সি আইডি অফিসারের ভালোবাসা Part-13

0
812

গল্প: সি আইডি অফিসারের ভালোবাসা
#Raihan
Part-13

.
_ছিঃ রেজা ছিঃ এই তুই য়ি কি আমার বন্ধু?
তর মত একটা স্বার্থপরকে বন্ধু ভাবতেও আমার লজ্জা লাগছে।
কথাটা বলে ফোনের দিকে তাকাতেই দেখি একটা ভিডিও এসেছে।
ভিডিওটা সিন করার সাথে সাথেই যেন চারপাশটা অন্ধকার হয়ে আসছে।
ভিডিওতে দেখি যে সবুজ আর মাসুদ চাদনির কাপড় ধরে টানাটানি করছে।
আর চাদনী প্রাণ পণে ছাড়াতে চেষ্টা করছে।
কিন্তু একজন মেয়ে হয়ে কি আর দুজন ছেলের সাথে পেড়ে ওঠা যায়?
এই দৃশ্যটা দেখার সাথে সাথে যেন আমার চার পাশটা আমাবস্যা রাতের থেকেও অন্ধকার হয়ে আসছে।
হে আল্লাহ আমাকে এই কোন পরিক্ষার মধ্যে ফেললে?
যাদেরকে নিয়ে মিশনে এসেছিলাম আজ তাদেরকে দিয়েই শত্রু দল আমাদের ডিপার্টমেন্টকে কলঙ্কিত করছে।
তিনজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে এসেছিলাম সফলতার সাথে মিশনটা কমপ্লিট করবো বলে।
কিন্তু কি এমন দোষ করেছিলাম যার জন্য আমার দুটো বন্ধু আজ নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে।
রেজা না হয় একটু মেন্টালি প্রবলেম আছে।
বাট ভাবছিলাম নিজের জীবনকে বিসর্জন দিয়েও ওদেরকে রক্ষা করবো।
কিন্তু রেজাও বলছে সে নাকি যাবে না।
এখন আমি কি করি?
কিন্তু আমাকে সাহস হারালে চলবে না।
আমি তো আইনের সেবক।
যেদিন ট্রেনিংয়ে শপথ নিয়েছিলাম
সেদিন থেকেই তো নিজের জীবনটাকে দেশ ও জনগণের কল্যাণের জন্য দান করে দিয়েছিলাম।
তাহলে আমি ভয় পাবো কেন?
আমার জীবনটা তো এখন আমার না।
এটা তো এখন দেশ ও বিপদগ্রস্থ্য দেশের মানুষের।
তাহলে আমি আমার জীবনের মায়া করবো কেন?
না এ কিছুতেই হতে পারে না।
আমি আজকেই যাবো সেই রাঙা মাটিতে।
উদ্ধার করে আনবো ওদের সবাইকে।
এটা আমার প্রতিজ্ঞা…..!!
কিন্তু এই মূহুর্ত্বে আমাকে আরো সাহস ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য কাউকে দরকার।
তাই আমি দেরি না করে ডি.বি অফিসার রত্না আপুর বাসায় চলে গেলাম।
আপুর বাসাই ঢোকার সাথে সাথেই দেখি একটা মেয়ে নীচের দিকে মাথাটা দিয়ে সোফাতে বসে আছে।
কিন্তু মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
হঠাৎ আমি আপুকে জোরে ডাক দিতেই মেয়েটি মাথা তুলে আমার দিকে তাকায়।
মেয়েটা আমার দিকে তাকাতেই আমি যেন ১৮০০ বোল্টের শক্ খেয়ে যায়।
হঠাৎ পুরোনো স্মৃতিটা বুকের ভেতর মুচড় দিয়ে ওঠে।
ভেবেছিলাম যাকে হয়ত আর কখনোই দেখতে পারবো না।
যার সাথে কখনোই দেখা হবে না
অথচ আজ সেই মানুষটাই সামনে দাড়িয়ে।
আজ এই মুহূত্বে যে আমার সামনে দাড়িয়ে আছে সে আর কেউই নই।
আমার ই প্রাক্তন প্রেমিকা সাথী।
হঠাৎ করেই মনের মাঝে অজান্তেই প্রশ্ন ভেসে আসছে
আসলে আজও কি সাথী আমাকে ভুলতে পেরেছে?
নাকি সাথী সেদিন মিথ্যা বলে আমার থেকে দূরে চলে গিয়েছিলো?
আচ্ছা সাথী আমার থেকে দুরে চলে গেলো কেন?
কি অপরাধ করেছিলাম আমি?
নিঃস্বার্থভাবে যে ওকে ভালোবেসেছিলাম সেটাই কি আমার অপরাধ ছিলো?
নাকি আমার ভালোবাসা ওর মনটাকে জয় করতে পারে নি সেটাই আমার অপরাধ ছিলো?
আবার মনকে বার বার বুঝাচ্ছি_
আরে সাথি হয়ত আমার মাঝে যে স্বপ্ন দেখতে পাইনি সেটা অন্যকারো মাঝে দেখেছিলো।
তাই হয়ত আমার ভালোবাসাটাকে তোয়াক্কা না করে অন্যকারো ভালোবাসাতে জড়িয়ে চলে গিয়েছিলো।।
তাকিয়ে দেখি সাথিও অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
ওর চোখে পানি টলমল করছে সেটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।
কিন্তু সেটাকে বার বার লুকাতে চেষ্টা করছে।
কিন্তু শেষ বিদায়ে আমার সেই কথাগুলা হয়ত সাথীর চোখের জলকে বাধা মানতে দেয় নি।
তাই হয়ত লোকানোর শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে।

আসলে ও ছিলো আমার কলেজ লাইফের বেষ্টফ্রন্ড ও প্রথম প্রেমিকা।
প্রথম প্রেমিকা বলার কারণ হলো আপনারা তো জান ই যে এখন চাদনী হলো আমার ভালোবাসা।
চাদনীর জন্য এখন আমি সব করতে পারি।
চাদনীও আমার জন্য নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে এখন বিপদে।
কিন্তু একটা সময় ছিলো যখন আমি এই মেয়েটার জন্য সব করতে পারতাম।
মেয়েটার ভালোবাসাতে এতই অন্ধ ছিলাম যে ওকে ছাড়া কিছুই বুঝতাম না।
কলেজে থাকা অবস্থ্যায় আমরা একজন আরেকজনকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসতাম।
হঠাৎ করে মনে পড়ে গেলো কলেজ লাইফের সেই প্রথম দিনটার কথা।।
এস.এস.সি কমপ্লিট করে সবে মাত্র ইন্টারে ভর্তি হয়েছি।
প্রথম দিন কলেজে যাবো তাই আমি সবুজ মাসুদ রেজা আগের দিন ঠিক করলাম যে সবাই এক সাথে কলেজে যাবো।
তাই পরদিন চারজনে এক সাথে কলেজে গেলাম।
কলেজ বাসা থেকে বেশি দূরে না হওয়াই চারজনে হেটেই চলে আসলাম।
কলেজে পৌছে চারজনে একসাথে বসে আলাপ করতে ছিলাম।
ঠিক তখনি একটা মেয়ে এসে বলে__
_ভাইয়া 1st year র ক্লাসটা কোন দিকে একটু বলবেন প্লীজ!
আমি রুমটা খুজে পাচ্ছি না।
actually,আমি আজকেই প্রথম আসলাম তো তাই।।।{মেয়েটা}
omg এটা আমি কি দেখছি….?
এটা কি মানুষ নাকি পরিস্থানের হুর?
মানুষ এতটা সুন্দর হতে পারে কিভাবে?
আমি স্বপ্ন দেখছি না তো?
পৃথিবীতে এত সুন্দরও যে মানুষ আছে সেটা হয়ত এই মেয়েটাকে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না।
মেয়েটার রুপের বর্ণনা দেওয়ার মত কোনো ভাষাই আমার জানা নেই।
লম্বা ঘন কালো চুল।
মুখটা এত মায়াবী যে না দেখেই বার বার মেয়েটার প্রেমে পড়া যায়।
নীল জামা,ঠোঠে লিপষ্টিক আর হালকা মেক আপে মেয়েটাকে কতটা সুন্দর লাগছে যে বলে বুঝানো যাবে না।
তবে কোনো কবি যদি মেয়েটাকে দেখত তাহলে তার রুপে মুগ্ধ হয়ে সেখানে বসেই কবিতা লিখা শুরু করে দিতো সেটা আমি ১০০% শিউর।
হঠাৎ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আমি ভূলেই গেছি যে এখন আমি কোথাই কিভাবে আছি।
আমার এমন করে তাকিয়ে থাকা দেখে সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
_কি রে হালা মুখটা বন্ধ কর।
না হলে তো মশা ঢুকবে…?{মাসুদ}
_ঐ আমি কই রে…?{আমি}
_তোমি সদরঘাটে বইসা কুত্তা দৌড়াইতাছো….?
হালা হা করে কি দেখছ?
মুখটা বন্ধ কর।{সবুজ}

_দেহো মোর জ্বালা!
মেয়েটা বলে কি?
আমরা মনে অয় এক বছর আগে থেকেই এসে বসে আছি।
আজকেই কলেজের প্রথম দিন।
তো আপনি আজ আসছেন কেন …??
এখন তো ২০২০ সাল।
তো ২০১৯ এ এসে বসে থাকতে পারলেন না….?{রেজা}
মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বললো রেজা।
কথাটা বলেই রেজাকে সহ সবাই জোরে জোরে হাসতে থাকে।
আর মেয়েটা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে।
কিন্তু সেখান থেকে যেতেও পারছে না।
আবার সেখানে দাড়িয়েও থাকতে পারছে না।
মনে হচ্ছে খুব লাজুক প্রকৃতির মেয়েটি।
কথায় খুব ভদ্রতার ছাপ আছে দেখা যাচ্ছে।
মেয়েটাকে দেখে মনের অজান্তেই মনের স্মার্ট ফোনে ঘন্টা বেজে ওঠলো।
ওদের কথাতে মেয়েটা খুব লজ্জা পাচ্ছে সেটা ওর ভাব দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
আমি মেয়েটার অবস্থাটা বুঝে ধমক দিয়ে ওদের সবাইকে চুপ করিয়ে দেই।
_
তোমার নাম কি?{আমি}
হঠাৎ মেয়েটা চমকে গিয়ে বলে
_ জ্বী আমার নাম শামীমাতুল জান্নাত সাথী।
সবাই আমাকে সাথি বলেই ডাকে{মেয়েটা}
_খুব সুন্দর নাম তোহ।।{আমি}
_জ্বি ধন্যবাদ{সাথী}
_তো সাথী ওরা আসলে না বুঝে তোমার সাথে দুষ্টামি করছে।
কিছু মনে করোনা প্লীজ!
আসো আমার সাথে আমিও ক্লাসরুমের দিকেই যাচ্ছি।{আমি}
_জি চলেন{সাথী}
কথাটা বলে সাথী আমার সাথে হাটতে শুরু করলো।
পেছনে তাকিয়ে দেখি ওরা তিনজন আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে।
আর ততখনে আমি আর সাথী ক্লাস রুমে চলে আসলাম।
ক্লাসরুমে প্রবেশ করেই একটা খালি সিট পেয়ে সাথী সেখানে বসে যায়।
কিন্তু আমি আর সিট না পেয়ে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকলাম।
কিন্তু বসার মত কোনো জায়গা ই পেলাম না।
মেয়েটাও নিচের দিকে তাকিয়ে খাতাতে কি যেন লেখতে শুরু করে দিয়েছে।
আমার দিকে একটু ফিরেও তাকাচ্ছে না।
এখন মেয়েটার সাথে এক সিটে বসতেও পারতেছি না।
আবার মেয়েটাকে রেখে বাহিরেও যেতে মন চাচ্ছে না।
কি যে করি।
অনেক ভেবে চিন্তে ডিসিশান নিলাম যে বাহিরেই চলে যায়।
মেয়ে মানুষ কিছু তো বলা যায় না।
না জানি কখন কি বলে বসবে
তারপর হবে অন্য ঝামেলা।
অনেকক্ষণ ভেবে চিন্তে যেইমাত্র বেরিয়ে আসতে যাবো ঠিক তখনি__
_শুনছেন….
কিছু মনে না করলে আপনি আমার সাথে বসতে পারেন{সাথী}
ও মা এতো দেখছি মেঘ না চাইতেই ডাডা…?
থুক্কু বৃষ্টি।
কিন্তু সরাসরি বসে পড়লে কিছু মনে করতে পারে তাই একটু ভাব নিয়ে বললাম
_না বসতে হবে না।
আপনি বসেন।
আমি বরং চলেই যায়।{আমি}
_আরে তা কি করে হয়?
আপনি তো কলেজের ই ছাত্র।
আর এই কলেজের ছাত্র হিসেবে আপনারও তো এই সিটে বসার অধিকার আছে।{সাথী}
আহ কথা শুনে মনটা জুড়িয়ে গেলো।
মনে চাইতাছে খুশির ঠেলায় ওরে ২টা সিগারেট কিন্না দেই।
কিন্তু টাকা খরচ হবে ভেবে আর কিন্না দিলাম না…..?
আরেকটু ভদ্র ভাব নিয়ে বললাম
_হুম! সেটা তো অবশ্যয়।{আমি}
_তাহলে বসছেন না কেন?
বসেন বলছি।{সাথী}
আরে আরে এত সুযোগ দিবেন না মেডাম।
বেশি সুযোগ দিলে শুধু আপনার পাশে সিটে না।
মনে গিয়ে বসে যাবো তো….?
{মনে মনে বললাম}
_হুম বসছি।
কথাটা বলে আমি মেয়েটার {মানে সাথীর} পাশে বসলাম।
ঠিক তখনি হারামিগুলা চলে আসছে তাই মেয়েটার সাথে পরিচয়টাও হতে পারলাম না।
মেয়েটা অবশ্য বেশ কয়েকবার আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো।
বাট কথা বলে নি।

এভাবে প্রায় ই সাথীর সাথে আমি এক ই সীটে বসতাম।
কিন্তু কথা হতো না।
মেয়েটা খুব লাজুক প্রকৃতির ছিলো।
তাই ওর মেয়ে ফ্রেন্ডদের সাথেও বেশি মিশতো না।
দুয়েকটা দরকারি কথা ছাড়া মেয়েদের সাথেও বেশি কথা বলতো না।
একদিন ক্যাম্পাসের পাশের গাছটার নীচে মেয়েটা বসে খাতাতে কি যেন লিখতে ছিলো।
হঠাৎ করে লক্ষ করলাম সাথীর চোখের পানিতে ওর খাতাটা ভিজে যাচ্ছে।
হঠাৎ ভাবছি সাথি কান্না করছে কেন?
আর সবসময় ও খাতাতেই বা কি লিখে?
কিন্তু দেখতেও তো পারি না।
কারণ লেখার শেষে খাতাটা সবসময় নিজের কাছেই রেখে দেয়।
আর দেখাতে বললে কাউকে দেখতেও দেয় না।
একদিন ক্যাম্পাসের নীচে বসে সাথি আনমনে কি যেন ভাবছে।
আর তখনি আমি ওর সামনে গিয়ে দাড়াই।
আর ছো মেরে ওর কাছ থেকে খাতাটা নিয়ে নিই।
হঠাৎ ছো মেরে খাতাটা নিয়ে নেওয়াতে চাদনী ভয় পেয়ে যায়।
আর খাতাটাতে দেখি আজকের তারিখ আর সাথি কখন কি করছে কোথায় বসছে।
কার সাথে কথা বলছে।
ঠিক কয়টার সময় বলছে সব লিখা আছে।
সেদিন সাথিকে ওর এগুলো লিখে রাখার কারণ জানতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু ও কিছুতেই বলে নি।
কিন্তু সে ব্যপারটা না বললেও সাথির সাথে সেদিন অনেক সসময় এক সাথে বসে আড্ডা দিই।
দুজনে দুজনের অনেক সুখ_দুঃখ,আনন্দ_বেদনা শেয়ার করি।
কিন্তু শুধু সাথি বললো না খাতাতে সবকিছু লিখে রাখার কারণটা
সেদিনেরপর থেকে সাথী আর আমার ভালো বন্ধুত্ব হয়।
আবার সবুজ,মাসুদ রেজা ওরা এসেও সাথীর সাথে বন্ধুত্ব করে।
আর আমাদের চার জন ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে সাথীও একজন হয়ে ওঠে।
আস্তে আস্তে সাথীর সাথে খুব ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয়ে ওঠে আমার।
ওর কথাবার্তা,চালচলন,ভাবভঙ্গি সব কিছুই কেন জানি আমার কাছে মধুর হয়ে ওঠতে শুরু করে।
সব সময় শুধু ওর কথাই মনে পড়ে।
কোনো কিছুই ভালো লাগতো না সাথিকে ছাড়া।
শুধু ওকে বারবার দেখতে ইচ্ছে করতো।
আর তাই কলেজ ছুটি হওয়ার পর সারাটা সময় ছটফট করতাম কখন পরের দিনটা আসবে।
কখন কলেজে যাবো আর সাথীকে দেখতে পাবো।
আর শুক্রবারে যেহেতু কলেজ ছুটি থাকতো তাই শুক্রবারটা ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিতাম যাতে তাড়াতাড়ি শনিবারটা চলে আসে আর আমি কলেজে গিয়ে সাথীকে যেন দেখতে পাই।
এমনভাবেই আস্তে আস্তে ১বছর কেটে যায়।
তারপর হঠাৎ একদিন সাথি ওর ফ্রেন্ডদের সাথে বসে আছে।
আর একটা গোলাপ নিয়ে আমি সেখানেই ওকে প্রফোজ করে বসি।
_I love you সাথী!
“”””””কলেজে সর্ব প্রথম দেখেছিলাম তোমাকে,
সেদিন থেকে তোমার মাঝে হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে,
ভালোবেসে তুমি যদি আপন কর আমাকে,
এভাবেই আজীবন ভালোবেসে যাবো আমি তোমাকে”””””””
তোমাকে প্রথম যেদিন কলেজে দেখেছিলাম
তখনি তোমার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।
কিন্তু তখন বলতে পারি নি।
কিন্তু আজ বলতে আর কোনো বাধা নেই।
সত্যিই আমি তোমাকে ছাড়া বাচবো না।
I really love you!
Do you love me….?

কথাটা বলে হাটু গেড়ে সাথির দিকে ফুলটা এগিয়ে দিতেই সাথে সাথেই সাথি আমাকে সজোরে একটা ধাক্ককা দিয়ে কেদে কেদে দৌড়ে চলে যায়।
আর হঠাৎ ওর এমন বিহেভে সাথির বান্ধবীরা সবাই অবাক হয়ে যায়।
আর এদিকে আমার হাটু মাটিতে থাকা অবস্থায় সাথি আমাকে আচমকা ধাক্কা দেওয়াই নিজেকে কর্টোল রাখতে না পারায় সাথে সাথে আমি পেছন উল্টে মাটিতে পড়ে যায়।
আর সেখানে একটা দেওয়ালে মাথায় বারি খাওয়া ই সাথে সাথেই মাথা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে।
আর তার সাথে সাথেই আমি সেন্সলেস হয়ে পড়ে যায়।
এরপর আর কিছু মনে নেই।
যখন জ্ঞান ফিরে তখন নিজেকে হসিটালের বেডে আবিষ্কার করি।
আমার মাথার কাছে সবুজ,রেজা,মাসুদ বসে আছে।
হঠাৎ সাথির কথা মনে হতেই আমি ব্যান্ডেজ নিয়েই দৌড়ে হসপিটালের বেড থেকে চলে আসি।
যেভাবেই হোক সাথি আমাকে ভালোবাসে কি না বা আমার সাথে এমন বিহেভ করলো কেন সেটা জানতেই হবে।
পেছন থেকে রেজা,সবুজ,মাসুদ ওরা সবাই অনেক ডাকাডাকি করেছে।
কিন্তু আমি সেদিকে কান না দিয়ে সোজা চলে আসি কলেজে।
কলেজে এসে ওর ফ্রেন্ডদের কাছে জানতে পারি যে সাথী নাকি চলে গেছে।
কিন্তু সব থেকে অবাক করা বিষয় হলো সাথি কোথা থেকে এসেছিলো
কোথায় থাকতো সেটা নাকি ওরা কেউ ই জানে না।
সাথি নাকি ওদেরকে কিছুই বলে নি।
সেদিনের পর থেকে সাথি আর কলেজে আসে নি।
আর আমিও সাথির অপেক্ষাতে থাকতে থাকতে কলেজে/ভার্সিটির গন্ডি পেরিয়ে এখন সি.আই.ডি-র ACP পোষ্টে আছি।
কিন্তু সেই সাথির সাথে যে আজকে হঠাৎ করে আবার দেখা হয়ে যাবে সেটা কল্পনায় করতে পারি নি।
চাদনীর দিকে তাকিয়ে দেখি ও প্রায় কান্না করছে।
কিছু হয়ত বলতে যাবে কিন্তু বলতে পারছে না।
শুধু ওর ঠোঠ দুটো কাপছে।
মনে হয় যেকোনো সময় জোরে কান্না করে দিবে।
কিন্তু যতটা সম্ভব কান্নাটাকে আটকে রাখার চেষ্টা করছে।
কিন্তু চোখ দেখে মনে হচ্ছে চোখের পানিটা হত কিছূতেই বাধা মনতে চাচ্ছে না।
বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে বাইরে।
_কেমন আছো তোমি?[সাথি]
_যেমনটা রেখে গেছিলে ঠিক তেমনটাই আছি[আমি}
_ওহ আচ্ছা
_হুম।
_একটা কথা বলবো?
_হুম একটা কেন?
যত খুশি বলতে পারো।।
চাদনী যেই মাত্র কথাটা কথা বলতে যাবে ঠি তখনি রত্না আপু চলে আসে।
_আরে শাকিল তোই এখানে!
হঠাৎ কি মনে করে?
_আপু তোমার কাছে আসছি একটা জরুরি কাজে!
_তো কি এমন জরুরি কাজে আসছিস?
_আপু মাসুদ আর সবুজকে কলেজের সেই খুনিগুলো বন্ধি করে রেখেছে
আর তার সাথে আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক মহিলা অফিসারকেও।
_হুম আমি শুনেছি।
_মানে?
তোমি কি করে শুনলে?
_রেজা বলেছিলো।
আর এটাও বলেছিলো যে যারা ওদেরকে বন্দি করে রেখেছে তারা নাকি অনেক শক্তিশালী দল।
আর ওদের দলে নাকি পাচশত র ও বেশি লোক আছে।
_মানে?
ওদের দলে পাচশতর ও বেশি লোক আছে সেটা রেজা কিভাবে জানলো?
.
_আরে পাগল সেটা কি আমি জানি নাকি রে?
_শোনো আপু এখন ওরা যত বড় দল ই থাকুক না কেন,ওদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে আমাকে সেখানে যেতেই হবে।
আর সবুজ, মাসুদকে সহ ভার্সিটির সব বন্ধী হওয়া মেয়েদেরকে উদ্দার করতেই হবে।
আর এতে যদি আমাকে নিজের জীবনটাও দিয়ে দিতে হয় তবুও আমি কিছু পরোয়া করি না।
_আর কেউ না জানলেও আমি তো জানি যে তূই কখনো তর দায়িত্ব থেকে পিছপা হবি না।
আর শোনলাম তর জন্য ই নাকি চাদনী আজ ওদের হাতে বন্ধী?
আর তরা একে অপরকে নাকি খুব ভালোবাসিস?
_হুম আপু…!
.
হঠাৎ আমার মুখে কথাটা শোনার সাথে সাথেই সাথীর ফর্সা মুখটা নিমিষেই কালো হয়ে যায়।
সাথীর দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।
সাথী আমার দিকে একবার তাকিয়েই কেদে দিয়ে দৌড়ে রুমে চলে যায়।
আর সাথীর এমন বিহেভ দেখে রত্না আপুও অবাক হয়ে যায়।
রত্না আপু আমাকে বললো—
_জানিস শাকিল ওর নাম সাথী।
আর ও তর নামের নাম শাকিল নামে
_হুম জানি!
_তুই কিভাবে জানলি?
_না ইয়ে মানে মেয়েটাকে জিজ্ঞাস করছিলাম আরকি।
{কাটানোর জন্য মিথ্যা কথা বললাম}
_মেয়েটা আমার কাজিন হয়।
_ও বর্তমানে পুলিশের ওসি ।
_ভালোই তো ডি.বি অফিসারের কাজিন ওসি…?
_হুম!
বাট মেয়েটা খুব ই ইমোশনাল।
কারো কষ্ট ই কখনো দেখতে পারে না।
সাথে সাথে নিজেও কেদে দেয়।
এমন ইমোশনাল মানুষ এই যুগেও যে আছে সেটা ভাবতেও আমার অবাক লাগে।
_হুম! বালের ইমোশনাল।
এত ই যদি বাল ইমোশনাল থাকতো তাহলে কলেজে থাকায় আমাকে এভাবে বাশ দিলো ক্যান??
{অতিমাত্রায় রাগে মনে মনে কথাটা বললাম।}
_আর আজকেই ছুটি পেয়ে আমার কাছে এসেছে।
কিন্তু ও যখন ইন্টারে ভর্তি হয়েছিলো তখন ওর একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিলো।
যার কারণে মাঝে মাঝে ওর স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়ে যেত।
কখনো কখনো কিছুই মনে থাকতো না।
আর তাই ওর সাথে সবসময় একটা পার্সোনাল খাতা থাকতো।
আর ঐ খাতাতেই ও লিখে রাখতো ও কখন কি করছে না করছে।
কিন্তু সাথি নাকি কলেজে থাকা অবস্থ্যায় একটা ছেলেকে খুব ভালোবাসতো।
আর ছেলেটাও নাকি সাথীকে জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসতো।
ছেলেটার নাম ছিলো তর নামে।
ছেলেটা নাকি একদিন সাথিকে প্রফোজ করছিলো।
কিন্তু সাথির এ রোগটি থাকার কারণে ছেলেটির প্রফোজে রাজি হইনি।
কারণ ও কখনো ছেলেটিকে কষ্ট দিতে চাই নি।
আর সেদিন ছেলেটি যখন ওকে প্রফোজ করেছিলো তখন সাথি নিজের উপরেই রাগ করে রাগকে কন্ঠোল করতে না পেরে ছেলেটিকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে চলে আসে।
যাতে ছেলেটির সাথীর প্রতি ঘৃণার সৃষ্টি হয়।
আর তারপর সাথীকে ছাড়া যেন ভালো একটা মেয়ে দেখে ছেলেটা রিলেশন করতে পারে।
আর ওর ধাক্কাতে নাকি ছেলেটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
ছেলেটাকে যখন হাসপাতালে নেওয়া হয় তার কিছুক্ষণ পর সাথি ছেলেটাকে দেখতে গিয়েছিলো।
কিন্তু ওর এক বন্ধু নাকি ছেলেটাকে দেখতে দেই নি।
আর এর পর থেকে আর সাথি ঐ কলেজে যাই নি।
তারপর ওর চিকিৎসা আর শিক্ষা দুটোর জন্য ই সাথি চলে যায় লন্ডনে।
আর সেখান থেকে রোগের চিকিৎসা আর উচ্চতর ডিগ্রি কমপ্লিট করে দেশে ফিরে আসে।
ও চাইলে যেকোনো চাকরিতেই জয়েন করতে পারত।
কিন্তু ওর নাকি পুলিশ হয়ে জনগণের সেবা করতে চায়।
আর তাই সব ছেড়ে পুলিশে ই রয়ে গেলো।
সব থেকে বড় কথা হলো ওর সেই কলেজ লাইফের ছেলেটার অপেক্ষাতে মেয়েটা আজও পর্যন্ত বিয়েটা পর্যন্ত করে নি।
ওর নাকি বিশ্বাস সেই ছেলেটি নাকি ওকে নেওয়ার জন্য একদিন ঠিক ই আসবে।
আর সেই অপেক্ষাতে আজও পর্যন্ত ছেলেটার পথের দিকে চেয়ে আছে।
আমি কত সময় বুঝি না
এখনকার সময়েই কেউ এতটা নিঃস্বার্থভাবে কাউকে ভালোবাসতে পারে?
আসলে সত্যিকারের ভালোবাসাগুলো এমনি হয়।
এদের সহজে মিলন হয় না।
_আচ্ছা বলতো ভাই! যেই ছেলেটা কত বছর আগেই ওর জীবন থেকে চলে গেছে সে ছেলেটা কখনো ওর জীবনে যে আসবে সেটার গ্যারান্টি কি আছে?
সাথীর সম্পর্কে রত্না আপুর মুখে কথাগুলো শোনার সাথে সাথেই বুকের ভিতর যেন তুলপাড় শুরু হয়ে গেছে।
যেই সাথীকে এতদিন জোর করে ভূলে থেকেছি
মনে মনে হাজারটা গালি দিয়েছি।
যার ছায়াটা এমনকি অতীতে কাটানো সময়টাকে ঘৃণা করছি
আর আজকে বুঝতে পারলাম সেই মেয়েটাই আমার ভালোর জন্য কতটা কষ্ট সহ্য করছে।
এমন কি জেনে বুঝে নিজের ভালোবাসাটাকেও বিসর্জন দিয়েছে।
আচ্ছা আমি তো শুধু সাথিকে ভালোবাসি নি।
সাথীও তো আমাকে ভালোবাসতো।
শুধু এই সামান্য একটা রোগের জন্য সাথি ওর ভালোবাসাটাকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই রেখে দিছিলো।
আচ্ছা সাথি কি জানতো না যে ভালোবাসা কখনো বাহ্যিক কিছু দেখে হয় না?
ভালোবাসা শুধু শরীরের আকর্ষণ ই না।
দুটি মনের ইচ্ছা আশা।
তাহলে সাথি শুধু মাত্র ছোট্র একটা কারণে আমাকেও কষ্ট দিলো কেন?
আবার নিজেই বা ধুকে ধুকে কষ্ট পাচ্ছে কেন?
এত দিনে বুঝতে পারলাম সাথীর ভালোবাসাটাকে।
কথাগুলো ভাবছি আর চোখ দিয়ে নিরবে টপটপ করে পানি ঝরছে।
-কিরে শাকিল তোই কাদছিস কেন….?{রত্না আপু}
_কো কোই না নি তো।
আ আমি কাদবো কেন?
{খানিকটা তুতলিয়ে}
_তাহলে তোর চোখে পানি কেন?
_চো চোখে ম মনে হয় কোনো পো পোকা পড়েছে।
যার কারণে পানি পড়ছে।
_আচ্ছা সত্যি করে একটা কথা বলবি?
_হুম বলো!
_তোই তো আবার সাথির কলেজ লাইফের সেই শাকিল নয়তো?
দেখ সত্যি করে বলবি।
আমি কিন্তু মিথ্যে কথা একেবারেই পছন্দ করি না।
সত্যি করে বল।
_………
_কিরে চুপ করে আছিস কেন বল
_………
_কি রে বলবি নাকি?
বল বলছি।।।
_হ্যা আপু আমিই সেই শাকিল।
যে কলেজ লাইফে সাথিকে খুব ভালোবাসতো।
আমার মুখ থেকে কথাটা শোনার পর রত্না আপু অবাক হয়ে যায়।
_এখন আমি কি করবো আপু?
_কেন তুই এখন সাথিকে তর জন্য অপেক্ষাতে থাকার আর তর ফিরে আসার প্রতি বিশ্বাস রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ ওকে তুই বিয়ে করবি।
তর জন্মজন্মান্তরের সুখ_দুঃখ,আপদ-বিপদের সাথি করে নিবি।
_সেটা যে চাইলেও সম্ভব না আপু…!
_মানে?
যেই চাদনীর জন্য তোই পাগল ছিলি।
যেই সাথী তকে ভালো রাখার জন্য জীবনে কত কষ্ট সহ্য করলো।
আর তুই বলছিস সেই সাথিকে নাকি তোই বিয়ে করে নিজের স্ত্রী র মর্যাদা দিতে পারবি না?
ছিঃ শাকিল ছিঃ তকে না নিজের ভাইয়ের মত ভাবতাম।
এত ভালো জানতাম,
এত বিশ্বাস করতাম আর আজ তুই কি না আমার বিশ্বাসের এই প্রতিদান দিলি?
তুই এত স্বার্থপর,এত নিচ সেটা আমি জানতাম না। ??
_তোমি তো শুধু তোমার কাজিনের কথাটাই চিন্তা করে মুখে যা আসছে তাই যে বলছো।
একবার কি বুঝতে চেয়েছ যে আমিও একটা মেয়েকে কথা দিয়েছি।
আর আমার কথা দেওয়ার কারণে মেয়েটা এখনো আমার পথে তাকিয়ে আছে।
কিন্তু আজকে যদি আমি চাদনীকে রেখে সাথিকে বিয়ে করি তাহলে চাদনীর সামনে আমি কি নিয়ে দাড়াবো
একটা বারও কি ভেবে দেখেছো?
_তুই এখন যে চিন্তা করছিস যে চাদনির সামনে তুই কি নিয়ে দাড়াবি?
তুই ও কি একবার ভেবে দেখেছিস যে সাথির এই অপেক্ষার তুই কতটুকু মূল্যায়ন করতে পেরেছিস?
আমি জানি তুই কখনোই সেটা ভেবে শেষ করতে পারবি না।

_কিন্তু এখন আমি দুজনের কাউকেই তো পর করতে পারবো না।
এখন আমি কি করবো আপু?
আমি যে চাদনি কে ঠকাতে পারবো না।
_ঠকানো না ঠকানো তর ব্যপার।
আমি কি করে বলবো।
কিন্তু একটা কথা মনে রাখ শাকিল!
তোই যদি এখন সাথিকে রেখে চাদনীকে নিয়ে থাকিস তাহলে সাথির এতদিনের অপেক্ষার প্রতিদান তোই কই দিতে পারলি?
তোই কি চাস সাথি ওর অপেক্ষার প্রতিদান না পেয়ে সমগ্র ছেলে জাতীকে সার্থপর ভাবুক?
তোই কি চাস! সাথি তর ভালোবাসাটা না পেয়ে আত্মহত্যা করুক?
তোই কি চাস সাথি তকে না পেয়ে অকালেই নিজের জীবনটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিক?
_…….
_জানি! জানি তর কাছে এখন এক কোনো উত্তর নেই।
আর থাকবেই কি করে?
তরা ছেলেরা তো শুধু নিজের দিকটাই ভালো করে দেখিস।
কখনো তো ভেবে দেখিস না মেয়েরাও মানুষ।
ওদেরও ভালো-মন্দ আছে হুহ…?
_হ্যা হ্যা হ্যা জানি যে আমার কাছে এর কোনো উত্তর নেই।
আমি জানি সাথি আমাকে ওর নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসে।
আর এটাও জানি আমার সাথে ওর না দেখা হলে এখনও পর্যন্ত সাথি আমার অপেক্ষাতেই থাকতো।
আর এটা ভুলে যেওনা যে
একটা সময় আমিও সাথিকে পাগলের মত ভালোবাসতাম।
কিন্তু এখন আমি কি করবো বলো?
আমি মানুষটা তো একটা।
কিন্তু এখন দুজনকে তো নিজের ভালোবাসাটা সমানভাবে ভাগ করে দিতে পারবো না।
আর এটাও ভূলে যেওনা আমরা সমাজে বাস করি।
আর সমাজও এটা কখনোই মেনে নিবে না।
_ওহ তার মানে তর একটাই কথা যে তুই সাথিকে মেনে নিতে পারবি না?
_আমি তো সেটা বলি নি আপু!
আমি তো….
_ব্যাস! ব্যাস আমার যা বুঝার তা বুঝে নিয়েছি!
আমার আর বুঝতে হবে না।
আর তদের ছেলে জাতীদের আমারও চেনা হয়ে গেছে।
আরে তদের মধ্যে তো ভালোবাসা বলতে কিছু আছে বলে মনে হয় না।
আর সেই তরা একটা মেয়ের ভালোবাসাটাকে কিভাবে বুঝতে পারবি?
_দেখো আপু আমি কিন্তু সেটা বলি নাই।
_থাক! থাক আমাকে আর জ্ঞান দিতে হবে না।
আমি পোষ্টে না হয় বয়সে তর থেকে যেহেতু বড় সুতরাং আমার জ্ঞান তর থেকে বেশি বলতে কম নেই।
কি আর করার?
বোনটা যেহেতু আমার সুতরাং ওর কথা তো আমাকেই ভাবতে হবে।
দুনিয়ার সবাই ওকে ছেড়ে গেলেও আমি তো আর ছেড়ে যেতে পারি না তাই না?
আমার আর এদেশে থাকার কোনো দরকার নেই।
আমি আজকেই সাথিকে নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি।{রত্না আপু}

_এসব কি বলছো আপু?
তোমি দেশ ছেড়ে চলে যাবে।{আমি}
_আরে যাইতে দিলে তো তারপর যাবে তাই না?{রাফি}
দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি রাফি কয়কজন গুন্ডা নিয়ে দরজার কাছে দাড়িয়ে আছে।
রাফির হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি ও কি যেন ক্যামেরার মত একটা আমাদের দিকে তাক করে ধরে আছে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই…
_কি রে ACP হা করে দেখছিস কি?
আরে এটা একটা শুধু ক্যামেরা না।
সাথিকে নিয়ে তোমাদের দুই জনের এতক্ষণের এ্যাকটিংগুলা তোমার প্রেমিকা চাদনীকে দেখাইলাম।
আর এগুলা দেখার পরে তোমার চাদনীর অবস্থ্যাটা কেমন হয়ছে সেটা তো বুঝতেই পারতাছো….!
সেই কখন থেকে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভিডিও করতেছি।
এখন আর ভালো লাগতেছে না।
কথাটা বলেই রাফি একটা সোফাতে বসে যায়।
_রাফি তুই এখানে?{রত্না আপু}
_হ, আমি এখানে।
দেখেন না আপনার সামনে
এমনকি আপনার বাসার সোফাতে সশরীরে বইসা আছি ডি.বি অফিসার মিস রত্না…!{রাফি}
_কি বলছো আপু?
তোমি ওকে চিনো কিভাবে?
_কি বলছিস? ওকে চিনবো না?
এ হলো অপরাধ জগতের এক কালো মুখোশধারী।
খুন-খারাপি,কালো বাজারী, নারী প্রচারসহ এমন কোনো খারাপ কাজ নেই যা ও করে না।
আর ওকে ধরার জন্য ই তো আমাদের ডিপার্টমেন্ট সে কতদিন ধরে ওর পেছনে লেগে আছে।{রত্না}
_আরে রাখেন আপনার ডিপার্টমেন্ট!
এই রাফিকে ধরা এত সোজা না।
এই রাফিকে ধরতে হলে কম করেও সাত সাতবার জন্ম নিতে হবে।
আর আপনারা তো জাষ্ট একটা পুলিশ অফিসার।
র‍্যার থেকে শুরু করে পুরো দেশের গুয়েদা বাহিনী যেটা পারে নি।
সেটা তদের মত অফিসাররা কিভাবে পারবে? হাহাহা
কথাটা বলেই রাফি পিচাশের মত হাসতে থাকে।
_সেদিন তোই আমার হাত থেকে বেচে গিয়েছিলিরে রাফি!
আজকে আর সেই সুযোগটা পাবি না।
কথাটা আমি পকেটে হাত দিয়ে যেইমাত্র রিভেলবারটা বের করতে যাবো ঠিক তখনি অনুভব করলাম কেউ একজন পেছন থেকে এসে আমার মাথাই রিভেলবার দিয়ে আঘাত করে।
আর সাথে সাথে আমি সেন্সলেস হয়ে পড়ে যায়।
এরপর আর কিছু মনে নেই।
যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি যে আমি একটা অন্ধকার ঘরে বন্দি।
হাত পা বাধা।
মাথা সহ সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যথা।
দাড়িয়েও থাকতে পারতেছি না।
আবার হাত পা বাধা থাকার কারণে বসতেও পারতেছি না।
অন্ধকারে যদিও কিছু দেখা যাচ্ছে না।
তবুও অনুভবে বুঝতে পারলাম বাড়িটা হয়ত একটা পরিত্যাক্ত বাড়ি।
কেমন যেন একটা ভাবস্যা গন্ধ আসছে।
হঠাৎ জানালা দিয়ে এক আসা হালকা আলোর দিকে লক্ষ করে বুঝতে পারলাম
আমার থেকে একটু দূরে আরো একজনকে বেধে রেখেছে।
কিন্তু স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না।
হঠাৎ এক ঝটকা বাতাসে জানালার দরজাটা একটু সড়তেই আমি অবাক হয়ে যায়।
আরে এটা তো রত্না আপু।
আর রত্না আপু কে ওরা আমার সাথেই বেধে রেখেছে।
রত্না আপুর দিকে একটু তাকিয়েই আমি চোখ ফিরিয়ে নেই।
রত্না আপুর শরীরে পোশাকগুলো ওরা এলোমেলো করে রেখে গিয়েছে।
কাপড়গুলো বেশ কয়েক জায়গাতে ছিড়েও ফেলেছে।
কিন্তু রত্না আপু সেন্সলেস থাকার কারণ কিছুই বুঝতে পারছে না।
হঠাৎ রত্না আপুর এমন অবস্থ্যা দেখে আমার চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়তে থাকে।
মানুষ কতটা নিকৃষ্ট হলে যে মেয়েদের সাথে এমন করতে পারে সেটা রাফিদের মত মানুষ নামের পশুদের না দেখলে বুঝতে পারতাম না।
হঠাৎ আরেক ঝাটকায় জানালার দরজাটা পুরোটাই ফাক হয়ে গেলে সেখানের আলোতে স্পষ্ট দেখতে পেলাম ওদের রত্না আপুর পাশেই মাসুদ আর সবুজকে ওরা বেধে রেখেছে।
ওদের সাথেও এই পশুগুলা পাশবিক অত্যাচার করেছে।
শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।
পরনে শুধু মাত্র আন্ডার টাওয়াল আর সেন্টু গেন্জি ছাড়া কিছুই নেই।
আমি সবার এই অবস্থ্যাগুলো দেখছি আর ঝার ঝার করে কেদে চলেছি।
আর নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছি।
_আজকে আমার জন্যেই ওদের এই অবস্থ্যা।
আর এর জন্য আমি নিজেই দায়ী।
আমি যদি সেদিন ওদের সবাইকে নিয়ে মিশনে না আসতাম তাহলে আর এমন একটা দিন আমাকে দেখতে হতো না।
সেদিন এই কেইসটা হাতে না নেওয়ার জন্য রেজা আমাকে বার বার মানা করেছিলো।
কিন্তু ওর কথাটা শুনি নি।
রেজা বার বার বলেছিলো ওরা খুব ডেন্জারাস!
র‍্যাব থেকে শুধু করে পুরো দেশের গোয়েন্দা বাহিনী ওদের সাথে পেরে ওঠে নি।
আর আমরা কি করে ওদের সাথে পেরে ওঠবো?
আমি সেদিন বলেছিলাম আমরা যেহেতু আইনের কাছে জীবনকে সমর্পণ করেছি।
সুতরাং আমরা ঠিক ই ওদের সাথে পারবো।
আর ওদেরকে চিরো তরে শেষ করে দেবো।
কিন্তু কোথাই পারলাম ওদেরকে শেষ করতে?
আমার জীবন চলে গেলেও আমার কোনো দুঃখ নেই।
কিন্তু আমার চোখের সামনে আমার এই বন্ধুদের কষ্টগুলা যে আমি মানতে পারতেছি না।
এখন আমি কি করবো?
কখনো আমি কি ওদেরকে মুক্ত করে নিয়ে বিজয়ী বেশে এখান থেকে ফিরতে পারবো?
নাকি এখানেই পচে গলে সবার জীবনকে শেষ করতে হবে?
হে আল্লহ তোমি এ কোন পরীক্ষার সম্মুখিনে ফেললে?
রক্ষা করো মালিক!
সবাইকে রক্ষা করে বিজয়ীর বেশে এখান থেকে ফিরে যাওয়ার তৌফিক দাও।{আমিন}
মনে মনে কথাগুলো ভাবছি আর কেদেই চলছি।
হঠাৎ রুমের দরজায় কারো আসার শব্দ পেতেই আবার আমি সেন্সলেস হয়ে থাকার ভান ধরে অবস্থ্যাটা পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করি।
হঠাৎ কেউ একজন ঘরের মধ্যে ঢোকে সোজা আমার কাছে চলে আসে।
আর আমার সামনে এসেই অঝরে কাদতে থাকে।
আমি মাথা না তুলে কন্ঠটা বুঝার চেষ্টা করি।
আরে এ তো আমাদের ভিউরোর সেই অফিসারটা।

যার কাছে শুনেছিলাম যে মাসুদ আর সবুজকে রেজা যেতে বলেছিলো।
কিন্তু এই অফিসারটা এখানে কেন?
আর রাফিদের সাথে এ কি করছে?
সেন্সলেস এর ভান ধরে মনে মনে কথাগুলো ভাবছি।
হঠাৎ অফিসারটা আমার কাছে এসে বলতে লাগলো
_আমি আপনাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না স্যার।
আপনাদের কে এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারলাম না।
নিজেকে আজ খুবই হতভাগ্য মনে হচ্ছে।
আপনাদেরকে সেদিনও বলতে পারি নি যে কোনো একদিন আপনাদের উপর এমন চরম একটা বিপদ নেমে আসছে।
আর এটা আমাদের ডিপার্টমেন্টের ই কেউ একজন করছে।
কিন্তু আমি কিভাবে বলবো বলেন?
আমি যে অসহায় ।
আমি যদি আপনাকে আগেই এ কথা বলে দিতাম তাহলে আমার পরিবারের কাউকেই বাচাতে পারতাম না।
আমার পরিবারের সবাই যে আজ ওদের হাতে বন্দি।
যদি আমি এ সম্পর্কে আপনাদের কিছু বলতাম তাহলে যে ওরা আমাকে সহ সবাইকে মেরে ফেলতো।
এমন কি আপনাকেও।
আর তাই সবার জীবন বাচানোর জন্য কথাগুলো চেপে রেখেছিলাম।
কিন্তু কই বাচাতে পারলাম?
আমার পরিবারের সবাইকে বাচিয়ে নিয়ে গেলাম।
কিন্তু আপনাদের কাউকেই বাচাতে পারলাম না।
পারলে এই অপরাধী,বিশ্বাস ঘাতকটাকে ক্ষমা করে দিবেন।
আপনাদের জন্য একটা ব্যবস্থ্যা করে দিয়ে গেলাম।
এই চাকুটা সাথে দিয়ে গেলাম।
পারলে এটা দিয়ে বাধন কেটে সবাইকে নিয়ে পালিয়ে সবার জীবনটা বাচাবেন।
কথাটা বলে অফিসারটা আমার কোমড়ে চাকুটা দিয়ে শার্ট দিয়ে ঢেকে কাদতে কাদতে চলে যায়।
অবস্থ্যাটা বুঝার জন্য আমি তখনও সেন্সলেস হওয়ার ভান ধরে আছি।
আর মনে মনে ভাবছি এ অপরাধের সাথে আমাদের ডিপার্টমেন্টের সাথে কার হাত থাকতে পারে?
আমাদের ভিউরোতে তো ১০ জন অফিসার আছে।
এর মধ্যে কে হতে পারে?
তাহলে কি রেজা এর সাথে জড়িত?
আরে না এটা কিভাবে?
রেজা তো একটা হাফ মেন্টাল।
নিজের জন্য কোনটা ভালো মন্দ সেটাই বুঝে না।
আর ও তো খুব ভীতু যার জন্য আমার সাথে আসতে পর্যন্ত ভয় পেলো।
তাহলে কে হতে পারে?
অফিসারটা সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনেকক্ষণ পরেও কেউ আসছে না।
আর এর মধ্যে সবার জ্ঞান ফিরে আসে।
আমাকে এই অবস্থ্যায় দেখে সবাই কান্না করে দেয়।
_এ কি হয়ে গেলো রে শাকিল!
আমরা তো মেয়েগুলার জন্য কিছুই করতে পারলাম না।
আজকেই চাদনীকে সহ সব মেয়েদেরকে পাচার করে দিবে বললো।
আর সাথে আমাদেরকেও মেরে ফেলবে।
নিজের জীবনের তো চিন্তা করছি না।
একদিন তো মরতেই হবে।
কিন্তু মরার আগে একটাই আফসোস থেকে যাবে।
মেয়েগুলার জন্য কিছুই করতে পারলাম না।{মাসুদ}
_আর আজকে নাকি এই সব অপরাধীদের লিডার আসবে।
আর ও এসেই সবগুলোকে পাচারের জন্য নিয়ে যাবে।
আমরা এখন কি করবো বল!{সবুজ}
ওদের কথাগুলো শুনে বুক ফেটে কান্না আসছে।
নিজেকে কিছুতেই আটকাতে পারছি না।
চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছে করছে।
কিন্তু আমি তো আইনের সেবক।
আইনের রক্ষক।
আমার তো কান্না শোভা পায় না।
তাই শত কষ্টে কান্নাটাকে বুকের মধ্যে চেপে রেখে ওদেরকে সান্তণা দিয়ে যাচ্ছি।
আর কোমড় থেকে চাকুটা ধরার চেষ্টা করছি।
অবশেষে এক সময় চাকুটা ধরতে সক্ষম হই।
আর চাকুটা বের করে আস্তে আস্তে অনেক কষ্টে হাতের বাধনটা কেটে নিই।
আর তারপর সবার হাতের বাধনগুলো কেটে যেই মাত্র বের হতে যাবো ঠিক তখনি…..

to be continue………