কতোবার বোঝাবো বল পর্ব-১০+১১

0
2220

#কতোবার_বোঝাবো_বল
#ইফা_আমহ্নদ
পর্ব::১০

— এই মেয়ে এভাবে টাওয়াল পরে অর্ধ উলঙ্গ হয়ে আছো কেন??তারচেয়ে টাওয়াল খুলে পুরো উলঙ্গ হয়ে থাকো ,, ভালো লাগবে??( ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আবির)

— এই যে মিঃ ,,আমি আমার রুমে আমি যেমন ইচ্ছা তেমন থাকবো ,,তাতে আপনার কি ?? আপনি কেন আমার রুমে না বলে আসবেন??( চেঁচিয়ে বললাম আমি)

— আমার বয়ে গেছে তোমার রুমে আসতে ,, আঙ্কেল বলেছে ,,,তাই এসেছি।।( আবির)

— আমার পাপা বলেছে ,,না বলে আমার রুমে এসে ।। আমাকে এই অবস্থায় দেখতে !!(আমি)

— না….!! আঙ্কেল বলেছে,, তোমাকে আমার সাথে নিয়ে যেতে !! ( বেডে বসতে বসতে আবির)

— কেন ?? পাপারা কোথায় গেছে !!( কৌতূহল নিয়ে আমি)

— আজকে সকালে নিবিড় ভাই দেশে ফিরেছে।।তাই বাবা সবাইকে ইনভাইট করেছে ।।তারা ,,,তোমার মতো ডংগির জন্য অপেক্ষা না করে চলে গেছে ।। জানে তো সারাদিন লাগবে ,,, তাই আমাকে রেখে গেছে ।।( আবির)

— এই নিবিড় টা কে ??( কৌতূহল নিয়ে আমি)

— তোমার হবু জিজু ।। মানে আমার ভাই আর তোমার বোনের হবু জামাই।।তাই কেউ অপেক্ষা করেনি,, চলে গেছে।। ( আবির)

এতোক্ষণে বুঝতে পারলাম,,বিয়েটা আবিরের সাথে না ,,,তার ভাই নিবিড়ের সাথে।। বুঝবো কিভাবে ।। যার বিয়ে সে আসে নি এসেছি ,,তার ছোট ভাই।।

— চলে গেছে মানে ?? আমি যাবো তো ।।

বলেই ড্রয়িং রুমের দিকে পা বাড়ালাম।। পেছন থেকে আবির জোরে জোরে বলে উঠলো …..

— যাও ,,যাও এই অর্ধ উলঙ্গ অবস্থা পুরো এলাকাকে দেখিয়ে আসো !!( আবির)

এতোক্ষণে খেয়াল করলাম,,আমার পড়নে,,,একটা টাওয়াল ।। সকালে গরমের কারণে শাওয়াল নিতে গিয়েছিলাম।। আর আমি কখনো জামা কাপড় নিয়ে শাওয়াল নিতে যাই না । রুমে পড়ে নেই ।। আর আজ এই সুযোগে আবির রুমে ঢুকে গেছে।।
তাড়াতাড়ি করে রুমে ঢুকে ড্রয়ার থেকে একটা শার্ট আর জিন্স বের করে ওয়াশরুমে গিয়ে পড়ে নিলাম।।
তারপরে চুলগুলো বেঁধে নিলাম,, ভেজা কিন্তু কিছু করার নেই।। শার্টটাকে ইন করে নিয়ে ।। চলুন বলে বেরিয়ে এলাম।। ড্রয়িং পর্যন্ত এসে দেখি সে আসছে না ,,, তারপর আবার গেলাম রুমে।।

— এই যে আপনি কি ,, যাবেন না,,নাকি ??(আমি)

— তবে তোমাকে এই ড্রেসে আমার বাড়িতে নিতে পারবো না,,, আমাদের বাড়ির একটা সম্মান আছে !!( আবির)

— আমাকে ,,,এখন হসপিটালে যেতে হবে,,, ব্যান্ডেজ খুলতে আর চেক- আপ করাতে ।।পাপা মনে হয় আপনাকে বলে নি ।।(আমি)

— আমি জানি আঙ্কেল আমাকে বলেছে,, কিন্তু আমি তো আর তোমাকে নিয়ে এখানে ফিরবো না,, সোজা বাড়িতে যাবো !! তাই এই ড্রেসে তোমাকে নিতে পারবো না।। আর তুমিও আমাদের বাড়ি চিনো না,,,তাই যেতেও পারবে না।।( আবির)

কি আর করার জানভিকে ১০১ টা বকা দিতে দিতে একটা চুড়িদার পড়ে নিলাম।। আজকে ভোরে যদি জানভি ,, দাদু দিদা,, ফুফু ফুফা গ্ৰামে না যেতো ,তাহলে আজ আমাকে এই সব পড়তে হতো না ।। আবিরের দেওয়া ইনটাকশন অনুযায়ী সেজে নিলাম।। তারপর হসপিটালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে এলাম।।সারা রাস্তা মরার মতো পরে ঘুমিয়েছি ।। এটা আমার বিশেষ গুন ।। যখন তখন যেখানে সেখানে ঘুমাতে পারি ।।
ঘুমের মধ্যে মনে হচ্ছে আমি হাওয়ায় ভাসছি,, সেই স্মেল টা পাচ্ছি ।। যেটা আমি এর আগেও পেয়েছি ,, মিষ্টি প্রেমিকের শরীর থেকে।। তাই তাড়াতাড়ি চোখ খুলে নিলাম।। তাকিয়ে আবিরের মুখটা দেখতে পেলাম।। চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম আমরা হসপিটালের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি ।। আর আবির আমাকে কোলে করে নিয়ে যাচ্ছে।। তারপর আবির আমাকে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে নিজেও আমার পাশে বসে পড়লো।।
কিছুক্ষণ পর আমাদের ফ্যামিলি ডাক্তারের এসিস্ট্যান্ট এসে জানিয়ে গেলো ,,,তিনি এখন পেসেন্ট দেখতে ব্যস্ত,, আমাকে দেখতে সময় লাগবে ।। কি আর করার অপেক্ষা করছি ।। আমার ঘুমের ঘোর এখনো কাটে নি । একটু পর পর হাই তুলছি ।। আবির আমাকে টেনে ,,আমার মাথাটা তার কাঁধে রেখে ,, আমাকে একহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে ,, ঘুমাতে বললো ।। কিন্তু আমি ঘুমালাম না।।
২ টার দিকে ডাক্তার আমাকে চেক আপ করতে লাগলো।। বললো আমি এখন ফিট ।। কিন্তু কিছু মেডিসিন কন্টিনিউড করতে হবে ।। নাহলে পরে সমস্যা দেখা দিতে পারে।। ব্যান্ডেজ খোলার জন্য একটা ইনজেকশন পুশ করতে হবে ,,যাতে আমি ব্যাথা না পাই ।। কিন্তু ইনজেকশন দেখেই আমার শরীরে জ্বর চলে এলো । আমি কিছুতেই ইনজেকশন দেবো না।। কিন্তু এটা বেশিক্ষণ স্থায়ী রইল না।। আবির আমাকে তাকে জরিয়ে ধরে ,, বুকের বাপাশের হার্ট সাউন্ড শুনতে বললো।। আমিও আমার মাথাটা তার বুকে দিয়ে শুনতে লাগলাম।। তার হার্ট বিট যেনো দূরত্ব গতিতে ছুটছে।।এদিকে আমাকে ইনজেকশন দিয়ে ব্যান্ডেজ খুলতে লাগলো কিন্তু সত্যি আমার কোনো ব্যাথা লাগলো না।।

অবশেষে বেরিয়ে এলাম হসপিটালে থেকে।। এখন আমি একা একা গাড়িতে বসে আছি,,,আর মহারাজের আসার কোনো খবর নেই।। সেই কখন গেছে ,, এখনো আসার নাম নেই।। কোথায় গেছে বলে যায় নি ।। যাওয়ার আগে দরজার লক করে দিয়ে গেছে,,যাতে আমি বাহিরে বের হতে না পারি ।। আমি আর একা বসে বসে কি করবো ,,,তাই ফোনে ভিডিও গেমস খেলতে ব্যস্ত হয়ে গেলাম।।
লক খোলার শব্দ পেয়ে তাকিয়ে দেখি,, মহারাজ এসেছে।। হাতে বিরিয়ানির প্যাকেট,, কোক ,, আর আইসক্রিম।। আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,,

— খেয়ে নাও ,,, সকাল থেকে কিছু তো খাও নি।।

কারো কথায় কোনো পাত্তা না দিয়ে আমি আবার গেমস খেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।। আমার হাতে থেকে ফোনটা নিয়ে আমার হাতে বিরিয়ানির প্যাকেট ধরিয়ে দিলো।। কিন্তু মাটান বিরিয়ানিতে যে আমার এলার্জি।। আমি কিছুতেই খেতে পারবো না,, তাই আমি বিরিয়ানি না খাওয়ার জন্য বললাম…

— আচ্ছা,, আপনি কিকরে জানলেন ,, ঐটা আমি ছিলাম।। আপনি তো কখনো আমাকে বুড়ি বেশে দেখেন নি ,, তাছাড়া কখনো আমাদের বাড়িতেও যান নি ।। ( কৌতূহল নিয়ে আমি)

— সব বলবো ,,আগে খাবার গুলো শেষ করো ?? ( আবির)

— কিন্তু আমি তো মাটান বিরিয়ানি খাই না,,এতে আমার …

আর কিছু বলার আগেই আবির আমার হাত থেকে বিরিয়ানির প্যাকেট টা ছো মেরে নিয়ে ,, প্যাকেটটা খুলে এক লোকমা আমার মুখে ঢুকিয়ে দিলো ।। আমি যে কিছু বললো ,,তা বলার সুযোগ আর হয়ে ওঠে নি।।ফেলেও দিতে পারছি ,,,সে তো আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে আছে। মুখের খাবার শেষ হওয়ার আগেই আবার ঢুকিয়ে দিচ্ছে।। সম্পূর্ণ খাবার শেষ করে কাঁচ খুলে হাত ধুয়ে নিয়ে গাড়ি চালাতে শুরু করলো আর বলতে শুরু করলো …..

— তুমি হয়তো ভুলে গেছো,, সেদিন পার্কে তুমি তোমার বাবা মায়ের নাম বলেছিলে !! তাছাড়া তুমি যখন দিদা সেজেছিলে ,,তখন তোমার হাত পা ঢাকা ছিলো ঠিকি কিন্তু থুতনির আর গলার তিলগুলো দেখে তোমায় চিনতে বাকি রইল না।।আর যখন তোমার কাছে গিয়েছিলাম তখন তোমার গালের মেকআপ আর মিষ্টি স্মেল টা জানান দিচ্ছিলো ,, কে তুমি।।

ছোটো এটা শব্দে ও বলে অন্যদিকে মন দেই।।কিছুক্ষণপর আবিরদের বাড়ি চলে আসি ।। ফিরতে ফিরতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যায় ।। নিলিমা আন্টি আমাকে একটা রুম দেখিয়ে দেয় সেখানে গিয়ে একটা লম্বা শাওয়াল নিয়ে নেই ।। পেট ভরা থাকায় আর কিছু খাই না।। বেডে শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকি আবিরের কাজ গুলো।। সত্যি ই ভালো ছিলো আজকের দিনটা ।। যখন আবির হাট হার্ট বিট গুনছিলাম ,, তখন মনে হচ্ছিলো,, আবিরের প্রতিটি বিট বলছিলো ,,
,#কতোবার_বোঝাবো_বল🌿,,”আমার শুধু তোকেই চাই””।।তোকে মানে তোকে ।। আবির আমাকে খায়িয়ে দিচ্ছিলো ,,,তখন মনে হচ্ছিলো।। কোনো ছোটো বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছে।। সত্যি ই অন্যরকম ছিলো ।। কিন্তু বিরিয়ানিতে যে আমার এলার্জি,,এখন কি হবে ।। যদি এখন এই সমস্যা টা দেখা দেয় ,,তখন কি হবে..!!!
তাই তাড়াতাড়ি শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।। একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম নিজের অজান্তেই।।

ঘুমের মধ্যে মনে হচ্ছে পুরো শরীর জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে,, কিন্তু আমি চোখ খুলতে ইচ্ছুক নই।। আমি জানি এখন চোখ খুললে ,,, এলার্জি আরো আঁকড়ে ধরবে আমাকে ।। অনেকক্ষন চেষ্টা করার পরও পারলাম না,, চোখ বন্ধ করে রাখতে ।। তাড়াতাড়ি উঠে আয়নাতে তাকাতেই আমি চমকে গেলাম।। আমার অবস্থা দেখে।। পুরো শরীর লাল হয়ে গেছে।। যেনো রক্ত বর্ন ধারন করেছে।। প্রচুর জ্বলছে ।। তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমে ঢুকে হাত পায়ে পানি দিচ্ছি ,, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।।
চিৎকার করে সবাইকে ডাকছি ।। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই আমার রুমে এসে আমাকে দেখে থমকে যায়।। আমার পুরো শরীর লাল হয়ে গেছে,, তার উপরে আমি দুহাত দিয়ে নিয়ে চুল টানছি ।। রুমের অবস্থা নাজেহাল।। তাদের আর বুঝতে বাকি রইল না,,কেন আমার এই অবস্থা ,
হিয়ান ভাইয়া আর নিবিড় ভাইয়া আর জন্য ডাক্তার আনতে গেছে ।। মাম্মাম ,আপি আর আন্টি আমার শরীরে ,, বরফ দিচ্ছে।। এর মধ্যে দরজা ঠেলে রুমে ঢুকলো আবির।।

চলবে …..💞💞

#কতোবার_বোঝাবো_বল 🌿
#ইফা_আমহ্নদ
পর্ব::১১

আবির এসেই আমার গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিল।। আমার এই অবস্থা আর তিনি আমার গায়ে হাত তুললেন।। আজ পর্যন্ত কেউ আমার গায়ে হাত তো দূরে থাক,,,চোখ রাঙিয়ে কথা অবধি বলে নি।। তিনিই প্রথম যে আমার সাথে এতো রুড বিহেব করে ।। কিন্তু আজকে একটু বেশি ই করে ফেললো ।। শরীরে এতো যন্ত্রণা তার ওপর এতো জোরে চড়টা খেয়ে আমার বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছি।। চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে আছি।। তিনি আমার দুই বাহু ধরে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বললেন…..

— নিজেকে তুমি ,, কি মনে করো হে !! মাটানে যে তোমার এলার্জি আমাকে কেন বলো নি?? তাহলে এখন তোমাকে এভাবে কষ্ট পেতে হতো না।।( চেঁচিয়ে বললো আবির)

— আমি তো আপনার বলেছিলাম,,আমি মাটান বিরিয়ানি খাই না,,আর কিছু বলার আগেই তো আপনি আমার মুখে বিরিয়ানি তুলে দিয়েছিলেন।। চোখ রাঙিয়ে ছিলেন,, যাতে না ফেলি !!( নিচের দিকে তাকিয়ে আমি)

আবির আর কিছু না বলে আমার পাশে বসলেন,,
হয়তো অনুসূচনা হচ্ছে।। যখন যদি আমার পুরো কথাটা শুনতো তাহলে ,আমাকে এভাবে কষ্ট পেতে হতো না।। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে আমাকে দেখলেন ,, সাথে একটা ইনজেকশন ও দিলেন।। কিন্তু এখন আর কাউকে আমায় সামলাতে হলো না।। কারন শরীরের যন্ত্রণার চেয়ে ইনজেকশন এর যন্ত্রণা কিছুই না ।। যাওয়ার আগে কিছু মেডিসিন প্রেসক্রাইব করে গেলেন।। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুম জেনো আমার দুচোখে এসে ধরা দিলো ।। হয়তো ঐটা ঘুমেই ছিলো ।। না চাইতেও চোখ বন্ধ হয়ে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেলাম।।

ঘুম থেকে উঠতেই মাথায় ব্যাথা অনুভব করলাম।। হয়তো কালকে রাতের ঘটনা জন্য।। যেভাবে চুলগুলো টেনেছিলাম ।। ব্যাথা করা স্বাভাবিক।। শরীরটা তেমন ভালো লাগছে না।। তবুও তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে বেডে বসে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে প্রকৃতি দেখছি ।। এক মধ্যে ই মাম্মামের আগমন ।। হাত এক বাটি স্যুপ নিয়ে ।। কিন্তু আমার যে কোনো কিছুই খেতে ইচ্ছে করছে না।মাম্মাম আমার পাশে বসে এক চামচ তুলে মুখের সামনে ধরলেন আর খেতে বললেন।। আমি হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়ে মাথা নাড়ালাম ।। যার অর্থ খেতে ইচ্ছে করছে না।। কিন্তু কে শোনে কার কথা।। তিনি দিচ্ছে আর দিচ্ছি।। আমিও সরিয়ে দিচ্ছি।। বারবার দেওয়াতে মেজাজটা চরম বিগরে গেল,,, হাত থেকে বাটিটা নিয়ে ফেলে দিলাম।। বাটিটা কাঁচের হওয়ার কারনে ভেঙে গেল।। কিছু ভাঙ্গার শব্দ পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই আমার রুমে এসে উপস্থিত হলো।। কিন্তু সেদিকে আমি কোনো তোয়াক্বা না করে সোজা বেডে থেকে ব্লাকেট টেনে মাথাটা পেঁচিয়ে শুয়ে পড়লাম।। সবাই ভাঙা কাঁচ দেখে জানতে চাইলো,, কি হয়েছে।। কিন্তু আমি কোনো কথা বলি নি।। মাম্মাম সবাইকে বললো ,,,আসলে কি হয়েছিলো।। আবির একটু এগিয়ে এসে বেডে বসে বললো ……
আরেক বাটি স্যুপ নিয়ে আসতে ।। মাম্মাম আরেক বাটিতে স্যুপ এনতেই আবির তার থেকে স্যুপের বাটিটা নিয়ে সবাইকে চলে যেতে বললো।। সবাই চলে যেতেই আবির বাটিটা টেবিলের উপর রেখে,, ঠাস করে দরজা
লাগিয়ে দিয়ে আমার কানের কাছে এসে মুখ নিয়ে এসে বললো ……

— ভালোয় ভালোয়,, স্যুপ টা শেষ করো ।। নাহলে কালকে ট্রেলার দেখিয়েছি ,, আজকে মেরে পুরো সিনেমা দেখাবো ।। (আবির)

আবিরের কথা শুনে আমি ব্লাকেট থেকে মাথা বের করে রাগ দেখিয়ে বললাম…..

— মারুন ,,যতো ইচ্ছা মারুন ।। মারতে মারতে শেষ করে ফেলুন ,,,,তবুও আমি খাবো না।। আপনি অনেক পঁচা,,,সব সময় আমার সাথে বাজে বিহের করেন।। ইভেন্ট আমার গায়ে হাত ও তুলেছেন।।

বলেই অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে পড়লাম।। আবির আমার কাছে এসে ,, আমার হাত ধরে বললো….

— সরি ,, মিষ্টি ।। আর কখনো তোমার সাথে বাজে বিহের করবো না,,, হাত ও তুলবো না।। দোষটা আমার ছিলো ,, আমি যদি তোমাকে বলার সুযোগ দিতাম,,তাহলে এমন কিছু হতো না।। সরি তো!!( করুন সুরে আবির)

আমি তবুও কোনো রিয়েকশন দিলাম না।।আবার অন্যপাশ ফিরে শুয়ে পড়লাম।। আবার আবির অন্যপাশে এসে বলতে লাগলো ….

— সরি তো ।। ওকে কান ধরছি ,,, এই তো নাক ধরছি ।। পিলিস খেয়ে নাও।।( কান ধরে ইনোসেন্স ফেইস করে আবির)
তারপর উঠ বস করতে শুরু করলো ।।যা দেখে আমার প্রচুর হাসি পাচ্ছে।। তার মাথাটা ব্লাকেটের ভেতরে ঢুকিয়ে মিটমিট করে হাসছি।।

— আমার তো পা ব্যাথা করছে।। এবার মাপ করে দাও পিলিজ !!( করুন সুরে আবির)

— আমি কি বলেছি,, আপনাকে উঠ বস করতে ।। তাহলে আমাকে কেন বলছেন ??(ব্লাকেটের ভেতরে থেকে আমি )

তারপর ওপাশ থেকে কোনো কথা শোনা গেল না।। হঠাৎ”” ওয়া ওয়া “” কোনো শব্দ পেয়ে ব্লাকেট শরিয়ে দেখি আবির কান ধরে উঠ বস করছে আর বাচ্চাদের মতো কাঁদছে ।। এখন আর জোরে না হেসে পারলাম না।। আমার হাসি দেখে আবির ও হেসে দিয়ে বললো..

— তাহলে মহারানির রাগ ভাঙলো।। তাহলে এখন খেয়ে নাও।। বেলা ১১.৩৭ বাজে ।।( আমার পাশে বসে আবির)

আমি শোয়া থেকে একহাতে মাথা ধরে আরেক হাতে আবিরকে ধরে উঠে বসি ।। আমার মাথায় হাত দেখে আবির জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে জানতে চাই , আমার কি হয়েছে।। আমিও বলি ,, কালকে চুলগুলো টানাটানি করাতে এমন হয়েছে।।
তারপর আবির স্যুপের বাটিটা হাতে নিয়ে আমাকে খায়িয়ে দিতে লাগলো।। আমিও একটা ,,টেডি স্মাইল দিয়ে খেতে লাগলাম।।সবটা খেতে চাইনি ,,, কিন্তু আবির জোর করে খায়িয়ে দিয়ে বাটিটা টেবিলের উপর রেখে,, ড্রয়ার থেকে একটা ভাম বের করে আমার মাথাটা তার কোলে রেখে ,,ভাম দিয়ে মাথাটা টিপে দিতে লাগলো।।
আমার চোখের চাওনি আর আবিরের চোখের চাওনি,,এক দিকেই স্থীর হয়ে আছে ।। শুধু দুজন দুজনের দিকে।। আবির আমার চোখে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে দিয়ে আমাকে ঘুমাতে বললো । আমিও চোখ বন্ধ করে আবিরকে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লাম।।

🌿🌿🌿

আবিরদের বাড়ি থেকে ফিরেছি প্রায় এক সপ্তাহ ।। এই এক সপ্তাহে শুধু পড়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।। আর মাএ ২ দিন পর ফাস্ট সেমিনার।। আমি পড়াশোনা নিয়ে সব সময় সেনসিটিভ ।। কিন্তু ভার্সিটিতে এডমিট হওয়ার পর থেকে একদম পড়াশোনা হয়নি ।। তাই এই এক সপ্তাহে সব পড়া কম্পিলিট করেছি ।। এখনো কিছু বাকি আছে ,,,তাও করে নিবো ।। এখন ভার্সিটিতে আমি একা একা স্কুটি নিয়ে যাই না।। ভাইয়া অফিসে যাওয়ার সময় ড্রোভ করে দেয় আর ফেরার সময় আহাদ কিংবা জয় পৌঁছে দিয়ে যায় ।। আর এই সময়ে আমি বই পড়তে থাকি ।। ইভেন্ট মাম্মাম আমাকে খায়িয়ে দেয় আর আমি তখনও বই পড়ি।।আর এই কয়দিনে আবিরের সাথে তেমন কথা হয়নি।। অবশ্য কথা হয়েছে,,তবে বেশি না,,ঐআর কি ।। কেমন আছি আর বাসায় সবাই কেমন আছে।।এই পর্যন্ত।। তবে আয়ানের সাথে কথা হয়েছে।। জেচে পড়ে আমার সাথে কথা বলতে এসেছে ,, আমিও একটু আধটু কথা বলতাম।।আপির বিয়েটা আমার এক্সামের পরে ।। তবে এখানে না,,গ্ৰামের বাড়িতে।। কালকে তাসফির জন্মদিন,,তাই কালকের দিনটা অনেক সেলিবব্রেশন করতো তাই রাত জেগে পড়ছি ।।আর মিষ্টি প্রেমিকের সাথে একটু আধটু কথা হতো।।
এখন রাত ৩ টা বাজে ।। ঘুমের কারনে চোখ খুলে রাখা দায় ।। পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম নিজেই তা জানা নেই।।

ঘুম থেকে উঠে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে ব্রেক ফাস্ট করে ভাইয়া সাথে বেরিয়ে এলাম ভার্সিটির উদ্দেশ্য।। আধ ঘন্টার মধ্যে নোটস নিতে পারলে আবার ভাইয়ার সাথে ফিরতে পারবো ,,,,তাই গাড়ি থেকে নেমে তাড়াতাড়ি ভার্সিটির ভেতরে ঢুকে পড়লাম।। হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতে নিলেই ,,,সে আমার কোমর জড়িয়ে ধরলো ।। আমি চোখ দুটো খিচে বন্ধ করে নিলাম।। চোখ খুলে আবিরকে দেখতে পেলাম।।সে আমাকে ছেড়ে দিতেই ,, আমি সরি বলে তাড়াতাড়ি ক্লাস রুমের দিকে পা বাড়ালাম।। কিছুদূর যেতেই পেছন থেকে আবির বলে উঠলো ……..

— এতো বইয়ের দেবী হলে করে থেকে ।।নাকি শুধু ভার্সিটিতে আসলেই পড়ার কথা মনে পড়ে!!!

আবিরের কথায় কোনো পাত্তা না দিয়ে সোজা ক্লাসে গিয়ে নোটস কালেক্ট করে ভাইয়ার সাথে বেরিয়ে এলাম।।

সন্ধ্যা হতে‌ তাড়াতাড়ি রেডি লাইট অফ করে শুয়ে পড়লাম। মাম্মাম এসেছিলো ,,,তাকে বলেছিলাম।। আজকে শরীরটা ভালো নেই।। পড়বো না ।। আর ব্লাকেট থেকে মুখ তুলটা তুলি নি,,,তাই আমার সাজগোজ দেখতে পায়নি।।

মাম্মাম চলে যাওয়ার পর ই দরজাটা লক করে বেলকেনিতে গিয়ে সুপারি গাছ বেয়ে নেমে ,,, বেরিয়ে এলাম ক্লাবের উদ্দেশ্যে।।

চলবে ……..💞💞

( ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,,,,,, ধন্যবাদ)