চোখের দেখাই সব নয় পর্ব-০৭ এবং শেষ পর্ব

0
63

#গল্প_চোখের_দেখাই_সব_নয়
#সপ্তম_তথা_শেষ_পর্ব

জানো বৌমা! সেই গভীর রাতে যখন আমার হারিয়ে যাওয়া মেয়ের কান্না জড়িত কন্ঠে মা ডাক শুনতে পেলাম। তখন কেনো জানি আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো! এতোদিন পরে শ্রাবন্তীর কান্না জড়িত কন্ঠ শুনে নিজের অজান্তেই আমি কেঁপে উঠেছিলাম! ভ*য়ংকর কিছু শোনার আশংকায় ভেতরটা কেমন ভ*য়ে কুঁকড়ে গিয়েছিল আমার। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল।

মনে হচ্ছিল বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। বুকের ভিতরটাতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো আমার! তবুও অনেক কষ্ট করে জিজ্ঞেস করেছিলাম তুই কোথায় শ্রাবন্তী? তোর কি হয়েছে মা! কাঁদছিস কেন? কোন ভ*য় নেই মা! সব ঠিক হয়ে যাবে! শ্রাবন্তী শুধু এইটুকু বললো, মা আমাকে ওরা নষ্ট করে ফেলেছে!

তা শুনেই আমি চমকে উঠে জিজ্ঞেস করলাম তুই তবে এখন কোথায়? মা! মৃদুল আমাকে একটা খারাপ পাড়ায় বিক্রি করে দিয়েছে! তোমরা এসে এই নরক থেকে আমাকে নিয়ে যাও! আমি এখানে থাকলে মরে যাবো মা! আমি এদের নি*র্যাতন আর সহ্য করতে পারছি না মা!

আমি তারাতাড়ি তোমার শ্বশুরকে ডেকে তুললাম। শ্রাবন্তীকে বললাম তোর বাবার সাথে কথা বল। আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না। শ্রাবন্তী ওর বাবাকে কেঁদে কেঁদে একই কথা বলে গেল। শ্রাবন্তী ওর বাবার কাছে ঠিকানা বলে দিলো।

তোমার শ্বশুর ফোন রাখার আগেই ফোনটা কেউ কেটে দিলো। এরপর বারবার ফোন করেও শ্রাবন্তীর দেয়া ঐ নাম্বারে আর ফোন করা গেল না। কিন্তু তবুও তোমার শ্বশুর হাল ছেড়ে দিলেন না। শ্রাবন্তী আমাদের বড় সন্তান। তাই সবার খুব আদরের মেয়ে ছিলো সে।

সকাল হতেই তোমার শ্বশুর সেই ঠিকানায় শ্রাবন্তীকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়লেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো প্রায় সপ্তাহ দুয়েক খোঁজার পরে-ও আর শ্রাবন্তীকে পাওয়া গেল না! এদিকে তোমার শ্বশুর এলাকার নেতা থেকে শুরু করে পুলিশ পর্যন্ত গিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ শ্রাবন্তীর খোঁজ এনে দিতে পারেনি। বরং তোমার শ্বশুরকে বিভিন্ন অপ্রীতিকর প্রশ্নের সম্মূক্ষীন হতে হয়েছে।

শ্রাবন্তীকে তো পাওয়াই গেল না। মাঝখান থেকে এই কথাটা সবার কাছে প্রকাশ হয়ে গেল। আমাদের বড় মেয়ে শ্রাবন্তী একটা খারাপ পাড়ায় আছে! আর এই কারণে আমাদের মুখ দেখানোই প্রায় দায় হয়ে গেল। শায়লা শিমু ওরাও তখন বেশ বেড়ে উঠেছিলো। ওরা বের হলেই এলাকার বখাটে ছেলেদের খারাপ মন্তব্য শুনে কেঁদেকেটে অস্থির হয়ে বাড়ি ফিরতো। মারুফের তখন বার তের বছর বয়স। ওঁকেও অনেক কটু কথা লোকজন শুনিয়ে শুনিয়ে বলতো। মারুফ কে শ্রাবন্তীই কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে। বুবু বলতে ও সবসময় তাই পাগল ছিলো। মারুফ আমাকে একদিন বলেছিল, মা তুমি দেখে নিও! আমি একদিন নিশ্চয়ই বুবুকে খুঁজে বের করবো।

তোমার শ্বশুরকে বিভিন্ন অপ্রীতিকর কথা হরহামেশাই শুনতে হতো। তিনি তবুও সেগুলোকে উপেক্ষা করে শ্রাবন্তীকে খুঁজে গেছেন।

এমনকি কিছু লোক আড়ালে আবডালে তোমার শ্বশুরকে মেয়ের দা*লাল বলতেও পিছপা হয়নি! বৌমা সব মানুষের একটা সহ্যের সীমা থাকে। কারও একটু বেশি কারও বা কম।

হঠাৎ একদিন তোমার শ্বশুর বাইরে থেকে এসে শ্রাবন্তীর সব জামা কাপড় ও ওর সমস্ত ফটো একসাথে করে আ*গুন ধরিয়ে দিলেন।

আর উচ্চস্বরে বললেন, আমার দুই ছেলে দুই মেয়ে! শ্রাবন্তী নামের কোন মেয়ে কখনোই কোনদিন ছিলোনা আমাদের! একথা বলে তিনি একটা চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়ে বিরবির করে বললেন, শ্রাবন্তীর জন্য আমার আর কোন ছেলেমেয়েদের জীবন আমি নষ্ট হতে দিতে পারি না!! আজ থেকে এ বাড়ির সবাই ওর নাম ভুলে যাবে! ওর স্মৃতি ভুলে যাবে। শ্রাবন্তী বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে একজন বখাটের সাথে পালিয়ে গিয়ে যে ভুল করেছে। তার শাস্তি সে পেয়েছে! তাই বলে তার ভুলের কারণে আমার অন্য ছেলে মেয়েরা সেই শাস্তি পাবে? আজ থেকে সে আমাদের কেউ না! কারও মুখে যেনো তাঁর নাম না শুনি! ছেলে মেয়েদের ডেকে তিনি বললেন, তোমরা চার ভাই বোন! কথাটা সবাই খুব ভালো করে মনে রাখবে। কোনদিন শ্রাবন্তীর নাম ও পরিচয় কাউকে জানাবে না। নয়তো আমিও তোমাদের ছেড়ে দুচোখ যেদিকে যায় চলে যাবো। সেদিন তিনি সারারাত সেখানেই বসে ছিলেন। এর পরের দিন আমরা সবাই গ্রামের বাড়িতে চলে আসি।

আমার শ্বাশুড়ি হাতের ফটোটা দেখিয়ে বললেন, এই একটা ফটো আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম। তিনি নিজের বুকের উপর মেয়ের ছবিটি চেপে ধরে আবার কান্নায় ভেঙে পড়লেন।

আর বললেন এরপর থেকে শ্রাবন্তী আমাদের পরিবারে শুধু ছবি হয়ে রইলো। এখানের কেউ ওর সমন্ধে কিছু জানে না। এমনকি মাসুদও মাত্র কয়েক দিন আগে জানতে পেরেছে। ওর একটা বড় বোন ছিলো! যার নাম শ্রাবন্তী! অনেক আগেই সে মারা গেছে।

মারুফ যে শ্রাবন্তীকে খুঁজে পেয়েছে। সেই খবর আমি জানতাম না। যেদিন জানতে পারলাম সেদিন শ্রাবন্তীর মুমূর্ষু অবস্থা! মাত্র একটা দিন ওর সাথে কাটাতে পেরেছি আমি!

আমি পরে মারুফ কে জিজ্ঞেস করলাম, তুই শ্রাবন্তীকে কোথায় খুঁজে পেয়েছিস? আর খুঁজে পেয়ে আমার কাছে কেন নিয়ে আসলি না। ও জবাব দিলো, বুবু অনেক দিন ধরেই আমাদের সেই পুরনো থাকার জায়গায় ঘুরেফিরে আমাদেরকে খুঁজে চলেছিলো। হঠাৎ একদিন সে আমার সামনে পড়ে যায়। আমি তাঁকে মাত্র কয়েকদিন ধরেই ও-বাড়িটায় এনে রেখেছিলাম। বাড়িটা আমার বাসার কাছে হওয়ার কারণে ওর খোঁজ নিতে সুবিধা হচ্ছিল। আমি ভাবছিলাম ! বুবুকে তোমার কাছে নিয়ে গিয়ে পরামর্শ করবো, তাঁকে কোথায় রাখা যায়। কিন্তু তার আগেই সায়মার চোখে পড়ে গেল সে। এবং পুরো ঘটনাই পাল্টে গেল।

সায়মার ব্যবহারে বুবু বুঝতে পারে, কেউ আর এখন তাঁকে স্বাভাবিক ভাবে নিবে না। দুদিন আগে আর পরে হোক তার পরিচয় নিয়ে কারও না কারও কাছে তাঁকে অ*পমানিত হতে হবে। সত্যি বলতে মা! বুবুর নিজের জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। তার হৃদয়ে শুধু একটা বাসনাই অবশিষ্ট ছিলো। যেনো শেষবারের মতো নিজের পরিবারের সবাইকে একবার চোখের দেখা দেখতে পারে।

সায়মার অ*পমানের কারণে হয়তো সেই ইচ্ছেটাও মরে গিয়েছিল? আমার শ্বাশুড়ি চোখের জল মুছে বললেন, বৌমা! তোমার হয়তো দেরি হয়ে গেল। আবারও যদি আমাকে মনে পড়ে তবে বেড়াতে এসো!

আমি চমকে উঠে জিজ্ঞেস করলাম, একথা কেন বলছেন মা! আমি কোথায় যাবো? এটাই তো আমার বাড়ি! আমার মা আমাকে এই কথা বলতে শুনে ভীষণ খুশি হয়ে বললো, হ্যা ঠিক তাই!

বিয়াইন সাহেবা মেয়ে আমার হলেও, সায়মা আপনার পুত্রবধূ! আমি চলে যাচ্ছি। সায়মা এখানেই থাকবে। মেয়েদের কে শ্বশুর বাড়িতেই সবচেয়ে বেশি মানায়।

আমার শ্বাশুড়ি আমাদের অবাক করে দিয়ে বললেন, আমার ছেলের যদি তাই মত থাকে? তবে আমার কোন আপত্তি নেই!

কিন্তু একটা কথা ভালো করে শুনে রাখো বৌমা! চোখের দেখাই সব সময় সব নয়! এর বাইরে অনেক কিছু থাকতে পারে? তোমাদের জেনারেশনটা যেনো কেমন বৌমা! একটুখানিতেই অনেক বেশি প্রতিক্রিয়া করে বসে! কাউকে ভালোবাসলেও পাগল হয়ে নিজের হাত কাটতে বাঁধে না, তাদের। আবার একটুখানি সন্দেহর কারণে কষ্ট পেয়ে ভালোবাসার মানুষের নাক কাটতেও বাঁধে না।

এমন কেন বৌমা? মারুফ কে তুমি অনেক ভালোবাসো সেকথা আমার, তোমার পরিবারের সবাই জানে। কিন্তু একটা সন্দেহজনক কিছু দেখে সেটা যাচাই বাছাই না করেই জীবনের সবচেয়ে বড় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও দেরি করলে না! এমনটা কেন বৌমা?

তোমার পরিবার আছে। মারুফের পরিবার আছে। কই কারও কাছেই তো একটা পরামর্শ নিতে গেলে না! এমন কেন বৌমা? যার কাছে পরামর্শ নিলে। সে তোমার বান্ধবী মুনা! সে তোমাকে ভালো পরামর্শ দেওয়ার পরিবর্তে তোমার মনের আ*গুন আরও উস্কে দিলো। আর সেই আ*গুনে আরেকটু হলেই তুমি সুখের সংসার পু*ড়িয়ে ছা*রখার করে দিচ্ছিলো! এমন কঠিন সিদ্ধান্তেও কি মুরুব্বিদের তোমরা নিজেদের চাইতেও অনভিজ্ঞ মনে কর?

আমি আর কোন কথা শুনতে চাইলাম না। শুধু জিজ্ঞেস করলাম, মারুফ কোথায় মা? শ্বাশুড়ি আমাকে ইশারায় বাগানটা দেখিয়ে দিলো। আমি দৌড়ে বাগানে চলে গেলাম।

মারুফ বাগানে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকে ফুঁকে ধোঁ*য়া ছেড়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলো। আমাকে আসতে দেখে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলো। আমি জোর কন্ঠে বললাম, দাঁড়াও মারুফ! আমাকে ফেলে কোথায় যাচ্ছো?

মারুফ দাঁড়িয়ে পিছনে ফিরে জবাব দিলো যেখানে যাবার কথা। আমিও তোমার সাথে যাবো মারুফ! মারুফ হেসে বলে, সেই অধিকার তুমি নিজের ইচ্ছেতে ছেড়ে দিয়েছো! আমি সামনে গিয়ে ওর হাতটা ধরতে চাইলে সে হাতটা সরিয়ে নিলো। বললাম সব ভুলে যাও মারুফ! মারুফ একটুখানি হাসি উপহার দিয়ে বলে, সবকিছু ভুলে যাওয়া কি এতোই সহজ?

তুমি যা করেছো। আমার কাছে তার কোন ক্ষমা নেই! তুমি আমার সামনে থেকে চলে গেলেই আমি খুশি হবো সায়মা!

এই কথা বলে মারুফ আমার সামনে দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। আমি যেনো ওঁকে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি। সর্বস্ব হারানোর মতো অসহায় দূর্বল মনের অধিকারিণী আমি! নিভে যাওয়া প্রদীপের মতো কালো মুখটা নিয়ে শ্বাশুড়ি ও নিজের মায়ের সামনে গিয়ে কেঁদে উঠে বললাম, মারুফ আমাকে ফেলে গেছে! বলেছে কোন দিন সে আমাকে ক্ষমা করতে পারবে না। একথা শুনে সবার মুখের হাসি চলে গেল।

মাসুদ এগিয়ে এসে বলল, ভাবী! সে ফেলে গেছে বলে নিরাশ হয়ো না। সে ফেলে গেছে, তুমি চলে যাও! আমিও যাবো তোর সাথে বললো, আমার মা। শ্বাশুড়ি বললেন, বৌমা! তাই কর। তুমি সেখানে গেলে আমার ছেলে নিশ্চয়ই তোমাকে ফিরিয়ে দিবে না। আমার ছেলে কে তেমন শিক্ষা আমি দেইনি।

কিন্তু এখন নয়। ওর মাথা ও মনটা একটু শান্ত হোক। তারপর যা করার করো বৌমা!

আমার শ্বাশুড়ির কথা মতো মাস খানেক পরে আমি ও আমার মা চলে এলাম আমার নিজের বাড়িতে। আমার স্বামী তখনও অফিস থেকে বাসায় ফেরেনি। পাশের ফ্ল্যাটের ভাবী আমাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খুশি হয়ে বললেন, আসুন! আসুন! ভিতরে এসে একটু রেস্ট নিন ভাবী! ততক্ষণে মারুফ ভাই এসে যাবে।

মা ভাবীর সাথে গেলেও আমি কিন্তু চিন্তিত হয়ে দাঁড়িয়ে মারুফের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরে মারুফের দেখা পাওয়া গেল। সিঁড়ি ঘুরেই উপরে তাকাতেই থমকে দাঁড়ালো সে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে না-কি? সে হঠাৎ করে আমাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হয়তো চমকে উঠেছে! একটু ধাতস্থ হয়ে জবাব দিলো তা কেন? কিন্তু তুমি এখানে কেন? আমি নির্ল*জ্জের মতো বললাম, বাহ্ রে! আমার বাড়িতে আমি আসবো না! তুমি কি তাই মনে করেছিলে না-কি?

দরজাটা খুলে দাও দেখি! মারুফ একটুখানি উপহাসের হাসি আমাকে উপহার দিয়ে জিজ্ঞেস করে, তুমি দেখি নির্ল*জ্জ হতেও জানো? আমি বোঝে শুনেই এসেছি। আমাকে অনেক অ*পমান হজম করতে হবে জানি! তাই হাসির বিনিময়ে হাসি দিয়ে বললাম, তোমার কাছে তো আমার কোন ল*জ্জা নেই।

দরজাটা খুলে দাও দেখি! মারুফ সোজাসাপটা বলে, সায়মা তুমি চলে যাও! তোমার সাথে আর আমার সংসার করা হবে না। যেখানে বিশ্বাস নেই সেখানে সংসার হয় না,সায়মা! আমি জিজ্ঞেস করলাম বিশ্বাস কার ভেঙেছে? আমার তো! তবে সেদিন স্বামীর অধিকার নিয়ে ধমকে উঠে কেন আমার বিশ্বাস ফিরিয়ে আনলে না? কেন সেদিন চেঁচিয়ে উঠে বললে না, সায়মা। শ্রাবন্তী আমার বড় বোন! কেন বলোনি মারুফ?

বলতে চেয়েছিলাম সায়মা! কিন্তু তুমি সেদিন আমার কোন কথাই শুনতে চাওনি। যদি বলতাম শ্রাবন্তী আমার বড় বোন! তবুও সেদিন তুমি বিশ্বাস করতে না, আমার কথা। কারণ অবিশ্বাস তোমার চোখ কান সব বন্ধ করে দিয়েছিলো। তোমাকে আমি একবারও বোঝাতে পারতাম না যে, চোখের দেখাই সব নয়। মানুষের মনের মধ্যেও বা অন্য কোথাও কিছু থাকতে পারে?

আমি কেঁদে উঠে বললাম, তুমি তবুও একবার ধমকে উঠে বলতে, উনি তোমার বড় বোন ছিলেন। মারুফ এবার চোখের জল ছেড়ে দিয়ে বলে, আমার বোন আমাকে বলতে নিষেধ করেছে। আমি ধমকে উঠে তোমাকে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার বড় বোন চায়নি তাঁর পরিচয়ের সাথে তার নিষ্ঠুর পরিনতির কথা প্রকাশ হয়ে যাক। কারণ এতোদিন পরে বোনের পরিচয় পাওয়ার পরে সাধারণতই প্রশ্ন জাগবে এতোদিন সে কোথায় ছিলো? কি করতো? হাজার মিথ্যা কথা বলেও সত্যিটা গোপন রাখা যেতোনা,সায়মা!

আমি তখন বললাম, তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারলে না? অবিশ্বাস আমি তোমাকে করিনি কিন্তু তোমার অধিক কৌতুহল আমাকে সত্যি প্রকাশে বাধ্য করতো! সেটা আমি চাইনি। তোমার চোখে আমি ছোট হতে চাই নি! যেমন চায়নি আমার বড় বোন! কথাগুলো একদমে বলে থামলো মারুফ!

জেনে রাখো এই পৃথিবীতে নিজের পা*গল মানুষ বেঁধে রাখে। কিন্তু পরের পাগল দেখলে হাত তালি দিতে ভুলে না! সবারই একটা আত্মমর্যাদা থাকে। এবং সেটাকে স্বযত্নে আগলে রাখতে হয়।

তুমি চলে যাও সায়মা! এতো অবিশ্বাস মনের মধ্যে নিয়ে সংসার করা যায় না। আজ হয়তো সত্যিটা জেনে তোমার বিশ্বাস আবার ফিরে এসেছে। কিন্তু জীবনের আরও অনেক ঘটনা বাকি আছে হয়তো? সবসময় কে তোমার বিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে? কেন তুমি! আমি মারুফের হাতটা শক্ত করে ধরলাম।

মারুফ বলে তবুও? বিশ্বাসে একবার ফাটল ধরলে তা আর জোড়া লাগানো কঠিন। আমি বললাম আর ফাটল ধরাতে পারবে না কেউ। কারণ এবার তাঁকে এমন এক শৃঙ্খলে বেঁধেছি তাতে আর ফাটল ধরার কোন সম্ভাবনা নেই।

এমন সময় আমার মা এসে বললেন, বাবা মারুফ! আর কতক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবো? দরজাটা খুলে দাও বাবা! মারুফ মা’কে সালাম দিয়ে বলে, আমি একদম জানতাম না। আপনি এসেছেন আম্মা! মারুফ দরজা খুলে দিলো। প্রাণ ভরে দম নিয়ে আমরাও ঘরে প্রবেশ করলাম।

সমাপ্ত,,,