সি আইডি অফিসারের ভালোবাসা পর্ব-4

0
912

গল্প: সি আইডি অফিসারের ভালোবাসা
পর্ব-4
#Raihan
.
.

.

.
.
_আর শোন অফিসার যেই মেয়েটা আজকে আমাদের এখানে যোগ দিয়েছে তাকে তোমরা সবাই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিবে।
এমন কি সে যেভাবে যা যা করতে বলবে তোমরা সেভাবে তা তাই করবে ঠিক আছে…?
মনে করবো আমার অনুপস্থিতিতে আমার দায়িত্ব ওনাকে দিয়ে গেলাম।
_জি আচ্ছা স্যার!
এর পর অফিসারের সাথে আরো কিছুক্ষণ এই কেইসের ব্যাপারে কথা বলে চলে আসলাম।
কিন্তু ব্যুরো থেকে বের হয়ে বাইরে আসতেই আমি পুরাই অবাক।
_আরে চাদনী তো দেখছি রাস্তায় দাড়িয়ে আছে।
মনে হচ্ছে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে।
তাই আমি অফিসার কে ডাক দিয়ে চাদনীকে গাড়ি করে ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে আসতে বললাম।
যথাসময়ে আমাদের সি.আই.ডি ডিপার্টমেন্টের গাড়িটি চাদনীকে তুলে নিয়ে ভার্সিটির দিকে রওনা দিলো।
আর এদিক দিয়ে আমিও বাসায় চলে আসলাম।
বাসায় এসে দেখি সবুজ,মাসুদ বিছানায় শুয়ে ফোন চালাচ্ছে আর হাসছে।
_কি রে কি হয়েছে?
তরা এভাবে হাসছিস কেন?
_কিছু হইছেনা মামো…..
আমরা রেজাকে পাহারা দিতাছি…?
_মানে?
কিসের পাহারা?
আর রেজা কোথায়…?
_মামো এই যে আমি এইহানে…..?{রেজা}
omg! রেজাকে দেখে তো আমি পুরাই অবাক!
হাত পায়ে ব্যান্ডেজ বাধা অবস্থায় ওর বিছানার এক পাশে বসে আছে।
আমাদের সবার চেয়ে রেজা দেখতে একটু কালো।
আর সেসময় কারেন্ট না থাকায় ওযে বিছানায় বসে ছিলো দেখতে পারি নি…?
এক দিকে রেজা হাত পায়ে ব্যান্ডেজ বাধা অবস্থায় পরে আছে
আর অন্যদিকে হারামি দুইটা রেজাকে রেজার বিছানা থেকে তুলে দিয়ে ওরা দুজন দুজনের পায়ের উপর পা তুলে রেখে শুয়ে ফোনে গেইম খেলছে।
হাত পায়ে ব্যান্ডেজ থাকায় রেজা ওদেরকে কিছু করতও পারছে না।
তাই বেচারা মুখ বুঝে সব নিরবে সহ্য করছে।
_কি রে মামো!
যহন আমারে পুলিশে ধইরা লয়া যাইতাছিলো তহন তো দেখলাম দাত কেলায়া হাসতাছিলা।
এহন হাতে পায়ে ব্যান্ডেজ বেধে কুইচা মুরগির মত বয়া আছ কেন….?{আমি}
_আর বলিস না মামো!
তরে যহন পুলিশে ধইরা লয়া যাইতেছিলো
তহন আমি হাসতে হাসতে রাস্তা পার হতে লইছিলাম।
হঠাৎ কইরা একটা গাড়ি আইসা ধাক্কা দিলো।
আর চোখ খুলে দেখি আমি হসপিটালে….?
_আচ্ছা মামো এহন আর কাইন্দা কি অইবো?
আসলে আমার মত ভালো মানুষের ক্ষতি করতে চাইলে এমনি হয়…?{আমি}
_আরে রাখ তর ভালা মানুষ।
তুই যে কেমন ভালা হেইডা আমি জানিই।?{রেজা}
_আরে রাগ করো কেন মামো?
একটা গুড নিউজ আছে শুনলে তোমাদের দাড়ায়া পড়বো।
না ইয়ে মানে শরীরের লোম…?
_কি কছ মামো!
কিসের গুড নিউজ?
মোবাইল টা বেডে ফেলে রেখে গুড নিউজের কথা শুনে বিছানা থেকে লাফ দিয়ে ওঠে যায় সবুজ আর মাসুদ।
শুধু রেজাকে দেখলাম কোনো প্রকার নড়াচড়া করছে না।
আর করবেই বা কিভাবে?
শরিরের এমন কোনো জায়গা নেই যে মনে হয় না যে সেখানে ব্যন্ডেজ করে নি।
_মামো গুড নিউজ শুনবা না?…?
_আরে রাখ তর গুড নিউজ।
আগে আমার বিছানায় শুয়ানোর ব্যবস্থা কর।
এই শালা দুইটা কখন থেকে আমাকে বসিয়ে রেখেছে।
একটু শুতেও দেয় নি।
আমাকে নাকি ওরা পাহারা দিতেছে।
এখন হাতটা যদি ভালো থাকতো না তাহলে দেখতি এই রেজা কি জিনিস…?{রেজা}

তাই আমি মাসুদ আর সবুজকে বললাম বিছানায় রেজাকে শুইয়ে দিতে।
_হুম মামো বল কি গুড নিউজ
আমার তো আর সহ্য অইতাছে না…?{সবুজ}
_আরে ঐ যে চাদনী নামের মেয়েটা আছে না?
ঐ মেয়েটা ব্যপারে খুজ খবর নিয়ে এলাম।
ঐ মেয়েটা এই ভার্সিটির কোনো স্টুডেন্টস না।{আমি}
_আরে দুর শালা! এইটা কোনো গুড নিউজ হলো?
আমি তো মনে করছি না জানি কি বলবি।
স্টুডেন্ট না তো কি মেডাম নাকি….?{মাসুদ}
_আরে হালা পুরোটা না শুনেই বকবক করতাছছ কেন?
আগে পুরোটা তো শোন।(আমি)
_আরে রাখ তর পুরোটা।
শুনা লাগবো না তর কথা।
কি যে কইবি হেইডা আমরা ভালো করেই জানি।?{সবুজ}
_হুম ধরলাম যে আমি কি বলমো এইডা তরা জানছ।
কিন্তু চাদনী যে সি.আই.ডি অফিসার।
ও যে আমাদের ব্যুরোতে শিফট হয়েছে।
এমন কি আমাদের সাথেই জব করবে সেটা কি তরা জানিস??
_আরেব্বাস এইডা কি কও মামো??
দুর শালা এই কথা আগে কইবি নাহ?{মাসুদ}
_তরা বলতে দিলি কহন?
এর আগেই তো বকবক শুরু করছছ…?{আমি}
_যাক অবশেষে ডিপার্টমেন্ট আমাদের দিকে সু নজরে তাকিয়ে একটা মেয়ে অফিসার গিফট করেছে।? {সবুজ}
_ চল যাই রে সবুজ একটু ব্যুরো থেকে ঘুরে আসি…?{মাসুদ}
_এহ শালা!
ডিপার্টমেন্টে মেয়ে পাইছে না যেমন বিশ্বকাপ পাইছে।…?☺
আরে শোন মেয়েটা এখন ব্যুরোতে নেই।
আমাদের মত সেই মেয়েটাও এই ভার্সিটিতে মিশনে এসেছে।
আর আমাদের সত্যিকারের পরিচয় কখনো মেয়েটাকে দেওয়া যাবে না।
না হলে বিপদ হতে পারে।{আমি}
_কি বলিস দোস্ত! মেয়েটাও এই ভার্সিটিতে মিশনে এসেছে…..?{সবুজ}
_কেন তোমার কি মনে অইতাছে মেয়েটা কচু কাটতে আইছে…??
_আরে না ঠিক তা বলছি না।
কিন্তু যেখানে সমস্ত ভার্সিটির মেয়েরা আতঙ্কিত।
এমন কি সুযোগ পেলে আশে-পাশের কোনো মেয়েকেও ছাড়ছে না কালো মুখোশ ধারীরা।
আর সেখানে কি না চাদনী একটা মেয়ে হয়ে এসেছে মিশনে…??(সবুজ)
_তাহলে ভাব!
ডিপার্টমেন্ট কি আর শুধু শুধু মেয়েটাকে শিফট করেছে আমাদের ব্যূরো তে?
যা যা যাইতে তো লইছিলি মেয়ের কাছে।
যদি ধরতে পারে না তাহলে পিডায়া লুঙ্গি খুলে ফেলবে…?{আমি}
_না মামো যামো না।
শুধু শুধু মেয়েদের হাতে কেলানি খাওয়ার ইচ্ছে নেই।…?{সবুজ}
_ওকে তাহলে তরা এখন রেডি হয়ে নে।
সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এলো।
আমাদেরকে বেড়োতে হবে।{আমি}
_হুম। কিন্তু রেজা যে অসুস্থ্য।
ওক রেখে কিভাবে কি করবো…?
_আরে শোন!
ট্রেনিংয়ের সময়ের শপথের কথা কি তদের মনে নেই….?
নিজর চোখের সামনে নিজের পুরো পরিবার ধ্বংশ হয়ে গেলেও নিজেকে নিজের কর্তব্যের উপর পুরোপুরি অবিচল থাকতে হবে?
আমরা সি.আই.ডি তে চাকরি করি দেশকে শত্রু মুক্ত রাখার জন্য।
সো আমাদের উপর ই নির্ভর করে বেচে আছে
এমন কি আমাদের মত ডিফেন্সের মানুষের উপর তাকিয়ে শান্তিতে বসবাস করছে এদেশের হাজারও নিরীহ মানুষ।
সুতরাং ওদের কথা ভেবে কখনো আমাদের ক্ষতির কথা ভাবলে চলবে না।
যা তরা রেডি হয়ে নে।
এখনি যেতে হবে।
এই কথাটা বলে পেছন দিকে ঘুরতেই দেখি রেজা ব্যান্ডেজ সব খুলে বিছানা থেকে নেমে দাড়িয়ে আছে।
_আজকে তুই যেই কথাগুলো বললি আসলে আমি তা কখনো এভাবে ভাবি নি রে।
আসলে তুই আমাকে আবারও মনে করে দিলি
আমাদের কাছে নিজের জীবনের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমাদের দায়িত্ব।
_আরে আরে করছিস কি মামো।
যা তুই গিয়ে শুয়ে থাক।
আজকে না হয় আমরা তিন জনেই যাই।{আমি}
_আরে নাহ্ সি.আই.ডি দের কোনো সমস্যা থাকতে নেই।
ওরা সব কিছুতেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।{রেজা}
_ওকে তাহলে রেডি হয়ে নে।{আমি}
এর পর আমরা সবাই মিলে পরন্ত বিকেলে চলে আসলাম ভার্সিটির কাছে।
অনেক আগেই ভার্সিটি ছুটি হয়ে গেছে।
আর এই ভার্সিটির অধ্যক্ষকে বলে আমরা আগে থেকেই এই ভার্সিটির গেইটের চাবি নিয়ে রেখেছিলাম।
তাই আমরা সোজা ভার্সিটির গেইট খুলতে গেলাম।
সেখানে কোনো কিছুর ক্রু পাওয়া যায় কি না সেটা দেখার জন্য।
তাই আমরা সবাই ভার্সিটির গেইটের তালাটা খুলে যেইমাত্র ক্যাম্পাসের বট গাছটার দিকে তাকিয়েছি
সেখানে তাকিয়ে যা দেখলাম সেটা দেখার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না।
দেখি ভার্সিটির ক্যাম্পাসের বট গাছটায় যেখানে এই ভার্সিটির প্রতিদিন একটা করে মেয়ে ধর্ষণ করে এরপর এই গাছের সাথে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়
সেই গাছটাই একটা লাল কাপড় ঝুলে আছে।
_মাসুদ দেখ তো বটগাছটাই ঐটা কিসের যেন একটা কাপড় না….(আমি}
_হুম তাই য়ি তো মনে হচ্ছে।
দেখে তো বোঝা যাচ্ছে এটা কোনো ওড়নার মত হবে।{মাসুদ}
_হুম চলতো দেখি।
তাই এটা কিসের কাপড় আর এটা কেন ই বা গাছের সাথে ঝুলানো সেটা দেখার জন্য আমরা গাছটার কাছে গেলাম।
গিয়ে দেখি অনেক লম্বা একটা কাপড় যা দেখতে অনেকটা ওড়নার মত ই।
কিন্তু সেখানে কি যেন একটা প্যাচানো আছে।
তাই সবুজকে প্যাচটা খুলতে বললাম।
কিন্তু প্যাচটা খুলার সাথে সাথে যা দেখলাম সেটা দেখার জন্য আমরা মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।
_আরে মাসুদ এটা তো……..
to be continue

#ধন্যবাদ