Second marriage পর্ব – ১+২

0
3167

গল্পঃ Second_marriage
পর্ব – ১+২
লেখিকাঃ Ritiva_Jahan_Riti

আমি রিতি।আজ আমার বিয়ে হয়েছে।
বাকি সব নতুন বধুর মত আমিও আমার বাসররাতে বসে আছি।
কিন্তু আজ আমার মনে নেই কোন সংকোচ, নেই কোন সপ্ন আর নেই নতুন সংসার সাজানোর ইচ্ছা…..
কারণ আজ প্রথমবার নয় যে আমি এভাবে নতুন বধু সেজে বসে আছি…..
এর আগেও ছিল এরকম একটি রাত যে কারও জন্য এভাবেই বসে ছিলাম….
আজ হয়ত সব একই রকম শুধু মানুষটি বদলে গেছে…….
হঠাৎ দরজা থেকে কারো আসার আওয়াজ শুনলাম….
সে আর কেও নয় আমার নতুন স্বামী আয়ান….
আমি উঠে সালাম করলাম….
আয়ানঃ সালাম করা লাগবে না…..
বরং আপনি বিছানায় যেয়ে শুয়ে পরুন আমিও সোফায় শুয়ে পরি…..
রিতিঃ না….না….
আপনি বিছানায় ঘুমান আমি সোফায় থাকতে পারব….
আয়ানঃ দেখুন….
আমরা দুজনের কেও ই এ বিয়েটা মানি না…..
দুজনেরই আলাদা আলাদা কারণ আছে বিয়েটি করার…..
কিন্তু আমরা একজন অন্যজনের সম্মান তো করি…..
আর আমি এরকম ব্যক্তি না যে নিয়ে আরামে বিছানায় ঘুমাবে আর কোন মেয়েকে এভাবে সোফায় কষ্ট করে ঘুমোতে দিবে….
আপনি আমার responsibility তাই আপনার খেয়াল রাখা আমার দ্বায়িত্ব……
আর আপনি যদি আমার এতটুকু সম্মান করেন তবে বিছানায় যেয়ে ঘুমিয়ে পরুন….
আমিও মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম…..
আর বিছানায় যেয়ে শুয়ে পরলাম….
এবার বলি আমাদের বিয়েটা কিভাবে হল…
আর আমার আর আমার স্বামীর ব্যাপারেও….
ওহ sorry নতুন স্বামী…..
মিঃ আয়ান চৌধুরী…….
শহরের অনেক বড় একজন ব্যবসায়ী…..
আমাদের বিয়েটা পরিবারের সম্মতিতেই হয়েছে…..
বলতে গেলে পরিবারের জন্যই হয়েছে……
অবশ্য আমাদেরও অসম্মতি ছিল না….
আজ আমরা দুজনে এক পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ কিন্তু এ বন্ধনে কোন মনের জায়গা নেই…..
কারণ আমাদের দুজনের মনেই যে অন্য কারও নাম আগে থেকেই লেখা….
মানে দুইজনের মন ই অন্য কারো মায়ায় জড়িত…… অন্য কারো কাছে আমাদের মন বন্ধক রয়েছে…..
ভাবতেই চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল বয়ে গেল……
বিয়েটা দুজনেই করেছি কিন্তু এ বিয়েতে কোন ভালবাসা নেই…..
শুধু রয়েছে দায়িত্ব……
তা নিয়ে আমাদের বিয়ের আগেই চুক্তি হয়েছিল…..
উনি আমার দ্বায়িত্ব নিবে আর আমি উনার,উনার পরিবারের আর উনার ছেলের…..
হে উনার ছেলে আরিয়ান…..
উনার আর রিয়া আপুর ছেলে…..
রিয়া আপু কে তাই তো ভাবছেন….
আয়ানের প্রথম স্ত্রী…..
তিনি এখন আর এ পৃথিবীতে নেই…..
৩ বছর আগেই ইহকাল থেকে পরকালে প্রস্থান করেছে….
বিয়ের আগে তার ছবি দেখে জানতে পারলাম সে আর আমি একই ভারসিটিতে ছিলাম আর আয়ানও….
তারা আমার সিনিয়ার ছিল….
আয়ানের সাথে কখনও দেখা না হলেও…..
রিয়া আপুর সাথে প্রায়ই দেখা হত….
sorry দেখা বললে ভুল হবে ঝগড়া হত….
উনি আমাকে তেমন একটা দেখতে পারতেন না….
এর কারণ ও আছে আমি অনেক দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম….
আর উনার সব টাইটাল নাকি চুরি করেছিলাম তা উনিই শুধু ভাবতেন অবশ্য……
আজও হয়ত থাকলে আমার সাথে ঝগড়া করতেন…..
উনার স্বামীকে চুরি করেছি বলে অপবাদ ও দিতেন…
কিন্তু উনার স্বামীর উপর তো আমার কোন অধিকার ই নেই কারণ আমি উনাকে নিজের স্বামীই মানতে পারিনি….
বিয়েটা করেছি শুধু পরিবারের জন্যে আর আরিয়ানের জন্যে….
আরিয়ান এখন ৯ বছরের।
ক্লাস ২ এ পরে…..
দেখতে একদম তার বাবার মতো….
যেমন সুন্দর তেমনই মায়াবি দেখতে….
বিশেষ করে তার চোখ দুটি…..
আয়ানের ভাবি থেকে শুনেছি আয়ানের চোখে নাকি অনেক মায়া কিন্তু কখনোই তাকাই নি কারণ এখণ আর কারো মায়ায় পরতে চাই না….
এক বার পরে অনেক কেদেছি আর কাদার ইচ্ছা নেই আর না কষ্ট সহ্য করার হ্মমতা আছে…..
থাক এসব বাদ দিয়ে এখন ঘুমিয়ে পরি…..
ঘুম থেকে উঠলাম সকালের আলো যখন চোখে এসে পরল…..
উঠে দেখি আয়ান এখনও ঘুমোচ্ছে….
কিন্তু জানালা থেকে আসা আলো তার ঘুমে বিঘাত দিচ্ছে….
তাই পর্দা বন্ধ করে shower নিয়ে আসলাম…..
এসে রেডি হয়ে বাইরে চলে আসলাম….
এসে দেখি আমার শাশুড়ি মা আর ভাবি আগে থেকেই উঠেছে…..
মাঃ আরে বউমা তুমি এত সকালে কেন…..
রিতিঃ আসলে মা ঘুম ভেংগে গিয়েছিল তাই…..
ভাবিঃ তা ঠিক আছে কিন্তু আমাদের নতুন বউ না কোন সাজ না কোন গয়না….
যাও পরে আসো….
রিতিঃ ভাবি আসলে আমার সাজা পছন্দ না…..
ভাবিঃ জানি তাই ই তো গতকাল নিজের বিয়েতেও সাজো নি…..
মাঃ বিয়েটা কি তেমন ভাবে হইছে নাকি….
তোর দেবরের জন্য কিছুই করতে পারলাম না…..
ভাবিঃ থাক মা বাদ দেন….
মাঃ হম আর আমাদের নতুন বউ তো এমনিতেই চাঁদের টুকরা…
ওর সাজা গুজা লাগবে না….
ভাবিঃ আমি বুঝি সুন্দর না….(মুখ গোমড়া করে)
মাঃ তুই ও খুবই সুন্দর….
ইশিকা(আয়ানের ছোট বোন)ঃকিন্তু মা জানো আমি ছেলে হলে ঠিকই আমার দুই ভাবির প্রেমে পরতাম….( পিছন থেকে এসে মাকে জরিয়ে ধরে বলল)
ভাবিঃ বল তোর ছোট ভাবির প্রেমে পরতি…
অবশ্য আমিও পরতাম আমার জালটা এতই সুন্দর…
সবাই হাসাহাসি করতিসে…..
রিতিঃ মা আমি আপনাদের জন্য চা বানিয়ে আনি…..
মাঃ আরে না তুই বস আমরা সব করব….
রিতিঃ মা আমার ভালো লাগে না এমনি বসে থাকলে……
মাঃ কিন্তু…..
রিতিঃ please ma…..
ভাবিঃ আচ্ছা তাহলে আমি help করি….
আর সাথে অনেক গল্প ও করবো কেমন…
রিতিঃআচ্ছা….
রিতি চা বানালো আর ইশিকা ও ভাবির সাথে গল্প করল…
আসলে গল্প করছিল না শুধু শুনছিল…..
চা বানানো শেষে নিয়ে আসে…
এসে দেখে মা,বাবা আর আয়ানের ভাইয়া(আমান) বসে আছে…
বসে বসে গল্প করছে……
আয়রা সবাইকে চা দিল…..
বাবাঃ বাহ….
অনেক মজা হইসে….
তোমার মার চায়ের থেকেও মজা হইসে….
আমানঃ হ্যাঁ অনেক অনেক ভালো হইসে….
নিধিকেও(আয়ানের ভাবি) একটু চা বানানো শিখিয়ে দিয়….
কি বানায় taste ই বুঝি না….
নিধিঃকি…
এত বড় কথা….
কাল থেকে ৭ দিন তোমার চা বন্ধ…
আমানঃ না না….
আমিতো দুষ্টুমি করে বলছি….
তুমি তো জানো আমি চা ছাড়া থাকতে পারি না….
নিধিঃ
আমানঃ আম্মু…..
মাঃআমি তোদের মধ্যে আর কি বলবো….
আমানঃ
মাঃ রিতি মা তুই একটু আয়ানের জন্য চা নিয়ে যা….
রিতিঃ জ্বি মা…..
রিতি যেয়ে দেখে আয়ান রুমে নেই….
সে খাটের পাশের ছোট্ট ওয়াড ড্রপের উপর চায়ের কাপটি রাখে যেতে নেওয়ার জন্য পিছনে ফিরে দেখে আয়ান একটি তোয়ালা পরে বাথরুম থেকে বের হচ্ছে আর নিচের দিকে তাকিয়ে মাথা তোয়ালা দিয়ে মুছছে….
রিতি আয়ানকে দেখেই চোখ বন্ধ করে ফেলে…..
আয়ান তোয়ালাটি সোফার উপর ফেলে উপরে তাকিয়ে রিতিকে দেখে অবাক হয়ে যায় ….
রিতিঃ sorry….
আসলে আমি যানতাম না যে আপনি বাথরুমে…. (চোখ বন্ধ করে)
সাথে সাথে দৌড় দিতে নেয় চোখ বন্ধ থাকায় কিছু দেখে না তাই খাটের কোণার সাথে পা লেগে পরে যেতে নেই আয়ান তাকে ধরতে যেয়ে দুজনেই খাটের উপর পরে যায়…..
আয়ান চোখ রিতির চোখে পরে……
চলবে…..
(বিঃদ্রঃ দয়া করে ভুল ত্রুটি হ্মমা করবেন। আশা করি বাকি গল্পের মত এ গল্পটিও আপনাদের ভালো লাগবে )
#Second_marriage
#part_2
#writer_ritiva_jahan_riti
সাথে সাথে দৌড় দিতে নেয় চোখ বন্ধ থাকায় কিছু দেখে না তাই খাটের কোণার সাথে পা লেগে পরে যেতে নেই আয়ান তাকে ধরতে যেয়ে দুজনেই খাটের উপর পরে যায়…..
আয়ান চোখ রিতির চোখে পরে……
আর রিতি চোখ সরিয়ে অন্য দিকে তাকায়….
রিতিঃ আপনি যদি একটু উঠতেন….
আয়ান রিতির কথায় কিছুটা লজ্জা পায়…
আর রিতির উপর থেকে ওঠে যায়….
রিতি এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়….
রিতি-
রুম থেকে সোজা কিচেনে আসলাম।
রুম থেকে দৌড়ে বের হওয়ার কারণে ছাপিয়ে উঠেছি….
আমায় দেখে ভাবি আর ইশিকা মিটিমিটি হাসছে….
কিছু বুঝে উঠতে পারলাম না….
ইশিকাঃ sorry ভাবি….
রিতিঃ sorry কেন….
ইশিকাঃ আসলে আমি ভাইয়ার কাছে কাজে গিয়েছিলাম তখন দেখি…..
আসলে আমার দেখার কোন মতলব ছিল না কিন্তু চোখে পরে গেল….(মিটমিট করে হেসে)
বুঝতে বাকি রইল না তারা কি জন্য হাসছে।
অনেকটা লজ্জা পেলাম।
কথা ঘুরানোর জন্য জিজ্ঞাসা করলাম….
রিতিঃ ভাবি আরিয়ান আর নিশান উঠেছে….
ভাবিঃ না তারা এখনও ঘুমুচ্ছে….
রিতিঃ ভাবি আমি ভাবছিলাম ওরা উঠলে ওদের পছন্দের কিছু বানিয়ে দি….
আজ আমার প্রথম দিন তো তাই…
ভাবিঃ ভালোই ভেবেছো….
ওদের দুজনের ই chocolate milkshake খুব পছন্দ।
রিতি ঃ আচ্ছা ভাবি thank you….
হঠাৎ মা কিচেনে এসে বলে….
মাঃ রিতি মা এলাকার কিছু মহিলা আসছে নতুন বউ দেখার জন্য….
মা মাথায় ঘোমটা দিয়ে আমার সাথে আসো….
রিতিঃজ্বী মা…..
ইশিকাঃমা আমিও আসি….
মাঃ তুই নাস্তা বানাতে তোর বড় ভাবির help কর….
শুধু রিতি গেলেই হবে….
ইশিকাঃআচ্ছা….
মা সবার সামনে আমায় নিয়ে গেল…..
সবার মন্তব্য….
-বাহ মেয়ে তো চাঁদের টুকরো….
তাই বলি ডিভোর্সি মেয়েকে কেন বিয়ে করালেন….
-হ্যাঁ তা ঠিক কিন্তু আয়ান যে প্রতিষ্ঠিত আর handsome ওর জন্য অবিবাহিত কোন মেয়েকেও তো পেতেন….
-ডিভোর্সি মেয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন তো ভালো করে…..
মাঃ দেখুন আমাদের নতুন বউ দেখতে আসছে তা দেখে চলে যান এমন কোন কথা বলবেন না দয়া করে…..
মা তাদের থামতে বলল তা দেখে খুব খুশি লাগল। কারণ সবাই আশে পাশের মানুষের কথা শুনেই একটি পরিবার ভেংগে দেয়….
কারণ আমার প্রথম বিয়ে ভাংগার অন্যতম কারণ ছিল এটাই….
মা থামালেও কেও তার কথা শুনছে না সবাই কিছু না কিছু বলেই যাচ্ছে…..
গত ৩ টি বছর ধরে একই খোটা শুনতে শুনতেও অভ্যাস হয়নি….
আজও শুনলে মনে খুব কষ্ট হয়….
কিন্তু চোখের পানিকে আটকে রাখতে হয়…..
অন্য কিছুজন বলল…..
-আপনি আমায় বলতেন আয়ানের জন্য মেয়ের লাইন দ্বারা করাতাম…..
– মেয়ে শুধ ডিভোর্সি হলে বুঝতাম কিন্তু মেয়ে তো…..
কিছু বলার আগেই আয়ান এসে তাকে থামিয়ে বলল…..
আয়ানঃ আপনাদের আমার চিন্তা করার তো এত দরকার নেই….
আর আপনারা যে রিতিকে এসব বলছেন চিন্তা করে দেখুন এসব আপনাদের বা আপনাদের সন্তানদের কেও বললে আপনাদের কাছে কেমন লাগবে….
আর হে এসব ভাগ্যের খেলা তাই আপনারা ভাগ্যকে নিয়ে পরিহাস না করে নিজের সংসারে খেয়াল দেন আল্লাহ ই যানে আপনাদের ভাগ্য কখন আপনাদের সাথে খেলা খেলে বসে….
সবাই কিছু না বলেই চলে গেল….
আমি আয়ানের দিকে তাকালাম সে আমার দিকে একটা মুচকি হাসি দিল…..
উনার হাসিটা এই প্রথম খেয়াল করলাম খুব সুন্দর…..
ভাবি আজ উনি যেভাবে আমার সম্মান রহ্মা করলেন তেমনি যদি ৩ বছর আগে অন্য কেও রহ্মা করতো তাহলে হয়তো আমাদের জীবন টা আলাদা থাকতো….
আয়ানঃ মা আমি অফিসে গেলাম….
মাঃ সে কি কাল তো তোর বিয়ে হল আর আজ অফিসে যাবি…(ভ্রু কুচকে)
আয়ানঃ মা আমার জন্য কাজ অনেক important তুমি তো জানোই….
মাঃ কি এরকম important কাজ….
তোর ভাই তো গেল না আর তুই…
এই কই যাচ্ছিস…
শুন….
**নতুন নতুন রোমান্টিক গল্প পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ: “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা”**
আয়ান মার কথা না শুনেই চলে গেল….
আমি কিচেনে যেয়ে ভাবির কাছ থেকে জানতে পাই নিশান আর আরিয়ান উঠে গেছে….
তাই ওদের জন্য নাস্তা আর milkshake নিয়ে গেলাম….
নিশান আর আরিয়ান একসাথেই খেলছিল…..
আমি যাওয়ায় সাথে সাথে নিশান দরজায় এসে আমায় জরায় ধরল….
নিশানঃচাচী কেমন আছো….
জানো কাল আমি তোমার সাথে দেখা করতে চেয়েছি কিন্তু মা দেয় নি….
চাচীঃ আচ্ছা কেন দেখা করতে চেয়েছিলে….
নিশানঃএমনি তুমি দেখতে খুব সুন্দর তো তাই….
ওর কথা শুনে না হেসে পারলাম না….
রিতিঃএই নাও তোমার আর আরিয়ানের জন্যে নাস্তা এনেছি….
নিশানঃ আমারটা দেও আমি টিভি দেখতে দেখতে খাবো….
আর আরিয়ান পড়া ছাড়া কিছু করতে পারে না তাই তুমি ওকে এখানেই দেও….
নিশান ওর নাস্তা নিয়ে চলে গেল আর আমি আরিয়ানের কাছে গেলাম….
রিতিঃ নেও বাবা তোমার নাস্তা….
আরিয়ান খাবার নিল….
আরিয়ানঃ আপনি এখন যান আমি খাবার খেয়ে নিব….
রিতিঃআমার সমস্যা নেই তুমি খাও….
আরিয়ানঃআসলে আমার কারো সামনে খেতে লজ্জা লাগে…..
রিতিঃওহ আচ্ছা তাইলে আমি যাই….
রাতে….
আমি বারিন্দায় দাড়িয়ে ছিলাম তখন আয়ানের আওয়াজ শুনে বাইরে আসলাম…..
আয়ানঃ এসব এর মানে কি…..
রিতিঃজ্বী…..(অবাক হয়ে)
আয়ানঃ কিছু বুঝ না তাই না….
লজ্জা করে না এত ছোট বাচ্চার সাথে এরকম করে……
রিতিঃ জ্বী আমি কিছু বুঝছি না….
আয়ানঃ তুমি সারাদিন আমার ছেলেকে খাবার দেও নি….
রিতিঃমানে…. (অবাক হয়ে)
আয়ানঃ সকালে,দুপুরে আর রাতের সবার সামনে খাবার নিয়ে গেছো ওর জন্যে বলে আর সব খাবার ডাসবিনে ফেলে দিসো….
আর মিথ্যা বলবা না আমি অফিস থেকে এসে সোজা আরিয়ানের রুমে যেয়ে ওকে খাবারের কথা জিজ্ঞাসা করলে ও বলল খেয়েছে…
তারপর দেখি সব খাবার ডাসবিনে তারপর ওকে অনেক জিজ্ঞাসা করার পর বলে দেয় দেয় এসব তুমি করেছো….
আরে দায়িত্ব না নিতে পারলে এত নাটকের দরকার কি…..
রিতিঃকিন্তু….(কিছু বলতে যাবে তখন দরজার পাশে দেখে আরিয়ান দারানো এক অদ্ভুত হাসি নিয়ে আর কিছু বলতে পারলাম না)
আয়ানঃ কিছু বলার নেই তোমার…
রিতিঃ না….(মাথা নিচু করে)
আয়ানঃ Disgusting…..
আয়ান বাইরে চলে গেল আর রিতি বিছানায় যেয়ে শুয়ে পরল……আর নিজের অজান্তেই চোখের থেকে দুই ফোঁটা নোনা জল বয়ে গেল….
আজ আমাদের বিয়ের ১২ দিন হয়ে গেল….
এ বাসায় সবাই খুব ভালো অতি কম সময়ে আমায় আপন করে নিয়েছে শুধু আয়ান আর আরিয়ান ছাড়া…
এ ১২ টি দিনের মধ্যে প্রায় ৭ দিন ই আয়ান বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে খুব কথা শুনায় আরিয়ানকে নিয়ে আর আমি চুপটি করে সব কথা শুনি….
আর আরিয়ান দরজার পাশে লুকিয়ে সে হাসি দেয়….
কেন যানি আমার আরিয়ানের সে হাসিটি খুব ভালো লাগে….
ওকে দেখলে খুব মায়া হয়…..
আজও ভিন্ন কিছু হল না….
আমি বিছানায় বসে ছিলাম আয়ান এসে একটান দিয়ে দাড় করিয়ে গালে থাপ্পড় দেয়….
আমি অবাক হয়ে আয়ানের দিকে তাকিয়ে রইলাম….
আয়ানঃ কি দেখছো হে….
আমার ছেলের গায়ে তুমি হাত তুললা কোন সাহসে….
আমি জানতাম নারীর মন খুব কোমল হয়…
কিন্তু তুমি…..ছিঃ….
এই ছোট্ট ছেলেটির গায়ে হাত তুলতে তোমার একটু ও দয়া হয় নি….
তোমার কি মন না পাথর….
আল্লাহ হয়ত এজন্যই তোমাকে মা হবার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখছে….
তোমার মধ্যে মমতা নেই বলে আজ হয়তো তোমায় গর্ভে সন্তান ধারনের হ্মমতাও নেই…..
আয়ান কথা গুলো বলে চলে গেলেন….
আমি তার কথা শুনে নিচে ধপ করে বসে পরলাম…..
আজ জানো আমার নিজের চোখ দুটি পর পর লাগছে….
আমার হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও চোখে জল আমার অমান্যে বয়েই যাচ্ছে……
আজও আমায় এ কটু কথাটি শুনতে হল যা শুনলে বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে ওঠে…..
খুবই কষ্ট লাগে…..
মনে হয় এ কথা থেকে ভালো কেও যদি আমার জীবন নিয়ে নিত তবেই শান্তি পেতাম….
কিন্তু না এখনও বেঁচে আছি….
ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও…..
কিন্তু কিছুই নেয় এই জীবনে….
না এক মা হওয়ার সুখ আর না বউ….
হে আমি মা হওয়ার অযোগ্য তাকে কি আমার দোষ….
আমার কপালে কি মা হওয়ার সুখ আসলেই নেই…..
ভেবেই চোখের ধারা আরো জোরে বইতে লাগল….
কান্না করতে করতে করতে কখন যে চোখ দুটি বন্ধ হয়ে আসল বুঝলাম না….
আয়ান-
রুমে এসে দেখি ও নিচে ঘুমিয়ে আছে….
দেখেই বুঝা যাচ্ছে খুব কান্না করেছে….
কিন্তু ও যা করেছে তাও তো ভুল….
একবার চলে যেতে নিলাম পরে ভাবলাম ফ্লোরে ঘুমোলে যদি জ্বর আসে…
তাই কোলে উঠিয়ে বিছানায় শুয়িয়ে দিলা….
হঠাৎ ওর গালের উপর নজর পরে….
আংগুলের দাগ পরে গেছে….
কত জোরে মেরেছি…
নিজের উপরই রাগ উঠছে….
মলম এনে ওর পাশে বসে ওর গালে লাগাতে নিলাম দেখি ওর চুল মুখের উপর অগুছালো হয়ে আছে…..
মলম দিতে হবে তাই চুল গুলো আলতো করে সরিয়ে দিলাম….
ও ঘুমেই কিছুটা কেঁপে ওঠলো….
মলম লাগাচ্ছি এ সময় রিতি ঘুমের ঘোরে আমার শার্ট আকঁড়ে ধরে ফেলে….
আমি ছাড়াতে গেলে ও আমায় আরো কাছে টেনে নেয়…..
আমি এখন ওর মুখের অনেক কাছাকাছি…
আজ প্রথম ওকে এত কাছের থেকে দেখলাম….
ওর চেহেরায় হয়ত পৃথিবীর সব মায়া একত্রিত করা….
কিন্তু মন…
মনে মায়া নেই কেন…
ওর চেহেরা দেখে কেও বলতেই পারবে না যে আজ ও এত জঘন্য একটি কাজ করেছে….
ওর চেহেরার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম….
মানুষ এতো সুন্দর কিভাবে হয়,
এখন ঘুমানোর সময় বাচ্চা বাচ্চা লাগছে…..
হয়ত সারাটি জীবন দেখলেও মন ভরবে না এরকম চেহেরা নিয়ে জন্মেছে….
ওর দিকে অপলক ভাবে তাকিয়ে আছি
যেনো হারিয়ে গেছি অন্য কোনো রাজ্যে….
আমার ঘোর তখন ভাংলো যখন রিতি ঘুমের তালেই বলল…..
রিতিঃ রাফি…….
চলবে…..