Black Rose Part-05 (Season 03)

0
1429

#Black_Rose?
#Season_03
#The_Dark_king_of_my_kingdom♚
#Lamiya_Rahaman_Meghla
#Part_05

আমান বাসায় এসে আমাকে ঘরে যেতে বলে হন হন করে নিজের রুমে চলে গেলেন৷
দেখেই বুঝা যাচ্ছে প্রচুর রেগে আছেন এই রাগের কারনটা আমার অজানা।
আমি নিচেই দাঁড়িয়ে এগুলা ভাবছিলাম আমার রুমে যেতে গেলে আগে ওনার রুমটা আসে তার পর আমার টা প্রায় পাশাপাশি বলা চলে।
উপরে উঠে ওনার রুম অতিক্রম করবো এমন সময় প্রচুর ভাঙাচুরার শব্দ ভেসে আসছে কানে।
মনে হয় ঘরের মধ্যে উনি ভাঙচুড় করেছে।
আমি ভয়ে ভয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতে দেখি পুরো রুম কাচ ভাঙা টুকরো পরে আছে এর মধ্যে হটাৎ উনি একটা ফুলদানি ছুঁড়ে ফেলতে ওনার হাতে কাঁচের টুকরো ঢুকে রক্ত পরতে আছে একাধারে।
ওনার হাতে রক্ত দেখে নিজেকে সামলাতে পারলাম না৷ দৌঁড়ে গিয়ে হাত ধরে বসলাম৷
–কি করছেন কি এগুলা আপনি৷
–এই মেয়ে তুমি এখানে কেন ঘরে যা-ও ছাড়ো আমাকে৷
–একটা কথা বললে থাপড়ায় তোর ৩২ টা দাঁত ফেলে দিবো আমি চুপচাপ বস।
মেঘের ধমকে আমান এক দম চুপ হয়ে যায়৷
এদিকে মেঘ আমানকে বসিয়ে হাতের রক্ত পরিস্কার করতে শুরু করে।
কেটেছে আমানের কিন্তু ব্যাথা মেঘের হচ্ছে
মেয়েটার মুখ দেখে এমন মনে হচ্ছে৷
–এতো কি হইছে যে এসব ভাঙচুর করতে হচ্ছে হুম কি হইছে টা কি৷
মেঘ নিজে বক বক করছে আর ব্যান্ডেজ করছে।
আমান হা করে মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে।
আমানের সামনে একটা নীলপরি বসে বক বক করছে এই মুহুর্তে আমানের সেটা মনে হচ্ছে।
আমানের হাতে ব্যান্ডেজ করা শেষ হলে আমানকে বসিয়ে মেঘ ঘর পরিস্কার করতে শুরু করে।
সব গুছিয়ে দেয়।
তার পর আমানের দিকে তাকিয়ে দেখে নিজের রুমে চলে আসে।
–আমি ওর ধমকে চুপ হয়ে গেলাম কেন কিছু বললাম না কেন৷ কি হচ্ছে এগুলা আমার সাথে ওকে অন্য কোন ছেলে কিছু বললে আমার কেন রাগ হচ্ছে।
এমন কেন হচ্ছে আমার সাথে।

আমি রুমে এসে ভাবছি আমি কতো সাহসী হয়ে গেছি কেমন একটা ধমকে চুপ করিয়ে দিলাম হা হা৷
কিন্তু উনি এভাবে ভাঙচুর করছিলো কেন ওনার হাত কাটাতে আমার কেন কষ্ট হচ্ছিল কি হচ্ছে এগুলা।
এগুলা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম।

আমানও মেঘের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমের দেশ পাড়ি দিলো।


–কিরে রোজ তুই এখানে।
–আকাশ ভাইয়া আসলে আমার ভালো লাগছিলো না তাই ছাঁদে।
–ওহ৷
–তুমি কখন এলে।
–মাত্র।
–একটা কথা বলবো ভাইয়া।
–হুম বল৷
–এদিকে এসো।
আকাশ রোজের কাছে এগিয়ে গেল।
–কি হইছে।
–দেখ ভাইয়া আপু চলে যাবার পর বাবা অনেক ভেঙে পরেছে কেউ সুখী নেই আমি জানি তুমিও না। এক মাত্র তোমার কথায় মা বাবা শান্ত হয় কিন্তু কিছু দিন পর যখন দেখবে তাদের শান্ত দেওয়া ছেলেটা নিজের অবস্থা বেহাল করে ফেলেছে তখন কি হবে।
–তুই কি বলতে চাস রোজ।
–আমি বলতে চাইছি তুমি আপুর থেকে সরে এসে নিজেকে গুছিয়ে নেও।
–তুই কি পাগল হইছিস।
–পাগল কেন হবো বলো যা হবার তা তো হলো এখন সেটা নিয়ে পরে থাকলে কি আর দুনিয়া চলবে।
–রোজ তোর তো আপু ছিলো তুই এভাবে বলতে পারছিস৷
–তুমি ভুল
–চুপ কর আর একটা কথাও বলিস না তুই মেঘের ছোট বোন তাই মাফ করে দিলাম এর পর এমন কথা যেন না শুনি৷
আকাশ কথা গুলো বলেই চলে এলো।
–তুমি কেন বুঝো না আকাশ ভাই আপুকে হারানোর হাজার বেদনা এক সমান তোমায় ভালোবাসি তোমাকে এভাবে দেখতে পারছি না আমি৷


আমান ঘুমাচ্ছে এমন সময় হটাৎ ফোন বেজে উঠে,
ঘুমের ঘোরে ফোনটা পিক করে,
–হ্যালো।
–আমান তুই ঘুমোচ্ছিস।
–হুম মা কেন।
–তোকে না বলেছিলাম ডক্টর এর সাথে দেখা করতে মেঘের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবে।
এবার আমান শোয়া থেকে উঠে বসে৷
তার মাথায় এক দম এই কথাটা ছিলো না।
–কিরে।
–মা এক্ষুনি যাচ্ছি।
–আর শোন৷
–হ্যা।
–আমি আজ বাসায় আসতে পারবো না মেঘ একা হয়তো ভয় পাবে সন্ধ্যার পর তুই বাসায় থাকবি৷
–হুম ঠিক আছে।
–হুম রাখি।
আমান উঠে ফ্রেস হয়ে বেরিয়ে পরে।
মেঘ এখনো ঘুম।
ডক্টর এর কাছে,
–মি.আমান।
–ড. বলুন কি খবর।
–মেঘের সব রিপোর্ট এখন বর্তমান সময়ের জন্য ভালো। এখন ঔষধের উপর থাকলে সে সুস্থ হবে৷ এক সময় সবটা মনে পরার চান্স আছে। কিন্তু,
–কিন্তু?
–কিন্তু মি.আমান যেদিন মেঘের সব মনে পরবে সেদিন উনি স্মৃতি হারানোর পর কি কি ঘটেছিলো তা সম্পূর্ণ ভাবে ভুলে যাবে।
আপনাদের কাউকে হয়তে মনে থাকবে না।
ডক্টর এর কথা শুনে আমানের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল৷
কি বললো ডক্টর এগুলা৷
তবে যে মেঘের সব মনে পরলে আমান মেঘকে হারিয়ে ফেলবে।
–ড. ওর কি সব মনে পরবে মানে ঔষধ এর উপর চলতে থাকলে।
–দেখুন ওনার মাথায় আঘাত এর কারনে একটা হইছে আবার জদি ওনার কোন এক্সিডেন্ট হয় তাহলে পুনোরায় আঘাতের ফলে মনে পরতে পারে আর এই ঔষধ ঠিক মতো চললে আস্তে আস্তে মনে পরতে পারে৷
–ধন্যবাদ ডক্টর।
আমান বেরিয়ে এলো।
কেন জানি না আজ মেঘকে হারাবার ভয় হচ্ছে।
–তবে কি আমি ওকে ভালোবাসি।
হ্যা এটা ভালোবাসা ছাড়া কিছুই না৷
আমান সবটা ভেবে বাসায় আসে।
নিস্তব্ধতা বিরাজমান পুরো বাড়িতে।
আমানের বুকের বা পাশে কেমন যন্ত্রণা অনুভব হচ্ছে।
এক মিনিট ও নিচে না থেকে উপরে মেঘের রুমে চলে আসে।
ঘুমন্ত মেঘকে দেখে আমার দেহে প্রান আসে৷
বিছনার মাঝে নিজেকে গুটিয়ে শুয়ে আছে মায়াবী।
আমান ধির গতিতে মেঘের কাছে গিয়ে ওর কপালে চুমু আঁকে।
জীবনে প্রথম কোন মেয়েকে সে চুমু দিলো।
কিন্তু এ ভালোবাসা কি হবে স্থায়ী নাকি হবে মরিচিকার মতো কোন ধোঁকা৷
–তুই হারাতে পারিস না মেঘ আমি ভালোবাসি আজ যখন ডক্টর বললো তোর সব মনে পরলে তুই আমাকে ভুলে যাবি তখন বুঝতে পারছি আমি কতোটা ভালোবাসি তোকে৷ হারাতে দিবো না তোকে তার জন্য জদি তোকে সারা জীবন অতিত থেকে লুকিয়ে রাখতে হয় আমি তাই রাখবো।
চলবে,
(বানান ভুল হতে পারে তার জন্য দুঃখিত)