তুই হবি আমার পর্ব-০৬

0
1802

#তুই_হবি_আমার??
#DîYã_MôÑî
#পর্ব__০৬

আজ তিনদিন যাবৎ আরাভ আলিজার পেছন পেছন ঘুরছে। ক্লাসের বাইরে, ক্যান্টিনে, কলেজ গেটে এমনকি লেডিস বাথরুমের সামনেও ওকে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
আলিজাকে সামনে পেলে ও যাস্ট তিনটা ওয়ার্ড বলে ” I Love You ” আর আলিজা প্রতিরাবের মতো উত্তর না দিয়েই বেরিয়ে যায়।

ঘটনাটা বাতাসে ভাসতে লাগলো যে ” আরাভ সেই মেয়েটার পেছনে ঘুরছে যাকে নিয়ে র্যাগিং কেসটা ঘোলাটে হয়েছে “ওদিকে রোজ ও কলেজের কাজে কম মাথা ঘামায় শুধু পড়াশুনা আর NgO নিয়েই থাকে। কিন্তু আজ বিকালে ক্লাস শেষে বের হওয়ার সময় ও আলিজাদের ডিপার্টমেন্টের সামনে আলিজা আর আরাভকে একসাথে দেখতে পায়। আলিজার চোখেমুখে একটা অসহায়তার ছাপ,, আর আরাভের চেহারায় তীব্র ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্খা। রোজ দূর থেকে ওদের দেখছে ঠিক তখনই রওশন পেছন থেকে ওর কাধে হাত রাখলো,,, রোজ চমকালো না কারন স্পর্শটা ওর খুব চেনা। ও আরাভদের দিকে তাকিয়েই রওশনকে প্রশ্ন করলো,,

রোজ : কাউকে ভালোবাসলে কি কি করা সম্ভব.? নিজের অতিত, নিজের পরিচয় কি ভুলে থাকা যায়.? নতুন ভাবে কি সব শুরু করা যায়.?

রোজের হঠাও এমন প্রশ্নের আক্রমনে থতমত খেয়ে যায় রওশন।এমন প্রশ্ন কেন করলো রোজ জানা নেই ওর।

রওশন : রোজ কি হয়েছে তোর.?
রোজ : আমার? কই কিছু হয়নি তো। কিন্তু আমার মনে হয় আপিলা হয়তো আরাভ ভাইয়াকে পছন্দ করে আর আরাভ ভাইয়াও।

রওশন : ওয়েট ওয়েট,, আরাভ মানে সেই ছেলেটা যে তোর সাথে সবসময় মিসবিহেভ করে সে.? যে আলিজাকে কলেজের ফার্স্ট দিন টর্চার করেছিলো সে.?

রোজ : হ্যা। ওই যে সামনে দেখো ওরা দুজন দাড়িয়ে আছে। ওদের দেখে কেমন জানি লাগছে। তোমাকে আর ঈশা আপুকেও এমন অবস্থায় দেখেছি আমি। কিন্তু তখন বুঝতাম না এসব কি ? আবেগে আপ্লুত হতাম শুধু। তবে এখন বুঝি এমন সিচুয়েশনের কারন কি,, এই অনুভুতির মানে কি?

রওশন : তবে ওর মতো ফ্লট চরিত্রহীন ছেলের সাথে আলিজার,,

রোজ : আমার মনে হয় না আরাভ ভাইয়া এতোটা খারাপ। কারন ও যদি খারাপই হতো তাহলে ও চাইলেই জোর করতে পারতো,, ওর ক্ষমতা আছে জোর করার। এভাবে ভিখারির মতো ঘুর ঘুর করতো না। তাছাড়া আপিলা যে প্রথম দেখায় আরাভ ভাইয়াকে পছন্দ করে ফেলেছিলো সেটা ওর চোখ দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম। আপিপুও সন্দেহ করেছিলো। কিন্তু কিছু বলেনি।

রওশন : তার মানে তুই বলতে চাচ্ছিস আরাভ কোনো কারনে এমন হয়েছে,, কোনো অতিত বা কোনো কষ্টের কারনে ও মেয়েদের সাথে এমন করে.?

রোজ : হতেই পারে। একটা মানুষের অতিত বর্তমান ভবিষ্যৎ তিনটা মিলেই জীবন। দেখো না আমাদের অতিতটার জন্য আমরা কেমন অগোছালো.. ভুল না করেও শাস্তি পেয়েছি,, কঠিন হয়েছি। বলতে গেলে হৃদয় নামক বস্তুটা আর আমার মধ্যে অবশিষ্ট নেই,, মন আছে তবে সেটা নিজেকে প্রমান করার তাগিদে ব্যস্ত। আচ্ছা হৃদয় আর মনকি সত্যিই আলাদা.?

রওশন : তুই কি করতে চাইছিস .? ওদের এক করবি.? বাড়িতে হয়তো মেনে নিবে কিন্তু তুই কি মানতে পারবি.? নিজেকে বোঝাতে পারব.?

রোজ : আমি কিছুই করবো না। আপাতত ওরা যা চায় তাই করুক। এখন শুধু নীরব দর্শক আমরা। সময় আসলে হয়তো কিছু করলেও করতে পারি। সেটা পরের কথা
আচ্ছা এসব বাদ দাও ঈশা আপু কোথায়.?

রওশন : খানিকক্ষন আগে দেখলাম একটা ছেলে এসে নিয়ে গেলো। ওর উডবি হয়তো।

রোজ : তোমাদের বিয়ে হয়ে গেলে কলেজের অনেক ছেলেমেয়ে কষ্ট পাবে। বেচারা রা তোমাদের নিয়ে রীতিমত স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। ছেলেরা ঈশাপু আর মেয়েরা তুমি বলতেই অজ্ঞান। কিছুদিনের মধ্যেই এতো স্টুডেন্ট পটালে কেম্নে.?

রোজের কথায় হেসে দিলো রওশন। তারপর রোজ কে নিয়ে ক্যাম্পাসের সাইড দিয়ে হাটতে লাগলো।


এদিকে আলিজার সামনে হাটু গেড়ে কান ধরে বসে আছে আরাভ,, বারবার সরি বলছে কিন্তু আলিজা পাত্তাই দিচ্ছে না।

আরাভ : আরে বাবা সরি বলছি তো। একবার রাজি হয়ে যাও ভালো হয়ে যাবো আমি। কোনো মেয়ের দিকে তাকাবো না। সারাদিন তোমার পেছনে গোলামী খাটবো। দরকার পড়লে চোখে কাপড় বেঁধে রাখবো। এবার তো রাজি হও।

আলিজা : আমি বাড়ি যাবো। আপনার ফালতু ড্রামা দেখার টাইম নাই আমার।

আরাভ : কেন করছো এমন..? আগে তো গেম খেলতেই চেয়েছিলাম কিন্তু সত্যিই এখন আমি তোমাকে ভালোবাসি। প্লিজ ট্রাস্ট করো।

আলিজা : ট্রাস্ট আর আপনাকে.? আপনাকে ট্রাস্ট করার মতো কি কোনো কারন বা যুক্তি আছে.? থাকলে কাইন্ডলি একটু বলুন প্লিজ।

আরাভ : আমি কি এতোটাই অযোগ্য.? আমাকে কি একটুও বিশ্বাস করা যায় না.? আমার অতিত নিয়েই সবার মাথাব্যাথা.? কেউ আমাকে কেন বুঝতে চায়না.?

আলিজা : দেখুন আমার কারোর অতিত নিয়ে কখনো কোনো সমস্যা ছিলো না আর এখনো নেই। সমস্যা হলো আপনার মন আর চরিত্র। আজ একরকম আছে, এক রকম মনে হচ্ছে, কিন্তু পরিশেষে আপনি ঠিক আগের মতোই হয়ে যাবে। যদি প্রমান করতে পারেন যে আপনি আমাকে সত্যিই ভালোবাসেন তাহলে ভালোবাসার দাবি নিয়ে আসবেন নাহলে না।

আরাভ : ঠিক আছে। তবে এবার আমি না তুমি নিজে আমায় বলবে যে তুমি আমাকে ভালোবাসো।

আলিজা : (ভালো তো বাসি। কিন্তু বারবার নিজের কাছে হেরে যাই। একটা মেয়ে সব মানতে পারে কিন্তু নিজের ভালোবাসাকে অন্য মেয়ের কঙ্কালের সাথে মানতে পারে না। আপনাকে প্রথমদিন দেখে মনে হয়েছিলো এমন একটা ইনোসেন্ট চেহারার ছেলে অবশ্যই ভালো হবে,, ক্রাশ খেয়েছিলাম বললে ভুল হবে সেটা লাভ এট ফার্স্ট সাইট ছিলো। হয়তো ভালোবাসাটা আমার কপালে নেই। আজ বুঝলাম রোজের কষ্টটা ঠিক কতটা,, যখন কাউকে ভালোবেসে স্বেচ্ছায় কষ্ট পেতে হয় তখন মনের ভেতরের ক্ষতটা কতো গভীর হয় সেটা বোঝার ক্ষমতা আর কারোর নেই,, থাকে না।) এবার আসছি আমি।


বিকালে ঈশা এবং ওর উডবি অভি কফি হাউজে বসে আছে,, অভি বারবার ঈশার হাত ধরছে আর ঈশা অপ্রস্তুত হয়ে হাত ছাড়িয়ে নিচ্ছে। তখনই সেখানে ঢুকলো রোজ রওশন।

রওশন : মাঝে মাঝে ঘুরতে হয় রোজ,,, মন ফ্রেস করতে হয় সারাদিন এটা ওটা ভাবলে দেখবি একদিন ডিপ্রেশনে চলে গিয়ে টপকে যাবি। ( রোজ কিছু বলতে যাচ্ছিলো ঠিক তখনই রওশন বলে উঠলো ) অকেই বেবি বুঝছি,, থাক আমাকে থ্যাংকস টা নাহয় পরে দিস্ আফটার অল আজকে এতো সুন্দর একটা ডেট গিফট করছি।

রোজ : আমি টপকে গেলে তোমাদের লাভ টা কি.? তোমার হবু বউ তো আরেকজনের বাগদত্তা। যাই হোক তুমি জোর না করলে আমি তো আসতামই না,, তাই ডেকে এনে কথা শুনিয়ো না। হুহ। বোনকে কফি খাওয়াবা তাতেও থ্যাংকস লাগবে.? আসছে বিলাতি ফকিন্নি।

রওশন : তাই বলে একটা থ্যাংকস দিবি না..? চেয়ে নিচ্ছি তাও দিবি না এতো কিপ্টা হলি কবে.? থাক দিতে হবে না। চল একটু কফিতে ডুব দেই পরে নাহয় হালকা পাতলা কিছু খেয়ে হোস্টেলে ফিরিস।

রোজ : পাতলা খাবো মানে.? ছি! ছি! ওসব খাওয়া যায়? এখনই পেট মোড়াচ্ছে তুমি বুঝি পাতলা পটি খাও।

রওশন : রোজকি বাচ্চি এবার কিন্তু বমি আসছে। তুই তোর ফালতু বক বক থামা।

রওশন নাক সিটকাচ্ছে আর সেটা দেখে রোজ হেসে কুটিকুটি হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষনেই ওর হাসি হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। সামনে ঈশা বসে আছে আর ওর পাশের ছেলেটা ঈশাকে টাচ করার চেষ্টা করছে।

রোজ : এই রওশন ওদিকে তাকাও আপু আর একটা ছেলে ওটা অভি ভাইয়া নাহ.?
রওশনও রোজের কথামতো ঈশাদের টেবিলের দিকে তাকালো।

রোজ : ব্যাটার বিয়ে করার খুব শখ তাইনা। চলো ওকে বিয়ে করার সাধ মেটাই।
রওশন : ওদের লাইফে ইন্টারফেয়ার করার কি দরকার চল অন্য কোথাও যাই। ওরা থাক।

রোজ : তুমি যাবে নাকি আমি একাই যাবো.? দেখো ও আপুর বিরুদ্ধে আপুকে টাচ করার চেষ্টা করছে। এটা কি ঠিক.? তুমি না আপুকে ভালোবাসো.??
আচ্ছা ঠিক আছে একটা মেয়েকে জোর করে টাচ করার চেষ্টা করছে ও এটা তো মানবে। প্লিজ চলো।

রোজ রওশনকে টানতে টানতে ঈশাদের টেবিলের সামনে নিয়ে গেলো। ঈশা রওশনকে দেখে দাড়িয়ে গেলো।

রোজ : হাই! ( বলেই অভিকে চোখ টিপ দিলো )
অভি : হ্যালো। কারা তোমরা.?

রোজ : কি বলছো জিজু.? নিজের শালিকাকে চিনো না.? আমি রোজ, ঈশাপুর ফুফুর মেয়ে। এক্চুয়ালি আমি হোস্টেলে থাকি তাই তোমার সাথে পরিচয় হয়নি।

অভি : ওহহ। ( আগে ছোট ছিলো বলে নজর দেইনি। কিন্তু এ দেখছি ঈশার চেয়েও বেশি হট আর সুন্দরি )

রোজ : বসি.? আরে জিজ্ঞাসা করছি কেন বসেই পড়ি। দেখি সরো তো।
অভি ঈশার সামনের চেয়ারে বসে ছিলো রোজ ওকে ধাক্কা দিয়ে পাশের চেয়ারে ফেলে দিলো। ধাক্কাটা বেশ জোরেই লেগেছে তাই বেচারা অভির কোমরে চেয়ারের খোচা লাগলো।

রোজ : আহ জিজু ব্যাথা পেলে নাকি.?
অভি : নাহ ঠিক আছে ( একটু হাসার চেষ্টা করে বললো )

রওশন ঈশা এখনো অপলক দৃষ্টিতে দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে। রোজ ওদের দিকে আড়ে তাকিয়ে হাসলো। তারপর রওশনকে টেনে চেয়ারে বসালো।ঈশাও বসলো।

রোজ : জান কফি অর্ডার করো।
রওশনের হাতটা ধরে বাচ্চাদের মতো আবদার করলো রোজ। রোজের এহানো কান্ডে রওশন ভীষম খেলো,, ওদিকে ঈশা তেলেবেগুনে জ্বলছে। রওশন চারকাপ কোল্ড কফি অর্ডার করলো,,

অভি : তো রোজ কোন ক্লাসে পড়ো.?
রোজ : ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার। বাই দ্যা ওয়ে জিজু ইউ আর লুকিং সো ড্যাসিং & হ্যান্ডসাম।

অভি : থ্যাংকইউ। কিন্তু ইনি কে.?
রোজ : আরে ওকে চেনো না ও তোমার হবু বউ এর ফিউচার বর।

অভি থতমত খেয়ে প্রশ্ন করলো,,
অভি : মানে.? বুঝলাম না আমি। ঈশা উনি কে..?

ঈশা : রওশন।
অভি : তোমার এক্স বি এফ.?

রোজ : আরে X, Y, Z কি.? ওদের সাথে কথা না বলে আমার সাথে বলো। ওদের কাবাবে হাড্ডি হও কেন..? ( বলেই অভির পায়ে স্লিইড করতে লাগলো। অভি চোখ বড় বড় রোজের দিকে তাকালো। )

অভি : তাই? ( বলেই রোজের প্লাজুটা পায়ের আঙ্গুল দিয়ে উপড়ে উঠাতে লাগলো)
রোজ : ( ছি! যা ভাবছিলাম তাই ঠিক। এ তো নিজেই ফ্লট,, এর সাথে ঈশা আপুর বিয়ে হবে.? কখনো না।) তো জিজু আপুর সাথে কি কি করেছো.?

এদিকে রওশন, ঈশা মাথা নিচু করে বসে আছে দুজনেরই চোখ অভি আর রোজের পায়ের দিকে। রাগে ওদের দুজনেরই শরীর জ্বলছে। ঈশা রোজের দিকে তাকাতেই রোজ ঈশাকে সবটা দেখার জন্য ইশারা করলো।

অভি : সুযোগই তো পেলাম না। করবো কিভাবে.?
রোজ : সুযোগ পাওনি.? দাড়াও ( রোজ চারিদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো ) নাও কিস হার। সুযোগ করে দিচ্ছি,, সুযোগটা কাজে লাগাও জিজু।

রোজের কথা শুনে রওশন ঈশা দুজনেই দাড়িয়ে গেলো।
রওশন ঈশা : হুয়াটটটট

অভি : (মেয়েটা বহুত শেয়ানা। নিজেও সুযোগ দিচ্ছে আবার ঈশাকে পাওয়ার সুযোগও করে দিচ্ছে। যাক আমার জন্য তো ভালোই হলো। এতোমাসের চেষ্টার পর কিছু একটা পাবো বলে মনে হচ্ছে।) মনে মনে

রোজ : দাড়িয়ে গেলে কেন.? একটা কিসই তো আমি কি অন্য কিছু করতে বলেছি..? এমন ভাব দেখাচ্ছো মনে হচ্ছে একটা কিস করলে প্রেগনেন্ট হয়ে যাবে,, কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে,,,
উফফ বসো তো তোমরা। ।

ঈশা : রোজ তোর কি মনে হয় না একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে..? দেখ আমি এসবে নেই,,, এটা এখন সম্ভব না। ইভেন কখনোই সম্ভব না।

রোজ : কেন.?
ঈশা চুপ করে বসে পড়লো। রওশন অসহায় চোখে রোজের দিকে তাকাচ্ছে। অভির মনে তখন লাড্ডু ফুটছে। তাও ঈশাকে ইমপ্রেস করার জন্য বললো।

অভি : রোজ থাক। বাদ দাও এসব। ও তো চায়না।

রোজ : কেন বাদ দিবো কেন.? তুমি তো এখন ঈশাপুর Bf এর রোল প্লে করছো তাইনা..? দেখো Bf & Gf দু একটা চুমু খেলে যেমন Gf প্রেগনেন্ট হয়ে যায় না। তেমনই বেস্ট ফ্রেন্ডের হাত ধরে হাটলে বা দু একটা ফিল্মি রোম্যান্টিক কথা বললেই তারা প্রেমিক প্রেমিকা হয়ে যায় না। তারা যা ছিলো সেটাই থাকে।

অভি : একদম ঠিক।
রোজ : দেখলে তো আপু জিজু ঠিক বুঝতে পেরেছে। কিন্তু তুমি এখনো বুঝলে না।

ঈশা রোজের দিকে তাকাতেই রোজ অভিমানে চোখ সরিয়ে নিলো। রওশন ঈশার দিকে তাকাতে চেয়েও পারলো না।

ঈশা : রোজ?? ( ভাঙা গলায় ডাকলো )
রোজ : যেটা বুঝেছো সেটাই। এইটুকুই বোঝানোর দায়িত্ব ছিলো আমার,,আর কিছু না। তাছাড়া তোমার কাছে তো আমি নষ্ট মেয়ে,, তোমার এক্স Bf এর সাথে নষ্টামি করতাম, মানলাম সেসব। কিন্তু তুমি যাকে চয়েজ করেছো তার সম্পর্কে ঠিকঠাক জানো তো.? না মানে যেহেতু আমি ওই রকম মেয়ে তো তাই ওই ক্যাটাগরির ছেলেদের খুব ভালো করেই চিনি। তাইনা সো কল্ড জিজু

অভি : হুয়াটটট। ঈশা তোমার বোন কি বলতে চাচ্ছে.? আর তুমি ওকে কিছু বলছো না কেন..?তোমার সামনে দাড়িয়ে ও আমাকে ক্যারেক্টারলেস বলছে ইভেন সেটাই প্রমাণ করার চেষ্টা।

রোজ : প্রমান করার কি খুব দরকার আছে.? আপনি তো সেটাই. নাহলে আমি যখন আপনার পায়ে স্লাইড করলাম তখন সায় দিলেন কেন.? গাছেরও খাবেন তলার ও কুড়াবেন.? আপনার মতো ছেলেদের তো,,

রোজ তেড়ে গেলো অভির দিকে। রওশন রোজের হাত ধরে বসলো,,
রওশন : যে বোঝার যোগ্য তাকে বোঝানো যায়। আর যে বোঝার যোগ্য না তাকে হাজার বার বোঝালেও সে বুঝবে না। তাই চল এখান থেকে।

রোজ : সেটাই,, চলো ভাইয়া।
রোজের হাত ধরে চলে গেলো রওশন। ঈশা এখনো পাথরের মতো বসে আছে। রোজ রওশনকে ভাইয়া বলে ডাকলো.? আর এতোক্ষন যা বললো সেটাও কি সত্য.? যদি সবটা সত্যি হয় তাহলে যে,,

ঈশা : আমি কি ভুল করছি..? শুধু সন্দেহের বশে এতোগুলো দিন, মাস, বছর ওদের কষ্ট দিলাম.?নিজেকেও তো কম কষ্ট পাইনি। কিন্তু সেদিন নিজের চোখে যেটা দেখেছি সেটা অবিশ্বাস করি কিভাবে.? নাকি সত্যিই অভি আমাকে ভুল বুঝিয়ে ছিলো,,,


৫বছর আগে,,
অভি হলো রোজদের প্রতিবেশি। ঈশাদের আসায়াওয়ার মাঝে অভি প্রায়ই ঈশাকে দেখতো,, একসময় পছন্দ করে ফেলে ঈশাকে। কিন্তু যেদিন ও ঈশাকে প্রপোজ করতে যাবে সেদিন জানলো রওশন ঈশাকে প্রপোজ করেছে,, সেদিন ওর প্রচুর রাগ হয় ও ঠিক করে ঈশা আর রওশনের রিলেশনসিপ যে করেই হোক নষ্ট করবে। কিন্তু রওশনকে চেনে না অভি তবে দূর থেকে রোজের সাথে দেখে অনুমান করতে পেরেছিলো। ও জানতো রোজ আর রওশন কতটা ক্লোজ। তাই সেদিন যখন রওশন রোজকে প্রপোজের ডিটেইলস বলছিলো তখন ও সেই সুযোগটাই কাজে লাগায়। ও তখন ওদের ছাদে দাড়িয়েই ঈশাকে টেক্সট করে জানায় রোজ রওশনের ফেইক রিলেশনের কথা। ওর প্লানিং ছিলো ঈশার মন ভেঙে দিয়ে, ওর মনে ক্ষতের সৃষ্টি করবে কারপর নিজে মলম হিসাবে ওকে ব্যাথা কমানোর এবং ওর মনে জায়গা বানানোর যেটা ও খুব সহজেই করতে পেরেছিলো।


অভি : ঈশা কিছু তো বলো.? তুমিও কি ওদের কথা বিশ্বাস করো.?

ঈশা : ( নাহ করার কিছু পাচ্ছি না অভি,,ছি! তুমি এতো নিচ,,, আমারই সামনে বসে আমার বোনের সাথে,,, বিবেক বলে কি কিছু নাই তোমার..?কিন্তু বাবার সম্মান.? সারা এলাকার মানুষ জানে তোমার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে,, আর রওশনের সাথে আমার সম্পর্ক শেষ,,,এখন যদি কিছু করি তাহলে আমার জন্য আমার বাবাকে অপমানিত হতে হবে। তোমার কথায় ওদের ভুল বুঝে এতোটা দূরে ঠেলে দিয়েছি, এর শাস্তি তো আমাকে পেতেই হবে। তোমাকে বিয়ে করে নিজের জীবন নষ্ট করার মতো শাস্তি বোধ হয় ওদের কষ্টের কাছে খুবই সামান্য। তাছাড়া আর যাই হোক বাবার সম্মান নষ্ট হবে এমন কোনো কাজ আমি কখনোই করবো না। তাই সবার কথা ভেবেই তোমাকে বিয়ে করবো আমি। সবাই ভালো থাকবে। আর রওশন সত্যিই আমার মতো মেয়ে ডিজার্ভ করে না। যাস্ট করে না।) বিয়েটা তাড়াতাড়ি করতে চাই আমি। ব্যবস্থা করো অভি। বাই।


আরাভ নিজের রুমে বসে ড্রিংকস করছে,, আর আলিজার নাম জমে ছুরি দিয়ে হাত কাটছে। সারা ফ্লোর রক্তে ভেসে যাচ্ছে।

আরাভ : কেন আলিজা কেন আমাকে বারবার ফিরিয়ে দিচ্ছো.? কি দোষ্ আমার.? আমি কি নিজে খারাপ হতে চেয়েছি.? তোমরা মেয়েরাই তো ছেলেদের সুন্দর জীবনটা এলোমেলো করে দাও। আমার জীবনটাও নষ্ট করছো,,, হা হা হা একসময় হিয়া করেছিলো এখন আবার তুমি..

আরাভ আবার মদের বোতল হাতে নিলো ঠিক তখনই ওর কানে আলিজার কন্ঠ বেজে উঠলো **যদি প্রমান করতে পারেন যে আপনি আমাকে সত্যিই ভালোবাসেন তাহলে ভালোবাসার দাবি নিয়ে আসবেন নাহলে না।** চিল্লিয়ে উঠলো আরাভ।

আরাভ : কেন এমন হচ্ছে..?? কেন..? আমি তো ভালো হতেই চেয়েছি তোমরা কেন ভালো হতে দিচ্ছো না আমাকে..? কাল এর একটা সলুশন বের করবোই আলিজা। আমিও জানতে চাই তুমি কি চাও.? আমার জীবন নাকি তোমার মুক্তি। যদি ভালিবাসতে না পারো তাহলে কেন এসেছো আমার জীবনে.? কেন আমার সামনে কেঁদেছো.? কেন আমার সামনে হেসেছো.? কেন ভয় পেয়েছো.? কেন কোনো প্রতিবাদ করোনি.? কেন তোমার মায়ায় জরিয়েছো..? হয় তোমাকে পাবো না হলে টাটা বাই বাই।

ফ্লোরে ঢুলে পড়লো আরাভ। ড্রিংক করে আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে গেছে। এতোক্ষন দরজার আড়ালে দাড়িয়ে একজন আরাভের এই পাগলামি দেখছিলো। সে এবার ভেতরে আসলো,, আরাভবে কোনোরকমে ধরে বিছানার ওপর রেখে ওর হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলো।

সে: বাব্বাহ আমাদের মেয়েবাজ আরাভটাও প্রেমে পড়ে গেলো। তাও আবার আলিজার.? হাতে গোটা গোটা করে নামও লিখছে শয়তানটা। দোয়া করি রে ভাই তুই আর মেঘ যেন তোদের অতিত থেকে বেরিয়ে আসতে পারিস্।। নতুনভাবে নতুন দিশায় পথ চলতে পারিস্।


রোজকে হোস্টেলে নামিয়ে দিয়ে রওশন চলে গেলো। রোজও হোস্টেলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেসময় রাস্তায় কিছু ছেলে আর একটা মেয়েকে দেখতে পায় ও। মেয়েটার আকাশী রং এর জামায় রক্তের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। রোজ আরেকটু গভীর ভাবে তাকালো ওদের দিকে ছেলেগুলো দাঁত বের করে হাসছে আর মেয়েটাকে আটকে রেখে কিছু বলছে,,,কি হচ্ছে বোঝার জন্য রোজ ওদের দিকে এগিয়ে গেলো,, মেয়েটা মাটির দিকে তাকিয়ে মুখে হাত গুজে সমান তালে কেঁদে চলেছে।

চলবে,,,

[ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ]