আড়ালে ভালোবাসা পর্ব-০৩

0
5836

#আড়ালে_ভালোবাসা
#Mst_Liza
#পার্ট_০৩

আমার বড় হয়ে ওঠা মধ্যবিত্ত পরিবারে।ছোটবেলা থেকে যখন যা চাইতাম বাবা আমাকে সব দিতো।কখনো কোনো কিছুর জন্য না বলতো না।বাবা কি করতো জানতাম না।তবে মাঝে মাঝে মায়ের সাথে বন্ধ দরজার আড়ালে অনেক চিৎকার চেচামেচি করতো।মাকে মারতো আর বলতো ডিভোর্স দিয়ে দিবে।আমি ভাবতাম আমাকে বাবা খুব ভালোবাসে। তাই চাওয়ার সাথে সবকিছু আমি পেয়ে যাই।যখন বাবা মার ডিভোর্স হলো আমি বাবা আর মায়ের মধ্যে তখন বাবাকে বেছে নিলাম। বেশ কিছুদিন ভালো চলছিলো সবকিছু। মা মাঝে মাঝে বাড়ির গেইটের সামনে এসে দাড়িয়ে থাকতো। আমাকে একবার দেখবে বলে।বাবার বাড়ণ থাকায় আমি যেতাম না।হঠাৎ একদিন বাবা এক ধনী ঘরের মেয়েকে বিয়ে করে আনলো।ছোট ছিলাম তো বেশি কিছু বুঝতাম না। তবে এতটুকু বুঝতাম আমার নতুন মা খুব ভালো ছিলো।কিন্তু বাবাকে পছন্দ করতো না।আবার বলতো বাবাকে ডিভোর্স দিতে, মুক্তি দিতে।বাবা তখন নতুন মাকে কিছু একটার জন্য হুমকি দিতো।যতোটা ঝগড়া বাবা আর নতুন মায়ের মধ্যে হতো তার থেকে বেশি ভালোবাসা অন্যদের সামনে দেখানোর চেস্টা করতো।নতুন মায়ের একটা ভাই ছিলো।আঙ্কেলটার চেহারা এখন ভালো ভাবে মনে নেই তবে সে বাবাকে অনেক টাকা দিতো।বাবা যখন যা চাইতো সব দিতো আর বলতো নিজের বোনের সুখের জন্য দেয়।অন্য কেউ হলে দিতো না।হঠাৎ একদিন মাঝ রাতে বাবার চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় আমার।আমি উঠে এসে দেখি বাবার রুমে ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে আমার নতুন মা।আর বাবা নিজের ব্যাগ পত্র গোছাচ্ছে।কোথায় যাচ্ছে জানি না।শুধু ঘাম ছুটছে বাবার মুখ থেকে। আমাকে রেখে বাবা নিজের প্রয়োজনীয় সব জিনিস পত্র গুছিয়ে নিয়ে ওই রাতেই চলে গেলো।আমার খুব ভয় লাগছিলো বাড়িতে একা থাকতে।আমি বালিশের উপরে একটা চিঠি দেখতে পেলাম। চিঠিটা উঠিয়ে পড়ার চেস্টা করলাম কিন্তু বানান করতে খুব কস্ট হচ্ছিলো বলে আর পড়ি নি।শুধু নিচে লেখা নামটা পড়েছি “অর্নিতা”।যা আমার নতুন মায়ের নাম।

আমি ভয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসে পাশের বাসার আন্টিকে অনেক জোড়ে ডাকি।আন্টি ঘুম থেকে উঠে বাইরে আসলে সবটা বলি।আন্টি আমাকে নিয়ে বাড়িতে এসে নতুন মায়ের লাশ দেখে পুলিশকে ফোন করে।আমার মাকেও ফোন করে সকালে আসতে বলে।সকালে মা এসে আমাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।যদিও তারপরে আর কখনো বাবার খোঁজ পাই নি।কিন্তু এখন বুঝি বাবা এমন কিছু করেছিলো যার জন্য নতুন মা আত্মহত্যা করেছে।প্রীয়মের পরিবারের সাথেও হয়তো কিছু একটা করেছে।যার শোধ প্রীয়ম আমার থেকে হয়তো নিতে চাই।

_________________

পাশ থেকে আমার হাতের উপর কারও হাত পরলো। আমি কেঁপে উঠে খেয়াল করলাম প্রীয়ম বিড়বিড় করে আমার নাম উচ্চারণ করছে।বলছে অন..অনু।হাতের স্পর্শ পেয়ে বুঝলাম শরীরটা খুব গরম।দুই ঘন্টা পর পর এই ওষুধের শিশি থেকে একটা করে টেবলেট খাওয়াতে বলেছে।কি করবো ভাবছি।তখন যেটা শুনলাম। এই ওষুধ যদি প্রীয়মের ক্ষতি করে? মানছি প্রীয়মকে আমার একটুও পছন্দ না।তাই বলে জেনে শুনে এটা কিভাবে খাওয়াবো?

অনেক কিছু ভেবে না পেরে আমি ওর রুম থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইলাম। কিন্তু দরজা বাইরে থেকে বন্ধ থাকায় সেটা আর হলো না।প্রীয়মের পাশে এসে বসেছি।আর ভাবছি কতোটা খারাপ এর চরিত্র। অফিসে কত মেয়ের সাথে ফস্টি নস্টি করেছে।শুধু কি আমাকে দেখানোর জন্য? নাকি ওর চরিত্র সত্যি খারাপ? আমার বিয়ে এর সাথে হয়েছে? কিন্তু আমি যে ওই ছদ্মবেশী প্রীয়মকে ভালোবেসেছি।

পাশ থেকে দরজাটা খোলার শব্দ হলো।সামনে তাকিয়ে দেখতে পেলাম উনি দাড়িয়ে আছে।রুমের ভেতরে এসে উনি জানতে চাইলো আমি ওষুধ খাইয়েছি কিনা।আমি মাথা কাত করে হ্যাঁ অর্থ বুঝালে পুনরায় চলে গেলেন উনি।আমার এখন ভাবতেও কস্ট হচ্ছে একটা মানুষ এতটা নিখুঁতভাবে অভিনয় কিভাবে করতে পারে?

প্রীয়মের জ্বর হয়তো অনেকটা বেড়েছে মনে হচ্ছে। মুখ থেকে ফেনা বের হচ্ছে। আর অধীক শীতে কাঁপা কাঁপি করছে।আমি উনাকে আর ডাকলাম না।যে প্রীয়মকে মারতে চাই সে ভালো চিকিৎসা করাবে না এটুকু আমার জানা আছে।উনার আনা ডাক্তারও উনার কথা মতো চিকিৎসা করবে।তাই আমি আমার একজন ফ্রেন্ডকে কল দিলাম। ডাক্তারি পেশায় তার অনেক নাম।আমি তার কাছে জানতে চাইলাম ঘরোয়া কোনো পদ্ধতি আছে জ্বর কমানোর? ওষুধ চিকিৎসা কিছু দেওয়ার রাস্তা নেই।এমন সময় কি করলে জ্বর কমবে? আমার ফ্রেন্ড আমাকে বুঝিয়ে বললো কি করতে হবে।কিন্তু এটার জন্য ওকে স্পর্শ করতে হবে আমার।তবুও মানবতার খাতিরে এইটুকু সেবা তো করাই যায়।

চলবে,,,,,,,