কারণে অকারণে ভালোবাসি০২ পর্ব-৩০+৩১

0
940

#কারণে_অকারণে_ভালোবাসি০২
#সুরাইয়া_আয়াত

৩০.

— আর কতোখন এভাবে বসে থাকবি বলতো? ঠান্ডা ফ্লোরে এভাবে বসে থাকলে তো শরীর খারাপ করবে। এমনিই তো ঠান্ডা লাগার ধাঁচ।

আরু ব্যালকনি থেকে বাইরের দিকে তাকিয়ে থেকেই বলল
— উনি তো এখনো এলেন না। উনি কখন আসবেন?

সানাও ফ্লোরে বসে আরুর কাধে হাত রেখে বলল
— আর যাই হোক রাতের আগে ভাইয়া ঠিক ফিরে আসবে। ভাইয়া তোকে ছেড়ে বাইরে থাকে না কখনো। চল এবার খেয়ে নিবি।

আরু সানার দিকে একরাশ হতাশাভরা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইলো।
— যদি উনি না ফেরেন?

— ফেরেনি এমনটা কখনও হয়েছে কে? হসপিটাল গেছে নিশ্চয়ই আর কোথায় বা যাবে। তাছাড়া এখন হয়তো একটু রেগে আছে রাতে বাসায় ফিরলে সব মিঠমাঠ করে নিস কেমন!

আরু মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো। আজ কেবল একটু ভরসা আর সাহস ছাড়া আঁকড়ে ধরার মতো আর কিছুই নেই আরুর কাছে। বাইরের দিকে একবার তাকালো সে। গেটটা বন্ধ। দারোয়ান চাচাও একটা মোটা শালের চাঁদর গায়ে দিয়ে আরামে রোদ তাপাচ্ছে। আরু চোখ ফিরিয়ে নিলো সেদিক থেকে। প্রায় একঘন্টা ধরে এই দৃষ্টিতে সে দিকেই চেয়ে ছিল যে, এখন সেদিককার একটা স্বচ্ছ বর্ননা দিয়ে দিতে পারবে যে চোখ বন্ধ করে।
সানার দিকে আশানুরূপ একটা চাহনিতে তাকিয়ে সন্তর্পণে প্রশ্ন করলো
— আচ্ছা সত্যিই উনি আজকে ফিরবেন তো?

সানা স্বস্তির একটা শ্বাস ফেলে বলল
— হ্যাঁ বাবা আসবে আর না আসলে আমার নাম বদলে দিস তুই।

আরু শুকনো ঠোঁটটা জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসু সুরে বলল
— আর ফুপি? ফুপির তো কালকে ফেরার কথা তাই না?

— হমম আম্মু আর বাবার কালকে ফেরার কথা। ভাগ্যিস আমি তোদের সাথে এসেছিলাম নাহলে তোকে যে কে সামলাতো।

আরু ওর কাজকর্মের প্রতি লজ্জায় তীব্র অনুতপ্ত হলো। মাথাটা নীচু করে নিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো।
সানা পিছন ঘুরে তাকিয়ে তৎক্ষণাৎ আরুর দিকে তাকিয়ে বলল
— মেঝেতে দেখলাম কয়েকটা কাগজ ছড়িয়ে আছে। কিসের ওগোলু?

আরু আর মাথা উঁচু করে তাকালো না। নির্বিকারে বলল
— রিপোর্ট ওগুলো। উনি প্রেগনেন্সি টেস্ট করিয়ে এনেছিলেন কালকে। আমি বুঝতে পারিনি রিপোর্টটা আজকেই দেবে।

সানা বিনা বাক্য ব্যায় করে দৌড়ে ছুঁটে গেল কাগজ গুলোর দিকে। আরু সানা দৌড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে সেদিকে তাকালো ঘাড় ঘুরিয়ে। সানা কাগজ গুলোকে একত্রিত করছে কুঁড়িয়ে, তার কাজের তৎপরতায় বোঝা মুশকিল যে সে কতোটা কি পড়ছে। আরু চোখ ফিরিয়ে নিলো। কান্না কাঠির ঠেলায় সে নিজেই ভুলে গেছিলো যে আরিশ তাকে এগুলো জোরে জোরে পড়তে বলেছিলো। দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো আরু। মাঝে মাঝে সমস্ত সুখ গুলোকে হাতছানি দিয়ে দুঃখ গুলো যে কিভাবে আড়ালে পাশ কেটে আত্মগোপন করে বোঝা মুশকিল। সানা কাগজ গুলো গুছিয়ে এগোছালো ভাবে আরুর কাছে এসে ধপ করে বসলো। আরু হাতের কাগজগুলোর দিকে খেয়াল করলো। সেগুলো দেখলে বেশ স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায় যে তা পড়া তো দূরে থাক সে সেগুলো সংগ্ৰহ করার তৎপরতায় তা কোনরকমে নিয়ে ছুঁটেছে।

সানা স্বল্প হাপাচ্ছে, শ্বাস প্রশ্বাস ধীর গতিতে ওঠানামা করছে। সানা চোখের প্রশ্নগুলো যেন আরুর ভীষন চেনা, এতোটাই চেনা যে সানা প্রশ্ন করার পূর্বেই সে উত্তর দিয়ে দেবে। শেষে একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে সানা শুকনো ঢোক গিললো। তার মুখে অধীর কৌতুহল। সানার সমস্ত কৌতুহলকে ধামাচাপা দিয়ে আরু বলল

— এগুলো আমার পড়া হয়নি।

সানা আরুর কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত সুরে বলল
— কি ইয়ার। এগুলো এখনো পড়িসনি! যদি রিপোর্ট পজেটিভ হয়। দাঁড়া আমি পড়ি।

অজান্তেই আরুর ঠোঁট জুড়ে একটা ফিচেল হাসি বেরিয়ে এলো। রিপোর্টের ফলাফল হয়তো তার জানা তাই হয়তো তা নিয়ে এই মুহূর্তে বেশি কৌতূহল দেখাইনি।
পুনরায় বাইরের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো সে। বিড়বিড় আওয়াজ আসছে পাশ থেকে, সম্ভবত সানা বিড়বিড় করে রিপোর্টের লেখা আওড়াচ্ছে। তাড়াহুড়োর ঠেলায় ইংরেজির বাবা মা এক হয়ে যাচ্ছে সেদিকে তার খেয়াল নেয়। অতঃপর বেশ কয়েক লাইন পড়ার পর সানার বিড়বিড়ানিও বন্ধ হওয়ার পথে। আরুর সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেয়, সে তো অপেক্ষায় রয়েছে আরিশের ফেরার জন্য।
হঠাৎ নিস্তব্ধতা ভেঙে সানা একটা গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে উঠলো। আরুকে ঝটপট জড়িয়ে ধরলো। আনন্দে উচ্ছাসে সে আত্মহারা হাওয়ার উপক্রম। সানা আরুকে জড়িয়ে ধরেছে বেশ আষ্টেপৃষ্ঠে। আরুও আলতো স্পর্শে জড়িয়ে ধরলো। উত্তর তার জানা। সানা লম্বা শ্বাস ছাড়ছে। হাপাতে হাপাতে বলল
— আমি ফুপি হবো। আমার যে কতোটা আনন্দ হচ্ছে ঠিক বলে বোঝাতে পারবো না আরু। না জানি ভাইয়া এটা জেনে ঠিক কতোটা খুশি হয়েছিলো।

আরুর মুখে মৃদু হাসি ফুঁটে উঠলো। অতঃপর কিছুখন নিরবতা। কারোর মুখে কথা নেয়, যেন সময়টাকে উপভোগ করতে ব্যাস্ত। সানা প্রশান্তির নিশ্বাস ছাড়ছে, কিন্তু আরুর বুকে চাপা সেই ভারী পাথরটার বোঝা ততখন হালকা হবে না যতখন না সে তার আরিশকে কাছে পায়।

কিছুখন পর সানা আরুকে ছেড়ে সরে এলো। ভ্রু উঁচিয়ে বলল
— তুই কিছুটা হলেও আন্দাজ করেছিলিস তাই না যে এমন একটা সুখবর আসবে?

আরু মৃদু ছন্দে মাথা নাড়ালো। –হমম।

সানা এবার রাশভারী কন্ঠে বলল
— তাহলে সকাল বেলা ওসব কি বলছিলিস তুই? আমি দরজার বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলাম, সবটা কানে পৌচ্ছেছে। ভাইয়া তোকে চড় ও মেরেছে সেটাও জানি।

আরুর গালে হাত রাখলো সানা। আরু ফুঁপিয়ে উঠলো। সানা শান্ত স্বরে বলল
— তুই নিজে বাঁচতে চাসনি তাই তো ভাইয়া এমনটা করেছে। নাহলে ভাইয়া কখনো তোর গায়ে হাত তো দেওয়া দূরে থাক একটা আঁচড় অবধি লাগতে দিতো না। ভাব ভাইয়া এখন ঠিক কতোটা অশান্তিতে আছে।

আরু চোখটা মুছে গোঙানো কন্ঠে বলল
— আসলে সকালে উঠে যখন দেখলাম হালকা ব্লিডিং হয়েছে তখন আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম। আমি ভাবলাম আমার নিজের জন্যই আমার বাচ্চাটার না কি ক্ষতি হয়ে গেল।

সানা আরুকে জড়িয়ে নিলো।
–পড়ে গেছিলিস কালকে সিঁড়ি থেকে তাই হয়তো এমনটা হয়েছে। ভাইয়া বাসায় ফিরলে আর রাগ কমলে ভাইয়ার সাথে গিয়ে আবার টেস্ট করিয়ে নিস। আই থিংক এখন যেমন রেজাল্ট নেগেটিভ আসেনি তখনও আসবে না। উপরওয়ালা আমাদের প্রথম এতোটাও নির্দয় হবেন না।

আরু চোখটা মুছে বলল
— সানা উনি তো এখনও ফিরলেন না।

সানা এবার ধমকের সুরে বলল
— সারাদিন দুজনে থাকো আদায় কাঁচকলায় আর অমনি দূরে গেলে রোমিও জুলিয়েট হয়ে যাও। আসবে আসবে। ভাইয়া তার ড্রামা কুইনকে দূরে রেখে থাকতেই পারবে না। নো চিন্তা ওনলি ফূর্তি। বোলে তো উইইইমা টুইটুই।

আরু হেসে ফেলল।
— উনি যতখন না আসবে ততখন আমি খাবো না, আমি জানি উনি কিছু খাননি।

সানা ধমকের সাথে বলল
— তুই খাবি না তোর ঘাড় খাবে। ভুলে যেও না এখন তুমি আর একাটি নেই। তাই চলো।

আরুর কথা শুনলো না সানা আরুকে নিয়ে গেল।

।।।।।

রাত দশটা বাজে আরিশ এখনো ফেরেনি। সানা বিছানায় শুয়ে গায়ে কম্বল টেনে আরাভের সাথে চ্যাট করছে আর বাদাম খাচ্ছে। আরু বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে, হয়তো বিছানা ছেড়ে নেমে এবার অস্বস্তিতে পাইচারি করার পরিকল্পনা করছে। সানা বিরক্ত নিয়ে বলে উঠল
— এই জামাই টাইপের মানুষ গুলোই হয় প্যারা দায়ক। দেখ ভাইয়া তোকে কেমন প্যারা দেয় তেমনি আরাভও প্যারা দেই আমাকে।

কথাটা বলে আরুর দিকে তাকালেই দেখলো আরু উশখুশ করছে হয়তো আরিশ ফেরেনি বলে এমন ছটফটানি। সানা ফোন রেখে আরুর কাছে সরে গিয়ে বসলো।
— কি ব্যাপার! কোন সমস্যা?

আরুর কপালে চিন্তার ভাজ।
— উনি তো এখনো এলেন না। সানা তুই একটু ওনাকে কল কর না। উনি আমার কল তুলবেন না আমি জানি।

— আচ্ছা আমি কল করছি।

সানা কল করলো তবে ওপাশ থেকে কোন উত্তর এলো না। আরু মাথা নীচু করে বসে রইল। সানার কাধে হঠাৎ হাত রেখে বলল
— কথা না বলে চ্যাট করলে আরাভও ভাইয়া এমনিই বিরক্ত হবে। তুই বরং ফোন করে কথা বল। আর উনি কল ধরছেন না নিশ্চয়ই ফিরবেন একটু পর। আর উনি ফিরে এলে তোকে আবার মাঝ রাতে উঠতে হবে। আর শীতের দিনে বারবার ওঠা কষ্টকর। তুই বরং যা তোর রুমে যা। আমি বরং অপেক্ষা করি। কোন সমস্যা হলে আমি ডেকে নেব।

— না না তেমনটি হচ্ছে না। আমি এখানেই আছি। ভাইয়া আগে আসুক। তোকে একা রেখে কোথাও যাবো না আমি।

আরু হঠাৎই একটা বিরক্তিভাব নিয়ে বলল
— সানা যা না। আর দরকার হলে আমি ঢেকে নেবো ঠিক।

সানা আরুর এমন কথা শুনে একটু থতমত খেয়ে গেল। আর না করতে পারলো না। রুম থেকে চলে গেল ও আর যাওয়ার আগে আরুকে বলে গেল যে তার যদি কিছু দরকার হয় তবে অবশ্যই যেন ওকে ডাকে।

সানা রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই আরু দরজা দিয়ে দিলো। ধীর পায়ে বিছানায় এসে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। মন হালকা করার জন্য কান্নাটা ভীষন করম প্রয়োজন তাই সানাকে এই মুহূর্তে রুমে পাঠানোর প্রয়োজন ছিল।
কাঁদতে কাঁদতে ঠিক কতোটা সময় পার হয়ে গেল খেয়াল নেই। বাইরে শনশন করে হাওয়া বইছে, হালকা বিদ্যুতের ঝলকানিও দেখা দিচ্ছে। আজ বিকাল থেকেই আকাশের বুক ভীষনরকম গম্ভীর অর ভারী।
শীতকালের বৃষ্টিটা যেমন একপ্রকার অসহ্যকর তেমনি বেশ রোমাঞ্চকরও।

আরু বিছানা থেকে নামলো, ওয়াশরুম যাবে তাই। হঠাৎই লোডশেডিং হলো। আরুর পা থমকে গেল। ভয় পাচ্ছে অন্ধকারে। আরু বিরক্তিতে বিড়বিড় করে বলল
— না জানি কালকে এতো সাহস কি করে এসেছিলো যে অন্ধকারে পুরো বাসা তল্লাশি করছিলাম। কালকের সাহসটা আমার আজকে দরকার কিন্তু এখন কি করি।

ওয়াশরুমে আর ঢুকলো না, বিছানা হাতড়ে হাতড়ে ফোনটা খুঁজে ফ্ল্যাশ জ্বালালো আরু। মোমবাতিতা বরাবর ড্রয়ারে থাকে তাই খুঁজতে বিশেষ অসুবিধা হলো না।
বাইরে এবার যেন একটু বেশ জোরেই ঝড় হচ্ছে। সানাও হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে নাহলে সে ঠিকই এই ঘরে চলে আসতো।

আরু মমবাতিটা টেবিলে রেখে বিছানায় গেল। ব্ল্যাঙ্কেটটা গায়ে জড়িয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে আরিশকে ভিডিও কল করলো সরাসরি। সে ভাবলো যে আরিশ হয়তো কলটা তুলবে না তবে তার সব ধারনাকে পাল্টে দিয়ে কলটা রিসিভ হলো।
ফোনের থেকে আরিশ বেশ অনেকটাই দূরে বসে আছে, তাকে দেখে এমনটা মনে হচ্ছে যেন ভুলবশত সে কলটা ধরে ফেলেছে। ফোনের দিকে ভ্রুনাক্ষরেও তাকাচ্ছে না সে।
হসপিটালের কেবিনে বসে আছে আরিশ, রুমটা আরুর বেশ চেনা কারন আরিশের সাথে বহুবার আরু তার কেবিনে গেছে।

আরিশ তাকাচ্ছে না সেদিকে আর কোন কথাও বলছে না। উভয়পক্ষ নিরব। নিরবতা ভেঙে আরু কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল
— আমি জানি আপনি আমার ওপর রেগে আছেন ভীষনরকম। আই এম সরি। আপনি যদি কল না ধরেন সেই ভয়ে আমি সারাটা দিন কল করিনি। কারন আমি জানতাম আপনি বাসায় আসবেন। কিন্তু আপনি তো এলেন না।

কথাটা বলে বেশ কিছুটা সময় আরু নিরব রইলো। অপরদিকে আরিশের ভাবশাবে বোঝা মুশকিল যে কথাগুলো আদতেও তার কানে পৌচ্ছাছে কি।

— আমি আর কখনো আপনার কথার অবাধ্য হবো না প্রমিস। আর নিজের খেয়াল ও রাখবো। প্লিজ এবারের মতো মাফ করেদিন। আমি জানি আপনি আপনি ভীষনরকম রেগে আছেন। আমাকে কি করতে হবে বলুন আমি তাই করতে রাজি আছি। আপনি প্লিজ ফিরে আসুন। আপনি তো জানেন আমার একা থাকার অভ্যাস নেই। বাইরে ঝড় হচ্ছে, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, আপনি তো জানেন আমি কতোটা ভয়,,,

‘ভয় পাই’ কথাটা পুরোপুরি বলা হলো না আর আরূর তার আগেই ফোনের ওপাশে একটা নার্স এসে আরিশকে বলল
— স্যার ২০৬ নম্বর রুমের পেশেন্টার বোধহয় কিছু প্রবলেম হচ্ছে একটু দেখবেন চলুন।

আরিশ বিনাবক্যে চলে গেল একবার ও আরুর দিকে তাকালো না মাত্র।
আরু অবাক হয়ে কেবল দেখতে রইলো। কলটা কাটেনি আরিশ, ফাঁকা রুম দেখছে কেবল। আরু কলটা কাটলো না। ফোনের আওয়াজটা মিউট করে অন্ধকারে চোখের নোনা জল ফেলতে লাগল। হঠাৎ নেটওয়ার্কের প্রবলেমের কারনে ফোনটা কেটে গেল। আরু আর পুনরায় কল করলো না কারন ওপাশে কল ধরার মতো কেও নেই।
ব্ল্যাঙ্কেটটা মুড়ি দিয়ে নিস্তব্ধে চোখের জল ফেলতে লাগল আরু। বেশ অনেকটা সময় এভাবেই পার হয়ে গেল। একটা সময় এসে কান্নাটা থেমে গেল, দরজার খটখটানির আওয়াজে, কেও দরজা খোলার ইঙ্গিত জানাচ্ছে। এতো রাতে কে হতে পারে ভেবে আরু ভয়ে গুটিয়ে গেল। অতঃপর ভয়ে গুটিশুটি মেরে বসে রইলো।

#চলবে,,,

#কারণে_অকারণে_ভালোবাসি০২
#সুরাইয়া_আয়াত

৩১.

দরজায় বেশ কাঁপুনি সহ ধাক্কার আওয়াজ এলো। বাইরে তুমুল বৃষ্টি আর ক্ষনে ক্ষনে বিদ্যুতের ঝলকানিতে পারিপার্শ্বিক আওয়াজ গুলো ফিকে হয়ে আসছে।
এভাবে গেল বেশ কিছুটা সময়। অপর পাশ থেকে কারোর কন্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে না দরজার খটখটানি ব্যাতীত। আরু গায়ের কম্বলটা মুড়ি দিয়ে বড়ো বড়ো শ্বাস ফেলতে লাগলো। প্রথমে তো আওয়াজটা আস্তে আস্তে আসছিলো কিন্তু এতখনে বোধহয় অপর দিকের মানুষটাও দরজা খটখটাচ্ছে তীব্র বিরক্ত হয়ে। খটখটানির আওয়াজ তীব্র ভাবে বাড়লো। তুমুল অস্হিরতা নিয়ে আরু উঠে বসলো। মনের মাঝে আজগুবি অনেক কল্পনা জল্পনা কাজ করছে কিন্তু কোন ভাবনাটা ছেড়ে কোনটাকে রাখবে সেটাই বুঝতে পারছে না। ‘তাহলে কি মি অভদ্র? ‘ না না উনি তো হসপিটালে।
মাথার তীব্র একটা ঝাঁকুনিতে সেই ভাবনাটা নাকচ করে দিলো আরু। দরজাটা আদতেও খোলা উচিত কি ভেবে ভেবে বিছানা থেকে পা নামালেই আবার ভয়ে পা তুলে নিলো। দৃষ্টি দরজার দিকে স্হির। মমবাতির বাতিটাও শেষ হওয়ার পথে। ডান হাতটা যতোটা দূর সম্ভব বাড়িয়ে হাতড়ে হাতড়ে ফোনটা খোঁজার চেষ্টা চালালো, অবশেষে পেয়েও গেল। এই মুহূর্তে হাতটা স্বল্প কাঁপছে তবে তা ভয়ে। দরজার দিকে এক পলক তাকিয়ে আরিশের নাম্বারে ডায়াল করার জন্য আর এটা বলার জন্য যে কেও আছে দরজার ওপাশে।
ফোনটা করতেই রিঙটোনটা বেজে উঠলো। রিঙটোনটা দরজার ওপাশ থেকে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। আরুর মরুভূমির মতো রুদ্ধশ্বাস অনুভূতিতে যেন একরাশ জোয়ারের ঢেউ খেলে গেল। আর কোনরকম কোন অপেক্ষা না। দৌড়ে ছুটে গেল আরু দরজা খুলতে।
দরজাটা খুলতেই দেখলো দরজার ওপাশে চোখ গরম করে আর কাকভেজা শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আরিশ।
আরু কিছুখন আরিশের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশান্তিতে দেখে নিলো। আরিশ রুমের ভিতর পা বাড়াতে গেলেই আরু জড়িয়ে নিলো আরিশ কে। দুই হাত দিয়ে শক্ত করে আষ্টেপৃষ্ঠে যতোটা সম্ভব জড়িয়ে ধরা যায় ঠিক ততোটাই।
আরিশ নির্বাক, আগলে নিচ্ছে না আরুকে। আরু একটা লম্বা শ্বাস ছেড়ে বলল
— আপনি আমাকে ঠিক কতোটা ভয় পাইয়ে দিয়েছেন আপনি জানেন? আপনি নক করছিলেন তো একবার বলতে তো পারতেন যে আরু পাখি আমি।

আরিশ একটা উত্তর ও দিলো না। উপরন্তু আরুর হাতটা ছাড়িয়ে নিজের থেকে খানিকটা দূরে সরালো। আরুর চোখের দিকে তাকাবেনা আরিশ কারন ওর এমন ব্যাবহার সহ্য করতে না পেরে আরু হয়তো এক্ষুনি কেঁদে দেবে তখন আরিশ আর পাহাড়সম রাগটা কোনক্রমেই ধরে রাখতে পারবে না।
আরু অবাক হয়ে তাকালো আরিশের দিকে, আরিশ পাশ কেটে রুমে ঢুকলো। আরু যেন এতেও ভেঙে পড়লো না। কোনরকম বুকে বল নিয়ে আরিশের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।

— আপনি তো কাকভেজা হয়ে গেছেন, চেন্জ করে নিন।

ততখনে আরিশ ওয়াশরুমে ঢোকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরুর কথাটা যেন তার কান অবধি পৌছায়নি এমন।

আরিশ নির্বাক-নির্বিকার। আরু আরিশের যাওয়ার পানে চেয়ে রইলো। আরিশকে বেশ কিছুখন জড়িয়ে ধরার দরুন আরুর নিজের জামার সামনের কিছুটা অংশ ভিজে গেছে। নিজের দিকে একবার তাকিয়েও যেন গুরুত্ব পোষন করলো না আরু, বিছানায় বসে রইলো পা নামিয়ে। এবার যেন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলো। আরু ব্যালকনির দিকে খানিকটা উঁকি দিলো, বৃষ্টির ছাট আসছে। আরু বৃষ্টিতে ভেজার তীব্র লোভটাও যেন এই মুহূর্তে সামলে নিলো, হাতটা বাড়িয়েও বাড়লো না। আরু খালি মেঝেতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো।
আরিশ বেরিয়ে এল, আরু খানিকটা ইতস্তত বোধ করে বলল
— এবারের মতো মাফ করে দিন না প্লিজ। আর কখনো এমন ভুল হবে না। আর আপনি আমার ওপর রাগ করে আমাদের বেবিকে কষ্ট দিচ্ছেন কেন বলুন তো। তার মায়ের কষ্টে তার ও তো কষ্ট হয় তাইনা।

আরুর কথা শুনে আরিশ গোপনে হাসলো। মেয়েটা এখন থেকেই বেবির নাম করে রাগ ভাঙনোর চেষ্টা করছে না জানি ডেলিভারি যতো এগিয়ে আসবে ঠিক কি কি করবে। কথাটা ভেবেই পুনরায় মনে করালো নিজেকে যে সে আরুর ওপর রেগে আছে, নিমেষেই চোয়াল শক্ত করে বিছানায় শুয়ে পড়লো।

আরু আরিশের পিছুপিছু গিয়ে পাশে শুয়ে পড়লো। আজ অন্য দিনের তুলনায় ব্যাতিক্রম। আরিশ অন্য পাশ ফিরে শুয়ে আছে। আজ আরিশ কে বড্ড কঠিন লাগছে আরুর, এতোটা কঠিন হতে সে কখনো দেখেনি। আরু এবার এক ঝটকায় আরিশের গায়ের ওপর হাত রেখে জড়িয়ে নিলো। ঠান্ডা কনকনে হাতটা ঠিক আরিশের শার্ট ভেদ করে আরিশের গায়ের ওপর রাখলো। আরিশ তবুও ভাবলেশহীন। আরু আরিশের পিঠে কপাল ঠেকালো, মিনতির সুরে বলল
— সরি বললাম তো। এবারের মতো ক্ষমা করে দিন, আর এমন ভুল কখনো করলে আপনি আমার আর এক গালেও চড় মারবেন আমি কিছু মনে করবো না।

চড় মারার কথাটা শুনে সকালের কথা মনে পড়ে গেল আরিশের। আরুকে চড় মেরেছিলো, না জানি মেয়েটা কতোটা কষ্ট পেয়েছে।
কথাটা ভেবে আরিশ চোখ বন্ধ করে নিলো। গলা ধরে আসছে। আরু যেন এবার ফুঁপিয়ে উঠলো। আধো ভাঙা কন্ঠে বলল
— আপনি এমন কঠিন হয়ে গেলেন কিভাবে? আমার ভয় লাগছে প্লিজ আর রেগে থাকবেন না। প্লিজ।

আরু ফুঁপিয়ে কাঁদছে, কেঁদেই চলেছে। আরিশের চোখ বেয়ে জল গড়ালো। পষান হয়ে চোখটা মুছে জানালার শার্ষির দিকে তাকিয়ে রইলো বহুখন যাবৎ।
একটা সময় মনে হলো যে আরুর কান্নার আওয়াজটা থেমে গেছে। কোনরকম পাশ ফিরতেই দেখলো আরু গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে। আরিশ আরুর গালের দিকে তাকালো। হাত বাড়িয়ে গালে আলতো করে স্পর্শ করে হাত বোলাতে লাগলো। চোখের কোনে অশ্রুবিন্দু গুলো শুকিয়ে নোনা জলে রুপান্তরিত হয়েছে। আরিশ চোখটা মুছিয়ে দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নিষ্পলক ভাবে চেয়ে রইল। তারপর যে রাতের কতো প্রহরের আনাগোনা হলো তার কিছুই উপলব্ধি করা গেল না। অতঃপর নিরবতা আর প্রেয়শিকে প্রশান্তির দৃষ্টিতে দেখা।

।।।।।

সকাল বেলা ঘুম ভাঙলো ফোনের রিঙটোনের আওয়াজে। আধো আধো চোখে তাকিয়ে একটা হাই তুললো আরু, এখনো হয়তো কিছুটা ঘুমাতো সে। শুয়ে শুয়ে হাতড়াতে লাগলো বিছানা, ফোন খোজার প্রচেষ্টা। মাথার কাছে হাত নিয়ে যেতেই ফোনটা হাতে পেল, ততখনে ফোনটা কেটে গেছে।
একটা বড়োসড়ো হাই তুলে ফোনটা হাতে নিলো, কলটা করলো আরু। মেঘলা আবহাওয়ায় নেটওয়ার্ক এর করুন দশা। কথাগুলো বেশ কেটে কেটে আসছে।

— হ্যাঁ ফুপি বলো। নেটওয়ার্ক প্রবলেম হচ্ছে খুব।

— আমরা বাসায় ফিরছি এখনই, ফার্মগেট অবধি চলে এসেছি। আর তোর আব্বু আম্মুও আসছে সাথে, আমাদের বাসায় যাচ্ছে।

— আচ্ছা সাবধানে এসো।

— হ্যাঁ রে সকালে কিছু খেয়েছিস? না মানে আরিশ নাস্তা টাস্তা কি কিছু বানিয়েছে?

অনিকা খানের এমন কথা বলার পর পাশ থেকে আফসানা বেগম বলে উঠলেন
— মেয়েটাকে কিচেনে শুধু খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যাস তাই এই দশা, একটু আধটু হাতে হাতে রান্নাটা শেখালে এই দশা হতো না, ছেলেটা এখন হসপিটাল যাবে তাও আবার নাস্তা বানিয়ে।

আরু ঠোঁট উল্টালো এমন কথা শুনে। সত্যিই তো আরিশ হসপিটাল যাওয়ার আগে নাস্তা করবে একথা তো তার মনেই নেই।

আরু কিছু বলতে যাবে অনিকা খান তখনই আফসানা বেগমকে ধমকে বললেন
— আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন আমার আরু মাকে কিছু করতে দেবো না আমি।

উনি এবার ফোনের দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন
— হ্যাঁ রে আরিশ নাস্তা টাস্তা কিছু বানিয়ে খাইয়েছে নাকি অর্ডার করেছিস? আর অর্ডার না করে থাকলে এখন আর করতে হবে না, আমি বাসায় গিয়ে ঝটপট করে কিছু বানিয়ে নেবো।

আরু আরিশের কথা ভেবে বলল
— ফুপি আমি তো জানি যা। আচ্ছা উনি বোধহয় কিচেনে আছেন। আমি একটু ওনাকে গিয়ে হেল্প করি বরং। রাখছি। সাবধানে এসো।

— আচ্ছা রাখ।

আরু কলটা কেটে দিয়ে ঝটপট বিছানা থেকে নামলো। তাড়াহুড়োতে ঘড়ির দিকে তাকানোর সময় অবধি হয়নি।
তাড়াতাড়ি নীচে নামলো আরু দেখলো টেবিলে নাস্তা রাখা আছে ঢাকা।
আরু টেবিলের দিকে তাকিয়ে নিয়ে আশেপাশে তাকালো, আরিশকে খোঁজার জন্য। আরিশকে কাছেপিঠে কোথাও না দেখে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল আরু।
বাইরে বেরোলেই বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভব করলো আরু। সারা রাত বৃষ্টি হয়েছে এমনকি এখনো ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়ছে। তাড়াতাড়ি করে একটা ওড়না জড়িয়ে বেরিয়ে পড়েছে আরু। ওড়না দিয়ে শরীরটা কোনক্রমে ঢেকে সদর দরজার দিকে গেল আরু। দারোয়ান চাচা চাঁদর গায়ে দিয়ে রিতিমতো কাঁপছেন আর পা দোলাচ্ছেন ঠকঠক করে।

আরু ওনার কাছে সাবধানতা অবলম্বন করে দৌড়ে গেল না হলে স্লিপ করে পড়লেই কেলেঙ্কারি। আরুকে দৌড়ে আসতে দেখে দারোয়ান চাচা উঠে এসে বললেন
— আরে আরু মামনি তুমি এইহানে এই বৃষ্টি বাদলায় কি করতেছো?

আরু দৌড়ে ওনার কাছে গেল। মাথা থেকে জল ঝরাতে ঝরাতে বলল
— চাচা উনি কি হসপিটালে বেরিয়ে গেছেন? না মানে বাসার ভিতরে নেই তো তাই।

— হ্যাঁ আরিশ বাবা তো সেই কখন বার হইয়া গেছে। আজ একটু তাড়াতাড়িই গেলো দেখলুম আমি।

— কটা নাগাদ তাও চাচা?

— সাড়ে ছটা নাগাদ।

আরু শুনে অবাক হয়ে বলল
— এত সকালে?

— হয় আজ বেশ সক্কাল সক্কাল ই গেছে। কইলো যে তাড়াতাড়ি বাসায় আইবো হের লইগা।

— আচ্ছা। এখন কটা বলে চাচা?

উনি পিছন ঘুরে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন
— সাড়ে নটা!

কথাটা শুনে আরু নিজের মাথায় একটা টোকা দিলো। আর বিড়বিড় করে বলল
— আমার আরও সকালে ওঠা উচিত ছিলো।

আরুর এমন অসহায় দৃষ্টি দেখে উনি বললেন
— কি মা কোন সমস্যা হইসে নাকি, আমারে কও কি লাগবো।

আরু মলীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল
— কিছু হয়নি চাচা, আজকে উঠতে লেট হয়ে গেছে তাই। আচ্ছা শোনেন ফুপি ফুপা আর আমার আব্বু আম্মু আসছে একটু পর, ওরা ফার্মগেট ছাড়িয়েছে, বোধহয় এক্ষুনি চলে আসবে। তুমি একটু দরজাটা খোলা রেখো। আর ওরা না হয় ফিরলে তুমি বাসায় চলে যেও। বৃষ্টির ওয়েদার তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরলে চাচা খুব খুশি হবে।

কথাটা বলে আরু মুচকি হাসলো। চাচা লজ্জা পেয়ে বলল
— তোমরা আজ কাল কার পোলাপাইন রাও অনেক ফাজিল।

আরু ভ্রু নাঁচিয়ে বলল
— হমম চাচা বুঝি বুঝি আর লজ্জা পেতে হতো না। তুমি একটু অপেক্ষা করো ওদের জন্য আমি আসছি। আর তাড়াতাড়ি বাসায় যেয়ো আজ।

— আচ্ছা সাবধানে যাইয়ো, পা পিছলে পইড়া যাইয়ো না আবার তাহলে আরিশ বাবা তোমার পা দুটো ভাইঙা রাখবো।

— হমম হমম জানি। উনি তো আস্ত জল্লাদ একটা।

চাচা হাসতে লাগলেন আরুর কথা শুনে।

আরু পা টিপে টিপে হাটতে লাগলো হঠাৎ বাগানের কাঠগোলাপ গাছটার দিকে তাকাতেই দেখলো গাছের নীচে অনেক কাঠগোলাপ পড়ে আছে। আরু দ্রুত পায়ে সেদিকে গেল। প্রথমে কিছুখন ফুলের ঘ্রান নিয়ে তারপর. গা থেকে ওড়নাটা খুলে তাতে কাঠগোলাপ কুড়িয়ে নিলো। কিছুখন পর অকস্মাৎ পিছন থেকে চাচার কন্ঠস্বর শুনতে পেলেন।

— আরে আরিশ বাবা তুমি এতো জলদি চলে আইলা।

আরিশ গাড়ি থেকে নেমে ছাতা হাতে বলল
— হমম চাচা দুই ঘন্টার ডিউটি ছিলো আজ। তাই তাড়াতাড়ি। আচ্ছা আমি আসছি।

আরিশ ছাতা হাতে এগোতে লাগলো। আরিশকে দেখে আরু ভয় পেয়ে গেল। এমনিতেই আরিশ তার ওপর রেগে আছে আর এখন ওকে এই অবস্থায় দেখলে যে কি কুরুক্ষেত্র বাধাবে ঠিক নেই। আরু দ্রুত ছোট্ট ঝকড়ালো কামিনী গাছটার আড়ালে গুটিশুঠি হয়ে বসলো।

আরিশ যেতে যেতে হঠাৎ থমকে গেল। দূরে একটা সাদা ওড়না দেখা যাচ্ছে আর কেও গুটিশুটি হয়ে বসে আছে তাও বেশ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আরিশ বেশ ভালো করে দূর থেকে তা পর্যবেক্ষণ করলো আর এদিকে আরু ধরা খেয়ে যাওয়ার ভয়ে তাকাচ্ছেই না। আরুর বিষয়টা সেই মরুভূমিতে থাকা ভিন্ন প্রজাতির উটপাখির মতো হয়েছে। তারা ভাবে যে বালির মধ্যে সমস্ত শরীর না লুকিয়ে কেবল মুখ লোকালে শিকারী পশু তাকে আর দেখতে পাবে না। আরুর ও হয়েছে তাই। সে ঝোপের আড়লে মুখ লুকিয়েছে এদিকে ওর দেহের বেশির ভাগ অংশই আড়াল হয়নি।

আরিশ বুঝতে পারল ওটা আরু, আর এরকম বর্ষায় কাদা মাটিতে বসে আছে আর এখন তাকে দেখে মুখ লুকাচ্ছে। আরিশ চোয়াল শক্ত করে বাসায় চলে গেল। এদিকে আরিশ যেতেই আরু হাফ ছেড়ে বাঁচলো আর ঠিক করলো যে পিছনের দিকের গেট দিয়ে ঢুকবে সেটাই নিরাপদ। আরিশ বাসায় ঢুকে কিছু অনুমান করে সামনের গেটটা বন্ধ করে দিলো আর পিছনের গেটটার সাথে কাছে একটা চেয়ার আর ল্যাপটপ নিয়ে বসে গেল।

#চলবে,,,