#গোধূলীতে_তুমি_প্রিয়
#পর্ব_২৮
#লেখিকা_রুবাইতা_রিয়া
—-স্যার লাবিবা ম্যামের জ্ঞান ফিরেছে।আপনাদের খুজছেন তিনি।
ওয়ার্ড বয়ের কথা শুনে ইথানের মুখে হাসি ফুটে উঠলো।ইপ্শিতার শত কষ্টের মাঝেও লাবিবার জ্ঞান ফিরেছে বলে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো।ইথান কোনো কিছু না ভেবে একাই লাবিবার কেবিনের দিকে ছুট দিলো।
কেবিনের দরজা খোলার আওয়াজ পেতেই লাবিবা পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো।চারিদিকে তাকিয়ে দরজার সামনে সেই কাঙ্খিত মুখটা দেখতে পেয়ে প্রচুর খুশি হলো সে।ইথান দাড়িয়ে আছে একটা ডেবিল স্মাইল দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে যা দেখে লাবিবাও একটু ভাব মেরে হাসি দিলো।লাবিবার এমন কাজে হাসলো ইথান।লাবিবার দিকে এক পা এগিয়ে গিয়ে বলে উঠলো,
—-আমাকে দেখে নকল করা হচ্ছে?
—-লাবিবা কাউকে নকল করে না।সবাই লাবিবাকে নকল করে বুঝলেন।নিজের জামার গলাটা কিছুটা স্টাইলের সাথে টেনে ভাব নিয়ে কথাটা বললো লাবিবা যা দেখে ইথান মুখ টিপে হেসে বলে উঠলো,,
—-সুস্থ হয়ে পারোনি তার আগেই এতো ভাব।পুরোপুরি সুস্হ হয়ে গেলে তখন কি করবে?
—-আপনাকে জালিয়ে ছাই করে দিবো!ডেবিল স্মাইল দিয়ে কথাটা বললো সে।
—-এই কয়দিন কি আর কম জালিয়েছো আমাকে?আমার হৃদয়টা কি কম জ্বলেছে এই কয়দিন?
—-বাবাহ!এতো রোমান্টিক ডায়লগ কার কাছ থেকে শিখছেন?ঢং দেখলে বাচিনা।
লাবিবার এমন কথায় ইথান বোকা বনে গেলো।সে কিছু বলতে যাবে তার আগেই পেছন থেকে ইথানের মা আর লিয়া রহমান এসে লাবিবাকে ঘিরে ধরলো।কেমন লাগছে,কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা,ক্ষিদে পেয়েছে কিনাসহ হাজারো প্রশ্ন করছে তারা।তো কখনো প্রচুর আদর করছে লাবিবাকে।এর মধ্যে ইথানের কোনো সুযোগই পাচ্ছে না কথা বলার।সে শুধু অস্হির হচ্ছে লাবিবার সাথে কথা বলার জন্য।ইথানের এমন অবস্হা দেখে লাবিবা প্রচুর কষ্টে নিজের হাসি চেওে রেখেছে।সবার কথার মাঝেই সে বলে উঠলো
—-আম্মু বাকিরা সবাই চলে গিছে নাকি বাড়িতে?
—-হ্যাঁ।একটু আগেই বেরিয়ে গেলো।আসলে অনেক রাত হয়েছে আর সারাদিন অনেক ধকল গিয়েছে সবার উপর তাই ইথানই ওদের পাঠিয়ে দিয়েছে।রাত প্রায় ২টা বাজে এখন।(লিয়া রহমান)
২টা বাজে শুনে লাবিবা বেশ অবাক হলো।এতো রাত হয়ে গিয়েছে।সে এবার বেশ চিন্তিত কণ্ঠে বলে উঠলো,
—-বড় কাকিয়া ইহান ভাইয়া কোথায়?ওনি কেমন আছে?আমি ভাইয়ার কাছে যাবো।ভাইয়াকে দেখবো।
লাবিবার এই কথা শুনে থমকে গেলো তারা দুজনই।এমনিই অপারেশনের জন্য এতো বড় ধকল যাচ্ছে মেয়েটার উপর দিয়ে।এখনো পুরোপুরি সুস্হ ও হয়ে পারেনি লাবিবা।এখন যদি তারা লাবিবাকে বলে ইহান আর বেঁচে নেই তাহলে তো মেয়েটা আরো কষ্ট পাবে।ভেঙে পরবে একেবারে।কি করবে তারা বুঝতে পারছেনা ঠিক তখনই লাবিবা তাদের উদ্দেশ্যে আবারো বলে উঠলো,
—-আচ্ছা তোমাদের চোখমুখ এমন ফোলা আর লাল কেনো?দেখে মনে হচ্ছে তোমরা অনেক কান্না করেছো যেমনটা কেউ মরে গেলো তার আপন মানুষজন করে।
লাবিবার কথা শুনে ইথানের আম্মু আর লিয়া রহমান দুজনই ভয় পেয়ে গেলেন।লাবিবা কিছু বুঝে গেলো নাতো?এদিকে লাবিবার মনে এবার কু ডাকছে তাদের চুপ থাকতে দেখে।লাবিবা এবার কিছুটা রেগে লে উঠলো,
—-মা তোমরা আমাকে নিয়ে চলো ইহান ভাইয়ার কাছে নয়তো আমি একাই চলে যাবো কিন্তু।আমি এই হস্পিটালের প্রত্যেকটা কোণা চিনি তাই ইহান ভাইয়া কোন আইসিউতে আছে সেটা খুজতেও কিন্তু আমার দেরি হবে না।তোমরা নিয়ে যাবে কি আমাকে নাকি আমি একাই যাবো?
লাবিবা জেদ যে এতো সহজে থামবেনা তা ইথান বেশ ভালোই বুঝতে পারছে তাই সে এবার বলে উঠলো,,
—-ইহান আইসিউতে এডমিট আছে।এখনো জ্ঞান ফেরেনি।চিন্তা করা লাগবেনা।ওর জ্ঞান ফিরলেই তোমাকে ওর কাছে নিয়ে যাবো।এখন রেস্ট নেও তুমি।
ইথানের কথা শুনে লাবিবা একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো কারন আর যাই হক ইথান ওকে মিথ্যা আশ্বাস কখনোই দেখাবে না।অন্যদিকে ইথানের এমন কথায় ওর মা আর লাবিবার আম্মু দুজনই ভরকে গেলো।অবাকের শেষ পর্যায়ে চলে গেছে তারা।ইথানের আম্মু উঠে এসে ইথানের কাছে গিয়ে আস্তে করে বলে উঠে,,
—-ইহানের জ্ঞান কি আদৌ ফিরবে ইথান?শুধু শুধু একজন মেয়েটাকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়াটা কি ঠিক হবে?
—-মা আমি আর যাই করি না কেনো কখনো কাউকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়না।আমি যখন বলেছি তখন নিশ্চয় লাবিবাকে ইহানের সাথে দেখা করাবো পর জ্ঞান ফিরলে।শান্ত কণ্ঠে বলে উঠলো ইথান।
অন্যদিকে ছেলের এমন কথায় হতভম্ব হয়ে গেলেন ইথানের আম্মু।ইহান কি তাহলে বেঁচে আছে?কিন্তু ডক্টর তো বললো ইহান মারা গিছে।এটা কেমন করে সম্ভব?তার মাথায় সব উলোটপালোট হয়ে যাচ্ছে।লিয়া রহমান শুধু বুঝার চেষ্টায় আছে ইথানের কথাগুলো কিন্তু সেও ব্যার্থ এতে।
কারোর মাথায় কিছু আসছেনা ঠিক তখনই ইথান খেয়াল করলো ইপ্শিতা এখানে নেই।চমকে বলে উঠলো সে,
—-আম্মু ছোট কাকিয়া কোথায়?তোমাদের সাথেই ছিলো না?
ইথানের এমন জথায় তারাও বেশ খানিকটা অবাক হলো।এদিক ওদিক তাকিয়ে ইপ্শিতাকে না দেখতে পেয়ে বলে উঠলো,
—-আরে আমাদের পেছনেই তো আসছিলো।কোথায় চলে গেলো?
ইথানের এবার কিছুটা রেগে বলে উঠলো,
—-তোমরা একটু খেয়াল করে আনবেতো কাকিয়াকে।না জানি কোথায় চলে গেলো।
ইথানের কথা শুনে ওনারা দুজনই মাথা নিচু করে নিলো।ইথানের মনে পরলো যে ওর কাকিয়া বলেছিলো ইহানের সাথে দেখা করবে।যেহেতু সবাই জানে ইহানের বডি মর্গে তাই ওনিও নিশ্চয় ওখানেই যাবে।ইথান আর কিছু না ভেবে তারাতারি করে কেবিন থেকে বেরিয়ে মর্গের দিকে হাটা ধরলো সে।
কিছুক্ষণ পর মর্গের ভেতর ঢুকতেই ইপ্শিতার কান্নাভেজা কথা শুনতে পেলো সে।সে কাদছে আর বলছে,
—এদের মধ্যে একটাও আমার ছেলে না।আমার ছেলে কোথায় আছে বলো?আমার ছেলের লাশটাকে তোমরা কোথায় লুকিয়ে রাখছো উত্তর দেও।
ইপ্শিতা একটা ওয়ার্ড বয়ের জামা ধরে ঝাকাচ্ছে আর কথাটা বলছে।কেউ তাকে কিছু বলতেও পারছেনা কারন এটা তাদের হস্পিটাল তাই কিছু বললে যদি চাকরীটা হারিয়ে ফেলে।কিন্তু ইহানের বডি তো এখানে আসেইনি তাহলে ওনি এমন কেনো করছে?সবাই কিছুই বুঝতে পারছেনা।
ইথান ব্যাপারটা সামাল দেয়ার জন্য বলে উঠলো,
—-ছোট কাকিয়া তুমি এখানে ইহানকে খুজে পাবেনা।ইহান এখানে নেই।
ইথানের কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়ে সে পেছনে ঘুরে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে উঠলো,
—-তাহলে আমার ছেলে কোথায়?ওকে একটাবার দেখতে দে না ইথান।মনতির স্বরে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো সে।
ইপ্শিতার চোখে ছেলের জন্য জল দেখে ইথানের চোখের কোণেও পানি চলে এলো।নিজের চোখের জল মুছে ইপ্শিতাকে নিয়ে আইসিউর সামনে চলে আসলো সে যেখানে ইহান ছিলো।
ইপ্শিতা বেশ অবাক হলো ইথানকে এখানে আসতে দেখে।আইসিউতে মরা মানুষ থাকে নাকি।তার প্রচুর রাগ হলো এবার।রেগে ইথানকে কিছু বলতে যাবে তার আগে দরজার মাঝে থাকা ছোট্ট কাচের জায়গাটা টুকু দিয়ে ভেতরে ইহানকে শুয়ে থাকতে দেখে থমকে গেলো ইপ্শিতা,,,
#চলবে?
(কেমন হয়েছে জানাবেন।ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।হ্যাপি রিডিং🥰)