অনুরাগের ছোঁয়া পর্ব-২৪

0
654

#অনুরাগের ছোঁয়া
#নবনী-(লেখনীতে)
#পর্ব-২৪
||
সকালের মিষ্টি রোদের আলো চোখে পড়তেই ঘুম ভেঙে গেলো ছোঁয়ার।পাশে থাকা বড়ো থাই গ্লাস টা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।এখন তাতে ঝুলছে সাদা কিছু পর্দা।পর্দা গুলো ভেদ করেই ভেতরে সূর্যের আলো প্রখর ভাবে পরছে।ছোঁয়া পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়।হাতের উল্টো পাশ দিয়ে চোখগুলো ডলতে ডলতে শোয়া থেকে উঠে বসে সে।তারপর খাট থেকে নেমে চারপাশে একবার নিজের চোখ বুলায়।গতকাল রাতে অনুরাগের রুমটা তেমন করে কিছুই দেখা হয় নাই।তাই চারপাশ ঘুরে ঘুরে সে রুমটা দেখতে লাগল।অনুরাগের রুমটা বেশ বড়।তার রুমের জিনিস গুলো ও সব অদ্ভুত রকমের চোখ ধাধানে সুন্দর।রুমের সাথে এডজাস্ট করা বিশাল বারান্দা। বারান্দার ভেতর বিভিন্ন রকম ফুল গাছ আছে।বারান্দার একপাশে একটা সুন্দর ডিজাইনার দোলনা রাখা সব মিলিয়ে তার রুমটা অনেক সুন্দর।ছোঁয়া একটা জিনিস খেয়াল করল যে,অনুরাগের রুমের বেশীর ভাগ জিনিসই সাদা রঙের। রুমের দেয়াল থেকে শুরু করে বিছানার বেডশিট সবকিছুতেই সাদার কমিউনেশন।বেশির ভাগ জিনিস সাদা দেখে ছোঁয়ার খারাপ লাগলো না রবং ভালোই লাগল কারন ছোঁয়ার নিজের ও সাদা রংটা পছন্দ।ছোঁয়া চুপ করে বিছানায় বসে পরে।অনুরাগকে খুঁজছে সে।সে কোথায়,দেখতে পারছে না যে!ছোঁয়া বসে বসে নিজের নখ কামড়াতে থাকে। তখনই হাতে একটা মিনি ফ্রুট ট্রে নিয়ে অনুরাগ রুমে ঢুকে।

—–গুড মনিং মাই লাভলী ওয়াইফ 🥰

—–গুড মনিং 🥀

—–ঘুম ভাঙল তাহলে?

—–হ্যাঁ

—–হুমমমম।যাক উঠেছো তাহলে আমি তো ভেবেছি আজকে উঠবেই না।

—–না উঠার কি আছে। আর কয়টা বাজে।

—–১০ টা।

—–কিহহহহহ?দশটা বেজে গেছে?

—–হ্যাঁ,তাতে এরকম করছো কেন,কি হয়েছে?

—–আরে আমাদের বিয়ে হয়েছে আজ আমার এখানে প্রথম দিনবিয়ের পর।আমি আজ নতুন বউ সকাল সকাল উঠে রান্না করবো তা না করে আমি পরে পরে ঘুমাচ্ছি।আপনি আমাকে আগে ডাকেন নি কেনো?

—–হে রিলেক্স,ফাস্ট অল অফ এখানে শুধু তোমার শশুর -শাশুড়ী আর তোমার জামাই আছে।এমন ভাব করছো যেন এটা কোন যোথ পরিবার।স্পেশালি কুটনামি করার জন্য ননদ-ফুপিশাশুরী,চাচী শাশুড়ী এরা আছে।এখানে কেউ নেই।আমাদের ছোট একটা পরিবার। আর তুমি যা ইচ্ছা করতে পারো।

—–তবুও কেমন দেখায় না।

—-কিচ্ছু দেখায় না।আর হ্যাঁ মা নিজেই তোমার জন্য নাস্তা পাঠিয়েছেন।

—–ধুর যেখানে আমার এসব করার কথা সেখানে মা করছে।তাহলে ছেলে বিয়ে করিয়ে কি লাভ।

—–কি বললা তুমি?কাজ করবে কেনো?খবরদার রান্না ঘরে পা রাখলে পা কেটে দেবো।

—–আরে এএএএ কি?

—–চুপ কোন কথা না। এখন জলদি উঠো।

—–আচ্ছা।

ছোঁয়া উঠে ফ্রেশ হতে চলে যায়।আর অনুরাগের কল আসায় সে কথা বলতে বলতে বাইরে চলে যায়।

প্রায় বিশ মিনিট পর ছোঁয়া ওয়াশরুম থেকে বের হয়।আগে ওয়াশরুমের দরজা খুলে মাথাটা একটু বের করে রুমে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখে নেয়।নাহ,কেউ নেই রুম ফাঁকা। ছোঁয়া পিলু পিলু পায়ে রুমের ভেতর আসে।আসলে শাড়ি পরতে হবে।ওয়াশ রুম থেকে কোন রকম বের হয়ে টাওয়াল দিয়ে নিজের মাথার চুলগুলো মুছছে।ভিজে চুল থেকে টপটপ করে পানি পরছে ফ্লোরে। আর তখনই অনুরাগ ফোনে কথা বলতে বলতে রুমে আসে।রুমে এসে সে ছোঁয়াকে দেখে থমকে যায়।

দরজা খুলার শব্দে ছোঁয়া তারাতাড়ি করে টাওয়ালটা নিজের উপর রাখে।আর সাথে সাথে চিল্লিয়ে বলে…

—–এই আপনি এখানে কি করেন এখান থেকে বের হন।একটু পর আসেন।অনুরাগ প্লিজ এখন যান।

ছোঁয়া নিজের মতো অনুরাগকে কথা বলেই যাচ্ছে।কিন্তু অনুরাগ বাঁকা হেসে রুমের ভেতর এসে দরজা লাগিয়ে দেয়।হাতের উপর ফোনটা হালকা ঢিল দিয়ে সোফার উপর রাখে।ছোঁয়া যতই অনুরাগকে যেতে বলছে, অনুরাগ বাঁকা হেসে তত সামনে এগিয়ে আসছে।আসতে আসতে এক সময় অনুরাগ ছোঁয়ার একদম কাছে এসে পরে।অনুরাগ তার এক হাত দিয়ে ছোঁয়ার খালি কোমড় জড়িয়ে ধরে ছোঁয়াকে একদম তার সাথে মিশিয়ে নেয়। তারপর ছোঁয়ার শরীর থেকে টাওয়ালটা সরিয়ে ফেলে।ছোঁয়ার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না সে থরথর করে কাঁপতে থাকে।শুকনো কিছু ঢোক গিলে সে।অনুরাগ ছোঁয়ার গলাতে থাকা পানি বিন্দু গুলো ছুঁয়ে দেয়।ছোঁয়ার গলার নিচে একটা কালো তিল দেখে অনুরাগ কেমন জানি পাগল পাগল হয়ে গেলো।অনুরাগ নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে ছোঁয়ার গলাতে তার মুখ ডোবায়।ছোঁয়া শরীর দিয়ে অদ্ভুত এক শিহরণ বয়ে যায়।দুজন এক হয়ে ঠিক কতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলো তা মনে নেই।হঠাৎ ছোঁয়া অনুরাগকে ধাক্কা দিয়ে চলে এসে শাড়ীটা পরতে নেয় কিন্তু তখন অনুরাগ ছোঁয়ার হাত ধরে টান দিয়ে বলে….

—–শাড়ীটা আমি পড়িয়ে দিচ্ছি।

অনুরাগের কথায় ছোঁয়া কিছুই বলে না।অনুরাগ শাড়ি নিয়ে ছোঁয়ার কাছে আসে।শাড়িটা অনুরাগের চুজ করা।নীল রঙের শাড়ি তার মাজে কালো থোকা থোকা ফুল।শাড়িটা অনেক বেশি সুন্দর। অনুরাগ ছোঁয়াকে অনেক সুন্দর করে শাড়িটা পড়িয়ে দিলো।শাড়ির আঁচলটা বেশ বড় রেখেছে।ছোঁয়া অবাক হয়ে অনুরাগের দিকে তাকিয়ে আছে।যে শাড়ি পড়তে ছোঁয়ার এক ঘন্টা সময় লাগে।মাঝে মাঝে তো রাগ উঠপ যায় তবুও শাড়ি ভালোভাবে পরাই হয় না।আর সেই শাড়ি অনুরাগ তাকে পড়িয়ে দিলো তাও মাত্র ১৫ মিনিটে ভাবা যায়।শাড়ি পড়ানো হলে অনুরাগ নিচে এক হাঁটু ভাজ করে বসে ছোঁয়ার শাড়ির কুচি গুলো আরেকটু ঠিকঠাক করেব দেয়।পুরোপুরি পরানো শেষ হলে অনুরাগ কিছুটা দূরে গিয়ে দুহাত কোমড়ে রেখে ছোঁয়াকে মাথা থেকে পা অবদি দেখতে থাকে।

—-নাও ইট’স পারফেক্ট।

তারপর অনুরাগ ছোঁয়ার হাত ধরে আয়নার সামনে বসিয়ে হেয়ার ড্রাইয়ার দিয়ে ছোঁয়ার চুগুলো শুকিয়ে দেয়।তার পর তার চুলগুলো আঁচড়িয়ে দেয়।আজ ছোঁয়াকে সম্পূর্ণ নিজের হাতে রেডি করিয়ে দেয় অনুরাগ।

অনুরাগ ও ছোঁয়ার সাথে ম্যাচ করে নীল রঙের একটা পাঞ্জাবি পরে নেয়।নীল কালার পাঞ্জাবিতে তাকে দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।কিছুক্ষণ পর একজন মেইড এসে অনুরাগ -ছোঁয়াকে কে নিচে যেতে বলে কেননা সবাই এসে পরেছে।

—–তাহলে যাওয়া যাক।

—-অবশ্যই।

অনুরাগ ছোঁয়ার বাহুর মাঝে নিজের হাত রেখে দেয় তারপর সিঁড়ি বেয়ে দুজনে নিচে নামে।তাদেরকে দেখে অনুরাগের বন্ধুরা চিল্লিয়ে বলে উঠে,

—-ওইতো দি মোস্ট বিউটিফুল কাপল এসে পরেছে।

ওদের কথায় ছোঁয়া কিছুটা লজ্জা পায়।তারা দুজন সোফায় গিয়ে অনুরাগের বন্ধুদের সাথে বসে।সবাই অনেক আড্ডা দিচ্ছে।জমজমাট একটা পরিবেশ। এভাবেই হেসে খেলে ঐ দিন সবার আনন্দে কেটে যায়।



#চলবে?