#গোধূলি_বিকেলে_তুমি_আমি❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ১৭
________________
আচমকাই অভ্রের ধমক শুনে ধড়ফড়িয়ে উঠলো ইউনুস। তক্ষৎনাত সামনে তাকিয়ে ভয়ার্ত গলায় বললো সে,
‘ আপনি এসেছেন স্যার?’
উওরে খানিকটা ক্ষিপ্ত মেজাজ নিয়েই বললো অভ্র,
‘ আমি এসেছি নাকি তুমি এসেছো ইডিয়েট?’ গাড়ি থেকে বের হও সেই কখন গিয়েছিলে আর এখন গাড়ির ভিতর বসে আমায় ডাকছো?’
অভ্রের কথা শুনে আর দেরি করলো ইউনুস তক্ষৎনাত গাড়ি থেকে বের হতে নিলো সে। আর বের হতে গিয়েই হোঁচট খেয়ে নিচে পড়ে যেত নিলো ইউনুস। ইউনুসের কান্ডে হেঁসে ফেলে আদ্রিজা। তবে সেই হাসিটা বেশিক্ষণ ঠোঁটে না চেপে রেখে নিজেকে সামলে নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে আদ্রিজা।’
এদিকে,
ইউনুস হতভম্ব হয়েই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। বললো,
‘ আই এম সরি স্যার,
ইউনুসের কথা শুনে ধমকের স্বরে বললো অভ্র,
‘ সরি মাই ফুট। কাল সারারাত কোথায় ছিলে তুমি?’
অভ্রের ধমক শুনে আমতা আমতা করে বললো ইউনুস,
‘ একচুয়ালি হয়েছিল কি স্যার কাল আমি আর ড্রাইভার যখন মেকানিকের দোকানে পৌঁছাই তখন ওইখানের দোকানটা বন্ধ ছিল। পরে আর একটু সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যে হুট করেই ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। তাই আমরা আর আসতে পারি নি। ওখানেরই একটা বাড়িতে সাহায্যের জন্য ঢুকেছিলাম। পরে জানতে পারি আমরা যে দোকানের মেকানিককে খুঁজতে গিয়েছিলাম তাঁরই বাড়ি ওইটা। কিন্তু ঝড়বৃষ্টির জন্য আর এদিকে আসতে পারি নি স্যার। পরে ঝড় বৃষ্টি থামতেই ভোর হওয়ার আগেই ওই মেকানিককে নিয়ে এখানে চলে আসি স্যার।গাড়িটা ঠিক করিয়েও নেই। কিন্তু আপনাদের কোথাও খুঁজে পাই নি। বিশ্বাস করুন আমি তন্নতন্ন করে আশেপাশে খুঁজেছি আপনাদের কিন্তু পাই নি। অনেকবার ফোনও করেছি আপনায় কিন্তু আপনার ফোনে কল যাচ্ছিল না। আচ্ছা আপনারা ছিলেন কই স্যার?’
উওরে অভ্রও বেশি না ভেবে বলে,
‘ আমরা তো ওই ব্রিজের নিচে ছিলাম।’
‘ ওহ ওখানেও যেতে চেয়েছিলাম স্যার কিন্তু নিচে নামার জায়গাটা কাঁদায় পিছলে থাকায় আর যেতে পারে নি।’
এমন সময় হাতে দু’কাপ দুধ চা নিয়ে এগিয়ে আসতে লাগলো ড্রাইভার। বললো,
‘ ইউনুস স্যার আপনার দুধ চা,,
ড্রাইভারের কান্ডে চোখ মুখ ছানাবড়া হলো ইউনুসের। বললো,
‘ কিসের দুধ চা,
ইউনুসের কথা শুনে ড্রাইভার অবাক হয়ে বললো,
‘ কেন স্যার আপনি যে এইমাত্র আনতে বললেন সেটা, আপনার জন্য সকাল সকাল দোকানদারের ঝাড়ি খেয়ে চা আনলাম আর আপনি বললেন কিসের চা।’
ড্রাইভারের কথা শুনে একবার অভ্রের দিকে তাকালো ইউনুস। গম্ভীর চেহারা নিয়ে তাকিয়ে আছে অভ্র তাঁর দিকে। অভ্রের চাহনী দেখে শুঁকনো ঢোক গিলে বললো ইউনুস,
‘ স্যার মিথ্যে বললে শুনবেন কি?’
‘ ওখানে আমরা সারারাত বৃষ্টিতে ভিজে বসে ছিলাম আর তুমি এখানে চা খাচ্ছিলে ইউনুস। এ মাসের মাইনে কাটা যাবে তোমার।’
অভ্রের কথা শুনে ইউনুস কাঁদো কাঁদো ফেস নিয়ে বললো,
‘ এমন করবেন না স্যার আমার বাড়িতে তিনটে বাচ্চা না থুক্কু দুটো ছোট ছোট বাচ্চা আর একটা বউ আছে। দেখুন স্যার চা তো আমি খাইনি জাস্ট আনছিলাম। এক কাজ করুন এই দুটো চা আপনারা দুজন খেয়ে নিন। ভালো লাগবে।’
এই বলে ড্রাইভারের হাত থেকে চায়ের কাঁপ দুটো নিয়ে আদ্রিজা আর অভ্রের হাতে দিতে নিলো ইউনুস। ইউনুসের কান্ডে অভ্র বলে উঠল,
‘ তোমার চা তুমি খাও ইউনুস।’
উওরে ইউনুস হতাশ হয়ে বললো,
‘ এভাবে বলবেন স্যার আমরা আমরাই তো এই ফুড়ফুড়ে সকালে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে দুধ চা খাওয়ার মজাই আলাদা। আপনারা এই দুটো খান, আমি আর ড্রাইভার গিয়ে অন্য দুটো এনে খাচ্ছি। তারপর বাড়িও তো ফিরতে হবে স্যার। খেয়ে নিন স্যার দেখবেন ভালো লাগবে।’
ইউনুসের কথা শুনে অভ্র কিছুক্ষন ভাবলো। কিন্তু পরক্ষণেই ইউনুসের জোড়াজুড়িতে নিয়ে নিলো সে। আদ্রিজার হাতেও একটা চায়ের কাপ ধরিয়ে দিল ইউনুস। যদিও আদ্রিজাও নিতে চায় নি প্রথমে কিন্তু পরক্ষণেই ইউনুসের বলা কথা ‘ আরে লজ্জা পাওয়ার মতো কিছু নেই আমরা আমরাই তো’ কথাটা শুনে নিয়ে নেয় আদ্রিজা। হাসে আনমনেই।’
অতঃপর খোলা আকাশের মাঝে ব্রিজের কর্নারে দাঁড়িয়ে পাশাপাশি চা খায় আদ্রিজা আর অভ্র। অভ্রের প্রথমে জিনিসটা ভালো না লাগলেও পরক্ষণেই ভালো লাগে বিষয়টা।’
____
পাশাপাশি গাড়িতে বসে চুপচাপ এগিয়ে চলছে আদ্রিজা আর অভ্র। দুজনেই চুপচাপ। কারো মুখে কোনো কথা নেই। পুরো একটা রাত কিভাবে কাটলো এটা ভেবেই কিছুটা হতভম্ব দুজন। হঠাৎই ইউনুস বলে উঠল,
‘ চা টা কিন্তু দারুণ ছিল বস?’
‘ হুম নেক্সট টাইম আবার আসবো এখানে।’
অভ্রের কথা শুনে কিছুটা এক্সাইটিং ভাব নিয়েই বলে উঠল ইউনুস,
‘ সত্যি স্যার,
উওরে অভ্র হতভম্ব হয়ে বললো,
‘ আমাদের বাড়ি ফিরতে হবে ইডিয়েট বাড়ির সবাই টেনশন করছে হয়তো। বেশি প্যাক প্যাক না করে গাড়িটাকে জোরে চালাতে বলো ইউনুস?’
অভ্রের কথা শুনে খানিকটা হতাশ হয়ে বললো ইউনুস,
‘ কি স্যার আপনিও না সবকিছুতেই রাগ দেখান। আর ড্রাইভার কাকু গাড়ি জোরে চালান। বস রেগে গেছে কিন্তু।’
উওরে ড্রাইভার হাসলো। এই ইউনুসকে দিনে কতবার অভ্রের কাছে বকা খেতে দেখেছে সে তার হিসাব নেই। অতঃপর তেমন কোনো ঝামেলা ছাড়াই চলে গেল অভ্র আর আদ্রিজা। শুরুতে আদ্রিজাকে ওদের বাড়ি নামিয়ে দিয়ে চলে যায় অভ্র।
আজ আর অভ্রকে বাড়ি যাওয়ার জন্য বলে নি আদ্রিজা। কারন অভ্র এমনি খুব রেগে ছিল। আর এই মুহূর্তে অভ্রকে বাড়ি যাওয়ার কথা বলাটা ঠিক হবে না বলে মনে করে আর বলে নি আদ্রিজা।’
জোরে নিশ্বাস ছাড়লো আদ্রিজা। নিজেদের বিল্ডিংটার দিকে তাকিয়েই তক্ষৎনাত এগিয়ে চললো সে বাড়ির ভিতর না জানি মা বাবা কত চিন্তা করছে তাঁর জন্য। আজ মা হয়তো বকতে বকতেই শেষ করে দিবে তাঁকে।’
____
সদ্য গোসল সেড়ে রেড ট্রাউজার, সাদা টিশার্ট পড়ে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে ওয়াশরুম থেকে বের হলো অভ্র। কতক্ষণ আগেই বাড়ি ঢুকেছে সে, বাড়ি ঢুকেই মা আর বাবা হাজারটা প্রশ্ন। অভ্র যা সত্যি তাই বলেছে গাড়ি খারাপ হয়ে যাওয়ায় ঝড়বৃষ্টিতে একটা বাড়িয়ে আশ্রয় নিয়েছিল সে শুধু আদ্রিজার কথাটাই চেপে গিয়েছিল এই যা।’
”
অভ্র তাঁর চুল মুছতে মুছতেই সামনে থাকা ড্রেসিং টেবিলটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল এমন সময় হঠাৎই পায়ে কিছু লাগতেই পায়ে ব্যাথা অনুভব করলো অভ্র। তক্ষৎনাত চোখ বন্ধ করে নিলো সে। পা টা সরালো আনমনে। পরমুহূর্তেই চোখ খুলে নিচে তাকাতেই দেখতে পেল অভ্র একটা ছোট্ট ঝুমকা। অভ্র বেশ অবাক হয়েই নিচে বসে হাতে নিলো ঝুমকাটা। বললো,
‘ এটা কার?’
হঠাৎই মনে পড়লো তাঁর। তখন যখন আদ্রিজাকে টান দিয়ে ব্রিজের ওপর উঠেছিল অভ্র। তখন না চাইতেও আদ্রিজা জড়িয়ে ধরে ছিল তাঁকে। আর আদ্রিজার কানটা এসে লেগেছিল অভ্রের বুকে। হয়তো তখনই কোনো ভাবে তাঁর শার্টের সাথে আঁটকে গিয়েছিল ঝুমকাটা। পরে রুমে ঢুকে শার্টটা ঝাড়া দিয়ে যখন ওয়াশরুমে ঢুকেছিল অভ্র তখনই পড়ে গিয়েছিল নিচে। অভ্র ঝুমকাটার দিকে তাকিয়ে বললো,
‘ মিস ব্ল্যাকবেরি তোমার ঝুমকা যে আমার কাছে চলে এলো এখন তুমি কি খুঁজতে আসবে এটা?’ আমি কিন্তু দিবো না কারন তোমার ঝুমকো আমায় আঘাত দিয়েছে। অপরাধ করেছে সে।’
হাসলো অভ্র। আদ্রিজা মেয়েটাকে খুব সহজ-সরল বলে মনে হয় তাঁর। আইথিংক আদ্রিজা যে ছেলেটাকে ভালোবাসে সে খুব লাকি।’
আপাতত আর বেশি ভাবলো না অভ্র। ঝুমকাটা নিয়েই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো সে। এগিয়ে গেল ড্রয়ারের কাছে। তারপর ড্রয়ার খুলে আদ্রিজার ঝুমকোটা রেখে দিল আনমনেই।’
___
বেলকনিতে অভ্রের কোটটা ভালোমতো ধুয়ে শুঁকাতে দিয়ে পাশেই দাঁড়িয়ে আছে আদ্রিজা। মাথায় তাঁর নানান প্রশ্ন ঘুরছে। আর এই সব প্রশ্নের মূলে হলো শ্রাবণ। সে এখনো বুঝচ্ছে না। কাল শ্রাবণ তাঁকে রেস্টুরেন্টে আসতে বলেও আসলো না কেন? নাকি এসে আবার চলে গিয়েছিল। আদ্রিজা তাঁর ফোনে চার্জ দিয়ে এসেছে একটু চার্জ হলেই ফোন করবে সে শ্রাবণকে। ভাগ্যিস কাল অভ্র ছিল তাঁর সাথে না হলে কি যে হতো ভেবে পায় না আদ্রিজা। বাবা মাকেও মিথ্যে বলে সামলেছে সে। তবে এতকিছুর ভিড়ে এতটুকুতো জেনেছে আদ্রিজা,
‘ অভ্র মানুষটা ভীষণ ভালো। লাবন্য আপু খুব লাকী যে অভ্রের মতন একটা মানুষ ওনায় ভালোবেসেছে।’
হঠাৎই আদ্রিজার ভাবনার মাঝে বিছানার ওপর চার্জে রাখা ফোনটা বেজে উঠল। আদ্রিজা তক্ষৎনাত দৌড়ে গিয়ে ফোনটা দেখলো শ্রাবণ ফোন করেছে। আদ্রিজা কিছুক্ষন ওভাবে দাঁড়িয়ে থেকেই জোরে নিশ্বাস ফেলে ফোনটা তুললো। বললো,
‘ হ্যালো।’
#চলবে….
#গোধূলি_বিকেলে_তুমি_আমি❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ১৮
________________
বেশ বিস্মিত ভরা চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আদ্রিজা। ভয়ে বুকের ভিতর দক দক করছে তাঁর। কারন আদ্রিজা শ্রাবণের ফোন পেয়ে ‘হ্যালো’ তো বলেছে কিন্তু সেই হ্যালোর উওর হিসেবে কোনোকিছুই বলছে না শ্রাবণ। চুপচাপ ফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেবল। আদ্রিজা খানিকটা ভাঙা ভাঙা কন্ঠ নিয়ে বললো শ্রাবণকে,
‘ আপনি কি কথা বলবেন না শ্রাবণ?’
এবার শ্রাবণ মুখ খুললো। বললো,
‘ তুমি কি কাল এসেছে ছিলে রেস্টুরেন্ট?’
উওরে আদ্রিজাও বেশি না ভেবে বলে উঠল,
‘ হুম গেছিলাম তো শ্রাবণ কিন্তু আপনায় তো পাই নি। আপনি কি এসেছিলেন শ্রাবণ? নাকি এসে আবার চলে গিয়েছিলেন।’
আদ্রিজার কথা শুনে শ্রাবণ নীরব কন্ঠ নিয়ে বললো,
‘ এসেছিলাম তো, কিন্তু হুট করেই একটা কাজ চলে আসায় আমি চলে এসেছিলাম আদ্রিজা আই এম সরি।’
শ্রাবণের কথা শুনে আদ্রিজার ভয় পাওয়াটা কমে গেল। তাঁর মানে শ্রাবণ রেগে নেই তাঁরওপর। শুধু শুধুই ভয় পাচ্ছিল। আদ্রিজা জোরে নিশ্বাস ফেলে বললো,
‘ ওহ। কোনো ব্যাপার না কাজ থাকতেই পারে।’
‘ তুমি রাগ করো নি তো আদ্রিজা?’
‘ না রাগ করবো কেন।’
অতঃপর দুজনেই আবার জুড়ে দিলো প্রেম আলাপ। আসলে শ্রাবণ তার গার্লফ্রেন্ড সুমিতাকে নিয়ে বাহিরের যাওয়ার পর সুমিতার রাগ ভাঙানো নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিল যে শ্রাবণ আদ্রিজার কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। ডিস্কে কাটিয়ে ছিল দুজন।’
____
আষাঢ় মাস। তাই ঘন ঘন বৃষ্টিপাত হতেই থাকে প্রায়। দিনরাত সবসময়ই ছ্যাত ছ্যাতে রাস্তা আর কাঁদা পানিতে জরর্জিত থাকে। বৃষ্টি আদ্রিজার ভালো লাগলেও এই বৃষ্টির দিনের রাস্তাঘাট একদম পছন্দ হয় না আদ্রিজার। পর পর দুদিন পেরিয়ে আজ ভার্সিটির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে আদ্রিজা। মূলত গত দুই দিন বৃষ্টি থাকায় যেতে পারে নি ভার্সিটি, তাই আজ যাচ্ছে ভার্সিটি পুরো বন্ধমহল সমেত যাচ্ছে ভার্সিটি। আদ্রিজা আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর বন্ধুমহলের সবাইকে শ্রাবণের বিষয়ে বলে দিবে সব। অতঃপর নানান চিন্তা ভাবনা নিয়েই এগিয়ে চলছে আদ্রিজা আরুদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।’
”
কলিংবেল বাজাতেই আরুদের বাড়ির কাজের মেয়ে রুনা এসে দরজা খুলে দিল। আদ্রিজা রুনাকে দেখেই মুচকি হেঁসে বললো,
‘ কেমন আছো রুনা আফা?’
উওরে রুনাও খুশি মনে বললো,
‘ আদ্রিজা আফা যে, আমি ভালো আমনে?’
‘ হুম ভালো আরু আছে তো।’
‘ হুম,
‘ ঠিক আছে।’
বলেই ভিতরে ঢুকলো আদ্রিজা কিন্তু রোজদিনের তুলনায় আজ বাড়িটাকে খুব চুপচাপ লাগায় বলে উঠল আদ্রিজা,
‘ বাড়িতে কেউ নেই রুনা আপা?’
‘ না শুধু আরু আফা আর অভ্র দাদাভাই আছে। হেও বাইরাইবো কিছুক্ষণ পরে,
‘ ওহ। তা সবাই গেল কোথায়?’
‘ হেগো গ্রামের বাড়ি।’
‘ ওহ।’
‘ আচ্ছা আমনে বহেন আফা আমি রান্না চরাইড়া আইসি?’
‘ ঠিক আছে আফা আমি তবে আরুর রুমেই যাই।’
‘ আচ্ছা যান আফা।’
রুনার কথা শুনে আদ্রিজাও আর দাঁড়ালো না সিঁড়ি বেয়ে সোজা চলে গেল উপরে।’
আরুর রুমে যাওয়ার সময় হঠাৎই চোখ গেল আদ্রিজার অভ্রের রুমের দিকে। আদ্রিজা কিছু একটা ভেবে উঁকি মারলো অভ্রের রুমের দিকে। কিন্তু রুমে অভ্র ছিল না হয়তো বেলকনিতে আছে অথবা ওয়াশরুমে। হঠাৎই আদ্রিজার মনে পড়লো অভ্রের কোটটা দেওয়ার কথা যেটা সে ধুয়ে শুকিয়ে নিজের সাথে করে এনেছিল। আদ্রিজা তাঁর কাঁধের ব্যাগটার চেইনখুলে অভ্রের কালো কোটটা বের করলো। কিন্তু কিভাবে দিবে এটাই বুঝছে না। সেবার তো তুষার ভাইয়াকে দিয়ে পাঠিয়ে দিয়ে ছিল রুমালটা কিন্তু এবার।’
আদ্রিজা অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলো একটা চিরকুট লিখে যাবে। অতঃপর তাই করলো আদ্রিজা ব্যাগ থেকে কলম আর খাতাটা বের করে কিছু একটা লিখলো। তারপর ভিতরে ঢুকে কোটটা আর চিরকুটটা বিছানার উপর রেখে চলে গেল সে আরুর রুমের দিকে।’
____
বেলকনিতে দাঁড়িয়ে লাবন্যের সাথে কথা বলছিল অভ্র। আজ বহুদিন পর লাবন্যের সাথে কথা হলো অভ্রের। লাবন্য বলেছে আজ বিকেলেই একবার দেখা করবে অভ্রের সাথে সে৷ অভ্র তো মহা খুশি। এটলাস্ট অবশেষে লাবন্য ফিরছে, এই মেয়েটা বহুত প্যারায় রাখে অভ্রকে। অভ্র জোরে নিশ্বাস ফেললো তারপর খুশি মনে বললো,
‘ ঠিক আছে এখন তবে রাখি দোস্ত বিকেলে দেখা হবে আসবি কিন্তু আমার কিছু বলার আছে তোকে।’
উওরে অপরপ্রান্তে থাকা লাবণ্য বলে উঠল,
‘ ঠিক আছে আজ নিশ্চয়ই আসবো আমি। আর হ্যাঁ সেদিনকার জন্য আমি সত্যি দুঃখিত অভ্র।’
‘ ইট’স ওকে ওসব বাদ দে এখন রাখি বুঝলি আমায় অফিস যেতে হবে।’
‘ ঠিক আছে বাই।’
ফোনটা কাটলো অভ্র। তারপর কিছুক্ষন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে তক্ষৎনাত চলে গেল সে ভিতরে। আজ অভ্র ভীষণ খুশি অবশেষে সে তাঁর ভালোবাসার মানুষটিকে ভালোবাসি বলতে পারবে। রুমে ঢুকতেই হঠাৎই নিজের বিছানার দিকে চোখ গেল অভ্রের। দেখলো সে তাঁর কালো কোটটা। অভ্র খানিকটা অবাক হয়েই কোটটা সাথে চিরকুটটা হাতে নিলো। কোটটা দেখেই বুঝতে পারলো অভ্র। এটা সেদিনকার আদ্রিজাকে দেওয়া কোটটা। তাহলে আদ্রিজা তাঁর রুমে এসেছিল। অভ্র চিরকুটটা পড়লো। যেখানে লেখা ছিল,
‘ শুনুন! আপনার কোটটা ফেরত দিয়ে গেলাম। ভেবেছিলাম সামনাসামনি দেবো কিন্তু আপনি রুমে না থাকায় চিরকুট লিখে দিয়ে গেলাম।’
ইতি আদ্রিজা।’
অভ্র চিরকুট পড়ে আনমনে হাসলো। বললো,
‘ ফেরত না দিলেও তো হতো মিস ব্ল্যাকবেরি।’
____
‘ কি আমাদের নিরিবিলি আফা একটা ছেলেকে ভালোবাসে?’
ভরা ক্যাম্পাসের ভিড়ে পুরো উত্তেজিত হয়ে কথাটা বলে উঠল আশিক। আর আশিকের কথা শুনে শরীফ,সিফাত, তুলি, বুশরা,আরু সবাই পুরো চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো আদ্রিজার মুখের দিকে। কিছুক্ষন আগেই আদ্রিজা সবাইকে তাঁর ভালোবাসার কথা বলতে নিয়েছে। শুধু এতটুকুই বলেছে ‘সে একটা ছেলেকে ভালোবাসে’। এতটুকুতেই পুরো বন্ধুমহল উত্তেজিত হয়ে গেছে। পুরোটা শুনলে কি অবস্থা হবে সেটাই ভাবছে আদ্রিজা। আদ্রিজার ভাবনার মাঝেই সিফাত বলে উঠল,
‘ ছেলেটা কে কোথায় থাকে নাম কি?’
সিফাতের কথা শেষ হতেই তুলি বলে উঠল,
‘ নাম বাদ দে আগে বল ছেলে দেখতে কেমন ফর্সা নাকি কালো, লম্বা নাকি খাটো।’
তুলির কথা শেষ হতে না হতেই বুশরা বলে উঠল,
‘ দোস্ত ছেলের ছোট ভাই টাই আছে তো বেশি না তাইলে মোরাও একটু সিঙ্গেল থেকে মিঙ্গেল হইতাম আর কি?’
এরই মধ্যে শরীফ বললো,
‘ খালি ভাই থাকলে হবে না কিন্তু বোনও লাগবে ভাই। মোরও সিঙ্গেল লাইফ ভালো লাগে না।’
এইরকম একটার পর একটা কথা বলতে লাগলো সবাই আদ্রিজাকে। আর আদ্রিজা শুধু ফ্যাল ফ্যাল চোখে তাকিয়ে সবার কথা শুনছে। কার প্রশ্ন রেখে কার প্রশ্নের উত্তর দিবে এটাই বুঝতে পারছে না সে।’
হঠাৎই সবার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আরু জোরে চেঁচিয়ে বললো,
‘ থামবি তোরা কিসব উল্টো পাল্টা প্রশ্ন করে চলেছিস? তোদের কি আদ্রিজার কথাগুলো মজা মনে হচ্ছে।’
আরুর কথা শুনে তুলি বললো,
‘ তা নয়তো কি? এই আদ্রিজা নাকি কাউকে ভালোবাসবে, হুহ এটা কখনো সম্ভব নাকি।’
তুলির কথা শুনে হা হয়ে থাকা মুখটা আরো হা হয়ে গেল আদ্রিজার। বেশ বিস্মিত হয়ে বললো সে,
‘ যাহ বাবা তাঁর মানে তোরা আমার কথা বিশ্বাস করিস নি?’
উওরে আরু আর আশিক বাদে সবাই একসাথে চেঁচিয়ে বললো,
‘ না।’
____
অফিসে ল্যাপটপে কাজ করছিল অভ্র। এমন সময় তাঁর দরজায় নক করলো কেউ। বললো,
‘ আসবো অভ্র?’
#চলবে…..
[ভুল-ত্রুটি ক্ষমার সাপেক্ষ। আর গল্প কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবে।]
#TanjiL_Mim♥️