গোধূলীতে তুমি প্রিয় পর্ব-২০+২১

0
692

#গোধূলীতে_তুমি_প্রিয়
#পর্ব_২০
#লেখিকা_রুবাইতা_রিয়া

ফারিহার মুখে এমন হাসি দেখে লিয়া রহমানের জানো গা জ্বলে যাচ্ছে সাথে ভয়ও হচ্ছে প্রচুর।সবাই ফারিহার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে ঠিক তখনই ইহান ফারিহার সামনে এসে দাঁড়িয়ে তেজি কণ্ঠে বলে উঠলো,,

ইহান—-ফারিহা তুমি ঠিক কি বলতে চাইছো পরিষ্কার করে বলো।দেখো আমি আমার ছোট্ট মৃত বোনকে নিয়ে কোনোরকম বাজে কথা শুনতে চায় না।

ইহানের কথা শুনে লিয়া রহমান তাকে সাই দিয়ে বলে উঠলো,,

লিয়া রহমান—-ঠিক তাই।এই মেয়েটা এখানে এখন সবার মাথা খেতে এসেছে।ইহান তোর বোন তো মারা গেছিলো তাই না?ও কি করে বেঁচে থাকবে তুই বল?আর লাবিবা তো আমার মেয়ে।ও কি করে তোর আপন বোন হতে পারে বল?এই ফারিহা মিথ্যা বলছে।

লিয়া রহমানের কথা শুনে ফারিহা ভিষন রেগে গেলো।দাতে দাত চেপে বলে উঠলো সে,,

ফারিহা—-আর কত মিথ্যে বলবে মেজো কাকিয়া?একটু পর তো এমনিতেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।এখন অন্তত সত্যিটা শিকার করো।

ফারিহার কথা শুনে লিয়া রহমান চুপ করে রইলেন।তার নিরবতাই বলে দিচ্ছে যে আসলেই কোনো ঘাবলা আছে তার মধ্যে।ঠিক তখনই ফারিহা বলতে শুরু করলো,,

ফারিহা—-আপনাদের সবার হয়তো মনে আছে যে ২০ বছর আগে দুজন ফুটফুটে বাচ্চা একসাথে জন্ম নেয় এই এহসান বাড়িতে।তাদের মধ্যে একটি বাচ্চা ছিলো আমার শাশুড়ী মায়ের মেয়ে আরেকটি ছিলো মেজো কাকিয়ার মেয়ে।দুজনের ডেলিভারি ভাগ্যক্রমে একিদিনে হয়।

ফারিহার কতা শুনে ইথানের দিদুন এবার মুখটা মলিন করে বলে উঠলো,,

দিদুন—-হ্যা ঠিক বলছো।আমার এখনো মনে আছে সেই জঘন্য দিনের কথা।যদিও মেজো বউমার ডেলিভারির ডেট ছিলো দেড়িতে কিন্তু ওর কিছু কমপ্লিকেশনের জন্য ডেলিভারি সেইদিনই করানো হয়।

দিদুনের কথা শুনে ফারিহা আবার বলতে শুরু করলো,,

ফারিহা—-একদম ঠিক বলছেন দিদুন।কিন্তু সেইদিন দুইজন বাচ্চা একসাথে জন্ম নিলেও বেঁচে ছিলো মাত্র একজন বাচ্চা।আর সেই বাচ্চাটা ছিলো মামনির(ইহানের মা)মেয়ে।যেহেতু মেজো কাকিয়ার ডেলিভারির আগে থেকেই অনেক কমপ্লিকেশন ছিলো এইজন্য ডক্টর বাচ্চাটাকে বাঁচাতে পারেনি।ওটি রুমেই মারা যাই বাচ্চাটা।কিন্তু মেজো কাকিয়া বাচ্চার শোকে এতোটাই কাতর ছিলো যে ওনি কিছুতেই ওনার মেয়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি।এইজন্য মামনির বাচ্চাটাকে ওটি রুমেই কেড়ে নেই।আর ডক্টরদের অনেক টাকার লোভ দেখিয়ে সত্যটাকে গোপন রাখতে বলে।আর আর সেই ডক্টর টাকার লোভে এমন জঘন্য কাজ করে।যেহেতু মামনির বেবি সিজারে হয়েছিলো আর ওনি একটু ভিতু সভাবের ছিলেন তাই তাকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে দেওয়া হয় এইজন্য ওনি এই জঘন্য কাজের বিষয় একটুও টের পাননি।আর ডক্টর ওটি থেকে বেরিয়ে এসে বলে যে মামনির মেয়ে মৃত আর লাবিবাকে আপনাদের কাছে দিয়ে বলে যে সে মেজো কাকিয়ার মেয়ে।আফসোস নিজে একজন মা হয়েও ওনি আরেক মায়ের থেকে সন্তান কেড়ে নেন শুধুমাত্র নিজের সুখের জন্য।আর ওইদিকে নিজের সন্তান বেঁচে থাকতেও পাগলের মতন কাঁদতে হয়েছিলো মামনিকে।সেইদিন শুধু মামনি নই ইহানও যথেষ্ট কেদেছিলো এটা ভেবে যে তার ছোট্ট বোনটা আর পৃথিবীতে নেই।কি কাকিয়া আমি ঠিক বলছি তো?

শেষের কথাটা লিয়া রহমানের উদ্দেশ্যে জোড়ে বলে উঠলো ফারিহা যাতে করে ওনি একটু চমকে উঠলেন।

অন্যদিকে সবাই ফারিহার কথা শুনে স্তব্দ হয়ে আছে।এতো বড় সত্যিটা তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা।লাবিবা জানো সবথেকে বেশি অবাক হয়েছে।তার চোখের কোণে পানি চিকচিক করছে এটা জেনে যে তার একটা নিজের ভাই আছে আর সেটা সে জানতোই না?ইহান ফারিহার কথা শুনে ধপ করে ফ্লোরে বসে পরলো।নিজের বোনকেই কিনা সে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো।নিয়তির জানো একটা অদ্ভুত খেলা চলছে।অন্যের ক্ষতি করতে গিয়ে ইহানের নিজের ভাগ্যই তাকে ধোকা দিয়েছে।

লিয়া রহমাম ফারিহার দিকে ছলছল দৃষ্টিতে তেজি কণ্ঠে বলে উঠলেন,

লিয়া রহমান—-হ্যা আমি লাবিবাকে ইপ্শিতার (ইহানের মায়ের নাম)থেকে কেড়ে নিয়েছিলাম।একজন ভাইয়ের থেকে তার বোনকে কেড়ে নিয়েছিলাম।কখনো কখনো নিজের সংসার বাচানোর জন্য এমন সার্থপরের মতন কাজ করতে হয়।আমিও তাই করেছি।আমার এতে কোনো আফসোস নেই বুঝলে তুমি?

লিয়া রহমানের দিকে তাকিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে ফারিহা বলে উঠলো,,

ফারিহা—-সংসার বাচানোর জন্য?তা কেমন সংসার?একজন ভাইয়ের ছোট বেলার সংসার হয় তার আদরের বোনকে নিয়ে।ছোট বোনকে নিয়ে হাজারো স্বপ্ন দেখে সে।সেই ভাইয়ের থেকে তার স্বপ্নকে কেড়ে নিয়ে নিজের সংসার বাচিয়েছেন এটা বলতে লজ্জা করছে না আপনার?

লিয়া রহমান—-না লজ্জা হচ্ছে না।মা হওয়ার জ্বালা কি তা বুঝেছো কখনো?কখনো মা হলে বুঝতে আমার কষ্টটা।যখন বিয়ের ৭ বছর পরও কোনো বাচ্চা হচ্ছিলো না আমার তখন এই মানুষগুলোই নানারকম কটু কথা শুনাতো আমায়।তাদের কথাগুলো বিষের মতন লাগতো আমার কাছে।তারপর আমার কষ্টের অবসান ঘটিয়ে আমার গর্ভে ছোট্ট একটা প্রাণ এলো।ভেবেছিলাম আমার কষ্টের দিন হয়তো শেষ।কিন্তু যখন থেকে প্রেগন্যান্সিতে সমস্যা দেখা দিতে লাগলো তখনই আমাকে আমার শাশুড়ী বললো এবার যদি তার ছেলেকে আমি বাচ্চা না দিতে পারি তাহলে আমাকে তাড়িয়ে দিয়ে অন্য কাউকে বউ করে নিয়ে আসবে তার ছেলের জন্য।নিজের স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের কথা কোন মেয়ে সয্য করতে পারে বলোতো?তারপরও অতি কষ্টে আমার দিনগুলো কাটতে লাগলো যদিও আমার স্বামী অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন।কখনো আমাকে এই নিয়ে কথা শোনায় নি।তবুও যখন ওটিতে আমার বাচ্চাটা মারা গেলো তখন আমার ভয় হতে শুরু করলো।এই বাড়িতে আমার শাশুড়ী মায়ের কথা সবাই মানতো।যদি ওনার কথা মতো সত্যি আমাকে তাড়িয়ে দিয়ে নতুন বউ নিয়ে আসতো।তাই আমি নিজের সংসার বাচাতে ইপ্শিতার থেকে লাবিবাকে কেড়ে নেই।আর তারপর আল্লাহর রহমতে আমার দ্বিতীয় সন্তান লোবা এলো আমার গর্ভে।তনে ওর বেলায় কোনো কমপ্লিকেশন ছিলো না আমার।সুস্থ ভাবেই ও পৃথিবীর আলো দেখে।আমি চাইলে তখন সত্যিটা বলে দিতে পারতাম কিন্তু আমার সাহস ছিলো না।আর লাবিবাকেও আমি নিজের মেয়ের থেকেও বেশি ভালোবাসতাম।ওই তো আমার অন্ধকার জীবনে জোনাকির ছোট্ট আলো নিয়ে এসেছিলো।তাই আমি সত্যিটা কাউকে বলিনি কারন ততদিনে সবাই সবটা মেনেও নেই।কিন্তু যেই বিষয়টা গত ২০ বছরে কেউ জানতে পারেনি সেটা তুমি কি করে জানলে ফারিহা??

#চলবে??

#গোধূলীতে_তুমি_প্রিয়
#পর্ব_২১
#লেখিকা_রুবাইতা_রিয়া

মিস লিয়া রহমানের কথা শুনে সবাই জানো স্তব্দ হয়ে গেলো।এতোবড় একটা সত্যি কি সুন্দর ভাবে তিনি চেপে রেখেছেন আর কেউ টের ও পেলো না।তবে ইথানের দিদুন নিজেকে মনে মনে অপরাধী ভাবতে লাগলো।তার জন্যই এতোকিছু হচ্ছে আজ।সে যদি সেইদিন ওমন ভাবে লিয়া রহমানকে কথাগুলো না বলতো তাহলে হয়তো লাবিবাকে সে তার মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতো নস।লাবিবা ওর আসল মায়ের কাছেই থাকতো আর ইহান নিজের বোনের এতো বড় ক্ষতি জেনে শুনে কখনোই করতো না নিশ্চয়।কারন ও তো ওর বোনকে খুব ভালোবাসে।

অন্যদিকে লিয়া রহমানের কথা শুনে ফারিহা সেইদিন রাতের কথা মনে করতে লাগলো যেইদিন ইথান আর লাবিবা শপিং করতে গেছিলো।ফারিহাকে চুপ থাকতে দেখে লাবিবা এতোক্ষণে মুখ খুললো।ফারিহার উদ্দেশ্যে তেজি কণ্ঠে বলে উঠলো,,

লাবিবা—-কি হলো ফারিহা কিছু বলছিস না কেনো?বল কি করে তুই এতো বড় একটা কথা জানতে পারলি?উত্তর দে ফারিহা?

হঠাৎ লাবিবার এমন কণ্ঠে সবাই জানো ভরকে গেলো।লাবিবাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে সে খুব রেগে আছে।ফারিহা লাবিবার দিকে তাকিয়ে বেশ শান্ত ভাবেই বলে উঠলো,

আমার আর ইহানের বিয়ের বিষয়টা তোর থেকে লুকিয়ে আমি খুব বড় ভুল করে ফেলছি।তোর জানার অধিকার ছিলো সবটা।কিন্তু আমি কিছু না বলে নিজেরই অজান্তে তোকে কষ্ট দিয়েছি।এমনকি ওই ঘটনার পর তোর সাথে প্রাণ খুলে কথাও বলতে পারিনি এখন পর্যন্ত।তাই কালকে রাতে যখন সবাই নিচে মজা করতে ব্যাস্ত ছিলো আর তুই নিজের রুমে শপিং করে এসে একা বসে ছিলি তখন আমি ভাবলাম তোর কাছে এসে নিরিবিলি একটু মন খুলে কথা বলবো।সবাই যখন খেতে চলে গেলো তখন আমি চুপিসারে তোর রুমে আসি।কিন্তু তুই ততক্ষণে ঘুমিয়ে গেছিলি।তোকে দেখে খুব ক্লান্ত লাগছিলো।তাই আমি আর ডিস্টার্ব না করেই সেখান থেকে চলে আসতে যাবো ঠিক তখনই আমি মেজো কাকিয়াকে তোর রুমের জানালা দিয়ে বাড়ির পেছন সাইডে যেতে দেখে অবাক হয়ে যাই।ওতো রাতে ওনাকে ওখানে যেতে দেখে বেশ খটকা লাগে আমার কাছে।তাই আমি কিছু না ভেবেই ওনাকে ফলো করে বাড়ির পেছন সাইডে যাই।আমি জানতাম যে ইহানের একটা বোন হয়ে মারা যায় আর এটাও জানতাম যে তার কবর বাড়ির পেছন সাইডে দেয়া।বিয়ের আগেই ওনি আমাকে ওনার বোনের বিষয় বলছিলো।কিন্তু ওখানে গিয়ে আমি একপ্রকার ভরকে যায়।ওনি ওই কবরটার ধারে দাড়িয়ে কাঁদছিলেন।পূর্নিমার রাত থাকায় ওনার চোখের জল স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো।আমি আরেক দফা অবাক হয় এটা ভেবে যে,ওনি কেনো এতো রাতে এই কবরের সামনে এসে কাঁদছে?মানুষ নিজের সন্তান হলে এমন করে কিন্তু এই মৃত বাচ্চাটা তো ওনার ছিলো না।হঠাৎ আমার চিন্তার মাঝেই ওনি কবরটার দিকে তাকিয়ে ডুকরে কেঁদে বলে উঠলেন,,

—-আজ যদি আমার মেয়েটা বেঁচে থাকতো তাহলে সবার সাথে কতই না মজা করতো এই বিয়েতে।আমার সামনে আমার লাবিবা মায়ের মতন হেসে খেলে বড় হতো আমার চোখের সামনে।কিন্তু সে তো আর এই পৃথিবীতেই নেই।

ওনার এইটুকু কথা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না আমি।আমার মাথায় জানো আস্ত আকাশটাই ভেঙে পরেছিলো তখন।মেজো কাকিয়ার মেয়ে যদি মারাই যায় তাহলে লাবিবা ওনার কি হয়?এই কথাটাই আমার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো শুধু।ঠিক তখনই ওনি আবারো কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলেন,,

—-আমাকে ক্ষমা করে দিস মা।আমি মিথ্যা বলেছি সেদিন।অনেক বড় একটা সত্য লুকিয়েছি সবার থেকে।আমার মৃত বাচ্চা হওয়া সত্তেও আমি সবাইকে বলেছি আমার মেয়ে জীবিত।শুধু তাই নয়, আমি ইপ্শিতার থেকে ওর মেয়েটাকেও কেড়ে নিয়েছি আর তাকে নিজের মেয়ের পরিচয় দিয়ে এসেছি।সবার সামনে মিথ্যা রটিয়েছি যে ইপ্শিতার মেয়ে মৃত।এমনকি আমাদের ডেলিভারি যেই ডক্টর করিয়েছিলো তাকে টাকা দিয়েছি যাতে সে সাহায্য করে আমাকে।আমি খুব বড় অন্যায় করেছি ওর সাথে।আমার এই কাজের কোনো ক্ষমা হয় না।নিজের সার্থের জন্য ওর মেয়ে লাবিবাকে কেড়ে নিলাম আমি।জানিস মা আজকে আমার তোর কথা খুব মনে পরছিলো যখন লাবিবাকে আমি ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছিলাম।নিজেকে খুব অপরাধী লাগছিলো।বাড়িতে হৈচৈ হচ্ছে কিন্তু তুই কোথাও নেই।তাইতো আমি এখানে তোর কাছে চলে আসলাম নিজের মনের কথা তোকে বলতে।খুব মনে পরছে তোকে মা।কেনো তুই চলে গেলি বলতো?

মেজো কাকিয়ার এইটুকু কথায় আনার জন্য যথেষ্ট ছিলো সবটা বুঝার জন্য।আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে ওনি ওনার মেয়েকে খুব মিস করছিলো তাই বাড়িতে এতো আনন্দ থালা সত্তেও ওনি নিজের মেয়ের টানে এতো রাতে এই কবরের ধারে ছুটে এসেছেন।ওনার প্রত্যেকটা কথা শুনে আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।ভেবেছিলাম তখন সবাইকে সবটা বলে দিবো কিন্তু বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান থাকায় সবাই অনেক আনন্দে ছিলো।সবার ওতো খুশির মাঝে আমি এই কথাটা বলে সবাইকে নতুন করে আঘাত করতে চায়নি এইজন্য চুপ ছিলাম।তাছাড়া সত্যিটা বলার জন্য আমার প্রমাণেরও দরকার ছিলো যেটার জন্য সনয় প্রয়োজন ছিলো।তাই আমি তখন কাউকে কিছু বলিনি।কিন্তু আজকে যখন তোর বোনমেরুর কথা উঠলো তখন আমি সবাইকে সবটা না বলে থাকতে পারলাম না।কারন বোনমেরু তো একমাত্র নিজের ভাই অথবা বোনই দিতে পারে তাই এটা নিরদ্বিধায় সবাইকে সবটা বলে দিলাম কারন একটু পর এমনিও সবটা সবার সামনে চলে আসতো যখন তোর আর লোবার বোনমেরু ম্যাচ করতো না।

এইটুকু বলেই ফারিহা থেমে গেলো।সবার দিকে একবার তাকালো সে।সবাই জানো স্তব্দ হয়ে আছে।বিশেষ করে ইহানের মা।তিনি জানো পাথর হয়ে আছে।ফারিহা লিয়া রহমানের কাছে গিয়ে মাথা নিচু কান্নাভরা করে বলে উঠলো,,

ফারিহা—-মেজো কাকিয়া আমি ইচ্ছা করে তোমাকে ছোট করতে চায়নি।বিশ্বাস করো প্রথমে যখন তোমার বলা কথাগুলো শুনেছিলাম তখন খুব রাগ হয়েছিলো তোমার প্রতি।ঘৃণা লাগছিলো যে তুমি এতোটা নিচু কাজ করেছো।কিন্তু আজকে যখন তোমার মুখ থেকে আসল কারনটা শুনলাম তখন আমার সব রাগ গলে গিয়েছে বিশ্বাস করো।তোমার সাথে যেটা হয়েছে সেটা একদম ঠিক হয়নি।কোনো মেয়েই নিজের স্বামীকে অন্যকারোর সাথে সয্য করতে পারে না জানি আমি।সেখানে তোমার মা হতে সমস্যা হচ্ছিলো বলে দিদুন যে এমন জঘন্য একটা কথা বলবে তা আমি ভাবতেও পারিনি।তোমার জায়গায় আমি থাকলেও হয়তো এমন কাজটাই করতাম।তাই তোমাকে এর জন্য দোষটা দেয়া যায় না।আমাকে ক্ষমা করো মেজো কাকিয়া।তোমার সাথে আমি খুব বাজে ব্যাবহার করেছি একটু আগে।

ফারিহার কথা শুনে লিয়া রহমান ওকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে উঠলেন।ফারিহাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন তিনি,,

লিয়া রহমান—-তুমি যা করেছো ঠিক করেছো ফারিহা।আসলেই আমি খুব বড় অন্যায় করেছি ইপ্শিতার সাথে।ওর থেকে ওর মেয়েটাকে কেড়ে নিয়েছি আমি।কিন্তু আমিও যে আমার সংসারটাকে বাচাতে চেয়েছিলাম।একদিকে মা না হতে পারার কষ্ট অন্যদিকে সংসারে নানান কটু কথা।সবমিলিয়ে আমি বাধ্য হয়েছিলাম এমন একটা কাজ করতে।আমি জানি ও আমাকে কখনো ক্ষমা করবে না এর জন্য কিন্তু আমিও যে নিরুপায় ছিলাম।তবে বিশ্বাস করো আমি লাবিবাকে একটুও কষ্ট দেয়নি।ওকে নিজের মেয়ের থেকেও বেশি ভালোবেসেছি।এমনকি লোবা হওয়ার পরও আমি লাবিবাকে নিজের মেয়ের থেকে কম ভালোবাসিনি।

লিয়া রহমানের কথা শুনে সবার চোখ ছলছল করছে।আসলে তার সাথে যেটা হয়েছে সেটাও তো অন্যায় ছিলো।এমকি লিয়া রহমানের বাচ্চা হচ্ছিলো না বলে ইহানের মা ইপ্শিতাও একসময় তাকে নানান কথা শুনাতো।হয়তো তার শাস্তি সরূপ এতোদিন সে তার নিজের মেয়েকে মৃত ভেবে কষ্টে মরেছে।নিজের মেয়ে কাছে থাকা সত্বেও তাকে আপন করে নিতে পারেনি।ইথান চুপ করে আছে।তবে লাবিবার মনে এই মূহুর্তে সবথেকে একজনের উপর বেশি ঘৃনা হচ্ছে।তাকে জানো দু চোখে দেখতে পারছে না সে।লাবিবার মতে সবকিছুর মূল হলো সে।ইহান তো নিজের ঘোরেই পরে আছে।তার মাথায় আর কিছুই আসছে না।ইহান সবার নিরবতার মাঝেই আনমনে বলে উঠলো,,

ইহান—-আসলে সবাই ছাড় দিলেও প্রকৃতি কখনো ছাড় দেয় না।আমি ইথান ভাইয়াকে কষ্ট দিতে চেয়েছিলাম তাইতো আজকে আমি জীবনের সবথেকে বড় কষ্টদায়ক সত্যিটা জানতে পারলাম।ইথান ভাইয়ার থেকে তার ভালোবাসার মানুষটিকে দূরে সড়াতে গিয়ে নিজেই নিজের এতো আদরের ছোট বোনকে কষ্ট দিয়েছি।নিজেরই অজান্তে তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছি।আমি তো ইথান ভাইয়ার থেকে তার প্রিয়কে আলাদা করে কষ্ট দিতে চেয়েছিলাম বদলে ভাগ্য আমার থেকে আমারই সবথেকে প্রিয় দুটি মানুষকে কেড়ে নিলো।প্রথমত নিজের বোন আর দ্বিতীয়ত আমার ভালোবাসার মানুষটা।শেষের কথাটা ফারিহার দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে বলে উঠলো ইহান,,,

#চলবে?