। বারান্দা থেকে কড়া সিগারেটের গন্ধ আসছে। তাতে আরো বেশি পেট মোড়াচ্ছে ইরার। কি আশ্চর্য! এরচেয়ে বেশি খিদা সহ্য করেও তো তার অভ্যেস আছে। নতুন মা কতোদিন তাকে অভুক্ত রেখেছে তার ঠিক নেই। বাবার প্রায় রাতেই নাইট ডিউটি থাকতো। সেসব রাতে ইরার পাতে ভাত জুটতো না। শুধু ভাত না, কিছুই জুটতো না। আজ-ই বা সে হঠাৎ কোন রাজরানী হয়ে গেলো যে খিদায় প্রাণ যাবে? আচ্ছা আজ যদি ওই বুড়োটার সাথে তার বিয়ে হয়ে যেতো, তবুও কি সে এভাবে অভুক্ত থাকতো?

ইরা কি মনে করে হেসে দেয়। সে বোধহয় পাগল হয়ে যাচ্ছে, নাহলে এভাবে, এই সময়ে কেনো হাসবে? লোকটা কি চেইনস্মোকার নাকি? একের পর এক সিগারেট টেনেই যাচ্ছে। সে নিজেও তো কিছু খায়নি। বেচারা গিয়েছিলো বন্ধুর মামার বিয়ে খেতে, কিন্তু তারপর….

ইরা চোখ বন্ধ করে। হঠাৎ মনে পড়ে খুব ছোটবেলায় তার মা তাকে শিখিয়েছিলো, কিছু খেতে ইচ্ছা করলে সেই খাবারের নাম নিয়ে ছড়া কাটতে। তাহলেই নাকি সেই খাবার উপস্থিত হয়ে যাবে। ছোটবেলায় মায়ের সব কথা সে বিশ্বাস করতো। পরে বড় হয়ে বুঝেছে মায়ের মাথায় কিঞ্চিৎ সমস্যা ছিলো। এজন্যই তো গলায় ফাঁস নিয়ে..

সে যাই হোক। ঘুম এমনিতেও আসছে না। তার বদলে যদি মায়ের কথামতো কাজ করা যায়, ক্ষতি কি? খাবার না আসুক, সময়টা তো কেটে যাবে।

“ইলিশ ভাজা, ইলিশ ভাজা।
খেতে লাগে ভারী মজা।
চার, পাঁচ, ছয়, সাত,
চিকন চালের পোলাও ভাত।”

“এইযে শুনছো, এই।”
ইরা ধড়ফড় করে উঠে বসে। লোকটা কখন বারান্দা থেকে এসে দাঁড়িয়েছে টেরও পায়নি সে। সর্বনাশ! এই উল্টাপাল্টা ছড়া আবার শুনে ফেলেনি তো? সে তো বিড়বিড় করে বলছিলো।

“বিড়বিড় করে কি বলছিলে?”
“কই কিছু না তো।”
আরশাদ কিছুটা দূরত্ব নিয়ে বসে। তার মুখটা কেমন শুকিয়ে আছে। পাঞ্জাবি পালটে কালো শার্ট পরেছে। তাকে বেশ রূপবান লাগছে এতে।

“সমস্যা তো একটা হয়ে গেছে।”
“কি সমস্যা?”
“আমার তো ভীষণ খিদে পেয়েছে। তোমার পায়নি?”
ইরা কিছু বলেনা, চুপ করে বসে থাকে।
“পেয়েছে তো অবশ্যই। আমারই ভুল হয়েছে। আসলে হাজারটা দুশ্চিন্তায় সব ভুলে গেছি। তোমাকে আগে খাবার দেওয়া উচিত ছিলো।”
“না অসুবিধা নেই।”
আরশাদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো,”তুমি বসো, আমি দেখছি খাবার কি আছে।”
ইরা মাথা হালকা কাঁৎ করে। নিজেকে এই মুহুর্তে ভীষণ অপরাধী মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে এই পরিবারটাকে বিপদে ফেলে দিয়েছে সে। বেশ বড়সড় বিপদ। এরচেয়ে বুড়োটাকে বিয়ে করে নিলেই হতো। কেনো যে ওই সময় বলতে গেলো যে সে ওই বিয়েতে রাজি না।

আরশাদ বেরিয়ে যায়। মিনিট পাঁচের মধ্যেই ফিরে আসে। হাতে একটা সাদা থালা।

“নাও খেয়ে নাও।”
ইরা উঁকি দিয়ে দেখে থালায় দুই স্লাইচ পাউরুটি আর খানিকটা চিনি। পাউরুটি দিয়ে চিনি কে খায়? ইরার আবার হাসি পায়।

“আমি জানি এটা খাওয়ার মতো কিছু না। কিন্তু কি হয়েছে বলো তো। আমাদের বাড়িতে সবসময় রাতে রান্না করা হয়, মা রান্না করে। দুপুরের কোনো খাবার অবশিষ্ট থাকে না রাত পর্যন্ত। কিন্তু আজ মা কিচ্ছু রাঁধেনি। বাকিরাও না খেয়েই আছে। আমি বা বাবা কেউ রাঁধতে পারিনা। একবার কি যেনো রেঁধেছিলাম, খেয়ে তিনদিন ভুগেছিলাম পেটের অসুখে। তারপর থেকে আর সাহস করিনি। রান্নাঘরে যেয়ে দেখি কিছুই নেই। ফ্রিজে এই দুই স্লাইচ পাউরুটি ছিলো। জ্যাম বা মাখন কিছুই পেলাম না। চিনি দিয়ে কি খাওয়া যাবে? নাহলে ডিম ভেজে দিতে পারি। খাবে ডিম ভাজি?”
ইরা মুচকি হেসে থালাটা হাতে নেয়। আরশাদের মুখটা কেমন শুকিয়ে আছে। ইরার খারাপ লাগে দেখে।

“আপনি কি খাবেন? আপনারও তো ভীষণ খিদে পেয়েছে।”
“অসুবিধা নেই। ছাত্রজীবনে যখন অন্য শহরে যেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকতাম তখন অনেক রাত পার করেছি না খেয়ে। আমার অভ্যেস আছে।”
ইরা মাথা নিচু করে ফিসফিস করে বললো,”আপনাদের বিপদে ফেলে দিলাম। আগামীকাল আমাকে বাড়িতে রেখে আসবেন?”
আরশাদ ভ্রু কুঁচকে বললো,”ওটা তোমার বাড়ি নাকি জেলখানা? ওখানে আবার ফিরে যেতে চাও কীভাবে?”
ইরা কিছু বলতে যেয়েও থেমে যায়। আরশাদের মুখ থমথম করছে।

“আমার খিদে চলে গেছে। তাছাড়া আমি পাউরুটি খাইনা। এটা আপনি খেয়ে নিন।”
আরশাদ হতাশ মুখে তাকায় ইরার দিকে। মুখটা ছোট হয়ে এতোটুকু হয়ে আছে মেয়েটার। দেখেই বোঝা যাচ্ছে খিদে পেয়েছে ভীষণ।

“ইরা আমাকে ক্ষমা করো। আসলে আমি নিজেও বুঝতে পারিনি কি থেকে কি হয়ে গেলো। ওই সময় বিয়েটা করা ছাড়া আর কিছু আমার মাথায় আসেনি।”
“এখন কি আফসোস করছেন?”
“কথাটা আফসোসের না….”

আরশাদ কথা শেষ করতে পারেনা। দরজার বাইরে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে চুপ করে যায়।

“বাবা, তুমি?”
রাশেদুল ম্লান মুখে হাসে।
“তুমি ঘুমাও নি?”
“ধুর বেটা! খালি পেটে কি ঘুম আসে? পেটের মধ্যে ভুটভাট করছে। কতোক্ষণ শুয়ে এপাশ ওপাশ করলাম, ঘুম এলো না। তোদের কি অবস্থা? খেয়েছিস কিছু?”
আরশাদ মাথা নাড়ে আস্তে আস্তে।

“তাহলে আর কি করা! রান্না করতে হবে।”
“রান্না? কে করবে? তুমি নাকি আমি?”
রাশেদুল ক্ষীণ গলায় বললো,”ইরা ঘুমিয়েছে?”
“না।”
“ওকে একটু ডাক তো।”
আরশাদ কিছু বলার আগেই মাথায় ঘোমটা দিয়ে ইরা এসে দাঁড়ায়। রাশেদুলের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে হাসে।

“কোনো অসুবিধা নেই। আমি রান্না করে দিবো।”
আরশাদ অবাক হয়ে বললো,”তুমি?”
রাশেদুল অপরাধী মুখে দাঁড়িয়ে থাকে। যতোই হোক, যা-ই হোক, আজ মেয়েটার বিয়ের প্রথম রাত। সে রাতেও তাকে নিজে রান্না করে খেতে হবে?

ইলিশ মাছ কেটেকুটে ভেজেছে ইরা, সেই সাথে চিকন চালের পোলাও রান্না করেছে। কোথায় কি রাখা কিচ্ছু জানতো না সে। রাশেদুল দেখিয়ে দিয়েছে আর ইরা রান্না করেছে। সামান্য আয়োজন, তাতেই ম ম করছে চারপাশ সুঘ্রাণে। ঘ্রাণেই খিদেটা মাথায় উঠে যায় সবার।
ইরা খাবারগুলো টেবিলে রাখতেই রাশেদুল বসে পড়ে। আরশাদও বসে।
“আপনারা খান।”
আরশাদ ইরার দিকে তাকিয়ে গাঢ় গলায় বললো,”তুমি খাবে না? বসো।”
ইরা মৃদু গলায় বললো,”বাড়িতে আরো দুইজন মানুষ অভুক্ত অবস্থায় ঘুমাতে গেছে। তাদের অভুক্ত থাকার কারণটাও আমি। তারা না খেলে আমি কীভাবে খাবো?”
রাশেদুল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,”শোনো মা, তুমি খুব নরম মনের মানুষ বলে মনে হচ্ছে। এতোটা নরম হয়ো না। মানুষ তোমাকে মাড়িয়ে চলে যাবে। তোমার মনের অসীম মায়া কখনো না ফুরোক কিন্তু নিজেকে আগে মায়া করো। যারা সরলরেখায় চলতে চায়না, তাদের বক্রতা বুঝতে দাও। আমি জানি রাবেয়া যা করছে তা ভুল নয়। আমি নিজেও এখনো পুরোপুরি মেনে নিতে পারছি না। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না, তাইনা? আশা না খেয়ে থাকতে পারেনা। ও ডিম ভেজে খেয়ে নিয়েছে অনেক আগেই। রাবেয়া খাবে না, সে আমি জানি। তাই বলে তুমি কেনো অভুক্ত থাকবে? তোমার মুখ শুকিয়ে এতোটুকু হয়ে আছে৷ আগামীকাল থেকে তোমার এক অজানা যুদ্ধ শুরু, সংসার যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুতি করতে হবে তো। তার জন্য শক্তি দরকার। আমি বলছি খেয়ে নাও। বাকিটা পরে দেখা যাবে।”
ইরা মাথা নিচু দাঁড়িয়ে থাকে। মা চলে যাওয়ার পর কেউ তার সাথে এতো সুন্দর করে কথা বলেনি, এমনকি তার বাবাও না। গলার কাছে এক দলা কান্না পাকিয়ে বসে আছে। যে কোনো সময় দ্রবীভূত হয়ে টুপটুপ করে নামবে চোখের কোণ থেকে।

“তুমি খুব ভালো রান্না করো।”
ইরা ছোট্ট করে হাসে, কিছু বলেনা।
“অনেক রাত হলো তো। এবার ঘুমিয়ে পড়া যাক, কি বলো?”
ইরা মাথা নেড়ে একটা বালিশ নিয়ে মেঝেতে ফেলে। আরশাদ চোখ কুঁচকে তাকে দেখতে থাকে।

ইরা বালিশটা খাট থেকে কিছুটা দূরে ফেলে সেখানে শুয়ে পড়ে।
“কি হচ্ছে এটা?”
ইরা অবাক হয়ে বললো,”কি হবে?”
“তুমি মেঝেতে ঘুমাবে নাকি?”
“তাহলে কোথায় ঘুমাবো?”
আরশাদ মুচকি হেসে বললো,”বাংলা সিনেমা খুব পছন্দ বুঝি? শাবানা কিংবা ববিতার?”
“তার মানে?”
“তোমাকে কি আমি মেঝেতে ঘুমাতে বলেছি? সিনেমার নায়কদের মতো বলেছি যে, সবাই জানবে আমরা স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু এই চার দেয়াল শুধু সাক্ষী থাকবে আমাদের মধ্যকার শীতল, নির্লিপ্ত সম্পর্কের ব্যাপারে? বলেছি?”
“না বলেননি।”
“চুপচাপ বালিশ নিয়ে খাটে ঘুমাও। আমাকে যদি পছন্দ না হয় তবে কোলবালিশটা মধ্যে রেখে ঘুমাও। তবুও এই মেঝেতে ঘুমানোর হাস্যকর নাটকটা করোনা।”
ইরা বুঝতে পারেনা কি করবে। ওভাবেই ঠাঁয় বসে ঠোঁট কামড়াতে থাকে।

আরশাদ তার বালিশটা নিচ থেকে নিজেই খাটে উঠায়। ইরার জন্য অপেক্ষা না করে শুয়ে পড়ে খাটের এক পাশে।

“ঠোঁটটা কামড়াতে কামড়াতে তো রক্তই বের করে ফেলবে মনে হচ্ছে। পরে সকালে যে-ই দেখবে সে-ই বলবে কোন জানোয়ারের সাথে বিয়ে করেছো। প্রথম রাতেও ছাড় দেয়নি।”
ইরা হতভম্ব হয়ে আরশাদের দিকে তাকায়। আরশাদ ততক্ষণে চোখের উপর হাত রেখে শুয়ে পড়েছে। কান গরম হয়ে যায় ইরার। হৃৎপিণ্ডটা যেনো গলার কাছে এসে ধকধক করছে। কি বললো লোকটা? কি বলতে চাইলো? একই রাতে দুইবার লজ্জাজনক অবস্থায় ফেললো তাকে। আশ্চর্য! তাকে দেখে তো বোঝাই যায়না সে এতোটা….

“কি অসভ্য? তাই ভাবছো তো?”
ইরা আবারও চমকে ওঠে ভীষণ ভাবে। লোকটা মাইন্ড রিড জানে নাকি?

“সারারাত এভাবে বসে পার করে দিতে চাইলে দাও, অসুবিধা নেই। আবার ঘুমাতে আসতে চাইলে আসতেও পারো। কথা দিচ্ছি ওভাবে ঠোঁট কামড়ে রক্ত বের করে দিবো না।”
এই বলে আরশাদ পাশ ফিরে ঘুমিয়ে যায়। সত্যিই ঘুমিয়ে যায়। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে তার মৃদু আওয়াজে নাক ডাকার শব্দ শোনা যায়। ইরা জড়োসড়ো হয়ে বসে খাটের উপর। বারবার আড়চোখে তাকায় আরশাদের দিকে। আরশাদ তাকে পছন্দ করে স্ত্রী করে নিয়ে আসেনি এ বাড়িতে, করুণা করেই নিয়ে এসেছে। একটা করুণার পাত্রীর সাথে একই বিছানায় থাকতে আরশাদের খারাপ লাগবে না? ইরার মনে হয় না বাকি রাতে আর ঘুম হবে। এক অজানা তেষ্টা আষ্টেপৃষ্টে চেপে ধরে তাকে। সত্যিই কান্না পাচ্ছে এবার তার।

ভোরের আলো চোখে পড়তেই তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠে বসে ইরা। বুকে হাত দিয়ে দেখে ধুকপুক করছে বুকটা। কয়েক সেকেন্ড সময় নেয় মনে করতে যে সে কোথায় আছে। তবে সবটা স্বপ্ন ছিলো না? সত্যিই সে বিয়ে করে এ বাড়িতে এসেছে? কেমন যেনো স্বপ্নের মতোই মনে হয় তার। সে ভেবেছিলো সারারাত ঘুম হবে না তার। কিন্তু কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে নিজেই বুঝতে পারেনি। তার মনে হচ্ছে এমন সুন্দর ঘুম এ জীবনে সে ঘুমায়নি। কতো জনম জনমের ঘুম যেনো এক রাতেই ঘুমিয়েছে সে।
শাড়ি পরে তার অভ্যাস নেই তেমন। তাড়াতাড়ি করে তাকিয়ে দেখে শাড়ি ঠিক আছে কিনা। নাহ সব ঠিকই আছে।

পাশ ফিরে দেখে আরশাদ বুকে ভর দিয়ে ঘুমাচ্ছে। তার মুখটা ইরার দিকেই ফেরা। ঘুমন্ত মানুষের চেহারা ভীষণ নিষ্পাপ দেখায়। আরশাদকে একটা রাজপুত্রের মতো লাগছে। গালের খোঁচা খোঁচা দাড়িতে মানিয়েছে ভালোই। ইরা না চাইতেও বারবার তাকায়। কোথায় যেনো একরাশ মায়া জন্মে বুকের বাম পাশে। বারবার মনে হয় এই স্বামী, এই সংসার তার হয়েও তার না। সে এসবের যোগ্য না। আরশাদ তার ভুলটা বুঝতে পারলেই তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিবে। ভদ্র মানুষ সাজতে যেয়ে নিজেই বড় বিপদ টেনে এনেছে বাড়িতে। তার তো বিয়ে করার ইচ্ছাও ছিলো না। সে শুধু ইরার কাছে গিয়েছিলো এই বিয়েতে তার মত আছে কিনা জানতে। ইরা সত্যটা জানিয়েছিলো, যে নেই। আরশাদ শুধু বিয়েটা ভাঙতে চেয়েছিলো। কিন্তু এলাকার মানুষ…

“আমি জানি আমি সুন্দর। দয়া করে এভাবে তাকিয়ে থাকবে না। কেউ এভাবে ড্যাবড্যাব করে আমাকে দেখলে আমার ভীষণ অস্বস্তি হয়।”
ইরা থতমত খেয়ে যায়। ঘুমের ভান করে পড়ে ছিলো নাকি আরশাদ এতোক্ষণ?

আরশাদ উঠে বসে। সদ্য ঘুম ভাঙা চোখ, ফোলা ফোলা। উঠে বসেও কোলের মধ্যে বালিশটা নিয়ে তাতে মুখ ডুবিয়ে বসে থাকে কিছুক্ষণ। ইরা অস্বস্তিতে এদিক ওদিক তাকায়। রাতটা তো কোনোরকমে পার হয়েছে। এখন কি হবে? আরশাদের মা কি তাকে বের করে দিবে বাড়ি থেকে?

“তুমি কফি বানাতে পারো?”
“কফি?”
“হ্যা, দুধ-চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি। বাংলায় যাকে বলে কালা কফি। পারো বানাতে?”
“জি পারি।”
“বানিয়ে দিতে পারবে? রান্নাঘরে সব পাবে। যদি না পাও তাহলে আর মিনিট বিশেক অপেক্ষা করো। কদুর মা চলে আসবে একটু পরেই, আমাদের সাহায্যকারী। সে সব দেখিয়ে দিবে। তবে কফিটা তুমিই বানাবে, কদুর মা যেনো ভুলেও না বানায়। তার বানানো কফি অতি জঘন্য হয়।”
ইরা শান্ত গলায় বললো,”আচ্ছা আমি বানাবো, কদুর মা’কে বানাতে দিবো না। গতকাল কে বানিয়ে দিয়েছিলো?”
আরশাদ আচমকাই ইরার চোখে চোখ রাখে। ইরা ইতস্তত করে চোখ নামিয়ে নেয়।

“গতকাল আমার কফির প্রয়োজন হয়েছিলো না, কিন্তু আজ প্রয়োজন।”
“কেনো?”
“কোনো কোনো সময় শরীর প্রচুর ক্যাফেইন চায়, তাই।”
ইরা আরশাদের কথা বুঝতে পারেনা। আরশাদ উঠে বাথরুমের দিকে যায়। যেতে যেতে আবার পিছন ফেরে।

“বাথরুম থেকে ফিরে যেনো দেখি টেবিলে ফর্দ লেখা হয়ে গেছে। যা যা লাগবে সময় মতো পেয়ে যাবে। আর দয়া করে এই ওভার সাইজ ব্লাউজটা পরবে না। নতুন এনে দিবো, তাই পরবে।”
ইরা শাড়ির আঁচল টেনে এনে শরীর ঢাকে। লোকটা সেই গতরাত থেকেই ব্লাউজের পিছে পড়ে আছে। উনার সমস্যা কোথায়?

“কি হবে পরলে?”
আরশাদ তোয়ালেটা কাঁধে ফেলে মুচকি হেসে বললো,”তাহলে ক্যাফেইন বেশি লাগবে।”
ইরাকে হতভম্ব অবস্থায় রেখে আরশাদ বাথরুমে চলে যায়। ইরা বরফের মতো জমে বসে থাকে। শেষ কথাটার মানে কি? কি বুঝাতে চাইলো লোকটা?

(চলবে…..)