#কতোবার_বোঝাবো_বল
#ইফা_আমহ্নদ
পর্ব::১৬
— কি যে বলো না তুমি বেইবি,,, কেউ কি বউয়ের এতো আদর ,, ভালোবাসা,, যত্ন রেখে একা থাকতে পারে পারে ।। তার উপরে শ্বশুর- শ্বশুরির এতো আদর আপ্যায়ন রেখে নিজের বাড়িতে থাকতে পারে । তাই তো গেলাম না।। (আমার কানের কাছে মুখ এনে বিরবির করে আবির)
ইচ্ছে তো করছে ওর চুলগুলো টেনে ছিঁড়ে দেই ।। কিন্তু এখন তা পাড়ছি না।। আমি খাওয়ার মন দিলাম।। দুটো পরটা তাড়াতাড়ি শেষ করে ভাইয়াকে ডাক দিলাম।। কিন্তু ভাইয়া এলো না,,,তার নাকি অফিসে ইমপ্রটেন্ট কাজ আছে ।। তাই সে অফিসে চলে গেছে।। আর আবির নাকি এখান থেকে সোজা ভার্সিটিতে যাবে তাই আবিরকে আমাকে সাথে করে নিয়ে যেতে বলেছে।।
নাহলে আবির আরো আগেই চলে যেতো ।। শুধু আমাকে নিয়ে যেতেই বলে নি,, এক্সাম শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আমার সাথে থাকতে বলেছে আর এক্সাম শুরু হলে একবারে ক্লাসে পৌঁছে দিয়ে যেতে বলেছে।। ধ্যাত ভালো লাগে না।।
গাড়িতে আমি শুধু বইয়ের পাতায় মুখ গুজে পড়েছি।। আবিরের সাথে তেমন কোন কথা হয়নি।। হয়তো আবির ইচ্ছে করেই কথা বলে নি।।ওর কথা বলা আমার পড়ায় ডিস্টার্ব হতে পারে তাই ।। সবশেষে পৌঁছে গেলাম ভার্সিটিতে।। তবুও মুক্তি নেই আমার।। অনেক বার বলেছি ,,,এখান থেকে যেতে কিন্তু কিছুতেই যাবে না।। তার একটাই কথা হিয়ান ভাই আমাকে তোমার পাশে থাকতে বলেছে,,,তোমার এক্সাম শুরুর আগ পর্যন্ত।।
কি আর করার সে বসে আছে আর আমি পড়ছি।।। সবকিছুই বিরক্তিকর লাগছে।। আমি একবার রিভার্স দিচ্ছি ,,আর বারবার আড়চোখে আবিরের দিকে তাকিয়ে তাকে দেখছি।। সে পলকহীন ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আবিরকে দেখা সত্যি ই সময় টা ভালো ছিলো।। কিন্তু ভালো কিছুই বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না।। তাই সময়টাও চলে গেল।। আমার প্রিপারেশন ভালো ছিলো কি রিভার্স টা ভালো ছিলো না,, তাই খুব টেনশন হচ্ছে।। আমি আবিরের একহাত ধরে ওর চোখে চোখ রেখে করুন সুরে বললাম….
— আমার না খুব ভয় করছে ,,,আমি এক্সাম ভালো হবে।যদি আমি সব দিতে না পারি,, তখন কি হবে!!
— কেন তুমি দিতে পারবে না,, অবশ্যই পারবে ।। নিজের উপর বিশ্বাস রাখো।। আর হে যখন মনে হবে ,,তুমি পারো বাট তোমার মনে পড়ছে না কিংবা ভুলে গেছো ,,তখন চোখ বন্ধ করে ঠান্ডা মাথায় ভাবার চেষ্টা করবে ।। তাহলেই মনে পড়বে।। ( আরেক হাত দিয়ে আমার হাতটা শক্ত করে ধরে)
সত্যি এখন একটু ভয় কম লাগছে ,,,তাই হাঁটা দিলাম হল রুমের দিকে।। আমি বেঞ্জ এ বসে ওকে ইশারায় বাই বলার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ও আমার সাথেই ছিলো।।
আমিও মন দিয়ে এক্সাম দেওয়া চেষ্টা করলাম।। প্রথমে একটু ভয় করলেও পরে করে নি।। মাঝে মাঝে একটু ভুলে গিয়েছিলাম,,, কিন্তু আবিরের কথাগুলো অনুসরণ করে ঠিক মনে পরে গিয়েছে।।
🍂🍂🍂
বাড়িতে ফিরে শাওয়াল নিয়ে লান্ধ করে নিলাম।। কালকে অনেক রাত জেগে পড়ার কারনে ঘুমে চোখ দুটো খোলা রাখতে পারলাম না।। তাই বেডে নিজের শরীরে হেলিয়ে দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে রাজ্য তলিয়ে গেলাম।।।।।।
ঘুম ভাঙতে ভাঙতে সন্ধ্যা ছাড়িয়ে ৭ টা বেজে গেছে।। টানা ৫ ঘন্টা ঘুমিয়েছি।। চেহারাটা একটু ফোলা ফোলা লাগছে।। এক কাপ কফি নিয়ে বেলকেনিতে এসে দোলনাটায় বসি ।। রাতের আকাশ দেখছি আর কাপে চুমুক দিচ্ছি ।। তবুও কিছু ভালো লাগছে না।। তাই ফোনটা নিলাম ।। অন করতেই ৩৩ টা মিসড কল দেখতে পেলাম।। চেক করে দেখলাম আমার ফ্রেন্ডরা দিয়েছে ।। ঘুমানোর আগে ফোনটা সাইলেন্ট মোডে রেখেছিলাম ।। আমিও একটা কল ব্যাক করার জন্য ডায়াল করবো তার আগেই ওপাশ থেকে একটা ফোন আসলো ,, তাকিয়ে দেখি তাসফি।। আমিও রিসিভ করে নিলাম।।
— কোথায় তুই,,, কতোবার ফোন করছি জানিস।। রিসিভ করলি না কেন??( চেঁচিয়ে তাসফি)
— একটু ঘুমিয়ে ছিলাম তাই ।। কেন ফোন করেছিস সেটা বল??(আমি)
— আমরা সবাই ক্লাভে আছি ,,, তুই ও চলে আয় ।। এক্সাম শুরু হওয়ার আগের দিন এসেছিলাম,, ৪ দিন হয়ে গেল ,,,তাই এসেছি ।। তুই ও আয় ।।
— নারে ,,আমি যাবো না।। ভালো লাগছে না।।
— একবার আয় ,,কালকে তো এক্সাম নেই।। এলে মনটা ভালো হয়ে যাবে দেখিস ।। তাড়াতাড়ি আয় ।।
— আসছি ।। বাই
বলেই ফোনটা রেখে দিলাম।। হয়তো ওতো মানুষের ভিড়ে সত্যি ই মনটা হয়ে যাবে ।। এখন আর মিষ্টি প্রেমিকের ও কোনো খবর নেই।। আমার এক্সামের শেষ হওয়ার আগে সে আমার সাথে একদম কথা বলবে না।।
আর কিছু না ভেবে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বেরিয়ে এলাম।। ড্রয়িং রুমে আসি এটা বসে আছে ।। সে আমাকে কিছুতেই যেতে দেবে না।। কিন্তু কে শোনে কার কথা।। আমি তো যাবোই ।। তাই আপিকে অনেক কষ্ট করে মেনেয করে স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে গেলাম।।
ক্লাবে এসে অনেক মজা হলো ।। অনেক দিন পর এসেছি তো তাই ।। সত্যি ই মনটা ভালো হয়ে গেছে।। দেখতে দেখতে রাত ১ টা বেজে গেছে।। এখন যদি বাড়িতে না ফিরি তাহলে কি হবে কে যানে তাই বাড়িতে ফিরে এলাম।।
কিছুদূর আসতেই স্কুটিটা থেকে গেল।। কিছুতেই চলছে না।। নেমে চেক করে দেখতে পেলাম কোনো সমস্যা নেই তাহলে কি হলো ।। নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি টায়ার পাংচার।। এই মাঝ রাত ,,মাঝ রাস্তায় এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।। জোরে একটা লাথি দিলাম টায়ারে ।। কোনো উপায় না পেয়ে স্কুটিটা এক হাত দিয়ে ধরে আরেক হাতে চাবিটা আঙ্গুলের ফাকে দিয়ে ঘোরাচ্ছি ,, আর শিশ বাজাতে বাজাতে হাঁটছি ।। চাঁদের আলোর সাথে যোগ হয়েছে ল্যাম্পপোস্টের আলো।। অনেক ভালো লাগছে ।। আমি মাঝে মাঝে ই এমন হাঁটি রাতের বেলায়।।
কিছুদূর হাঁটতেই কিছু ছেলেদের দেখতে পেলাম।। কিছু আমার কোনো ভয় করছে না।। কারন ,, ছেলেগুলো ছেলেদের মধ্যে নিজেরা নিজেরা কথা বলছে।। তাছাড়া এই এলাকায় সবাই আমাকে কম বেশি চিনে।।এর মধ্যে হঠাৎ একটা ছেলে বলে উঠলো….
— দোস্ত দেখ তো,, মেয়েটাকে ।। চাঁদের আলোয় মেয়েটাকে কতো মায়াবী লাগছে।। চুলগুলো বাতাসে উড়ছে ।। পুরো ফেইসটা দেখা যাচ্ছে না।।দেখ কিভাবে হাতে চাবিটাকে ঘোরাচ্ছে ,,কি সুন্দর শিশ বাজাচ্ছে ।।আমি তো জাস্ট পাগল হয়ে যাবো এর জাবো।।এই সাথে একটু আমার প্রেম টা করিয়ে দে না।।
— দেখ এখন ,,বিরক্ত করিস না।। দেখছিস তো একটার জিএফ এর চিন্তায় কেমন পাগলামি করছে ।। তোরে সেটিং করিয়ে দেই ।। তারপর দুইজনে একসাথে পাগলামি করবি আর বাকিদের পাগল বানাবি !!( আরেকজন)
— দিবি না তাই তো লাগবে না ।। আমি নিজেই পারবো ।বলেই একটা ছেলে আমার সামনে এসে বলল…
“” চাঁদের মতো সিন্ধ তুমি,, পাখির মতো আওয়াজ,,
যে দেখবে সে বলবে ,,, ভালোবাসতে চাই তোমাকে আজ””
ছেলেটির কথা শুনে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বললাম…
— শুধু আজকেই ভালোবাসতে চান ,,,আর কোনো দিন না ।।
ছেলেটি আমার কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।। আমি পেছনের ছেলেদের উদ্দেশ্য করে বললাম…
— বলছিলাম কি ভাইয়ারা ।। একে একটু বাংলাদেশের মিউজিয়ামে সংরক্ষিত করে আসবেন ।। এতো ভালো কবিতা বলে ।। একে দিয়ে দেশের আর কোনো উপকার হোক বা না হোক কি ডলার তো ইনকাম হবে।।
— আরে মধুর মা যে ।। তুমি এখানে আর আবির তোমাকে এই এলাকা খুঁজে ফেলেছে ।। নিজেও বাড়িতে যাচ্ছে না,,আর আমাদের ও যেতে দিচ্ছে না।।(আয়ান)
এতোক্ষণে খেয়াল করলাম।। এখানে আবির আর তার ফ্রেন্ডদের দাঁড়িয়ে আছে।।এখানে তনু নেই।।আর আমার সামনে যে ছেলেটি এতোক্ষণ কবিতা বললো সে আর কেউ না মেঘ।।
আগের কথাটি আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না,,তাই বললাম….
— আমাকে খুঁজছেন মানে …?? আর আমার সাথে আপনাদের বাড়িতে যাওয়ার কি সম্পর্কে।।
— সেটা তোমাকে ভাবতে হবে না ,,, কোথায় গিয়েছিলে তুমি!!( আবির আমার কাছে এসে আমার দুই বাহু ধরে ঝাক্কিয়ে)
— ককককক্লাবে!!( তুতলিয়ে আমি)
— আমাদের সামনে যে এতো পড়া পড়া দেখাও ,, সেগুলো সব ডং,,তাই না।।(চেঁচিয়ে বললো আবির)
— আসলে আমার বাড়িতে ভালো লাগছিলো না,, তার উপর মনটা ভালো নেই তাই ।।(নিচের দিকে তাকিয়ে আমি)
আমাকেও বাইকে উঠতে বলে নিজে বাইকে উঠে পড়লেন।। কিন্তু আমি স্কুটিটা রেখে কিভাবে যাবো ।।
— আমার স্কুটি টা রেখে কিভাবে যাবো ।।
— দাও আমার মাথা উঠিয়ে দাও আমি নিয়ে যাই ।।।আজব ।। (আয়ানকে উদ্দেশ্য করে আবির) স্কুটিটা নিয়ে যা ।। এবার বস।।
তারপর আবির বাইক চালাতে শুরু করলো।। কিছুক্ষণ পর বাইক এসে থামলো আমার বাড়ির সামনে তাই নেমে তাড়াতাড়ি পাঁচিল টপকে উঠার চেষ্টা করছি।।।
এর মধ্যে আবির বলে উঠলো….
চলবে ….💞💞
#কতোবার_বোঝাবো_বল 🌿
#ইফা_আমহ্নদ
পর্ব::১৭
— এই মেয়ে কি করছো টা কি ?নামো ওখান থেকে ,,
যদি ওখান থেকে পড়ে যাও তাহলে নির্ঘাত হাত-পা ভাঙবে ।।কেউ দেখলে ভাববে চুরি করতে এই বাড়িতে ঢুকেছো ।। (আবির)
— যদি কেউ চোর ভাবে ভাবুক কিন্তু কিছু করার নেই।। মাম্মাম যদি একবার জানতে পারি যে বাড়ির বাহিরে ছিলাম এতো রাত অবধি ।। তাহলে আর আজ কারো ঘুম হবে না।। পুরো বাড়ি মাথায় তুলবে !!(আমি)
— তাহলে ,,, রুমে ঢুকবে কিভাবে।। তোমার রুম তো মেভি দোতলায়।। ( কৌতূহল নিয়ে আবির)
— এখান থেকে পাঁচিল টপকে বাড়ির ভেতরে ঢুকে,,সেখান থেকে সুপারি গাছ বেয়ে উঠে বেলকেনি দিয়ে রুমে।। বেলকেনির দরজাটা খুলেই রেখেছি।।আর পারবো না,, অভ্যাস আছে।।(আমি)
ও আচ্ছা,, বলেই আবির আমাকে তার দিকে ঘুরিয়ে কপালে তার ঠোঁট দুটো ছুয়িয়ে দিলো।। তারপর আমার গালে হাত দিয়ে একটা শীতল স্মাইল দিয়ে বাই,,গুড নাইট বলে আমার কোমর জড়িয়ে একটু উঁচু করে তুললো।। আমিও হাত বাড়িয়ে পাঁচিল টা ধরে তার উপর দাঁড়িয়ে হাতের ইশারায় চলে যেতে বলে সোজা নেমে সুপারি গাছ বেয়ে উঠে বেলকেনি দিয়ে নিজের রুমে চলে গেলাম।।।
অনেক রাত হওয়া কারণে ফ্রেশ হয়ে একটা শর্ট থ্রি কোয়ার্টার জিন্স আর টি শার্ট পড়ে,, না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম।
🌄. 🌄. 🌄
সূর্যের আলো চোখে পড়তেই ঘুমটা উধাও হয়ে গেছে।। পুরো রুমে রোদে ছড়াছড়ি।। বাহিরে তাকিয়ে দেখলাম ,, সূর্য মাথার উপর উঠে গেছে।। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ১১.৪৭!!পেটের ভেতরে যেন ইঁদুর গুলো নাচছে।। আমি তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে ব্রেক ফাস্ট শেষ করে নিলাম।।
ব্রেক ফাস্ট করে নিজের রুমের দিকে যেতেই চোখ পড়লো ,, ড্রয়িং রুমে রাখা টিভিটার দিকে ।। সেখানে সিংচান চলছে।। অনেক দিন হয়েছে সিংচান দেখি না ।। কিন্তু আমাদের বাড়িতে তো কেউ কার্টুন দেখে না ।। তাহলে এই চ্যালেনটায় আসলো কিভাবে।। এখন আর সেই চিন্তা করতে ইচ্ছে করছে না,,তাই সোফায় বসে সিংচান দেখতে ব্যস্ত হয়ে গেলাম।।
আমার আবার এভাবে ফাঁকা টিভি দেখতে ভালো লাগে না,,, ফ্লোরে শুয়ে সোফায় পা রেখে ,,, পপকর্ন আর জুস খেতে খেতে দেখতে ভালো লাগে ।। তবে খাই কম আর ফেলি বেশি ।। এতে মাম্মামের অনেক রাগারাগি শুনতে হয় কিন্তু কিছু করার নেই।। আর আমাদের বাড়িতে একটাই এলইডি টিভি,,,সেটা ড্রয়িং রুমে সেট করা।। পাপা চাই না,,কারো রুমে একান্ত টিভি থাক।।
নিজের ইচ্ছেটাকে আর দমিয়ে রাখতে পারলাম না।।তাই নিজেই পপকর্ন আর জুস বানিয়ে নিয়ে এলাম।। আর নিজের ইচ্ছেমত খেতে লাগলাম।।
কিছুক্ষণের মধ্যেই জুস আর পপকর্নে দিয়ে আমি মাখামাখি।। সাথে তো রুম আছেই।। কিন্তু তাতে আমার কোন যায় আসে না।। হঠাৎ কেউ এসে টিভি টা অফ করে দেয়।। দুটো পপকর্ন মুখে দিয়ে তাকিয়ে দেখি…
আবির আর তার পুরো পরিবার।। কিন্তু এই অবেলায় তারা কি করছে ,, বুজতে পারছি না।। হঠাৎ নিজের কথা মাথায় আসতেই উঠে দাঁড়িয়ে জামা কাপড় ঝাড়তে শুরু করলাম।। কালকে রাতের ড্রেসই এখনো পড়া । সাথে জুস দিয়ে কাক ভেজা আর চুলের ফাকে ফাকে পপকর্ন ঢুকে আছে ।। নিজেকে একদম জোকার মনে হচ্ছে।। কি করবো কি বলবো ,, কিছু বুঝতে পারছি না।।
— এক মেয়ে এইসব কি পড়ছো আর এমন সং কেন সেজেছো ।।আর কি করেছো এই রুমের অবস্থা।। আবার টিভিতে কার্টুন দেখছে ।। এতো বড় ডিঙি মেয়ে এইসব দেখছে।।(আবির)
ড্রয়িং রুমের থেকে কথার আওয়াজ পেয়ে পাপা মাম্মাম আপি আর ভাইয়া হাজির হয়।। সেখানে এসে আমাকে এই অবস্থায় দেখে মাম্মাম আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে আছে।। কিছু বলার আগেই আমি নিজের রুমে চলে এসে শাওয়াল নিয়ে নিলাম।।
বিকেলে সবাই একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছি।। হঠাৎ আমার রুম থেকে ফোনের আওয়াজ পেয়ে রুমের দিকে পা বাড়ালাম।। ফোনে জান নামটা জ্বলজ্বল করছে।। তাই রিসিভ করে নিলাম….
— হ্যালো ,, মিষ্টি জান।। কেমন আছিস??(জানভি)
— …..
— আমার সাথে কথা বলবি না।। পিলিজ রাগ করে থাকিস না,,,আমি একটু বিজি ছিলাম,,তাই তোকে ফোন করতে পারি নি।। (জানভি)
— আমি তোমার কে হই যে তুমি আমাকে ফোন করবে ।। লাগবে না তোমার ফোন করা ।। কেউ আমাকে ভালোবাসে না।। সবাই পঁচা!!( অভিমানী সুরে আমি)
— কে বলেছে আমি তোকে ভালোবাসি না,,আমি তোকে অনেক ভালোবাসি।। তুই বাসিস না,, ভাসলে তো আমাকে ফোন করতিস।। (জানভি)
— আমিও তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি,, জান !!(আমি)
আর কিছু বলার আগেই আবির আমার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল ফ্লেরে।। সাথে সাথে ফোনটা কয়েক টুকরো হয়ে গেলো ।। আমি তাড়াতাড়ি ফোনটার কাছে গিয়ে একটার সাথে একটা লাগানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু লাগলো না।।আর খুললোও না।।
— এই যে মিঃ ।। আপনি আমার ফোনটা কেন ভেঙ্গে ফেলেছেন ।। জানেন এটার কথা দাম ছিলো।। আমি এইচএসসি পরীক্ষার পরে জান এটা আমাকে দিয়েছিলো।।আর আপনি সেটা ভেঙ্গে ফেললেন।। আপনার সাহস হয় কি করে আমার জিনিস টাস করার।।(চেঁচিয়ে বললাম আমি)
— শুধু তোমার জিনিস কেন তোমাকে ছুঁতেও আমার সাহসের দরকার হয় না,,বুঝলে ।।(আবির আমার দুই বাহু ধরে)
— আবির তুই কি ভালো হবি না।। তোকে আমি হানির কাছে পাঠালাম কেন?? আর তুই করছিস টা কি !!( রুমে ঢুকতে ঢুকতে নিবিড়)
নিবিড় ভাইয়ার কথা শুনে আবির সাথে সাথে আমাকে ছেড়ে দেয়।।তাকিয়ে দেখি সাথে আপিও আছে।।
— মমমমানে!! (কৌতূহল নিয়ে আমি)
— আবির কিছু বলে নি,,তাই না।। নো প্রবলেম আমি বলছি ,, আমি আর তোমার আপি একটু ঘুরতে যাবো ,,তোমাকে বাড়ির সবাইকে একটু মেনেয করতে হবে ।। তোমাকেও যেতে হবে,, নাহলে ব্যাপার টা একটু কেমন দেখায় না,,সাথে আবিরকে ও নিবো !!( নিবিড়)
— সরি আমি পারবো না। আপনি বরং আবিরকেই বলুন মেনেয করতে!!( ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আমি)
— দেখ হানি ,,তুই যদি সবাইকে মেনেয না করিস তাহলে কিন্তু আমি সবাইকে জানিয়ে দিব যে ,,,কালকে রাতে তুই লুকিয়ে ক্লাবে গিয়েছিলি।। (হিয়া)
— এই যে তোর দেবরে আমার ফোনটা ভেঙ্গে ফেললো ,,সেটা কে দিবে শুনি ।।(আমি)
— আবির তুই ওর ফোন কেন ভেঙেছিস ।। হানি আমি তোমাকে একটা নতুন ফোন কিনে দিবো ,, কেমন এবার চলো !!(নিবিড়)
মাম্মাম যদি ক্লাবের কথাটা জানতে পারে তাহলে বাড়িতে তুলকালাম কাণ্ড করে ছাড়বে ।। তাই রাজি হয়ে গেলাম।। ফোনের টুকরো গুলো কুড়িয়ে নিয়ে ড্রয়ারে রেখে দিয়ে পাপা মাম্মামকে রাজি করাতে চললাম।।গত সপ্তাহে আমার চেক আপ করানো হয় নি।। তার অজুহাত দিয়ে পাপা মাম্মাম কে রাজি করিয়েছি ।। আবির তার বাবা মা কে কি বলে মেনে করেছে ,,সেটা আবিরই ভালো জানে।।
আজেকে শুক্রবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন,,তাই ভাইয়াও অফিসে যাই নি।। অনেকবার বলেছি ,, আমাদের সাথে যেতে কিন্তু কিছুতেই যাবে না।। জিএফ এর সাথে দেখা করতে যাবে।। জিএফ টা কে ,, সেটাই জানি না।। তবে বলেছে ,,আমার কাছের কেউ।।
আজকে কোনো বাইক বা জিপ কোনোটাই নেওয়া হলো না। দুটো রিক্সা ভাড়া করা হলো । আপি আর নিবিড় ভাইয়া একটা রিক্সায় আর আমি আর ঐ পেঁচা টা একটা রিক্সায়।পুরোটা রাস্তায় আবির আমার গা ঘেষে বসে আমার হাত শক্ত করে ধরে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো।। কিন্তু আমি একবারও তাকাই নি ।।
কিছুক্ষণ পর আমরা এসে পৌঁছালাম এক ছোট এক তলা বাড়ির সামনে ।।বাড়িটা সুন্দর করে সাজানো।। হয়তো ভাড়া করেছে।। কিন্তু সেখানে প্লেটলেট এ কোনো নাম লেখা নেই।। সেখানে রং রাখা ।। আমরা একটু এগিয়ে যেতেই নিবিড় ভাইয়া আপির হাত ধরে ভেতরে নিয়ে গিয়ে বললেন….
— এটা আমাদের ছোট ভালোবাসার বাড়ি ।। এখানে আমরা বিয়ের পর একসাথে থাকবো ।। এখন বলো এখানে ,,,কি নাম দেওয়া উচিত ।।””নিবিড়ের হিয়া “” আমার ভাবা নি ,,,তুমি কি কিছু ভূ্বেছো।।
আপি তো অবাক হয়ে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।। সে এতো বড় সারপ্রাইজ আশা করে নি।তারা একসাথে যখন নাম টা লিখতে যাবে তখনি আমি তাদের থামিয়ে দিলাম।।
— বলছিলাম কি ভাইয়া।। “”নিবিড়ের হিয়া””এর চেয়ে বেশি যদি ”হিয়াতে নিবিড় ” দিতেন তাহলে একটু বেশি রোমান্টিক লাগতো না।।
হিয়াতে নিবিড় লেখা হলো ।। আপি আর নিবিড় ভাইয়া ভেতরে চলে গেলো ।। আমিও ওদের পেছনে পেছনে যেতে নিতেই আবির আমার হাত ধরে বাগানে নিয়ে এলো ।।
— এই এটা কি হলো।। আমি ভেতরে যাবো না!!(আমি)
— না ।।। কারন আজকে ভাই ভাবিকে আবার প্রপোজ করবে ।। আর সেখানে অন্য কেউ থাকলে ।। ভালো দেখায় না ।।তাই তুমি যাবে না।।(আবির)
দূর থেকে একটা দোলনা দেখতে পেলাম।। আমি গিয়ে দোলনাটার উপরে বসলাম।। হঠাৎ আবির এসে আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো।। তারপর আবির আমার পা তার হাঁটুর উপর রেখে পকেট থেকে একটা নুপুর বের করে পরিয়ে দিয়ে বলতে লাগলো….
চলবে….💞💞