এক টুকরো মেঘ পর্ব-০৪

0
866

#এক_টুকরো_মেঘ ☁️
#ইফা_আমহ্নদ
পর্ব::০৪

আমার দুগালে হাত বুলিয়ে ,, ঠোঁট দুটো ছুয়ে দিয়ে পেছন থেকে হাত দুটি এনে তাতেও চুমু খেলো আমার গালে ।। চোখ বন্ধ করে আছি আমি।। চোখ বন্ধ করে ভাইয়া ছোঁয়া গুলো উপলব্ধি করার চেষ্টা করছি।।

— আই এম সরি রে পুচকি।। আমার জানা তোকে এতোকষ্ট পেতে হলো।। বিশ্বাস কর আমি বুঝতে পারি নি তোর এতোটা ব্যাথা লাগবে ।। তাহলে কখনো এমন করতাম না।। সত্যি বলছি আর কখন এমন করবো না।। ( করুন সুরে অরিশ)

আমি চোখ দুটো খুলে ভাইয়ার হাত দুটো কোনোমতে ধরে একটা মুচকি হাসি দিলাম।। কিন্তু মনে এখনো সেই রাগটা রয়েই গেল।। আমি চোখ দুটো অন্যদিকে ফিরিয়ে নিয়ে ভাইয়ার হাত থেকে নিজের হাত দুটি ছাড়িয়ে নিলাম।। কেন করলাম ভাইয়া প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরক্ষনে কিছুটা অনুমান করতে পারলো ।।

— আমি মোটামুটি বুঝতে না পারলেও কিছুটা বুঝতে পেরেছি ,, এবার যা ফ্রেশ হয়ে আয় খাবারটা খাইয়ে দিচ্ছি ।। ( আমাকে অরিশের দিকে ঘুরিয়ে)

— আমি খাবো না।। খাবো না মানে খাবো না।। তোমার জিএফ আছে না তাকে খাইয়ে দাও !!( অভিমানী সুরে আমি)

— তাহলে আমি ঠিকই বুঝেছিলাম ।। মহারানী কালকের ব্যাপারটা নিয়ে রেগে আছে ।। ওয়েট ।।

বলে পেছন আমাকে জড়িয়ে ধরে ,, কাঁধে থুতনিটা রেখে পকেট থেকে ফোনটা বের করে কাকে যানো একটা ফোন করে বলতে লাগলো….

— অভিক কালকে রাতে যে আমি তোকে ফাইলটা প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে দিতে বলেছিলাম দিয়েছিস !!

তারপর ফোনটা আমার কানের কাছে নিয়ে এলো ।। ওপাশ থেকে উওর এটাই এলো,,,”” এখনো দেইনি প্রিন্সিপাল স্যার এখনো আসেনি””!!
এতোক্ষণে আমার মুখে হাসি ।। আমার আর বুঝতে বাকি রইল না।। আসলে ভাইয়া কাল রাতে কার সাথে কথা বলেছিলো।। তারপর ভাইয়া আমাকে বেডে বসিয়ে দিয়ে,, আমার পাশে বসে বললো…

— একটু আগে বলেছিলি না ।। তোরা আজকে কেনাকাটা করতে যাবি ।। চল আমি তোদের সাথে যাবো ।। ইভেন্ট তোদের ফুচকাও খাওয়াবো!!( হাসি দিয়ে অরিশ)

আমি তো পারলে লুঙ্গি ডান্স দেই।। পরক্ষনেই অরিশ ভাইয়া আমাকে ছেড়ে দিয়ে বেলকেনিতে গিয়ে আরশিকে তৈরি হয়ে আমাদের বাড়িতে আসতে বললো।।

তারপর ভাইয়া আমাকে বেসিনের সামনে দাঁড় করিয়ে পেশ দিয়ে নিজেই দাঁত ব্রাশ করিয়ে দিলো ।। আমার মুখ মুছিয়ে দিয়ে হালকা একটু লিপস্টিক দিয়ে সাজিয়ে দিলো।। চুলগুলো ভালোভাবে ব্রাশ করে বেনী করে বেঁধে দিয়ে ।। ড্রয়ার থেকে ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে আস্তে আস্তে ড্রেসিং করিয়ে দিলো।। অন্যগালে মলম লাগিয়ে দিলো।। তারপর খাইয়ে দিতে লাগলো ।।পুরোটা সময় আমি এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।। সবার শেষে বেডটাকে গুছিয়ে নিয়ে আমার কাছে এসে ,, আমার পাশে একটা চুড়িদার রেখে দিয়ে ,, সেটাকে আরশির হেল্প নিয়ে পড়ে নিতে বললো।। আমি একটু এগিয়ে গিয়ে ভাইয়া কাঁধে আমার মাথাটা রেখে ,,, চোখ জোড়া বন্ধ করে ,, ভাইয়ার একহাত জরিয়ে ধরলাম।।

— আচ্ছা ভাইয়া ,, তোমার সাথে থাকতে আমার এতো ভালো লাগে কেন ?? সারাক্ষণ ইচ্ছে করে তোমার বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে রাখতে !!

— ও আচ্ছা ,, তাই বুঝি!!( কৌতূহল নিয়ে অরিশ)

— হে ,, একদম ।।

ভাইয়া আস্তে করে আমার মাথাটা তার কাধ থেকে নামিয়ে ,, তার বুকের মাঝে মাথাটা রেখে জরিয়ে ধরলো।। আমিও জরিয়ে ধরার চেষ্টা করলাম ,, কিন্তু ঠিক ভাবে পারলাম না।।

— ঋনি আমি চলে এসেছি ,, তুই কি রে ……..!!! ( রুমে ঢুকতে ঢুকতে আরশি !!!

আর কিছু বলার আগেই চোখ দুটো বন্ধ করে নিচে পেছন ঘুরে বললো…

— আমি কিছু দেখি নি ।। সত্যি বলছি ।। একদম সত্যি..?!!! এখানে এমন কিছু আছে জানলে পড়ে আসতাম।।

আরশি করা শুনে আমরা দুজন দুজনার কাছ থেকে ছিটকে দূরে এলাম।।আরশি এখনো চোখ জোড়া বন্ধ করে রেখেছে।। আমি তো মাথা নিচু করে আছি ।। প্রচন্ড লজ্জা করছে ।। কিন্তু অরিশ ভাইয়া আরশির সামনে গিয়ে ,, ওর কার ধরে বললো….

— বেশি পেকে গেছিস না তুই।। দাড়া আজকে তোর অবস্থা কি করি।।

রাশি দৌড়ে এসে আমার পিছনে লুকিয়ে পড়লো।। শুধু হয়ে দু ভাই বোনের ফাজলামো।। একটু আগে অরিশ ভাইয়া ঘর গোছালো আর এখন যেই লাউ সেই কদু হয়ে গেল।।

আমি মন খারাপ করে বসে আছি ।। গতকাল রাতে প্রিন্সিপাল স্যার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে ।।তাই কালকে ফেয়ারওয়েল নাকি হবে না তাই চেন্জ করে পরশু দিয়েছে।। একটু আগে সেটা ফোন করে তাসফি জানিয়েছে ।। ভেবেছিলাম ,, আজকে শপিং এ গেলে ভাইয়াকে দিয়ে পছন্দ করিয়ে ,,একটা শাড়ি কিনে সেটাই কালকে পড়বো।। কিন্তু তা আর হলো কই সব আশায় ড্রেনের পানি ঢেলে দিলো ।। আমার মন কালো করে বসে থাকাটা ভাইয়ার হয়তো একদমই ভালো লাগছে না।। তাই ভাইয়া আজকে আমাদের নতুন ভার্সিটি মানে ,, ভাইয়া যেই ভার্সিটিতে পড়ে সেখানে নিয়ে যাবে ।।‌প্রথমে আমি সোজা সাপ্টা বারন করে দিয়েছিলাম।। যদি আজকে ভাইয়া সাথে যাই,,তাহলে কালকে শপিং এ যেতে পারবো না।। কিন্তু ভাইয়া যখন ভাইয়া বলবো কালকেও নিয়ে যাবে আর আমার শাড়িটা ভাইয়াই চুজ করে দিবে তখন রাজি হয়ে গেলাম।।

রেডি হয়ে ভাইয়ার ভার্সিটির উদ্দেশ্য বেরিয়ে গেলাম।। ভাইয়া সবসময় বাইকে করেই ভার্সিটিতে যায় কিন্তু আজকে আর বাইকে গেল না।। আজকে জিপে করে যেতে হলো ।। আমি আর ভাইয়া সামনে আর আরশি একা পেছনে।। আমার সবসময়ই সামনে বসতে হেব্বি ভালো লাগে।। তাই আজও সামনেই বসেছি।।
প্রায় ২০ মিনিট পর আমার এসে পৌঁছালাম ভার্সিটিতে মেইন গেটের কাছে ।। নিজের ভেতর অসম্ভব আনন্দ হচ্ছে‌। ভাবতেই অবাক লাগছে আর মাএ কিছুদিন পর আমি এই ভার্সিটির একজন ছাএী হয়ে যাবো।।

ভার্সিটির ভেতরে ঢুকতেই ভাইয়া তার ফ্রেন্ডদের কাছে আমাদের নিয়ে গেল।।। ভাইয়া ছাড়া আজ পর্যন্ত কোনো ছেলের সাথে কথা তো থাক অন্যেরদিকে ফিরেও তাকাই নি।। ছোটবেলা থেকেই আমি গার্লস স্কুল আর গার্লস কলেজ এ পড়েছি ।। আমি মাথা নিচু করে ভাইয়ার হাত ধরে দাড়িয়ে আছি!!

— দোস্ত ,, পরিচয় করিয়ে দেই ।। ও হচ্ছে আর বোন আরশি আর এই হচ্ছে আমার ।। না মানে এই মিন ঋনি।আর ওরা হচ্ছে আমার জানের দোস্ত।।( অরিশ)

( অরিশ ,, আহাদ,, মেঘ ,, তৃষা ,, তনিম ৫ ফ্রেন্ড।। ছোটবেলা থেকেই সবকিছু একসাথে )

— হাই ভাবী ।। কেমন আছেন??( হাত বাড়িয়ে তনিম)

আমি ভাইয়ার দিকে একবার তাকাচ্ছি তো আরেকবার ছেলেটির হাতের দিকে তাকাচ্ছি।।আমি ভাইয়ার হাত টেনে নিয়ে ছেলেটির সাথে হেন্ডশ্যাপ করলাম ।। সবাই যেন কেমন ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।।এর মাঝে ভাইয়া বলে উঠলো …

— আসলে আমি ছাড়া ওদের জীবনে বাবা ছাড়া আর কোনো ছেলে নেই ।।আর গার্লস স্কুল+ গার্লস কলেজে পড়েছে।। তাই অসস্থি বোধ করছে ।। এরজন্যই তো নিয়ে এসেছি।। এখন থেকে এই ভার্সিটিতে আমার সাথে মাঝে মাঝে আসবে।। আফটার অল ,, এই ভার্সিটিতেই ওদের এডমিট করবো।।( আমার গাল ছুঁয়ে দিয়ে অরিশ)

— সেটা না হয় পড়ে এডমিট করিস ।। আগে যা প্রিন্সিপাল স্যার তোকে ডেকেছে।। যা গিয়ে দেখা করে আয় ।। ( মেঘ)

— আচ্ছা ,, আমি আসছি তোরা ওকে একটু দেখিস।।

— তুই যা ,, আমরা তোর বোনের ফেলে দিবো না।। ( দাঁত কেলিয়ে তৃষা)

অরিশ ভাইয়া গেছে তা অনেকক্ষন হয়েছে।। আমি আর আরশি অরিশ ভাইয়া ফ্রেন্ডদের সাথে ক্যান্টিনে বসে কথা বলছি ।। তার ফ্রেন্ডরা সবাই খুব ভালো ।। কিন্তু তৃষা যানো একটু কেমন ।। আমাদের সাথে তেমন একটা কথা বলে না।। তবে সবচেয়ে গায়ে পড়া টাইপের হচ্ছে তমিন।।

বর্তমানে আমি ,,আরশি,, অরিশ ভাইয়া,, আর তার ফ্রেন্ডরা একসাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছি ।। সবাই আমার কথা রাখতে ফুচকা খাচ্ছে।। আর অরিশ ভাইয়া আমাকে ফুচকা খাইয়ে দাচ্ছি।। জ্বাল দিয়ে ফুচকা খেতে আমার খুব ভালো লাগে কিন্তু অরিশ ভাইয়ার জন্য বর্তমানে তা খেতে পারছি না।। এটা খেতে পারছি তাই অনেক ।।

২ প্লেট ফুচকা খেয়ে ২ প্লেট ফুচকা বাড়ির জন্য প্যাক করে নিয়েছি।। মামনি আর মাম্মাম দুজনেই ফুচকা খেতে খুব পছন্দ করে ,, তাই তাদের জন্য এনেছি।।। ভাইয়া আর তার ফ্রেন্ডরা আমাদের পুরো ভার্সিটি ঘুরে ঘুরে দেখিয়েছে।। সত্যি ভার্সিটিটা অনেক সুন্দর ।। ভার্সিটি পুরো ঘুরে বাড়ি ফিরে এসেছি।।

🍁 🍁 🍁

বেডে শুয়ে শুয়ে আজকের দিনটার কথা ভাবছি ।। দিনটা কতো সুন্দর দিলো।। প্রতিটি দিন যদি এমন হতো তাহলে কতো ভালো হতো তাই না।। আমি একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে টেবিলে গিয়ে পড়তে বসলাম।। আর তো মাএ ৬ দিন বাকি ।। তারপরই এইচএসসি এক্সাম শুরু হয়ে যাবে।। পড়া নিয়ে তেমন কোনো চাপ নেই আমার ।।কারন সব বই আগেই কম্পিলিট করেছি ।। এখন শুধু রিভিশন দিতে হবে!!!!

চলবে…💞💞

(ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,, ধন্যবাদ)