#খুঁজেছি_তোকে (০৭)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
[দয়া করে নিচের নোটটুকু সবাই পড়বেন]
________________
ঠান্ডা শীতল একটা হাত নূরা’র কোমড় জড়িয়ে ধরে। সহসা এমন হওয়ায় নূরা ঘাবড়ে গেলো। নূরা ভয় মিশ্রিত চোখে তাকালো মানুষটার দিকে। তাকাতেই দেখতে পেলো সামিরের মুখাবয়ব। সামির তার দিকে তাকিয়েই ঠোঁট টিপে হাসছে। নূরা এখনো মানুষ টার দিকে আছে। সামির হিসহিসিয়ে বলল,
“- কি ভাবছিলেন মিসেস চৌধুরী ? এই সামির থাকতে অন্য কেউ আপনাকে স্পর্শ করার সাহস দেখাবে উহু?
নূরা সামিরের থেকে চোখ সরিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,
“- হাত টা সরান স্যার।
নূরা’র কথা’য় সামির আরও জোরে চেপে ধরে। নিজের শরীরের সাথে চেপে নেয়। সামিরের স্পর্শে আবারও কেঁপে ওঠে নূরা। এই প্রথম কোনো পুরুষ নূরা’র এতটা কাছে। নূরার হৃৎস্পন্দন খুব দ্রুত উঠানামা করছে। এত এত মানুষের সামনে এত ঘনিষ্ঠ দাঁড়িয়ে থাকা নূরা’র কাছে লজ্জার। নূরা লজ্জায় মরি মরি অবস্থা। নূরা এক হাত সামিরের হাতের উপর রেখে সরিয়ে দিলো কিন্তু সামিরের হাত নূরা’র কোমড় থেকে এক চুল পরিমাণ ও সরল না। নূরা আবারও চেষ্টা করল। সামির এবার আরও শক্ত করে চেপে ধর নূরা কে। নূরা রেগে সামিরের দিকে তাকায়। সামির ঠোঁট চেপে হাসছে। নূরা দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“- আপনি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছেন স্যার! হাত সরান সবাই দেখছে।
“- দেখলে দেখুক তাতে আমার কি? আমি কি অন্য নারীকে স্পর্শ করছি নাকি আমি তো আমার বিয়ে করা বউয়কে ছুয়েছি। তাতে মানুষের কি?
নূরা দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
“- আপনার হাত সরান নয়তো কিন্তু আমি কিছু ঘটিয়ে ফেলবো। আমাকে রাগায়েন না।
সামির ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“- কি করবে শুনি?
“- আপনার মাথা ফাটিয়ে দিবো।
সামির হাসল। নূরা’র কথার প্রতিত্তোরে কিছু না বলে ক্যামেরাম্যান কে বলল,
“- হেই মামা, ওদের ছবি পরে তুইলেন আগে আমার বউয়ের সাথে ছবি তুলে দেন।
সামিরের কথা শুনে নূরা চোখ বড়বড় করে তাকায়। সামিয়া তো সামিরের আর নূরা’র দিকে তাকিয়ে হাসছে। সেখানে উপস্থিত কম বেশি সবার কানে কথা টা পৌঁছেছে। বড়ো রা না শোনার ভান করলেও ছোটো তা করে না। সামির নূরা’র ভাই বোনেরা যারা দুরে ছিল তারাও সবাই কাছে এসে দাঁড়ায়। নিহাল আর সায়ন স্টেজের কাছেই বসে ছিল। সামিরের বলা কথা শুনে একে অপরের দিকে হা হয়ে তাকায়। তারপর দু’জনে হেসে ওঠে। বড়ো ভাই হয়ে কিছু বললে নূরা লজ্জা পাবে সেজন্য নিহাল চুপ রইল কিন্তু সায়ন সে বড়ো হলেও চুপ রইল না। কারণ ওরা দু’জন ভাই বোন কম বন্ধুর মতো আচরণ বেশি করে। তাই তো সায়ন চিল্লিয়ে বলল,
“- জিজু ইউ আর দ্য বেস্ট।
সামির মুচকি হাসল। নূরা লজ্জায় মুখ তুলে তাকাতে পারছে না মনে মনে সামিরের চৌদ্দ গুষ্ঠি রে ধুয়ে দিচ্ছে সামির হাত আলগা করতেই নূরা সরে দাঁড়াল। কিন্তু বেশি দুরে যেতে পারল না। সামির ক্যামেরা ম্যান সহ নূরা’র কাছে এসে দাঁড়ালো।
ক্যামেরা ম্যান দু’জন কে একসাথে সুন্দর করে দাঁড়ালো। নূরা যত সরে সরে দাঁড়াচ্ছে সামির তত কাছে গিয়ে দাড়াচ্ছে। তা দেখে ক্যামেরা ম্যান বলল,
“- ম্যাম আরেকটু কাছে না দাঁড়ালে ছবি সুন্দর উঠবে না। আপনি প্লিজ স্যারের কাছে এসে দাঁড়ান।
নূরা ঝাঝালো গলায় বলল,
“- সুন্দর ছবি দিয়ে কি আপনি ভাত খাবেন ভাই? যেভাবে আছি সেভাবে ছবি তুলতে পারলে তুলেন নয়তো বাদ দেন।
কথাটা বলে নূরা সামিরের দিকে তাকিয়ে ভয়ে চুপসে গেলো। কারণ সামির রাগী দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। নূরার কথা শুনে ক্যামেরা ম্যানের মুখ কালো হয়ে যায়। নূরা ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে আমতা আমতা করে। সামির কিছু না বলে সোজা নূরা’র কাছ ঘেসে দাঁড়িয়ে নূরা’র কাঁধের উপর হাত রাখল
সামির নূরা কে নিজের আরও কাছে টেনে নিয়ে ক্যামেরাম্যান কে উদ্দেশ্য করে বলে,
“- হেই ভাই আপনি যত পারেন ছবি তুলেন। থামবেন না। আপনার ক্যামেরা ফুল না হাওয়া পর্যন্ত আপনি ছবি তুলেই যাবেন।
ক্যামেরা ম্যান হেসে প্রস্তুতি নিলো। নূরা রাগী চোখে সামিরের দিকে তাকায়। সামির নূরা’র দিকে তাকিয়ে হাসছে। ক্যামেরা ম্যান সাথে সাথে ছবি ক্লিক করে। আর সামির নূরা’র খুব সুন্দর একটা ছবি ক্যামেরা বন্দি হয়ে যায়। একজন হাসছে আরেকজন রাগী চোখে তাকিয়ে আছে। সত্যি ছবিটা মারাত্মক সুন্দর হয়েছে। এভাবে নূরা’র ইচ্ছা না থাকা স্বত্তেও সামিরের সাথে ছবি তুলতে হলো।
,
,
ছবি তোলা শেষ হতেই নূরা রেগে স্টেজ থেকে নেমে গেলো। যাওয়ার সময় অসাবধানতা বশত একজন ওয়েটারের সাথে ধাক্কা লেগে নূরা’র শাড়িতে অনেক টা জুস পড়ে যায়। ওয়েটার সাথে সাথে বলে,
“- সরি ম্যাম, আমি আসলে বুঝতে পারিনি এমন টা হয়ে যাবে। আপনি প্লিজ কিছু মনে করেন না।
নূরা’র রাগ হলেও ছেলে টার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে পারল না। ছেলে টা করুন চোখে তার কাছে মাফ চাইছে। নূরা হাসি মুখে ইট’স ওকে বলে চলে আসে। হঠাৎ করে কোথা থেকে একটা মেয়ে এসে নূরা’র সামনে দাড়ায়। সহসা এমন হওয়ায় নূরা কিছু টা পিছনে গেলো। মেয়ে টা হাসি মুখে বলে,
“- ভাবি তোমার শাড়িতে তো অনেক জুস লেগে গেছে চলো তোমায় ওয়াশরুমে নিয়ে যায়।
নূরা মেয়ে’টার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকালো। মেয়ে টার বয়স কম হবে। এই যেমন পনেরো ষোলো বছর হবে। মেয়ে টার কথা শুনে মনে মনে বলে, বাহ্ এ তো মেঘ না চাইতেই জল। আমি তো ওয়াশরুমে যাবো বলেই যাচ্ছিলাম কিন্তু ওয়াশরুম না চেনার কারণে বুঝতে পারছিলাম না কোন দিকে যাবো। মেয়ে টা এসে ভালোই করেছে। কিন্তু মেয়ে টা কে? প্রশ্ন জাগে নূরা’র মনে। মনের ভেতর জমিয়ে না রেখে বলে,
“- কিন্তু তুমি কে?
মেয়ে টা হেঁসে বলে,
“- আমি তোমার ছোট্ট ননদিনী ভাবিমনি।
নূরা ভ্রু কুঁচকে বলল,
“- তুমি ননদ হও। কিন্তু আমি তো তোমায় চিনি না।
মেয়ে টা মিষ্টি হেসে বলল,
“- তুমি আমায় চিনো না কিন্তু আমি তোমায় চিনি ভাবিমনি। এখন এত কথা বলে সময় নষ্ট না করে জলদি চলো তোমায় ওয়াশরুমে নিয়ে যায়।নয়তো পরে দেখা যাবে শাড়িটা দেখতে খারাপ লাগছে।
মেয়ে টার কথা শুনে নূরা আর কথা বাড়ালো না। চুপচাপ মেয়ে টা র সাথে আগাতে লাগল। মিষ্টি মেয়ে টা নূরা কে নিয়ে দোতলার একটা রুমে নিয়ে গেলো। নূরা জানে না রুম টা কার। এত যেনে নূরা’র কোনো লাভ নেই। তাই জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করেনি৷ চুপচাপ রুমে ঢুকে পড়ে। মেয়ে টা হেঁসে বলল,
“- তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও ভাবিমনি। আমি তোমার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছি।
নূরা মুচকি হেঁসে মাথা নাড়লো। আর মেয়ে টা দৌড়ে বাইরে চলে গেলো। নূরা আর সময় ব্যয় না করে ওয়াশরুমে চলে গেলো।
,
,
মিনিট পাঁচেক পর নূরা ফ্রেশ হয়ে বাইরে বের হলো। হাতে কিছু টিস্যু পেপার। সেটা দিয়ে মুখ মুছছে। মুখ মুছতে মুছতে নূরা’র চোখ গিয়ে পরে দেয়ালের একটা অ্যালবামে। সেখানে একজন যুবক হাস্যজ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছে। নূরা ছবি টার দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর হুশ আসতেই সে আশেপাশে তাকাল। আপনাআপনি নূরা’র হাত মাথায় চলে গেলো। পুরো রুমে এক বার চোখ বুলিয়ে নেয়। কারণ নূরা বুজে গেছে এটা সামিরের রুম। আর মেয়ে টা তাকে এই রুমে ইচ্ছে করে নিয়ে এসেছে। এখান থেকে দ্রুত বের হতে হবে নয়তো দেখা যাবে সামির স্যার এসে তার সাথে আবার…!
না না এখানে আর এক মুহূর্ত থাকা যাবে না।
নূরা চলে যাবে ঠিক তখনই পিছন থেকে শাড়িতে টান পড়ে। নূরা ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে ঘাড় কাত করে তাকায়। সামির নূরা’র দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসছে!
চলবে~
রিচেক দেওয়ার সময় পায়নি৷ ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

