ভালোবাসার আলিঙ্গন পর্ব-০৯ এবং শেষ পর্ব

0
187

#ভালোবাসার_আলিঙ্গন
পর্ব [৯]
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম

(কঠোর ভাবে প্রাপ্ত বয়স্ক এবং মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত)

“আআমিও ভালোবাসি আপনাকে।”

শাহা এবং সোহান মাত্র বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে,সেই সুযোগে রুমে চলে আসে পৃথক । পৃথক গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিজের বউ জানের দিকে‌। নূরের ওষ্ঠাধর বারংবার কেঁপে উঠছে, এটা দেখে হাসলো পৃথক।
” আপনি এত খারাপ?”

পৃথক নূরের কো’মড় পেঁ’চিয়ে ধরল।
” খুব খারাপ, এখনও অনেক কিছু বাকি আছে। এসবের জন্য তুই দায়ী,খুব করে।”

” ইশ্, আমার দোষ নেই। আপনি প্রথম থেকেই খারাপ।”
” তাই! আমি খারাপ? আচ্ছা চল একটু ট্রে’ইলার দেখাই।”

পৃথক নূরের উন্মুক্ত কোম’ড়ে স্পর্শ করে বারংবার।
“পৃথক ভাই?”
” হুস, জামাই হই আমি।”

পৃথক নূর কে আলগোছে জড়িয়ে ধরে,নূর সঙ্গ দেয়।
” হবে না হবে না, এবার বিয়ের জন্য তৈরি হ।”

নূর হাসলো, পৃথক বাইরে চলে যায়, সন্ধ্যায় ড্রয়িং রুমে বসে ছিল চৌধুরী মহলের সবাই।তখন পৃথক সবাই কে চমকে দিয়ে বলে।
” মা বাবা আমার বিয়ের সব কিছু রেডি করো তাড়াতাড়ি বিয়ে করব আমি।”

সাফিন চৌধুরী গলা ঝেড়ে বলেন।
” উহুম পৃথক এখানে বড়দের কী দেখতে পাচ্ছ না তুমি?আর এত তাড়া কিসের বিয়ের?”

পৃথক গলায় হাত দিয়ে বলে।
” কসম আব্বাজান আমি আমার বউ ছাড়া আর থাকতে পারব না, তুমি কী বিয়ে দেবে না কী ফুপির মেয়ে কে তুলে আনবো?”

সাফিন চৌধুরী বসা থেকে উঠে নিজের রুমে চলে গেল, এখানে থাকলে নির্লজ্জ ছেলের আর কি কি শুনতে হবে আল্লাহ মালুম।
” বুঝছো আম্মাজান?”

নূরজাহান চৌধুরী বিস্ময় নিয়ে বলেন।
” তুই এত নির্ল’জ্জ কেন?”

রিয়াজ ফোড়ন কে’টে আওড়াল।
” ওটাই তো ও ছোট বেলা থেকেই হা হা।”

পৃথক ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো রিয়াজের দিকে,সে ভাবলেশহীন ভাবে বসে রইল।নিমু চায়ের কাপ নিয়ে আসে।
” সত্যি মা আমার মনে হয় ওদের বিয়ে দেওয়া উচিত এখন, আমার ভাইটা আর কত একা থাকবে?”

পৃথক খুশিতে গদগদ হয়ে বলে।
” থ্যাংক ইউ ভাবি,এক মাত্র তুমি বুঝো আমাকে।”

নিমু ফিক করে হেসে উঠলো, অতঃপর পৃথক অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়।
_________________
অফিস থেকে ফেরার পথে নূর কে সাথে নিল পৃথক, হালকা বেগুনি রঙের জামা পড়েছে নূর। পৃথক বার কয়েক ওকে দেখলো।নূর পৃথকের ওমন চাওনিতে ভয় পায় প্রথমে, কোথাও তাকে খারাপ দেখাচ্ছে না তো?
গাড়িতে বসা মাত্র পৃথক নূরের সীট বেল্ট লাগিয়ে দিল,নূর চুপচাপ বসে আছে।
হঠাৎ পৃথক ওর দিকে ঝুঁকে অধরে বৃদ্ধাঙ্গুল ছুঁয়ে দেয়।নূর বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে, পৃথক বাঁকা হাসলো। পুরুষালী ঠোঁ’ট ছুঁইয়ে দেয় নূরের নরম ঠোঁ’টে।কমলাল সুমিষ্ট কোয়ার মত ঠোঁ’ট দুটোতে কা’ম’ড় বসায়,নূর কঁকিয়ে উঠে।ব্যথা অনুভব করে করে, আলতো হাতে বুকে সামান্য ধাক্কা দেয়। কিন্তু সরাতে পারে না পৃথক কে,কিয়ৎক্ষণ পর পৃথক নিজ থেকেই ছেড়ে দেয় নূর কে।
” কোথায় যাবি? শশুর বাড়ি নাকি বাপের বাড়ী?”

নূর বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে,আড় চোখে তাকায় পৃথক,মাথা নুইয়ে নেয় নূর।
পৃথক কে বড্ড অচেনা লাগছে তার, কেমন একটা হয়ে গেছে।
” গাড়ি টা থামাবেন?”
পৃথক গাড়ি থামালো,নূর ঝাপটে জড়িয়ে ধরে পৃথক কে।
” আপনি আমাকে কাছে টেনে নিন না? আমার থাকতে ইচ্ছে করছে না দূরে।’

পৃথক ফোঁস করে শ্বাস টেনে নিল।
” নেবো, এখন ফুপির বাড়ি যাই।”
” না, আপনার বাড়ি যাই। আপনার সাথে থাকবো।”

পৃথক নূরের কপালে গাঢ় চুম্বন এঁকে দেয়।
” আর কিছু সময় অপেক্ষা কর, এরপর আমার সাথে থাকবি সবসময়ের জন্য।”

নূর তাকিয়ে রইল, পৃথক আবার গাড়ি স্টার্ট দেয়।
_________
গৌধূলীর আকাশে মেঘ জমেছে,রুম ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে।
হাতে মেহেদি পড়ে বসে আছে নূর,বুকের ভেতর ধুক ধুক করছে।তার বিয়ে ভাবতেই আশ্চর্য লাগছে! অবশেষে সে তার পৃথক চৌধুরীর বুকে থাকবে। জড়িয়ে ধরবে তাকে, ইশ্।
নিমু হলুদ বাটা করেছে, ঘরোয়া পরিবেশে বিয়েটা হবে,তাই নিজেদের মধ্যে সব করছে।
হলুদ রঙের আটপৌরে শাড়ি পড়েছে নূর,ফুলের তৈরি গয়না। সাফিন চৌধুরী সবার আগে নূরের গালে হলুদ ছোঁয়া দেয়।
” নতুন জীবন শুরু করবি মা, নিজেকে সবসময় শান্ত রাখবি।ভয় পাবি না।”

সাফিন চৌধুরী বরাবর নূরের বাবার মত সামলেছে তাকে,রূপা আহমেদ সব ভার সাফিন চৌধুরী কেই দিয়েছে। যবে থেকে ওনাকে চেনে,তবে থেকে সাফিন চৌধুরী নিজের আপন বোনের চেয়েও বেশি আগলে রেখেছে রূপা আহমেদ কে।
হলুদে হলুদে মাখামাখি সবাই,গান বাজনায় জমে উঠেছে হলুদ সন্ধ্যা।
রাতের শেষ প্রহরে ফোন টুং টুং শব্দ করে বেজে উঠলো। ঘুম ঘুম চোখে ফোন ধরে নূর।
” হ্যলো।”
” বউ জান রাতে কিন্তু বাসর ভুলবেন না ।”

নূর ফিক করে হেসে উঠলো।
” করব না বাসর মাই ফুট।”

পৃথক নাকের পাটাতন ফুলিয়ে বলে।
” তুই একবার কবুল বল এরপর দেখবি কী করি?”

নূর মুখ বাঁকিয়ে বলে।
” কচু।”
______________
লাল রঙের লেহেঙ্গা পরে,হাত ভর্তি চুড়ি,গলায় বড় করে একটা হার পড়েছে সে।বড় করে ঘোমটা টেনে আছে,কাবিনে সই করতে হাত কাঁপছে নূরের।
পৃথক পাশেই বসে ছিল তার, নূরের বা হাত শক্ত করে ধরে,নূর ডান হাতে সই করে। সবাই আমিন বলে, অবশেষে দুই মেয়ে ছেলে এক হয়।
রূপা আহমেদ সবার অগোচরে চোখের পানি ফেলেন, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
বাসর ঘর সাজিয়েছে নিমু এবং শাহা, সবাই নূর কে নিয়ে অনেক দুষ্টুমি করেছে। এগারোটার সময় রিয়াজ নিমু পৃথক কে ঘরে দিয়ে যায়।
বিছানায় গুটিসুটি হয়ে বসে আছে নূর, বারংবার শুকনো ঢুল গিলছে। পৃথক এসে পাগরী খুলে রাখলো।
কাছে গিয়ে বসে নূরের।
” বউ জান মুখ খানি দেখবো?”

ঘোমটার আড়ালে নূর মুচকি হাসে, ইশ্ এই ডাকটা তার খুব প্রিয়।আর সাথে মানুষটিও, মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো নূর। পৃথক ঘোমটা তুলে ধরে।
” মাশাআল্লাহ।”

নূর চোখ বন্ধ করে রেখেছে,পৃথক থুতনি ধরে মুখটা একটু উঁচু করে কপালে গাঢ় চুম্বন এঁকে দেয়।
“এগুলো খুলে এই শাড়ি পরো।”

পৃথক নূর কে একটা লাল রঙের শাড়ি এনে দেয়,নূর সেটা নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো।কিয়ৎক্ষণ পরেই বের হয় নূর, পৃথক এক নজর দেখলো নূর কে। অতঃপর সেও ফ্রেশ হয়ে আসে, জানালার কাছে বসে আছে নূর।
গোল থালার মত চাঁদ উঠেছে আকাশে, জোৎস্না স্নাত রাতে মধুর চন্দ্রীমা একদমই আলাদা।পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে পৃথক নূর কে, কিঞ্চিৎ কেঁপে উঠলো সে।
” বউ জান আদর চাই।”

নূর এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে চারিদিকে, ইশ্ কী আবদার? এভাবে সরাসরি আবদার করতে আছে?
” ওই বউ আদর চাইইইই।”

নূর মেকি রাগ করে বলে।
“পারব না।”

পৃথক নূরের কো’ম’ড়ে চাপ দিয়ে বলে।
” তাহলে আমি আদর করি?”
নূর চোখ বড় করে তাকালো।
” কীঈ?”

পৃথক কিছু বললো না নূরের শাড়ি ভেদ করে উন্মুক্ত পে’টে হাত ছুঁইয়ে দেয়।
” উফ্ পৃথক ভাই।”
” হুপ, স্বামী হই আজ থেকে।”

নূর আজ উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখালো,গলা জড়িয়ে ধরলো পৃথক। পায়ের উপর পা রেখে দাঁড়িয়ে আছে নূর, পৃথক নূরের চুলের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দেয়।নূর পৃথকের নাকের ডগায় কা’ম’ড়ে দেয়।
” ব্যথা লাগে তো।”

নূর খিলখিলিয়ে হেসে বলে।
” কেন আদর চাই না?”
“চাই,তবে এমন ভাবে নয়।”
” তাহলে?”

পৃথক নূর কে কোলে তুলে নেয়, বিছানায় শুইয়ে দেয়,বুকে আলতো করে চু’মু দেওয়া মাত্র কেঁ’পে উঠল নূর।নূর পৃথকের ঠোঁ’ট কা’ম’ড়ে ধরে,একে একে উন্মু’ক্ত হয় দুটি শরীর। মিলিত হয় দুটি আ’ত্মা একে অপরের সাথে ।পৃথকের পা গল করা কথা গুলো ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিচ্ছে নূর কে।
” ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।”

পৃথক পা গ লের পলাপ করছে।
সূর্যের আলো মুখে পড়তেই ঘুম ভেঙ্গে গেল নূরের,উঠে দেখলো পাশে পৃথক নেই।চোখ গেলো বেলকনির দিকে,খালি গায়ে দাঁড়িয়ে আছে পৃথক।

নূর উঠা মাত্র পৃথক কাছে এসে দাঁড়ালো।
“গুড মর্নিং।”

নূর বোধহয় লজ্জা পেলো, চুপচাপ বসে আছে। পৃথক ঝুঁকে কপালে চুমু দেয়।
“ফ্রেশ হয়ে আয়, আলমারিতে অনেক জামা আছে।”

নূর আস্তে করে উঠে গিয়ে একটা জলপাই রঙের শাড়ি নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো। তৎক্ষণাৎ বেড সিট চেঞ্জ করে সব গুছিয়ে রাখে পৃথক।
কিছুক্ষণ পর বের হয় নূর, পৃথক নূরের হাত ধরে জানালার কাছে নিয়ে গেলো।
” বউ জান।”
” জ্বি।”
” ভালোবাসি খুব।”

নূর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। পৃথক শুধালো।
” কষ্ট হয়েছে?”

নূর বিড়ালের বাচ্চার মত বুকে চলে গেলো পৃথকের।
” একটুও না, আমিও আপনাকে খুব ভালোবাসি।”
” জানি তো। আপনার জন্য সারপ্রাইজ আছে।”
“সত্যি?”
” ইয়েস মাই ডিয়ার।”
_____
সন্ধায় কালো রঙের শাড়ি পরে নূর,চোখ কাপড় বেঁধে দিল পৃথক।কিয়ৎক্ষণ পরেই চোখ খুলে দেয়।
” হ্যাপি বার্থডে টু ইউ বউ জান।”
সবাই এক সাথে বলে উঠে।
“শুভ জন্মদিন নূর।”

নিজের সামনে একটা টেবিলের উপর বড় একটা কেক রাখা আছে,তার উপর সুন্দর করে লিখা আছে,শুভ জন্মদিন নূরিয়া জান্নাত।
আজ যে নূরের জন্মদিন ছিল তা একদমই মনে নেই তার।নূর পৃথক কে ফিসফিস করে বলল।
” আপনার মনে ছিল? আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম।”

পৃথক অধর টেনে হাসলো।
” ইয়েস মাই বউ জান, আমার মনে ছিল। এখন থেকে প্রতি বছর ৫ই মে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী পালন হবে এবং ৬ই মে আমার বউ জানের জন্মদিন।”

নূর পৃথকের হাত শক্ত করে ধরে,একটা সুন্দর সন্ধ্যা উপভোগ করে সবাই মিলে। সবার অগোচরে নূর পৃথকের গালে টুপ করে চুমু খায়, পৃথক এক ধাপ এগিয়ে,সে নূরের ঠোঁ’টে ঠোঁ’ট ছুঁইয়ে দেয়।

সমাপ্ত