Second_marriage পর্ব – ৯+১০

0
2059

গল্পঃ Second_marriage
পর্ব – ৯+১০
লেখিকাঃ #Ritiva_Jahan_Riti
ওর ঘাড়ে মুখটি আবার নিয়ে আলতো করে একটা চুমু দিলাম…
চুমু দিতেই ও কেঁপে ওঠল….
ওর ঘাড়ে আরও চুমু দিতে লাগলাম
প্রতিটি চুমুতেই ও কেঁপে উঠছিল…
ওর নিশ্বাস ভারি হয়ে আসছিল…
যা আমাকে আরো পাগল করে দিচ্ছিল…
ওর ঘাড়ে আর বেশি নিজের ঠোঁটের ছোয়া লাগিয়ে দিতে লাগলাম…
ও পিছনে ফিরেই আমায় জরিয়ে ধরল…..
আমার তো খুশির ঠিকানাই নেই আজ প্রথমবার আমার ময়ূরী নিজের থেকে আমায় জরিয়ে ধরেছে…..
আজ সব সুখ যেন আমার বুকে এসে জরিয়েছে…
আমি ও রিতিকে জরিয়ে ধরতে যাবো তখনই রিতির মুখ থেকে সে একটি শব্দ শুনে থেমে গেলাম….
সব সুখ যেন নিমিষেই কষ্টের রুপ নিয়ে নিলো…….
রিতি কি বলল তাই তো…..
রিতি আমায় জরিয়েই বললঃ
রিতিঃ রাফি……
এই একটি শব্দ আগেও শুনেছি কিন্তু এতো ব্যাথা হয় নি আজ খুব কষ্ট লাগছে এ একটি নাম শুনে….
আমি রিতিকে না জরিয়ে রয়েছি….
আর রিতি আমাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে রেখেছে….
কিন্তু তাও ও আমকে জরায় নি,
নিজের কাছে এতো কাছে টেনেও আরও দূরে সরিয়ে দিয়েছে….
আয়ানঃ আমি রাফি না আয়ান….
রিতি মাথা তুলে তাকায় সাথে সাথে আয়ানকে ছেড়ে দেয়….
একবার আয়ানের দিকে তাকায়।
তারপর অন্যদিকে তাকিয়ে নিচে তাকায়…
তারপর দৌড়ে সেখান থেকে চলে যায়….
আয়ান পাথর হয়ে সেখানে দাড়িয়ে থাকে…
সে কি করবে না করবে বুঝতে পারছে না…..
মুহূর্তেই তার দুনিয়া পালটে গেল……
আজ রিতিকে এত কাছে পেয়েও আরো দূরে চলে গেল সে…..
অন্যদিকে রিতি-
কি করলাম এটা……
কি হল এটা এখনও বুঝে ওঠতে পারছিনা…..
আজ যানো আমি নিজের হুস হারিয়ে ফেলেছি…..
আজ আবার আয়ানকে কষ্ট দিলাম……
মানুষটি আমার জন্য কত কষ্ট পেল….
আর কত কষ্ট পেতে হবে তার….
নিজের উপরি আজ এত পরিমাণ জিদ উঠছে….
রাফি….
ওর নামটা কেন নিলাম….
কিন্তু উনি আজ আমার এতো কাছে এসেছে…….
রাফির নামটা ভুলে চলে আসল….
রাফি ছাড়া অন্য কোন ছেলে আমার এত কাছে আসে নি হয়ত তাই….
আজ দ্বিতীয়বার আয়ান আমার এতটা কাছে ছিল….
কিন্তু ও আমার যত কাছে আসে ও আমায় ততটা রাফির কথা মনে করিয়ে দেয়…..
আমার প্রথম ভালবাসা ভুলাটা তো এত সহজ না…..
তাই না….
কিন্তু আয়ান,
আয়ান তো আমাকে এতো ভালবাসে ওকে কষ্ট কিভাবে দি….
এতো ভালো মানুষ,
আমার এত care করে,
এত ভালবাসে…
১১ টি বছর সে নিজের ভালবাসা বুঝে অন্যকে ভালবেসে এসেছে….
ওনাকে কষ্ট দিলে যে নিজেরো কষ্ট লাগে…..
কালকে ওনাকে চেষ্টা করব বলে আজ আবার কষ্ট দিলাম,
না ঠিক করি নি…
যাই যেয়ে ওনাকে sorry বলি….
রুমে যেয়ে দেখি ওনি নেই….
ড্রাইনিং রুমে দেখি মা আর ভাবি কথা বছে তাদের জিজ্ঞাসা করি….
রিতিঃমা আয়ান কোথায়…..
মাঃ কেন মা ও তো অফিসে গেছে….
কোন important meeting চলে আসছে তাই….
বলে গেল ওর দেরি হবে আসতে….
তোমাকে বলে নি…..
নিধিঃ রিতি কাল রাত না সব ঠিক হয়েছিল আজ কি আবার কিছু হয়েছে….
রিতিঃ না ভাবি….(মিথ্যা বললাম না হয় সবাই tansion করবে)
নিধিঃ তাহলে আয়ান আমাদের বলে গেল অথচ তুমি যানো না কেন…..
রিতিঃ ওই… আসলে ভাবি….
আসলে আমি ছাদে ছিলাম হয়তো আয়ান আমাকে খুঁজেছিল কিন্তু পায় নি….
নিধিঃ ওহ…আচ্ছা….
রুমে চলে আসলাম…
এসেই আয়ানকে ফোন দিলাম….
ফোন ধরলো না….
৫ বার আরো দিলাম ধরল না….
এর পরেরবার ফোন কেটে গেল….
খুব অসস্থি লাগছে…..
এর থেকে বেশি মনের ভিতর একটি ভয় কাজ করছে…..
কি করব না করব বুঝতে পারছিনা….
রাত ২ টা বেজে গেল এখন ও আসছে না…..
সবাই ঘুমিয়ে গেছে….
আমি বারিন্দায় দাঁড়িয়ে উনার জন্য অপেক্ষা করছি….
কত ফোন করেছি তার হিসাব নেই…..
ভয়ে মনে হচ্ছে জানটা বের হয়ে যাবে….
সকালের ঘটনার পর কিছু করে নি তো….
ভেবেই বুকের ভিতরটাতে মোচড় দিয়ে ওঠল…..
চোখ দিয়ে পানির বন্যা বইতে লাগলো….
তখনই দেখলাম ওনার গাড়ি বাসার সামনে এসে দাড়ালো….
দৌড় দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে উনার গাড়ির সামনে দাড়ালাম….
কিন্তু উনার গাড়ি থেকে সাব্বির ভাইয়া (আয়ানের বেস্ট ফ্রেন্ড) উনি বের হলেন….
রিতিঃ ভাইয়া আয়ান কোথায়….
সাব্বিরঃ ভাবি আপনার আর আয়ানের মধ্যে কি কিছু হয়েছে…..(ভ্রু কুঁচকে)
রিতি কিছু না বলে মাথা নিচু করে রাখে….
সাব্বিরঃ বুঝেছি…..
রিতিঃ উনি কোথায়….
সাব্বিরঃ গাড়িতে….
Drunk তাই আমি নিয়ে আসলাম….
রিতিঃ মানে…(অবাক হয়ে)
সাব্বিরঃ আজ প্রথম আয়ান drink করেছে…..
আমি ওকে আগে এরকম কখনোই দেখি নি আজ প্রথম…..
ভাবি আয়ান আপনাকে অনেক ভালবাসে আমি কাল রিয়ার আর মিনার কথা জানলাম….
ভাবি সে ১৭ বছর ধরে আমাদের ফ্রেন্ডশিপ….
কিন্তু আমি আমানকে কখনও এভাবে দেখি নি….
আপনার হয়ত ওর ভালবাসার উপর বিশ্বাস নেই কিন্তু আমি দেখেছি….
ও আপনার চিঠি একটি পেলে খুশিতে পাগল হয়ে যেত….
যে তিনদিন আপনার চিঠি পায় নি সে তিনটি দিন পাগলের মতো হয়েগেছিল….
কি করছে না করছে নিজেই যানতো না….
ভাবি ভাগ্যই আপনাদের মিলিয়েছে নাহলে একবার চিন্তা করেন ১১ বছর আগে আলাদা হওয়ার সত্ত্বেও আজ আপনারা জীবন সংগী কিভাবে হলেন…..
যদি আয়ানের ভালবাসার গভীরত্ব এত না হত তবে আজ হয়ত আপনাকে ফিরে পেত না….
ভাবি রিয়া একবার এসে আপনার ভাগ্য চুরি করেছিল….
নাহলে আয়ান কখনোই আপনাকে নিজের থেকে দূরে যেতে দিত না….
কিন্তু আপনি তখন চাইলে কিন্তু আয়ানকে খুঁজে পেতেন তাই না….
রিতি কিছু না বলে মাথা নিচু করে রাখল…..
কি বলবে সে যা সত্যি সাব্বির তাই তো বলছে….
ভাবি একবার আপনি আয়ানকে হারিয়ে জীবনের অনেক বড় ভুল করেছেন….
আপনাকে অনুরোধ করছি আবার ভুলটি করেন না…..
আয়ানকে একবার ভালবেসে দেখুন পৃথিবীর সব সুখ আপনার পায়ের কাছে এনে দিবে….
আপনার জীবন ভালবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিবে….
আমি যানি আপনার সাথে আগে কি হয়েছে….
কিন্তু এর মানে তো এই না যে সবাই এক তাই না…..
আমি লিখে দিতে পারবো আয়ান কখনোই আপনার বিশ্বাস ভাংবে না….
এটি বিনা দ্বিধায় আমার পক্ষে বলা সম্ভব…..
রিতি এখনও চুপ করে আছে…..
সাব্বির আচ্ছা ভাবি চলেন ওকে রুমে দিয়ে আসি….
আর কাওকে ওর এ অবস্থার কথা বলেন না….
নাহলে সবাই অনেক চিন্তা করবে….
রিতি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল….
সাব্বির আয়ানকে গাড়ি থেকে বের করে কাধে হাত দিয়ে সামলিয়ে রুমে নিয়ে যায়…..
নিয়ে বিছানায় শুয়িয়ে দেয়…..
রিতি দেখে আয়ানের ডান হাতে ব্যান্ডিস…..
রিতিঃ উনার হাতে কি হয়েছে…..(সাব্
বিরকে উদ্দেশ্য করে)
সাব্বিরঃ কালরাত আপনাকে থাপ্পড় মেরেছিল তার শাস্তি দিয়েছে নিজেকে….
রিতিঃমানে….
কিভাবে……(চোখ থেকে হঠাৎ জল পরে গেল)
সাব্বিরঃ ড্রিঙ্ক করতে করতে গ্লাসটা হাত চাপ দিয়ে ধরে ভেংগে ফেলে ফলে সব কাঁচ ওর হাতে ডুকে যায়….
ব্যান্ডিস করার কথায় বলে…
যে আপনাকে এ হাত দিয়ে থাপ্পড় দিয়েছে তাই তাকে কষ্ট পেতে হবে…
হাজার বলাতেও মানাতে পারি নি…
অজ্ঞান হওয়ার পর ডাক্তারের কাছে যেয়ে ব্যান্ডিস করিয়ে দিলাম….
রিতি সাব্বিরের কথা শুলে আয়ানের দিকে অবাক হয়ে তাকালে।…..
সাব্বিরঃ ভাবি ওকে নিয়ে আসাতে আমি আমার গাড়ি রেখে এসেছি গাড়িটা নিয়ে যাচ্ছি….
রিতিঃ ok vaiya….
সাব্বিরঃ আর ভাবি যা বললাম তা একটু ভেবে দেখেন…..
রিতিঃ জ্বি ভাইয়া…..
রিতি সাব্বির চলে গেলে দরজা লাগিয়ে লেবুর শরবত নিয়ে রুমে আসে….
আয়ানকে অনেক কষ্টে হাল্কা উঠিয়ে পানির ছিটা দিয়ে জ্ঞান ফিরায় আর লেবুর শরবত খাওয়ার যাতে hangover কমে….
খাওয়ানো শেষে যেতে নেয় তখনই আয়ান রিতির হাত ধরে ফেলে….
রিতি গ্লাসটা রেখে আয়ানের পাশে বসে….
আয়ান রিতির একটি হাত নিজের দুটি হাতের মধ্যে আবদ্ধ করে…..
আয়ানঃ তুমি আমায় আবার ছেড়ে চলে যাচ্ছো….
আয়ান যে নেশার ঘোড়ে কথা গুলো বলছে তা রিতি ভালো মতোই বুঝছে….
রিতিঃ না আমি কোথাও যাব না….
আপনি ঘুমান….(মুচকি হাসি দিয়ে)
আয়ান রিতির বামগালে একটি চুমু দিল গতরাতে যেখানে থাপ্পড় দিয়েছিল….
রিতি হঠাৎ এভাবে কিস করায় অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো….
আয়ান বাচ্চাদের মত একটি হাসি দিল…
আয়ানঃ ময়ুরি….
ওগো ময়ূরী…..
যানো তুমাকে আমি এত্তগুলা ভালবাসি….(হাত ছেড়ে দুইহাত দুই দিকে মেলিয়ে)
আয়ানের এসব বাচ্চামি দেখে রিতির যেমন হাসি পাচ্ছে তেমন ভালোও লাগছে…..
রিতিঃ সত্যি…..
আয়ানঃ এক সত্যি,
দুই সত্যি,
তিন সত্যি….
হি…হি…
কিন্তু…(চোখে হঠাৎ পানি এসে)
রিতিঃ কিন্তু কি….
আয়ানঃ তুমি আমাকে ভালবাস না কেন….
যানো আমার খুব কষ্ট হয়…..
বুকটা খুব ব্যাথা করে….
তুমি আজ যখন রাফির নামটা নিলে আমার জানো জানটা বের হয়ে আসছিল….
তুমি তো এখন আমার বউ তাই না আমাকে ভালবাস না….
রিতি কি বলবে বুঝতে পারছে না….
আয়ানের চোখে পানি টলমল করছে….
রিতি আয়ানের চোখে না তাকাতে চেয়েও তাকালো….
তাকাতে চায় নি কারণ আয়ানের চোখের মায়ায় ডুবে যায় প্রতিবারই….
আজ ও ব্যতিক্রম কিছু হয় নি….
আয়ানের চোখে তাকাতেই সে আয়ানের চোখের মায়ার সমুদ্রে ভাসতে থাকে….
আয়ানের চোখ যে আজ রিতির জন্য তার ভালবাসার সাক্ষী…..
আয়ানের চোখে দেখলেই বুঝা যায় আয়ান তাকে কতটা ভালবাসে….
রিতি কিছু না ভেবে খাটেই এক হাঁটু একটু উঁচু করে পুরো না হালকা হাঁটুর উপর ভর দিয়ে উঠে আয়ানের কপালের সামনের চুলগুলো হাত দিয়ে পিছনে নিয়ে আয়ানের কপালে একটি চুমু এঁকে দিল….
আয়ানের মুখে হাসি ফুটে উঠলো….
রিতি কপাল থেকে হাত গালে নিয়ে বলল….
রিতিঃ আপনি ঘুমিয়ে যান কেমন… (হাসি দিয়ে যেতে নেয়)
আয়ান তখনই রিতির হাত একটান দিয়ে বিছানায় শুয়ায় দেয়….
নিজেও শুয়ে রিতিকে নিজের বুকে টেনে নেয় আর শক্ত করে জরিয়ে নেয়….
আয়ানঃ এখানে ঘুমাও….
রিতিঃ কিন্তু….
আয়ানঃ না এখানেই ঘুমাবে….
আয়ান কিছুক্ষণ বাচ্চাদের মত জিদ করায় রিতি আর কিছু বলতে পারল না….
এছাড়া নিজেরো অনেক ভাল লাগছিল….
আয়ানের বুকের মাঝে খুব শান্তি পাচ্ছে সে….
রিতিঃআচ্ছা এখন ঘুমাও….
আয়ানঃ ঘুমালে তো তুমি চলে যাবা….(অনেকটা বাচ্চাদের মত বলল)
রিতিঃ একটু হাসি দিয়ে….
আমি কোথাও যাবো না….
আয়ানঃসত্তি….
রিতিঃ ৩ সত্যি…..
আয়ান আলতো করে রিতির মাথায় চুমু দিল তারপর চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পরল…..
রিতি আয়ানের দিকে অপলক দেখছে আর ভাবছে….
আসলে আয়ান যদি তোমায় ১১ টি বছর আগে খুঁজে বের করতাম তাহলে আমার জীবনে আজ কোন কষ্ট থাকতো না….
কারণ আমি যানি তুমি থাকতেই দিতে না….
তোমার আর তোমার ভালবাসার উপর বিশ্বাস আছে কিন্তু আমার মন যে অন্য কারো কাছে বন্ধক রয়েছে কিভাবে ছাড়াই বল….
তুমি আমাকে তো আগে থেকে ভালোবাস….
আমি যে তোমার প্রথম ভালবাসা ছিলাম….
কিন্তু আমি ওই মানুষটাকে কিভাবে ভুলি যাকে মন প্রাণ দিয়ে ভালবেসে ছিলাম…
কি করে কাওকে মন থেকে বের করতে হয় তা তো আমার জানা নেই….
কিন্তু এতটুকু জানি তোমার মায়ায় দিন দিন পরে যাচ্ছি…
প্রত্যেকটা দিন তোমার ভালবাসায় আটকে যাচ্ছি….
তোমার মায়ায় মায়াবদ্ধ হয়ে যাচ্ছি….
ভাবতে ভাবতে রিতিও আয়ানের বুকে শান্তিতে ঘুমিয়ে গেল….
এত শান্তির ঘুম রিতি সে কত বছর আগে ঘুমিয়েছে সে নিজেই বলতে পারবে না….
সকালে….
আয়ান ওঠে তার মাথাটা খুব ব্যাথা আর ভারি লাগছে….
সে তার বুকে ভারি কিছু অনুভব করল…
তাকিয়ে দেখে রিতি বাচ্চাদের মত তার বুকে ঘুমুচ্ছে…..
আয়ানের মনে আসল কাল রাত সে কত ড্রিংক করেছিল….
আয়ানের মনে ভয় ডুকে যায় সে রিতিকে নেশার তালে কিছু বলে বা করে নি তো…..
ভয়ে তার কলিজার পানি শুকিয়ে গেল.

#Second_marriage
#part_10
#riter_ritiva_jahan_রিতি
সকালে…..
আয়ান ওঠে তার মাথাটা খুব ব্যাথা আর ভারি লাগছে….
সে তার বুকে ভারি কিছু অনুভব করল…
তাকিয়ে দেখে রিতি বাচ্চাদের মত তার বুকে ঘুমুচ্ছে…..
আয়ানের মনে আসল কাল রাত সে কত ড্রিংক করেছিল….
আয়ানের মনে ভয় ডুকে যায় সে রিতিকে নেশার তালে কিছু বলে বা করে নি তো…..
ভয়ে তার কলিজার পানি শুকিয়ে গেল…..
আয়ান আস্তে করে রিতির মাথা তুলে বালিশে শুয়িয়ে দিল…..
আর ওয়াসরুমে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে নিল….
রেডি হয়ে অফিসের জন্য বের হয়ে গেল…..
যানি রিতি ফেস না করতে হয়….
আয়ান এখনও মানে করতে পারছে না কি হয়েছিল গতরাতে….
তা মিয়ে এখনও মনের এক কোণায় ভয় রয়ে যায়…..
এদিকে ঘুম ওঠে আয়ানকে না পেয়ে ওয়াসরুমেও দেখে কিন্তু আয়ান তো সেখানেও নেই….
ফোন দিলে আয়ান ধরে না….
৪ বার ফোন দেওয়ার পর না ধরায় রিতি ভয় পেয়ে যায়….
এক দৌড়ে বাহিরে যেয়ে…..
বাহিরে মাকে দেখে….
রিতিঃ মা আয়ানকে দেখেছেন….
মাঃ না কেন কাল রাত ঘরে আসে নি….(একটু ভয় পেয়ে)
রিতিঃ না এসেছিল….
কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে তাকে পাচ্ছি না….
মা উনাকে একটু ফোন দিবেন আমার ফোনে balance শেষ…..
মাঃ দিচ্ছি….
মা ফোন দিল….
আয়ান এক রিং এই ধরে ফেলে….
তখন খুব কষ্ট লাগে রিতি….
যে ও এতবার ফোন দেওয়া সত্ত্বেও ধরে না আর এখন একটি রিং এই ধরে ফেলে…
মা কথা বলা শেষে…..
মাঃ ওর কিজানি meeting আছে তাই তাড়াতাড়ি গেছে….
তোমাকে উঠায় নি তোমার ঘুম নষ্ট হবে বলে…..
মা রিতির মাথায় হাত বুলিয়ে চলে যায়….
আয়ান ঠিক আছে বলে রিতি একটু সস্থির নিশ্বাস নেয়…..
সারাদিন রিতি আয়ানের অপেক্ষা করে কিন্তু আজও আয়ান দেরিতে আসে….
না…না আজ আর ড্রিংক করে নি….
বিচারা কালকের পর থেকে অনেক ভয় পাইছে…
আয়ান এসে রিতিকে রুমে না দেখে শান্তির নিশ্বাস নিল….
আল্লাহ ই জানে কালকে কি হইসে তার ভয়ে….
ওয়াসরুম থেকে উঁকি মেরে দেখল রিতি নেই রুমে….
চুপচাপ সোফায় শুয়ে ঘুমের নাটক করতে লাগল….
কিন্তু খালি পেটে কি আর ঘুম আসে….
আয়ান….আয়ান….
চোখ বন্ধ করেই আওয়াজ শুনছে রিতির….
এর মধ্যে বিরিয়ানীর ঘ্রাণ….
বিচারা কত কষ্টে ঘুমের acting করছে…..
রিতিঃ আয়ান উঠেন…
আয়ান….
সে ৫ মিনিট ধরেই ডাকছি শুনে না নাকি….
গভীর ঘুমে….
নাকি acting করতিছে….
দেখতে হয়…..(মনে মনে)
রিতিঃ যাহ আজও না খেয়ে ঘুমাতে হবে আমার….
খিদার জ্বালায় ঘুম আসবে নাকি কে জানে….
বলেই রিতি যেতে নেয় আয়ান সাথে সাথে উঠে রিতির হাত ধরে ফেলে….
আয়ানঃ এই তুমি খাও নি কেন…(রাগি লুকে)
রিতিঃ ওমা আপনি না ঘুমিয়ে ছিলেন এতো তাড়াতাড়ি উঠলেন কিভাবে…..
আয়ানঃআসলে….
রিতিঃ না খেয়ে ঘুমালেন কেন….
আয়ানঃনিশ্চুপ….
রিতিঃ খাবার এনেছি আ করেন… (পাশে বসে)
আয়ানঃ আমাকে দেও আমি খেতে পারব….
আর তুমি যেয়ে খেয়ে নেও….
রিতিঃ হাত তো কাটা কিভাবে খাবেন….
আয়ানঃ বাম হাত দিয়ে….
রিতিঃ আচ্ছা খেয়ে দেখান….
আয়ানঃ তুমি যাও আমি পারবো….
রিতিঃআগে খেয়ে দেখান নাহলে যাচ্ছি না….
আয়ান কোন উপায় না পেয়ে খাওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু পারছিল না চামচ নিয়ে ভালোমতো খেতে।তারপরও বার বার চেষ্টা করছে….

রিতি বিরক্ত হয়ে আয়ানের হাতে অনেক আস্তেই চড় মারল…
আয়ান রিতির দিকে অবাক হয়ে তাকালো…..
রিতিঃ আমি খাবার খাওয়ালে কি খাবার হজম হবে না….(প্লেট হাতে নিয়ে)
আয়ানের আ ও করা লাগে নি রিতির এ ব্যবহার দেখে এমনি হা হয়ে আছে….
রিতি দিল খাবার ডুকিয়ে মুখের ভিতর ….
রিতিঃ গতকাল কত ভাল ছিলেন আর আজ….
আয়ানঃ কথা থামিয়ে….
গতকাল… গতকাল কি হয়েছিল…
রিতিঃ হি…হি…
আপনি জানেন আপনি বাচ্চাদের মত ব্যবহার করছিলেন…..
আয়ান সুস্থির নিশ্বাস নিল তার মানে রাতে কিছু হয় নি….
রিতির হাসি দেখে আয়ান মুগ্ধভাবে তাকিয়ে আছে…..
তারপর রিতি খাবারের চামচ টা এগোতেই আয়ান ওটা রিতি হাত ধরেই রিতির দিকে ফিরিয়ে…..
আয়ানঃ তুমিও কিছু খাও নি এই নাও…..
রিতিও খেল….
আজ শুধু রিতি কথা বলছে আর আয়ান শুনছে…
সব কথায়ই আয়ান আজ দুদিন তার ফোন ধরে নি কেন তার জন্য নালিশ করছে….
আর আয়ান….
ও তো রিতির দিকে তাকিয়ে অন্য রাজ্যে হারিয়ে গেছে…..
আস্তে আস্তে রিতির কাছে আসে….
রিতির সেদিকে খেয়াল নেই সে কথা বলছে…..
আয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখে আয়ান তার একদম সামনে….
আর একটু কাছে আসলেই তাদের ঠোঁট দুটিতে কোন দুরত্ব থাকবে না।
রিতি পুরো বরফ হয়ে গেছে….
নড়ঁতেও পারছে না সে….
আয়ানের দিকে শুধু তাকিয়ে আছে….
সেও এক অদ্ভুত মায়ায় পরে গেছে….
আয়ান আস্তে করে রিতির ঠোঁটের পাশের খাবার মুছে দিল…..
আর সরে গেল….
রিতি বোকার মত সে ভাবেই বসে আছে….
তারপর ১ মিনিট পর লজ্জা পেয়ে ওঠে গেল…..
কি ভাবছিল সে ভেবে নিজেই লজ্জায় লাল হয়ে গেল….
আয়ান রিতির এভাবে যাওয়ায় কিছুটা অবাক হলেও মাথা বেশি না খাটিয়ে সোফায় শুয়ে পরল….
রিতি কিচেনে প্লেট রেখে রুমে এসে দেখে আয়ান সোফায় শুয়ে আছে….
রিতি সোফার সামনে যেয়ে…..
রিতিঃ আয়ান….
আয়ানঃ হম বল,….( মাথা হাল্কা তুলে)
রিতিঃ চলেন খাটে ঘুমান…..
আয়ানঃ না তুমি ঘুমাও….
রিতিঃ আমরা দুজনেই ঘুমাতে পারবো খাট এত ছোট না বেশ বড়ই আছে……..
আয়ান অবাক হয়ে রিতির দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো…..
রিতিঃ আপনার হাতে ব্যাথা পেয়েছেন আপনি এখানে ঘুমালে আরও ব্যাথা পাবেন….
আয়ানঃ না আমি এখানে ঠিক আছি…
তুমি যাও….
কিছু হবে না….
রিতিঃ না আপনি খাটেই ঘুমাবেন….
আয়ানঃ মানা করছি না,
আমি এখানেই ঠিক আছি…
রিতি আয়ানের বাম হাত ধরে এক প্রকার টানা হিচরা করতে লাগলো….
আয়ান এক পর্যায়ে রিতির হাত ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে রাগে বলল…..
আয়ানঃ তুমি বুঝ না কেন তোমার সাথে ঘুমালে তোমাকে জরিয়ে বুকের মাঝে রেখে ঘুমোতে ইচ্ছা করবে….
damn it….(অন্যদিকে মুখ করে)
আয়ান কি বলল তা বুঝতে পেরে নিজেকে শান্ত করে রিতির দিকে তাকিয়ে থমকে গেল….
রিতির চোখ দিয়ে বন্যা বয়েই যাচ্ছে….
আয়ানের নিজের উপর জিদ উঠছে….
সে কিভাবে আবার রিতিকে কষ্ট দিল তা ভেবে….
আয়ান রিতির কাছে যেয়ে রিতির দুই গালে হাত রেখে পানি মুছে দিল….
আয়ানঃ sorry আসলে….
এর সামনে কিছু বলার আগেই রিতি আয়ানকে জরিয়ে ধরে….
আয়ান একবার রিতিকে জরিয়ে ধরতে যেয়েও ধরে না গতকাল সকালের কথা মনে করে….
আয়ানঃ রিতি আমি কিন্তু….
রিতিঃ কথা থামিয়ে….
আয়ান…(বলে আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরে)
আয়ান একটু থমকে যায় তাহলে ও আয়ানকে রাফি মনে করছে না….
রিতিঃআপনার অসহ্য লাগবে না,
আপনার ঘুমাতে কষ্ট হবে না,
আপনার বিরক্তবোধ হবে না,
(এক নিশ্বাসে বলল)
আয়ান এক হাত রিতির কাধে আর অন্য হাত কোমড়ে রেখে জরিয়ে ধরল…..
আয়ানঃ কি বলছ এসব….
তুমি জানো তুমি আমার বুকের মাঝে থাকলে আমার মনে হয় পৃথিবীর সব সুখ আমার বুকে এসে জরিয়েছে…..
রিতি জরিয়ে ধরে রেখেই ওর মাথা উঠ্যে আয়ানের দিকে একবার অবাক হয়ে তাকালো তারপর আবার আয়ানের বুকে লুকিয়ে গেল….
রিতিঃ জানেন আমার খুব ইচ্ছা ছিল বিয়ের পর আমার স্বামীর বুকে ঘুমাবো কিন্তু রাফির না এসব খুব অসহ্য লাগতো…..
আয়ানের রাফির কথা শুনে অনেকটা খারাপ লাগলো…..
রিতিঃ আপনি কি আমার ইচ্ছা পূরণ করবেন…..
আপনার বুকে জায়গা দিবেন,
যানেনে কাল রাত আপনার বুকে কত বছর পর শান্তিতে ঘুমিয়েছি…..
গতকালের মত প্রতিদিন ঘুমাতে দিবেন…..
আয়ান তো খুশিতে এখন সাত আসমানে….
রিতিকে আরও জোরে জরিয়ে ধরে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে ফেলে…..
দুইজনেই চোখ বন্ধ করে তাদের সুখ আর শান্তি উপভোগ করছে….
সকালে….
আয়ানের ঘুম ভেংগে দেখে রিতি তার বুকে বাচ্চাদের মত ঘুমুচ্ছে…..
আয়ান রিতির মাথায় আলতো করে এক চুমু দিতেই রিতি আয়ানকে শক্ত করে জরিয়ে ধরল….
আয়ান –
যদি এটা সপ্ন হয়ে থাকে তাহলে এ সপ্নের ঘোরেই থাকতে চাই।
কখনও উঠতে চাই না এ সপ্ন থেকে।
আমার সপ্নপরীকে এভাবেই জরিয়ে রাখতে চাই…..
ওর দিকে অপলকভাবে তাকিয়ে রইলাম….
কিছুক্ষণ এর মধ্যে রিতির ঘুম থেকে উঠলো সে দেখলে আয়ান তার দিকে তাকিয়ে আছে আর সে আয়ানকে শক্ত করে জরিয়ে রেখেছে….
রিতি লজ্জায় লাল হয়ে গেল….
সেখান থেকে চলে যায়….
আয়ান রিতির লজ্জামাখা মুখ দেখে আবার প্রেমে পরে যায়…..
এভাবে কয়েকদিন চলে যায়….
এভাবেই প্রতিদিন আয়ান তাড়াতাড়ি উঠে তার সপ্নপরীকে অপলক ভাবে দেখে আর রিতি লজ্জা পেয়ে সেখান থেকে চলে যায় আর আয়ান রিতির লজ্জামাখা লাক মুখটি দেখে প্রতিদিন নতুন করে প্রেমে পরে…..
কিছুদিন সকালে খাবারের টেবিলে….
রিতি আর নিধি সবাইকে খাবার সার্ভ করছিল তখন মাহির ফোন আসে….
রিতি প্রথমে না ধরলেও মা এর বলাতে ধরল…..
ফোনে কথা শেষে…..
মাঃ কি বললো মাহি…..
রিতিঃ মা আসলে মাহিনের জন্মদিন ২ দিন পর তাই বলল সবাইকে যেতে আর….
মাঃ আর কি….
বল মা….
রিতিঃ বলল যে যেহেতু আরিয়ান আর নিশানের স্কুল বন্ধ তাই কয়েকদিন সেখানে গিয়ে থাকতে….
মাঃ তাহলে যাও…..
বিয়ের পর এমনিও যাওনি….
যেয়ে কদিন ঘুরে আসো….
আয়ান তুইও যা….
আয়ানঃ না মা ও যাক আমার এদিকে কাজ আছে এ কয়দিন আমি জন্মদিনের দিন যাবো…..
রিতিঃ তাহলে আমরাও পরেই যাই….
আয়ানঃ আমার জন্য তোমরা যাবা না কেন আজব তো…..
আমার যাওয়ার সাথে তোমাদের সম্পর্ক কি…..
রিতি আয়ানের এভাবে বলায় অনেকটা অবাক হয়…..
মাঃ তোমরা আজকেই রওনা দেও।….
আরিয়ান আর নিশান ও খুব খুশি হবে….
রিতিঃজ্বি মা….
কিন্তু রিতির যাওয়ার কোন ইচ্ছা নেই….
কারণ আজকাল আয়ানের অভ্যাস হয়ে গেছে তার…..
রিতি গেল তার বাবার বাড়িতে।সবাই তাকে দেখে খুব খুশি।সারাদিন জুরে বাবা,মা আর মাহিনের সাথে গল্প করল কিন্তু চোখটা ফোনের দিকেই বেশি ছিল….
কিন্তু সেখান থেকে মা,বাবা,ইশিকা,নিধি, আমান সবাই ফোন দিলেও যার ফোনের অপেক্ষায় ছিল তার ফোনই আসল না….
রিতি রাতে নিজের রুমে এসে বিছানায় শুলো….
কিন্তু যে রুমে সে জীবনের এত বছর কাটিয়েছে সে রুমটি আজ পর পর লাগছে…..
রিতি বারবার এপাশ থেকে ওপাশ হচ্ছে….
তার যে আয়ানের বুকে ঘুমানোর অভ্যাস ঘুম আসবে কিভাবে….
রিতি একবার ফোন হাতে নেয় আবার থুয়ে দেয়….
তারপর ভাবে আরিয়ানের সাথে কথা বলানোর বাহানায় কথা বলতে পারবে তাই মাহিনের রুমে যায়….
মাহি,নিশান আর আরিয়ান আজ সারারাত মুভি দেখবে তাই কেও ঘুমায় নি….
সাথে রাহাত ও আছে…
রিতি রুমে যেয়ে আরিয়ানকে বলে….
রিতিঃ বাবু তুমি তো আজ আয়ানের সাথে কথা বল নি ফোন লাগিয়ে দি….
আরিয়ানঃনা মা বাবার সাথে তো কথা হয়েছে….
রিতিঃ কিভাবে….(অবাক হয়ে)
আরিয়ানঃ বাবা মামার ফোনে কল দিয়েছিল তখন….
রাহাতঃতুই কথা বলতে এত ইচ্ছা হলে বলে নে….
আরিয়ান তো বললোই….
রিতিঃ আম…আমার কেন ইচ্ছা হবে আমি তো আরিয়ানের জন্য বলছিলাম….
রাহাতঃ ও আচ্ছা…..
এমনিও আয়ান বলল ওর নাকি ঘুম ধরছে তাই এখন হয়ত ঘুমিয়ে গেছে…
রিতিঃওহ…
রিতি রাহে গজগজ করতে করতে রুমে এসে বিছানায় ফোন ফিক্কা মারলো….
রিতিঃ ইসসস….
তার আমার সাথে কথা বলার ইচ্ছা নেই আমি কেন বলব….
তার আমাকে মনে করবে না আমি করব কেন…
আমাকে ছাড়া ঘুমাবে আর আমি রাত জেগে তার কথা মনে করব নাকি….
আসছে…..
কিন্তু এখন তো ওর বুক ছাড়া ওকে জরিয়ে না ধরলে ঘুম ও আসে না….
আচ্ছা সারাদিনে কি একটিবারও আয়ান আমায় মনে করে নি…..(নিজে নিজেই বলছে)
আর আয়ানের কথা ভেবেই মন খারাপ হয়ে গেল রিতির….
চলবে…..