Black Rose Part-03 (Season 03)

0
1520

#Black_Rose?
#Season_03
#The_dark_king_of_my_Kingdom♚
#Lamiya_Rahaman_Meghla.
#Part_03

–আমার মাথাটা টিপে দেও তো (গম্ভীর শুরে)
–ক কেন?(ভয়ে উল্টো পাল্টো প্রশ্ন করছি আমি)
–কেন আবার আমি বলছি তাই (ধমকে)
–ঠিক আছে।
আমান আমাকে খাটে বসিয়ে তার মাথাটা আমার কোলের উপর দিলেন৷
আমার অস্বস্তি ফিল হচ্ছে।
কেন জানি না কিন্তু ওনার এই ব্যাবহার গুলো আমাকে অবাক করছে প্রচুর অবাক। আমি ভয়ে ভয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম।
সে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।
বেশ অবাক করা কথা এটা৷
লোকটাকে জোমের মতো ভয় পাই৷ কেন জানি না সামনে গেলেই মনে হয় চোখ দিয়ে গিলে খাবে।
তাই যতোটা পারি দুরে থাকার চেষ্টা করি৷
কিন্তু সময় সময় উনি কোথা থেকে উরে এসে জুড়ে বসেন আল্লাহই জানেন৷
অনেক টা সময় পর এবার আঙুল গুলা ব্যাথা করছে কিন্তু এই লোকের কোন হেল দুল নাই৷
আমি মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি ঘুমিয়ে গেছেন৷
আলতো করে মাথাটা বালিশে নামিয়ে দিয়ে চলে এলাম আমি৷
তবে কেন জানি না অদ্ভুত একটা টান অনুভব হচ্ছিল মন চাইছিলো না ওখান থেকে আসতে।
রুমে এসে বসে পরি একটা চেয়ারে,
আমার রুমে একটা লাইব্রেরি আছে।
ওখানে নাকি গল্পের বই শুধু ফুপি মনি বলেছেন৷
আমি একা একা বোর হচ্ছি তাই ওখানে গেলাম৷
ভালো করে ঘাটাঘাটি করে একটা সুন্দর বই পেলাম৷
বই উপরের অংশটা কাঠের আবরন দিয়ে করা৷ তাতে খোদাই করে লিখা,
#Black_Rose
#The_Dark_Prince_of_vampire_Kingdom♚
বাহ বইটা বেশ সুন্দর লাগলো এইটাই পড়বো আমি৷
–মেঘ৷
বইয়ের পাতা খুলার আগেই পেছন থেকে ফুপি মনির ডাক শুনতে পেলাম৷
–জি।
–কি করছিস মা৷
–বই পড়বো।
–এখন না পরে পড়িস আমি তোর জন্য কিছু সুখবর এনেছি জলদি আয়৷
–আচ্ছা।
আমি বইটা রেখে চলে এলাম ফুপির সাথে।
ফুপি আমাকে নিয়ে আমানের সামনে বসালেন নিজেও বসলেন,
–আমান আমি মেঘকে তোর ভার্সিটি তে ভর্তি করছি জদিও সে আগে থেকেই ছিলো(মিথ্যা কথা মেঘের জন্য) তাও আবার ভর্তি করছি যেহেতু ওর কিছু মনে নেই তাই ওকে তুই সব গুছিয়ে দিবি নিয়ে যাবি নিয়ে আসবি।
–মা তুমি পারোও বটে৷
আমান কথাটা বলেই রুম ত্যাগ করে।
এই কথাটা আমাকে খুব কষ্ট দিছে।
কেন এমন করে উনি৷
–মেঘ৷
–জি৷
–চল আয় খেয়ে নিবি তার পর ঔষধ খেয়ে ঘুম কাল তোর প্রথম দিন হবে না ভার্সিটির।
–হুম চলো।
সব তো ঠিক আছে আমার ভয় হচ্ছে এই ছেলেকে দিয়ে বিশ্বাস নেই জদি কিছু করে৷ না না কিছু করলে এবার ফুপিকে বলে দিবো হুহ৷
কিছু হবে না মেঘ এতো চিন্তা নিস না৷
এসব না চিন্তা করেই ঘুমের দেশে গেল মেঘ।
বইটির কথা সে ভুলেই গেছে।


এদিকে,
বইটির অন্য একটা কপি নিয়ে আকাশ বসে আছে।
–তবে কি এই #Black_Rose এর গল্পের মতো আমার মেঘ আমার থেকে দুরে চলে গেল৷ আমি কি সত্যি আর ওকে পাবো না৷ আমি পাবো না সত্যি কি আমান নামের কেউ ওর জীবনে এসেছে।
নাকি ও সত্যি তারা হয়ে গেছে।
না না আমার মেঘ তারা হতে পারে না আমার মেঘ বেঁচে আছে আমার জীবনের শেষ নিশ্বাস থাকা পর্যন্ত আমি আমার মেঘকে খুঁজবো। যেদিন খুঁজে পাবো আমি ওকে বলবো ভালোবাসি।
আকাশ মেঘের একটা ছবি বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে গেল।
মেঘের বাড়িতে,
–আকাশ ভাই এর জন্য চিন্তা হচ্ছে আমি জানি না কেন এতো চিন্তা হয় আমার ওনার জন্য। সত্যি আপুকে উনি অনেক ভালোবাসতেন৷ কিন্তু উনি আপুনিকে ভালোবাসে তা জেনেও কি করে আমার বেহায়া মন ওনার দিকে ছুটে।
হে আল্লাহ আমাকে তুমি ক্ষমা করো।


সকালে,
ঘুম থেকে উঠেই চললাম ফ্রেস হতে।
ফ্রেস হয়ে একটা নীল রং এর থ্রি পিচ পরে রেডি হয়ে নিচে আসলাম৷

নীল গড়ো নীল ফর্সা মানুষ গড়ো রংটা মানিয়েছে ভালো হাতে কালো বেল্ট এর ঘড়ি৷ চুল গুলো সামনে থেকে বাঁধা। হালকা বাতাসে উড়ছে চুল এ যেন কোন পরি৷
আমান মেঘকে দেখে খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে হা করে তাকিয়ে আছে৷
এটা চাঁদনি খানের চোখ এড়ালো না৷
চাঁদনি খান খুদ্র কাশি দিয়ে বলে উঠলেন৷
–কিরে হা করে কি দেখছিস আমার মেয়েটাকে সুন্দর লাগছে তাইনা৷
–শুধু সুন্দর না অসাধারণ যাকে বলে কোন তুলনা নেই৷
–বাবা তুই এতো ভাবা দিলি কবে থেকে।
আমানের যেন হুস এলো,
–ক ই কই ভাবছি মা তুমিও না৷
–গুড মর্নিং ফুপি৷
মেঘ চলে এলো।
–গুত মর্নিং মাই ডেয়ার কি অবস্থা তোর।
–ভালো।
–আচ্ছা বোস খেয়ে নে। তার পর ঔষধ আছে।
–জি।
–আমান আজ ফেরার পথে ডক্টর এর সাথে দেখা করে আসিস। মেঘের বিষয়ে কিছু বলবেন উনি আমাকে একটু বাইরে যেতে হবে ঢাকার তোর ভার্সিটি না থাকলে তোকেই পাঠাতাম৷
–ঠিক আছে (গম্ভীর ভাবে)
খাওয়া শেষে করে সবাই বেরিয়ে পরলাম।
আমি ভাইয়ার পাশে বসে আছি৷ তেমন একটা ভয় লাগছে না কারন এমন কিছুই করেন নি উনি।
মনে হয় ভালো হয়ে গেছে ?

চলবে,