#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ৯
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা
ইমরান তাড়াহুড়ো করে এক হাতে ঘড়ি পড়তে পড়তে সিঁড়ি দিয়ে নামছিল। দুর্ভাগ্যবশত তখন সিঁড়ির অপরপাশ থেকে একটা মেয়ে উঠে আসছিল হাতে তার ফলের ব্যাগ। দুজনের কেউ কাউকে খেয়াল করে নি। দুজনের বেখেয়ালের কারণে একজন আরেকজনের সাথে ধাক্কা খেয়ে মেয়েটা তাল সামলাতে না পেরে পড়তে নিলে সঙ্গে সঙ্গে ইমরাম খুব সতর্কতার সাথে মেয়েটার হাত ধরে ফেললো। তবে মেয়েটা পড়তে পড়তে বেঁচে গেলেও তার হাত থেকে ব্যাগটা পড়ে ফলগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে সিঁড়িতে গড়িয়ে পড়লো। সেটা খেয়াল হতেই ইমরান মেয়েটার দিকে না তাকিয়েই বলল।
— সরি একটু তাড়াহুড়োতে ছিলাম, আমি তুলে দিচ্ছি ওগুলো।
মেয়েটা কোনো উত্তর না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে নিজ থেকেই ফলগুলো চুপচাপ তুলে যাচ্ছিল। ইমরানও তাকে সাহায্য করার খাতিরে হাঁটুমুড়ে তার পাশে বসে দ্রুত হাতে কয়েকটা ফল তুলে ব্যাগে পুরে দিলো।
ফলগুলো তুলা শেষ হলে ইমরান ধীরেসুস্থে উঠে মেয়েটার দিকে তাকালো। খুবই সাদামাটা একটা মেয়ে তবে দেখতে বেশ মায়াবী অভিব্যক্তিতে তার সংকোচ। মেয়েটাকে চুপ করে থাকতে দেখে ইমরান আবারো মুখ খুলল।
— তোমাকে কিছু একটা বলেছিলাম শুনতে পেয়েছিলে?
মেয়েটা মাথা নিচু রেখেই মাথা দোলালো। ইমরান আবারো বলল।
— কেউ কিছু বললে ভদ্রতাসূচক তার কথার উত্তরে কিছু একটা বলতে হয়।
ইমরানের এমন বিদ্রূপে মেয়েটা এবার কুণ্ঠা নিয়ে মাথা তুলল। তবে ইমরানের তীক্ষ্ম চোখের দৃষ্টিতে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারলো না ফলস্বরূপ নজর নামিয়ে নিলো। ইমরান উত্তর না পেয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করতে যাবে তখনই সে ইশাতের আওয়াজ পেল।
— কি হয়েছে এখানে ভাইয়া?
ইশাতের প্রশ্নে ইমরান মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল।
— আমি তাড়াহুড়োতে বের হচ্ছিলাম তখন হঠাৎ ওর সাথে ধাক্কা লেগে ওর হাতের জিনিসপত্রগুলো পড়ে যায়। আমি এর জন্য ওর কাছে ক্ষমা চাচ্ছিলাম। কিন্তু মেয়েটা উত্তরে নির্বিকার। কে এই মেয়ে? ও কি কথা বলতে জানে না? নাকি কানে শুনতে পায় না?
ইশাতের নজর তখন ইমরানের পাশে দাঁড়ানো মেয়েটার ওপর পড়লো সে ভাইয়ের ভুল ভাঙাতে বলল।
— তেমন কিছুই না ভাইয়া, ও সানজিদা অনেক লাজুক স্বভাবের তাই হয়তো কথা বলতে সংকোচবোধ করছে। আমি চিনি ওকে আমাদের নিচের ফ্ল্যাটেই থাকে ওরা।
ইমরান ভাবলেশহীন উত্তরে বলল।
— ওহ আচ্ছা।
ইমরানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে মেয়েকে উদ্দেশ্য করে ইশাত বলল।
— সানজিদা উনি হচ্ছেন আমার বড় ভাইয়া ইমরান। তুমি না বলতে আমার ভাইকে কখনো দেখো নি। নাও আজ দেখা হয়ে গেল সামনাসামনি থেকেই।
ইমরান তখন ইশাতকে যেতে যেতে বলল।
— আমি একটু তাড়াহুড়োতে আছি পড়ে কথা হবে।
ইশাত ভাইকে হাত নেড়ে বিদায় জানিয়ে বলল।
— আল্লাহ হাফেজ সাবধানে যেও আর তাড়াতাড়ি ফিরো কেমন।
— ঠিকাছে, আল্লাহ হাফেজ।
ইমরান প্রস্থান করার পর সানজিদা বড় করে একটা হাফ ছেড়ে ইশাতকে বলল।
— যাক বাঁচলাম।
সানজিদার অভিব্যক্তি দেখে ইশাত অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলো।
— বাঁচলে মানে?
সানজিদা বোকা বোকা চোখ করে বলল।
— তোমার ভাইয়াকে দেখে কেমন যেন ভয় করে। কেমন গম্ভীর আর রাগী। পুলিশ অফিসাররা বুঝি এমনই হয়?
ইশাত গাল ভরে হেসে বলল।
— তেমন কিছুই নয়, ভাইয়া অনেক আন্তরিক তুমি ভালোমত পরিচিত হলে বুঝতে।
— না বাবা থাক। আর পরিচয় হতে হবে না। শুনো ইশাত আমার একটু কাজ ছিল তোমার সাথে আমাকে একটা চেপ্টার বুঝতে সাহায্য করতে হবে তোমাকে।
— ঠিকাছে বিকেলে চলে এসো।
সানজিদা সম্মতি জানিয়ে হ্যাসূচক মাথা দোলালো। ইশাত সৌজন্যমূলক হেসে তাকে বিদায় জানিয়ে চলে এলো। উপরে এসে দরজায় কলিং বেল বাজাতেই আসিয়া বেগম দরজা খুলে দিলেন। ইশাতকে দেখে তিনি অবাক হয়ে বললেন।
— এতো তাড়াতাড়ি ফিরলি যে? অনুষ্ঠান কেমন কাটলো?
হঠাৎ ইশাত আনমনা হয়ে উত্তরে বলল।
— অবাস্তব।
— মানে?
মায়ের কথায় ধেয়ান ফিরতেই সে কথা এড়িয়ে বলল।
— ও কিছু না। এমনি চলে এলাম।
— ঠিকাছে যা রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।
— আচ্ছা আম্মু।
মায়ের সাথে কথা বলে ইশাত নিজের রুমে ফিরে এলো। হাতের ফোন আর পার্স রেখে কাবার্ড থেকে বাসায় পড়ার কামিজ বের করে ওয়াসরুমে ঢুকে গেল। খানিকটা সময় নিয়ে গোসল সেরে টাওয়াল দিয়ে ভেজা চুল মুছতে মুছতে সে বিছানায় এসে বসলো। তখন বিছানায় রাখা তার ফোনটা আওয়াজ করে বেজে উঠলো। চুল মুছা রেখে ফোনটা হাতে নিতেই সে দেখলো আবারো সেই আননোন নাম্বারের কল। প্রথমবার ইশাত ঠিক করলো কলটা ধরবে না। তবে দ্বিতীয়বারের মতো আবারো রিং বেজে উঠলে সে ফোন রিসিভ করে কানে ধরে সালাম দিয়ে বলল।
— আসসালামু আলাইকুম কে?
অপরপাশের ব্যক্তিকে নীরব থাকতে দেখে এবার ইশাত বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলো।
— আশ্চর্য! এটা দ্বিতীয়বার ছিল এই নাম্বার থেকে কল এসেছে অথচ কেউই কথা বলছেন না, পরিচয় জানাচ্ছেন না। কে এমন বাজে দুষ্টামি করছেন আমার সাথে? কথা না বললে আমি এক্ষুনি এই নাম্বার ব্লক করে দিব।
এতক্ষনে অপরপাশে ব্যক্তিটির টনক নড়ল সে মুখ খুলল।
— ইশাত আমি বলছি।
পুরুষালী কন্ঠ ইশাতের চেনা চেনা মনে হলো। তবে ঠিক ধরতে না পারায় ইশাত প্রশ্ন করলো।
— নাম বলুন।
চাপা অভিমান নিয়ে অপরপাশ থেকে শোনা গেলো।
— আমার কন্ঠ শুনেও আমাকে চিনতে পারলে না ইশাত? চিনবেই বা কি করে আমি তো তোমার আপন কেউ নই।
কথার ধরন বুঝেই ইশাত ধরে ফেলল এটা নিশ্চয়ই আসিফ। বিস্ময় নিয়ে সে বলল।
— আমার নাম্বার কে দিয়েছে আপনাকে?
— কোনো একভাবে জোগাড় করেছি।
— কোন প্রয়োজনে?
— কোথায় তুমি? ভার্সিটিতে কত খুঁজলাম তোমায়।
— বাসায় চলে এসেছি।
— কেন?
— সেই কৈফিয়ত আপনাকে কেন দিব? দেখুন আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি আমার থেকে কোনো আশা রাখবেন না। যে পথে হাঁটছেন সেটা ভুল পথ। এর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
— তাহলে আমায় সঠিক পথ দেখিয়ে দাও। আমি তো এই পথ বেতিত অন্য কোনো পথ দেখছি না। তুমি বিহীন সবটা ধোঁয়াশা লাগছে।
— দয়া করে বুঝুন। আমি আপনাকে ভাইয়ের চোখে দেখি আমার ধারা এর বেশি আর অন্য কিছু আশা করবেন না।
— তাহলে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে ভালোবাসার চোখ দিয়ে দেখো। আমার মত করে তুমিও এই একই পথে হাটো।
— আমার আগেই যা বলার ছিল বলে দিয়েছি।
— আমার মধ্যে এমন কোন দিকটা তোমার অপছন্দ বল আমাকে? আমি সেটাই বদলে ফেলব। তবুও আমার হও।
— রাখছি।
— একটু কথা বলি?
— ব্যস্ত আছি।
ইশাত আর কথা বাড়াতে না দিয়ে ফোন কেটে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে আসিফের দিকটা ভেবে দেখলো। সে যেমন তার মিস্টার গোল্ডেনের জন্য ব্যাকুল আসিফও নিশ্চই তার জন্য ঠিক তেমনটাই অনুভব করে। ইশাত জানে এই বিরহের যন্ত্রণা কতটুকু তবে তার হাতে কিছুই করার নেই তার মন আগেই অন্যকারো দখলে চলে গেছে। এর বাহিরে সে আসিফকে সুযোগ দিতে পারবে না তাই তাকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়াটাই বোকামি হবে। পরে কষ্ট পাওয়ার থেকে ভালো আগে থেকেই সরে আসা।
_________________________
বিকেলে বারান্দায় বসে ইশাত গরম গরম কফি উপভোগ করছিল। তখন দরজায় কলিং বেল বেজে উঠলো। ইশাত উঠে দরজা খুলে দেখল সানজিদা এসেছে। হাতে তার লিটারেচারের কিছু বই। সানজিদাকে ঘরে বসিয়ে ইশাত রান্নাঘরে চলে গেলো কফি আর কিছু নাস্তা নিয়ে আসতে। সানজিদা বসে বসে ইশাতের রুমে টাঙ্গানো শিল্পকলাগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল। তখন রুমের দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ এলো। সানজিদা ইশাত ভেবে ভেতরে আসতে বলল। তবে তাকে অবাক করে ভেতরে এলো ইমরান। সানজিদাকে দেখা মাত্র ইমরানও হতভম্ব হয়ে বলল।
— তুমি এখানে কি করছো?
সানজিদা গুটিয়ে গিয়ে জবাবে আমতা আমতা করে বলল।
— আ..আমি এসেছিলাম ইশাতের কাছে পড়ায় একটু হেল্প নিতে।
— যাক তোমার সাথে দেখা হয়ে ভালোই হলো। ইশাত কোথায়?
— ও হয়তো বাহিরে। আমি নাহয় এখন আসি পরে আবার আসবো।
— এই মেয়ে দাড়াও, আমি কি তোমাকে যেতে বলেছি? তুমি এমন গুটিয়ে আছো কেন আমাকে দেখে? ইশাত বলল তুমি নাকি আমাকে ভয় পেয়েছ?
সানজিদা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। ইশাত নাকি তার ভাইকে এসবও বলে দিয়েছে কি লজ্জার ব্যাপার। সে তটস্থ হয়ে বলল।
— নাহ তেমন কিছুই না। আপনি অপরিচিত তো তাই।
— অপরিচিত ব্যক্তি দেখলে বুঝি তুমি এভাবেই ভয় পাও?
— না তা কেন পাবো?
— তাহলে আমায় দেখে কেন পেলে?
সানজিদা উত্তরে কোনো কথা বলতে পারলো না। তখন ইমরান আবারো বলল।
— কোন ক্লাসে পড়ছো?
— ইশাতের সাথেই আছি।
— পাবলিকে?
— না প্রাইভেট ভার্সিটিতে।
— পাবলিকে ট্রায় করো নি?
— করেছিলাম কিন্তু চান্স হয়নি।
— বাসায় কে কে আছেন?
— মা বাবা আর আমি।
— তার মানে তুমি বাবা মার একমাত্র মেয়ে?
— জ্বী!
ইশাত হাতে ট্রে নিয়ে রুমে ঢুকে দেখলো তার ভাই আর সানজিদা দাড়িয়ে কথা বলছে। সে ঠোঁট টিপে হেসে বলল।
— আসতে পারি?
ইমরান বোনকে দেখে বলল।
— হুম আয়।
— আমাকে রেখে তোমরা কি কথা বলছিলে।
— তেমন কিছু না। শোন একটু পর আমার রুমে আসিস একটু কথা আছে।
— ঠিকাছে।
ইমরান বেড়িয়ে যাওয়ার পরপরই সানজিদা কোমরে হাত রেখে ইশাতের দিকে ব্রু কুচকে তাকিয়ে বলল।
— তুমি তোমার ভাইয়াকে বলেছ আমি তাকে দেখে ভয় পেয়েছি?
ইশাত হেসে বলল।
— ওটা কথায় কথায় বলেছিলাম ভাইয়াকে। কেন ভাইয়া তোমাকে কিছু বলেছে?
সানজিদা অসহায় মুখ করে বলল।
— কি আর বলবে? আমার মানসম্মান সব গেল।
ইশাত কফির মগ এগিয়ে ধরে বলল।
— ভাইয়া হয়তো একটু মজা করেছেন তুমি শুধু শুধু এতো ভেবো না। নাও কফিটা ধরো।
কফি শেষ করে ইশাত সানজিদার বইয়ের চেপ্টারের সমস্যাগুলো সমাধান করে দিলো। পড়া শেষ করে দুজনএকসাথে বসে টুকিটাকি কথা বলছিল তখন মাগরিবের আজান পড়ে গেল। সানজিদাও তখন ফিরে গেল। ইশাত ওযু করে মাগরিবের নামাজ পড়ে নিলো। একটুপর ইমরান নামাজ পড়ে ফিরে আসতেই ভাইয়ের কথা মতো ইশাত ইমরানের রুমের সামনে গিয়ে দরজায় টোকা দিলো ভেতর থেকে আওয়াজ এলো।
— ভেতরে আয় ইশু।
ইশাত ভেতরে গিয়ে দেখলো ইমরান আনমনে মিটি মিটি হাসছে। ইশাতও তখন ফিক করে হেসে বলল।
— আমার অনুমান ভুল না হলে তোমার সানজিদাকে ভালো লেগেছে আর সেটা বলতেই তুমি আমাকে ডেকেছো তাই না?
ইমরান মাথা নাড়িয়ে বলল।
— আমার মনের কথা আমার বোন বুঝবে না তা কি হয়?
— আমি জানি আমার ভাই এতো পেঁচগোছের মানুষ না। তোমার সম্মতি থাকলে আম্মুকে বলে ওদের কাছে প্রস্তাব পাঠাবো?
— যেটা ভালো মনে করিস।
খুশিতে আটখানা হয়ে ইশাত বলল।
— অবশেষে আমার ভাইয়ের বিয়ে খেতে চলেছি। গেলাম তবে আম্মুকে জানাতে।
ইশাতের খুশি আর দেখে কে। ভাইয়ের সম্মতি পেতেই ইশাত উড়তে উড়তে উৎফুল্ল মনে চলে গেল মায়ের ঘরের দিকে।
চলবে ( ইনশাআল্লাহ ) ……………………
#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ১০
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা
সানজিদা পুরো রুমজুড়ে পায়চারি করে যাচ্ছে। দুশ্চিন্তায় তার মাথা কাজ করছে না। এতো ভাবাভাবি বাদ দিয়ে সে ফোন হাতে তুলে ইশাতকে কল লাগালো। অপরপাশে ইশাত কল তুলতেই সানজিদা অনর্গল বলে গেল।
— ইশাত শুনো আমি না একটা বিপাকে পড়েছি। কি করি বলো তো?
— কি হয়েছে বলো আগে আমাকে!
— আম্মু এসে হঠাৎ করে বলছে কাল নাকি আমাকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসছে। আমাকে নাকি তাদের আগে থেকেই পছন্দ। কথা বলে সব ঠিকঠাক হলে বিয়ে ফাইনাল করে যাবেন। হঠাৎ করে কিভাবে কি হচ্ছে কিচ্ছু বুঝে আসছে না আমার। ব্যাপারটা খুবই সিরিয়াস।
— সে কি ছেলের ছবি দেখেছ?
— না দেখি নি। তবে মা বলল ছেলে নাকি দেখতে শুনতে সব দিক দিয়ে পারফেক্ট। মা বাবার ছেলেকে নাকি দারুন লেগেছে। তারা এক পায়ে রাজি।
— তোমার কি ইচ্ছে? তুমি কি এখন বিয়ে করতে চাচ্ছ না?
— এমন না যে চাচ্ছি না। তবে অনেক নার্ভাস ফিল করছি।
— এমন লাগাটাই স্বাভাবিক।
— আমার চিন্তা হচ্ছে ছেলের পরিবারের মানুষ কেমন হবে, ছেলে কেমন হবে, আমাকে কেমন চোখে দেখবে সেসব নিয়ে।
— এতো চিন্তা করো না আল্লাহ ভরসা। যা হবে ভালোর জন্যই হবে।
— সেটাই যেন হয়।
— কাল যেহেতু তারা আসছে তাহলে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড় কেমন?
— ঠিকাছে।
ইশাতের সাথে কথা বলার পর মনে কিছুটা ভরসা পেল সানজিদা। সে অহেতুক চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। কিছুক্ষণের মাঝেই তার চোখ লেগে গেল। পরদিন ঘুম থেকে উঠেই সানজিদা দেখলো তার মা একা হাতে চুলায় রান্না বসিয়ে ঘরবাড়ি সুন্দর করে সাজাচ্ছেন সানজিদাকেও তাড়া দিচ্ছে কাজে হাত লাগাতে। সানজিদা মায়ের কথা মত ঘরবাড়ি গুছিয়ে নিলো।
দুপুর গড়ানোর আগেই সানজিদার মা সানজিদাকে তৈরি হতে পাঠিয়ে দিলো। সানজিদা গোসল সেরে নামাজ পড়ে সুন্দর জামাকাপড় পড়ে সময় নিয়ে একটু সাজগোজ করে নিলো। কিছুক্ষনপর দরজায় কলিংবেল বাজতেই সানজিদার মা দরজা খুলে দিলেন। মেহমানদের ভেতরে ঢোকার আওয়াজ পেতেই ব্যাকুলতায় সানজিদার হাত পা কাপাকাপি শুরু হয়ে গেল। সে নিজের মনকে শান্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মেহমানদের টেবিলে খেতে বসানো হয়েছে। বাহিরে বড়দের কথাবার্তা চলছে। একটুপর সানজিদার রুমে তার মা এলেন তাকে নিয়ে যেতে। ছেলে পক্ষ নাকি তাকে দেখবে। সানজিদা মায়ের হাত চেপে ধরে করুন দৃষ্টিতে তাকালো। মেয়ের অবস্থা বুঝতে পেরে তার মা তার মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে ভরসা দিয়ে বললেন।
— চিন্তা করিস না মা, ছেলে লাখে এক। তাদের পরিবারের সদস্যরাও অমায়িক তোকে ভালো রাখবেন। হাতে চায়ের ট্রে নিয়ে যা সালাম দিবি সুন্দর করে। আর তারা যা যা প্রশ্ন করে সুন্দর করে সেটার উত্তর দিবি কেমন?
সানজিদা শব্দহীন উপর নিচ মাথা দোলালো। মায়ের কথা মত রান্নাঘর থেকে ট্রে হাতে নিয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে এগোলো যেখানে তাদের বসানো হয়েছে। মাথা নিচু করে রুমে ঢুকেই সে কাপা কাপা হাতে ট্রেটা টেবিলে রাখলো। সামনে কে বসে আছে একটু মাথা তুলেও দেখার সাহস পেলো না। ইশাতের মা তখন উঠে সানজিদার হাত ধরে তাকে পাশে বসালেন। পরিচিত কন্ঠ কানে আসতেই সানজিদা চমকে সামনে তাকালো। তাতে যেন সে আরো কয়েক ধাপে বোকা বনে গেল। সামনেই ইশাত আর তার ভাইয়াও বসা তাহলে ছেলে পক্ষ কই? তারা এখানে কেন? সানজিদার অবস্থা দেখে ইমরান ঠোঁট টিপে হাসছে।
সানজিদাকে বিস্মিত হতে দেখে ইশাত ঠোঁটে মিষ্টি হাসি নিয়ে সুধালো।
— আমরাই কিন্তু ছেলে পক্ষ তুমি আবার গুলিয়ে ফেলো না কিন্তু।
সানজিদা ঘুরে তার বাবা মার দিকে একবার তাকালো দেখলো তার বাবা মাও হাসছে। সানজিদা কাদোকাদো মুখ করে বলল।
— তোমরা সবাই আমাকে বোকা বানিয়েছ তোমারও এতে জড়িত ছিলে তাই না?
ইশাতের মা তখন ভালোবাসার সাথে সানজিদাকে বুঝিয়ে বললেন।
— মা তুমি যদি বিয়েতে রাজি না হও তবে আমরা তোমাকে কোনো জোরাজুরি করব না। তোমার সম্মতি পেলেই কথা এগোবে নয়তো না। তুমি কি রাজি নাকি সেটা জানাও।
সানজিদা সংকোচবোধ করছে দেখে সানজিদার মা মেয়ের হয়ে বললেন।
— আমার মনেহয় ছেলে মেয়েকে একটু আলাদা কথা বলতে দেওয়া উচিত। ওরা ওরা সিদ্ধান্ত নিক।
ইশাতের মা তখন নিজের মত জানিয়ে বললেন।
— আপনারা কিছু মনে না করলে বিয়ের আগে যেহেতু ছেলে মেয়েকে একা কথা বলতে দেওয়াটা ইসলাম সম্মত নয় তাই আমি সাথে ইশাতকে পাঠাতে চাচ্ছিলাম।
আসিয়া বেগমের কথায় সানজিদার বাবা মা দুজনেই সম্মতি জানিয়ে বললেন।
— কোনো সমস্যা নেই। ওরা দুজন কথা বলে দুজন দুজনের মধ্যে বুঝ করে নিলেই হলো।
বড়দের অনুমতি পেয়ে ইশাত ইমরানকে আসতে বলে সানজিদাকে নিয়ে অন্য রুমে চলে গেল। সানজিদা ইশাতকে একা পেতেই সংকোচ ভয় সব কাটিয়ে কোমরে হাত দিয়ে চোখ ছোট ছোট করে বলল।
— তোমারা ভাই বোন মিলে আমাকে বোকা বানালে। আর বিশেষ করে তুমি তো সব জেনেও না জানার ভান ধরলে! কাল কলেও সব লুকালে।
ইশাত ঠোঁট উল্টে বলল।
— আগে থেকে জানিয়ে দিলে তো সারপ্রাইজড হতে না।
ততক্ষণে ইমরান রুমে ঢুকে সানজিদাকে শুনিয়ে বলল।
— কিরে ইশাত তুই না বলেছিলি মেয়েটা অনেক লাজুক। কোনো কথাই বলতে জানে না। সেটা দেখেই না আমি তাকে পছন্দ করেছিলাম।
ইমরানের কথার পারদে সানজিদা মাথায় ঘোমটা ভালোমত টেনে চোখের পলক ঝাপটে মেকি লাজুকতা দেখিয়ে বলল।
— না না আমি তো লাজুকই।
সানজিদার কান্ডে ইমরান আর ইশাত দুজনেই হেসে ফেললো। ইমরান হাসি থামিয়ে সিরিয়াস হয়ে বলল।
— এর মানে কি তুমি বিয়েতে রাজি?
সানজিদা মুখে কিছু না বললেও মাথা দুলালো। ইমরান আবারো প্রশ্ন করলো।
— তুমি চাইলে বিয়েটা পিছাতে পারি। তোমার পড়াশোনায় যদি কোনো সমস্যা হয়। সবে মাত্র অনার্স শুরু করলে।
সানজিদা সাথে সাথে নাকচ করে বলল।
— না না পড়াশোনা থেকে বাঁচার জন্যেই তো বিয়েটা করতে চাচ্ছি।
এমন উত্তর ইমরান মোটেও প্রত্যাশা করে নি। সে কপাল কুঁচকে সানজিদার পরিকল্পনায় পানি ঢেলে দিয়ে বলল।
— এই মেয়ে! এতো লাফিয়ে লাভ নেই। বিয়ের পরও তোমাকে সেই পড়াশোনাই করতে হবে। চাকরির বিষয়টা অন্য সেটা সম্পূর্ণ তোমার ইচ্ছা তুমি চাইলে করতেও পারো আবার নাও করতে পারো। কিন্তু পড়াশোনায় কোনো ছাড় দিতে দিবো না আমি। মূর্খ বউ আমি ঘরে তুলব না।
ইমরানের মুখে এমন তেতো কথা শুনে সানজিদা অসহায় দৃষ্টিতে ইশাতের দিকে তাকালো। ইশাত এই দৃষ্টির অর্থ বুঝে বলল।
— আমার কিছু করার নেই সানজিদা, ভাইয়া বরাবরের মতোই পড়াশোনা নিয়ে সিরিয়াস।
ইমরান তখন সানজিদার মত জানতে চেয়ে বলল।
— এবার বলো বিয়ে করতে চাও আমাকে? তুমি তো নাকি আবার আমাকে ভয় পাও।
সানজিদা চুপসে যাওয়া মুখ নিয়ে গলা কিছু করে বললো।
— ভয় পাই বলেছি। অপছন্দ করি সেটা তো আর বলি নি।
— এর মানে তুমি রাজি?
সানজিদা নিঃশব্দে মাথা দোলালো। ইমরান তার সম্মতি পেয়ে বলল।
— আমাকে নিয়ে কিছু জানার নেই তোমার?
আস্কারা পেয়ে সানজিদা এবার সংকোচ থেকে বেরিয়ে বলতে লাগলো।
— আপনার বিষয়ে প্রায় প্রায়ই ইশাতের কাছে জেনেছি। আপনার ছবিও দেখেছি ওর কাছে। আপনার প্রত্যেকটা বিষয় ভালো লাগতো বলেই প্রথমবার দেখাতে থতবত লেগে গিয়েছিলাম।
— ঠিকাছে তাহলে বাহিরে গিয়ে সবাইকে নিজের মত জানিয়ে দাও আমি সেখানেই অপেক্ষা করছি।
ইমরান যাওয়ার পরপরই ইশাত সানজিদাকে জড়িয়ে ধরে বলল।
— আল্লাহ চাইলে তুমি আমার ভাবি হতে চলেছ। এবার বলো নিজের ননদকে কেমন লেগেছে তোমার?
সানজিদাও ইশাতকে জড়িয়ে ধরে খুশিতে বলল।
— দারুন।
বাহিরে সবাই অধীর আগ্রহে সানজিদার মতের অপেক্ষা করছিল। সানজিদা গেলেই তাকে প্রশ্ন করা হলো। সে চুপচাপ ইশাতের হাত চেপে ধরে মাথা দুলিয়ে তার সম্মতি জানিয়ে দিলো। সানজিদার বাবা মা খুশি হয়ে বললেন।
— আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মেয়েকে সব ধরনের রান্না শিখিয়েছি। ঘরের সব কাজ সে জানে। আপনাদের কোনো সমস্যা হবে না।
ইশাতের মা আসিয়ে বেগম তাদের ভুল ধারণা ভেঙে দিয়ে বললেন।
— আমি সানজিদাকে নিজের আরেকটা মেয়ে করে ঘরে তুলতে চাই। কাজের মেয়ে হিসেবে না। সানজিদার দায়িত্ব হবে তার স্বামীর সেবা করা আমাদের না। আর তা ছাড়া ও নামাজ, রোজা আর পর্দা ঠিক রেখে চললে আমার আর কোনো কিছুতেই আপত্তি নেই। আমার শুধু এতটুকুই চাওয়া। রান্নার বিষয়টা সে মন চাইলে সখের বসে করলে করবে কোনো জোরাজুরি নেই। যেমনটা আমার মেয়ের ক্ষেত্রে।
সানজিদার মা খুশি হয়ে বললেন।
— আপনার কথা শুনেই মনটা ভরে গেল। দোয়া করি আমার মেয়েটা যেন সব সময় এভাবেই আপনাদের ভালোবাসার ছায়াতলে থাকে, সুখে থাকে।
আসিয়া বেগম তখন ব্যাগ থেকে একটা স্বর্ণের আংটি বের করে সানজিদাকে পরিয়ে দিলেন আর হাতে পাঁচ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললেন।
— আংটিটা আপাতত আমিই পরিয়ে দিলাম।
সানজিদার মা তখন বলে উঠলেন।
— আপা যৌতুকের বিষয়টা…
আসিয়া বেগম সানজিদার মাকে কথার মাঝেই থামিয়ে বললেন।
— এসব কি বলছেন আপা। এই যুগে এসেও যৌতুকের কথা তুলছেন? আপনারা এতো বছর কষ্ট করে মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে খাইয়ে পরিয়ে বড় করে আমাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এর থেকে বেশি আর কি হতে পারে আমাদের জন্য। আপনার মেয়ে আমাদের কাছে আমানত উল্টো আমাদের উচিত আপনাকে শুকরিয়া করা নিজের ঘরের একমাত্র জান্নাতকে আমাদের ঘরে তুলে দেওয়ার জন্যে। একজন মেয়ের বাবা মায়ের জন্য এটা অনেক কষ্টের একটা মুহূর্ত।
সানজিদার মা নিজের প্রস্তাবে লজ্জিতবোধ করে কথা ঘুরিয়ে বললেন।
— বিয়ের দিন তারিখ তাহলে ঠিক করে নেই?
আসিয়া বেগম কথা পাকা করতে বললেন।
— আমার ছেলে তো এই সপ্তায় কাজে ফিরছে তাই চাচ্ছি এর মধ্যেই বিয়েটা ছোটখাটো করে সেরে ফেলি। আমার মতে বিয়ের কাজটা তাড়াতাড়ি সেরে ফেলাই ভালো।
সানজিদার মা তখন অসহায় মুখ করে বললেন।
— আমাদের যেহেতু একটা মাত্র মেয়ে তাই চাচ্ছিলাম বড় করে বিয়েটা করতে। এই কম সময়ের মধ্যে কিভাবে….
সানজিদার মায়ের আকুতি বুঝে আসিয়া বেগম ইমরানকে উদ্দেশ্য করে বললেন।
— ইমরান তুই তাহলে আরো এক সপ্তাহ বলে ছুটি বাড়াতে পারবি? ওনাদের একটা মাত্র মেয়ে কতশত সখ আহ্লাদ রয়েছে তাদের।
মায়ের কথায় ইমরান ভেবে বলল।
— ঠিকাছে বিষয়টা আমি দেখছি।
___________________________
পরদিন ইশাত আর আসিয়া বেগম দুই মা মেয়ে বসে আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াতের লিস্ট তৈরি করছে। ইমরানের ছুটি বাড়ানোতে সবাই ভেবেচিন্তে আগামী শুক্রবারে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করেছেন। আসিয়া বেগম দাওয়াতের লিস্টে আসিফদের নাম লিখলে ইশাত মায়ের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে বলল।
— ওদেরকেও বলবে আম্মু?
— হ্যা বলবো, ওরাও তো ধরতে গেলে আমার কাছের মানুষই। না বললে কষ্ট পাবে না তোমার আন্টি?
ইশাতও সেদিকটা ভেবে বলল।
— ঠিকাছে বলো তাহলে।
আসিয়া বেগম তাড়া দিয়ে বললেন।
— বিয়ের শপিং করতে হবে কাল কার্ড বানাতে দিতে হবে আত্মীয়দের বাসায় কার্ড বিতরন করে আসতে হবে। ইভেন্ট ম্যানেজারদের সাথে কথা বলতে হবে। অনেক কাজ পড়ে আছে সময় নেই হাতে বেশি।
ঠিক তখন পেছন থেকে ইমরান এসে মায়ের চাপ কমিয়ে দিয়ে বলল।
— আম্মু তোমাকে এতো প্রেশার নিতে হবে না তোমার ছেলে বেঁচে থাকতে। কার্ড আমি বানাতে দিয়ে এসেছি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজও হয়ে গেছে। তুমি শুধু শপিংয়ের বিষয়টা দেখো আম্মু।
ইশাতও ভাইয়ের সাথে তাল মিলিয়ে বলল।
— আমিও সানজিদাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে ও কি নিতে চায় বিয়ের জন্য। তখন ও আমাকে বলেছে আমাদের পছন্দমতই ও পড়বে।
আসিয়া বেগম খুশি হয়ে বললেন।
— মাশাআল্লাহ, মেয়েটা বেশ বিনয়ী।
ইশাত মায়ের সাথে সহমত হয়ে বলল।
— ঠিক বলেছ আম্মু।
ইমরান তখন বোনের উদ্দেশ্যে বলল।
— তুই কি নিতে চাস ইশাত বিয়ের জন্যে?
— আমি তো কিছুদিন আগেই আদিবার বিয়েতে একটা লেহেঙ্গা নিয়েছিলাম। আমি ওটাই পড়বো।
— উহু তোকে নতুন একটা নিয়ে দিব।
— না ভাইয়া ওটাও নতুন মাত্র একদিন পড়া হয়েছে। নতুন নেওয়া মানে অপচয়। শুধু শুধু টাকা নষ্ট করো না তো। এমনিতেই বিয়েতে অনেক টাকা খরচ হবে তোমার।
ইমরান অসন্তুষ্ট হয়ে বলল।
— আমি যেটা বলেছি সেটাই হবে। শুধু লেহেঙ্গা কেন তোর যা যা লাগে সব নিবি। যত টাকায় লাগুক আমি দিব। বউয়ের জন্য নিতে পারলে তোকে কেন নিয়ে দিতে পারব না? আমার বিয়েতে আমার বোন কেনাকাটা করবে না তো কে করবে? এ বিষয়ে টাকার হিসাব আমাকে দেখতে আসবি না একদম।
ইশাত উঠে ভাইকে জড়িয়ে ধরে বলল।
— ভাইয়া তুমি এতো ভালো কেন বলো তো! সব সময় আমার সব ইচ্ছা পূরণ করেছ। আমি চাওয়ার আগেই সব হাজির করেছ। আজ তোমার বিয়ে উপলক্ষেও নিজের কথা না ভেবে আমার কথাই ভাবছো।
ইমরান বোনের মাথায় হাত রেখে বলল।
— তুই জানিস বাবার মৃত্যুর পর আমি তোকে নিজের হাতে আগলে বড় করেছি। কোনো আচর পর্যন্ত তোর গায়ে লাগতে দেই নি। আজও ভাইয়ের কাছে তুই সেই ছোট্ট পুতুলটিই আছিস। আমার কাছে অমুল্য তুই ইশু। যতদিন তোর এই ভাই বেঁচে আছে ততদিন তোকে পুতুলের মতই সাজিয়ে রাখবো। সকল বিপদ থেকে আগলে রাখব।
পাশেই দাড়িয়ে থেকে ভাই বোনের ভালোবাসা দেখে আসিয়া বেগমের চক্ষু শীতল হয়ে এলো। তিনি এগিয়ে এসে দুজনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে গেলে ইমরান মায়ের জন্য মাথা নিচু করে বাড়িয়ে দিলো। আসিয়া বেগম দুজনকে দোয়া করে বললেন।
— আল্লাহ সর্বদা তোমাদের সম্পর্ক এমন অটুট রাখুক। দোয়া করি যেন আমার মৃত্যুর পরেও তোমরা একে অন্যের দুঃসময়ে ঢাল হয়ে পাশে দাঁড়াতে পারো। দুজন দুজনের শক্তি হতে পারো।
ইমরান মাকে জড়িয়ে ধরে বলল।
— এমনটা বলো না আল্লাহ তোমাকে নেক হায়াত দান করুক যেন আমাদের ভালো সময়গুলোতে তুমি পাশে থেকে আমাদের আরো বেশি বেশি করে দোয়া দিতে পারো। বাবার ছায়া মাথা থেকে অনেক আগেই সরেছে সেটা নাহয় মানিয়ে নিতে পেরেছি। কিন্তু তোমার ছায়া যেন মাথায় আজীবন টিকে থাকে।
ইশাতও ছোট্ট বিড়াল ছানার মতো মায়ের বুকে মাথা রেখে বলল।
— আমিন।
নিজের সন্তানদের বুকে আগলে আসিয়া বেগম মনে মনে দোয়া করে বললেন।
“আল্লাহ আমার সন্তানদের মনের সকল ইচ্ছা তুমি পূরণ কর। তাদের জীবনের প্রত্যেকটা পর্যায়ে সফলতা দান কর। তাদের এই দুনিয়াতে তুমি ব্যতীত সাহায্য করার মতো আর কেউ নেই। তারা তোমার রহমত ব্যতীত নিঃস্ব।”
চলবে ( ইনশাআল্লাহ )……………………..

