অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক পর্ব :- ০২

0
612

গল্প :- অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক
পর্ব :- ০২
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
.
-: ভাইয়ার কথা শুনে আমার মোডটাই আবার অফ হয়ে গেলো। আমার মুখ দেখে ভাইয়া আবার বললো,,

—কি হলো। আচ্ছা বুঝেছি মেয়েটা এখনো হ্যাঁ বলেনি। আরে এতে চিন্তার কি আছে। না ও তো আর বলেনি। তাই চালিয়ে যা। দেখবি একদিন না একদিন হ্যাঁ বলে দিবে।

–নাহ..ভাইয়া…………
সেটা আর সম্ভব না। মিরার অন্য কারো সাথে রিলেশন আছে। আজকে অনেক তোড়জোর করে মিরাকে কলেজের সবার সামনে প্রপোজ করেছিলাম।
তখনি মুখের উপর ও কথাগুলো বলে দিলো।?

—আরে এই ব্যাপার নিয়ে তুই মোড অফ করে ফেলেছিস। দেখবি ঐ মেয়ের থেকে আরো ভালো মেয়ে তোর জন্য ফুলের মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। তুই শুধু পরীক্ষাটা ভালো করে দে। ব্যাস….

–হুমম.. আচ্ছা ভাইয়া একটা প্রশ্ন করবো?

—তোর যতোটা ইচ্ছে হয় কর।

—তুমি আজ পর্যন্ত আমাকেও বলোনি যে,,
তোমার হঠাৎ করে পুলিশ হতে চাওয়ার কারণ কি? তোমার সপ্নতো ছিলো ইন্জিনিয়ারিং করার।

—হুমম..।
ঠিক আছে বলছি। কিন্তু বাবা-মাকে কিছু বলতে পারবি না। সময় হলে আমি ই বলেদিবো।

–ঠিক আছে তাই হবে। এখন বলো।

—আমি যখন ইন্জিনিয়ারিংয়ে পড়ি তখন একটা মেয়ের সাথে আমার রিলেশন হয়। নাম:- শামিমা।
শামিমার আর আমার মধ্যে খুব ভালো ভাবেই রিলেশনটা এগুচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎ একদিন শামিমার বাবা আমাদের দেখে ফেলে।

(আপনাদের মনে আছে? মিরার নাম শামিমা আফরিন মিরা)

–তারপর.. তারপর।

—তারপর আরকি।
একদিন কতোগুলো হাবিলদার দিয়ে আমাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। তুই ভাবতে পারবি আমার তখন কি অবস্থা হয়েছিলো??। আমার হাটু কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে গেছিলো। কোনো মতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন উনি আমাকে শান্ত গলায় বললেন,,

—বসো।

তখন আমি বসে পরি। এরপর উনি আমাকে বললেন,,

—তুমি শামিমাকে ভালোবাসো।?

আমার মুখ দিয়েতো তখন কোন কথাই বের হচ্ছিলোনা।

—আমি ইয়ে মানে মানে করতেছিলাম। কোনো মতেই কথাটা বলতে পারছিলাম না। তারপর উনিই একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললেন,,

—শামিমা আমাকে তোমার ব্যপারে সবকিছুই বলেছে।

আমি উনার মুখে হাসি দেখে আমার ভয়টা অনেকটাই কমে যায়। তখন উনি সোজাসাপ্টাভাবে আমাকে বললেন,,

—দেখো আমি আমার মেয়ের বিয়ে শুধু মাত্র একজন পুলিশ অফিসারের সাথেই দিবো। তাই আমার মেয়েকে বিয়ে করতে হলে তোমাকেও………………

—ওহ.. বুঝেছি বুঝেছি এ জন্যই তুই।
কিন্তু ভাইয়া তুই এতো কিছু করে ফেললি আর আমি কিছুই জানিনা। আমিতো আমার সবকিছুই তোকে বলি।
(কিছুটা অভিমানের সুরে কথাটা বললাম)

—আচ্ছা স্যরি স্যরি এবার থেকে সবকিছই তুকে বলবো ওকে।

–হুমম। তো বুঝলাম কিন্তু ভাবির সাথে কবে দেখা করাবি।??

—সময় হলেই দেখতে পারবি।

–আচ্ছা ঠিক আছে

এরপরদিন থেকে আমি আমার পড়াশুনায় মন দিলাম। দুইদিন পর ভাইয়াও চলে যায়।
আমি মিরাকে অনেক কষ্টে ভুলে পড়াশোনাটা ভলোভাবে চালিয়ে যেতে লাগলাম। ধীরে ধীরে পরীক্ষার সময়ও এগিয়ে আসে।
এবং পরীক্ষাটাও ভালোভাবেই দিলাম। আর এই কয়দিন আমি একদম মিরার সামনে যাওয়ারও চেষ্টা করিনি। ওকে আর ডিস্টার্ব ও করিনি। এমনকি তকে কোন রখম দেখার চেষ্টাও করিনি। কি লাভ তাকে দেখে শুধু শুধু মায়া বাড়িয়ে। সে তো আর কোনোভাবেই আমার হবে না।
আমি বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরি, আড্ডা,মাস্তি এসব করেই দিন পার করতে লাগলাম। তারপর রেজাল্টের দিন এগিয়ে এলো।

আজকে রেজাল্ট দিবে। তাই কলেজে চলে আসলাম। সবাই মিলে ক্যাম্পাসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আসলে রেজাল্ট সীট এখনো নোটিশবোর্ডে লাগানো হয়নি। তাই টাইমপাস করছি আরকি। একটু পর রামু কাকা এসে নোটিশবোর্ডে সীটটা লাগিয়ে দিয়ে যেতেই। সবার হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে গেলো। অনেক কষ্টে আমারটা দেখলাম,,
যাক যেমনটা আাশা করেছিলাম তেমনি পেয়েছি। বরাবরের মতো দ্বিতীয়ই হয়েছি। আসলে প্রথমের আসনটা মিরা ই দখল করে আসছে।
তারপর ভীড় ঠেলে বেরিয়ে আসলাম। এসে দেখি মিরা বান্ধবীদের সাথে কথা বলার সময় খিল খিল করে হাসছে। আর আমি তারদিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। কি সুন্দর মেয়েটার হাসি। এই হাসির কোনো তুলনা হয়না।

নাহ.. কিন্তু এখন এইসব ভেবে লাভ নেই। শুধু শুধু নিজেকে মিরার মায়ায় জড়িয়ে যাওয়া। এই দুইমাস ধরেতো ওর মায়া কাটানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি কৈ।?
আমি ওখানে আর দাড়ালাম না। কেম্পাস থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে একটা রেস্টুরেন্টে ডুকলাম। আরে বুঝলেননা ভালো রেজাল্ট করায় সবাইকে খাওয়াতে হবে। যখনি আমি খাবারটা মুখে দিতে যাবো। আবারো সেই হৃদয় কারা হাসির শব্দ। ঘার ফিরিয়েই দেখি মিরা। আরে এই মেয়েটার জন্য কি একটুও শান্তি পাবোনা। আমি ওকে ভুলার এতো চেষ্টা করছি। অথচ সে বারবার আমার সামনে এসে আমাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

তখনি আমি সবকটা বন্ধুকে তোলে নিয়ে এলাম ওখান থেকে। কারণ সেখানে আর থাকা যাবেনা। বন্ধুরা সবাই আমার উপর রেগে গেলো। তাই সবাইকে নিয়ে একটা নাইট ক্লাবে গেলাম। এটাই হচ্ছে উপযুক্ত জায়গা এখানে কিছুক্ষণ থাকলে মিরাকে অন্তত মাথা থেকে বের করা যাবে। যদিও মন থেকে কোনোদিন সড়াতে পারবো না। তারপরও সাময়িক শান্তি।

ক্লাব থেকে অনেক রাত করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেই। সাথে গাড়িও আনিনি। তাই হেটেই রওনা দিলাম বাড়িতো কাছেই। এজন্য তারে নারে বন্ধু রে করে রাস্তা বোধহয় অর্ধেক পার করে এসেছি। তখনি কে জেন পিছন থেকে আমাকে ধাক্কা দিলো। যেহেতু বন্ধুদের কথায় ড্রিংক করেছি নিজেকে সামলাতে না পেরে রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়লাম। উঠে দাঁড়িয়ে পিছনে তাকতেই দেখি একটা মেয়ে কাকুতিমিনতি করতে লাগলো,,

—আমার বাবাকে বাঁচান..! প্লিজ আমার বাবাকে বাঁচান।

মেয়েটা গলার স্বর শুনেই যেন আমার সকল নেশা কেটে গেলো। চোখ দুটো একটু কচলিয়ে খেয়াল করে দেখলাম এটা আর কেও না মিরা।
আমার আতঙ্কের কারণে হয়তো মিরা আমাকে চিনতে পারেনি এখনো।

তখন আমি বললাম,,

–মিরা তুমি এখানে এতো রাতে??

এবার মিরা আমাকে চিনতে পেরে বললো,,

—নীলয় বাবা! বাবাকে বাচাও প্লিজ?।

–আরে হয়েছেটা কি? সেটা তো বলবে।

–ঐদিকে ঐদিকে..

আমি বুঝতে পারলাম মিরা আতঙ্কিত হয়ে ঠিক মতো কথাও বলতে পারছেনা। আমি মিরার হাতে ইশারা করা জাইগার দিকে দৌড় দিলাম। মিরাও আমার পিছন পিছন আসলো। আমরা একটু সামনে গিয়েই দেখি একটা লোক রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পরে আছে। পাশে একজন মহিলা সাহায্যের জন্য ডাকাডাকি করছেন। আমার বুঝতে আর বাকি রইলো না। এটাই মিরার বাবা। আমি তাড়াতাড়ি করে ওনাকে ওনার গাড়িতে বসিয়ে। সবাইকে নিয়ে হাসপাতালে পৌছাই।

আর ঐ যাত্রায় ওনি বেচে গেলেন। তখন মিরা আমার কাছে এসে বলে,,

–নীলয় তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।?

আমি চুপ..…………

তখন মিরা বললো,,

—নীলয় দেখো আসলে ঐ দিনের জন্য আমি আসলে দুঃখীত আমার তোমাকে সবার সামনে চর মারাটা উচিত হয় নি। আর দেখো তুমি যেটা চাও সেটা কখনো সম্ভব না।
আচ্ছা নীল আমরা ভালো বন্ধু হতে পারি বলেই হাতটা বড়িয়ে দিলো,,

মিরা আমাকে ঐ দিন ওর হাত ধরার জন্য চড় মেরেছিলো। আর এখন ও নিজেই হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। বন্ধুত্ব করতে চেয়ে হয়তো দয়া দেখাচ্ছে। কিন্তু দরকার নেই আমার এরকম বন্ধুত্বের। আমি এমনিই ঠিক আছি। আর ওর সাথে বন্ধুত্ব করলে কষ্টটাই শুধু বাড়বে আর কিছুনা। তাই কিছু না বলে পেছন ফিরে হাটতে লাগালাম। এবং চলে এলাম ওখান থেকে

এরপর ঐ দিন হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পর থেকে মিরার সাথে দেখা আর করিনি। এমনকি আর কোন খোঁজ-খবর নেওয়ারও চেষ্টা করিনি। নিয়েইবা কি লাভ!
আর এভাবেই আমার দিনগুলো কাটতে লাগলো।
.
.
.
এখন আমি বাবার কথায় মাঝেমধ্যেই অফিসে যাওয়া আসা করি। আসলে ভাইয়াকেতো আর অফিস মুখো করতে পারেনি। তাই আমাকে এতো তাড়াতাড়ি তাগদা দিচ্ছে।
ভাইয়া এখন একজন সিনিয়র পুলিশের পোস্টে চাকরি নিয়েছে। তাই ভাবলাম এবার ভাইয়াকে বলবো যাতে ভাবির সাথে দেখা করায়। অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছি। আরে দেখতে হবে না আমার হবু ভাবিটা কেমন?।

আজকে অনেকদিন পর আমরা সবাই একসাথে বসে খাবার খাচ্ছি। তাই সবার মন বেশ খুশি খুশি। তাই আমি ভাবলাম খাবার খেয়ে ছাদে যাওয়ার পর ভাইয়ার কাছে বলবো কাথাটা। কিন্তু সেটা আর বলার দরকার পড়লোনা। কারণ ভাইয়া আমাকে অবাক করে দিয়ে বাবা-মাকে ভাবির কথাটা বলে দিলো।আর তাদের রিলেশনের কথা এবং পুলিশ হতে চাওয়ার করণটাও। তো বাবা-মা এখানে আর কি করবে। ছেলের বিয়ের বয়স হয়েছে। ছেলে যদি নিজেই কাউকে পছন্দ করে থাকে তাহলে তো আরো ভালো। মেয়ে দেখা যে কতো জামেলা! !
তারপর বাবা জানালেন যে কালকেই মেয়ের বাড়ি যাবো আমারা। বিয়ে একেবারে পাকাপাকি করে আসবে কালকেই। আমিতো ভেজায় খুশি। খুশি মন নিয়ে ফুরফুরা মেজাজে ঘুমাতে চলে গেলাম। ভালোই হবে বাড়িতে বোরিং হয়ে বসে থাকতে হবে না। আড্ডা দেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যাবে☺।

তো যে কথা সে কাজ কথা অনুযায়ী পরেরদিন সকালে আমারা রওনা দিলাম ভাবিদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। বাবা নাকি কালকেই ভাবির বাবার সাথে কথা বলে সব ঠিক করে রেখেছেন। আমরা শুধু মেয়েকে দেখে বিয়ের দিনটা ঠিক করে আসবো। ভিতরে ভিতরে আমার চরম উত্তেজনা কাজ করছে। জানিনা ভাইয়ার কি অবস্থা। খেয়াল করে দেখলাম ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। হয়তো ভাবির সাথেই চেটিং হচ্ছে?। তাই আমি কৌতুহল মেটাতে মোবাইলের দিকে ঝুকতেই গাড়িটা ব্রেক করলো। আমরা আমাদের ঠিকানায় চলে এসেছি।

গাড়ি থেকে নেমে আমি পুরা অবাক। কি হলো এটা! আমরা মিরাদের বাড়িতে এলাম কেনো। আর আমার জানামতে মিরাদের বাড়িতে মেয়ে বলতে একমাত্র শুধু মিরাই আছে। তাহলে এখানে আবার কোন মেয়ে?।
তখন আমি ভাইয়াকে বললাম,,

–ভাইয়া আমরা ঠিক বাড়িতেই এসেছিতো?

–তোর কি মনে হয় আমি আমার ভালোবাসার মানুষটার বাড়ি চিনতে ভুল করবো।?

— ও হে তাইতো। তুই কি করে……..

–হুমম।
হয়তো মিরার বোন হবে। আমি কি আর এতোকিছু ঘেটে দেখেছিলাম নাকি। আমারতো মূল উদ্দেশ্য ছিলো মিরা।
তবে কেন জানি আজকে আমার মনের গভীরে মিরাকে নিয়ে চেপে রাখা অনুভূতিগুলো আবারও এতোদিন পর যেন সতেজ হয়ে উঠছে। কেন এমনটা হচ্ছে সেটার উত্তর আমার কাছে নেই। হয়তোবা আমার মন কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছে। কারণ মিরার বোনের সাথে ভাইয়ার বিয়ে হলে। মিরাকে আমি আরো ভালো করে, আরো কাছ থেকে জানতে পারবো। বেয়ান বলে কথা?।
আরে ভাই মানুষের মনের কথা কে বলতে পারে কখন পাল্টি খায়। হয়তো আমার ধারণাটাও সম্পূর্ণ ভুল। কিন্তু চেষ্টা করতে ক্ষতি কি। যদি পটে যায় আশাতো একটা রাখতেই পারি। ধরে নিবো লাস্ট ট্রাই।

আমি এসবই ভাবছিলাম তখন ভাইয়া পেছন থেকে বললো,,
–কিরে এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবি? নাকি আমরা ভেতরেও যাবো?

–হুমম ভাইয়া.. চলো চলো।

আমিরা ভেতরে ডুকতেই দেখি মা-বাবা হবু আত্মীয়ের সাথে কূশলবিনিময়টা সেরে নিচ্ছেন। দরজা পেরিয়ে ভেতরে আসতেই,, মিরার মা আমাকে দেখে চেঁচিয়ে বলে উঠলেন,,
–আরে বাবা তুমি এখানে?

সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। তখন বাবা মিরার মাকে বললো,,

–আপনি কি নীলকে চিনেন নাকি??

এরপর আন্টি ঐ দিন রাতের সবকিছুই খুলে বললেন। বাবার দেখি গর্ভে বুকটা চওরা হয়ে গেছে?।
এ বাড়িতে এসেছি প্রায় পনেরো মিনিট হবে। কিন্তু কৈ মিরাকে তো দেখতে পারছি না। তার বোনের বিয়ের কথা হচ্চে অথচ মিরার কোনো পাত্তা নেই। আমার কিছুই ভালো লাগছে না। এতোক্ষণ ধরে বসে আছি ভাবিকেও দেখলাম না। আর বড়রা নিজেদের মতো কথা বলছে। আমি শুধু উসখুশ করছি। আর আমার চোখ জোড়া মিরাকে খুজে বেড়াচ্ছে।
আচ্ছা মিরা কি তাহলে বাড়িতে নেই, হতে পারে।

আমি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সেও উসখুস করছে। আমি আর থাকতে না পেরে বলে উঠলাম,,
–কৈ ভাবিকে তো এখনো দেখলাম না,ভাবিকে নিয়ে আসুন।

তখন বাবাও বলে উঠলেন,,
–সেই ভালো আপনারা এবার বউমাকে নিয়ে আসুন।

এবার আন্টি উঠে গেলেন ভাবিকে নিয়ে আসতে।কিছুক্ষন পর আন্টি বলে উঠলেন,,
–এই যে আপনাদের বউমাকে নিয়ে এসেছি☺।

আমি সাথে সাথে সামনের দিকে তাকিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে পরলাম। আমাদের সামনে সরবতের গ্লাসগুলো নিয়ে যে মেয়ে দাড়িয়ে আছে সেটা আর কেউ নয়। খুদ মিরা!

মিরাও আমাকে দেখে সমান অবাক। আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। তখন ভাইয়া বলে উঠলেন,,
–তোরা একে অপরকে আগে থেকেই চিনিস নাকি?

–আমি আমার জায়গায় বসে পরলাম। আর বললাম যে,,
–আমরাতো একই ক্লাসে পরতাম। কিন্তু ওর নাম তো… আর কিছু বললাম না। কারণ এখানে মিরা কথাটা উঠলে কোনো প্রবলেম বেধে জেতে পারে। ভাইয়াকে তো মিরার সব কথাই বলেছিলাম।

আমি দাঁড়িয়ে পরে বললাম,,
–আচ্ছা আমি এখন যাই। অননিক অনেক্ষন ধরে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

— কেন যাবি?
তুইতো বিয়েটা নিয়ে সবচেয়ে বেশী এক্সইটেড ছিলি। এখন সব কথা শেষ না হতেই চলে যাচ্ছিস।(ভাইয়া)

–আসলে ভাইয়া আমিতো ভাবিকে দেখতে আসছিলাম। আর বিয়ের তারিখ তো বড়রা ঠিক করবে সেখানে আমার কি কাজ?

কথাটা বলে করো উত্তরের অপেক্ষা না করে মিরা স্যরি আমার ভাবিদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলাম। কি হচ্ছে আমার সাথে এসব। একটু আগে আমি মিরাকে নিয়ে কতোকিছু ভাবলাম। এখন সবকিছুই অর্থহীন।

এতোদিন আমি মিরাকে ভুলে থাকতে পারছিলাম। কারণ আমি তার থেকে দূরে দূরে থাকতাম।
কিন্তু এখন যদি বিয়ে হয়ে আর ও যদি আমাদের বাড়িতে গিয়ে উঠে। তখন সারাক্ষন আমার চোখের সামনে থাকলে তাকে ভুলবো কি করে।
আর ভাইয়া মিরাকে ভালোবাসে। হয়তো আমার থেকে একটু বেশিই। আর এজন্যই হয়তো মিরাও ভাইয়াকে ভালোবাসে। আমার তাদের মাঝে কোনোরকমে আসা চলবে না। ওরা দুজনেই আমার মনের খুব কাছের। তাই আমি চাইনা তারা কোনোভাবে আমার জন্য কষ্ট পাক। কিন্তু আমার চোখের সামনে মিরা অন্য করো হবে সেটাও মানতে পারছি না। নাহ আমাকে কিছু একটা করতেই হবে..

অনেক ভাবার পর সিদ্ধান্ত নিলাম যে,, কোনো একটা অজুহাতে বাইরে কোথাও চলে যাবো। যেদিন বুঝতে পারবো মিরাকে নিয়ে আমার মনে আর কোনো আবেগ নেই সেদিনই ফিরে আসবো।
কিন্তু বিয়েটাতে যে আমাকে থাকতেই হবে। আমার একমাত্র ভাই বিয়ে করছে। তাছাড়া আমি নিশ্চিত বিয়ের সব দায়িত্ব পরবে এসে আমার ঘারেই।
তাই এই কয়টাদিন আমাকে খুশি থাকার অভিনয় টা চালিয়ে যেতে হবে। আর খুব জাঁকজমকভাবে ভাইয়ার বিয়েটা সম্পন্ন করবো। আসলে এটাইতো আমাদের বাড়ির প্রথম বিয়ে।

যাইহোক ভালোই ভালোই বিয়েটা হয়ে গেলো। সবাই খুবই খুশি। আমিও অনেক খুশি। নিজের আপনজনের মুখের হাসি দেখলে নিজের কষ্ট কখনো মনে পরে নাকি?
এই কয়দিনে আমি একবারো মিরার সামনে যাইনি। নিজেও তাকে দেখার চেষ্টা করিনি।

মিরা এখন তার বাসর ঘরে বসে আছে। আর ভাইয়া ছাদে আমার আর সকল কাজিনদের সাথে আ্ড্ডা দিচ্ছিলো।
একটু পরই সবাই ভাইয়াকে বাসর ঘরে পাঠিয়ে দিলো। আমি আর বাড়িতে কেন জানি থাকতে পারছি না। ল
দম বন্ধ বন্ধ লাগছে। সবাই হাসাহাসি আনন্দ করছে।কিন্তু আমি তাদের সাথে যোগ দিতে পারছিলাম না। নিজেকে একা একা লাগছিলো। তাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি। বন্ধুদের সাথে নাইট ক্লাবে গেলাম। ক্লাব থেকে আর বাড়ি না ফিরে অনিকের ফ্লাটে থেকে গেলাম।

সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গতে অনেক দেরি হয়ে যায়। তাও আবার ঘুম ভাঙ্গলো ফোনের রিংটোনে। কিন্তু ঘোমের ঘোরের কারণে ফোনটা ধরতে পারলাম না। চোখটা একটু কচলিয়ে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি। অনেকগুলো মিসকল। হয়তো একটু বেশিই ক্লান্ত ছিলাম। তাই ঘুম ভাঙ্গেনি।

আমি সাথে সাথে মাকে ফোন দিলাম। মা রিসিভের পর মা হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,,
–মা কাদছো কেন?

কিন্ত মা কোনো উত্তর না দিয়ে কেঁদেই যাচ্ছে। তারপর বাবা ফোনটা নিয়ে করুণসুরে বললো,, ভাইয়া নাকি আর নেই।

আমি যেন আমার কানকে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আমি একটুও সময় নষ্ট না করে বাড়িতে পৌছোলাম। পুরো বাড়িতে মানুষের ডল, আর ভেসে আছসে মা আর মিরার কান্নার রোল। আমি আস্তে আস্তে ভাইয়ার লাশটার দিকে এগিয়ে গেলাম। আমাকে দেখেই মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দেয়। আমারও খুবই কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু আমি ভেঙ্গে পড়লে সবাইকে সামলাবো কি করে। অনেক কষ্টে নিজেকে শক্ত রাখলাম। তারপর ভাইয়ার শেষ কাজ করে বাড়ি ফিরি।

আমার বাবা খুবই শক্ত মানুষ। কিন্তু তিনিও ভেঙ্গে পড়েছেন। এখন আমাকেই সবকিছু সামলাতে হবে।

এভাবেই কিছুদিন চললো। মা-বাবাকে তো আমি সামলে নিয়েছি। কিন্তু মিরা? এখনো আগের মতোই পাথর হয়ে আছে। অবশ্য এটাই স্বাভাবিক। কোনো মেয়ে যদি বাসর রাতেই স্বামীকে হারিয়ে ফেলে। তাহলে তার কষ্টটা কিরূপ হতে পারে। আমার আন্দাজ নেই। এতোদিনের রিলেশনের পর তাদের ভালোবাসাটা পূর্ণতা পেয়েও পেলো না।
মিরার এমন অবস্থা বাড়ির কেউ মেনে নিতে পারছে না। তাই তারা মিরার ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নেয়। আর সেটা হলো আমাকে মিরাকে বিয়ে করতে হবে। তো আমি রাজি হয়ে যাই। করণ আমি এখনো মিরাকে সেই আগের মতোই ভালোবাসি।

কিন্তু আমার ভয় ছিলো মিরা রাজি হবে না। কিন্তু মিরাও রাজি হয়ে যায়। অবশ্য কেন রাজি হয়ে ছিলো সেটা তো আগেই মিরা আমাকে পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে।

আমি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অনেক রাত হয়ে গেলো। নাহ এবার ঘুমানো দরকার সকালে আবার অফিসে যেতে হবে। সিগারেটা ফেলে দিয়ে ঘরে ডুকতে যাবো।

কিন্তু ঘরে ডুকেই আমি অবাক হয়ে গেলাম।
.
.
.
চলবে……………………♥
.
(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টতে দেখার অনুরোধ রইলো) ♥