Home "ধারাবাহিক গল্প আমার হয়ে থেকো আমার হয়ে থেকো পর্ব-৪৫+৪৬

আমার হয়ে থেকো পর্ব-৪৫+৪৬

0
294

#পর্ব_৪৫
#আমার_হয়ে_থেকো🍁
#Tasnim_Riya_khan

আয়াত অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই তার শরীরটা যেন আর আগের মতো সায় দেয় না। সামান্য নড়াচড়াতেই সে হাঁপিয়ে ওঠে, ক্লান্তি এসে ভর করে তার দুচোখে। ওদিকে আরভান নিজেও কঠিন অস্ত্রোপচারের পর এখন অনেকটাই সুস্থ। তবে আয়াত তাকে বিন্দুমাত্র ভারী কোনো কাজ বা ধকল নিতে দেয় না; স্বামীর প্রতি তার ভালোবাসামিশ্রিত শাসন এখন সার্বক্ষণিক। দেখতে দেখতে বেশ কয়েকটা মাস কেটে গেল। আয়াতের পেটটা এখন বেশ উঁচু হয়েছে, যা তার মাতৃত্বের পূর্ণতাকে জানান দেয়। সে কিছুটা মোটাও হয়ে গেছে যা তার মাতৃত্বের সৌন্দর্যকে আরও মায়াবী করে তুলেছে।

আরভান এখন আর আগের মতো অফিসে যায় না, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে পা-ও দেয় না। ল্যাপটপ আর ফোনের মাধ্যমে বাড়ি বসেই সে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়, আর পুরো অফিস এক হাতে সামলায় ফারহান।

​এদিকে শাহজাদি এই বাড়িতে আসার পর থেকে যেন নিজেকে আয়াতের বড় বোন ভাবতে শুরু করেছে। আয়াতের কখন কী লাগবে, কখন ওষুধ খেতে হবে—সবকিছুর দিকে তার কড়া নজর। জোর করে আয়াতকে শাসন করে খাওয়ানো থেকে শুরু করে সারাক্ষণ তার পাশে বসে গল্প করাটাই এখন শাহজাদির প্রধান কাজ হয়ে উঠেছে।বাড়ি থেকে ফোন করলে দাদাজান ছাড়া কারো সাথেই সে কতা বলে না। তখন না বুঝলেও এখন সে বেশ বুঝতে পারে তার বাবা মা কেন ফারহনের সাথে নাটক করে বিয়ে দিয়েছিলো। কারন তারা ফারহনকে তাদের হাতে ইশারায় নাচিয়ে আরভানকে পথে বসিয়ে সবকিছু ফারহনের নামে করিয়ে নিতে চেয়েছিলো। যাতে করে তাদের উভয় দিক দিয়ে লাভ হয়।

​ড্রয়িংরুমে রুমে বসে ল্যাপটপে চোখ রাখছিল আরভান। সে ফারহানকে ডেকে পাঠাল। ফারহান রুমে আসতেই অভ্যাসবশত অফিসের নানাবিধ ফাইলের ডিটেইলস দেওয়া শুরু করল। কিন্তু আরভান হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল। অত্যন্ত গম্ভীর স্বরে বলল,

​”বিয়ে করেছিস, তোর বউ বাংলাদেশ থেকে এখানে এসেছে আজ কতদিন হয়ে গেল। একদিনের জন্যও কি বেচারিকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিস?”

বেচারা ফারহান কথা খুঁজে পেল না। আচমকা এমন প্রশ্নে সে দস্তুরমতো থতমত খেয়ে গেছে। সত্যি বলতে, শাহজাদিকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া তো দূর, এ দেশে আসার পর সে কখনো মেয়েটাকে জিজ্ঞেসও করেনি যে তার কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে কি না, বা কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে কি না।
​ফারহানের এই আমতা আমতা ভাব এবং নীরবতা দেখে আরভানের ফর্সা কপালে বিরক্তির ভাঁজ পড়ল। সে কিছুটা ক্ষুব্ধ স্বরে বলল, “শালা, তুই আসলেই কোনো কাজের না! আমার এত বড় ব্যবসাটা তুই কীভাবে সামলাচ্ছিস, নাকি ওটাও অর্ধেক ডুবিয়ে বসে আছিস?”

ফারহান একটু অপ্রস্তুত হয়ে মাথা চুলকে বলল, “এর সাথে তোর ব্যবসার কী সংযোগ শুনি? আর সম্পর্কের দিক থেকে আমি কিন্তু তোর শালা নই, ছোট বোনের জামাই… মানে ভগ্নিপতি।”

​​আরভান তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ঠোঁট বেঁকিয়ে বলল, “এসো আমার পরম আত্মীয়! জ্ঞান দিতে হবে না। যা, আজকে তোর অফিস থেকে ছুটি।”

​”কিন্তু অফিসের কাজগুলো?” ফারহান অবাক হয়ে তাকাল।

​”সেটা আমি দেখে নেব। তুই তোর বউকে নিয়ে বাইরে যা।”

​ফারহান আর কোনো কথা বলার সাহস পেল না। আরভানের মুখের ওপর কথা বলার সাধ্য এ বাড়িতে কারো নেই। সে সোজা শাহজাদির ঘরে গিয়ে বাইরের যাওয়ার কথা বলতেই শাহজাদি সরাসরি নাকচ করে দিল। সে স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আয়াতের এই অবস্থায় তাকে একা রেখে সে কোথাও যাবে না। এরপর ফারহান তাকে অনেক বুঝিয়ে, নানারকম পামপট্টি দিয়ে অবশেষে রাজি করাল।আসলে এই কয়েক মাসে শাহজাদির সাথে ফারহানের সম্পর্কটা এক অদ্ভুত মায়ায় জড়িয়ে গেছে। বাইরে তারা যতই ঝগড়া বা উদাসীনতা দেখাক না কেন, ভেতরে ভেতরে দুজনের প্রতি দুজনের এক নীরব অধিকারবোধ তৈরি হয়েছে।

ওরা দুজন বাইরে বেরিয়ে গেলে পুরো বাড়িটা নিস্তব্ধ হয়ে এল। আরভান ধীর পায়ে বেডরুমে ঢুকে আয়াতের পাশে গিয়ে বসল। আয়াত আধশোয়া হয়ে ছিল। আরভান আলতো করে আয়াতের পেটের ওপর নিজের হাতটা রাখল।

​আয়াত আরভানের হাতের ওপর নিজের হাত রেখে নরম সুরে বলল, “আজকে হঠাৎ ফারহান ভাইয়াকে ছুটি দিয়ে দিলেন যে? ব্যবসায়ী আরভান চৌধুরীর এই রূপ তো আগে কখনো দেখিনি।”

​আরভান আয়াতের চোখের দিকে তাকিয়ে অন্য হাত তার চুলে আঙুল ডুবিয়ে গম্ভীর অথচ গভীর আবেগে বলল, “ব্যবসায়ী আরভান চৌধুরী এখন ছুটি নিয়েছে মিসেস। এখন শুধু তোমার আর আমাদের এই লিটল চ্যাম্পের আরভান চৌধুরী অবশিষ্ট আছে। তাছাড়া ফারহানেরও একটা সংসার আছে, ওকেও তো সময় দিতে হবে।”

ঠিক তখনই ভেতরের ছোট্ট প্রাণটা সজোরে এক লাথি মারল। আরভান কপট রাগ দেখিয়ে গম্ভীর গলায় পেটের উদ্দেশ্যে বলল, “এই লিটল চ্যাম্প, একদম শান্ত থাকো! তোমার আম্মাকে যদি আর একটাও জোরে লাথি মেরেছ, তবে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তোমার খবর আছে বলে দিলাম।”

​আরভানের এই অদ্ভুত শাসন আর গম্ভীর মুখের পাগলামি দেখে আয়াত হেসে খুন হলো। তার খিলখিল হাসিতে ঘরের বিষণ্ণতা যেন কর্পূরের মতো উড়ে গেল। আরভান আলতো করে আয়াতকে টেনে নিজের বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরল।
​আয়াত আরভানের এই কাণ্ড দেখে হেসে উঠে বলল, “আরভান! ও তো এখনো কত ছোট ও কি আপনার এই ধমক বোঝে? অযথাই আমার বাবুটাকে বকছেন।

​আরভান আয়াতের দিকে আরও কিছুটা ঝুঁকে এসে প্রগাঢ় কণ্ঠে বলল, “বঝুক আর না বুঝুক, তোমাকে কষ্ট দেওয়ার অধিকার আমি কাউকেই দেব না+সে আমাদের সন্তান হলেও নয়।”

কিছুক্ষণ ওভাবেই তাকে আগলে রেখে, আলতো করে শুইয়ে দিয়ে আয়াতের পায়ে সযত্নে তেল মালিশ করতে শুরু করল।

প্রেগন্যান্সির এই শেষ সময়টায় ব্যথার কারণে আয়াত ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। মাঝেমধ্যে পেটের ভেতরের ছোট্ট বাবুটা যখন সজোরে লাথি মারে, আয়াত ব্যথায় ককিয়ে ওঠে। আর আয়াতের সেই মৃদু চিৎকার আরভানের কলিজায় গিয়ে আঘাত করে।
​একটা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে গিয়ে একজন মাকে কতশত কষ্ট সহ্য করতে হয়, আরভান তা প্রতিদিন নিজের চোখে দেখছে। মাতৃত্বের এই রূপ দেখে নিজের মায়ের প্রতি তার ভেতরের সমস্ত পুরনো অভিমান আর ক্ষোভ যেন এক নিমেষে ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গেছে। এলিনা চৌধুরীও এখন প্রায়দিনই এই বাড়িতে আসেন, পুত্রবধূর যত্ন নেন। তবেতবে মাঝেমধ্যে নিজের কিছু ব্যক্তিগত বা কাজের চাপ থাকলে আসতে পারেন না।

ডাক্তারের কড়া নির্দেশ, আয়াতের এই অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামা একদম বারণ। কিন্তু মেয়েটা এত জেদি যে ঘুম থেকে উঠে আরভানকে পাশে না পেলে নিশ্চিত নিজেই নিচে নেমে চলে আসবে। তাই আরভান ঠিক করল, সে আয়াতের পাশে বসেই ল্যাপটপে অফিসের বাকি কাজটুকু সেরে নেবে। কিন্তু তার ল্যাপটপটা নিচে ড্রয়িংরুমের সোফায় রয়ে গেছে। সে​সে আস্তে করে আয়াতের পাশ থেকে উঠে দাঁড়াল। আলতো করে তার কপালে একটা চুমু খেয়ে ঘরের বাইরে পা বাড়াল। ঠিক তখনই কলিং বেলের কর্কশ আওয়াজ বাতাসে ভেসে এল। আরভান ভ্রু কুঁচকে ধীর পায়ে গিয়ে সদর দরজাটা খুলে দিল। দরজা খুলতেই তার কপালে বিরক্তির গভীর ভাঁজ পড়ল, চোয়াল শক্ত হয়ে এল।
তার চোখের মণি দুটো মুহূর্তের জন্য সংকুচিত হয়ে গেল।

সামনে আরশাদ চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছেন, তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিদ্রূপের বাঁকা হাসি ঝুলছে।
​”কী হলো আরভান? ভেতরে প্রবেশ করতে বলবে না?”

​”আপনি হঠাৎ এখানে?” আরভান দরজায় হাত রেখে বরফশীতল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।

​”সে কী কথা! বাবা এসেছে, তাকে দরজার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখছ আর জিজ্ঞেস করছ কেন এসেছি? এটা কেমন শিষ্টাচার আরভান?”

​কথাটা বলে তিনি আরভানের উত্তরের অপেক্ষা না করেই তাকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলেন। সোজা গিয়ে ড্রয়িংরুমের সোফায় বেশ আয়েশ করে বসলেন। আরভান কোনো তাড়াহুড়ো করল না। সে অত্যন্ত ধীর স্থির পায়ে হেঁটে এসে আরশাদ চৌধুরীর মুখোমুখি অন্য একটি সোফায় বসল। তার মেরুদণ্ড একদম সোজা, চোখে কোনো দ্বিধা বা দুর্বলতা নেই।

​কিছুক্ষণ নিজের ছেলের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার পর আরশাদ চৌধুরী উপহাসের সুরে বললেন, “শুনলাম তুমি নাকি ওপেন হার্ট সার্জারিটা করে ফেলেছো? সত্যি?”

​​আরভান সোফায় পিঠ ঠেকিয়ে বসল। তার ধীরস্থির অবয়বে কোনো কম্পন নেই। অত্যন্ত নিস্পৃহ গলায় জবাব দিল, “হুম।”

​”কী অদ্ভুত ব্যাপার বলতো! তোমার বাবা সেটা জানেও না। কয়েক মাসের জন্য দেশের বাইরে গেলাম আর তুমি অপারেশন করে নিলে? টু ব্যাড! তবে এটা আমার ইগোতে অনেক লেগেছে আরভান। আমি যখন তোমাকে বলেছিলাম, তুমি শুনলে না; অথচ একজন চরিত্রহীন নারীর মেয়ের কথা মেনে নিলে? আম রিয়েলি শকড্! আগেও বলেছিলাম, এই মেয়ে একদিন তোমাকে ধোঁকা দেবে। তোমার বাবার কথা বিশ্বাস করছ না, একদিন কিন্তু সত্যিই এমন কিছু হবে…”

​আরভানের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। তার কপালে রগগুলো দপদপ করে উঠল। কিন্তু সে নিজেকে চরমভাবে সংযত রাখল, কোনো পাল্টা কথা বলল না। এই নোংরা মানসিকতার লোকের সাথে তর্ক করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তার নেই। সে শীতল চোখে তাকিয়ে সোজা সাপটা প্রশ্ন ছুঁড়ল, “আপনি এখানে কেন এসেছেন?”

​”তোমাকে দেখতে আসতে পারি না?” আরশাদ চৌধুরী চতুরতার হাসি হাসলেন। “বাবা তো আমিই। শত হলেও আমার রক্ত তোমার শরীরে বইছে। নিজের রক্তের জন্য আমার একটা টান আছে, তোমারও নিশ্চয়ই আছে। তা… শাহরিয়ার কোথায় আরভান?”

​আরভানের ঠোঁটের কোণে এবার এক ভয়ঙ্কর হাসি ফুটে উঠল। সে সোজা হয়ে বসে আরশাদ চৌধুরীর চোখের দিকে চোখ রেখে বলল, “আপনি জেনেও না জানার ভান কেন করছেন মিস্টার চৌধুরী?শাহরিয়ার কোথায়, তার শেষ পরিণতি কী হয়েছে-তা কি আপনার অজানা?”

​আরশাদ চৌধুরী নিজের ছেলের চোখের দিকে তাকিয়ে চতুরতার হাসি হাসলেন। “তুমি আসলেই তোমার বাবার যোগ্য সন্তান। আমার ভাইয়ের ওই হাত-পা কাটার হালটাও যে তোমার করা, সেটাও আমি খুব ভালো করেই জানি আরভান। ওদের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই, আমার রক্তের আসল টান তো তোমার সাথে।”

​”তো এই রক্তের টানে এখন আপনি এখানে এসে কী স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছেন?” আরভানের কণ্ঠস্বর তলোয়ারের চেয়েও ধারালো শোনাল।

​আরশাদ চৌধুরী আবারও হাসলেন। ছেলে ঠিক ধরেছে; তার নিজের কাজ পড়েছে বলেই সে এখানে এসেছে, নয়তো সে আসত না। সে সোজা হয়ে বসে বলল, “মেলবোর্নের ওই বড় ডিলটা আমার লাগবে, বাচ্চা।”
​আরভান এক মুহূর্তও সময় নিল না। পলক না ফেলে সটান জবাব দিল, “হবে না।”

​আরশাদ চৌধুরীর মুখ মুহূর্তেই কঠিন ও হিংস্র হয়ে উঠল। এখানে তার কোটি টাকার বিষয় জড়িয়ে আছে; এই ডিলটা যদি না হয়, তবে তার এতদিনের সাজানো সাম্রাজ্য সব শেষ হয়ে যাবে। সে টেবিল চাপড়ে গর্জে উঠল, “আরভান! তুমি কিন্তু একটু বেশি উড়ছো। আমি তোমার বাবা, বাবার কথা শোনা সন্তানের ধর্ম!”

​”আর বাবার ধর্ম ছেলের পথে বাগড়া না দেওয়া। তাই আপনি এখন আসতে পারেন মিস্টার চৌধুরী।” আরভান নিজের জায়গায় স্থির থেকে হাত দিয়ে দরজার দিক ইশারা করল। আরভানের এই অপমানজনক কথা আরশাদ চৌধুরীর অহংকারে গিয়ে লাগল। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সোফা ছেড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দিল।

এত কথার আওয়াজে ওপরে আয়াতের ঘুমটা পাতলা হয়ে এলো। সে ধড়ফড় করে উঠে বসল। নিচে থেকে আসা চেনা কণ্ঠস্বরটা বুঝতে পেরে সে ধীর পায়ে হেঁটে করিডোরে এসে দাঁড়াল।

​নিচের দিকে তাকাতেই আয়াতের পুরো শরীর রাগে আর আতঙ্কে কাঁপতে শুরু করল। এই লোকটার সাহস কত বড়! যে মানুষটা মাত্র কয়েকদিন আগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এত বড় একটা অপারেশন থেকে ফিরে এল, তার সামনে এসে সে আবার এভাবে চিৎকার করছে? এই অমানুষটার কি বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই?

​আয়াত আর এক সেকেন্ডও দ্বিধা করল না। সে সোজা আরভানের ঘরে ঢুকল। আলতো করে ওয়ার্ডরোবটা খুলে আরভানের সেই লাইসেন্সকৃত পিস্তলটা খুঁজতে শুরু করল। ড্রয়ারের এক কোণে কালো রঙের ভারী ধাতব অস্ত্রটা পেতেই আয়াতের চোখের দৃষ্টি বদলে গেল। আজ এই লোকের একটা বিহিত সে করেই ছাড়বে। সে পিস্তলটা শক্ত করে মুঠোয় ভরে সোজা করিডোরের দিকে হাঁটতে শুরু করল।

​নিচে ড্রয়িংরুমে আরভান তখনো শান্ত হয়ে বসে আছে, আর তার সামনে চরম উত্তেজিত হয়ে আরশাদ চৌধুরী একের পর এক বিষোদ্গার করে যাচ্ছেন। হঠাৎ আরভানের চোখ গেল ওপরের করিডোরের দিকে আয়াতকে ওভাবে হেঁটে আসতে দেখে প্রথমটায় আরভানের রাগ হলেও,আয়াতের হাতের দিকে নজর পড়তেই আরভানের ঠোঁটের কোণে এক অবিস্মরণীয়, বিস্তৃত হাসি ভেসে উঠল। তার বাঘিনী আজ নিজের রূপ দেখাচ্ছে!যদিও আরভান নিজে সবসময় ঠান্ডা মাথায়, নিখুঁত পরিকল্পনায় শত্রু খতম করতে পছন্দ করে; তবুও আজ কেন যেন তার মনে হলো, আয়াত যা করতে চাইছে তাকে করতে দেওয়া যাক।

​আরভান মুহূর্তের মধ্যে নিজের কঠোর চেহারাটা বদলে ফেলল। মুখে একরাশ অসহায়ত্ব আর ভয়ের নাটক ফুটিয়ে তুলে কিছুটা নরম আর দুর্বল গলায় আরশাদ চৌধুরীকে বলল, “আপনি… আপনি একটু শান্ত হোন। এভাবে চিৎকার করবেন না প্লিজ।”

​আরভানের এমন আচমকা নরম আচরণে আরশাদ চৌধুরী একটু ভড়কে গেল। আরভান তো এমন শান্ত থাকার পাত্র নয়! সে আরভানের আড়চোখের ইশারা লক্ষ্য করে ওপরের দিকে তাকাতেই তার চোখ জোড়া বিস্ময়ে ছানাবড়া হয়ে গেল।

​সিঁড়ির মাথায় দুই হাতে পিস্তল সোজা আরশাদ চৌধুরীর দিকে তাক করে দাঁড়িয়ে আছে আয়াত। তার উঁচু পেট দেখে আরশাদ চৌধুরীর বুঝতে বাকি রইল না যে আয়াত গর্ভবতী। সে আরভানের দিকে তাকাল।

​আরভান সোফায় বসে ফিসফিস করে আরশাদ চৌধুরীকে শুনিয়ে বলল, আপনার ভাষায় সেই ‘চরিত্রহীন নারী’র মেয়েই এখন আপনার বংশের পরবর্তী প্রজন্ম এই পৃথিবীতে আনতে চলেছে মিস্টার চৌধুরী…”

বলেই সে আরশাদ চৌধুরীকে ধোঁকা দিতে ভালো মানুষ সেজে নাটকীয় ভঙ্গিতে চিৎকার করে বলল, “আয়াত! কী করছ তুমি? ওটা হাত থেকে ফেলে দাও! ওটা খেলনা নয়, প্লিজ!”

​আয়াত রাগে অন্ধ হয়ে খ্যাপাটে স্বরে ওপর থেকে বলল, “আমি কোনো খেলা করছি না আরভান! এই লোকের সাহস কী করে হয় আপনার সাথে এভাবে কথা বলার? প্রথম দিন থেকেই সে এসে আপনার জীবন নিয়ে খেলছে। আপনাকে সহজ-সরল পেয়ে সবসময় আপনাকে দিয়ে সব নোংরা কাজ করিয়ে নিয়েছে। অনেক হয়েছে, আর না!”
​আরশাদ চৌধুরী ভয়ে চিৎকার করে উঠল, “এই মেয়ে! তোমার মাথা ঠিক আছে? পিস্তল নামাও! এই মেয়ে আমার বংশের জন্ম দেবে, যে নিজেই একটা…”

​”আমার স্বামীকে ভদ্র আর নরম পেয়ে সবসময় যা খুশি করবেন আপনি? আর আমি বেঁচে থাকতে তা হতে দেব? অসম্ভব!”

​আয়াত কথা শেষ করার সুযোগ দিল না। অনভিজ্ঞ হাতে সে পিস্তলের ট্রিগার একের পর এক চাপতে শুরু করল। কানফাটানো আওয়াজে পুরো ড্রয়িংরুম কেঁপে উঠল।পিস্তল চালানোর কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা অভ্যাস না থাকায়, প্রথম গুলির বিকট আওয়াজ আর ধাক্কায় তার হাত দুটো ছিটকে গেল। আরভান ভেবেছিল আয়াত হয়তো ঠিকঠাক নিশানা করতে পারবে, কিন্তু আয়াতের এই উন্মাদ রূপ দেখে সে নিজেই ভড়কে গেল। সে নিজের নিরাপত্তার জন্যই দ্রুত সোফার পেছনে লুকিয়ে পড়ল—কে জানে, বউয়ের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি কখন নিজের বুকেই এসে বিঁধে যায়!

​ওদিকে আরশাদ চৌধুরীও পাগলের মতো এদিক-ওদিক ছুটছে আর চিৎকার করে আয়াতকে থামতে বলছে। অনভিজ্ঞ হাত আর কাঁপতে থাকা শরীরের কারণে আয়াতের পক্ষে পিস্তল ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না, প্রতিটা গুলি ছিটকে যাওয়ার সময় তার হাত ঝিমঝিম করে উঠছিল। এরই মাঝে আচমকা একটা গুলি সোজা গিয়ে আরশাদ চৌধুরীর ডান বাহুতে বিঁধল।

​”আহহ্!” আরশাদ চৌধুরী আর্তনাদ করে তার রক্তাক্ত হাতটা চেপে ধরল।

​ততক্ষণে পিস্তলের সবকটা গুলি শেষ হয়ে গেছে। আয়াত ক্লান্তিতে আর উত্তেজনায় জোরে জোরে হাঁপাচ্ছে। আরশাদ চৌধুরী তার রক্তাক্ত হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে হিংস্র ও খুনে চোখে আয়াতের দিকে তাকাল। সে দাঁতে দাঁত চেপে হুমকির সুরে বলল, “এর জন্য কিন্তু খুব একটা ভালো কিছু হবে না মেয়ে! এটার চড়া মূল্য চোকাতে হবে তোমাদের।

ড্রয়িংরুমের বাতাস তখনো বারুদের কটু গন্ধে ভারী হয়ে আছে। হাতের খালি পিস্তলটা কার্পেটের ওপর ছিটকে পড়ল। আয়াত তখনো তীব্র উত্তেজনায় আর আতঙ্কে জোরে জোরে হাঁপাচ্ছে, তার পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছে। আরভান সোফার আড়াল থেকে দ্রুত ছুটে এসে আয়াতকে দুই বাহু দিয়ে শক্ত করে ধরে ফেলল।

​তার দুচোখে এক মিশ্র অনুভূতি—সেখানে যেমন আছে তীব্র উদ্বেগ, তেমনি এক অদ্ভুত মুগ্ধতা। সে আয়াতের কাঁধ ঝাঁকিয়ে ঈষৎ চড়া সুরে বলল, “আয়াত! আর ইউ ম্যাড? এসবের মানে কী? তুমি জানো একটু এদিক-ওদিক হলে কী হতো?”

​আয়াত আরভানের বুকের শার্টটা খামচে ধরে ক্ষিপ্ত বাঘিনীর মতো ফুঁসে উঠল। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লেও তার কণ্ঠস্বরে ছিল তীব্র জেদ, “ইনার সাহস হয় কী করে আপনার সাথে উঁচু গলায় কথা বলার? আপনার জীবন নিয়ে খেলেও ওনার শান্তি হয় না! আমি বেঁচে থাকতে ওনাকে আর একটা আঁচও আপনার গায়ে লাগাতে দেব না আরভান!”

​আয়াতের শরীরের সমস্ত ভর তখন আরভানের ওপর। উত্তেজনার ধাক্কায় তার পা দুটো যেন আর মাটিতে জোর পাচ্ছিল না। আরভান তাকে আরও শক্ত করে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে জড়িয়ে ধরল। তার ধারালো কণ্ঠস্বরে এবার একটু শাসনের সুর ফুটে উঠল, “আমি ছিলাম তো আয়াত! আমি নিজেই সব সামলে নিতাম। আমার ওপর তোমার ভরসা হয় না?”

​”আপনি কিচ্ছু সামলাতেন না আরভান!” আয়াত আরভানের মুখের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠল। “আপনার বাবা আপনাকে মেরে ফেললেও আপনি ওনার বিরুদ্ধে একটা আঙুলও তুলবেন না, নিজের বাবা বলে ওনাকে ছেড়ে দেবেন—তা আমি খুব ভালো করেই জানি। কিন্তু আমি তো তা পারব না!”

​আয়াতের মুখে নিজের প্রতি এমন অন্ধ, হিংস্র ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখে আরভানের ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত, পৈশাচিক অথচ গভীর মায়াবী হাসি ফুটে উঠল। সে আয়াতের মুখের কাছে নিজের মুখটা এনে প্রগাঢ় কণ্ঠে বলল, “অথচ আয়াত… একদিন তুমিই আমাকে বলেছিলে, আমার জন্য নাকি তুমি কাউকে খুন করতে পারবে না! সেই সাহস নাকি তোমার নেই? তাহলে আজকে যে ড্রয়িংরুমে বুলেটের ঝড় তুললে, ওটা কী ছিল মিসেস?”

​আয়াত আরভানের চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে তখন কোনো ভয় নেই, আছে এক পজেসিভ নারীর চূড়ান্ত অধিকারবোধ। সে আরভানের গালে হাত রেখে রুদ্ধস্বরে বলল, “আপনার মিসেস আপনার জন্য নিজের জীবন দিতেও পারবে আরভান, আর আপনার সুরক্ষার জন্য অন্যের জীবন কেড়ে নিতেও পারবে! আমার এই সাহসের নাম আপনি।”

​ঠিক তখনই আয়াতের পেটের ভেতর থেকে এক তীব্র, তীক্ষ্ণ ব্যথার মোচড় দিয়ে উঠল। প্রসববেদনার সেই প্রথম তীব্র কামড়টা তার মেরুদণ্ড বেয়ে মাথার চাঁদিতে গিয়ে ঠেকল। ব্যথায় তার চোখ দুটো অন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হলো, কিন্তু সে আরভানকে কিচ্ছুটি বুঝতে দিল না। কারণ সে জানে, এই লোকটা জানতে পারলে এখনই ঘর-বাড়ি মাথায় তুলে একাকার করবে। সে নিজের ভেতরের যন্ত্রণাকে চেপে রেখে শক্ত করে ঠোঁট কামড়ে ধরে রইল।

​কিন্তু আরভানকে ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব। সে যখন আয়াতকে আরও নিবিড় করে নিজের বুকের সাথে মেলাতে চাইল, হঠাৎ তার হাতটা কেমন যেন ভিজে উঠল। আরভান আলতো করে আয়াতকে একটু সরিয়ে নিচে তাকাতেই আতঙ্কে তার বুকের ভেতরের হৃৎপিণ্ডটা যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। মেঝেতে টপটপ করে তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে, আয়াতের পরনের পোশাক লাল হয়ে উঠছে।

​মুহূর্তের মধ্যে আরভানের সেই শান্ত, শক্ত ব্যক্তিত্ব তছনছ হয়ে গেল। তার চোখের মণি দুটো উন্মত্ততায় কুঁকড়ে গেল, সে পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে এক পাগলপ্রায় মানুষে পরিণত হলো।
​”আয়াত! কী হয়েছে তোমার? রক্ত কেন? এই আয়াত! কথা বলো আমার সাথে!” আরভানের কণ্ঠস্বরে এক আদিম বন্য আতঙ্ক। সে আয়াতের মুখটা দুই হাতে ধরে পাগলের মতো ডাকতে লাগল।

​আয়াত আর নিজের ভেতরের অবর্ণনীয় কষ্ট চেপে রাখতে পারল না। সে দুই হাতে নিজের উঁচু পেটটা চেপে ধরে ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে কেঁদে ফেলল। আরভানের বুকে মাথা রেখে আর্তনাদ করে বলল, “আরভান… হাসপাতালে নিয়ে চলুন প্লিজ! আর সহ্য হচ্ছে না… ওর… ওর আসার সময় হয়ে গেছে আরভান!”

​আরভান কী করবে, কীভাবে শ্বাস নেবে—তা যেন এক নিমেষে ভুলে গেল। তার জীবনের সব চতুরতা, সব নিখুঁত পরিকল্পনা এই রক্ত আর আয়াতের কান্নার সামনে ধুলোয় মিশে গেল। সে এক মুহূর্তও দেরি না করে আয়াতকে পাজা কোলা করে নিজের বুকের মাঝে তুলে নিল। যে মেয়েটা মাত্র কিছুক্ষণ আগে পিস্তল হাতে রণংদেহী মূর্তি ধারণ করেছিল, সে এখন এক নিষ্পাপ শিশুর মতো তার বুকে ব্যথায় ছটফট করছে। এই দৃশ্য আরভানের সহ্যসীমার বাইরে চলে গেল।
​সে আয়াতকে নিয়ে সোজা গ্যারেজের দিকে ছুটল। গাড়ির পেছনের সিটে আয়াতকে সযত্নে শুইয়ে দিয়ে সে নিজে ড্রাইভিং সিটে বসল। তার হাত দুটো কাঁপছিল, যা আরভানের জীবনে কোনোদিন ঘটেনি। সে কাঁপা হাতেই গাড়ি স্টার্ট দিল এবং পকেট থেকে ফোন বের করে ফারহানকে কল দিল।

​স্টিয়ারিংয়ে এক হাত রেখে অন্য হাতে ফারহানের নম্বর ডায়াল করতে করতে সে পেছনের সিটে তাকাল। আয়াতের চোখ দুটো বন্ধ, ব্যথায় তার কপাল কুঁচকে আছে। আরভান আর নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারল না। তার শক্ত চোখের কোণ বেয়ে অবাধ্য অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। সে তীব্র আবেগে, কিছুটা খ্যাপাটে গলায় চেঁচিয়ে বলল—
​”আয়াত! কিচ্ছু হবে না তোমার! আমি আছি তো! একটু কষ্ট করে সহ্য করো প্লিজ… এই জন্যই… ঠিক এই জন্যই আমি বলেছিলাম আমার কোনো বাচ্চার দরকার নেই! তুমি আমার কথা শুনলে না! সবসময় নিজের জেদ ধরে বেশি পাকনামি করো! এখন এই কষ্ট পাচ্ছ, তা আমার কেমন লাগছে তুমি বোঝো আয়াত?”

​আয়াত ব্যথার তীব্র যন্ত্রণার মাঝেও চোখ মেলল। সে কোনো কথা বলতে পারল না, তার কণ্ঠরোধ হয়ে গেছে। কিন্তু সে অপলক দৃষ্টিতে আরভানের দিকে তাকিয়ে রইল। গাড়ির রিয়ার-ভিউ মিররে সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে—আরভানের চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। যে পুরুষ কোনোদিন কোনো পরিস্থিতিতে এক ফোঁটা চোখের জল ফেলেনি, আজ তার প্রসব বেদনা দেখে সে বাচ্চাদের মতো কাঁদছে।
​পেটের ভেতরের নরকযন্ত্রণার মাঝেও এই দৃশ্যটা যেন আয়াতের মনে এক পরম শান্তির পরশ বুলিয়ে দিল। একজন নারীর জন্য এর চেয়ে বড় সুখের আর তৃপ্তির মুহূর্ত আর কী হতে পারে—যখন সে দেখতে পায়, তার স্বামী তার ভেতরের মাতৃত্বের কষ্ট দেখে নিজের পুরুষালী অহংকার ভুলে অঝোরে কাঁদছে?

চলবে…

#পর্ব_৪৬
#আমার_হয়ে_থেকো🍁
#Tasnim_Riya_khan


একটি হাসপাতালের সামনে এসে আরভানের গাড়িটা যখন সশব্দে থামল, তখন তার ভেতরের সমস্ত ধৈর্য ও গাম্ভীর্য চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। সে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে পেছনের সিট থেকে প্রসববেদনায় প্রায় অচেতন আয়াতকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল। ভেতরে ঢুকেই তার ইস্পাতকঠিন কণ্ঠস্বরে এক আদিম আর্তি ফুটে উঠল। সে চিকিৎসকদের পথ আগলে দাঁড়িয়ে রুদ্ধস্বরে বলল, “আগে আমার স্ত্রীকে দেখুন! ওর শরীর থেকে ব্লিডিং হচ্ছে। ডু সামথিং!”

​ঠিক সেই মুহূর্তেই ফারহান আর শাহজাদিও হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালে এসে পৌঁছাল। ফারহান দ্রুত কাউন্টারে গিয়ে ভর্তির সমস্ত ফরমালিটিজ আর কাগজপত্রের কাজ শেষ করল। কিন্তু আরভানের তখন কোনো দিকেই হুঁশ ছিল না। ডাক্তাররা যখন আয়াতকে স্ট্রেচারে করে লেবার রুমে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আরভানের অবশ হাত দুটো দিয়ে সে কেবল হাসপাতালের সেই জরুরি সম্মতিপত্রে সইটুকু করে দিল। তার সমস্ত শরীর কাঁপছিল।

​অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকে আয়াত একবারের জন্যও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি কিংবা কোনো আধুনিক টেস্ট করায়নি। সে চেয়েছিল পুরনো আমলের মা’দের মতো করে নিজের ভেতরের নতুন প্রাণকে শুধু অনুভব করতে; সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, কিংবা উভয়ই—সবটাই সে নিয়তির ওপর ছেড়ে দিয়েছিল।।

কিন্তু আজ এই রক্তাক্ত পরিস্থিতি আরভানের ভেতরের উম্মাত প্রেমিক আর অনাগত বাবাকে পুরোপুরি পাগল করে তুলল। সে লেবার রুমের বন্ধ দরজার ওপর হাত আছড়ে ছটফট করতে লাগল। আরভানকে কোনোভাবেই ওটি-র দরজার সামনে থেকে সরানো যাচ্ছিল না।

ওপাশের চিকিৎসকেরা যখন নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে আরভান অবিরত “আয়াত! আয়াত, তুমি ঠিক আছো, আল্লাহ প্লিজ সবকিছু ঠিক করে দেও, আমার আয়াতকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেও”

বলে চিৎকার করতে লাগল। তার এই হিতাহিত জ্ঞানহীন উন্মাদনা দেখে দায়িত্বরত নার্স ও ডাক্তারদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। একজন নারীর প্রসূতি সময় বাইরের এমন শোরগোল ভেতরের পরিবেশকে নষ্ট করছিল।

আরভান এক জায়গায় স্থির থাকতে পারছে না; খাঁচায় বন্দি বাঘের মতো করিডোরে পায়চারি করছে আর অনবরত নিজের চুল খামচে ধরছে। তার এই ভয়াবহ মানসিক অস্থিরতা আর পাগলামি দেখে পাশে দাঁড়ানো ফারহান বা শাহজাদি—কারো বুকে এতটুকু সাহস হলো না যে এগিয়ে গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেবে।

​দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার পর অবশেষে লেবার রুমের ভারী দরজাটা খুলল। একজন সিনিয়র ডাক্তার বাইরে বেরিয়ে এলেন। কিন্তু আরভান ডাক্তারকে মোটেও পাত্তা দিল না, কোনো কথা শোনার আগেই সে সোজা ওটি-র ভেতরে ঢুকে গেল। তার এমন আকস্মিক ও মারমুখী আচরণ দেখে ডাক্তার সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে রইলেন।এমন উন্মাদ স্বামী তিনি তার ক্যারিয়ারে খুব কমই দেখেছেন।আরভান কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে আরভান তখন ভেতরের দিকে ছুটেছে, যেখানে তার পুরো পৃথিবীটা শুয়ে আছে।

​ভেতরে তখনো আবছা আলো-আঁধারি। ধবধবে সাদা বিছানায় নিথর শুয়ে আছে আয়াত। ভেতরে ঢুকতেই আরভানের চোখ পড়ল বিছানার দিকে। আয়াত সম্পূর্ণ জ্ঞান হারিয়ে নিথর হয়ে পড়ে আছে। তার ফ্যাকাসে মুখটা দেখে আরভান আবার চিৎকার করে উঠতেই। নার্সরা তাকে শান্ত হতে বলে জানাল, ওষুধের প্রভাব আর প্রচণ্ড ক্লান্তির কারণে আয়াত অচেতন হয়ে আছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই তার জ্ঞান ফিরে আসবে।

আরভান ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে প্রথমে আয়াতের সর্বাঙ্গে চোখ বুলাল, যেন সে পরখ করে দেখছে তার জানটা অক্ষত আছে কি না। তারপর পরম মমতায় আয়াতের কপালে নিজের ঠোঁট দুটো ছোঁয়াাল। দীর্ঘক্ষণ নিজের কপালটা আয়াতের কপালের সাথে ঠেকিয়ে রেখে এক বুক ভাঙা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সে। আরভানের দুচোখ বেয়ে কয়েক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু আয়াতের গালে গিয়ে আছড়ে পড়ল। কোনো কথা না বলে সে সোজা আয়াতকে নিজের শক্ত দুই বাহুর মাঝে জড়িয়ে ধরল।বিড়বিড় করে বলল, “আর কখনো এসব বাচ্চার ঝামেলায় যাব না আয়াত। তোমাকে হারানোর এই ভয় আমি আর দ্বিতীয়বার নিতে পারব না। আমি মরে যাব আয়াত…তুমি না থাকলে আমার এই বেঁচে থাকাটাই অর্থহীন।”

ঠিক তখনই পাশের ছোট একটি টেবিল থেকে ভেসে এল এক অপরূপ কান্নার আওয়াজ। আরভান চমকে ফিরে তাকাল। একজন নার্সের কোলে ফুটপুটে দুটি নবজাতক শিশু! হ্যাঁ, আয়াতের কোল আলো করে যমজ সন্তান এসেছে। তবে তাদের মধ্যে একটি শিশু অত্যন্ত দুর্বল এবং ওজনে অনেক কম হওয়ায় তার শারীরিক সুরক্ষার খাতিরে তাকে তৎক্ষণাৎ বিশেষ ইনকিউবেটরে আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল।

আরভানের ভেতরের অনুভূতিটা এক লহমায় বদলে গেল। একজন নার্স মৃদু হেসে বলল, “কনগ্রাচুলেশনস মিস্টার চৌধুরী! আপনাদের যমজ কন্যাসন্তান হয়েছে। মা ও বাচ্চারা এখন পুরোপুরি সুস্থ। কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার স্ত্রীর জ্ঞান ফিরে আসবে।”

যে পুরুষ কখনো কোনো কিছুর সামনে নত হয়নি, আজ ছোট্ট প্রাণটা দেখে তার পা দুটো কাঁপতে লাগল।কপালে জমে উঠল বিন্দু বিন্দু ঘাম। নার্স যখন একটি সুস্থ বাচ্চাকে কাপড়ে জড়িয়ে আরভানের দিকে বাড়িয়ে দিলেন, আরভান কাঁপাকাঁপা হাতে তাকে কোলে নিতে গিয়েও থমকে গেল। তার মনে হলো, এত শক্ত হাত দিয়ে সে এই তুলোর মতো নরম শরীরটাকে কীভাবে ছুঁয়ে দেবে!ফারহান তার কাঁধে হাত দিয়ে আশ্বস্ত করতেই আরভান তাকাল। ফারহান আরভানের এই আনাড়িপনা আর ভয় পাওয়া মুখ দেখে পাশ থেকে টিটকারি মেরে হেসে উঠল, “কী রে আরভান চৌধুরী? পুরো মেলবোর্ন কাঁপানো ব্যবসায়ী আজ দুটো বাচ্চার সামনে এসে এমন ভিজে বেড়াল হয়ে গেলি?”

​কিন্তু আজ আরভান রাগল না, কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। গভীর এক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে, কোনো রকমের কাঁপাকাঁপা হাত বাড়িয়ে অবশেষে যখন শিশুটিকে সে নিজের বুকের কাছে জড়িয়ে ধরল,বুকের মাঝে এল অশান্ত ঝড় যেন মুহুতই শান্ত হয়ে গেলো। এত বছরের শক্তপোক্ত আরভান চৌধুরীর চোখ ফেটে এক জোড়া অশ্রুধারা নেমে এল। সে একাধারে একজন সন্তান , একজন স্বামী এবং এখন একজন পূর্ণাঙ্গ বাবা!

কেবিনের দরজায় তখন এলিনা চৌধুরী এসে দাঁড়িয়েছেন। আরভান তার মায়ের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি আর ঠোঁটের কোণের অদ্ভুত এক হাসির মিশ্রণে ভাঙা গলায় বলল, “মম… দেখে যাও, এটা আমার মেয়ে! এটা আমার রাজকন্যা, তোমার আরভানের রাজকন্যা!”

এলিনা চৌধুরী এগিয়ে এসে পরম মমতায় বাচ্চাকে কোলে নিলেন এবং নিজেও কেঁদে ফেললেন। আরভান এক হাতে মাকে আগলে নিল, আরভান কানের কাছে তার মুখ নিয়ে এসে খুব নিচু, মধুর স্বরে আজান দিল।

আরভান একইভাবে ইনকিউবেটরে থাকা অপর দুর্বল সন্তানটিকে দেখার জন্য পাশের কাঁচের দেয়ালের দিকে এগিয়ে গেল, সে পরম মায়ায় শিশুটির গালে নিজের আঙুল দিয়ে একটু ছুঁয়ে দিতেই, অবুঝ মেয়েটি ঘুমের ঘোরেই যেন চিলতে এক মায়াবী হাসি হাসল। তা দেখে আরভানের ঠোঁটের কোণেও এক অপার্থিব আনন্দের হাসি ফুটে উঠল।তার কানেও আজান দিলো।

​কিছুক্ষণ পর আয়াতের চোখের পাতা সামান্য নড়ে উঠল। তার পুরোপুরি জ্ঞান ফিরতেই আরভান বাচ্চাদের কথা ভুলে সোজা আয়াতের শিয়রে এসে বসল। পরম মায়ায় আয়াতের কপালে ঠোঁট ডুবিয়ে একটা দীর্ঘ চুমু দিল।
​ঠিক তখনই আরভানের চেনা স্পর্শ আর শরীরের উষ্ণতা পেয়ে আয়াতের বুঁজে থাকা চোখের পাতা দুটো কেঁপে উঠল। সে খুব ধীর গতিতে চোখ মেলল। আরভানকে জড়িয়ে ধরে থাকা নিজের হাত দুটো আরও কিছুটা শক্ত করে সে তার স্বামীকে বুকের মাঝে আশ্রয় দিল। এই নীরব আলিঙ্গনেই যেন লুকিয়ে ছিল পৃথিবীর সমস্ত স্বস্তি।

ঠিক সেই মুহূর্তে কেবিনের দরজা খুলে দুজন নার্স ভেতরে প্রবেশ করল।আয়াতকে চেক চেক করলো।তারপর বাচ্চাদের কোলে করে নিয়ে আসলো। তাদের দুজনের কোলে দুটো ফুটপুটে নবজাতক। নার্সরা হতবাক হয়ে কিছুক্ষণ এই দম্পতির গভীর আবেগের দিকে তাকিয়ে রইল।

​আরভান অত্যন্ত ধীর পায়ে বাচ্চাদের দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু তার হাত দুটো আবার কাঁপতে লাগল, যেন সে ছুঁতে গেলেই তার সন্তানরা ব্যথা পাবে। আয়াত বিছানায় আধশোয়া হয়ে আরভানের এই অদ্ভুত সরলতা আর আমতা আমতা ভাব দেখছিল। এত বড় পাথর মনের মানুষটা নিজের সন্তানদের সামনে এসে কতটা নরম হয়ে গেছে! আয়াতের বুকের ভেতরটা এক অপার্থিব সুখে ভরে উঠল; তার জীবনের সবচেয়ে সার্থক আর শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত যেন আজকেই ধরা দিয়েছে।

​আরভান অত্যন্ত সর্তকতার সাথে বাচ্চাদের একসাথে নিজের দুই বাহুতে তুলে নিল। তারপর ধীর পায়ে আয়াতের পাশে এসে বসল। বাচ্চাদের আলতো করে আয়াতের দুই পাশে শুইয়ে দিয়ে সে প্রথমে সন্তানদের কপালে দুটি আলতো চুমু খেল। এরপর আয়াতের চোখের দিকে তাকিয়ে, তার কপালে গভীর এক ভালোবাসার চুম্বন এঁকে দিয়ে রুদ্ধকণ্ঠে বলল, “ধন্যবাদ আয়াত… আমাকে একটা পূর্ণাঙ্গ পরিবার দেওয়ার জন্য। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আমার মায়াবতী।”

******

​দেখতে দেখতে চারটে দিন পার হয়ে গেল। হাসপাতালের সমস্ত নিয়মের বেড়াজাল পেরিয়ে আয়াত আর নবজাতকদের নিয়ে আরভান নিজের চেনা নীড়ে ফিরে এল। চার দিনের ছোট্ট দুটো প্রাণ এখন পুরো বাড়িটাকে এক অপার্থিব মায়ায় আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
​আরভান বাচ্চাদের নাম রাখল—’আনায়া চৌধুরী’ এবং ‘আইরা চৌধুরী’।

আরভান নিজেই তার সন্তানদের খেয়াল রাখতে শুরু করে। ইউটিউভ দেখে বাচ্চাদের পরিস্কার রাখা থেকে শুরু করে সব। আয়াত তা বসে বসে শুধু দেখে অথচ এই মানুষটাি বলেছিলো সে বাচ্চা চায় না। কথাটা ভাবতেই আয়াতের ঠোঁট জুরে ফুঁটে ওঠে বিস্তার হাসি।

******

সময় যেন তার আপন গতিতে চলে।দেখতে দেখতে একটি মাস পার হয়ে গেল।
​আরভানের এখন চব্বিশ ঘণ্টার একমাত্র কাজ হলো নিজের এই দুটি কন্যাসন্তানকে চোখের সামনে আগলে রাখা। এই দুটো মেয়ে যেন তার বুকের ভেতর জ্যান্ত হয়ে থাকা দুটি জান্নাতের টুকরো। আরভান অফিসের সমস্ত ফাইলপত্র, ল্যাপটপ সব ঘরের এক কোণে ফেলে রেখেছে। আয়াত এই নিয়ে চরম অতিষ্ঠ। সে গত রাতে অনেক বুঝিয়ে, কড়া শাসন করে আরভানকে রাজি করিয়েছিল যে আজ সকাল সকাল তাকে অবশ্যই অফিসে যেতে হবে। আরভানও বাধ্য ছেলের মতো রাজি হয়েছিল।

​​কিন্তু সকাল হতেই দেখা গেল অন্য দৃশ্য! আরভান অফিসের পোশাক পরা তো দূর, সে অফিসে যাওয়ার কথা পুরোপুরি ভুলে গেছে। সকালবেলা বিছানার সামনে কার্পেটে বসে সে খালি গায়ে বুক ডন (ডিপস) দিচ্ছে। আর বিছানার মাঝখানে শুয়ে আছে তার এক মাসের পুঁচকে আল্লাদি মেয়ে আইরা। এই এক মাসেই আইরা তার বাবাকে বেশ চিনে গেছে, সে তার বাবার চোখের মণি। পাশে আনায়া শান্তশিষ্ট হয়ে ঘুমিয়ে আছে; সে খুব একটা কাঁদে না, একদম শান্ত একটা মেয়ে। কিন্তু এই আইরাটা হয়েছে একদম তার বাবার মতো জেদি, সারাক্ষণ আয়াতকে জ্বালিয়ে মারে, অথচ বাবার সামনে এলেই শান্ত।

​আইরা তার বাবার এই ওঠানামা করা শরীর দেখে কৌতূহলী চোখে তাকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। সে যেন বোঝার চেষ্টা করছে তার বাবা এই সাতসকালে কী কসরত করছে! আরভান ডন দিতে দিতেই মেয়ের এই অনুকরণ করার চেষ্টা দেখে খিলখিল করে হেসে উঠল।
​তারপর ডন দেওয়া বন্ধ করে সে হুট করে আইরাকে এক ঝটকায় নিজের বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল। মেয়ের তুলতুলে গালে নিজের হালকা দাড়িওয়ালা গালটা একটু ছোঁয়াতেই আইরা খিলখিল করে হেসে দিল। মেয়ের সেই নিষ্পাপ হাসিতে আরভানও তার নরম গালে চুমুর বন্যা বইয়ে দিল এবং আধো আধো স্বরে মেয়ের সাথে কথা বলতে মজে গেল।
​আরভান গম্ভীর অথচ পরম আদিখ্যেতা মাখানো স্বরে বলল, “এই যে আমার আম্মা? বাবার এক্সারসাইজ করা দেখছেন? বড় হয়ে তোমাকেও কিন্তু বাবার মতো স্ট্রং হতে হবে, বুঝলে?”

​আয়াতের পায়ের আওয়াজ পেয়েও আরভান সেদিকে পাত্তা দিল না, সে মেয়ের বুড়ো আঙুলটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আদর করতে ব্যস্ত রইল।
​আয়াত দরজায় দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে নিজের মাথায় হাত দিল। ঘরের এই হুলস্থুল কাণ্ড আর আরভানের বাচ্চাদের মতো পাগলামি দেখে সে ক্ষণেকের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। এই রাগী, গম্ভীর আর নিষ্ঠুর পুরুষটা যে নিজের বাচ্চার সামনে এসে এমন এক আস্ত পাগল আর বাচ্চা মানুষ হয়ে যাবে, তা কি কেউ কোনোদিন ভাবতেও পেরেছিল? মোটেও না!

​আয়াত আর নিজের রাগ চেপে রাখতে পারল না। সে কোমরে হাত দিয়ে, দরজায় দাঁড়িয়ে সজোরে চিৎকার দিয়ে উঠল, “আরভান…!!!”…

চলবে….