#আমার একলা আকাশ
#পর্ব-০১+০২
মুন্নি_আক্তার_প্রিয়া
‘ডিভোর্স হয়ে গেলে একটা মেয়ের তখন কেমন অবস্থা হয় প্রাপ্তি? এসব ছাড়ো, তোমার অনুভূতি কেমন হবে বলো?’
রেস্টুরেন্টে কাপল, ফ্রেন্ড সার্কেলের সমাগম রয়েছে। তবে কোথাও কোনো সোরগোল নেই। কেমন যেন পিনপতন নিরবতা। সফ্ট মিউজিক বাজছে। গানের মৃদু শব্দ ব্যতীত অন্যান্য কোনো শব্দ নেই।
প্রাপ্তি ক্ষীণস্বরে জানতে চাইল,’এসব কথা কেন বলছ?’
‘বলছি এই কারণেই যে, আমি তোমাকে একটু স্পর্শ করলেই তোমার বিরক্ত লাগে, রাগ ওঠে; যখন আদনান তোমাকে স্পর্শ করে তখন তো তুমি কিছু বলো না। তুমি আমার চেয়ে বেশি প্রায়োরিটি কি সবসময় আদনানকেই দাও না? তোমায় বিয়ে করলে তো দু’দিনের মধ্যেই ডিভোর্স হয়ে যাবে।’
গমগমে কণ্ঠস্বরে কথাগুলো উচ্চারিত হতেই ধরণীর সমস্ত রাগ চেপে বসে প্রাপ্তির মাথায়। সে রক্তচক্ষু দৃষ্টিতে তাকায় সামনের মানুষটির দিকে। তবুও সে নির্বাক রয়। রেস্টুরেন্টে আরও অনেক মানুষ রয়েছে। এখানে সে কোনো রকম সিনক্রিয়েট করতে চাইছে না।
এবার পুরুষালী কণ্ঠটি আরও একবার বলল,’কী হলো? এখন কেন কিছু বলছ না?’
প্রাপ্তি নখ খুঁটতে খুঁটতে যতটা সম্ভব কণ্ঠস্বর নিচু করে বলল,’রায়হান আস্তে কথা বলো। এখানে আরও মানুষজন রয়েছে।’
রায়হান এবার নড়চড়ে বসে। অট্টহাসি দিয়ে বলে,’ওয়াও! গ্রেট। আদনান সবার সামনে তোমায় জড়িয়ে ধরলে সেটা কিছু না, আমি এ ব্যাপারে কোনো কথা বললেই সেটা দোষ হয়ে যায়?’
‘তখন সিচুয়েশনটাই ওরকম ছিল। আদনান ইচ্ছে করে আমায় জড়িয়ে ধরেনি।’
‘তাই নাকি? ওর বেলায় সিচুয়েশনের দোহাই আর আমার বেলাতে বিরক্ত? আসলে তোমার সমস্যাটা কি বলো তো? তুমি রিলেশন করবে আমার সাথে আর জড়াজড়ি করবে ঐ আদনানের সাথে? মানে গাছেরও খাবে আবার তলারও কুড়াবে।’
‘একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলতেছ না? দয়া করে, মুখটা সামলে কথা বলো।’
‘কেন মুখ সামলে কথা বলব? আমি তো ভুল কিছু বলিনি।’
‘তুমি সত্যিও কিছু বলোনি।’
‘তাই নাকি? তাহলে বলো তো সত্যিটা কী? ওর স্পর্শ খুব ভালো লাগে? শান্তি পাও?’
রায়হানের এহেন কুরুচিপূর্ণ আকার-ইঙ্গিতের কথা শুনে গা ঘিনঘিন করে ওঠে প্রাপ্তির। রাগে,অপমানে চোখের কোণে জমা হয় একটুখানি নোনাজল।
সে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,’একদম নিজের লিমিট ক্রস করবে না রায়হান।’
‘আমি আমার লিমিটের মধ্যেই আছি। তোমাকে আজ আমার প্রশ্নের উত্তর দিতেই হবে।’
প্রাপ্তি আর রাগ কন্ট্রোল করে রাখতে পারে না। সে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বলে,’উত্তর চাই তোমার? তাহলে শোনো, তোমার স্পর্শে খারাপ উদ্দেশ্য থাকে যেটা আদনানের জড়িয়ে ধরাতে ছিল না। সে শুধুমাত্র আমায় সেইফ করেছে। বুঝতে পেরেছ তুমি?’
প্রশ্নটা করলেও আর উত্তরের অপেক্ষামাত্র না করে পার্স নিয়ে সে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যায়। হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে থাকে রায়হান। উপস্থিত সবাইও প্রাপ্তির কথায় এবং রিয়াকশনে বেশ হকচকিয়ে যায়।
________
রেস্টুরেন্ট থেকে সোজা বাড়িতে ফিরে প্রাপ্তি। রাগে, অপমানে এখনও তার মুখটা থমথমে হয়ে আছে। রায়হান কখনো তাকে এভাবে কথা শোনাবে, এটা সে কল্পনাও করেনি। রিলেশনের পূর্বেই তার এসব ভাবা উচিত ছিল। আগে ভাবেনি আর এখন সে আফসোস করছে। রিলেশনটা যে কীভাবে হয়ে গেল এটাও সে বুঝতে পারে না। রায়হানের কাছে রিলেশন মানেই চুমু খাওয়া, জড়িয়ে ধরা, একটু কোয়ালিটি টাইম কাটানো, ক্লোজ হওয়া। অথচ প্রাপ্তির কাছে ভালোবাসা মানে এসব নয়। সে এগুলো একদমই পছন্দ করে না। গতকাল তার মামাতো বোন সেতুর মেহেদী অনুষ্ঠান ছিল। মূলত রায়হানের সাথে তার পরিচয়টা সেতুর মাধ্যমেই হয়েছিল। সেতুর বন্ধু হওয়াতে বাকি সব বন্ধুদের সাথে রায়হানও এসেছিল অনুষ্ঠানে। সেতুর মেহেদী অনুষ্ঠানে বসার ডেকোরেশন করা হয়েছিল অনেকগুলো প্রদীপের মাঝখানে। গোল বৃত্তের চারপাশে ছিল সারি সারি প্রদীপ আর মাঝখানে সেতু এবং তার কিছু বান্ধবী। সে সময়ে প্রাপ্তি ছিল গোল সার্কেলের বাইরে তবে প্রদীপের কাছাকাছি। বাচ্চাদের সাথে ছবি তুলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত তার লেহেঙ্গার ওড়না একটা প্রদীপের ওপর পড়ে একটু একটু করে আগুন আগাচ্ছিল। যে যার মতো নাচ-গান, ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকায় দৃশ্যটি কারোরই চোখে পড়েনি। সেতুর মেহেদীর ফটোগ্রাফি করছিল আদনান। তখন তার দৃষ্টি পড়ে প্রাপ্তির দিকে এবং পরবর্তীতে ওড়নার দিকে। তখনো আগুন বেশি একটা আগাতে পারেনি। সে দ্রুত উঠে গিয়ে পা দিয়ে ওড়নার আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। হতবুদ্ধির ন্যায় তাকাতেই প্রাপ্তি যখন দেখতে পায় তার ওড়নাতে আগুন তখন সে ঘাবড়ে যায়। কান্না করে ফেলে।
সেই মুহূর্তে আদনান ওর কাঁধ জড়িয়ে ধরে বলেছিল,’কাঁদিস না। আগুন নিভে গেছে। এত্ত কেয়ারলেস তুই!’
এই দৃশ্যটা সেখানে বাকি সবার সাথে রায়হানও দেখেছিল। এখান থেকেই মূল ঝামেলার শুরু।
.
প্রাপ্তি বাড়িতে ফিরে দেখে আদনান ওর বন্ধুদের নিয়ে গায়ে হলুদের ডেকোরেশনের তদারকি করছে। প্রাপ্তি পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার সময়ে আদনান পেছন থেকে বলে,
‘ছিছিছি, তোর কি কোনো কালেই আক্কেল-জ্ঞান হবে না? আজ সেতুর গায়ে হলুদ। কোথায় হাতে হাতে একটু কাজকর্ম করবি! তা না করে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছিস।’
প্রাপ্তি নিরবে একটা দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে। পিছু ফিরে বলে,’আমার জন্য কোনো কাজ আটকে নেই।’
‘তা না থাকুক। তবুও তোর একটা দায়িত্ব আছে না? কাণ্ডজ্ঞানহীন যেন কোথাকার!’
‘তোকে এতকিছু ভাবতে হবে না।’
‘আলবৎ ভাবতে হবে। ওয়েট! এই তুই আমাকে কী বললি? তুই করে বললি কেন? তোকে কতবার বলেছি, আমাকে তুই করে বলবি না।’
প্রাপ্তি আর কিছুই না বলে নিজের ঘরে চলে যায়। অযথা ঝগড়া করার মুড এখন তার নেই। সে রুমে গিয়ে চুপ করে শুয়ে থাকে। ভাবতে থাকে নিজের বোকামির কথা। কেন যে সে রিলেশনে জড়াতে গেল! আগেই তো ভালো ছিল। কোনো রিলেশন ছিল না, প্যারা ছিল না। আসলে সব দোষ হচ্ছে ঐ ব’জ্জা’ত আদনানের! তার জন্যই তো প্রাপ্তিকে ফা’ল’তু রিলেশনে জড়াতে হলো।
‘এই প্রাপ্তি শোন, তোর কি মন খারাপ?’
শান্তিতে বেশিক্ষণ শুয়েও থাকতে পারল না প্রাপ্তি। আদনান এসে হাজির। এর সাথে ছোটোবেলায় বন্ধুত্ব হওয়া ছিল জীবনের আরও একটা ভুল!
প্রাপ্তি শোয়া থেকে উঠে বসে বলল,’না, আমি ঠিক আছি।’
‘না, তুই ঠিক নেই। তুই ঠিক থাকলে আমাকে তুই করে বলতি না।’
‘আজব! আমরা তো ফ্রেন্ড।’
‘চুপ কর। তোকে এর আগেও আমি সবটা ক্লিয়ার করেছি। বারবার এক কথা বলা আমার পছন্দ নয়। এখন শোন,আমি এসেছি তোর মন ভালো করতে।’
‘আমার মন ভালোই আছে।’
‘তুই বেশি কথা বলিস না। আমি তোর থেকে বয়সে বড়ো।’
‘কী আশ্চর্য! এজন্য কি তুমি আমার চেয়ে বেশি জানো আমার মনের খবর?’
‘হ্যাঁ, জানি তো!’
‘কেন? তুমি কি মন বিশেষজ্ঞ?’
‘তুই এত ঝগড়ুটে কেন বল তো? কিছু বললেই শুধু ক্যাটক্যাট করে উঠিস।’
‘আদনান, তুমি ঠিকই ধরেছ। আমার এখন মন ভালো নেই। এই মুহূর্তে আমার কথা বলতেও ভালো লাগছে না। তুমি প্লিজ চলে যাও।’
‘আমি জানি তো, তোর মন খারাপ। এর জন্যই তো এলাম। তোকে এখন আমার হুরপরীর গল্প শোনাব। তাহলেই দেখবি তোর মন ভালো হয়ে যাবে।’
‘আমি তোমার হুরের গল্প শুনতে চাই না। খুব হিংসে হয় আমার তাকে।’
‘কেন?’
‘কারণ তুমি ও’কে অনেক ভালোবাসো। একটা ছেলে কেন একটা মেয়েকে এত বেশি ভালোবাসবে?’
‘তোর গোবরভরা মাথায় সেসব ঢুকবে না। আমার হুর কত বুদ্ধিমতী তুই জানিস?’
‘না। জানতেও চাই না। তুমি এখন যাও প্লিজ!’ প্রাপ্তি গায়ে কাঁথা টেনে অন্যপাশ ফিরে শুয়ে পড়ে।
আদনান মেকি রাগ দেখিয়ে বলে,’শুনলি না তো? না শুনলে নাই। থাক তুই মন খারাপ করে। আমার কী তাতে? আমার এত সময়ও নেই বুঝলি।’
আদনানও উঠে যায়। ঘর থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে মুখোমুখি দেখা হয়ে যায় রায়হানের সঙ্গে। অজান্তেই রায়হানের মনের ভেতর ক্রোধ সৃষ্টি হয় আদনানকে প্রাপ্তির রুম থেকে বের হতে দেখে। আদনান অবশ্য কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি। বাতাসের তোড়ে সেও একটু আকটু শুনেছে প্রাপ্তি এবং রায়হানের সম্পর্কের ব্যাপারে। তবে বিষয়টা এখনো ক্লিয়ার নয়। প্রাপ্তিকেও সে এসব ব্যাপারে কখনো কিছু জিজ্ঞেস করেনি। যদি তার শোনা কথা ভুল হয়ে থাকে, তাহলে প্রাপ্তি বাড়িতে তুলকালাম একটা কাণ্ড বাঁধিয়ে বসবে। শেষমেশ দুই বাড়িতেই শুরু হবে অশান্তি। রায়হানকে এই সময়ে এই বাড়িতে দেখে মনে মনে একটু সন্দেহ হলেও বুঝত দিলো না আদনান। সহাস্যে জিজ্ঞেস করল,
‘কী খবর? কখন এলে?’
রায়হানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। অজান্তেই সে আদনানকে সহ্য করতে পারে না। প্রাপ্তির সাথে সম্পর্ক হওয়ার থেকে তো আরো বেশি সহ্য করতে পারে না। সে একটা ছেলে হয়ে আরেকটা ছেলের অনুভূতি, চোখের ভাষা এসব বুঝতে পারে। তার অবচেতন মন কেন জানি বলে, প্রাপ্তির প্রতি আদনানের অন্য কোনো অনুভূতি রয়েছে। সে আদনানের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে প্রাপ্তির রুমে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলো। সেই মুহূর্তে সামনে হাত রেখে বাঁধা দেয় আদনান।
চলবে…
#আমার_একলা_আকাশ
#পর্ব_২
মুন্নি_আক্তার_প্রিয়া
___________________
রায়হান তার রাশভারী কণ্ঠে বলে উঠল,’পথ আটকালে কেন?’
আদনান হাসল। ভদ্রতাসূচক হাসি। সে বলল,’এখন তো প্রাপ্তির রুমে যাওয়া যাবে না।’
‘কারণটা কী জানতে পারি?’
‘ও এখন ঘুমাচ্ছে।’
‘সমস্যা নেই। আর্জেন্ট দরকার আমার।’
‘বললাম তো যাওয়া যাবে না এখন। তাছাড়া বাইরের মানুষ অসময়ে ওর রুমে এলাউ না।’
রায়হানের রাগ হলো ভীষণ। অপমানে শরীর রি রি করে উঠল। চোয়াল শক্ত করে ক্ষিপ্র কণ্ঠে বলল,’তাই নাকি? তাহলে তুমি কে? তুমিও তো বাইরের মানুষ।’
‘আমি বাইরের মানুষ?’
‘তা নয়তো কী? ওর ফ্যামিলি মেম্বার তো নও।’
‘তা নই। কিন্তু ছোটো থেকেই আমরা একে অপরকে চিনি, জানি। আমাদের আগে থেকেই আমাদের পরিবার পরিচিত। এসব জানো নিশ্চয়ই?’
‘আমি সবই জানি। প্রাপ্তির সাথে যে তুমি আমাকে সহ্য করতে পারো না এটাও জানি।’
‘এটা তোমার ভুল ধারণা। তোমাকে অসহ্য করার মতো কোনো কারণ নেই।’
‘এত কথা বলার সময় নেই। প্রাপ্তির সঙ্গে আমার কথা আছে জরুরী। সরে দাঁড়াও।’
‘বললাম তো পরে আসো।’
দুজনের চাপা তর্ক-বিতর্ক ঘর থেকেও টের পায় প্রাপ্তি। বাইরে এসে দুজনকে একসাথে দেখে; বিশেষ করে রায়হানকে এখানে দেখে সে চমকে যায়। অস্ফুটস্বরে মুখ থেকে বেরিয়ে আসে,
‘তুমি এখানে।’
‘কথা আছে তোমার সাথে।’ গম্ভীরকণ্ঠে বলল রায়হান।
প্রাপ্তি আড়দৃষ্টিতে একবার আদনানের দিকে তাকাল। ওর দৃষ্টি নত। প্রাপ্তি ধীরকণ্ঠে বলল,’ঠিক আছে। ছাদে চলো।’
প্রাপ্তির পিছু পিছু রায়হানও ছাদে যায়। যাওয়ার পূর্বে আদনানের দিকে বাঁকা দৃষ্টিতে তাকাতেও ভুলে না।
.
ছাদের কার্ণিশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রাপ্তি। তার থেকে কিছুটা দূরে রায়হান দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বলছে না দেখে প্রাপ্তি নিজেই জিজ্ঞেস করে,
‘এই সময়ে কেন এসেছেন? গায়ে হলুদ তো রাতে হবে।’
‘এসেছিলাম স্যরি বলতে। কিন্তু এসে যা দেখলাম, এরপর তো আর স্যরি বলার কোনো মানেই হয় না। এখন তো মনে হচ্ছে, যা বলেছিলাম রেস্টুরেন্টে একদম ঠিকই বলেছিলাম।’
ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় প্রাপ্তির। তবুও সে নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে। ফোঁস করে নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলে,
‘রেস্টুরেন্টে এসব আজেবাজে কথা বলা কম হয়ে গেছিল? এজন্য বাড়ি বয়ে এসেছ এসব বলতে?’
‘আমার একটা কথাও মিথ্যে নয়।’
‘সমস্যা কী তোমার? কী চাও তুমি?’
‘আমার সমস্যা ঐ আদনানকে নিয়েই। কী সম্পর্ক তোমার ওর সাথে? এত কীসের অধিকার রয়েছে ওর তোমার প্রতি? ও যখন মন চায় তখনই তোমার রুমে যেতে পারবে আর আমার বেলায় পারমিশন লাগবে? তারচেয়েও বড়ো কথা, ও কে আমায় তোমার রুমে ঢুকতে বারণ করার?’
‘একটা সাধারণ বিষয়কে এভাবে জটিল কেন করছ? কী হয়েছে সেটা তো বলবে।’
‘তুমি আদনানকে আমাদের সম্পর্কের কথা কেন বলোনি?’
‘রায়হান, আমি কাউকেই এখনো আমাদের সম্পর্কের কথা বলিনি। আমার দিক থেকে শুধু সেতু আপুই জানে। বাড়ির অন্যরা জানলে সমস্যা হয়ে যাবে।’
‘অন্যদের জানানোর প্রয়োজন নেই। তুমি শুধু আদনানকে জানাও। ও না তোমার বন্ধু? নিশ্চয়ই তোমার ক্ষতি চাইবে না। বিষয়টাও হাইড রাখবে।’
‘আদনান আমার বন্ধু ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের মাঝে অনেকটা ডিসট্যান্ট আছে এখন। তাছাড়া কথা নেই বার্তা নেই হুট করে আমি কীভাবে বলি এসব? সেতু আপুর বিয়ে উপলক্ষে দু’দিন ধরে বাড়ি এসেছে। তেমন করে আমাদের কথাও হয়নি।’
‘বাহানা তাই না? বাহানা দেখাও তুমি আমাকে।’
প্রাপ্তি বিরক্তিসূচক শব্দ করে বলে,’ওকে। ওকে ফাইন। আমি আদনানকে আমাদের সম্পর্কের কথা জানাব। হয়েছে? খুশি?’
‘কবে জানাবে?’
‘আপুর বিয়েটা হয়ে যাক?’
রায়হান কিছুক্ষণ ভেবে বলল,’ঠিক আছে।’
এরপর একটুখানি হেসে প্রাপ্তির কাছে এগিয়ে গেল। হাত ধরে বলল,’স্যরি বাবু। তোমাকে হার্ট করার জন্য সত্যিই স্যরি।’
‘ইট’স ওকে।’
রায়হান চুমু খাওয়ার জন্য এগিয়ে যেতেই প্রাপ্তি দু’কদম পিছিয়ে যায়। ভ্রুঁ কু্চকে বলে,’বাড়ি ভর্তি মেহমান। কে কখন ছাদে এসে পড়ে বলা যায় না।’
‘একটা চুমু খেতে দশ ঘণ্টা লাগে না।’
‘প্লিজ রায়হান!’
‘প্লিজ প্রাপ্তি! জাস্ট ওয়ান কিস প্লিজ!’
‘নো।’
‘সবসময় তুমি এমন করো। কী সমস্যা একটা চুমু খেলে? আমি কি তোমার দূরের কেউ। তোমারই তো বয়ফ্রেন্ড।’
‘বয়ফ্রেন্ড হলেই যখন, তখন চুমু খেতে হবে? আমার এসব ভালো লাগে না রায়হান। সো প্লিজ!’
রায়হান রেগে যায় এবার। ধমক দিয়ে বলে,’কবেই বা তোমার এসব ভালো লাগে? আমার কোনো কিছুই তো তোমার ভালো লাগে না।’
‘আবার শুরু করলে!’
‘কী শুরু করেছি আমি? কিছুই করিনি। তুমি করো। সবসময় নাটক করো আমার সাথে।’
‘তোমার যদি মনে হয় নাটক করি, তাহলে তা-ই করি। তাছাড়া এমন কেন করো তুমি? বিয়ের পর এসব করা যায় না?’
‘একটা চুমু খাওয়ার জন্য এখন বিয়ে করতে হবে? তাহলে প্রেম কেন করো?’
‘তো তুমি কেন প্রেম করছ? এসব চাহিদার জন্য?’
‘প্রাপ্তি!’ ধমকে উঠল রায়হান।
প্রাপ্তি চাপাস্বরে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,’একদম ধমকাবে না আমাকে। আমি পাগল হয়ে তোমার পিছু পিছু রিলেশন করার জন্য ঘুরিনি।’
‘সুযোগের সদ্ব্যবহার করছ? আমি তোমাকে ভালোবাসি এটা তো আমার দুর্বলতা। আর এজন্যই তুমি যা ইচ্ছে করতে পারছ। যা খুশি বলতে পারছ। আমারই উচিত হয়নি তোমায় এত ভালোবাসা। কত বেটার বেটার, স্মার্ট, সুন্দরীরা মেয়েরা আমার জন্য পাগল। আর সেখানে আমি… মেজাজই খারাপ হয়ে যাচ্ছে এখন। আনস্মার্ট কোথাকার!’
রায়হান রাগ দেখিয়ে ছাদ থেকে নেমে যায়। প্রাপ্তি সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। এই ট’ক্সি’স রিলেশনশিপটা এগিয়ে নিতে নিতে সে হাঁপিয়ে যাচ্ছে। মাত্র তিন মাসের রিলেশনশিপ দুজনের। এখনই এই অবস্থা। বিয়ের পর না জানি কী হবে!
_____________
আসাদ রহমান অফিস থেকে বাড়ি ফিরেছেন মাত্র। অফিস বাড়ির কাছে হওয়াতে লাঞ্চ সে বাসায় এসেই করে। রেহেনা রহমান ভাত বেড়ে দিয়ে পাশে বসে আছেন। ভাতের লোকমা মুখে তুলে আসাদ রহমান বললেন,
‘আদনান কোথায়? দেখছি না যে।’
‘ঐ বাড়িতে গেছে।’ জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে বললেন রেহেনা বেগম।
আসাদ রহমান একটু রাগীস্বরেই বললেন,’সেতু ওর কী হয়? ওর বিয়ের জন্য চট্টগ্রাম থেকে আসতে হলো? পড়াশোনা সব লাটে উঠিয়ে তবেই ছাড়বে দেখছি!’
‘এক সপ্তাহের ছুটি নিয়েই তো এসেছে। এই ক’দিনে পড়াশোনার খুব বেশি সমস্যা তো আর হবে না।’
‘মেনে নিলাম। কিন্তু চাকরী? কাজের সমস্যা হচ্ছে না? এমন করলে চাকরী থাকবে?’
‘তুমি এত উত্তেজিত কেন হচ্ছ? ঐ বাড়ির কাউকেই তুমি কেন সহ্য করতে পারো না, আমি বুঝি না।’
‘স্ট্যাটাস বলতেও তো একটা কথা আছে রেহেনা। তোমার বান্ধবী বলে এত মেলামেশা করা লাগবে ও বাড়ির লোকের সাথে?’
‘তুমি চুপচাপ খেয়ে ওঠো। খাওয়ার সময় এত কথা বলতে নেই।’
‘কথা শুনতে ইচ্ছে করছে না বললেই পারো। তবে যাই করো না কেন, ভেবে-চিন্তে। লিমিট রেখে।’
‘বাদ দেবে এসব কথা? আজকে ফিরবে কখন?’
‘প্রতিদিন যেই সময়ে ফিরি।’
‘ওরা দাওয়াত করেছে, যাবে না?’
‘সময় নেই আমার। তোমার ছেলে তো দাওয়াত খাবে বলে কাজকর্ম সব ফেলে রেখে চলে এসেছে। এখন শুধু তুমিই বাকি। তোমরা মা-ছেলে গেলেই হবে।’
রেহেনা বেগম আর কথা বাড়ান না। তার স্বামীকে সে ভালো করেই চেনে। সারাটা জীবন শুধু টাকা টাকা করেই গেছে। টাকা, সম্পত্তি, স্ট্যাটাস এসবই সব তার কাছে। আন্তরিকতার মানসিকতা একদম নেই লোকটার মাঝে। এজন্য মাঝে মাঝে রেহেনা বেগমের ভীষণ আফসোস হয় নিজের জন্য। শুধু মাত্র তার স্বামীর কারণে কত জায়গায় তাকে অপদস্থ হতে হয়েছে! কলেজের লাইফ থেকে প্রাপ্তির মায়ের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। সেই থেকে দুজনে বেষ্টফ্রেন্ড। কতশত স্বপ্ন, ইচ্ছে ছিল দুজনের। ভার্সিটি লাইফ শেষ করে বিয়েটা একসাথে করলেও বাদবাকি কোনো স্বপ্নই পূরণ হয়নি। স্বামীর মর্জিমতো চলতে গিয়ে অনেক ইচ্ছে তাকে বিসর্জন দিতে হয়েছে। প্রাপ্তির মা সুমনা বেগমের ইচ্ছের জন্যই পাশাপাশি বাড়ি করা সম্ভব হয়েছে। আসাদ রহমান এই বাড়িটা করার পরই প্রাপ্তির বাবা ফিরোজ ইসলাম স্ত্রীর আবদারে এখানে দুই তলার একটা ফ্ল্যাট তৈরি করেন। নিচ তলায় অবশ্য সুমনা বেগমের ভাই তার পরিবারসহ থাকে। সেই সুবাদেই সেতুর বিয়েতেও আদনান এবং রেহেনা বেগম এত আনন্দিত।
আসাদ রহমান খেয়ে চলে যাওয়ার পর হাতের কাজকর্ম সেরে রেহেনা বেগম ওই বাড়িতে চলে যান। হাতে হাতে কাজ করেন তিনিও। সন্ধ্যায় গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়। আদনান ও তার বন্ধুরা মিলেই অনুষ্ঠান একদম শুরুতেই মাতিয়ে তোলে। সেতু সেজেগুজে স্টেজে বসে আছে। পাশে তার বন্ধু-বান্ধবও রয়েছে। সেতু অবশ্য রায়হানের আসার অপেক্ষা করছিল। প্রাপ্তির মুখেই সে রায়হানের আচরণ সম্পর্কে শুনেছে। তার আদরের বোনের সাথে এহেন আচরণ তার একদম সহ্য হয়নি। তাই তার বিশেষ দিনেও সে অধির আগ্রহে রায়হানের জন্য বসে আছে, এর একটা বিহিত করবে বলে। অপেক্ষার প্রহর শেষ করে রায়হান এলো হাসিমুখে। সেতু উঠে গিয়ে রায়হানকে টেনে এক সাইডে নিয়ে গেল।
‘আরে, আরে করছিস কী? পালাবি নাকি আমায় নিয়ে?’ মজা করে বলল রায়হান।
সেতু দাঁতে দাঁত পিষে বলল,’প্রাপ্তিকে কী বলেছিস তুই?’
প্রাপ্তির কথা শুনে হাসি মিলিয়ে যায় রায়হানের। সেও গম্ভীর হয়ে বলে,’আদনানের সাথে ও’কে আমার একদম সহ্য হয় না দোস্ত। তাছাড়া প্রাপ্তি একটু বেশিই ক্ষ্যাত! এই যুগেও এসে কেউ এমন করে? একটু জড়িয়ে ধরতে চাইলে, চুমু খেতে চাইলেও তার আপত্তি। ভালো লাগে না। মানে এসব কী? রিলেশন করলে কি এসব হয় না?’
‘এখন সবার রুচি বা ইচ্ছে তো এক রকম নয় রায়হান। প্রাপ্তি একটু অন্য মাইন্ডের মেয়ে। এটা কিন্তু তুই আগে থেকেই জানতি। জানতি না?’
‘জানতাম।’
‘তাহলে সব জেনেও এখন তুই ওর সাথে এমন আচরণ কেন করছিস? ও’কে আজেবাজে কথা বলার কোনো রাইট নেই তোর। বয়ফ্রেন্ড হয়েছিস বলে কি যা খুশি তাই বলবি?’
‘তুই এত হাইপার হচ্ছিস কেন দোস্ত?’
‘আলবৎ হব। আফটারঅল, তোদের সম্পর্কটা তো আমার মাধ্যমেই হয়েছে। তুই যদি ওর সাথে যা তা আচরণ করিস আমি ছোটো হয়ে যাব না ওর কাছে? আমি ও’কে বুঝিয়েছিলাম বলেই তো ও তোর সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে।’
‘আচ্ছা আমি স্যরি। ভুল হয়ে গেছে আমার।’
‘আমাকে কেন স্যরি বলছিস? প্রাপ্তি আসলে ও’কে সুন্দর করে স্যরি বলবি।’
‘ওকে, ওকে। কোথায় এখন প্রাপ্তি?’
সেতু আশেপাশে তাকিয়ে বলল,’জানিনা তো! পার্লার থেকে এসে আর দেখিনি।’
.
.
আদনান ব্যস্ত পায়ে সুমনা বেগমের কাছে যায়। সুমনা বেগমও তখন ভীষণ ব্যস্ত। আদনান এসেছে প্রাপ্তির খোঁজ করতে। সুমনা বেগম জানেন না জানালেন। এত বেশি ব্যস্ত সব নিয়ে যে, ছেলে-মেয়ে কে কোথায় আছে সেই খবরও তার কাছে নেই।
আদনান প্রাপ্তির রুমে গিয়েছিল। সেখানে অন্যান্য মেহমানরা রয়েছে। ছাদেও প্রাপ্তিকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে পাওয়া গেছে সেতুর রুমে। শুয়ে আছে চোখ বন্ধ করে। আদনান কোমরে দু’হাত রেখে বলে,
‘ওরে নবাব নন্দিনী! সেজেগুজে পটের বিবি হয়ে শুয়ে আছিস যে এখানে? চল, চল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।’
প্রাপ্তি উঠল না। শুয়েই রইল। বলল,’ভীষণ মাথা ব্যথা করছে। যেতে পারব না।’
‘ফাউল কথা বলবি না প্রাপ্তি। সেতুর গায়ে হলুদ আর তুই যাবি না?’
‘বললাম তো মাথা ব্যথা করছে।’
‘ওষুধ খেয়েছিস?’
‘না।’
‘ওষুধ না খেলে মাথা ব্যথা সারবে কী করে? তুই শুয়ে থাক। আমি ওষুধ নিয়ে আসছি।’
প্রাপ্তির কিছু বলার পূর্বেই আদনান চলে যায়। মিনিট দুয়েক পরেই প্রাপ্তিকে খুঁজতে খুঁজতে এই রুমে রায়হানও চলে আসে। পাশে বসে বলে,
‘শুয়ে আছ কেন? যাবে না?’
‘মাথা ব্যথা।’
‘কিছু হবে না, তুমি চলো।’
‘অনেক বেশিই মাথা ব্যথা রায়হান।’
‘আমার ওপর রাগ করে আছো তাই না? এজন্যই যাবে না? আচ্ছা আমি স্যরি। এই দেখো, কান ধরেছি। আর কখনো তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করব না।’
প্রাপ্তি দায়সারাভাবে বলল,’ইট’স অল রাইট।’
‘তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।’ বলে প্রাপ্তিকে জড়িয়ে ধরে রায়হান। শাড়ি পরায় পেটের কিছুটা অংশ উন্মুক্ত ছিল। রায়হান সেই উন্মুক্ত জায়গাটুকু ছুঁতেই লাফিয়ে ওঠে প্রাপ্তি। সটান থা’প্পড় বসায় রায়হানের গালে। মৃদু চিৎকার করে বলে,
‘চলে যাও এখান থেকে।’
রায়হান কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে প্রাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়। রাগে তার মাথায় আগুন জ্বলছে। সে প্রাপ্তির দু’গাল চেপে ধরে বলে,’টাচ করলেই তোমার যত সমস্যা হয়ে যায় তাই না? তখন আর আমাকে ভালো লাগে না।’
‘আমার ব্যথা লাগছে রায়হান।’
মাথা ব্যথায় এমনিতেই কাহিল ছিল প্রাপ্তি। এখন আবার রায়হানের শারীরিক, মানসিক দু’আচরণই তাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে।
রায়হান আরো শক্ত করে গাল চেপে ধরে বলল,’লাগুক। আদর করতে যখন দিবাই না; তখন ব্যথাই নাও।’
‘রায়হান! প্লিজ যাও। দেখে এসে যাবে।’
রায়হান ঝাড়া দিয়ে প্রাপ্তির গাল ছেড়ে দেয়। যাওয়ার পূর্বে বলে যায়,’তোমার মতো গার্লফ্রেন্ড আমার প্রয়োজন নেই। চাইলে হাজারটা গার্লফ্রেন্ড আমি এমনিতেই বানাতে পারি।’
প্রাপ্তি কাঁদে। মাথার যন্ত্রণাটা এবার যেন আরো বেশি বাড়ছে। অসহ্য লাগছে এখন সবকিছু তার। আদনান ওষুধ আর পানির বোতল নিয়ে এসেছে। সেগুলো টেবিলের ওপর রেখে বলল,’খেয়ে একটু রেস্ট কর।মাথা ব্যথা কমে যাবে। এরপর অনুষ্ঠানে আসিস।’
চলে যাওয়ার সময় প্রাপ্তির ফোঁপানোর শব্দ কানে আসে। দাঁড়িয়ে পড়ে সে। ব্যস্ত হয়ে এগিয়ে যায়। হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁদছিল প্রাপ্তি। আদনান ওর মাথায় আলতো করে হাত রেখে বলল,
‘প্রাপ্তি? এই প্রাপ্তি কাঁদছিস কেন তুই? মাথা ব্যথা বেশি হচ্ছে?’
প্রাপ্তি নিরবে শুধু কাঁদছিলই। আদনান এবার জোরপূর্বক প্রাপ্তির মুখটা ওপরে তুলে ধরে। লাল হয়ে যাওয়া গাল দেখে চমকে যায়। আঙুলের দাগ স্পষ্ট হয়ে আছে গালে। নখের দাগও রয়েছে। আদনানের রাগে হুঁশ হারানোর উপক্রম প্রাপ্তির এই অবস্থা দেখে।
সে দাঁতমুখ খিঁচে বলে,’আমি যাওয়ার পর রুমে কে এসেছিল প্রাপ্তি? আর কী হয়েছিল?’
প্রাপ্তি কথা বলতে পারছে না। কাঁদতে কাঁদতে তার হেঁচকি উঠে গেছে। আচমকাই সে মুখভর্তি বমি করা শুরু করে। রাগ হারিয়ে আদনান এবার প্রাপ্তিকে নিয়ে অস্থির হয়ে পড়ে।
চলবে…