লালগোলাপ❤ Part-21-22

0
2240

লালগোলাপ❤
Part-21-22
Writer-Moon Hossain

“আপনি যদি চলে যান তাহলে আপনার বেবিরা কাকে বাবা বলে ডাকবে?
তারা কার সাথে খেলবে? কার সাথে স্কুলে যাবে? কে তাদের কে মসজিদে নিয়ে যাবে? কে তাদের খাওয়াবে?
-আমি, আমি, আমি। আমি তাদের বাবা। আমাকে বাবা ডাকবে।
-তাহলে কি যাচ্ছেন?
-কোথায়?
-পাবনা। আমাকে ফেলে। আপনার বাবুদের ফেলে?
-যাব না কোথাও।
-কেন? এখন যাবেন না কেন? যাবেন আপনি।
-নো। আই ডোন্ট গো।
-আপনার বেবিরা আপনাকে চিনবেইনা। সামনে দিয়ে হেঁটে গেলেও বাবা বলে ডাকবে না।
– যাওয়া ক্যান্সেল।
জিবনেও যাব না।
শীতল একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো। এই যাত্রায় পাবনা যাওয়া থেকে সে তার স্বামিকে আটকিয়েছে। শীতল কে কিছুদিন ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনা তাদের গ্রামে যেতে হলো। বড় বোন কোমলের বিয়ে৷
একমাত্র জামাতা হিসেবে রাজকেও যেতে হলো শীতলের সাথে।
শীতল রাজকে বলল- আমার সাথে আমার বাবার বাড়ি যাবেন?
-তুমি যেখানে আমিও সেখানে । বাবা বাড়ি, চাচা বাড়ি , নানা বাড়ি, খালা বাড়ি, মামা বাড়ি।
অনেক যাবৎ ট্রেনে যাতায়াত করেনা শীতল। রাজরা সব ভাই বোনরাও কেউ কখনো ট্রেনে যাতায়াত করেনি।
সবাই দারুণ খুশি হলো গ্রামেট বাড়ি ট্রেনে যাবে।
সবথেকে খুশি হলো রাফার। সে এতোদিন ট্রেন ভ্রমণের উপন্যাস পড়েছে। এখন সেটা বাস্তবে ঘটবে। উত্তেজনায় রাত ঘুম এলো না তার।
মজাদার একটা সপ্নও দেখে ফেললো সে।
সকালে হাসান সবাইকে পৌঁছে দিলো স্টেশনে।
-হাসান ভাই, বাবা কে দেখে রাখবেন।
-নিশ্চিন্তে যান ভাবি। আপনার সকল দায়িত্ব এখন আমি পালন করব।
-নিশ্চিত হলাম ভাইজান।
রাফিয়ার সাথে একটু কথা বলতে ইচ্ছে করছে হাসানের।
কি বলে যে কথা শুরু করবে।
রাফিয়ার জিনিসপত্র ট্রেনের কামরায় পৌঁছে দিচ্ছিলো হাসান।
-রাফিয়া এই তো তোমার সিট। তোমার জন্য কিছু উপন্যাসে এনেছিলাম। অনেকটা রাস্তা। পড়তে পড়তে ভালো সময় কাটবে। বুঝতেই পারবেনা কখন পৌছেছো।
-ধন্যবাদ। লাগবে না।
-আমি রেখে গেলাম।
হাসান ট্রেনের যাওয়ার দিকে চেয়ে রইলো। ঝিকঝিক করে ট্রেনের আওয়াজ হচ্ছে আর হাসানের হৃদয় কম্পিত হচ্ছে।
-ঝিকঝিক করে ট্রেন আওয়াজ করে কেন?
-ট্রেনের আওয়াজ এরকম তাই।
-ওআচ্ছা।
-এটা ট্রেনের আওয়াজের ভাষা। যেমনটা আমরা বলি।
-ঝিকঝিক, ঝিকঝিক করে আওয়াজে কি বলে ট্রেন?
– আমি-তুমি।
রাজ কিছুক্ষণ কান পেতে শুনলো তারপর বিকট আওয়াজে বলল- তাই তো। ট্রেন, আমি-তুমি বলছে।
রাফা পেছনের সিটে ট্রেনের জানালা দিয়ে দূরের প্রকৃতি দেখছে। বিশাল মাঠ, ধান ক্ষেত, সবুজ অরণ্য।
রাফিয়া কিছুক্ষণ কেঁদে একো ওয়াশরুম থেকে।
নাকে -মুখে পানি দিয়ে এলো সে।
বসতেই হাসানের আনা উপন্যাস আর কিছু শুকনো খাবার রাখা দেখতে পেলো সে।
.
রাজ অনেকটা সময় ধরে শীতলকে দেখছে।
শীতল বাহিরের পরিবেশ দেখছে। জানালা দিয়ে বাতাস বইছে খুব জোরে।
-কি দেখছেন?
-নাথিং
-ওআচ্ছা।
-হু।
শীতল বাহিরে তাকাতেই রাজ আবার পলকহীন ভাবে শীতলকে দেখছে।
– কি পড়ছেন?
-উপন্যাস পড়ছি।
-ক্ষিদে পেয়েছে?
-খাবার আছে।
তুমি বরং ভাইয়ার কাছে যাও।
-রাফা কি করছে আমি দেখে আসি। ক্ষিদে পেয়েছো নাকি!
রাফিয়ার কাছ থেকে শীতল রাফার কাছে গেলো।
-বোর লাগছে।
-না। খুব মজা লাগছে।
আগে তো ট্রেন জার্নি করিনি। রাফা শীতলকে বসিয়ে কোলে মাথা রেখে বলল- সূরা কেন পড়তে হয়?
– এটা কেমন কথা? আল্লাহ সূরা দিয়েছেন পড়ার জন্য। সূরাতে আছে নেকি। সূরা, আয়াততপ জীবন-যাপন করার পদ্ধতি সমূহ থাকে
একেক সূরার একেক ফজিলত।
সূরা ইখলাসের ফজিলত :

সূরা ইখলাসের ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসঃ-

হাদিস নংঃ-০১
রাসূল (ﷺ) বলেনঃ-
“নিঃসন্দেহে সুরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য।’’

হাদিস নংঃ-০২
রাসূল (ﷺ) বলেনঃ-
“যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস তিনবার পাঠ করবে আল্লাহ তা’য়ালা ঐ ব্যক্তিকে এক খতমের সমান নেকী দান করবেন।”

হাদিস নংঃ-০৩
রাসূল (ﷺ) বলেনঃ-
” যে ব্যক্তি “সুরা ইখলাসকে ভালবাসে, সে আল্লাহর ভালবাসা এবং জান্নাত লাভ করবে।”

হাদিস নংঃ-০৪
রাসূল (ﷺ) বলেনঃ-
“যে ব্যক্তি “সুরা ইখলাস দশবার পাঠ করবে পাঠকারীর জন্য জান্নাতে এক গৃহ নির্মাণ করা হবে।”

ফুটনোটঃ-
১)বুখারী হা/৫০১৩,৬৬৪৩,৭৩৭৪
২)বুখারী,মুসলিম হা/৮১১
৩)বুখারী হা/৭৩৭৫,মুসলিম হা/৮১৩
৪)সহীহুল জা’মে হা/ ৬৪৭২

আল্লাহ্ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে উপরোক্ত হাদিসগুলোর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন,আমিন।
-আমিও সূরা ইখলাস পড়ব এখন থেকে নিয়মিত। এতো ফজিলত তা জানতাম না।

শীতল রাফাকে টিফিন বক্স খুলে খাবার সাজিয়ে দিলো।
-খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নাও।
ঘুম ভাঙলেই সুন্দর গ্রাম দেখতে পাবে তুমি।
রাজের ক্ষিদে পেয়েছে আর ঘুমও পেয়েছে। শীতলকে যেই বলবে শীতল অমনি বলল- দু-দিন পর বাবা হবেন। এখন থেকেই দায়িত্ব নিন। প্রেকটিস করুন।
-হু। একটা কথা ছিলো?
শীতল মাথা নাড়ালো।
রাজের সামনে খাবার সাজিয়ে শীতল বলল- আমার ক্ষিদে পেয়েছে, আবার ঘুমও পেয়েছে।
আপনি আমাকে খাইয়ে দিন, তারপর আপনার কোলে ঘুমাব।
-আচ্ছা।
যথারীতি শীতলকে রাজ খাইয়ে দিলো। তারপর মুখও মুছে দিলো।
রোজের কোলে মাথা রেখে শীতল শুয়ে পড়লো।
রাজ কয়েকবার চোখের পলক ফেললো শুধু শীতলের কান্ড দেখে।
স্টেশনে শীতলদের বাড়ি থেকে একটা জীপগাড়ি পাঠানো হয়েছে।
শীতলরা বাড়ি পৌঁছাল।
প্রচুর গাছগাছালির মধ্যে শীতলদের দুতলা বাড়িটি।
পুরোনো জমিদার বাড়ি তাদের। শীতলের বিয়ে উপলক্ষে চুনকাম করা হয়েছিলো। সেটা এখনো আছে।
বাড়ির পেছনে বিশাল দিঘি। নানা ধরনের গাছে ছেয়ে আছে দিঘি। দিনের বেলাও সবকিছু অন্ধকার হয়ে থাকে দিঘির আশপাশে। মূলত বাড়িটির পেছনে বিশাল জঙ্গল শীতলদের। সেখানেই বিশাল দিঘি টি।
এমন কোন ফলের গাছ নেই যে সেই জঙ্গলে পাওয়া যাবেনা। শীতলের বাড়িতে একা পুরুষ মানুষ বলতে তার বাবা। সময়ের অভাবে ফলের বাগান পরিষ্কার না করতে করতে ফলের বাগান এখন জঙ্গল বাগান হয়েছে।
বাড়িটির পাশেই আছে নানা ফুলের বাগান। সেখানেই রয়েছে ঝিল যা খালের সাথে মিলিত রয়েছে। ঝিলের উপর রয়েছে সাঁকো। ঝিলের মধ্যে প্রচুর শাপলা ফুটে আছে। ফুলের বাগান থেকে নানান ফুলের সুগন্ধ ছড়াচ্ছে।
শীতলদের বাড়ি, দিঘি, ঝিল, ফল, ফুলের বাগান এবং আশেপাশের বিশাল অংশ জুড়ে উঁচু প্রাচীর।
মেইন গেইট খুললেই ক্লাস ওয়ানের বাংলা বইয়ে যে বাড়িটি থাকে গ্রামের, ঠিক ওরকম একটা ছবির মতো মনে হয় শীতলদের বাড়িটি।
বাড়িতে পৌঁছানো মাত্রই পাশের বাড়ির রহিম মিয়ার বউ বড় ঘোমটা দিয়ে সবাই কে শরবত দিলো।
অনেক দিন পর বাড়িতে এসে শীতলের মন জুড়িয়ে গেলো।
রান্না ঘরে শীতলের মা, কোমল, রহিম মিয়ার বউ রান্না করছিলো।
শীতল নিজের ঘরে বসে আছে। রাজ শীতলের বিছানায় শুয়ে শুয়ে চিন্তিত শীতলকে দেখছে।
রাফা আর রাফিয়াকে একটা বড় ঘর খুলে দেওয়া হয়েছে। বিশাল ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা পুরোনো আমলের পালঙ্ক। পালঙ্কে শুলে মনে হবে একটা মাঠে শোয়া হয়েছে।
একটা বড় কামরায় দস্তরখানা বিছানা হয়েছে।
শীতলরা সবাই গোল হয়ে বসেছে।
রহিমার বউ সবাই কে খাবার পরিবেশন করে দিয়েছে।
শীতলের মা আর কোমল পর্দার আাড়ালে দাড়িয়ে আছে।
-এপর্যন্ত পাঁচ পিস মাছ খেয়েছি। কি কি গোশত খেলাম সেটাও বলতে পারবো না। এবার পেট ফেটে যাবে।
রাফা খাওয়া ছেড়ে বসে রইলো।
রাফিয়া বললো -আমারও একি অবস্থা ভাবি।
শীতল বলল- এটা তো সবে শুরু। গ্রামের নিয়ম তো জানোনা। গ্রামের মেহমানি কি তা বুঝতে পারবে।
রাজ শুধু চুপচাপ শীতলের হাতে খাচ্ছে। কিছু বলছেনা। খাচ্ছে আর হাত দিয়ে গুনছে কত রকমের খাবার সে খেলো।
দস্তর খানায় রয়েছে পাঁচ পদের গোশত, ছয়-সাত পদের মাছের আইটেম, ভাজি-ভুজি, ভরা ইত্যাদি রয়েছে দশ রকমের।এছাড়া কয়েক রকমের পোলাও করা হয়েছে। মিষ্টি পোলাও, নোনতা পোলাও, ঝাল পোলাও, সাধারণ পোলাও।
রহিম মিয়ার বউ বলল- এখনই এই রকম অবস্থা? বিয়ের খাবার খাবেন কি করে?
ভালো মাছ তো দিঘি থেকে তোলায় হয়নি। জেলে কে খবর দেওয়া হয়েছে। কসাইকে খবর দেওয়া হয়েছে, পালের হার গরু,খাসি জবাই করা হবে। কারিগর কে খবর দেওয়া হয়েছে মিষ্টি বানানোর জন্য। নতুন জামাই প্রথমবার বাড়ি এসেছে বলে কথা।
রাজ বলল- আমি নতুন জামাই দেখব।
নতুন জামাইকে দুলাভাই ডাকব।
রহিমা হেঁসে বলল- দুলাভাই ভালো মশকরা করতে জানে।
কোমলের হাসি শোনা গেলো পর্দার আড়াল থেকে।
শীতল নিজের বাড়িতে এসে কিশোরী হয়ে গেলো।
শশুর বাড়িতে কখনো তেমন সাজগোছ করেনি। এখানে এসেই গোলাপি একটা শাড়ি পড়লো, একটু সাজগোছ করলো। চুল গুলো ছেড়ে রাখলো। হাতে রাজের আনা কাঁচের চুড়ি গুলো পড়লো।
শীতল আয়নায় নিজেকে দেখছিলো।
রাজ পায়ের উপর পা তুলে আয়েশী ভাব নিয়ে পালঙ্কে বসে আছে।
-একচল্লিশ পদ আমার পেটে গিয়েছে আজ।
-কখন গুনলেন?
-তুমি খাওয়াচ্ছিলে যখন। আর নটা হলে ৫০ শে পূর্ণ হতো।
-তাতে কি?
-মিল হতো।
রাজ পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো শীতলের।
আয়নায় ওদের দু’জনকে খুব সুন্দর দেখা যাচ্ছে।
শীতল রাজকে নিজের কাছে নিয়ে এলো।
খুব কাছে। যেখান থেকে দুটি স্তব্ধ হৃদয়ে ধ্বনি শোনা যায়।
রাজও যেন হারিয়ে গেলো শীতলের মাঝে।
শীতলকে সেও কাছে টেনে নিলো।
হঠাৎই রাফা ডেকে উঠলো।
শীতল রাজকে সরিয়ে দিলো।
রাজ ঢ্যাপ ঢ্যাপ করে তাকিয়ে থাকলো।
-ভাবি দেখো।
সাদা সাদা হাঁস। ঝিলে খেলা করছে।কত শাপলা ফুল ফুটেছে।
-ওগুলো পাতিহাঁস।
-ওয়াও ওটা কি?
-সাঁকো।
-আমি সাঁকো তে যাব।
রহিম মিয়ার দশ বছরের মেয়ে হলো রাফার সাথী।সে তাকে সাঁকো তে নিয়ে গেলো।
রাফিয়া জঙ্গলের দোলনায় বসে বসে উপন্যাস পড়ছে।
জঙ্গলের নি-শব্দ পরিবেশে মাঝে মাঝে পাখিরা কিচিরমিচির করে ডাকছে। হাওয়া বইছে। সামনে সুন্দর দিঘি। কাঁচের মতো স্বচ্ছ দিঘির পানি। মনোরোম পরিবেশ।
-কি করছেন?
-সাঁতার কাটছি।
-ছাদে সাঁতার কাটা যায়?
-ইয়েস।
-আমিও কাটাবো।
রাজ কোন কথা বলল না।
ফুলের বাগান থেকে সুগন্ধি ভাসছে। দুজনের মনে দোলা দিয়ে যাচ্ছে।
নিস্তব্ধ লুকানো এক পরিবেশ।
রাজ শীতলকে নিজের কাছে নিয়ে আসলো।
শীতল চোখ বন্ধ করে হাসলো।
রাজের কাছে হাসিটুকু মনে হলো জলতরঙ্গ। নির্মল ভাবে যেন তার উপর বয়ে চলেছে।
শীতলের গালে একটু ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো সে।
শীতল নড়ে উঠলো।
আরেকটুখানি কাছে আসতেই আজান দিলো মাগরিবের।
শীতল একটু সরে বলল- বাবা দাড়িয়ে আছে আপনার জন্য।
রাজ কে শীতল অজুর পানি দিলো। রাজ আর তার বাবা সেই পানিতে অজু করে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলো। মেয়েরা বাড়িতেই নামাজ পড়ে নিলো।
এশারের আজানের পরও তাদের দেখা পাওয়া গেলো না। বাড়ির সবাই চিন্তিত।
শীতলের কলিজা কেঁপে উঠেছে রাজের চিন্তাই।
রাজ কি কোন সমস্যা করলো নাকি মসজিদে।
দশ বছরের রহিমের মেয়ে বলল-ঐ তো উনারা আসছে।
শীতলের বাবা জানালো, আজ ইমাম সাহেব অসুস্থ ছিলেন। ময়মনসিংহ মেডিক্যালে ভর্তি।
রাজ ইমামতি করেছে।
রাজ যতদিন থাকবে সে ইমামতি করবে।
শুনে শীতলের মন শান্তিতে ভরে উঠলো।
.
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯ টি নামের দুটি নাম (আরবি, বাংলা)

২৫. ﺍﻟْﻤُﺬِﻝُّ আল-মুঝ়িল সম্মানহরণকারী
২৬. ﺍﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ আস-সামী’ সর্বশ্রোতা❤
.
.
.

চলবে…….
.
.
.

#লালগোলাপ❤
Writer-Moon Hossain
Part-22
রাতের খাবার খেয়ে রাজ বিছানায় বসেছে মাত্র।
তখনই ঘোমটা পরা কাউকে সে দেখলো বিছানার মাঝখানে বসে আছে।
-তুমি কি পরি?
ঘোমটা পরা মেয়েটি মাথা নাড়ালো।
রাজ ঘোমটা খুলে অবাক নয়নে তাকিয়ে রইলো।
শীতল তার মুক্তো ঝরা দাঁতে হেঁসে উঠলো।
রাজের গলা জরিয়ে বলল-আমি আপনার পরি।
প্রতিটি স্বামীর জন্য তার স্ত্রী পরি।
রাজ মাথা নাড়ালো।
-আমি দিঘির পাড়ে যাব।
-তোমার ভয় লাগবে শ্রেয়সী।
-আপনি আছেন তো।
ভয় পেলে আপনাকে জড়িয়ে ধরব।
-চলো।
-আমি হেঁটে যাব না।
-পায়ে ব্যাথা বুঝি?
-হু। অনেক ব্যাথা তবে আমার মনে।
রাজ শীতলকে কোলে নিলো। বিয়ের পর শীতলকে রাজ কখনো কোলে নিয়েছে কিনা তাতে সন্দেহ আছে।
চাঁদের আলো জঙ্গলে পড়েছে। জোছনা রাত যাকে বলে চান্নি-পসর। এই ক্ষণে মাটিতে হাঁটা ছোট পিপড়াকেও দেখা যায়।
চাঁদের আলোয় শীতলের মুখখানি দেখছে রাজ।
রাজের মুখেও পড়েছে চাঁদের আলো।
রাজ শীতলকে কোলে নিয়ে দিঘির ঘাটে দাড়িয়ে আছে।
-আমি কিন্তু কোল থেকে নামবো না।
রাজ মাথা নাড়ালো।
রাজ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শীতলের দিকে।
শীতল নাক দিয়ে রাজের নাক ঘষে দিলো।
হাসনাহেনার সুগন্ধি ছড়াচ্ছে। সন্ধ্যা হতেই হাসনাহেনা তার দিনের আলোয় লুকানো সুগন্ধি ছড়ায়। যেমন করে মেয়েরাও তাদের সৌন্দর্য ছড়ায়। দিনের থেকে রাতেই মেয়েদের সৌন্দর্য ছড়ায়।
সব মেয়েদেরই রাতের বেলা দিনের থেকেও বেশি সুন্দরী মনে হয়। সন্ধ্যা হতে থাকে আর মেয়েদের সৌন্দর্য বাড়তে থাকে।
শীতল কোল থেকে নেমে বসে পড়লো ঘাটে। রাজও ধপ করে বসে রইলো।
রাজ শুধু শীতলের মুখপানে চেয়ে আছে।
শীতল হঠাৎ দুষ্টুমি করে রাজকে এক ধাক্কায় পানিতে ফেলে দিলো।
রাজ কয়েকবার ডুব দিয়ে দাঁত বের করে হেঁসে উঠলো।
-মাফ করবেন।
আমি সবাই কে দিঘিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিই। এতে খুব মজা লাগে।
হাত ধরে উঠে আসুন।
শীতল হাত দিতেই রাজ শীতলকেও ফেলে দিলো দিঘিতে।
শীতল আচমকা পানি খেয়ে কাশতে লাগলো।
রাজ হাসতে লাগল।
-খুব না?
-খুব।
-দাড়ান দেখাচ্ছি মজা। বলতেই পানিতে কি যেন আওয়াজ হলো। শীতল ভয়ে রাজকে জরিয়ে ধরলো।
রাজ পরম আদরে শীতলের মাথায়,পিঠে হাত বুলাচ্ছে। বলার চেষ্টা করছে তোমার স্বামী আছে। ভয় নেই।
শীতল সেটা হৃদয় দিয়ে বোঝার চেষ্টা চালালো।
শীতল রাজের বুক থেকে মাথা তুলে চোখের দিকে তাকালো।
ঐ চোখো নেই কোনো লালসা, বাসনা। আছে শুধু স্নেহ। ভালোবাসা কি তা বোধহয় রাজ বুঝেনা।তবে কাজে করিয়ে দেখিয়ে দেয় প্রতিটি মূহুর্তে।
চাঁদের কিরণ শীতলের মুখে পড়লো। সবচেয়ে বেশি ঠোঁটে। ভেজা ঠোঁট যেন চিকচিক করে আলো ছড়াচ্ছে। রাজ শীতলের ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিলো।
দিঘিতে পরার সময় শীতল পায়ে একটু ব্যাথা পেলো। দাড়াতে পাচ্ছেনা ঠিক মতো।
রাজের উপর গায়ের সমস্ত ভর দিয়ে দিলো।
রাজ শীতলকে পিঠে নিয়ে মাঝরাত পর্যন্ত দিঘিতে সাঁতার কাটলো। পুরো বাড়ির লোকেরা তখন ঘুমে বিভোর।
রাজ আজ শীতলকে যেন সপ্নের দুনিয়ায় নিয়ে গেলো।
শীতল দু’হাতে জরিয়ে সপ্নটুকু অনুভব করছে শুধু।
শীতল কে কোলে নিয়ে রাজ বাড়িতে ফিরলো। সাতার কাটতে কাটতে শীতল কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে সে নিজেও জানেনা।
ভেজা শীতলকে অবুঝ রাজ বিছানায় শুইয়ে দিতেই শীতল রাজের গলায় দু-হাত দিয়ে ঝুলে পড়লো।
একটানে নিজের উপর ফেলে দিলো।
-তুমি তো ঘুমিয়ে পড়েছিলে আমাকে ফেলে।
-তো এতোটা সুখ দিচ্ছিলেন যে, না ঘুমিয়ে উপায় কি?
-এখন তবে ঘুমাও।
-না। আমরা কেউ ঘুমুব না।
-না ঘুমিয়ে কি করব আমরা?
-সপ্ন দেখব।
-আচ্ছা।
শীতল রাজকে অন্যদিনের থেকেও খুব শক্ত করে জরিয়ে ধরলো। রাজকে চুমু খেলো।
রাজও রাজকে আদর করলো। শাড়ির আঁচলটা
রাজের পাঞ্জাবির বোতামে আটকে গেলো৷ শীতলের চোখজোড়া দিয়ে টপটপ পানি পড়ছে। রাজ চোখের পানি মুছে দিলো।
মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। কপালে চুমু খেলো।
বাহিরে খুব জোরে হাওয়া বইছে। হাসনাহেনার বিকট সুভাস ভাসছে। জানালা দিয়ে চাঁদের আলো পালঙ্কে পড়েছে। ফজরের আজান দিয়েছে। রাজকে গোসল করিয়ে শীতল তাকে মসজিদে পাঠালো।
পাঞ্জাবি পরানোর সময় শীতল আগের মতো কোন কথা বলল না। রাজের দিকে তাকালো না।
-তুমি কি রাগ করেছো?
-নাতো।
-কথা বলছোনা কেন?
-সেটা বুঝলে এখন এটা বলতেন না।
বলেই শীতল মুচকি হাসলো।
শীতলের ভোর থেকেই খুব লজ্জা লাগছে। রাজকে তার কাছে অন্যরকম লাগছে। আগের সেই ছেলেমানুষী লাগছে না। কেমন যেন লাগছে। শীতল লজ্জায় কথা বলছে না, তাকাতেও পাচ্ছেনা। না জানি রাজের মনে কি চলছে, ঠোঁটে কি কথা বলার চেষ্টা করছে। মাথায় কি চলছে বা ভাবছে, এজন্য শীতল চুপচাপ হয়ে আছে লজ্জায়৷
-একটা কথা ছিলো।
-জ্বি।
-তুমি খুব সুন্দরী।
আগেও রাজ বলেছে শীতল সুন্দরী তবে আজ যেন অন্যরকম ভাবে বলল কথাটা।
সেদিনের পর থেকেই রাজের মধ্যে পরিবর্তন হলো। অনেক আগে থেকেই পরিবর্তন হওয়া শুরু করেছিলো। তবে সেদিন থেকে যেন বেশি।
রাজকে দায়িত্ববান স্বামী মনে হচ্ছে এখন।
মাথা যন্ত্রণা করেনা তেমন। বা আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা দেয়নি। শীতল ছাড়া কারও সাথে দুষ্টুমি করেনা সে।
শীতলের মুখের দিকে তাকিয়ে সারাক্ষণ কি যেন দেখে রাজ।
শীতলের মাঝেও কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এখন সে রাজের কাছে ছেলেমানুষী সব বায়না ধরে। মাঝরাতে রাজের বুক থেকে মাথা তুলে বলবে – আমি ঘুমুবনা।
-কেন?
-জোছনা দেখব। আপনার সাথে।
হঠাৎ বলে -সাতার কাটবো।
আপনার সাথে।
রাত দুটোয় বলে – তেঁতুল খাব।
-কোথা থেকে পাব?
-স্বামী হয়েছেন যখন চিন্তা আপনার।
শীতলকে অবাক করে দিয়ে রাজ কামরা থেকে জঙ্গলে চলে গেলো। সরাসরি তেঁতুল গাছে উঠে তেঁতুল পেরে আনলো।
এখন আর রাজ শীতলের হাতে খায়না বরং রাজই শীতলকে খাইয়ে দেয়। রাজের মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হয়না, শীতলকেই রাজের ঘুম পাড়াতে হয়। শীতল ঘুম কাতর হয়েছে। কিছুটা মোটা হয়েছে। পেট ফুলে গিয়েছে।
দুপুরে খেয়ে-দেয়ে দোলনায় দোল খাচ্ছে রোজের কোলে শীতল।
এই পরিবেশে শীতলের খুব খুব ভালো লাগছে।
রাজ বিভিন্ন সূরা পড়ে শোনাচ্ছে। শীতল মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছে।
গ্রামের বাড়িতে ওদের দিন গুলো মধুচন্দ্রিমার মতো কাটছে। বিয়ের পর ওরা কোথাও এতোদিনের জন্য বেড়াতে যায়নি।
যথাক্রমে কোমলের বিয়ে হয়ে গেলো। বিয়ের দিন কোমল বলল-আমাকে করতে পেরেছিস?
-কি যাতা বলছো?
-আমার কারণে তোর এমন ভাগ্য হলো।
-আল্লাহর নাম নিয়ে বলছি, আমার কোন রাগ নেই তোমার উপর। কোন আফসোস নেই। তুমি না করে আমার ভালো করেছো।
তা না হলে এমন স্বামী হতোনা আমার।আমাকে ভালোবাসা ছাড়া কিছু বুঝেনা উনি।
কোমলের স্বামী একজন মৌলানা। কাশ্মীরের মাদ্রাসার প্রফেসর। রাজের সাথেও তার খাতির জমেছে বেশ ভালো।
বিকেলে শীতল সিড়ি থেকে মাথা ঘোরে নিচে পড়ে গেলো। রাজ তখন শীতলের বাবার সাথে বাজারে গিয়েছিলো।
শীতলের জ্ঞান ফিরার পর লক্ষ্য করলো সবাই মুচকি হাসছে।
রহিম মিয়ার বউ বলল- আগেই বোঝা উচিত ছিলো, আপা কেন ভাতের মতো করে তেঁতুল খাচ্ছিলো। পেটেও কেমন ফোলা দেখাচ্ছিলো।
শীতল ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে কি হয়েছে তা বোঝার চেষ্টা করলো।
শীতলের মা পেটে হাত রেখে বলল- দেখবি এবার তোর সুখ খুলবে। স্বামী সন্তান নিয়ে পরম সুখে থাকবি। আল্লাহ তায়ালা তোকে আর তোর সন্তানকে ভালো রাখুক।
সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথেই হাসনাহেনার সুগন্ধি ছড়াতে শুরু করেছে। রাফা আর রাফিয়া শীতলের মায়ের সাথে রান্নাঘরে রান্না করা দেখছে। শীতলের প্রেগ্ন্যাসির খবর টা ইতোমধ্যে তার শশুরকে জানানো হয়েছে। শুনে তিনি খুব খুশি হয়েছে।
-আলহামদুলিল্লাহ। এখুনি শোকরানার নামাজ পড়ব। আমার বংশের বাতি আসতে চলেছে।
” আমার প্রিয়তম, আপনি বাবা হতে চলেছেন। আমার গর্ভে আপনার সন্তান বড় হবে ধীরে ধীরে। নয় মাস পর আমার কোল আলো করে আপনার সন্তান আসবে। আপনি তাকে বড় করবেন।
“ইতি আপনার শ্রেয়সী! আপনার সন্তানদের মা!
চিরকুট লিখে শীতল আঁচলে লুকিয়ে রাখলো। রাজ এলে দেবে। রাজের বাবা হওয়ার খবরে কি প্রতিক্রিয়া হয় রাজের সেটাই দেখার ইচ্ছে শীতলের।
রাজ এখনো আসছেনা। শীতলের অস্থিরতা বেড়েছে খুশিতে। কখন সে জানাবে।
রাতে বাড়িতে কান্নার রোল পড়লো।
শীতলকে কেউ কিছু বলছেনা।
রাজ মেডিক্যালে আছে। শীতল বাবাও মেডিক্যালে আছেন।
রাজ মারা গিয়েছে এমন খবর ভাসছে৷
শীতল মেডিক্যাল আসার সময় পেটে হাত দিয়ে আল্লাহর নাম নিচ্ছিলো শুধু। আল্লাহ ছাড়া তাকে কে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করবে?
বিপদের সময় যেই দুয়াগুলো পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবেঃ
———————
নিচের এই দুয়াগুলো প্রতিদিন সকালে-সন্ধ্যায় একবার করে পড়া ভালো। আর যেকোন সালাতের সিজদাতে, দুয়া মাসুরা অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু দুরুদ পড়ে সালাম ফেরানোর আগে, সালাতের বাইরে মুনাজাতে নিয়মিত পড়তে পারেন।

ক. দুয়ার মাঝে সবচাইতে উপকারী একটা দুয়া হচ্ছেঃ দুয়ায়ে ইউনুস।
——————
তিমি মাছের পেটে থাকা অবস্থায় ইউনুস (আঃ) এই দোয়া করেছিলেন এবং কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়েছিলেন।
ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻚَ ﺇِﻧِّﻲ ﻛُﻨْﺖُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ
উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লা-আনতা, সুবহা’-নাকা ইন্নি কুনতু-মিনায-যোয
়ালিমিন।
অর্থঃ “(হে আল্লাহ) তুমি ছাড়া আর কোনো মা’বুদ নাই, তুমি পবিত্র ও মহান! নিশ্চয় আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত।”
কুরানুল কারীমে এই ঘটনা ও দুয়াটি বর্ণিত হয়েছে সুরা আল-আম্বিয়াঃ ৮৭।
দুয়া ইউনুসের উপকারীতাঃ
নবী সাল্লাল্লাহ আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি এই দুয়া পড়ে, তাহলে তার দুয়া কবুল করা হবে। অন্য হাদীসে আছে, “এই দুয়া পড়লে আল্লাহ তার দুঃশ্চিন্তা দূর করে দিবেন।” [সুনানে আত-তিরমিযী]

দুয়া ইউনুস কিভাবে পড়তে হবে?
বিপদ আপদ বা দুঃশ্চিন্তার সময় এই দুয়া বেশি বেশি করে পড়তে হয়। এক লক্ষ পঁচিশ হাজার পড়ে যে “খতম ইউনুস” পড়ানো, হয় হুজুর বা মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে টাকা দিয়ে ভাড়া করে, বা দুয়া কেনাবেচা করা হয়, এইগুলো বেদাত।

খ. দুঃখ ও দুশ্চিন্তার, দারিদ্রতা ও ঋণগ্রস্থ হওয়া থেকে মুক্তির জন্য দুয়াঃ
——–
যারা স্বচ্ছল অবস্থায় শান্তিতে আছেন, তারা যেনো কঠিন পেরেশানি, বড় বিপদ, বড় ঋণের বোঝা, মানুষের, অলসতা, অক্ষমতা, কাপুরুষতার স্বীকার না হন, সেই জন্য নিয়মিত এই দুয়া পড়া উচিৎ। আর যারা এইগুলোর স্বীকার হয়েছেন তারাও নিয়মিত এই দুয়া পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবেন।
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻬَﻢِّ ﻭَﺍﻟْﺤَﺰَﻥِ، ﻭَﺍﻟْﻌَﺠْﺰِ ﻭَﺍﻟْﻜَﺴَﻞِ، ﻭَﺍﻟْﺒُﺨْﻞِ ﻭَﺍﻟْﺠُﺒْﻦِ، ﻭَﺿَﻠَﻊِ ﺍﻟﺪَّﻳْﻦِ ﻭَﻏَﻠَﺒَﺔِ ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝِ
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নি আ‘ঊযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আ’জযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দ্বোলাই’দ-দ্বাইনি ওয়া গালাবাতির রিজা-ল।

অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুঃশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অলসতা ও অক্ষমতা থেকে, কৃপণতা ও কাপুরুষতা থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে। [বুখারীঃ ২৮৯৩]
এক বাচ্চা খেলতে খেলতে রাস্তার মাঝখানে এসে পড়েছিলো। সে সময় একটা ট্রাক আসছিলো। রাজ দৌড়ে গিয়ে বাচ্চাটা কে বাঁচালো। অতঃপর নিজেই ট্রাকের সামনে পড়লো। বিকট আওয়াজ হলো হাড় ভাঙার।
রাস্তা টা রক্তে ভরে গেলো। সবাই বলছিলো হাজী সাহেবের মেয়ের জামাই ট্রাকের নিচে পড়েছে। অবস্থা গুরুতর। নাড়াচাড়া করছেনা। স্পটেই মারা গেছে। শীতলের অসহায় বাবা রাজকে আটকাতে পারেনি রাস্তায় যেতে।শীতলকে কি জবাব দেবেন তিনি। কখনো দাড়াতে পারবেনা মেয়ের সামনে। তিনি জামাইয়ের অবস্থা দেখে রাস্তায় বসে থাকতে থাকতেই হার্ট অ্যাটাক করলেন সেখানেই।
শীতল মেডিক্যালের ভেতর করিডরের বেঞ্চে বসে আছে।
ডক্টর জানালো রাজের অবস্থা আশংকা জনক। শীতল শুধু বললো- নিঃশ্বাস পড়ছে তো?
-নিঃশ্বাস নেওয়া আর না নেওয়া একই কথা।
বাঁচার সম্ভাবনা নেই। বেঁচে থাকলে কোমায় চলে যাবে। কোমার ভেতরেই একদিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে। মাথায় খুব আঘাত পেয়েছে রাজ। চলন্ত ট্রাক দেখে ব্রেন স্টক হয়ে গিয়েছে। শরীরের সব জায়গায় কাঁটাছেড়া। অবস্থা একেবারেই অনিশ্চিত।
শীতলের বাবা মেডিক্যালে আসার আগেই গত হয়েছে।
বাবার লাশটা দেখার সাহস নেই তার।
স্বামীর ক্যাবিনের সামনে বসে আছে সে পেটে হাত দিয়ে।
চোখ থেকে একফোঁটাও পানি পরেনি শীতলের।
.
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের দুটি নাম (আরবি,বাংলা)
২৭. ﺍﻟْﺒَﺼِﻴﺮُ আল-বাসী়র সর্বদ্রষ্টা
২৮. ﺍﻟْﺤَﻜَﻢُ আল-হা়কাম বিচারপতি❤
.
চলবে……..