#লেখেনী-আরোহী ইসলাম
#গোধূলি বেলায়
#অন্তিম_পর্ব
” সাবিনা সাইমার পিছু পিছু রান্নাঘরে এসে পানি খেলেন। সাইমা কফি বানাচ্ছে সাবিনাকে দেখে বললো তোমার কি কিছু লাগবে?
‘ না।’
সাবিনা বললো।
‘ ওহ।’
সাইমা বললো। তারপর সাইমা কফি বানিয়ে রাখলেন। সাইমা বিস্কুট খুজতেছে সাবিনা তাড়াতাড়ি করে কফির মগে বেশি করে নুন দিয়ে পৈশাচিক হাসি দিয়ে চলে গেলেন। সাইমা প্লেটে বিস্কুট রেখে মনে মনে বললো দেখি তো কফিতে সব ঠিক আছে নাকি বলেই চামচ দিয়ে কফি উঠিয়ে গালে নিতেই তাড়াতাড়ি করে ফেলে দিলেন।
‘ সাবিনা কফিতে নুন দিয়েছে।’
সাইমা বললো।
সাইমা মনে মনে বললো এবার দেখো তোমাকে কি করি বলেই সবার জন্য আবার কফি বানাতে লাগলো। কিছুক্ষন পর সাইমা কফি বানিয়ে সবাই কে দিলেন। সাইমা সাবিনার দিকে তাকিয়ে আছে সাবিনা কফিতে চুমুক দিতে চোখ বড় বড় করে সামনে তাকিয়ে কফি সব বের করে দিলো সাবিনা এই রকম কাজ দেখে সবাই সাবিনার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। সাইমা সাবিনার কাজ দেখে মুচকি হাসলো। সিফাত কিছুটা অবাক হয়ে বললো কি হয়েছে তুমি বমি করলা কেন?
সিফাতের কথা শুনে সাবিনা ন্যাকা সুরে বললো
‘ সাইমা আমার কফিতে নুন দিয়েছে।’
সিফাত সাবিনা অনৈতিক কথা শুনে সাইমার দিকে তাকালো।
সাইমা সিফাত কে বললো
‘ আমি কফিতে নুন দেইনি তোমার জন্য আমি কফি বানিয়েছিলাম কিন্তু সাবিনা কফিতে নুন দিয়েছে যাতে তুমি আমার উপরে রেগে যাও। আর এইভাবে আমার প্রতিটা কাজ সাবিনা খারাপ করতে চায়।’
‘ কেনো?
সিফাত ভ্রু কুচকে বললো।
‘ সাবিনা আমাকে দেখতে পারে না। আমি এই বাড়িতে থাকলে অনেকের কাজে বাধা সৃষ্টি হবে সেই জন্য আমাকে তাড়াতে চায়।’
সাইমা বললো।
‘ সাইমা তুমি এখন আপুর হয়ে ভাইয়ার কাছে বিচার দিতেছিস কেনো? আপু আজ আসতে না আসতেই তুই এই রকম বাজে আচরণ করতেছিস।’
তেতে উঠে বললো লিনা।
‘ চুপ থাকো লিনা আপু আমাকে আর চুপ করে রাখতে পারবে না তোমরা। ছিহ্ কেমন বোন তুমি নিজের আপন ভাইয়ের ক্ষ’ তি চাও।
সাইমা বললো। সাইমার কথা শুনে সিফাত কিছুটা জোড়ে বললো কি হয়েছে বলবে তোমরা?
সাইমা বললো
‘ তোমার চাচি চায় যাতে আমি এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় তারপর তোমার সাথে সাবিনার বিয়ে দিয়ে তোমার সব সম্পত্তি সে নিতে পারে। সেই জন্য সাবিনাকে এনেছে।’
সাইমা মাথা নিচু করে বললো
‘ তোমার চাচি কাল সিড়িতে তেল ফেলেছে যাতে আমি সিড়ি থেকে পরে যায় কিন্তু আমি সব দেখে ফেলি তারপর লিনাকে ডেকে বলি কাকিকে নিচে ডাকে তারপর আমার বদলে ওনি সিড়ি থেকে পরে যায়। তোমার বোনকে ওনি নিজের কাজ আদায় করার জন্য ব্যবহার করতেছে। ‘
এই বলে সাইমা থামলো।
সিফাত রেগে বললো হুয়াট..! কি বলছো এই সব?
‘ আমি ঠিকই বলতেছি বিশ্বাস না হলে তোমার বোনকে জিজ্ঞেস করো।’
সাইমার কথায় সিফাত চমকে গেলো। সিফাত লিনাকে বললো ও যা বলছে সব কি সত্যি..?
‘ আসলে ভাইয়া আমি শুধু জানি যে ছোট মা লিনাকে এই বাড়ি থেকে তাড়াতে চায় তারপর সাবিনা আপুর সাথে বিয়ে দিতে চাই কিন্তু সম্পত্তির জন্য এতো কিছু করতেছে বিশ্বাস কর আমি জানতাম না আমায় ক্ষমা করে দিস।’
মাথা নিচু করে বললো লিনা।
‘ছিহ্ লিনা তুইও তো একটা মেয়ে তোর বিয়ের পর যদি তোর ননদ এই রকম করে সে সময়? সাইমা তো তোকে ছোট বোনের মতো আদর করে তারপরও কেনো সাইমাকে দেখতে পারিস না? টাকা সম্পদ এই গুলো দিয়ে কাউকে বিচার করা যায় না।’
রেগে বললো শাশুড়ি বললো।
‘প্লিজ মা আমায় ক্ষমা করে দাও।
কান্না করে দিয়ে বললো লিনা।
‘ আমার কাছে ক্ষমা না চেয়ে সাইমার কাজে ক্ষমা চা।
সিফাতের মায়ের কথা শুনে লিনা সাইমার কাছে এসে সাইমার হাত ধরে কান্না করে দিয়ে বললো প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দাও ভাবি আমার ভুল হয়েছে।’
সাইমা মুচকি হেসে বললো
‘ তুমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছো এইটাই অনেক। ‘
সিফাত রেগে আছে যে কাকিকে নিজের মায়ের মতো ভালোবেসেছে সেই কাকি নাকি তার সম্পত্তির জন্য সাইমাকে তাড়াতে চায়। সিফাত রেগে সাবিনার দিকে তাকিয়ে বললো চলো ছোট মার রুমে।’
তারপর সবাই মিসেস সায়েরার রুমে আসলো। সবাই কে দেখে মিসেস সায়েরা অবাক হলেন। সিফাতের দিকে তাকিয়ে দেখে সিফাতের চোখ মুখ লাল হয়ে আছে মনে হচ্ছে ভিষন রেগে আছে। তিনি মিনমিনে কন্ঠে বললো কি হয়েছে সিফাত বাবা?
‘ Stop..! তোমার ওই মুখ দিয়ে বাবা ডাক দিতে হবে না। তুমি এতোদিন অভিনয় করেছো সম্পত্তি আদায় করার জন্য ছিহ্।’
রূঢ় সুরে বললো সিফাত।
‘ কি বলছিস এইসব।’
অবাক হয়ে বললো মিসেস সায়েরা।
সিফাত দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বললো
‘ আমরা তো তোমাকে সবাই অনেক ভালোবাসি। তোমাকে আমি আমার মায়ের মতো ভালোবাসি আর তুমি কিনা সম্পত্তির জন্য সাইমাকে এই বাড়ি থেকে তাড়াতে চাও। সম্পত্তি কি সব আমরা যে তোমাকে ভালোবাসি এইটা কি কিছু না?
মিসেস সায়েরা মাথা নিচু করে আছে। সিফাত বললো
‘ তোমার সম্পত্তি কাল আমি তোমার নামে লিখে দিবো বলে যেতে নিলেই মিসেস সায়েরা বললো আমায় ক্ষমা করে দে আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি।
সিফাত ক্ষমা করা মহৎ গুন। প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দে। সাইমা আমায় ক্ষমা করে দিস আমি তোর সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি।’
কান্না করে দিয়ে বললো মিসেস সায়েরা।
সাইমা হালকা হেসে বললো
‘ তুমি তো নিজের ভুল বুঝতে পেরেছো এইটাই অনেক। সিফাত তুমি রাগ করোনা। ছোট মা শয়তানের ধোকাই পড়েছে যার কারনে এই রকম করেছে।’
সাইমার কথা শুনে সিফাত মিসেস সায়েরার হাতে চুমু দিলেন। সাবিনা বললো আমায়ও ক্ষমা করে দিও।
সাবিনার কথায় সবাই হেসে দিলো।
কিছুক্ষন পর
” সিফাত রুমে বসে আছে হঠাৎ কল আসায় কল ধরতেই অপর পাশ থেকে বললো
‘সিফাত আহমেদ আমাকে দেখতে চাইলে ** এই ঠিকানায় এক ঘন্টার মধ্যে আসবি বলেই কল কেটে দিলো। সিফাত অবাক হয়ে গেলো তারপর তাড়াতাড়ি করে আলিয়াকে আর ম্যানেজারকে মেসেজ দিয়ে তাড়াতাড়ি এই ঠিকানায় আসতে বললো।
————————-
অচেনা লোকটা তার ম্যানেজারকে বললো
‘ আজ সিফাত আহমেদের শেষ দিন।’
‘ স্যার আপনি সিফাত কে শেষ করতে যেয়ে নিজের বিরাট বড় ক্ষতি করতেছেন না তো?
আমতা আমতা করে বললো ম্যানেজার।
‘ না। তুমি চুপ থাকো আর সিফাত কে আসতে দাও।’
রহস্যময় হাসি দিয়ে বললো লোকটা।
কিছুক্ষন পর
সিফাত একটা গোডাউনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সিফাত ভিতরে ডুকে দেখে একটা লোক বসে আছে। সিফাতের পায়ের শব্দ পেয়ে লোকটা বললো আসুন মিস্টার সিফাত।’
সিফাত বললো
‘ তুই তাহলে সেই নারী পাচার কারীর দলের লিডার?
লোকটা সিফাতের কথা শুনে দাঁড়িয়ে বললো
‘ হ্যাঁ আমিই সেই। তুই আমার কাজে বাধা দিয়েছিস। তোর বাবাকে যেমন শেষ করেছি তেমনি তোকেও শেষ করবো বলেই হেসে দিলো।
সিফাত চমকে গেলো। লোকটা সিফাতের দিকে ঘুরতেই সিফাত লোকটাকে দেখে আরেকদফা চমকালেন। সিফাত অবাক হয়ে বললো তুমি??
‘ হ্যা আমি চমকে গেলি বুঝি?
সিফাত যেনো বিশ্বাস করতে পারতেছে না শেষ মেষ কিনা নিজের বাবার বন্ধু বেইমানি করলো। সিফাত বললো’ তুমি তো বাবার ফ্রেন্ড হও যতটুকু শুনেছিলাম কিন্তু তুমি বাবাকে মে’রেছো কেনো?
আরফান খান বললো
‘ তোর বাবা আমার বন্ধুর পাশাপাশি চাচাতো ভাই।আমরা গরিব বলে তোর দাদা আমার বাবাকে দেখত পারতেন না তোর দাদা আমার বাবাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় আমি সব ভুলে গিয়েছিলাম। তোর বাবা আর আমি বিজনের পার্টনার হয় কিন্তু তোর বাবা আমার নারী পাচার সম্পর্কে সব যেনে যায় তারপর ও আমায় বলে এই সব ছেড়ে দিতে না হলে ও সব পুলিশকে বলে দিবে। তারপর আমি ওকে শেষ করে দেয়।
তোর ফ্রেন্ড আরবিন আমাকে ধরতে চেয়েছে কিন্তু শেষ মেষ বেচারাকে দুনিয়া ছাড়তে হলো হাহাহা
আর আজ তোকে দুনিয়া থেকে বিদায় করবো বলেই রিভলবার বের করে সিফাতের মাথায় তাক করবে তার আগেই পুলিশ এসে আরফান খানকে ধরে ফেলে।
সিফাত মুচকি হেসে বলে
‘ পাপি কখনো জিতে না। তুই নিজের পাপের ফল জেলে গিয়ে ভোগ করবি।
আরফার রেগে চিৎকার করে বললো
‘ আমাকে ছাড়, তোকে দেখে নিবো। তারপর পুলিশ আরফানকে নিয়ে গেলো।
সিফাত আলিয়া আর আরিফুল কে বললো
‘ ধন্যবাদ তোমাদের।
‘ সিফাত ভাইয়া এইটা আমাদের কাজ ধন্যবাদ দিতে হবে না।সিফাত মুচকি হেসে বাড়ির দিকে রওনা দিলো।
সিফাত বাড়িতে গিয়ে দেখে সবাই ড্রয়িং রুমে বসে আছে। সিফাতকে দেখে বললো কোথায় গিয়েছিলি। সিফাত দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে সব বললো।
সব শুনে সিফাতের মা অবাক হয়ে বললো ছিহ্ আরফান এই রকম করলো।
‘ হুম মা।
সিফাত বললো।
রাতে
সাইমা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। সিফাত বেলকনিতে এসে সাইমার পাশে দাঁড়িয়ে বললো
‘ সাইমা আমি একজন বিজনেস ম্যান প্লাস বড় বড় মাফিয়াদের ধরে শা’স্তি দেয় যানি তুমি হয়তো এখন আমাকে ঘৃ’ণা করবে।
সাইমা সিফাতের কথায় ভেজা কন্ঠে বললো
‘ আমি তোমাকে ভালোবাসি কখনোই ঘৃ’ণা করতে পারি না। তুমি দেশের ভালোর জন্য কাজ করেছো কিন্তু তুমি আমাকে বলোনি কেনো?
‘ আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়তো ঘৃ’ণা করবে।
মাথা নিচু করে বললো সিফাত।
সাইমা সিফাতকে জড়িয়ে ধরে বললো
‘ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তোমার নেশায় আসক্ত আমি। তোমার মায়ায় আবদ্ধ আমি। গোধূলি আবির মাখা বেলায় তোমার হাত ধরেছি কখনোই ছাড়বো না প্রিয়।
সিফাত মুচকি হেসে সাইমার চুলে মুখ ডুবিয়ে দিলো।
— সমাপ্তি।