লালগোলাপ? Part-25

0
1994

লালগোলাপ?
Part-25
Writer-Moon Hossain

[রাজের ভালো হওয়া নিয়ে সবার মাঝে দুঃখ ছিলো। এখন ভালো করে দিলাম। হা!হা!হা!]
কামরায় বাতাসের ঝটকায় নীল পর্দা গুলো উড়ছে।
শীতল চুপটি করে বসে আছে বেলকুনিতে।
সে কি সপ্ন দেখছে! হ্যাঁ এটা সপ্নই। এরকম সপ্ন আরও কত দেখেছে সে। রাজ অসুস্থ অবস্থায় শীতল সপ্ন দেখতো সে ভালো হয়েছে। শীতলকে চিনতে পাচ্ছেনা। শীতলের এই ভয়টা মাঝে মধ্যে ছিলো। রাজ ভালো হলে সৃতি এলোমেলো হতে পারে। ফলে রাজ তার শ্রেয়সী কে চিনতে পারবেনা।
বাট তা হয়নি এখন। শীতলকে চিনতে পেরেছে রাজ। এটাই বা কম কি! যদি না চিনতে পারতো তবে একটা কথা ছিলো।
নিশ্চয়ই রাজ মজা করছে। দেখতে চাচ্ছে রাজ বললেই শীতল চলে যাবে নাকি!
কিন্তু শীতল তো যাবেনা।
শীতলের মুখে হাসি ফুটে উঠলো। চোখের পানি মুছে নিলো।
রাজ আসার অপেক্ষা করছে শীতল। রাজ অফিসে যাচ্ছে নিয়মিত।
বেলকুনির গাছে পানি দিচ্ছিলো শীতল। হঠাৎ গাড়ির হর্ণের আওয়াজ শোনা যায়।
রাজ এসেছে।
শীতল পানি দেওয়া ছেড়ে নিচে আসে।
রাজ পকেটে হাত দিয়ে যাচ্ছিলো উপরে। শীতলকে দেখে থেমে যায়।
সানগ্লাস খুলে বলে – মাই গড। ভিজে গেলে কি করে?
-গাছে পানি দিচ্ছিলাম।
-ভেজা শাড়িতে বেশিক্ষণ থাকা যাবেনা।
তোমার শরীর খারাপ করবে।
চলো রুমে এসো আমার সাথে।
-ঠিক আছি।
-তুমি বললে তো হবেনা।
তোমার ঠান্ডা লেগে যাবে।
এসো বলছি।
রাজ শীতলের হাত শক্ত করে ধরে উপরে নিয়ে যাচ্ছে। রাজের চোখ মুখ কেমন পাল্টে গিয়েছে মূহুর্তেই শীতলের জন্য।
-এখানে বসো।
-জ্বি।
শীতলকে বসিয়ে নিজেই ডেস্ক থেকে শাড়ি বের করতে লাগলো রাজ।
-এই শাড়িটা নাও।
বলেই শীতলের গায়ে জরিয়ে দিলো রাজ।
শীতলকে ওয়াশরুম পর্যন্ত এগিয়ে দিলো।
শীতল কিছুটা স্বস্তি পেলো।
যাক, রাজের কেয়ার আর অস্থিরতা মনে হচ্ছে শীতল তার জীবনে ম্যাটার করে।
-মাই গড। ইউ আর লুকিং বিউটিফুল।
শীতল হাসলো।
-তোমাকে এই সিচুয়েশনে আরও সুন্দর লাগছে। বলার ভাষা নেই।
-তার মানে আগে সুন্দরী ছিলাম না।
-নো, ওটা মিন করিনি।
সুন্দর চেঞ্জ হয় প্রতিনিয়ত। একেক সময়ে একেক রকম সৌন্দর্য ধারণ করে মেয়েরা।
-তার মানে সৌন্দর্য সিচুয়েশন অনুযায়ী বদলায়?
-ইয়েস। তখন তোমাকে একরকম সুন্দরী মনে হতো।
-আর এখন?
-এখন অন্যরকম সুন্দরী লাগছে। তুমি সিচুয়েশন অনুযায়ী তোমার সৌন্দর্যতা মানিয়ে নিতে পারো। সব সব রকম সৌন্দর্যই আমার লাইক। আই লাইক ইট ভেরি মাচ।
-ভালোবাসাও কি সিচুয়েশন অনুযায়ী বদলায়?
-হোয়াট?
-বলেছি ভালোবাসা কি সিচুয়েশন অনুযায়ী বদলায়? মানে একেক সময়ে একেক রকম ভাবে ভালোবাসা বদলায়?
আমি যেভাবে সৌন্দর্য মানিয়ে নিতে পারি যে কোন পরিস্থিতিতে, সেভাবে কি আপনিও আপনার ভালোবাসা যেকোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে পারেন?
রাজ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।
শীতলের কাছে এলো। খুব কাছে এলো।
শীতলের চুল গুলো কানে গুজে দিলো।
শীতল চোখ বন্ধ করে ফেললো। খুব লজ্জা লাগছে তার। আগে লজ্জা লাগতো বাট অতোটা না। এখন অন্যরকম লজ্জা লাগে রাজ কাছে আসলেই।
তার সাথে অসম্ভব এক ভালোবাসা মিশে থাকে।
রাজ শীতলের কানে কানে বলল- আকাশে মেঘ জমেছে, চারদিক অন্ধকারে ছেয়ে পড়েছে, বৃষ্টি তো হবেই।
শীতল চোখ খুলে তাকালো।
শ্লেষ মাখা কন্ঠে বলল- মানে?
রাজ হাসলো।
শীতলের হৃদয় শহরে আবারও তোলপাড় শুরু হলো।
শীতল রাজের আরও কাছে গেলো। রাজের নিঃশ্বাস পড়ছে শীতলের মুখের উপর। রাজও চোখ বন্ধ করে শীতলের কাছে গেলো। শীতলের ঠোঁট জোড়া নড়ছে। রাজ ঠোঁট জোড়ার কাছে গিয়েই থেমে গেলো। চোখ খুলে হঠাৎ শীতলের কাছ থেকে সরে গেলো। শীতল চোখ মেলে তাকালো।
রাজ মুখ ঘুরিয়ে নিলো অপর পাশে।
-তুমি বিশ্রাম নাও শীতল।
বলেই চলে গেলো রাজ।
শীতলের হৃদয় শহর এখন ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। চোখ থেকে একফোঁটা পানি পড়ে গেলো।
শীতল জায়নামাজে বসে দোয়া করলো কাঁদতে কাদঁতে।
যেন রাজ যা বলছে তা মিথ্যে হয়ে যায়। সে সুন্দর করে দোয়া গুলো নিয়ম করে করলো।
দোয়া করার নিয়ম
১.প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করবেন* (সূরা
ফাতিহা পড়ে, আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম ধরে প্রশংসা )-
তিরমিজি ৩৪৭৬
২. *দরুদ পড়বেন*- (দরুদ পড়া মানে নবী(স) ও উনার
পরিবারের জন্য জন্য দোয়া।)তিরমিজি ৩৪৭৬
এখন দোয়া শুরুঃ
৩. নিজের জন্য, মাতাপিতার জন্য ও সকল মুসলমানের
জন্য দোয়া (যেমন ঃ ﺭَّﺏِّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻮَﺍﻟِﺪَﻱَّ ﻭَﻟِﻤَﻦ ﺩَﺧَﻞَ ﺑَﻴْﺘِﻲَ
ﻣُﺆْﻣِﻨًﺎ ﻭَﻟِﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻲﻥَ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨَﺎﺕِ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺰِﺩِ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ ﺇِﻟَّﺎ ﺗَﺒَﺎﺭًﺍ *
( *রব্বিগফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়া ওয়ালিমান।
দাখালা বাইতিয়া, মু-মিনান ওয়ালিল মু-মিনিনা ওয়াল
মুমিনাতি ওয়ালা তাজিদিজ্জোয়ালিমিনা ইল্লা
তাবারান*Nuh 71:28)”
অর্থ ঃ হে রব, আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে,
যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে-তাদেরকে এবং
মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন এবং
যালেমদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন।)
৪. এবার আপনার সমস্যা বা রোগীর বা অন্যের সমস্যা
সমাধানের জন্য দোয়া করবেন।
৫. *দোয়ার শেষে আবার দরুদ পড়বেন*
…. কেউ যেন না বলে, হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে
আমাকে দয়া করুন। বরং দৃঢ় আশা নিয়ে দু‘আ করবে….
(বুখারী, মুসলিম)
*তাড়া হুড়া করে দুয়া চাওয়া যাবে না* ( তিরমিজী)
*দুয়া চাইবেন গোপনে, নীরবে, ভিত বিহবল চিত্তে
অনুচ্চস্বরে।* (আরাফ-৫৫, মরিয়ম-৩)
এভাবে দোয়া চাওয়া হচ্ছে সুন্নতি তরীকা।
*দোয়া যে কোন সময় করতে পারেন তবেঃ*
আযান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে,
আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগে,
ফজরের নামাজের পরে,
তাহাজ্জুদের সময়
বৃষ্টির সময়
নামাজের সিজদার সময়
তাশহাদুদের পরে
দোয়া কুনুতের সময় দুয়া
জমজমের পানি পান করার সময়
*নোটঃ সম্ভব হলে কিছু সদাকা/দান খয়রাত
করে ২ রাকাত নামাজ পড়ে তওবা করে উপরোক্ত নিয়মে
দুয়া করবেন।*
*আল্লাহর প্রশংসা না করে সরাসরি “আল্লাহ
আমাকে দাও…” বলে দোয়া চাওয়া ঠিক না।
.
বিছানায় যেতেই শীতল ঘুমিয়ে পড়লো। আজ ভালো ঘুম হয়েছে তার। রাজকে অনুভব করলো সে। শীতলের দিকে পলকহীন ভাবে যেন রাজ তাকিয়ে আছে।
চোখ খুলেই সামনে রাজকে দেখতে পেলো শীতল।
সোফায় বসে তীব্র দৃষ্টিতে বিছানার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। শীতলের দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে রাজ।
রাজের চোখ গুলো আলোর মতো ঝলমলে দেখাচ্ছে।
শীতল খুব আলতো ভাবে বিছানা থেকে উঠে রাজের দিকে এগিয়ে এলো।
রাজের পাশে সে বসলো।
-রাজ সেই পলকহীন ভাবেই শীতলকে দেখছে।
-কি দেখছেন?
-তোমাকে।
-আগে দেখেন নি?
-দেখেছি।
-তবে?
-কেন, মানা আছে নাকি দেখতে?
-অবশ্যই। এভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় কোন মেয়েকে দেখতে নেই। তার লজ্জা লাগতে পারে।
রাজ হাসলো।
শীতল এখন একদম শিউর। রাজ তাকে একটু বাজিয়ে দেখেছে।
শীতল রাজের বুকে আচমকা কয়েকটা কিল বসিয়ে দিলো।
-আরে আরে, কি করছো কি?
-যা করছি বেশ করছি।
-মেরেই ফেলবে আমাকে? সবে তো সুস্থ হলাম।
কি ডাকাত মেয়ে বাবা।
-আমাকে কষ্ট দিয়েছেন।
-সেজন্য সরি।
মাফ করে দাও আমাকে।
-মাফ করে দিলাম আর কখনো এমন করবেন না।
জানেন আমি সত্যি ভাবতে বসেছিলাম। কিন্তু মানতে পাচ্ছিলাম না। খুব কষ্ট হচ্ছিলো আমার।
-এতোদিন আমার সাথে থেকেছো তাই তো মায়া পড়েছে। কষ্ট একটু হবেই।
শীতল রাজের কপালে একটা চুমু দিলো।
রাজ একটু সরে গেলো।
শীতল রাজকে জরিয়ে ধরলো খুব শক্ত করে।
-একটা কথা রাখবেন?
-সব কথায় রাখব।
-আর কখনো এমন করবেন না। বলুন করবেন না। এসব মজা আমার ভালো লাগেনা।
নিতে পারিনা।
-কোন মজা করবনা। কথা দিলাম।
পরম আবেশে, শান্তিতে রাজের বুকে মাথা রেখেছে শীতল। ঘন্টাখানেক হয়েছে শীতল নড়ছে না, সরছেও না রাজের কাছ থেকে।
রাজ শীতলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
-তুমি খুব দূর্বল শীতল। এসব আর ভেবো না। তোমার টেনশন ফ্রী থাকা দরকার।
এতোদিন যা টেনশন করেছো সেসব আমি টেনশন করব। মাইন্ড ইট।
শীতল মাথা নাড়ালো।
শীতল আদুরে গলায় বলল-আপনি একটা পাগল।
-ইয়েস। আই এম ম্যাড।
টোটালি ম্যাড।
আগে ছিলাম শুধু ম্যাড। এখন ক্লেভার ম্যাড।
শীতল হঠাৎ রাজকে ছেড়ে বিছানার নিচ থেকে ডিভোর্স পেপারটা আনলো।
-ছিঁড়ে কুচিকুচি করুন তবে এটা।
রাজ কুচকুচি করলো পেপারটা।
শীতল রাজের গালে চুমু দিয়ে আবারও রাজকে খুশিতে জরিয়ে ধরলো।
-ডিভোর্স পেপারটা কেন দিয়েছিলেন বলুন? আমাকে সত্যি সত্যি কি ডিভোর্স দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন?
-ইয়েস। ভেবেছিলাম না, ভাবছি।
-মানে?
-তুমি আমাকে ডিভোর্স দেবে এবং আমি তোমাকে, তোমাকে মুক্তি দিয়ে দেব আমার থেকে।
শীতল রাজকে ছেড়ে দিলো।
অবাক চোখে তাকিয়ে রয়েছে।
-আমি আমার ডিসিশানে অটল।
-না।
-হ্যাঁ।
-বলুন আবার মজা করছেন?
শীতল হেসে বলল কথাটা।
-তোমার এই সিচুয়েশনে আমি মজা করবো ?
তোমাকে এখন জানাতে চাইনি বিষয়টি। ভেবেছিলাম ডেলিভারির পর জানাবো।
বাট ততদিন পর্যন্ত তোমার সাথে আমার ড্রামা করতে হতো। তোমার কাছ থেকে সুযোগ নেওয়া হতো। এতোদিন শুধু সুযোগ নিয়েছি তোমার। বাট এখন আর নিতে পারবনা। তুমি যেন আগে থেকেই রেডি থাকতে পারো ডিভোর্সের জন্য তাই এখন বলেছি।
ডেলিভারির পর তুমি মুক্ত।
-আপনি কি ঠিক আছেন?
-টোটালি।
-আমাকে কি ভুলে গেলেন?
-তোমাকে ভোলা সম্ভব না।
-তাকিয়ে দেখুন। আমি আপনার বিবাহিতা স্ত্রী। আপনার সন্তানের মা। আপনার আদরের শ্রেয়সী।
যাকে আপনি এক মূহুর্তের জন্য কাছ ছাড়া করতেন না!
রাজ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।
ফাইল থেকে আরেকটা পেপার বের করে শীতলের হাতে দিলো।
-কি এটা?
-ডিভোর্স পেপার।
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রাজের দিকে তাকিয়ে আবারও কুচকুচি করো পেপার শীতল।
-লাভ নেই শীতল। এরকম আরও একশোটা কপি আছে ডিভোর্সের আমার কাছে।
-দুনিয়ার সব ডিভোর্স পেপার আমি ছিঁড়ে ফেলবো। দেখব তখন কিভাবে আমাকে ডিভোর্স দিতে পারেন।
-ছেলেমানুষী করোনা শীতল। তুমি আমার কাছ থেকে কিছু পাবেনা। আমার মন তিক্ত। আমার শরীর বিষাক্ত। আমার মস্তক সাইকোসিস।
আমি বর্তমানে একজন অতি বুদ্ধিমান সাইকোতে পরিণত হয়েছি। আমি কতটা কঠোর হয়েছি তা তোমার কল্পনার বাহিরে।
আমার ইচ্ছে করে পুরো পৃথিবীটা গুড়িয়ে দিতে।
আমার জায়গা অন্ধকারে।
শীতল রাজের সামনে দাঁড়ালো।
-আমার দিকে তাকান?
রাজ মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
-তাকিয়ে দেখুন আমার দিকে। আপনার সব রকমের ঔষধ আমি। আমি আপনার সবকিছু ভুলে থাকার ঔষধ। আপনার দুঃখ, কষ্ট, রাগ, সবকিছু আমি ভুলিয়ে দিতে পারি।
আপনাকে প্রতিটি মূহুর্তে খুশিতে ভরিয়ে রাখতে পারি।
আমি আপনার ভালোবাসা।
-সেজন্যই তো আমি তোমাকে দূরে সরিয়ে দিতে চাই। এখানেই আমার ভয়।
তেমাকে মুক্তি দেব আমি।
শীতল পেছন থেকে রাজকে জরিয়ে ধরলো।
-আমি চাইনা মুক্ত হতে।
আমি আপনাকে এভাবে ফেলে যেতে পারবোনা। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎে আপনাকে ফেলে যাব ভাবলেন কি করে?
আমি আপনার ভালোবাসা তাকিয়ে দেখুন।
রাজ চোখ বন্ধ করে শীতলের হাত পেছন থেকেই ধরলো।
-শীতল। আমার হাতপা বাঁধা। একবার ডিসিশন নিলে চেঞ্জ করিনা। লিভ মি এলন।
-না, না, না।
শীতল চিৎকার করে উঠলো।
রাজ শীতলকে সোফায় বসিয়ে দিলো। চোখের মুক্তো ঝরা পানি মুছে দিলো।
-আমার দামী মুক্তো গুলো অকারণে ঝরাচ্ছ। তুমি কাঁদলে পুরো পৃথিবী কাঁদে জানো এটা?
আমার মতো সাইকোর সাথে তুমি থেকে কষ্ট পাবে। এটা আমি বেঁচে থাকতে হতে দেবনা। তোমাকে সুখী দেখতে চাই।
শীতলের চোখ আবার ভরে উঠলো পানিতে। টপটপ করে পানি পড়ছে। গাল লাল হয়েছে কেঁদে। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পড়েছে। শাড়ির কুচিকুচি গুলোও ইতিমধ্যে খুলে গিয়েছে।
রাজের দু-হাত নিয়ে নিজের গালে রাখলো শীতল।
শ্লেষ মাখা কন্ঠে বলল-আমাকে একটু আদর করবেন? একটি বার আপনার শ্রেয়সী কে আদর করে দেখুন। সব ভুলে যাবেন।
রাজ শীতলের কপালে চুমু খেলো।
-এর বেশি কিছু না। আদর করলে সব ভুলে যাব তাই তো করবনা। তোমার আর কোন সুযোগ আমি নেব না।
এমনিতেই সুযোগ নিতে নিতে আমি লজ্জিত।
-এটা সুযোগ নয় ভালোবাসা।
-না এটা সুযোগ। তুমি আমার সাথে থাকবেনা এটা জেনেও আমি সুযোগ নেব। সুযোগ নিয়েছি বলেই আজ তোমার এই সিচুয়েশন।
আমার সন্তান তোমাকে নতুন জীবন শুরু করতে দিচ্ছে না। তাই আমার সন্তান আমার কাছে থাকবে।আমার কোন চিহ্ন তোমার কাছে থাকতে দেবনা।
শীতল রাজের মাথায় হাত দিয়ে বলল-এই আপনি পাগল হয়ে গিয়েছেন? আর কত পাগল হবেন?
এটা সুযোগ নয় ভালোবাসা। আপনার সন্তান আমার পবিত্র ভালোবাসার উপহার।
রাজ উঠে দাড়িয়ে টেবিলে জোরে লাথি দিলো।
কাঁচের টেবিল মূহুর্তেই ভেঙে খন্ড খন্ড হলো।
শীতল চমকে উঠলো।
রাজের চেহেরাটা কেমন পাল্টে গিয়েছে। খুব ভয় লাগছে তার রাজকে।
রাজ ফ্লোরে বসে চিৎকার দিয়ে বলল-লিভ মি এলন।
আমি একা থাকতে চাই। আমি টোটালি সাইকো।
আমার কাছে কেউ নিরাপদ নয় শ্রেয়সী।

.
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের দুটি নাম (আরবি,বাংলা)
৩৩. ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢُ আল-’আযীম সুমহান
৩৪. ﺍﻟْﻐَﻔُﻮﺭُ আল-গ’ফূর মার্জনাকারী❤
চলবে..